Sunday 12th of July 2020 06:28:38 PM

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে অপহরণ মামলায় যুবদল নেতা এস এম জুবায়ের হোসেন (২৮)গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় অপহরণকৃত সুমন বিশ্বাসকেও উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার ভোর রাতে শহরের দক্ষিন নড়াইল এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
জানাগেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার নড়াইল সদর থানার মামলা নাম্বার ১৩/তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৯ , জি আর নং ২০২/২০১৯ ধারা ৪০৬/৪২০/৩৪ পেনাল কোড ৮৬০: তৎসহ ২৬(৩) ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮: তৎসহ ৭৩/৭৪ ২০০১ সালের বাংলাদেশ টেলি যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন( সংশোধনী ২০১০) দায়েরকৃত মামলার আসামী মাগুরার মালন্দ গ্রামের মৃত সুনিল বিশ্বাসের ছেলে সুমন বিশ্বাস (২৭) নড়াইল কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বের হলে একই মামলার আপর আসামি দক্ষিন নড়াইল গ্রামের শহীদুজ্জামানের ছেলে এস এম জুবায়ের হোসেন সহযোগী সহ ৪ জন সুমন বিশ্বাসকে জেলখানা গেটর সামনে পথ রোধ করে কৌশলে অপহরণ করে দক্ষিণ নড়াইল গ্রামের আসামি এস এম জুবায়ের এর নানা মৃত সৈয়দ এ কে এম আকবর আলির বাড়ীতে নিয়ে আটকে রেখে মারপিট করে সুমনের বাডীতে মোবাইল নাম্বার ০১৯১৫৪৬৩৩৩৪ থেকে ফোন করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করেন।

মুক্তিপনের টাকা বিকাশ নাম্বার ০১৭৭৮০১২৩৪৫ তে প্রেরণ করতে বলেন। বিষয়টি নড়াইল পুলিশ সুপারকে অবহিত করলে ব্যবস্থা নেওয়ান জন্য সদর থানার ওসিকে কে নির্দেশ দেন। ভিকটিমকে উদ্ধার করার জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন পিপিএম এর নেতৃত্বে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে শুক্রবার ভোর রাতে পৌর এলাকার দক্ষিণ নড়াইলের মৃত সৈয়দ এ কে এম আকবর আলীর বাড়ি থেকে সুমন বিশ্বাসকে উদ্ধার করেন এবং অপহরণকারীদের মূল হোতা এস এম জুবায়েরকে গ্রেফতার করে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এঘটনার সাথে জড়িত মামলার অন্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ থেকে:  নবীগঞ্জে কাজ শুরু করার আগেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্ধকৃত প্রকল্প অর্থের ৫০% অগ্রীম দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও শিক্ষা কমিটির সভাপতি মোঃ ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম। যদিও বরাদ্ধকৃত পত্রে উল্লেখ রয়েছে অগ্রীম টাকা দেয়ার কোন বিধি বিধান নাই সে ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্তের খবরে সর্বত্র তোলপাড় চলছে।

উপজেলা চেয়ারম্যানের স্ত্রী গঞ্জা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহিনুর আক্তার চৌধুরী পান্না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক আইডিতে গত (২৪ জুন) উপজেলা চেয়ারম্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র প্রকল্পের টাকা ৫০% অগ্রিম উত্তোলনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। উক্ত স্ট্যাটাস সামাজিক মাধ্যম ভাইরাল হলে সর্বমহলে আলোচনার ঝড় উঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯/২০২০ অর্থ বছরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্প কাজের সারাদেশের ন্যায় নবীগঞ্জে প্রায় ৮০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোটি টাকার বরাদ্দ আসে। কয়েকটি স্কুল দায়সাড়া কাজ করলেও অধিকাংশ বিদ্যালয় এখন ও মেরামত কাজ শুরু করে নাই। দেশের বর্তমান করোনা মহামারী অজুহাত দেখিয়ে  শিক্ষা কমিটির সভাপতি ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম  ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল আলম সরকারী নীতিমালাকে উপেক্ষা করে  উভয়ে যোগসাজসে অগ্রীম ৫০% টাকার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদে গত ২১ই জুন রবিবার উপজেলা পরিষদে শিক্ষা কমিটির সকল সদস্যকে নিয়ে সভায় বসেন। ওই সভায় শিক্ষা কমিটির সভাপতি ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম মেরামতের কাজের সকলের উপস্থিতিতে ৫০% টাকা অগ্রীম প্রদানের প্রস্তাব দিলে উপজেলা নিবার্হী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন বরাদ্ধকৃত অর্থের নীতিমালায় এমন বিষয় উল্লেখ নাই বলে আপত্তি করেন। অগ্রিম টাকা উত্তোলনের খবরে উপজেলা জুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও শিক্ষা কমিটির সভাপতি মোঃ ফজলুল হক চৌধুরী সেলিমের এমন সিদ্ধান্ত গ্রহনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধির মাঝে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

অনুসন্ধান করে দেখা গেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রকল্প কাজের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে বরাদ্ধকৃত অর্থ কাজ শুরুর পুর্বে অবশ্যই উপজেলা প্রকৌশলী কর্তৃক মেরামত কাজের প্রাক্কলন প্রস্তুত করে উপজেলা শিক্ষা কমিটির অনুমোদন নিয়ে মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

এবিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা প্রকৌশলী প্রধান শিক্ষকের সহায়তা করবেন। এদিকে প্রকল্প কাজ শুরুর আগেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেন উপজেলা চেয়ারম্যান সেলিম। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারনে কাজ শুরু করতে না পারার অজুহাত দেখিয়ে গত (২১ জুন) প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির এক মিটিংয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানা গেছে।

এ দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কাজ না করে টাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত দেখে হতবাক উপজেলাবাসী।

এব্যাপারে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী সাবির আহমেদ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের আমি পরামর্শক হিসেবে কাজ করছি। যে স্কুল গুলোতে কাজ ৮৫% কাজ সম্পন্ন হবে সেগুলো বিদ্যালয়ে প্রত্যয়নপত্র আমি দেব। কাজ না করে প্রত্যয়নপত্র নেয়ার সুযোগ নেই।

নবীগঞ্জ উপজেলা হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা নিশিকান্ত দেবনাথ বলেন, কাজ শেষ হয়েছে মর্মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিলের সাথে প্রত্যয়ণপত্র সংযুক্ত থাকলে বিল পাস হবে। অগ্রিম বিলের ব্যাপারে আমার জানা নেই।

নবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আর্থিক কোন ফান্ড না থাকার কারনে কাজ না করেও সরকারি বিধি মোতাবেক অগ্রিম টাকা দেওয়া যেতে পারে বলে বিধান রয়েছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার পাল বলেন, উপজেলা শিক্ষা কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে অগ্রিম ৫০% টাকা দেওয়ার জন্য। বরাদ্দপত্রে আছে কাজ শেষ করে টাকা নেবে। অগ্রিম নেয়ার সুযোগ নেই।

উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সেলিম বলেন ২০১৯ সনের প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশ রয়েছে প্রকল্প কাজের টাকা অগ্রীম দেওয়া যাবে আমারা মাহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ বাস্তবায়ন করার জন্য অগ্রীম টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে উপজেলা “উপজেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান সেলিমের স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহুব তুলে ধরা হলো,
সম্মানিত উপজেলা চেয়ারম্যান নবীগঞ্জ মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ বাস্তবায়ন। গত ২১-০৬-২০২০ ইং তারিখ বেলা ২.০০ ঘটিকায় নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম মহোদয়ের সভাপতিত্বে প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির এক সভায় যুগান্তরকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামতের কাজে এই প্রথম অগ্রিম টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়ের সভাপতিত্বে যা প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম! মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এসএমসি গঠনের প্রজ্ঞাপনে স্বারক নং ৩৮.০০৮.০৩৫.০০.০০.০০৭.২০১২-৬৬৬ তারিখ ৬-১১-২০১৯ইং ৩.৬এর গ ও ঘ মোতাবেক সংস্কার ও মেরামত কাজের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আয়ন ব্যায়ন কর্মকর্তা হিসেবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবেন এবং বরাদ্ধকৃত অর্থ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুকূলে অগ্রিম হিসেবে প্রধান করবেন এবং ৩.৬ এর ঙ মোতাবেক এসএমসি এর অনুমোদনক্রমে প্রধান শিক্ষক অর্থ উত্তোলণ ও ব্যয় করবেন।

উল্লেখীত আদেশের বাস্তবায়নে সংস্কার ও মেরামত কাজ (২০০,০০০ও ১৫০,০০০) টাকা এর ৫০% টাকা ও অগ্রিম সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। উল্লেখিত যুগান্তকারী গ্রহনের জন্য প্রধান শিক্ষক সমিতি , নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে সম্মানিত উপজেলা চেয়ারম্যান, সম্মানিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহোদয়গণ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সকলকে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি। বিঃদ্রঃ আমিও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।”

জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধি: সেন্টেল জৈন্তাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টলে সংবাদ প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সেনগ্রামের একটি প্রভাবশালী পরিবার লন্ডন প্রবাসী পরিবারের হুমকী দেয়। একপর্যায়ে বাড়ীতে গেইট ভেঙ্গে হামলার হুমকী দেয়। অব্যহত হুমকীর কারনে লন্ডন প্রবাসী পরিবারের ৩ সদস্য বৃদ্ধ মা-বাবা ও ছোট বোন জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে বসত বাড়ী ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়।
অনুসন্ধানে জানাযায়, সেন্ট্রোল জৈন্তা উচ্চ বিদ্যালয়ের “নবযাত্রা, উত্থানকাল ও একজন হেডস্যার” নামে সাংবাদিক এহসানুল হক জসিম ফিচার নিউজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশ করেন। প্রকাশিত সংবাদে একপর্যায়ে তৎকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের কঠিন সময়ের বর্ণনা করতে গিয়ে একজন মেধাবী ছাত্র হত্যাকান্ডের প্রসঙ্গে লিখা হয়। ছাত্র হত্যার বর্ণনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার সেনগ্রামের পরস্পর আত্মীয় দুটি পরিবারের মধ্যে ভূল বোঝা বোঝিকে কেন্দ্র করে কিছুদিন হতে নানা ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষ-বিপক্ষ কথোপকথন হয়। বিষয়টি নিয়ে একপর্যায় গত ২৩ জুন মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মোস্তাফিজুর রহমান সুমন ইন্দনে সুহেল আহমদের নেতৃত্বে কিছু সংখ্যাক লোকজন লন্ডন প্রবাসী বাড়ীতে প্রবেশ করে প্রকাশ্যে হুমকী প্রদান করে এবং ৬ ঘন্টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। অন্যতায় বাড়ীর গ্রিল ভেঙ্গে প্রবাসীর বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও বোনের হাত-পা ভেঙ্গে ফেলে দিবে বলিয়া হুমকী ধমকী দেয়। এসময় সোহেল আহমদের সহযোগীরা প্রবাসীর বাড়ীর বাহিরে অবস্থান করে।
লন্ডন প্রবাসী আবু শাহাদৎ মোঃ সুহেল জানান, আমার চাচা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা যিনি দেশ রক্ষার জন্য মহান মুক্তিযোদ্ধের সময় সম্মুখ যুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহন করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেন। মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমার মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আখ্যাদিয়ে সম্মান হানির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং নানান ধরনের বিভ্রান্তীকর মন্তব্য করছে। অপরদিকে আমার জন্মদাতা পিতাকে নিয়ে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে নানা ধরনের কটাক্ষ করে আসছে।
এছাড়া আমার মামা মাষ্টার শফিকুর রহমান সব সময় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে আমার পিতাকে অশ্লিল ভাষায় গালি গালাজ করে আসছেন। তাদের নানা মূখি নির্যাতনে আমার পিতা মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারছেন না। একান্ত বাধ্য হয়ে অন্য মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। লন্ডন প্রবাসী আরও জানান আমার পিতা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং আমার মুক্তিযোদ্ধা চাচা মাষ্টার বেলাল আহমদকে নিয়ে কুৎসা রটনা করার জন্য আমরা প্রতিবাদ করি। এই প্রতিবাদকে পারিবারিক জায়গা জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব বলে সামাজের অপপ্রচার করে প্রকৃত ঘটনা তারা আড়াল করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের সাথে জমি-জমা, টাকা পয়সা নিয়ে কোন দ্বন্ধ নেই কিন্তু তারা জমি জমা নিয়ে দ্বন্ধ রয়েছে বলে অপপ্রচারে লিপ্ত। হুমকী প্রদানকারীরা আত্মীয় হওয়ার কারনে আমরা নিরব এবং লোকলজ্জার ভয়ে মান সম্মানের কারনে নিরব থাকার তারা আমাদেরকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে আমার পিতা-মাতাকে হুমকী ধমকী দিচ্ছে। বিষয়টি আমরা কর্ণপাত না করে সামাজিকতা বজায় রেখে চলাফেরা করে আসছি। সম্প্রতি সেন্ট্রোল জৈন্তাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার কারনে প্রতিপক্ষ আমাদের উপর দোষারোপ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গালি-গলাজ সহ নানা ভাবে হুমকী-ধমকী দিচ্ছে। তাতে আমরা কোন কিছু না বলার কারনে একপর্যায় মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের পরোক্ষ প্রতক্ষ্য মদদে সামাজিক ভাবে তাদের সুনাম নষ্ট করতে সোহেল আহমদ সহ ৮/১০ জনের একটি চক্র ২৩ জুন মঙ্গলবার সকাল অনুমান ৯টায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়ীতে ঢুকে এবং প্রবাসীর বৃদ্ধ বাবা মোঃ আব্দুল্লাহ, বৃদ্ধ মা হাওয়ারুন নেছা এবং ছোট বোন প্রকাশ্যে হুমকী প্রদান করে। এছাড়া ৬ ঘন্টার মধ্যে আমরা বাংলাদেশে এসে সোহেলের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে হবে নতুবা তা না হলে বাড়ী ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকী দেয়।
এবিষয়ে জানতে প্রতিবেদক হুমকী প্রদানকারী সোহেল আহমদের বাড়ীতে গেলে থাকে পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে মাষ্টার শফিকুর রহমান এর সাথে আলাপকালে তিনি হুমকীর বিষয় শুনেছেন বলে জানান। তবে তার ছেলে এঘটনার সাথে কোন ভাবেই সম্পৃক্ত নয় বলে জানান। আপনার ছেলে লন্ডন প্রবাসীদের হুমকী ধমকী দিয়ে আসছে এমন অডিও রেকর্ডে শুনা যাচ্ছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এই বিষয়ে আমার জানা নেই।
এব্যাপারে জানতে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বনিক জানান, এরকম ঘটনার বিষয় আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব।

“করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিরামহীন মাঠে ময়দানে এই নারী কর্মকর্তা” 

 

পিন্টু অধিকারী মাধবপুর থেকেঃ  করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে যখন সারা বিশ্ব বিপদগামী, ঠিক তখনই হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রথম থেকেই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তার। মাধবপুরের জনগনকে নিরাপদ রাখতে দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। হোম কোয়ারেন্টাইন এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে দিনের পর রাতেও ১১ টি ইউনিয়নে এবং মাধবপুর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় ছুটে চলেছেন এসিল্যান্ড আয়েশা আক্তার। উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে সরকারী নির্দেশ মোতাবেক উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা তাসনূভা নাশতারান এর নির্দেশনায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন তিনি।

হবিগঞ্জের মাধবপুরে মহামারী করোনা ভাইরাসে উপজেলা নির্বাচন, কৃষি কর্মকর্তা, পুলিশ,ডাক্তার, ব্যাংকার,নার্স, সহ আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। করোনা পরিস্থিতি শুরু থেকে এ পর্যন্ত নানান প্রতিকূল অবস্থায়ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আয়েশা আক্তার।

দুস্থ ও নিম্ন আয়ের পরিবারে সরকারি সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণকে উৎসাহিত করেন তিনি। করোনায় যেখানেই কেউ আক্রান্ত হয়েছেন সেখানেই তিনি ছুটে গেছেন। তাঁর এ কার্যক্রমে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।

বিশেষ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আয়েশা আক্তার জনগনের পাশে দাঁড়িয়েছেন, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, জনসমাগম এড়াতে বাজার থেকে খেলা মাঠে বাজার স্থানান্তর, সাপ্তাহিক হাট বন্ধ করা, প্রবাস ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্য বিধি মেনে সচেতনতা ও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট অভিযান সফল ভাবে করে যাচ্ছেন তিনি।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিরামহীন মাঠে ময়দানে এই নারী কর্মকর্তা।

তিনি নিয়মিত মাধবপুরে বিভিন্ন বাজারগুলো মনিটরিং এর মাধ্যমে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করায় অসাধু ব্যবসায়ীদের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে শাস্তির প্রদানের পাশাপাশি ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর এসব কাজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে ও সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করেছেন পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ। তিনি এ পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতির মধ্যে মাধবপুরে ২৫০টি মামলা পরিচালনা করেন এবং ৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ৬শ টাকা জরিমানা আদায় করেন।

জানা গেছে, মাধবপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তার মাধবপুর ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সালে যোগদান করেন। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায়। তিনি ৩৪ তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে নিয়োগ পান।

এ ব্যাপারে মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তার বলেন, মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে আমরা চাই মাধবপুর তথা দেশের মানুষ ভালো থাকুক। তাই নিজের ও পরিবারের কথা চিন্তা না করে করোনা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন করে যাচ্ছি। মহামারী এ করোনা থেকে বাঁচতে হলে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব ও মাক্স পরিধান, করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc