Monday 21st of September 2020 05:34:56 PM

এম ওসমান, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ  বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন রণাঙ্গনের লড়াকু সৈনিক নূর মোহাম্মদ। পরে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। শনিবার সকালে মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডীবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। যা বর্তমানে নূর মোহাম্মদনগর নামে পরিচিতি লাভ করেছে। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং মার নাম জেন্নাতুন্নেছা।
বাল্যকালেই তিনি বাবা-মাকে হারান। লেখাপড়া করেছেন সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত। এরপর ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (সাবেক ইপিআর, বর্তমানে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ-বিজিবি) যোগদান করেন এবং দিনাজপুর সীমান্তে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই বদলি হন যশোর সেক্টরে।
পরবর্তীতে তিনি ল্যান্স নায়েক পদোন্নতি পান। মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নং সেক্টরে অংশগ্রহণ করে দেশ মাতৃকায় যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন নড়াইলের এ সাহসী সন্তান (নূর মোহাম্মদ)।
এ সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্ণেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিলেন মেজর এস এ মঞ্জুর। এদের নেতৃত্বেও প্রাণপণ লড়েছেন নূর মোহাম্মদ।
৫ সেপ্টেম্বর পাকবাহিনীর গুলিতে নূর মোহাম্মদের সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হন। আহত সহযোদ্ধাকে কাঁধে নিয়েই এলএমজি হাতে শত্রু পক্ষের সাথে যুদ্ধ করেছেন, গুলি ছুঁড়েছেন। হঠাৎ করে পাকবাহিনীর মর্টারের আঘাতে নূর মোহাম্মদের হাঁটু ভেঙ্গে যায়। তবুও গুলি চালান প্রিয় মাতৃভূমিকে শক্রমুক্ত করার জন্য। জীবন প্রদীপ নেভার আগে পর্যন্ত তিনি প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যান এবং এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এই বীরের সম্মানার্থে নড়াইল শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ চত্বরে ৬২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরৗ এ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেন।
এই উপলক্ষে নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাষ্টের উদ্যোগে নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডীবরপুর ইউনিয়নের নূর মোহাম্মদনগরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসূচির মধ্যে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় পবিত্র কোরআনখানি, বেলা ১১:০০ টায় স্মৃতিবেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, ১১:১৫ মিনিটে সশস্ত্র সালাম এবং দুপুরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের পরিবারের সদস্যরা এবং বিজিবি দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিওয়নের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শার্শার কাশিপুরে অবস্থিত কবর জিয়ারত করেন।

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:  দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী ওপর হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্টিত হয়েছে।
শনিবার সন্ধায় চুনারুঘাট মধ্য বাজারে ধামালি চুনারুঘাটের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্টিত হয়। ধামালি চুনারুঘাটের সভাপতি এডভোকেট মোস্তাক বাহারের পরিচালনায় উক্ত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম রুবেল।
বক্তব্য রাখেন- পৌরসভার মেয়র নাজিম উদ্দিন সামসু,বিদ্যুৎ পাল, সাথী মুক্তাদির কৃষাণ চৌধুরী,সাংবাদিক কামরুল ইসলাম,জাহাঙ্গীর আলম,মোঃ জামাল হোসেন লিটন,নুর উদ্দিন সুমন,পোষ্ট মাস্টার এস এম মিজান,কবি ও গবেষক কামাল আহম্মেদ,কাউসার কসরু,শামিম,সৈয়দ আবু নাঈম হালিম,স্বপন সাই,আশিষ দেব,তাজুল বাহার প্রমূখ।
বক্তারা মানববন্ধন থেকে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

আলী হোসেন রাজন,জেলা প্রতিনিধি,মৌলভীবাজারঃ  মৌলভীবাজারে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম সাইফুর রহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ।
৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে এম সাইফুর রহমানের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহারমর্দনে কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল দোয়া ও শিরনী বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।
এসময় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক ও হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জি কে গউছ জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান কে সাথে নিয়ে এম সাইফুর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে,কবর জিয়ারত ও আলোচনা সভায় অংশ নেয়।
জেলা বিএনপি,যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দল,ছাত্রদলসহ অংগ সংগঠনের নেতা কর্মীরা এম সাইফুর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এদিকে সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মৌলভীবাজারের জেলা ও উপজেলার মসজিদগুলোতে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয় ।
উল্লেখ্য ২০০৯ সালে ৫ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের নিজ বাড়ি বাহারমর্দন থেকে ঢাকায় যাওয়ার সময় ঢাকা-সিলেট মহা সড়কের ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার খড়িয়ালা নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, দেশের উন্নয়ন, সিলেট বিভাগসহ নিজ জেলা মৌলভীবাজারে উন্নয়নে নিরলস কাজ করে গিয়েছিলেন। দেশের সার্বিক উন্নয়নে এক ব্যতিক্রমি ব্যক্তি ছিলেন। সর্বদা দেশ ও এলাকার সামগ্রীক উন্নয়নে সময় পার করতেন।

এম ওসমান,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে ১১ টি পিস্তল, ৫০ রাউন্ড গুলি, ২২টি ম্যাগাজিন ও ১৯ কেজি গাঁজাসহ ৩ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে বেনাপোল পোর্ট থানার ঘিবা সীমান্তের কাঁচা রাস্তার পাশে থেকে এ অস্ত্রের চালানটি আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলো, বেনাপোল পোর্ট থানার ঘিবা গ্রামের এজাবার রহমানের ছেলে সাজজুল (৩০), স্বরবাংহুদা গ্রামের শহিদ বিশ্বাসের ছেলে আনারুল (৩৪) ও একই গ্রামের সাফেদ বিশ্বাসের ছেলে আলমগীর (৪০)।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম রেজা বিকালে সংবাদ কর্মীদের জানান, গোপন সংবাদে জানতে পারি অস্ত্র পাচারকারীরা ভারত থেকে বিপুল পরিমান একটি অস্ত্রের চালান এনে ঘিবা মাদ্রাসার পাশে কাচা রাস্তায় অবস্থান করছে।
এমন সংবাদের  বিজিবি রঘুনাথপুর ক্যাম্পের হাবিলদার গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রের চালানসহ তাদেরকে আটক করে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি জানান।

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ: নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের আরফাত উল্লার পুত্র নন-জি-আর মামলার পলাতক আসামী সোহেল মিয়া (৩০) কে গ্রেফতার করেছে ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ শামছউদ্দিন খাঁনের নির্দেশে এএসআই আব্দুস সামাদ আজাদ, এএসআই লোকেশ চন্দ্র রায়সহ একদল পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে দীঘলবাক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ শামছউদ্দিন খাঁন।

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে এসি বিস্ফোরণে আহতদের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে অনেক মুসল্লি। পরিস্থিতি ও রোগীদের খোঁজ খবর নিতে ঢাকা মেডিকেলের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে যান সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন-এর মহাসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলী।
হাসপাতালে মানবাধিকার সংগঠক আবেদ আলী রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং স্বজনদের সাথে কথা বলেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ঢাকা মহানগর শাখার যুগ্ম সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি খ্যাত মোহাম্মদ আরুক মুন্সী।

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। মৃতের তালিকায় রয়েছেন মসজিদের মুয়াজ্জিনও। এ ঘটনায় প্রথমে ২৫ জন আহতের কথা জানা গেলেও পরে এর সংখ্যা বেড়ে জায়।এ পর্যন্ত ৪০ জনের গুরুতর আহতের তথ্য পাওয়া গেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া এ তথ্য জানান। তবে নিহতদের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
এ ঘটনায় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম মৃত্যু হয় জুয়েল নামের এক শিশুর। এরপর রাতে ও আজ শনিবার সকালে বাকিদের মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিমতল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে মসজিদের ভেতরে থাকা প্রায় ৫০ জনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তাদের মধ্যে দগ্ধ অবস্থায় ৪০ জনের মধ্যে ৩৭ জনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন জানান, বাইতুস সালাত জামে মসজিদের ছয়টি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) কীভাবে একসঙ্গে বিস্ফোরিত হল, তার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটির নাম জানা যায়নি।

এদিকে ঘটনাস্থলে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল রেড টেপ দিয়ে আটকিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি সদর হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) গিয়েছিলাম, অধিকাংশই ঢাকা মেডিকেলে চলে গেছে। আমি স্বাস্থ্য সচিব এবং কেবিনেট সেক্রেটারিসহ সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যারা গিয়েছে তাদের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং দোয়া করার অনুরোধ করব।

এম ওসমান, বেনাপোল প্রতিনিধি:  ‘ক্ষুধা লাগলে খেয়ে যান’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরের শার্শায় পথ শিশু ও ভারসাম্যহীন (পাগল) সহ ক্ষুধার্থ মানুষের দু’মুঠো খাবার খাওয়ানোর ব্রত নিয়ে ‘ফ্রী খাবার বাড়ীর’ শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার নাভারনে বুরুজবাগান মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে মানবসেবা হেল্প ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দেশসেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমানের উদ্যোগের এই খাবার বাড়িটির উদ্বোধন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যশোরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নাভারণ সার্কেল) জুয়েল ইমরান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের প্রভাষক আসাদুজ্জামান আসাদ।
এখন থেকে বুরুজবাগান মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে বাদল নার্সারীর ভেতরে এই খাবার বাড়িটি কার্যক্রম চালানো হবে। বাদল নার্সারীর মালিক বাদল হোসেনের পরিচালনায় এই ফ্রি খাবার বাড়িটি পরিচালনা করা হবে।
প্রধান অতিথি জুয়েল ইমরান বলেন, পথ শিশুদের জন্য বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রম থাকলেও দেশের কোথাও পাগলদের জন্য এমন খাবারের হোটেল আছে বলে আমার জানা নাই। এটা অসাধারণ একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এই হোটেলের দীর্ঘ মেয়াদী পরিচালনার জন্য সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে।
উদ্ভাবক মিজানুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাস সবাইকে কি শিক্ষা দিয়েছে আমার জানা নেই, তবে এই করোনা আমাকে অনেক ভাল কিছু দিয়ে গেছে। করোনা কালে অনাহারে থাকা পথ শিশু ও রাস্তার ভারসাম্যহীন পাগলদের জন্য ফ্রী খাবার বিতরন করতে যেয়ে এমন একটি হোটেল করার কথা ভাবছিলাম। সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ।
“মানবসেবা হেল্প ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং হাজার হাজার মানুষের অনুপ্রেরণায় আজ এই খাবার বাড়িটির বাস্তবে রুপ দিয়েছি। যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন অনাহারির পাশে থেকে এই ভাবে খাবার দেওয়ার চেষ্টা করে যাবো।”
উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে আরো উপস্থিত ছিলেন, নাভারণ ফজিলাতুননেছা মহিলা কলেজের সহকারি অধ্যাপক মিজানুর রহমান, বিজয় টিভির প্রতিনিধি সেলিম রেজা, চ্যানেল এস টিভির প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেন, কালের কন্ঠের ঝিকরগাছা প্রতিনিধি এম আর মাসুদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি জনাব জুয়েল ইমরান পথ শিশু ও ভারসাম্যহীন পাগলদের মাঝে নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করেন এবং ইয়াতিম শিশুদের মাঝে কোরআন শরীফ, মাক্স ও সাবান বিতরণ করেন।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের প্রবীন সাংবাদিক  আব্দুল হান্নান চিনুর বড় ভাই এবং পতনঊষার ইউনিয়ন যুবলীগ ও শহীদনগর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর জিল্লুল এর পিতা প্রাক্তন শিক্ষক ডা: আব্দুল মান্নান সায়েস্তা (৭০) গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩:৫০ মিনিটের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সিলেট নর্থইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে ২ মেয়ে, নাতী-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় সহস্রাধিক মুসল্লীর উপস্থিতিতে পতনঊষার শহীদনগর-মাইজগাঁও জামে মসজিদে মরহুমের নামাজের জানাযা শেষে নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শিক্ষক ডা: আব্দুল মান্নান সায়েস্তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি, কমলগঞ্জ উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ, পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তাওফিক আহমদ বাবু, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সমিতি, উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন।

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ:  ঢাকা থেকে অপহৃত এক ব্যক্তিকে হবিগঞ্জের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তিনদিন পর উদ্ধার করেছে হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় মুক্তিপণের টাকাসহ দুই অপহরণকারীকে আটক করা হয়।

শুক্রবার দুপুরে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে প্রেস বিফিংয়ের মাধ্যমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈইলেন চাকমা। এর আগে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে শহরের সিনেমা হল রোড এলাকার আবাসিক হোটেল ‘পলাশ’ থেকে অপহৃতকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত ব্যক্তি ঢাকা তেজগাঁও ‘সিভিল এভিয়েশন স্কুল এন্ড কলেজের’ ক্লিনার আলতাফ হোসেন (৩৮)।

আটককৃতরা হল- হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের আজদু মিয়ার ছেলে মনিরুল ইসলাম মনির (২৪) ও একই গ্রামের বাতিন মিয়ার ছেলে হাবিব মিয়া (২০)।

অতিরিক্তি পুলিশ সুপার বলেন, ঢাকা তেজগাঁও ‘সিভিল এভিয়েশন স্কুল এন্ড কলেজের’ ক্লিনার আলতাফ হোসেনের মোবাইলের বিকাশ একাউন্টে ১ লাখ টাকা রয়েছে জানতে পেরে তাকে অপহরণের পরিকল্পনা করে পূর্ব পরিচিত শরবত বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম। গত ৩১ আগস্ট আলতাফ হোসেনকে অপহরণ করে হবিগঞ্জ নিয়ে আসে আটককৃত দুই অপহরণকারী। পরদিন ১ সেপ্টেম্বর আলতাফ হোসেনের মোবাইল নাম্বার থেকে তার পরিবারের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। এ সময় আলতাফ হোসেনের স্ত্রী মোছা. রাশেদা বেগম বিষয়টি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে অবহিত করেন এবং ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এদিকে, অপহরণকারীরা মুক্তিপণের জন্য বারবার আলতাফ হোসেনের পরিবারকে ফোন করে এবং দ্রুত মুক্তিপণ না দিলে তাকে খুন করার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে আলতাব হোসেনের পরিবার ধার-কর্জ করে অপহরণকারীদের বিকাশ নাম্বারে ১০ হাজার টাকা পাঠায়। কিন্তু এই ১০ হাজার পাওয়ার পর তারা আবারও ৫০ হাজার টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। কোন উপায় না পেয়ে আলতাফ হোসেনের পরিবারের লোকজন হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারকে অবগত করেন। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে হবিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শহরের আবাসিক হোটেল ‘পলাশ’ থেকে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় দুই অপহরণকারীকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের ১০ হাজার টাকাও জব্দ করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে অপহৃতের জামাতা মো. তুহিন চৌধুরী বাদি হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানায় পুলিশ।

অপরদিকে, অপহরণ করে হোটেল ‘পলাশে’ রাখলেও কিছু জানে না বলে জানায় হোটেল কর্তৃপক্ষ। এমনকি তারা অপহরণকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ কোন ধরণের কাগজপত্রও রাখেনে। বিষয়টি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে আবাসিক হোটেল ‘পলাশের’ ম্যানেজার নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘দুই অপহরণকারীসহ তিনজনই স্বাভাবিকভাবে হোটেলে প্রবেশ করেছে এবং রুম ভাড়া নিয়েছে। তবে যাকে অপহরণ করে নিয়ে আসা হয়েছিল সে কিছুটা অস্বাভাবিক ছিল। তবে সাথে থাকা দুজন জানিয়েছে সে মানসিক রোগী।’

হাবিবুর রহমান খান,জুড়ী প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের জুড়ীতে মাদকবিরোধী ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বেলাগাঁও কন্টিনালা রেলব্রিজ সংলগ্ন সচেতন এলাকাবাসীর আয়োজনে দৈনিক সকালের সময়ের জুড়ী  প্রতিনিধি মনিরুল ইসলামের পরিচালনায় ও জুড়ী থানার অফিসার্স ইনচার্জ সঞ্জয় চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এক মাদকবিরোধী ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় প্রধান অতিথি  হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-ইমরান রুহুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাশ, দৈনিক প্রথম আলো জুড়ী প্রতিনিধি কল্যাণ প্রসূন  চম্পু, জুড়ী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক কবির উদ্দিন, দৈনিক ভোরের কাগজ জুড়ী  প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম সুমন, জয়যাত্রা টিভির জুড়ী প্রতিনিধি হারিছ মোহাম্মদ, জুড়ী অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খান,আমার সিলেট নিউজ ডটকমের জুড়ী প্রতিনিধি আবুল হোসেন লিটন, রাইসা ট্রাভেলস এর স্বত্বাধিকারী মোরশেদ আলম ময়না, ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন শান্ত, মোঃ আসাদুজ্জামান, নুরুল হক, আব্দুর রহিম, ইউসুফ খা, আকবর আলী, আবু তাহের, আইডিয়াল স্পোর্টিং ক্লাব ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি হেলাল আহমেদ, মোশারফ হোসেন, ফাহিম আহমদ, তাহের, রমজান, মুজিবুর, আমির, আরিফ, শাহজাহান, মনির হোসেন, আলী আব্বাস,জুয়েল, ইব্রাহিম, রোমান, মেহরাজ, মোতালেব, আলামিন, মাহবুল, রুহুল আমিন, শিমুল সহ আরো অনেকে।
সভাপতির বক্তব্যে জুড়ী থানার ওসি সঞ্জয় চক্রর্তী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার রয়েছি। মাদক কারবারী ও মাদক সেবীদের কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে জুড়ী উপজেলা কে আমরা মাদক মুক্ত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনে উপ-নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সুমন বিশাল মোটরবাইক শোভাযাত্রা করেছেন। শুক্রবার আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই শোভাযাত্রা করেন তিনি ।

শুক্রবার বিকেলে আত্রাই উপজেলা তার নিজ বাড়ি রসুলপুর বটতলা থেকে প্রায় শত শত মোটরবাইক নিয়ে এ শোভাযাত্রা শুরু করেন। এর পর রসুলপুর থেকে সিংসাড়া হয়ে আত্রাই উপজেলা ও রাণীনগরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিন করেন। এসময় থেমে থেমে পথ শোভা ও জনগনের সাথে কুশল বিনিময় করেন সাবেক সাংসদ ওহিদুর রহমান এর ছেলে নওগাঁ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সুমন।

শোভাযাত্রাকালে অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সুমন সাংবাদিকদের জানান, আমি দীর্ঘ ৩০বছর ধরে আত্রাই রাণীনগর মানুষের সাথে মিলেমিশে তাদের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমি ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করে আসছি। এলাকায় মাদক,সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূল করে সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমি উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে দলীয় মনোনয়ন উত্তোলন করেছি।

তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের সাথে আমাদের রক্ত মিশে আছে। গত ২০১৮ সালে নির্বাচনে আমি এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন তুলেছিলাম । আমি দৃঢ় ভাবে বিশ^াস করি যদি তৃণমূলের জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে এবার মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আমাকে বি ত করবেন না। তিনি দাবি করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সরকারকে এ আসন উপহার দিতে পারবো ইনশাল্লাহ ।

উল্লেখ্য,গত ২৭ জুলাই এই আসনের এমপি ইসরাফিল আলম মারা গেলে আসনটি শুন্য হয়ে পরে। ইতি মধ্যে মনোনয়ন পেতে ৩৪ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন উত্তোলন করেছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে আগামী ১৭ অক্টোবর নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছে।

চুরির উদ্দেশেই দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের সরকারী বাস ভবনে ঢুকেছিল হামলাকারীরা। তারা বাসার পেছনের দিকের বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে ঢুকেছিল। চুরির সময় ইউএনও’র পিতা জেগে যান। এ সময় তিনি চোরদের দেখে ফেলায় চোর চোর করে চিৎকার করেন। তখন তাকে আঘাত করে হামলাকারীরা। তার চিৎকারে ইউএনও জেগে যান। তিনিও চোর চোর বলে চিৎকার দিতে থাকলে চোরেরা তাকেও মারাত্মকভাবে আঘাত করে। মূল হামলাকারী ছিল সান্টু। আর সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া ফুটেজ মোতাবেক লাল গেঞ্জি পরিধান করেছিল আসাদুল ইসলাম। হামলার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতারের পর এমনটাই জানিয়েছে র্যাব-১৩। গ্রেফতারকৃত তিনজনই চুরির জন্য বাসায় ঢুকেছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে র্যাব। হামলার ঘটনায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারী বাসায় হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলায় ওয়াহিদা ছাড়াও তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী (৬০) মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে।
বৃহস্পতিবার রাতেই হামলার ঘটনায় ওয়াহিদা খানমের ভাই শেখ ফরিদ বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর পরই পুলিশ বাসভবনের নিরাপত্তা প্রহরী পলাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেয়। তার হাত পা বেঁধে হামলাকারীরা ভেতরে প্রবেশ করেছিল বলে পলাশ পুলিশের কাছে দাবি করেছেন।
এমন ঘটনার পর পরই দিনাজপুরের হাকিমপুর, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট এলাকায় র্যাব-১৩ রংপুরের একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের সদস্য আসাদুল ইসলাম (৩৫), সান্টু (৩৪) ও নবিরুল ইসলাম (৩৮) নামের তিনজনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে নবিরুল পেশায় রং মিস্ত্রি। তাদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি উদ্ধার হয়েছে।
র্যাব-১৩ এর অধিনায়ক কমান্ডার রেজা আহমেদ ফেরদৌস আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানান, গ্রেফতারকৃত আসাদুল, সান্টু ও নবিরুল হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা মূলত চুরির উদ্দেশে ওয়াহিদা খানমের সরকারী বাসভবনের পেছনের বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকেছিল। ভেতরে ঢোকার পর পরই চুরির সময় প্রথমে ওয়াহিদার পিতা জেগে যান। তিনি চোর চোর বলে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় চোরেরা তার ওপর হামলা করে। তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। তার পিতার চিৎকার শুনে ওয়াহিদা খানম জেগে যান। তিনিও চোর চোর করে চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকেন। এ সময় চোরেরা ওয়াহিদাকেও হাতুড়ি দিয়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। তারা অচেতন হয়ে পড়ে গেলে লোকজন আসার আগেই চোরেরা পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃতরা চুরিতে বাধা দেয়ায় হামলা চালায় বলে দাবি করেছে। চুরিতে বাধা পেয়ে মূল হামলাটি সান্টু চালায় বলে গ্রেফতারকৃত আসাদুল দাবি করেছে। আর চুরির পরিকল্পনা করে নবিরুল। নবিরুল ও সান্টু দু’জনের ওপর হামলা করে।
এদিকে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া চোরদের ছবি মিলেছে। সেখানে লাল গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় যে ঢুকেছিল, সেই আসাদুল ইসলাম। এমন ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ কি তা জানার চেষ্টা চলছে। নিছক চুরির ঘটনা নাকি এমন ঘটনার নেপথ্যে আরও কোন রহস্য আছে তা জানার চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে পাওয়া গেলে, তাদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হয়ত প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তখন ঘটনার প্রকৃত কারণ জানানো হবে। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা চুরির উদ্দেশে বাড়িতে ঢুকলে পরিস্থিতির মুখে হামলার ঘটনাটি ঘটায় বলে দাবি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
তারা হচ্ছে, ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) জাহাঙ্গীর আলম (৪২), উপজেলা যুবলীগের সদস্য (বহিষ্কৃত) আসাদুল ইসলাম (৩৫), শিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা আদুর ছেলে মাসুদ রানা (৪০), নৈশপ্রহরী নাহিদ হোসেন পলাশ (৩৮), চকবামুনিয়া বিশ্বনাথপুর এলাকার মৃত ফারাজ উদ্দিনের ছেলে রং মিস্ত্রি নবিরুল ইসলাম (৩৫) ও একই এলাকার খোকার ছেলে সান্টু চন্দ্র দাশ (২৮)। এদের মধ্যে কতজনকে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে হামলার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে পুলিশের তরফ থেকেও জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর সাগরপাড়া এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৭ সালে কমিটি ভেঙ্গে দিলে তিনি আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
আসাদুল ইসলাম ঘোড়াঘাট উপজেলার রানিগঞ্জের আমজাদ হোসেনের ছেলে। অন্যদিকে মাসুদ ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩নং সিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য।
এদিকে ঢাকার শেরে বাংলা নগর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন্স এ্যান্ড হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। ইতোমধ্যেই তার অবশ হয়ে পড়া হাত পায়ে কিছুটা শক্তি ফিরে এসেছে। তিনি কিছুটা স্বাভাবিক কথাবার্তাও বলতে পারছেন। বৃহস্পতিবার রাতেই অস্ত্রোপচারের পর তার জ্ঞান ফিরে। এরপর তিনি স্বামী রংপুর জেলার পীরগঞ্জের ইউএনও মেজবাহুল হোসেন ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন।
ইতোমধ্যেই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবলীগ কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা ছাড় পাবে না বলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইউএনও-র মাথার খুলির হাড় ভেঙ্গে ভেতরে মস্তিষ্কে ঢুকে গিয়েছিল। তার শরীরের অনেক অংশ অবশ হয়ে পড়েছিল।
শুক্রবার ওয়াহিদা খানমের চিকিৎসায় ছয় সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন্স এ্যান্ড হসপিটালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান নিউরো সার্জন অধ্যাপক জাহিদ হোসাইন জানান, শুক্রবার ইউএনও-র সিটি স্ক্যান রিপোর্ট এসেছে। রিপোর্ট শতভাগ ভাল। চিকিৎসক ও স্বামীর সঙ্গে কথাও বলেছেন তিনি। অস্ত্রোপচারের পর রাতেই তার জ্ঞান ফিরে। বর্তমানে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তারপরেও তিনি শতভাগ শঙ্কামুক্ত নন।
এছাড়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন্স হাসপাতালের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ বদরুল আলম জানান, তার হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক আছে। তবে তার স্বাস্থ্যগত সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেয়ার পর্যায়ে আসেনি। আরও পর্যবেক্ষণ শেষে মেডিক্যাল বোর্ড বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
শনিবার মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা বৈঠকে বসছেন। সার্বিক দিক পর্যালোচনা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
চিকিৎসকরা জানান, আঘাতে মাথার হাড় ৭-৮ টুকরো হয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। সেগুলো জোড়া দেয়া হয়েছে। আঘাতের কারণে আরও ছোট ছোট যে কাঁটা ছিল সেগুলোও ঠিক করা হয়েছে। মাথার ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগেও পৌর মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলনের ওপর ত্রাণ বিতরণের সময় হামলা চালিয়েছিল তারা। তাদের বিরুদ্ধে হামলা, চাঁদাবাজি, মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা আছে। আটককৃতদের প্রায় সবাই মাদকাসক্ত। জাহাঙ্গীর আলম ও আসাদুল ইসলামকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল।
এ ঘটনায় রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির একজন প্রতিনিধি এবং দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ মাহমুদ। ঘটনা তদন্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে গঠিত সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার পর রংপুর বিভাগের ৫৮ উপজেলার ইউএনওদের নিরাপত্তায় ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার নিয়োগ করা হয়েছে। দৈনিক জনকণ্ঠ

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc