Sunday 12th of July 2020 06:56:28 PM

বেনাপোল প্রতিনিধি: সদ‍্য ঘোষণাকৃত ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর বৈষম্যমূলক ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রতিবাদে যশোরের শার্শায় মানববন্ধন করেছে দক্ষিণ অঞ্চলীয় বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন।
রবিবার বেলা ১১টার সময় যশোর-বেনাপোল মহা সড়কের  নাভারণ সাতক্ষীরা মোড়ে এ মানববন্ধন কর্মসুচী অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের দক্ষিণ অঞ্চলের আহবায়ক ফজলুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক দিকা মায়া বেগম সহ ৫ শতাধিক বিড়ি শ্রমিক-নেতাকর্মী ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি প্যাকেট বিড়িতে ট্যাক্স বৃদ্ধি  করা হয়েছে ৪ টাকা। যা শতকরা বৃদ্ধিহারে ২৮.৫৭%। অপরদিকে কমদামি সিগারেটে প্রতি প্যাকেটে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে মাত্র ২ টাকা। যা শতকরা বৃদ্ধির হার মাত্র ৫.৪১%।
অর্থাৎ সিগারেটের চেয়ে বিড়িতে প্যাকেট প্রতি ২ টাকা বেশি এবং শতকরা ২৩.১৬% বেশি। এটি বিড়ি শিল্পের উপর চরম বৈষম্যমূলক আচরণ। বিদেশি সিগারেট কোম্পানিকে সুবিধা দিতেই এ বৈষম্য করা হয়েছে। যা দেশীয় শিল্পের সাথে বিমাতা সুলভ আচরণ ছাড়া কিছুি না।
দীর্ঘদিন ধরে বিড়ি শিল্প ধ্বংস করার জন্য যে গভীর ষড়যন্ত্র ছিল প্রস্তাবিত বাজেটে তা প্রতিফলিত হয়েছে। এছাড়াও মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। পাশাপাশি বেশি দামী সিগারেটে সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি না পাওয়ায় কোম্পানির আয়ের সীমা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরকার বেশি ট্যাক্স প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে তা এ শিল্পের জন্য চরম হুমকিস্বরুপ। এর ফলে বিড়ি ফ্যাক্টরীর সংখ্যা কমে যাবে। করোনা পরিস্থিতিতে বেকার হয়ে পড়বে লক্ষ লক্ষ বিড়ি শ্রমিক। যার ফলে শ্রমিকরা করোনায় আক্রান্ত না হয়েও অনাহারেই মৃত্যুর দিকে ধাবিত হবে। এছাড়াও নকল বিড়ি বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে। সরকার হারাবে কোটি কোটিি টাকার রাজস্ব।
এমতাবস্থায় বক্তারা তাদের ৬ দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, ১. বিড়ি শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি করতে হবে। ২. বিড়ির উপর ট্যাক্স কমাতে হবে। ৩. কমদামী সিগারেট ও বেশী দামী সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করতে হবে। ৪. নকল বিড়ির ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। ৫. ভারতের ন্যায় বিড়ি শিল্পের সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। ৬. কোন ভাবেই করোনা পরিস্থিতি ও ভাবিষ্যতেও বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরী না করে বিড়ি শিল্পের ক্ষতি করা সমীচিন নয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাননীয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর আকষ্মিক ইন্তেকালে আহলে সুন্নাতের শীর্ষস্থানীয় আলেমেদ্বীনের মধ্যে নায়েবে আ’লা হযরত আল্লামা মুফতি ইদ্রিচ রেজভী, শেরে মিল্লাত আল্লামা মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী, আল্লামা আবদুল করীম সিরাজনগরী, পীরে তরিক্বত সৈয়দ মুহাম্মদ মছিহুদ্দৌলা, পীরে তরিক্বত আল্লামা আবুল কাশেম নুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নান, মহাসচিব আল্লামা এম এ মতিন, আন্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট সহ-সভাপতি আলহাজ¦ মুহাম্মদ মহসীন, জেনারেল সেক্রেটারী আলহাজ¦ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, পীরে তরিকত আল্লামা কাজী আব্দুস শকুর নক্শবন্দি, পীরে তরিকত সৈয়দ মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-মাইজভান্ডারী, পীরে তরিক্বত সৈয়দ বদরুদ্দোজা বারী, অধ্যক্ষ আল্লামা সৈয়দ অছিউর রহমান আলকাদেরী, আল্লামা হাফেজ সোলায়মান আনসারী, শায়খুল হাদিস কাজী মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন আশরাফী, শায়খ আল্লামা আবু সুফিয়ান খাঁন আলকাদেরী, স উ ম আব্দুচ সামাদ, সৈয়দ মাওলানা মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন আলকাদেরী, আল্লামা ড. সৈয়দ এরশাদ আহমদ আল বোখারী, এড. মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার, আল্লামা মাসউদ হোসাইন আলক্বাদেরী আনজুমানে খোদ্দামুল মোসলেমীন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ সাহাবুদ্দীন চৌধুরী, কাজী মুহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মতিন, অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ তৈয়্যব আলী, আল্লামা নুর মুহাম্মদ আলকাদেরী, পীরজাদা গোলামুর রহমান আশরফ শাহ্, পীরে তরিক্বত আল্লামা ছাদেকুর রহমান হাশেমী, অধ্যক্ষ ইসমাইল নোমানী, অধ্যক্ষ বদিউল আলম রেজভী, অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ পেয়ার মোহাম্মদ কমিশনার, মহাসচিব আলহাজ্ব শাহজাদ ইবনে দিদার।

এ ছাড়াও এড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ইসলামী ফ্রন্ট মহানগর উত্তর সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ নঈমুল ইসলাম, সম্পাদক নাছির উদ্দিন মাহমুদ, দক্ষিণ জেলার সভাপতি অধ্যাপক মনছুর দৌলতী, সম্পাদক হাফেজ আহমদ আলকাদেরী, উত্তর জেলার সভাপতি মাওলানা কদম রসুলী, সম্পাদক এস এম ইয়াসিন হোসাইন হায়দারী, চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা এম এন ইসলাম জিহাদী, সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ আশরাফ হোসাইন আলকাদেরী, আলহাজ কাজী মুহাম্মদ ফোরকান রেযা, হুজুরের শাহ্জাদা মাওলানা কাযী আবুল এরফান হাশেমী, কাযী মুহাম্মদ আবুল ফোরকান হাশেমী, মাস্টার মুহাম্মদ ইছমাইল হোসেন, আন্জুমানে রজভীয়া নুরীয়া ট্রাস্ট সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ দৌলতী, যুবসেনা কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ গোলাম মুহাম্মদ মানিক ভুঞা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সভাপতি জি এম শাহাদত হোসাইন মানিক, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইমরান হোসাইন তুষার, সুন্নী নাগরিক ঐক্য পরিষদের সচিব অধ্যাপক মুহাম্মদ কাওসার হামিদ, হিজরী নববর্ষ উদ্যাপন পরিষদের মহাসচিব মুহাম্মদ এনামুল হক ছিদ্দিকী, রাবেত্বায়ে উলামায়ে আহলে সুন্নাতের চেয়ারম্যান আল্লামা আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রজভী, মহাসচিব আল্লামা ইকবাল হোসাইন আলকাদেরী, রজভীয়া নুরীয়া ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি শায়ের মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরী, মহাসচিব শায়ের নাজিম উদ্দিন, মাদ্রাসা ছাত্র ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইদ্রিস, মহাসচিব মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, বিএম ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে মুহাম্মদ শফিউল আলম, এস এম ইকবাল বাহার, মুহাম্মদ জাহেদুল আলম, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন সিদ্দিকী, মুহাম্মদ রবিউল মোস্তফা প্রমূখ আজ ১৪ জুন সংগঠনের দপ্তর সচিব মুহাম্মদ ফিরোজ আলমের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলেন, বৈশ্বিক এ চরম ক্রান্তিকালে তাঁর ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত হয়েছি।

নেতৃবৃন্দ বলেন- মরহুম আবদুল্লাহ্ দীর্ঘদিন যাবত সরকারী মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব থেকে ইসলাম, তাহজীব- তমুদ্দনের অভূতপূর্ব উন্নয়নে অসমান্য অবদান রাখেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে মিলাদ- কিয়াম, আক্বিদাগত মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিষ্ঠার পক্ষে আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন যা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হয়। বিশেষত সুন্নীয়তের মৌলিকত্বকে অনুধাবনে তাঁর মেধাবী কৌশল সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। তাঁর ইন্তেকালে আমরা একজন ভাল মানুষকে হারিয়েছি এ বিয়োগ পূরণ হওয়ার নয। নেতৃবর্গ মহান প্রভুর দরবারে ক্ষমা প্রাথর্নার পাশাপাশি জান্নাতের আ’লা মাকাম দান কামনা এবং সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর সুযোগ্য সন্তান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডয়াম সদস্য ও উত্তর জনপদের প্রাণপুরুষ জননেতা মোহাম্মদ নাসিম এমপি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মোহাম্মদ নাসিম এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নওগাঁ -৬ (আত্রাই -রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, জননেতা জনাব ইসরাফিল আলম এমপি ।
সেই সাথে মরহুমের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। মোহাম্মাদ নাসিমের মৃত্যুতে জাতী হারালো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির অন্যতম সিপাহীশালার।
এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং সামরিক সরকারগুলোর বিরুদ্ধে এবং সা¤প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি আমরণ লড়াই করে গেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে জাতি হারালো এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে। এমপি ইসরাফিল আলম তার ফেসবুকে মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর পর স্মৃতিচারন করেন।
অনেক দিনের অনেক স্মৃতি অনেক স্নেহ অনেক প্রীতি। অনেক কথা নিত্য নীতির অনেক বাণী অনেক গীতির। দুঃখ- সুখের কথা ভুলে আপন পর পেছনে ফেলে। লক্ষ ভক্তের অশ্রুঝরা আর্তনাদে আত্মহারা। পাঁচ দশকের কর্ম ছেড়ে আজ আপনি গেলেন চলে। জানি আর দেখিবেনা কেউ গালভরা সেই হাসির ঢেউ। শুনিবে না কেউ বজ্র হু়ংকার উঠিবেনা আর দ্রোহের ঝংকার।
অনাদিকাল তবুও বাঁচিবে বারবার ফিরিয়া আসবে। মুক্তির প্রকম্পিত মিছিলে জাতি গঠনে ভাবনার নিখিলে। মগ্ন হোক চিরনিদ্রিত তব চিত্ত প্রভাত প্রাণে জাগ্রত রবে নিত্য ।

নূরুজ্জামান ফারুকী  নবীগঞ্জ থেকেঃ  নবীগঞ্জ উপজেলায় করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা নেওয়ার ৭থেকে ৮ দিনের আগে মিলছে না করোনা নমুনা সনাক্তের ফলাফল। পরীক্ষার ফলাফল যথা সময়ে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ দিন আগে পরীক্ষার জন্য নেওয়া নমুনার ফলাফল এখন পর্যন্ত না আসায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ০২ জুন নবীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা নমুনা দেওয়ার ৯ দিন পর গত ১১ জুন তার করোনা পজেটিভ আসে। এই ৯ দিন সে নবীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে মিলা মেশা করেছে যার জন্য সোনালী ব্যাংক ও ব্যাংক সংশ্লিষ্ট নবীগঞ্জের সবার মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৫১৯ জনের নমুনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত, ১৪ জুন পর্যন্ত নমুনা পাঠানো হয়েছে ৬৮৫ টি রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৪৬৬ টির। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ২৭ জন। এখনো ২১৯ টি নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট ল্যাবরটরি এন্ড রিসাস সেন্টারে  আরটিপিসিআর ল্যাবে রয়েছে। ঢাকার একমাত্র করোনা পরীক্ষার ল্যাব এভাবে যদি নমুনা ফেলে রাখে, আর প্রদানকারীরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করে তাহলে নবীগঞ্জের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত ২ জুন স্যাম্পল পাঠিয়েছি। ফলাফল এসেছে ৯ দিন পর। সরকারিভাবে সবকিছু হয়েছে, এতে আমার কিছুই করার নেই।

হবিগঞ্জের ডিপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জ্বল বলেন,আমাদের সব পরীক্ষাগুলো ঢাকা ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট ল্যাবরটরি এন্ড রিসাস সেন্টারে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঢাকা বিভিন্ন জায়গা সহ হবিগঞ্জের প্রচুর নমুনা পাঠানোর কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে। যেকারণে ফলাফল আগে পরে আসে। তবে যাদের স্যাম্পল নেওয়া হয়, তাদের প্রত্যেককে জনসাধারণ থেকে দূরে থাকার জন্য বলা হয়ে থাকে।

ফখরুল ইসলাম চৌধুরী,আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ  বেনজমিন নেতানিয়াহুর বিচার সবেমাত্র শুরু হয়েছিল। তার চলমান রাজনৈতিক বাধাগুলি সফলভাবে অপসারণ করার পরে, প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত কারাগারের সাজা থেকে নিজেকে বাঁচাতে বিচার বিভাগ এবং আইনের শাসনকে দুর্বল করার জন্য এখন একটি নিরবিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করছেন।

একই সময়ে করোনাভাইরাস মহামারী ইসরাইলে একটি অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। বেকারত্ব হার ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়েছে, সরকারী উদ্দীপনা প্যাকেজগুলি এখন পর্যন্ত অর্থনীতিতে হতাশাজনক  প্রতিক্রিয়া ফেলেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি একটি চরম হতাশায় পড়েছে।

আসন্ন সপ্তাহ গুলিতে,ইসরাইলে বেকারত্বের সুবিধাগুলি শেষ হওয়ার সাথে সাথে এবং জনগণ সঙ্কটের গভীরতা আরও বাড়তে দেখবে এবং সমাজের মৌলিক স্তম্ভগুলিও মারাত্মকভাবে কাঁপানো শুরু হবে ইস্রায়েলে।

এছাড়াও বেশ কয়েকটি জাতীয় সুরক্ষার চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়েছে, কিছু সংকট তৈরি হয়েছে, যা এই অঞ্চলের চেহারা বদলে দেওয়ার হুমকি দেয়, ইস্রায়েলে ইতিমধ্যে তীব্র আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা ও প্রতিনিধিত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং সম্ভবত যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। ইসরাইলের জাতীয় সুরক্ষার মৌলিক নীতি গুলি কঠোরভাবে এমন চেষ্টা করতে যাচ্ছে।

আগামী মাসে ইসরাইল একতরফাভাবে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর বা এর অংশগুলি একীভূত করার ঘোষণা দেয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া একঘরে হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং মদদে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গোলান হাইটসের সংযুক্তি করতে মরিয়া ইসরাইল ।

কিন্তু ইসরাইল চিন্তা করছে আরব বিশ্ব দুর্বল হয়নি, তারা কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম, ইরান নিজস্ব কভিড -১৯, অর্থনৈতিক ও নেতৃত্বের সংকট নিয়ে ব্যস্ত, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই বিষয়গুলিতে ডুবে আছে। সর্বোপরি, ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদন দিয়েছে এবং এটাই উপযুক্ত সময় ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর বা এর অংশগুলি একীভূত করার ।

ফিলিস্তিনিরা ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে তারা আর নিজেকে আবদ্ধ মনে করবে না এবং ইসরাইলের জাতীয়  স্বার্থে সুরক্ষা সহযোগিতা শেষ করছে। ধরে নেওয়া যায় আগামি মাসে এক সহিংস উত্তপ্ত পরিস্তিতি অপেক্ষা করছে ।

এদিকে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এবং জর্দান উপত্যকাকে ইসরাইল সংযুক্ত করার যে পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগোচ্ছে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি দাবি করেছেন, সেই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উপস্থিত থাকতে হবে।

শোক বার্তাঃ  বাংলা‌দেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্য‌নির্বাহী সংস‌দের প্রে‌সি‌ডিয়াম সদস্য, সংসদীয় স্হায়ী ক‌মি‌টির সভাপ‌তি, সা‌বেক ডাক টে‌লি‌যোগা‌যোগ, গনপূর্ত, স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্হ্যমন্ত্রী,‌ বি‌শিষ্ট পার্লা‌মেন্টা‌রিয়ান,সা‌বেক বি‌রোধী দলীয় চীফ হুইপ, জাতীয় চার‌নেতা প‌রিবা‌রের সু‌যোগ্য সন্তান, কেন্দ্রীয় ১৪ দ‌লের সমন্বয়কারী, জাতীয় নেতা মোহাম্মদ না‌সিম এম‌পি ঢাকায় চি‌কিৎসাধীন অবস্হায় ইন্তেকাল করে‌ছেন।ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি জানান মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী। আজীবন দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন এ জনদরদী মহান রাজনীতিবিদ। তাঁর মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। জনসেবা, দেশ ও সমাজের উন্নয়নে তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শোক বার্তায় উপাধ্যক্ষ ড. মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম মোঃ মনসুর আলীর সন্তান মোহাম্মদ নাসিম (৭২) শনিবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ২০১৪-২০১৮ মেয়াদে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে স্বরাষ্ট্র, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার,হবিগঞ্জ,সুনামগঞ্জ ও সিলেটসহ চার জেলা মিলে একদিনের রেকর্ড ১৬৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় সর্বোচ্চ ৯২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সিলেট জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৪৭ জনের।

এ ছাড়া মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় ১৩ জন করে নতুন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। নতুন করে শনাক্তদের নিয়ে সিলেট বিভাগে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩৬৫ জন।

শনিবার সিলেটের দু’টি পিসিআর ল্যাবের পাশাপাশি ঢাকায় পাঠানো নমুনা রিপোর্ট ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়। ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে শুধু সিলেট জেলার নতুন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) ও ঢাকার ল্যাবে সুনামগঞ্জের আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের সবার ঢাকার ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই দুটি জেলায় নমুনাগুলো ঢাকার বিভিন্ন ল্যাবে পাঠানো হয়।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, শনিবার ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়। এদের মধ্যে ৪৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১৯ জন সদর উপজেলা ও নগরীর বাসিন্দা। এ ছাড়া বিয়ানীবাজারের ৮ জন এবং বালাগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জের ৫ জন করে আক্রান্ত রয়েছেন। সিলেট জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৩৫২ জন।

শাবির জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাম্মাদুল হক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে সুনামগঞ্জের ২০২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামসুদ্দিন আহমদ জানান, আইইডিসিআরের ল্যাবে জেলার ২৮২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আইইডিসিআর ও শাবির ল্যাবে নতুন শনাক্তদের নিয়ে সুনামগঞ্জে সংখ্যা আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৫২৫ জন।

এদিকে শনিবার আইইডিসিআর থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে নতুন আক্রান্তদের তথ্য সিভিল সার্জন অফিসে জানিয়ে দেওয়া হয়। হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মখলিছুর রহমান জানান, জেলায় নতুন ১৩ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে চুনারুঘাট উপজেলার ৬ জন, বাহুবলের ৪ জন ও সদর উপজেলার ৩ জন রয়েছেন। এদের নিয়ে হবিগঞ্জ জেলায় এখন পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৪০ জন।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. তওহীদ আহমদ জানান, তাদের জেলায় নতুন আক্রান্ত ১৩ জনের মধ্যে দুই জন পুলিশ সদস্য ও একজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। এই জেলা নতুন আক্রান্তদের মধ্যে কুলাউড়া উপজেলার ৫ জন, সদরের ৩ জন, বড়লেখার ২ জন এবং শ্রীমঙ্গলে এক পুলিশ সদস্য, কমলগঞ্জ ও রাজনগরের একজন করে রয়েছে। এদের নিয়ে মৌলভীবাজার জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১৯১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত করোনায় ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সুস্থ হয়েছেন ৪৫১ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ২০৩ জন করোনা আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অসুস্থ বাবাকে দেখতে ঢাকায় যেতে পারলেন না হিরা মণি।লক্ষ্মীপুরে সদর উপজেলার ২নং হামছাদী ইউনিয়নের পশ্চিম গোপীনাথপুর গ্রামে গতকাল দুপুরে ঘরে একা পেয়ে হিরা মনি (১৪) নামে এই নবম শ্রেণিরে ছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এসময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরিফ ও সুমনসহ ৪ যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

মৃত হিরা মনি পশ্চিম গোপীনাথপুর গ্রামের হারুনুর রশিদের মেয়ে ও স্থানীয় পালেরহাট পাবলিক হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। নিহত হিরা মনির মামা শাহজাহান বলেন, হিরামনি আমাদের বাড়িতে ছিল। সকালে তাকে পালেরহাট বাজারে নামিয়ে দিয়ে যাই। বিকেলে এমন ঘটনা শুনতে হবে, তা কল্পনাও করিনি। যারা তাকে হত্যা করেছে তাদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানান তিনি।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার দক্ষিন হামছাদী ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. হারুনুর রশিদের মেয়ে।

নিহতের স্বজন ও পুলিশ জানায়, স্কুল ছাত্রী হিরা মনি সকালে একই গ্রামের তার নানা বাড়ী থেকে আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী বাড়ীতে (নিজ বাড়ী) আসেন। তার বাবা হারুনুর রশিদ অসুস্থ জনিত অবস্থায় ঢাকা হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তার মা সহ পরিবারের সদস্যরা সবাই ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। অসুস্থ বাবাকে দেখতে ঢাকায় যাওয়ার জন্য জামা কাপড় নিতে বাড়ীতে আসলে দুপুরে ওই বাড়ীতে ঘরের ভিতরের একা পেয়ে তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়।

পরে দুপুরের খাবার খেতে নানার বাড়ীতে না যাওয়ায় তার নানী ওই বাড়ীতে এসে তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় তার চিৎকারে আশে পাশের লোকজন এসে পুলিশে খবর দেয়। পরে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এদিকে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান।

সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোসলেহ উদ্দিন জানান, স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আমরা কয়েকজনকে আটক করেছি জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ রাজধানী ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করেছেন।ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেছেন, কয়েকদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। শনিবার রাতে তার হার্ট অ্যাটাক করে। রাত ১১টার দিকে তাকে সিএমএইচে নেয়া হয়। সেখানে নেয়ার পর দ্বিতীয়বার তার হার্ট অ্যাটাক করে। এর পরপরই তিনি রাত সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান।

শেখ মো. আবদুল্লাহ ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে ব্যস্ততার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৭ মে তার নির্বাচনী এলাকার (টুঙ্গীপাড়া-কোটালীপাড়া) উন্নয়নে প্রতিনিধির দায়িত্ব দেন তাকে।

শেখ মো. আবদুল্লাহ ১৯৪৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার মধুমতী নদীর তীরবর্তী কেকানিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ধার্মিক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ মো. মতিউর রহমান এবং মাতা মরহুমা আলহাজ মোসাম্মৎ রাবেয়া খাতুন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট মুজিব বাহিনীর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশ সেবা করার লক্ষ্যে চাকরির পরিবর্তে রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

“প্রভাবশালীরা গড়ে তুলছে মাছের ঘের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে বিচার দাবি।”

 

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের বিভিন্ন বিলে ফসলি জমি এবং মাছের অভয়াশ্রমকে নষ্ট করে নাম মাত্র অর্থে লিজ নিয়ে বা জবরদখল করে মাছের ঘের করার হিড়িক পড়েছে। এমনভাবে ঘের কাটা হচ্ছে যে এক পর্যায়ে জমির মালিক জমি বিক্রি করতে বা লিজ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলার প্রায় সমস্ত বিলে এভাবে অসংখ্য বড় বড় মাছের ঘের গড়ে উঠলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে পারছেন না। আর জনপ্রতিনিধিরাও এর প্রতিকারে এগিয়ে আসছেন না। এ বছর সদরের কামাল প্রতাপ গ্রামে স্থানীয় কোন্দলকে পুজি করে নিরীহ কৃষক এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের শতাধিক একর জমিতে প্রায় ৩০টি মাছের ঘের কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ অপরাধমূলক কাজের প্রতিকার চেয়ে ভূক্তভোগিরা জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের কাছে কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, সদরের বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের কামাল প্রতাপ গ্রামের এনায়েত কাজী প্রায় ১৫ একর, পার্শ্ববর্তী লোহাগড়া উপজেলার আমাদা গ্রামের কামরুল খান ৪০ একর এবং কামঠানা গ্রামের মিন্টু মিয়া আন্ধারকোটা বিলে ৬০ একর জমির ওপর অপরিকল্পিতভাবে এবং জবরদখল করে মাছের ঘের কেটেছে। কেউ কেউ ঝামেলা এড়াতে এবং ভয়ে নামমাত্র চুক্তিতে তাদের প্রিয় জমি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আবার মাছের ঘের কাটায় অনেক জমির মালিকের জমিতে যাবার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামবাসী জানান, কামাল প্রতাপ গ্রামে দু’টি হত্যাকান্ডের পর এখন দু’পক্ষই গ্রাম ছাড়া। এই সুযোগে অবৈধভাবে একাধিক মাছের ঘের তৈরী করছে। আগামিতে এ ঘেরকে কেন্দ্র করে আবার খুনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন।
কামাল প্রতাপ গ্রামের ভক্তদাস বিশ^াস বলেন, আমার ৭৮শতক জমিতে মিন্টু মিয়া জোরপূর্বক মাছের ঘের কেটেছে। সিদ্দিক মল্লিক বলেন, মামলা জনিত কারনে আমি এলাকায় না থাকায় কামরুল ও এনায়েত আমার ১ একর ৩৫ শতক ফসলি জমিতে জোর করে ঘের কেটেছে। সত্যরঞ্জন মালাকার বলেন, আমার ১ একর ১৪ শতক জমিতে আমন ধান ও তিল আবাদ করা ছিলো যা আমার পরিবারের সারা বছরের খাদ্যের যোগান হয়। সেই ফসল নষ্ট করে কামরুল খান মাছের ঘের কেটেছে।
এছাড়া একই গ্রামের বাসিন্দা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ফায়েকুজ্জামান ফিরোজের ৪২ শতক ,শান্তিরাম বিশ্বাসের ১একর ২৬শতক, দুলাল বিশ্বাসের ৯০ শতক, শক্তিপদ বিশ্বসের ৭৮শতক, সৈয়দ রানার ৭৫ শতক ,প্রশান্ত বিশ্বাসের ৬০ শতক, সুশীল মন্ডলের ১২ শতক, এবং সৈয়দ নায়েব আলীর ১একর জমি জবর দখল করে কামরুল, এনায়েত ও মিন্টু মাছের ঘের কেটেছে।
ওই গ্রামের জয় বিশ্বাস বলেন, কামরুল খান এমনভাবে ঘের কেটেছে তাতে তাদের পৈত্রিক ৩৫ শতক জমিতে যাওয়ার কোনো পথ নেই। একই কথা বলেন, খায়ের মল্লিক ও আমাজাদ কাজী। তারা জানান, মিন্টু মিয়ার প্রায় ৫০ একর ঘেরের মধ্য খানে তাদের দুজনের ১ একর ৩৫শতক জমি রয়ে গেছে। জমিতে যাওয়ার কোনো পথ নেই। প্রতিবাদ করলে হত্যাসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
জমি জবরদখলের ব্যাপারে অভিযোগ অস্বীকার করে এনায়েত কাজী বলেন, আমি না এসব জবরদখল করে কামরুল এবং মিন্টু ঘের কেটেছে। তার অধিকাংশ জমির মালিকদের কাছ থেকে না শুনে ও চুক্তি না করে ঘের কেটেছে।
কামাল প্রতাপ গ্রামের বাসিন্দা হুগলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় বিশ^াস বলেন, এ বিলে অনেক জমির মালিকের কাছ থেকে জোর করে অথবা কৌশলে ফেলে লিজ নেওয়া হয়েছে। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা অসংখ্য মাছের ঘেরের কারনে বিলের পানি ঠিক মতো বের হতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে ফলনও কমে গেছে। এছাড়া দেশী মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিক ভারসাম্যও হষ্ট হচ্ছে।
লক্ষীপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডঃ আররাফ হোসেন বলেন, ওই এলাকার কামরুল খান, সবুজ, পলাশ, মিন্টু মিয়াসহ অনেকে প্রায় ১ হাজার একর ফসলি জমিতে হাজরাখালি লাইনের খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের করেছে। মাছের অভয়াশ্রম বলে খ্যাত এসব বিলের দেশী মাছ এক সময় সারা জেলার মানুষের চাহিদা মিটত। এখন এসব বিলে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের করায় একদিকে ফসলি জমি কমে যাচ্ছে অন্যদিকে দেশী মাছের বিলুপ্তি হচ্ছে।
কলমিলতা পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সভাপতি কৃষক সায়েদ আলী শান্ত বলেন,সদরের নুনীক্ষীর, সাতঘোরিয়া, বড়েন্দার, গোবরা ও কাড়ার বিলের প্রায় ১৫শ একর জমিতে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের করা হয়েছে। ফলে বর্ষাকালে এসব বিলের পানি সময় মতো বের হতে পারে না এবং প্রয়োজনের সময় এসব বিলে পানি প্রবেশ করতে পারে না।
কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের করলে জলাব্ধতার সৃষ্টি হবে এবং ফসলি জমি কমে যাবে। কৃষকের চাষের জমিতে জোর করে মাছের ঘের করার অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
জেলা মৎস কর্মকর্তা মোঃ ফারুকুল ইসলাম বলেন, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে এবং প্রাকৃতিক মাছের অভয়াশ্রম নষ্ট করে ঘের করার সুযোগ নেই। অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের করলে দেশী মাছের আঁধার বলে পরিচিত এসব বিলের প্রাকৃতিক মৎস সম্পদ নষ্ট হবে।
নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম জানান, এ ধরণের একটি অভিযোগ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডঃ সুবাস চন্দ্র বোস জানিয়েছেন এবং লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে এ ধরনের মাছের ঘের করা যাবে না। বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc