Wednesday 8th of July 2020 07:19:35 PM

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) উপসর্গ নিয়ে সানুর মিয়া (২০) নামে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১০টায় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরী বিভাগে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত সানুর মিয়া কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের চিৎলিয়া বকশীটিলা গ্রামের দিনমজুর শাহেদ মিয়ার পুত্র।

শনিবার দুপুরে আলীনগর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম শামীম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সানুর মিয়া গত কয়েকদিন থেকে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভোগছিলেন। প্রথমে তাকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে ভর্তি হয়ার পর জরুরী বিভাগেই তার মৃত্যু হয়। মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ ফয়ছল জামান জানান, মৃত ব্যক্তির করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশ দাফনের জন্য পুলিশ ও পরিবারকে বলা হয়েছে।আলীনগর ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম শামীম জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শনিবার সকাল ১১টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া সানুর লাশ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।কমলগঞ্জ উপজেলায় মোট ২৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ১৩ জন ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: এম, মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া করোনা উপসর্গ নিয়ে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে সানুর মিয়া নামে এক যুবকের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেন। তার পরিবারের সদস্যদের আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহের রিপোর্ট আসলে বুঝা যাবে সে করোনা আক্রান্ত ছিল কি না।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কমলগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ন ৯টি স্থানে স্থাপন করা হয়েছে স্থায়ী হাত ধোয়ার বেসিং। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে কমলগঞ্জ পৌর এলাকায় ৮ টি ও শমশেরনগর বাজারের রেলস্টেশন এলাকায় ১টি বেসিং স্থাপন করা হয়। হাত ধৌত করতে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে এসব বেসিং স্থাপন করা হয়। বেসিং এ রাখা হয়েছে সাবান।
কমলগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মহামারী করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব থেকে জনগনকে রক্ষার জন্য এসব বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজনের তাগিদে বাইরে বের হওয়া জনসাধারণ যাতে সহজে হাত ধৌত করতে পারে সেজন্য কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব স্থায়ী বেসিং নির্মান করা হয়। পৌর এলাকার কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনিক এলাকা, কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনা, ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন, কমলগঞ্জ পৌরসভা প্রাঙ্গন, পানিশালা তিন রাস্তার মোড়, ভানুগাছ বাজার চৌমুহনা, কমলগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং শমশেরনগর রেলস্টেশন এলাকায় এসব বেসিং স্থাপন করা হয়। রাজস্ব বাজেট এর আওতায় ৩টি এবং বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় ৬টি বেসিং স্থাপন করা হয়।
আলাপকালে কমলগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. পনিরুজ্জামান জানান, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে রাজস্ব বাজেটের আওতায় প্রথমে ৩টি বেসিং প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় শুধুমাত্র পৌর এলাকায় আরও ৬টি বেসিং প্রতিষ্ঠা করা হয়। এসব বেসিং এ যাতে জনসাধারণ সহজে হাত ধৌত করতে পারে সেজন্য পর্যাপ্ত সাবানের ব্যবস্থা আছে।

তিনি আরও জানান, কমলগঞ্জের কোন নাগরিকের ব্যবহৃত নলকুপ নষ্ট হলে স্বল্প মূল্যের কোন সরঞ্জাম প্রয়োজন হলে সেটা তার কার্যালয় থেকে প্রদান করা হচ্ছে।

শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জ: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় সমাজ সেবা অধিদপ্তর কর্তৃক চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতাায় কমলগঞ্জ উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ২২টি চা বাগানে চা শ্রমিকদের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তা এককালীন ৫০০০ হাজার টাকার চেক বিতরণের জন্য ৩ হাজার শ্রমিকের নাম তালিকাভুক্ত করতে ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০১৮ সালের বরাদ্দকৃত চেক চলতি বছরের জুন মাস থেকে বিতরণ শুরু করছে সমাজ সেবা অধিদপ্তর। শমসেরনগর ও কানিহাটি চা বাগানের তালিকায় দুইএনআইডি নাম্বারের বিপরীতে ৭৪জন শ্রমিকের নাম রয়েছে।

একইভাবে অন্যান্য চা বাগানের ষ্টাফ, কর্মচারী, অশ্রমিক, জনপ্রতিনিধির আত্মীয়স্বজনদের নামও তালিকায় রয়েছে। চা বাগান সংশ্লিস্টরা বিষয়টি তদন্ত করার দাবী জানিয়েছেন।জানা যায়, সম্প্রতি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ . মো. আব্দুস শহীদ আনুষ্ঠানিকভাবে ২২০০ জন শ্রমিক পরিবারের মাঝে ৫ হাজার টাকার চেক বিতরণ করার মাধ্যমে কমলগঞ্জ উপজেলায় এ কার্য়ক্রম উদ্বোধন করেন। তারপর থেকেই সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাগান প ায়েত কর্তৃক তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম উঠেছে। বিশেষ করে শমশেরনগর ও কানিহাটি চা বাগানের তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। তালিকায় দেখা যায়, শমশেরনগর চা বাগানের প্রাপ্ত ১১৩ নং হতে ১৪০ নং পর্যন্ত ২৭জন শ্রমিকদের নামের পাশে একই এনআইডি (৫৮১৫৬৮৫) নাম্বার দেয়া আছে। একই তালিকায় শমশেরনগর শিংরাউলী গ্রামের মাইক্রোবাস চালক নুনু মিয়ার নামও রয়েছে। তাছাড়া তালিকাভুক্ত অধিকাংশ চা বাগানের নিবন্ধিত চা শ্রমিক নন।

একই চা বাগানের ফাঁড়ি বাগান কানিহাটি চা বাগানের নামের তালিকায় আরেকটি এনআইডির (৫৮১৫৬৮৫৯৫) বিপরীতে ১নং হতে ৪৫নং পর্যন্ত ৪৫ জন শ্রমিকদের নাম রয়েছে। একইভাবে উপজেলার আলীনগর চাবাগানের তালিকায়ও ষ্টাফ, কর্মচারী ও চাকুরীজীবিদের নামও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাধবপুর, পাত্রখোলা, মৃত্তিঙ্গা, চাম্পারায়সহ বেশ কয়েকটি বাগানের স্থানীয় প ায়েত ও জনপ্রতিনিধিরা শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে টাকা নয়ছয় করতে এমন আশ্রয় নিয়েছেন বলে সাধারণ শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন।্ অপর দিকে স্থানীয় সাংবাদিকরা সারা উপজেলায় বিতরণকৃত চা শ্রমিকদের এককালীন সহায়তার নামের তালিকা সমাজসেবা অধিদপ্তরে চাইলে সমাজ সেবা অফিসার তালিকা দিতে রাজি হননি পরে তথ্যাধিকার আইনে আবেদন করেছেন বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে কানিহাটি চা বাগানের ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, তালিকা আমি করিনি। স্থানীয় বাগান প ায়েত ও চেয়ারম্যান করেছেন বলে জেনেছি। শমশেরনগর চা বাগানের ইউপি সদস্য ইয়াকুব আলী বলেন, অনিয়ম বিষয়টি তার জানা নেই, তবে ইউনিয়ন অফিসের কম্পিউটারে তালিকা করা হয়। হয়তো সেখানে ভুল হতে পারে।

কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা প্রাণেশ চন্দ্র বর্মা বলেন, কিছু অনিয়মের কথা শুনেছি তবে চেক বিতরণ করা হলেও সমাজ সেবা বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চেকের টাকা প্রদানে এখনও কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

নূরুজ্জামান ফারুকী,নবীগঞ্জ থেকে: নবীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাও গ্রামের দিনমজুর আব্দুল বাছেতের স্ত্রী রেখা আক্তার (৩০) নামের এক নারী একসঙ্গে তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা শহরের সেন্ট্রাল হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে তিনি সন্তান জন্ম দেন। তিন সন্তানের মধ্যে সবাই ছেলে।

রেখা আক্তার উপজেলার নোয়াগাও গ্রামের দিনমজুর আব্দুল বাছেতের স্ত্রী। এক সঙ্গে তিন সন্তান জন্মের খবর গ্রাম সহ নবীগঞ্জ উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে।নবজাতক তিনটির বাবা আব্দুল বাছেত বলেন- রেখার প্রসব ব্যথা উঠলে গ্রামের লোকজন সহযোগিতায় জেলা শহরের বেসরকারি সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেন্ট্রাল হাসপাতালের ডাক্তার রাজিব রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাসহ তিন সন্তানের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। তিনি বলেন- পরিবারটি খুবই গরিব।

এম ওসমান,যশোর: বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই বশির উদ্দিন মোড়ল ও এসআই এসকে মনিরুল ইসলাম নামে দুইজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তারা দুই জনই বেনাপোল পৌরসভার ছোট আঁচড়া গ্রামের বিএনপি নেতা আবু তাহের ভারতের বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল‍্যান কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ আলী জানান, গত দুইদিন আগে এসআই বশির উদ্দিন মোড়ল ও এসআই এসকে মনিরুল ইসলাম  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা পরিক্ষা করতে দেন। নমুনার রিপোর্টে তাদের দু’জনেরই করোনা পজিটিভ আসে। সে কারণে তাদের দু’জনেরই বাড়িতে লাল কাপড় তুলে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।
করোনা আক্রান্ত দু’জনই স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে অবস্থান করছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নতুন করে আরও ৫৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত শুক্রবার ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে সিলেট জেলার ৪০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। অন্যদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) পিসিআর ল্যাবে নতুন করে সুনামগঞ্জের ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

নতুন আক্রান্তদের নিয়ে সিলেট জেলায় মোট এক হাজার ২৭৭ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হলেন। এ ছাড়া সুনামগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৩৩ জন। বাকি দুই জেলার মধ্যে হবিগঞ্জে ২২৭ জন ও মৌলভীবাজারের ১৭৮ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, পুরো বিভাগে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত এখন ২ হাজার ১১৫ জন।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, শুক্রবার ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪০ জনের রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসে। এদের মধ্যে ৩৭ জন-ই নগরী ও সদর উপজেলার বাসিন্দা। এই তালিকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন।

এ দিকে শাবির জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাম্মাদুল হক সংবাদ মাধ্যমকে জানান, শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে সুনামগঞ্জের ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ দিন নতুন করে ২১৯ জনের নমুনা গ্রহণ করেছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় সুত্র জানায়, শুক্রবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনায় ৪৪ জন মারা গেছেন এবং ৪৪৫ জন সুস্থ হয়েছেন। এ ছাড়া বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিজস্ব  প্রতিনিধি: চলে গেলেন আ’লীগের প্রভাবশালী নেতা আওয়ামী পরিবারের বিশ্বস্ত বন্ধু বিভিন্ন দপ্তরে মন্ত্রীদের দায়িত্ব পালন করা  সর্বশেষ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ।ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না-ইলাইহি রাজিউন।

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এ বর্ষীয়ান নেতাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে তানভীর শাকিল জয়। করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর স্ট্রোক করেন তিনি। তার মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন চিকিৎসকরা। এরপর থেকে ‘লাইফ সাপোর্টে’ ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এ সদস্য।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব মোঃ আবদুল হামিদ। পৃথক পৃথক বিবৃতিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মোহাম্মদ নাসিমের অবদান স্মরণ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তারা।

প্রথমে রক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ে গত ১ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। ওই দিনই তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ৪ জুন তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ৫ জুন ভোরে তিনি স্ট্রোক করেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যার কারণে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতার একজন শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম। সিরাজগঞ্জ থেকে পাঁচ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। বর্তমান সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মুখপাত্রের দায়িত্বও পালন করে এসেছেন তিনি।

২০১৪ সালের নির্বাচনের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ নাসিম। এর আগে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান নাসিম। পরের বছর মার্চে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দেয়া হয় তাকে। এক সঙ্গে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৯ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত। পরে মন্ত্রিসভায় রদবদলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

হাবিবুর রহমান খান,জুড়ী প্রতিনিধিঃ  সিলেট বিভাগ তথা ব্রিটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটির সকলের প্রবিণ মুরব্বি,যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি,মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার কৃতি সন্তান,হাজী মাহমুদ আলী শপিং কমপ্লেক্স এর স্বত্বাধিকারী, হাজী মাহমুদ আলী দাখিল মাদ্রাসার’ প্রতিষ্টাতা, হাজী উস্তার আলী আর নেই।
শুক্রবার সকালে ১১.৩০ মিনিটের সময় সেন্ট্রাল লন্ডন এর পেডিংটনের নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্না-লিল্লাহী……..রাজিউন)।মৃত্যুকালে উনার বয়ছ হয়েছিলো ৮০ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাজী উস্তার আলীর মৃতুতে ব্রিটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটির সকলের মাঝে বিশাল শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি  ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে যুক্তরাজ্য থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ভারতে অবস্থানরত মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অস্ত্র ক্রয় করার জন্য অর্থ সরবরাহ করে উস্তার আলী ব্রিটেনের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সাবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন।
এতে দেশ বিদেশী বিভিন্ন ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে আত্মার মাগফিরাত কামনা করে উস্তার আলীর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় (১২ জুন) মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ৪৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এটিই করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে গত ৯ জুন সর্বোচ্চ ৪৫ জন মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো এক হাজার ৯৫ জনে।
একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন আরো তিন হাজার ৪৭১ জন। শনাক্তের দিক থেকেও এটি নতুন রেকর্ড। গত ৯ জুন দেশে আগের তুলনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ডও কাটিয়ে ৩ হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়। এরপর টানা তিনদিন তিন হাজারেরও বেশি করে রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়। তবে গতকাল আগের সব সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেল। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮১ হাজার ৫২৩ জনে।

শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। নতুন সংযুক্ত তিনটিসহ মোট ৫৯টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে বুলেটিনে ডা. নাসিমা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬ হাজার ৯৫০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৯৯০টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো চার লাখ ৭৩ হাজার ৩২২টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৪৭১ জনের মধ্যে। এতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮১ হাজার ৫২৩ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৪৬ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো এক হাজার ৯৫ জনের। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫০২ জন।

ফলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন মোট ১৭ হাজার ২৫০ জন। নতুন করে যারা মারা গেছেন তাদের ৩৭ জন পুরুষ এবং নয়জন নারী। ১৯ জন ঢাকা বিভাগের, ১১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুজন রাজশাহী বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের, তিনজন বরিশাল বিভাগের, পাঁচজন রংপুর বিভাগের, একজন খুলনা বিভাগের এবং দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের। এদের ৩২ জন মারা গেছেন হাসপাতালে এবং ১৪ জন মারা গেছেন বাসায়। এদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের একজন, ত্রিশোর্ধ্ব ছয়জন, চল্লিশোর্ধ্ব তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১২ জন, ষাটোর্ধ্ব ১৫ জন, সত্তরোর্ধ্ব সাতজন, ৮১ থেকে ৯০ বছর বয়সী একজন, ৯০ থেকে ১০০ বছর বয়সী একজন এবং শতবর্ষী একজন মারা গেছেন।

বুলেটিনে বলা হয়, এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনা রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ৪৩৬ জনকে এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ১৪ হাজার ৭৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৮৮ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৬১ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন নয় হাজার ১২ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ৮৮৮ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে তিন লাখ ১৫ হাজার ২৩২ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৩৪ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন থেকে মোট ছাড় পেয়েছেন দুই লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৯ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৯ হাজার ৮৫৩ জন।

বুলেটিনে বরাবরের মতোই করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে সাবান দিয়ে হাত কুঁড়ি সেকেন্ড ধোয়া, মুখে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে তা মুলত করোনাভাইরাসের কারণে ঝুঁকিতে পড়া মানুষদের বাঁচানোর লক্ষ্যেই করেছে সরকার। এই বাজেটের মাধ্যমে মানুষের জীবন রক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ধরে রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে। এজন্য আয়ের কথা চিন্তা না করেই ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি করোনাভাইরাস পরবর্তী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ নেওয়াও এ বাজেটের লক্ষ্য।

শুক্রবার বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে এমন মতামত জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। করোনা পরিস্থিতির কারণে সংবাদ সম্মেলনটি প্রচলিত ব্যবস্থায় আয়োজন না করে অনলাইনে করা হয়। এর শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী। এরপর অনলাইনে সংযুক্ত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন কয়েকজন মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, গভর্নর, এনবিআরের চেয়ারম্যান ও অর্থ সচিব।

অর্থমন্ত্রী সূচনা বক্তব্যে বলেন, এবারের বাজেট স্বাভাবিক বাজেট নয়। স্বাভাবিক বাজেট হলে সংবাদ সম্মেলনের অনুষ্ঠান হতো অন্য জায়গায়, অন্যভাবে। ক্রান্তিকালে এটি গতানুগতিক ধারার বাজেট নয়। বাজেট প্রনয়নের প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত ছিল না। অতীত অর্জন, অভিজ্ঞতা, মানুষ কিভাবে, কি স্বপ্ন দেখে সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে বাজেট করা হয়েছে। স্বাভাবিক পথ ছিল রুদ্ধ। ফলে ভিন্ন পথে করতে হয়েছে। অনেকের কাছে অসঙ্গতি মনে হতে পারে। কিন্তু উপায় ছিল না। বাজেট না থাকলে সরকারের কোষাগার থেকে অর্থ নেওয়া যায় না। এজন্য বাজেট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী, দোকানদারসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সে ব্যবস্থা করতে। সরকারের মূল লক্ষ্য মানুষকে বাঁচানো। স্বাভাবিক নিয়মে বাজেট করা না হলেও যেভাবে সাজানো হয়েছে, সেভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। সরকার আশা করছে, করোনা প্রলম্বিত হবো না। আইএমএফ বলছে, আগামী অর্থবছরে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। অবকাঠামো প্রস্তুত। আমরাও আশা করছি, ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তা হবে। যদিও কষ্টসাধ্য কাজ। কারণ দেশের কর জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এটাকে বাড়িয়ে ১৫ থেকে ১৭ শতাংশে নেওয়া গেলে প্রচুর উদ্বৃত্ত অর্থ থাকবে। এজন্য পূর্নাঙ্গ অটোমেশন দরকার। ভ্যাটের জন্য যেসব মেশিন কেনার কথা ছিল করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে তা কেনা সম্ভব হয়নি। প্রক্রিয়াধীন আছে। আশাকরি দ্রুত কাজটি শেষ হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শেকড়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়তে। সারা বিশ্বের শেকড় হচ্ছে কৃষি। কৃষিকে নতুন করে আবিষ্কার করতে হবে। এমনভাবে সাজাবো যে আগামীতে এগোতে পারবো। সরকারের বর্তমানে দুটো লক্ষ্য। প্রথমত করোনার বিস্তার রোধ করা। দ্বিতীয়ত অর্থনীতিতে এর যে নেতিবাচক প্রভাব তা মোকাবিলা করা। বিভিন্ন খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের মাধ্যমে আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়া। হঠাৎ করে অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়েছে। খাবার, চাকরি, সুযোগ সুবিধা সৃষ্টির জন্য অনেক অর্থের দরকার পড়েছে। সেই কাজটি করা হয়েছে।

এরপর তিনি সাংবাদিকদের থেকে প্রশ্ন আহ্বান করেন। নিজে এবং অনুষ্ঠানে সংযুক্ত অন্যান্য মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবরা তার উত্তর দেন।

প্রথম প্রশ্ন আসে ব্যক্তি শ্রেণীর করসীমা বিষয়ে। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন,করমুক্ত আয়সীমা ন্যূনতম ৩ লাখ টাকা করা হয়েছে। তিন লাখ টাকা যার আছে সে এখন গরীব না। হয়ত ধনীদের নিচের দিকে। সমাজে সমতা আনতে কর আরোপ করা হয়। ধনী আরও ধনী হয়ে গেল। গরীব না খেয়ে থাকলো। এটা সরকার চায় না।

সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় আম্পানসহ অন্যান্য দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবিলা ও কৃষি খাতের উদ্যোগ বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারী ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এরকম অবস্থায় বাজেট করা হয়েছে। সারা পৃথিবীর মহামন্দা বিবেচনা করতে হয়েছে। এছাড়া সপ্তম থেকে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতে যাওয়া, এসডিজি সবই মাথায় রেখে বাজেট করতে হয়েছে। এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। তিনি বলেন, উপকূলের বাঁধ এমনভাবে ভেঙ্গে যায়, যে তা সহজে পুনর্গঠন করা যায় না। বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে। জমি উদ্ধার, মানুষকে ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। উপকূলে ২০ লাখ হেক্টর জমিতে লবণ সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভব করা হয়েছে। পটুয়াখালীতে তরমুজ, মুগডাল হচ্ছে। এগুলো আগে হত না। আমরা নতুন ফসল নিয়ে এসেছি। আগামী রবি মৌসুমে বীজ, সার, মাঠ পর্যায়ে সহায়তা দেওয়া হবে। প্রণোদনা আছে। অর্থের কোনো সমস্যা হবে না। কৃষিতে সার্বিকভাবে অনেকগুলো প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে খাদ্য সংকট হবে না।

বাজেটের ঘাটতি বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন,মানুষকে রক্ষা করার জন্য বাজেট দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আয়ের চিন্তা করেননি। মানুষকে আগে বাঁচাতে হবে। কর্মসংস্থান দিতে হবে। অবকাঠামো ঠিক করতে হবে। প্রথমে খরচ করবো, তারপরে আয় করবো। এই যাত্রায় এই কাজে দেশের সব মানুষের সহযোগিতা দরকার। সবার দায়িত্ব আছে মানুষের প্রতি। এজন্য সবাই মিলে মোকাবিলা করতে হবে।

কমিউনিটি ক্লিনিক কোভিড মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখেনি এরপর বাজেটে নতুন করে কমিউনিটি ক্লিনিক করার উদ্যোগ কেন নেওয়া হয়েছে- এর জবাবে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ই এলাহী চৌধুরী বলেন, আগে মানুষকে বাঁচাতে হবে। তারপর টাকার যোগান। আমাদের সরকার যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসে তখন সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক করা হয়। এরপর বিএনপি তা বন্ধ করে। আবার সরকার তা চালু করেছে। এখন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। টেলিমেডিসিনে যাচ্ছে। আমরা আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা চিন্তা করবো। এজন্য অবকাঠামো দরকার।

তিনি বলেন, একশ বছরের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় মন্দা। আমেরিকা ৬ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যাংক থেকে ধার করেছে। সে তুলনায় বাংলাদেশের ব্যাংক ঋণ কম। প্রয়োজন হলে সরকার আরও ঋণ নেবে। ভয় পাওয়ার কারণ নেই। পারিবারিক জীবনে ধার করতে হয়, জাতীয় জীবনেও ধার করতে হয়।

আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে খেলাপি ঋণ বেশি ছিল। সেজন্য ব্যাংকগুলো মাঝে মাঝে তারল্য সংকটে পড়তো। ইদানিং কারোর তারল্য পরিস্থিতি খারাপ তা বলা যাবে না। ফলে ব্যাংক ঋণ দিতে পারছে। ব্যাংকের কাছে অনেক টাকা থাকতে হবে তা জরুরি নয়। অর্থে গুনিতক প্রভাব সৃষ্টি করা জরুরি। পর্যাপ্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ আছে। পুঁজিবাজার থেকে অনেক অর্থ নেওয়া যাবে।

বেসরকারি বিনিয়োগ কিভাবে বাড়বে জানতে চাইলে মুস্তফা কামাল বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করার জন্য প্রস্তুত। ১০০টি এইজেডের ১৭টি প্রস্তুত। বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আসবে আশা করা হচ্ছে। ডিজিপির অনুপাতে রাজস্ব ১৫ ভাগে নিতে পারলেও অনেক টাকা থাকবে। সেই টাকা বিনিয়োগ করা যাবে। বিদেশিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে স্থানীয় শিল্পের সুবিধা নিতে পারবে। ফলে স্বয়ংক্রয়িভাবে বিনিয়োগ আসবে। গত কয়েক বছরে এফডিআইয়ের ট্রেন্ড ইতিবাচক। এতদিন সরকার বুঝতে পারেনি কোন পথে এগোলে বিনিয়োগ আসবে। এখন বুঝেছে। আইন সহজ করা হচ্ছে। সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া সুদহার কম। সুদহার ৯ শতাংশের বেশি হলে খেলাপি ঋণ বাড়ে, বিনিয়োগ হয় না। বিদেশে বিনিয়োগ চলে যায়। এখন যাবে না। করোনা যদি প্রলম্বিত হয়, তাহলেও সরকার প্রস্তুত আছে। বাংলাদেশ সরকারের ঋণ অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় কম। জিডিপির অনুপাতে ঋণ ৩৪ শতাংশ। ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। সরকার মানুষের ঘরে ঘরে যাবে।

মোবাইল ব্যবহারে কর বাড়ানো বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, মূল সমস্যা কত বাড়লো তা বিষয় নয়, বাড়ানো হয়েছে এটাই সমস্যা। বলা হচ্ছে এতে মোবাইলের কল রেট বেড়ে যাবে। হয়ত মোবাইল অপারেটররা এ সুযোগ নেবেন। এক টাকায় ৫ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এতে মানুষের ব্যয় বেড়ে যাবে তা এনবিআর মনে করে না। কারণ মানুষ অনেক কম খরচে কথা বলছে। ফলে অনেক অপ্রয়োজনীয় কথাও বলছে। রেল লাইনে মারা যাচ্ছে।

রাজস্ব আয়ের লক্ষ অর্জন বিষয়ে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাব থাকলে অর্জন করা কঠিন। না থাকলে অর্জন করতে প্রস্তুত এনবিআর। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে সরকার ব্যর্থ। এই ব্যর্থতার কারণ বারবার কর হার বাড়ানো হয়েছে। করের নেট বাড়ানো হয়নি। এতে করের নেট থেকে বের হওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। করের নেট বাড়ানো দরকার। সেটা করতে হবে। প্রকৃত অর্থে যাদের কর দেওয়ার কথা তারা সকলে কর দিলে করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানো যাবে। এবারেরর বাজেটে এজন্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক কর কমানো হয়েছে। সবাই যাতে এগিয়ে আসে। ফাঁকি না দেয়।

স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতা ও দুর্নীতি দূর করা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান বলেন, দুর্নীতি দূর করা একটা কর্তব্য, সেটা সরকার দেখবে। স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ করা জরুরি। কমিউনিটি ক্লিনিক বাড়ানো হলে তা হবে। তবে ব্যবস্থাপনার ত্রুটি দূর করতে হবে।

১০ লাখ টাকার সঞ্চয়ের ওপর ৩ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক বসানো প্রসঙ্গে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ১০ লাখের নিচে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। গত বছর সঞ্চয়পত্রের কারণে ব্যাংক থেকে আমানত চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। সঞ্চয়পত্র এখন আর আকর্ষণীয় নয়। ফলে আমানত কমবে না।

স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ প্রসঙ্গে অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, আরও কিছু টাকা বরাদ্দ করা গেলে ভালো হত। বরাদ্দ করার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় দেখা হয়। প্রথম টাকা নেওয়ার সক্ষমতা কতটা আছে। দ্বিতীয়ত বরাদ্দের ক্ষেত্রে সরকারের কাঠামো। চাইলে বরাদ্দ কমানো যায় না। আবার অনেক বাড়ানোও যায় না। প্রবৃদ্ধি অনুযায়ী হিসাব করা হয়। গত পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাদ্দের চেয়ে ১০০০ বা ১২০০ কোটি বেশি খরচ করতে পেরেছে। এটি সক্ষমতার অভাব। তবে করোনা মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। সক্ষমতা বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী দেওয়া হবে।

এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাত যত টাকা নিতে পারবে, তত দেওয়া হবে। তবে এজন্য তাদের কার্যকর সেবা বাড়াতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে টাকার অভাব হবে না। তবে সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশের সরকারই পুঁজিবাজার চাঙ্গা করে না। সরকারের কাজ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। এর প্রতিফলন হবে পুঁজিবাজারে।

বরাদ্দ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে প্রাধান্য দেওয়ার কারণ শুধু সরকার নয়, জনমতও তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন। স্বাস্থ্য অবহেলিত ছিল। বর্তমান সরকার কাটিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।

অর্থ পাচার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো সরকারই চায় না দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাক। আইন দেখা দরকার। স্বয়ংক্রীয় ব্যবস্থা করা গেলে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। আইনি প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে পারেন। আইন থাকলে বাস্তবায়ন করবো। না থাকলে আইন করা হবে। আমরা চাই এদেশের অর্থ বিদেশে না যাক। যারা এখানে খরচ করতে চায় না, তারা একবারেই চলে যাক না।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc