Sunday 12th of July 2020 07:37:12 PM

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘উনার শারীরিক অবস্থা তো এমনিতেই সংকটাপন্ন ছিল। আজ আরও অবনতি হয়েছে। তবে আমরা সার্বিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাবেক এই মন্ত্রীকে বিদেশ নেয়ার বিষয়ে তারা কোনো মতামত দেননি। বিষয়টি তার পরিবারের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
রক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ে গত ১ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। ওই দিনই তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ৪ জুন কিছুটা উন্নতি হলেও ৫ জুন ভোরে স্ট্রোক করেন তিনি। পরে অস্ত্রোপচার করে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। এরপর থেকে তার জ্ঞান ফেরেনি। তবে দ্বিতীয়বার করোনা পরীক্ষায় তার ফল নেগেটিভ এসেছে।

জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি ১৪ দলের মুখপাত্রও। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মোহাম্মদ নাসিম। এর আগে ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বরাষ্ট্রসহ একাধিক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ওয়ান ইলেভেনের সময় কারাবন্দি অবস্থায় প্রথমবার স্ট্রোক করেছিলেন নাসিম। এবার দ্বিতীয়বার স্ট্রোক করলেন। এজন্য তার ফিরে আসাটা জটিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী মোজাম্মেল হক এবং তার স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানু করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন।

এছাড়া মন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) হাবিবুর রহমানও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তাদের টেস্ট করা হলে আজ শুক্রবার (১২ জুন) তাদের দেহে কোভিড-১৯ পজিটিভ ফলাফল পাওয়া যায়। মুক্তিযু্দ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।া

মন্ত্রী, মন্ত্রীর স্ত্রী এবং একান্ত সচিব চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। মন্ত্রী নিজের এবং আক্রান্তদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিএনপি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘অন্তঃসারশূন্য ও কল্পনাপ্রসূত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আজ (শুক্রবার) বিকেলে উত্তরার নিজ বাসায় আয়োজিত জুম মিটিংয়ে দলের পক্ষে আনুষ্ঠানিক বাজেট প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নেরও জবাব দেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, করোনা সংকটের কারণে জাতি আজ এক মহাদুর্যোগকাল অতিক্রম করছে। মানুষের জীবন ও অর্থনীতির এ মহাসংকট থেকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রথাগত গতানুগতিক বাজেট কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে একটি বিশেষ করোনা বাজেট’ ঘোষণা করা। তা না করে অর্থমন্ত্রী গতকাল (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার একটি গতানুগতিক অবাস্তবায়নযোগ্য বাজেট ঘোষণা করেছেন। এ বাজেট জাতিকে হতাশ করেছে।

এ বাজেট জনবান্ধব হয়নি- এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকারের কাছ থেকে অবশ্য এর বেশি কিছু আশা করেও লাভ নেই। কারণ জনগণের কাছে এদের কোনো জবাবদিহিতা নেই।

বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, এই বাজেটে করোনা কাটিয়ে একটি টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নেই। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে প্রত্যাশিত অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। বাজেটে বর্তমানে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কার্যকর সুশাসন, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বস্তরে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প প্রস্তাব নেই।

তিনি বলেন, জাতি আশা করেছিল, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে অর্থমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের জন্য চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৩ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২৯ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন। করোনা মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করা হলেও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হলো জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ। অথচ স্বাস্থ্য খাতে আমরা জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করেছিলাম।

বরাদ্দ করা অর্থের দুর্নীতিমুক্ত ব্যবহারের বিষয়ে বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা নেই দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, যেসব প্রকল্প নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে, সেসব প্রকল্পগুলোকেই বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে দেখানো হয়েছে। পরিবহন খাত, বিদ্যুৎ খাতসহ অনেক খাতে বেশি পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা এ মুহূর্তে প্রয়োজন ছিল না।

তিনি বলেন, সরকারি ভাষ্যমতে, বর্তমানে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ২০ হাজার ২৭৯ মেগাওয়াট। তাই এ অসময় তোড়জোড় করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দের কোনো দরকার ছিল না। ১২০০ মেগাওয়াট রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকায় দেশের সবচেয়ে একক ব্যয়বহুল চাপযুক্ত জল-চুক্তি প্রকল্প, যা রাশিয়ান এক কোম্পানি বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দিয়ে ওই অর্থ স্বাস্থ্যসহ কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করা যেত। তা করা হয়নি, কারণ রূপপুর কেন্দ্রের দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করতে চায়নি সরকার।

বাজেটে কেবল সংখ্যা র হিসাব মেলানো হয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরকেই আয় করতে হবে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা বাস্তবতা বিবর্জিত। এনবিআর এ অর্থ আহরণ করতে ব্যর্থ হবে এবং তাতে বাজেট ঘাটতির পরিমাণও বেড়ে যাবে। ব্যাংকগুলোর পক্ষে প্রস্তাবিত ৮৫ হাজার কোটি টাকা জোগান দেওয়া সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী এ বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করেছেন ৮ দশমিক ২ শতাংশ। আমদানি, রফতানি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ইত্যাদি আলোচনা করলেই স্পষ্ট যে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন নিতান্তই কল্পনাপ্রসূত। অর্থমন্ত্রী বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলেছেন। অথচ প্রতিটি দেশই করোনা আক্রান্ত হয়ে মন্দাকবলিত। তাছাড়া কর্মহীন প্রবাসীদের দেশে পুনর্বাসন ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই এ বাজেটে। বাজেটে পোশাক খাতের অস্থিরতা কাটানোর জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই।সুত্রঃ পার্সটুডে

নড়াইল প্রতিনিধি: কৃষকদের ধানের ন্যায্য মূল্য দিতে সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নড়াইলে চালু করেছিলেন কৃষক অ্যাপের লটারির মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় কর্মসূচি।
তারই ধারাবহিকতায় এবছর করোনা ভাইরাস সংক্রামনের কারণে কৃষককে যাতে ধান দিতে বাড়ী থেকে আসতে না হয় এবং কৃষকের পরিবহন ব্যয় যাতে না হয় সে জন্য কৃষকের বাড়িতে জেলা খাদ্য বিভাগ পরিবহন নিয়ে গিয়ে ধান ক্রয়ের এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহন করলেন সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।
করোনা সংক্রামনের ভয়ে ও পরিবহন ব্যয়ের কথা চিন্তা করে ধান বিক্রয় করতে যখন কিছুটা ভয়ে আছেন কৃষকরা, ঠিক সেই মুহূর্তে এমন কার্যক্রম কৃষকদের কাছে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর পদ্ধতি বলে প্রশংসিত হয়েছে। কৃষকের ধান বিক্রি সহজিকরণে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও কৃষকের সঙ্গে আলোচনা করে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগকে অনুরোধ করেছেন কৃষকের বাড়িতে বাড়িতে যেয়ে ধান ক্রয় কার্যক্রম চালু করতে।
এক্ষেত্রে যাবতীয পরিবহন খরচ সাংসদ মাশরাফী নিজেই বহন করার শ্রতিশ্রতি দিয়েছেন, ফলে জেলার খাদ্য বিভাগ নির্বিঘেœ কৃষকদের বাড়িতে গিয়ে ধান ক্রয় করছে। আর বাজারের দামের সাথে সরকারি দামের তারতম্য না থাকায লটারিতে বিজয়ী কৃষকরা উৎসাহ নিয়ে আনন্দের সাথে তাদেও ধান বিক্রি করছে।
চলমান করোনা মহামারিতে বাড়িতে বাড়িতে গাড়ি পাঠিয়ে ধান কেনার পদ্ধতি চালু করায পৌরসভার ৬ নং ওর্য়াডের কৃষক আরতি দাস এমপি মাশরাফীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের এ কষ্টের উৎপাদিত ফসল,সরকার ন্যয্য মূল্য দিয়ে বাড়ী থেকে নিয়ে যাচ্ছে,এতে আমাদেও কোন হয়রানি হচ্ছে না, পরিবহন খরচও হচ্ছে না , আমাদের কষ্ট আজ শেখ হাসিার সরকার ও আমাদের ঘরের ছেলে এমপি সাহেবের জন্য সার্থক হয়েছে।
এবিষয়ে জেলা খাদ্য নিযন্ত্রক শেখ মনিরুল ইসলাম জানান, মাননীয সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা জেলা খাদ্য বিভাগকে ২টি ট্রাক দিয়েছেন এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যানও ১টি ট্রাক দিবেন বলে জানিয়েছেন। ১টি ট্রাক নিয়ে আমরা গত বুধবার নডাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওর্য়াডের ভাদুলীডাঙ্গা গ্রামে যাই। সেখানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা। সেখান থেকে ঐ এলাকার কৃষক বিন্দু ঘোষ ,কোহিনুর রহমান ও আরতি দাসের নিকট থেকে ১ টন কওে ৩ টন ধান ক্রয় করা হয়েছে এবং ঐ সময়ে তাদের হাতে ধানের দাম বাবদ ২৬ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। কোন কৃষকের যদি সমস্য হয় তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে এই নম্বরে ০১৯১২৬৯৬৯৩১ বা সরাসরি খাদ্য অফিসে যোগাযোগের অনুরোধ করছি। তাহলে আমরা তার বাড়িতে গিয়ে ধান নিয়ে আসবো।
জেলা আওযামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেযারম্যান মোঃ নিজামউদ্দিন খান নিলু জানান, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার কৃষক বান্ধব সরকার, সারাদেশে কৃষকদের পাশে সরকার সব সময় আছে ও থাকবে। আর করোনার মধ্যেও নডাইলে ধান কেনার এমন অভিনব কার্যক্রম চালু করায মাশরাফীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। করোনা পরিস্থিতিতে কৃষকের বাড়িতে গিয়ে ধান কেনার এই পদ্ধতি অনুসরণে দেশের সংশিষ্ট সকলকে আহবান জানান জেলা আওযামী লীগের এই শীর্ষ নেতা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা জানান, ধানের বর্তমান বাজার মূল্য ৯শত টাকা থেকে ১হাজার ৫০ টাকা আর সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৪০ টাকা। ফলে বাড়িতে গিয়ে এই দামে ধান কেনায় কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছে তেমনি তাদের পরিবহন ব্যয় বেচে যাচ্ছে এবং ধানের দামের চেকও সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যাচ্ছে । এ জন্য তিনি কৃষকদের পাশে থেকে ধান বিক্রি সহজিকরণ ও সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য সংসদ সদস্য জনাব মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে ধন্যবাদ জানান।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী আ,লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রাহাদ হায়দারের ব্যক্তি ক্যার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রাহাত হায়দার বলেন,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ। ২০০৬সালের আজকের এইদিনে মইনুদ্দিন ফখরুদ্দিন কর্তৃক সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গ্রেফতার করেছিল। দীর্ঘ ১১মাস কারাবন্দী থাকার পর ২০০৭সালের আজকের দিনে তিনি বাংলার জনগনের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল।
এই সরকার নেত্রীকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রেখে ভেবেছিল দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে একেবারেই ধবংস করে দিতে। কিন্তু বাংলার জনগন সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক তৎকালীন সরকারের সকল স্বপ্নঁ ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশকে বিশ্বে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশে এখন আর কোন মংঙ্গা নেই,কোন র্দূভিক্ষ নেই। দেশে গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মানুষে মানুষে কোন বিভেদ বৈষম্য নেই।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,বাদাঘাট ওয়ার্ড আ,লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান,নাজমুল হাসান ধন মিয়া,ইউনিয়ন যুবলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এমাদ আহমেদ জয়, যুবলীগ সহ সভাপতি ফারুক আহমেদ, ওয়ার্ল্ড আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শাহজালাল,নাঈম,রামিন, আল-আমীন প্রমূখ।

চুনারুঘাট সংবাদদাতাঃ  চুনারুঘাটের আলোচিত বৃদ্ধ হত্যাসহ ২টি  মামলার  আসামী নুরুল হক (৫০)কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেফতার কৃত নুরুল হককে গতকাল জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
জানা যায়, গত মংগলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দ্বীমাগুরুন্ডা  গ্রামের  আব্দুল  গোফার ( ৮৫) নামে এক বৃদ্ধকে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে  কুপিয়ে হত্যা করে।
৯ জুন ২০ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গণেশপুর গ্রামের কাছে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে গত বুধবার রাতে নিহতের ছেলে  তাহির মিয়া বাদী হয়ে একই বাড়ীর সিরাজুল হক ও নুরুল হকসহ ৬ জনকে আসামী করে  চুনারুঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর, চুনারুঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক এর নেতৃত্বে ও এস আই জাহাংগীর ষারাশী অভিযান চালিয়ে মামলার এজহার ভোক্ত ২ নং আসামী নুরুল হক মোল্লা(৫০) কে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করেন।
উল্লেখ্য যে, মো. আঃ. গোফার  ঐদিন রাতে গণেশপুর বাজার থেকে নিজবাড়ী ডিমারুন্ডায় যাওয়ার পথে  পথিমধ্যে গণেশপুর গ্রামে পৌঁছা মাত্রই  পুর্ব  থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সিরাজুল হক, নুরুল হকসহ ৭/৮ জনের একদল  দুর্বৃত্ত তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে রাত ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  তিনি মারা যান অপরদিকে গত চার মাস পুর্বে গোফারের নাতিকে নুরুল হকসহ তালোকজন পিটিয়ে হত্যা করে। এ মামলায় নুরুল হক প্রথম আসামী।
এ ব্যাপারে ওসি নাজমুল বলেন অভিযোক্ত এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামীদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

উপ-পরিচালক বরাবরে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তা পূর্বরাজ মহবুবুল আম্বিয়া চৌধুরী মেমোরিয়াল নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ এবং এমপিও আবেদনে অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ উত্থাপন করে অভিযোগ দায়ের।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসীর উদ্যোগে ১৯৯৮ইংরেজীতে জৈন্তা পূর্বরাজ লালাখাল হাইস্কুল নামে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয় নাম পরিবর্তন করে জৈন্তা পূর্বরাজ মহবুবুল আম্বিয়া চৌধুরী মেমোরিয়াল নিম্নমাধ্যমিক করা হয়। অভিযোগকারী অত্র বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জৈন্তাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম আহমদ ১১ জুন ২০২০ ইংরেজী তারিখে বাদী হয়ে উপ-পরিচালক মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সিলেট অঞ্চল, সিলেটের বরাবরে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ সহ এমপিও ভূক্তিতে শিক্ষকদের নিকট হতে অর্থ আদায়ের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয় গত ৯ ডিসেম্বর ২০০৩ সনে দৈনিক জালালাবাদ এবং দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে শিক্ষক নিয়োগ করেন। প্রকৃত পক্ষে ২০০৩ সনের ৯ ডিসেম্বরের দৈনিক জালালাবাদ এবং দৈনিক ইনকিলাব মূল কপিতে বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের কোন বিজ্ঞাপন ছাপা হয়নি বরং জালিয়াতির মাধ্যমে পত্রিকার নামে বিজ্ঞাপন তৈরী করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন ২০১৮ সনে নিয়োগ পাওয়া প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বিদ্যালয়ে নিয়োগ লাভ করেন, কিন্তু বিদ্যালয়ের এমপিও ভূক্তির জন্য আবেদনে তিনি ২০ ডিসেম্বর ২০০৩ সনে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও ডিজি প্রতিনিধির স্বাক্ষর জ্বাল করে ভূয়া নিয়োগ কাগজপত্র দাখিল করেন। অথচ প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ২০১৩ সন পর্যন্ত বিয়াম কুদরত উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন যাহার তথ্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিদ্যমান রয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নিয়োগে নানা অনিয়ম ও দূনিতি চিত্র ফুটে উঠার পরও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস তথ্য যাচাই বাছাই না করে এমপিও’র জন্য উদ্বোতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে সুপারিশ করে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ নিয়মিত শিক্ষক ও অফিস সহকারী পদে মোট ৬জন আবেদন করে। ২ শিক্ষক সহ ১ জন অফিস সহকারী কাগজপত্রে ত্রুটি দেখিয়ে ফাইল ফেরত পাঠালে বিষয়টি এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করে। এনিয়ে উপজেলার সর্বত্র আলোচনা সমলোচনার ঝড় বইছে।
এবিষয়ে একাধিকবা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের (০১৭২৬৯০৮১৫৬) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সুলাইমান হোসাইন (০১৭১২০১৯৯৯৫) নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, পত্রিকায় ছাপানো বিজ্ঞাপনটি নকল তা স্ক্যানিং কপিতে বুঝার কথা নয়। যদি মূল পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞাপন না থাকে তাহলে এমপিও আবেদন বাতিল বলিয়া গন্য করা হবে বলে তিনি জানান। তারপরেও বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানায় আমরা ক্ষতিয়ে দেখছি।

জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেশের ৫০তম বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত মোট ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেটে ঘাটতি ধরা হচ্ছে এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশ।

প্রতিবার বাজেটে ঘাটতি সাধারণত পাঁচ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়। তবে এবার করোনার প্রভাবে প্রথমবারের মতো তা ছয় শতাংশ ছুঁয়েছে।

এ বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকার এক লাখ ৯ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এ ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৮৪ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে মোট ২৫ হাজার কোটি টাকা নিতে চায় সরকার।

তাছাড়া, ঘাটতি পূরণে সরকারকে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। টাকার অংকে তার পরিমান ধরা হয়েছে ৮০ হাজার ১৭ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে (সংশোধিত) যা আছে ৫২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ বৃদ্ধিকে যুক্তিসংগত বলে অভিহিত করেছেন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইকোনোমিকস এন্ড পিস-এর প্রেসিডেন্ট ড. আরিফুর রহমান। তিনি রেডিও তেহরানকে বলেন, বিশাল এ ঘাটতি পূরণ কষ্টকর হলেও তা অসম্ভব কিছু নয়। তবে এটা অনেকটাই নির্ভর করছে সরকারের আর্থিক খাতের দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১০ শতাংশ বেশি।

প্রস্তাবিত বাজেটে চলতি অর্থবছরের চেয়েও বেশি রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হলেও এনবিআর আগেই জানিয়েছে, রাজস্ব আদায়ের এই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব হবে না তাদের পক্ষে।

অর্থ সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে এনবিআর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে এনবিআরের রাজস্ব আহরণ হবে বড়জোর ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায় মূল লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৮০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কম হবে।  এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, করোনাকালে রাজস্ব আদায় পুরোপুরিভাবে সম্ভব নয়। তবে আগামী বাজেটে এনবিআরকে যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হবে, সেটা আদায় তাদের জন্য অনেক কষ্টকর হয়ে পড়বে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

এদিকে, বাম গণতন্ত্রিক জোটের শরীদ দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি করোনাভাইরাস সৃষ্ট সংকট থেকে উত্তরণে সরকারকে আট দফা প্রস্তাব দিয়েছে।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, ‘করোনা মহামারি ব্যক্তি ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে গভীর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে তা কাটিয়ে ওঠাই হবে নতুন অর্থবছরের প্রধান চ্যালেঞ্জ।’ তিনি দাবি করেছেন, বিত্তবানদের ওপর বেশি কর আরোপ করতে হবে। সম্পত্তি অনুযায়ী কর ধার্য করতে হবে। সর্বোপরি  কালো টাকা, অপ্রদর্শিত আয়সহ বিদেশে পাচার করা অবৈধ অর্থ সম্পদ উদ্ধারে নীতি-কৌশল ঘোষণা করতে হবে। এটা কার্যকর করতে পারলে সরকারের ঘাটতি পূরণ অনেক সহজ হবে। সুত্রঃপার্সটুডে

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ৮নং সাটিয়াজুরী ইউনিয়নের কাজিরখিল খনকারিগাঁও দিয়ে বয়ে যাওয়া করাঙ্গী নদীর সাঁকো ভেঙ্গে লাশসহ ৬ জন নদীতে ভেসে যায়৷ এঘটনায় ৬ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ৮টার দিকে খনকারিগাঁও গ্রামের স্বর্গীয় নিরঞ্জন পালের পুত্র দুলাল পাল (৪০) হঠাৎ বুকে ব্যাথায় চটপট করতে থাকলে তাকে মৌলভীবাজার হাসপাতালে নেওয়ার পথিমধ্যে দুলাল মারা গেলে বিকাল ৩ টায় তার মৃতদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে ফেরার পথে করাঙ্গী নদীর সাঁকো ভেঙ্গে দুলালের লাশসহ ৬ জন নদীতে ভেসে গেলে স্থানীয় এলাকাবাসী আধাঘণ্টা খোজাখুজির পর দুলালের লাশসহ আহত ৬ জনকে উদ্ধার করেন।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সত্যজিৎ রায় দাসকে এবিষয়টি জানানো হলে তিনি জানান,  এবিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। এই সাঁকোটি নির্মাণের নির্দেশনা দিলেও প্রতিনিধিগণ যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। কিছু দিনের মধ্যেই সাঁকোটি পুনঃর্নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ র‍্যাব-৯ সিলেট থেকে এএসপি আনোয়ার শামিম ঢাকায় চলে গেছেন।এটাই স্বাভাবিক, সরকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন নতুন কিছু নয়।তবে র‍্যাব-৯ সিলেট এর এএসপি আনোয়ার হোসেন শামিমের বিদায় অন্যান্য বিদায়ের মতো নয় এর কিছুটা চিত্র ভিন্ন।তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও এমন একজন জনপ্রিয় কর্মবীর নেটিজেন,হাজারো নেটিজেন তার কর্মকাণ্ডে এতটায় ভক্ত যে তার ফেইসবুকের কমেন্ট গুলোর পোস্ট মর্টেম ছাড়া বুঝা মুশকিল।

সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে তার সাথে সাক্ষাতের সূত্রে তার গুনের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে গুনটি লক্ষ্য করা গেছে তা হচ্ছে, সে কথা দিয়ে কথা রাখে,মানুষকে সম্মান করে।আর এই গুন তাকে সবসময় সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মনে আজীবন স্থান করে রাখবে। নিম্নে তার নিজের ফেইসবুক থেকে  একটি স্ট্যাটাস উল্লেখ করছি যা পড়েই তার সম্পর্কে ধারনা করা সহজ হবে।

Md. Anwar Hossan     এই আইডিতে তিনি যা বলেছেন তা হুবহু কপি করে দেওয়া হলো। 

      

                                                                       “অবশেষে বিদায় সিলেট!”

“র‍্যাব-৯ এ দীর্ঘ দুই বছর কর্মরত থাকাকালীন শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্পসহ বেশ কয়েকটি ক্যাম্পের কমান্ডার, করোনা রেসপন্স টিমের টিম লিডার, র‍্যাব-৯ এর অপারেশন অফিসারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পর শেষপর্যন্ত বিদায় সিলেট। আজ থেকে নতুন পরিচয়, নতুন গন্তব্য র‍্যাব সদর দপ্তর, ঢাকা।

আমার জন্য বিষয়টা যুগপৎ হরিষে বিষাদ অনুভূতির। বেশ কিছুদিন আগে র‍্যাব-৯ এর সম্মানিত অধিনায়ক স্যার আমাকে করোনা রেসপন্স টিমের সভাপতি হিসেবে মনোনীত করার মাধ্যমে যে গুরুদায়িত্ব আমার কাঁধে তুলে নিয়েছিলাম, তার প্রথম ফল এসেছে গতকাল গভীর রাতে। ১৩ জন পজিটিভের মধ্যে সকলেরই নেগেটিভ ফল এসেছে। আগামীকাল আরো বেশ কয়েকজনের দ্বিতীয় টেস্ট, আশা করি তারাও আমাদের জন্য মঙ্গল বারতাই বয়ে নিয়ে আসবেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি/মার্চে যখন বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব হয়, আমি তখন শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার। এরপর সেখান থেকে নিয়ে এসে আমাকে করা হয় র‍্যাব-৯ এর মহাগুরুত্বপূর্ণ করোনা রেসপন্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট টিমের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এই দায়িত্বে থেকে আমি গত বেশ কিছু দিন সরাসরি করোনা রোগীদের নিয়ে ডিল করার সুযোগ পেয়েছি। তাদের চিকিৎসাসহ সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব বর্তেছিলো এই অধমের কাঁধেই। অধিনায়ক মহোদয়কে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ যে, এই সেন্সিটিভ দায়িত্বটি প্রতিপালনে তিনি আমার ওপর ভরসা রেখেছিলেন। কতটা সফল বা ব্যর্থ হয়েছি, সেই মূল্যায়নে যাব না। শুধু এটুকুই বলবো, প্রথম লটে পজিটিভ হওয়া ১৩ জনের মধ্যে ১৩ জনই দ্বিতীয় টেস্টে নেগেটিভ হওয়া আমার এবং আমার টিমের জন্য অনেক বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলো।

স্বস্তির বিপরীতে খারাপ লাগছে আমার রোগীদের জন্য। তারা আমাকে মিস করবেন কিনা জানি না, কিন্তু র‍্যাব-৯ এর শেষ রোগীটি সুস্থ হবার আগ পর্যন্ত আমি তাদের কথা ভাবব, প্রতিমুহূর্তে তাদের কথা মনে করব। আর সিলেটের এই দুই বছরে অসংখ্য ভাই, বন্ধু, শুভার্থীর (নাম উল্লেখ করলাম না) ভালবাসা, সমর্থন পেয়েছি, আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনারা আমার ওপর এমন নিঃশর্ত আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা বজায় রেখেছিলেন বলেই আমি জীবনের সিলেট অধ্যায়ে অর্জনের খাতায় সামান্য কিছু হলেও যোগ করতে পেরেছি।

র‍্যাব-এর ঊর্ধ্বতন স্যারদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, তাঁরা জরুরিভাবে হেলিকপ্টার পাঠিয়ে আমাকে আজ বিকেলেই ঢাকায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছেন।
সবাই ভাল থাকবেন। ভাল থাকুক পুণ্যভূমি সিলেট। স্বাগতম ঢাকা।”

 

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc