Sunday 12th of July 2020 08:11:01 PM

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ থেকেঃ  বিশ্বব্যাপী নোভেল করোনাভাইরাসে মানুষজন যখন দিশেহারা। তখন সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নবীগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বীরদর্পে সিএনজিতে পর্দা টানিয়ে শিশুসহ ৭ থেকে ৮ জন করে যাত্রী নেয়া আনা করছে সিএনজি চালকরা। পাশাপাশি বসে নেই টমটমও সাথে রয়েছে চালকদের নৈরাজ্য ও যাত্রীদের অহেতুক চরম হয়রানি দিন দিনই বেড়েই চলেছে। তিনজনের জায়গায় অধিক যাত্রী এবং সেই সাথে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করছে তারা।

উপজেলার শেরপুর রোড থেকে আউশকান্দি পর্যন্ত যেখানে সিএনজির ভাড়া ছিল ২০ টাকা সেখানে এখন যাত্রীদের নিকট থেকে ৪০ টাকা ভাড়া আদায় করছে অসাধু বেপরোয়া চালকেরা।

থানা পয়েন্ট হতে কাজির বাজারের পূর্বের ভাড়া ছিল ৩০ টাকা হতে বৃদ্ধি করে ৫০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।উপজেলার সব কয়টি স্ট্যান্ডে সিএনজি একই কায়দায় এভাবে করে চলেছেন। নবীগঞ্জে হতে হবিগঞ্জ পর্যন্ত ৪০ টাকার জায়গায় বর্তমানে ৮০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। রোডে যেখানে প্রশাসন থেকে ঘোষণা করা হয়েছে ৩ জন যাত্রী উঠানোর কথা সেখানে চালকরা সুকৌশলে সিএনজির পর্দা টানিয়ে পুলিশ চক্ষু ফাঁকি দিয়ে ড্রাইভিং সিটে আরও দুজন করে উঠাচ্ছেন। এবং সেই সাথে অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সচেতন যাত্রীরা বাধা দিলেও তা অমান্য করে উল্টো তাদের হেনেস্তা করার অভিযোগ রয়েছে। কোন কিছু বললেই তারা “করোনাভাইরাস পরিস্তিতি” কে পূজি করে যাত্রীদেরকে ভাড়া নিয়ে অহেতুক জিম্মি করছে।
গত কয়েকদিন যাবৎ শহরে যাতায়াত এমনটাই লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের কড়া নজর করলে বেপরোয়া ড্রাইভার/চালকরা অতিরিক্ত ভাড়ার আদায় করার সুযোগ পাবে না। আর সরকরের পুরো নিয়ম মেনে চলতেও বাধ্য থাকবে। বলে উপজেলাবাসীর ধারণা নতুবা সাধরণ জনগণের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না এবং সেই সাথে যেকোন সময় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাড়তি ভাড়া নিয়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ও ঘটতে পারে।

যাত্রী পরিবহনের পরে একবার করে গাড়ি পরিষ্কার পরিছন্নতা করার নিয়ম থাকলেও এ নিয়ম পালন করতে কোন চালককে লক্ষ্য করা যায়নি ফলে বাড়তে পারে করোনা সংক্রমণ।

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান: গত ৩ জুন দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ‘চট্টগ্রাম নিয়ে চিন্তা করার কেউ নেই’ শিরোনামে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। এটার লেখক উক্ত পত্রিকার সম্পাদক শ্যামল দত্ত। চট্টগ্রামের নানা বিষয়ের বেহাল দশা ওঠে আসলেও জনাব দত্ত জোর দিতে চেয়েছেন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় থাকা চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে; পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক হিসেবে তুলে এনেছেন ভালো মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অপ্রতুলতা, পর্যাপ্ত বিনোদন ব্যবস্থার অভাব এবং ঐতিহাসিক স্থানসমূহের অবহেলিত দৈন্যদশা। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে পাঠকের অবকাশের জায়গা থাকবে না যে, রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রীদের কথা সীমিত পরিসরে বললেও এসব কিছুর পেছনে প্রধান দায় তিনি দিতে চেয়েছেন চট্টগ্রামের ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের উপর।

চট্টগ্রামের ১ কোটি মানুষের বিপরীতে করোনার জন্য আইসিউ বেড ১২ টি থাকার কারণ তিনি দেখেছেন ব্যবসায়ীদের এসব ক্ষেত্রে ব্যয় করার অনিচ্ছাকে; অথচ জনাব দত্ত এ প্রশ্নটি তুলেননি যে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রণালয়-অধিদপ্তরসহ পৃথক পৃথক অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান থাকতে কেন ব্যবসায়ীদের এসব বিষয়ে প্রধান ভাবনাটা ভাবতে হবে। জনাব দত্ত আক্ষেপের সাথে লিখেছেন, “চট্টগ্রামের নামকরা তিনটি হাসপাতাল- ইউএসটিসি গড়ে তুলেছিলেন ডাক্তার নুরুল ইসলাম, ইমপেরিয়েল হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন ডাক্তার রবিউল হোসেন এবং একদল চিকিৎসক মিলে গড়ে তুলেছেন ম্যাক্স হাসপাতাল। ব্যবসায়ীরা পারেননি ল্যাবএইড, স্কয়ার কিংবা অ্যাপোলোর মতো উন্নতমানের হাসপাতাল গড়ে তুলতে।”

আমার প্রথম আপত্তিটা হলো, শ্যামল দত্ত চট্টগ্রাম নিয়ে যে চিন্তাটা করতে চান, সেখানে কি প্রাইভেট হাসপাতালের ছড়াছড়ি থাকবে এবং টাকাওয়ালাদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হবে? এখানে উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রামের প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে এখন পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু হয়নি। তাছাড়া প্রাইভেট হাসপাতাল মালিকদের সিন্ডিকেটের দুর্ভেদ্য দেওয়ালের সামনে ব্যবসায়ীগোষ্ঠী কতটা অসহায় এবং এ-ব্যাপারে প্রশাসনের কী ভূমিকা থাকা প্রয়োজন, সে-আলোচনায় তিনি না গিয়ে সম্পূর্ণ দায়টা ব্যবসায়ীদের উপরে চাপিয়েছেন। এছাড়া হতদরিদ্র মানুষদের পক্ষে প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়াটা যে, মোটেও সহজ কিছু নয়, এ ব্যাপারটিও তার আলোচনায় অনুপস্থিত। চট্টগ্রামেই হোক কিংবা সারাদেশে, চিকিৎসা পাঁচটি মৌলিক অধিকারের মধ্য অন্যতম হলেও হতদরিদ্র মানুষদের স্বাস্থ্য অধিকারের অপর্যাপ্ততা নিয়ে তবে কে ভাববে?

শ্যামল দত্ত লিখেছেন, “চট্টগ্রামে ভালো একটি বিনোদন কেন্দ্র নেই, একটি ভালো পর্যটন কেন্দ্র নেই। একটি উন্নত, আধুনিক ও স্বাস্থ্য আর শিক্ষায় সমৃদ্ধ শহর গড়তে এই রাজনৈতিক-ব্যবসায়ীগোষ্ঠীর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি কখনো।” বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পাশাপাশি বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রের অপ্রতুলতার দায়ও তিনি রাজনৈতিক-ব্যবসায়ীগোষ্ঠীর উপরেই দিয়েছেন অনেকটা। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশকে পর্যটকদের কাছে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১৪৩ নং আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৩ সাল থেকে দেশের একমাত্র সরকারি পর্যটন সংস্থা হিসাবে যাত্রা শুরু করে।

এছাড়া পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা ও দেখভালের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড নামের আলাদা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানও আছে। জনাব দত্ত বাংলাদেশ সরকারের এই আলাদা দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে অবগত ছিলেন না নাকি সম্পূর্ণ দায় ব্যবসায়ীগোষ্ঠীর উপর তুলে দেওয়ার স্বার্থে ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি ব্যাপারটা এড়িয়ে গেছেন, তা তিনিই জানবেন।
শ্যামল দত্তের অভিযোগ এখানেই শেষ হয়নি। জেএম সেন হল, সূর্যসেনের আবক্ষ মূর্তি, প্রীতিলতার স্মৃতিবিজড়িত ইউরোপিয়ান ক্লাব, জালালাবাদ যুদ্ধের স্মৃতির মিনার, মুসলিম ইনস্টিটিউট হল কিংবা আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের হেডকোয়ার্টার সিআরবি চরম অবহেলায় পড়ে থাকার পেছনে তিনি দায় দেখেছেন এ অপরাধী ব্যবসায়ীগোষ্ঠীর। প্রতœ তাত্ত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থানসমূহের সংস্কার-সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ প্রতœতাত্ত্বিক অধিদপ্তরসহ অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। এদের পাশ কাটিয়ে কীভাবে দায়টা একমাত্র ব্যবসায়ীদের উপরেই আসে, তা জনাব দত্তই ভালো জানবেন। ব্যবসায়ীদের ভাগ্য একটা জায়গায় অন্তত সুপ্রসন্ন যে, চাক্তাই খাল খননের কাজ কখনো শেষ না হওয়া, রাস্তাঘাটের যথাযথ উন্নয়ন না হওয়া, পাহাড়-কাটা না থামা, বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম শহরে যেতে অপরিসীম যানজট সংকটের সমাধান না হওয়া, অপরিকল্পিতভাবে ফ্লাইওভার নির্মাণ হওয়ার ফলে যানবাহনের জটের সমস্যার অবসান না হওয়া ও ফ্লাইওভারের মধ্যেই পানি জমে থাকার পেছনে তিনি দায় দেখেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম ওয়াসার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের মধ্যে; এখানে অন্তত তিনি রাজনৈতিক-ব্যবসায়ীগোষ্ঠীকে দায় দেননি।
চট্টগ্রামকে জনাব দত্ত অভিহিত করলেন একটি ‘মৌলবাদী, ধর্মীয় গোঁড়া ও উগ্রবাদী চিন্তার চর্চা’র কেন্দ্র হিসেবে। এ প্যারার ঠিক পরের লাইনে তিনি উল্লেখ করেছেন, “কবিয়াল রমেশ শীল, কবি আলাওল, আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদের চট্টগগ্রাম কিংবা মাস্টারদা সূর্যসেন ও বীরকন্যা প্রীতিলতার চট্টগ্রাম, ভারতীয় উপমহাদেশে সাহিত্য-সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্র চট্টগ্রাম- কেন এমন একটি সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় হানাহানির কদর্য চেহারা নিয়েছে এটা ধারণা করা চিন্তাশীল মানুষের পক্ষে কঠিন।” অবশ্য তিনি কীসের ভিত্তিতে চট্টগ্রামকে মৌলবাদী ও উগ্রবাদী চিন্তা চর্চার কেন্দ্র কিংবা সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় হানাহানি জায়গা হিসেবে অভিহিত করেছেন, তা উল্লেখ করেননি।

বলাটা প্রাসঙ্গিক যে, গত বছরের শেষ দিকে ভোলার বোরহানউদ্দিনে সাম্প্রদায়িক একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে কওমিপন্থীরা নিদারুণ সংঘর্ষ ঘটালেও কওমিদের প্রধান প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রামের হাটাহাজারী আল-জামিয়তুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা পার্শ্বস্থ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনাস্থল একটি মন্দিরকে পাহাড়া দিতে দেখা যায় উক্ত মাদ্রাসার ছাত্রবৃন্দকে। এত সুন্দর দৃশ্য নিশ্চয় পৃথিবীতে প্রায় বিরল। তবে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় যে কদর্য হানাহানির কথা জনাব দত্ত জোর দিয়ে বলেছেন, তা সারাদেশ থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত- কোথাও মোটেও বিরল নয়। এর কিছুটা আঁচ হয়তো চট্টগ্রামে থাকতে পারে; কিন্তু তাই বলে চট্টগ্রামকেই ধর্মীয় হানাহানির কদর্য চেহারা সম্বলিত নগরী হিসেবে অভিহিত করা নিরেট বাড়াবাড়ি।

জনাব দত্তের আনিত এ বিশেষ অভিযোগ তথা ‘চট্টগ্রামের এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যে’র পেছনে কী কারণ আছে, তা বের করার প্রয়োজন হিসেবে তিনি এটিকে সমাজবিজ্ঞানীদের গবেষণার খোরাক হিসেবে উল্লেখ দেখেছেন। তবে একই প্যারায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে যে কারণটা দেখিয়েছেন, তা হলো, “চট্টগ্রামের এই সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ ধনাঢ্য সম্প্রদায়, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক সমাজ চট্টগ্রামের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, শিক্ষা সংস্কৃতি ও ব্যবস্থায় নজর না দেয়া। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও পীরের মুরিদ হওয়ার পেছনে যতটা আগ্রহী, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ভালো হাসপাতাল নির্মাণের ব্যাপারে তেমন আগ্রহী নয়।” এ জায়গায় আমি দুটি শব্দদ্বয়ে পাঠকবর্গকে সুক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতে অনুরোধ জানাবো- ‘মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা’ ও ‘পীরের মুরিদ হওয়া’। অর্থাৎ, জনাব দত্ত হয়তো চট্টগ্রামকে মৌলবাদ, ধর্মীয় গোঁড়া ও উগ্রবাদী চিন্তার চর্চা কেন্দ্র হিসেবে দেখেছেন এ দুটি কারণে। ইসলাম ধর্ম নিয়ে যাদের নূন্যতম জানাশোনা আছে, তারা নিশ্চয় জেনে থাকবেন, ইসলামে সূফিপন্থীরা ‘পীরের মুরিদ হওয়া’তে বিশ্বাসী ও এটিকে তারা ধর্মচর্চা হিসেবেই মানেন এবং এখন পর্যন্ত এ ধর্মচর্চাকে কোনো প্রগতিশীল ব্যক্তি মৌলবাদ বা ধর্মীয় গোঁড়ামি হিসেবে দেখেননি। তাহলে কি জনাব দত্ত সূফিপন্থীদের ধর্মচর্চাকে ধর্মীয় গোঁড়া বা উগ্রবাদী চিন্তাচর্চা হিসেবে দেখেছেন ?

মজার বিষয় হলো, এর পরের প্যারায় তিনি চট্টগ্রামকে ‘বারো আউলিয়ার শহর, মাইজভাণ্ডারীর শহর, সুফি, মুর্শিদি, কবিয়ালের শহর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সূফিপন্থিদের স্তুতিতে ভাসিয়েছেন। জনাব দত্তের এ দ্বিচারিতা কীসের প্রয়োজনে, তা তিনিই ভালো জানবেন।
উপরের প্যারায় শ্যামল দত্তকে কোট করা অংশে খেয়াল করলে আরেকটি বিষয় পাঠকবর্গের দৃষ্টিগোচর হবে। জনাব দত্ত হয়তো মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাকে ‘ভালো মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ প্রতিষ্ঠার অন্তরায় হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন। তিনি কোন মনোভাব বা কীসের ভিত্তিতে মাদ্রাসাকে ভালো মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে রাখতে চান, তা তিনিই জানেন। তবে পাঠকের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, বাংলাদেশে আলিয়া মাদ্রাসাগুলো বহুদিন ধরে বিতর্কহীনভাবে শিক্ষাসেবা দিয়ে আসছে। কওমি মাদ্রাসারগুলোর ব্যাপারে আগে যে খানিক বিতর্ক ছিল না বা এখনও যে নেই, সে-ই ব্যাপারটাকে অস্বীকারের জো নেই; তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার কওমি মাদ্রাসাগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়ার খবরও নিশ্চয় সকলেরই জানা। কীসের ভিত্তিতে তবে মাদ্রাসাগুলোকে জনাব দত্ত ভালো মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে রাখেন ? খানিক বিতর্ক আছে, এ দাবির ভিত্তিতে যদি এমনটা তিনি করেন, তাহলে তো অনেক নামীদামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খানিক বিতর্কের ভিত্তিতে ভালো মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবে ! তবে কি তিনি সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকেই মাদ্রাসাসমূহের উপর এ বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন ?
শ্যামল দত্তের ব্যাপারে আমার শেষ অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। তিনি লিখেছেন, “পাকিস্তানের এক পীর প্রতি বছর শুধুমাত্র চট্টগ্রামেই আসেন এবং তাকে নিয়ে চট্টগ্রামের দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক ব্যবসায়ী নেতার মধ্যে বাড়াবাড়ি রকমের যে কদর্য প্রতিযোগিতা- তা একেবারেই দৃষ্টিকটু পর্যায়ের।” তিনি ‘পাকিস্তানের এক পীর’ আখ্যায়িত করে সরাসরি একজন ধর্মীয় সাধকের দিকে অভিযোগের তীর তাক করেছেন। কোনো ধর্মীয় সাধককে ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে মাপতে পারেন কিনা, সে-প্রশ্নটা রেখে গেলাম পাঠক ও জনাব দত্ত সমীপে।

বাংলাদেশে ইসলাম এনেছে সূফি-সাধকরা এবং তাদের কেউই এদেশের স্থানীয় নয়। তারা হয়তো এসেছেন আরব থেকে, না হয় ইরাক-ইরান-ইয়েমেন থেকে। সে-সূত্রধরে পাকিস্তান হতে বাংলাদেশে কোনো পীর-সাধক আসাটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। জনাব দত্ত নিজেই সূফিধারাকে স্তুতিতে ভাসিয়েছেন, আগে উল্লেখ করেছি বিষয়টা। পাকিস্তান শব্দটি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে একটি বিশ্রী অনুভূতির জায়গায় থাকার সত্ত্বেও ঠিক কী উদ্দেশ্যে তিনি একজন ধর্মীয় সাধককে ‘পাকিস্তানের এক পীর’ বলে আখ্যা করবেন, তাও তিনিই জানেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় সাধককে নির্দেশ করে এবং কোনো ব্যক্তিবিশেষের সে-পীরের পেছনের আবেগকে ‘বাড়াবাড়ি রকমের কদর্য প্রতিযোগিতা’ আখ্যায়িত করা যায় কিনা, সে-প্রশ্নটা গাঢ় হয়ে ওঠে। এখানে যে আবেগকে তিনি কদর্য বাড়াবাড়ির প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখেছেন, সে-আবেগ কেবল ইসলামধর্মীয় পীর নয়; হিন্দুধর্মীয় পুরোহিত, খ্রিস্টানধর্মীয় পোপ ও বৌদ্ধধর্মীয় ভিক্ষুকে ঘিরেও দেখা যায়।

বলাটা বাহুল্য নয় যে, যে-ব্যবসায়ী নেতাবর্গের বিপক্ষে তিনি ‘পীরকে নিয়ে কদর্য বাড়াবাড়ি প্রতিযোগিতার’র অভিযোগ আনতে চেয়েছেন, একটু খোঁজ খবর নিলে দেখা যাবে, তারা মরমী গানের পেছনে নির্মোহ ও অলাভজনক বিনিয়োগ করছেন এবং নিজেদের অর্থায়নে মুজিববর্ষ উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য সৌন্দর্য শাটল ট্রেনসমূহকে অপরূপ সাজে রঙিন করে দেওয়ার কথাও ছিল। কদর্য বাড়াবাড়িটা তিনি শুধু নির্দিষ্ট পীরকে নিয়ে কেন দেখলেন, তা আমার জানার কথা না। এছাড়া উক্ত পীরকে নিয়ে ঠিক কী ধরণের বাড়াবাড়ি, সেটাও তিনি পরিষ্কার করেননি। পীর বা পীরের অনুসারীদের তিনি সাজাতে চেয়েছেন মৌলবাদী, ধর্মীয় গোঁড়া ও উগ্রবাদী হিসেবে; অথচ চট্টগ্রামের মাইজভাণ্ডারের সৈয়দ সাইফুদ্দীন মাইজভান্ডারী ডাক্তারদের প্রয়োজনে পিপিই প্রদান ও প্রায় এক লক্ষ নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন এবং পীর হাসান মাইজভাণ্ডারী ফটিকছড়িতে নিজের প্রতিষ্ঠিত একটি মাদ্রাসাকে সম্প্রতি করোনা আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য দিয়েছেন, করোনায় মৃত্যবরণকারী লাশ দাফনের প্রয়োজনে এগিয়ে এসেছেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ ও আল মানাহিল ফাউন্ডেশন একঝাঁক সেচ্ছাসেবক সমেত। ধর্মীয় সংগঠনগুলোর এ ধরণের নির্মোহ অবদান করোনাকালীন সময়ে শুধুমাত্র দৃষ্টিগোচর হয়েছে ‘উগ্রবাদী চিন্তা চর্চার কেন্দ্র’। তাই, এখানে একজন পাঠক হিসেবে আমি যে তাড়না অনুভব করি তা হলো, জনাব দত্ত চট্টগ্রামকে নিয়ে ঠিক কোন চিন্তাটা করতে চান, তা পরিষ্কার করা জরুরি। তিনি কি চট্টগ্রামকে মাদ্রাসা ও ধর্মচর্চামুক্ত কোনো শহর হিসেবে দেখতে চান ?
শুধু চট্টগ্রাম নয়, সমগ্র বাংলাদেশে স্বাস্থ্যব্যবস্থার খুবই বেহাল দশা। এর পেছনে ব্যবসায়ীগোষ্ঠীর খানিকটা হলেও মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব নেই বললে অসত্য বলা হবে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার আলোচনাকে পাশ কাটিয়ে এবং এর প্রধান কারণকে এড়িয়ে চলে, গত তিন দশকের গণতান্ত্রিক সরকারসমূহের পর্যাপ্ত দায় না দেখিয়ে, কেবল ব্যবসায়ীগোষ্ঠীর উপর সম্পূর্ণ দায় চাপিয়ে দিলে এর পেছনে একটি শব্দই কেবল ওঠে আসে এবং তা হলো, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দশ লাইনের সত্য কথার সাথে যখন এক লাইন মিথ্যাও চলে আসে, তখন তা আর পুরোপুরি সত্য থাকে না। এক বাটি গরুর দুধের সাথে যখন ভুলেও এক ফোটা মূত্র মিশে যায়, তখন সেটা দেখতে হয়তো গরুর দুধই থাকে, কিন্তু তা আর পান করার যোগ্য থাকে না। শ্যামল দত্তের উত্থাপিত ইস্যুটি নিশ্চয় প্রশংসিত, কিন্তু তিনি যে-পন্থায় সেটা বর্ণনা করেছেন, তা একটি প্রথম সারির পত্রিকার সম্পাদক পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তির অদায়ীত্বশীল আচরণের মধ্যে পড়ে কি না, সে-প্রশ্নটাও উঠে আসে।

তবে শ্যামল দত্তের এ ধরণের অযাচিত মন্তব্য এটিই প্রথম নয়। কোনো এক অজানা কারণে তাঁকে প্রায় এ ধরণের অযাচিত মন্তব্য করতে দেখা যায়। করোনার প্রকোপ শুরুর প্রথম দিকে একাত্তর টিভির একটি লাইভ অনুষ্ঠানে তিনি কোনো রকম বৈজ্ঞানিক রেফারেন্স ছাড়া করোনায় মৃত্যুবরণকারী লাশকে দাহ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ইসলাম ধর্মীয় একটি বিধানকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে ন্যূনতম বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়া এমন মন্তব্য নিঃসন্দেহে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের দিকে ইঙ্গিত দেয়।
জনাব দত্তের কাছে আমার সর্বশেষ অনুরোধ, আপনি কি অনুগ্রহপূর্বক পরিষ্কার করবেন যে, চট্টগ্রামকে নিয়ে ঠিক কোন ভাবনাটা আপনি ভাবতে চান ?

গীতি গমন চন্দ্র রায়: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে যোদ্ধাহত মুক্তি যোদ্ধা মৃত আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী পুত্র কন্যা সন্তানেরা দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে ভাতা বন্ধ হওয়ায় মুক্তি যোদ্ধা পরিবারের লোকেরা অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে।জানা যায় মোঃ আনোয়ার হোসেন মৃত্যুর পরে তাঁর উত্তরাধিকার পরিবারের স্ত্রী পুত্র কন্যা সন্তান সন্ততি গন বীর মুক্তিযোদ্ধা যোদ্ধাহত মোঃ আনোয়ার হোসেনর রেখে যাওয়া ওয়ারিশ গণ ওয়ারিশান সার্টিফিকেট প্রদান করলে ও যোদ্ধাহত মুক্তি যোদ্ধা পরিবারের লোকেরা দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
এ বিষয়ে মুক্তি যোদ্ধা সন্তান মোঃআবুল হোসেন( ৪৭) ভাতার জন্য উপযুক্ত প্রমাণ সহ আবেদন করে ও ভাতা চালু হচ্ছে না, মুক্তি যোদ্ধার স্ত্রী পুত্র কন্যা সন্তান সন্ততিরা খুব অসহায় জীবন যাপন করছেন।
এ বিষয়ে মুক্তি যোদ্ধা সন্তান আবুল হোসেন বিভিন্ন দপ্তরে দৌড় ঝাপ করে ও কোন ফল পায়নি। তিনি আরো বলেন আমি মুক্তি যোদ্ধা সন্তান হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি এবং মুক্তি যোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট যোদ্ধাহত মুক্তি যোদ্ধা পরিবার কে বন্ধ চালু করে  ভাতা প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ নিয়ে কয়কদিন তথ্য সংগ্রহে জানা যায় দীর্ঘদিন ভাতা না পাওয়ায় পরিবারের লোকজন ভিক্ষার ঝোলা বয়ে বেড়াচ্ছেেন পীরগঞ্জ উপজেলা বিভিন্ন এলাকায়।
যে নিজের জীবন বাজী রেখে ৭১ এ যুদ্ধ করেন।সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা যোদ্ধাহত  আনোয়ার হোসেনের ওয়ারিশগন দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে বন্ধ ভাত চালু হচ্ছে না,ভাতা পাচ্ছেন না এই মর্মে মৃত যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের পুত্র আবুল হোসেন সাংবাদিক কে জানিয়ে বলেন।সকল উপযুক্ত প্রমানাদি দেওয়া সত্বেও আড়াই বছর অতিবাহিত হলেও ভাতা পাচ্ছি না।আমার পরিবারের চলার সম্বল একমাত্র ভাতা এ ভাতা না পাওয়ায় আমি আমার সন্তানদের ঠিকমত লেখা পড়া করাতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন আমি বর্তমান অসহায় ভিক্ষার ঝোলা নিয়ে ঘুরছি। অনতিবিলম্বে বন্ধ ভাতা চালু করে আমার পরিবার পরিজনের রক্ষার্থে ভাতা প্রদানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল প্রার্থনা জানাই।

নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ  নওগাঁর আত্রাইয়ে ২৬ টি পরিবার দীর্ঘ দুই বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বি ত রয়েছে। দুই বছর আগে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে এসব পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা গ্রহন করা হলেও অদ্যাবধি তারা অন্ধকারেই রয়েছে, তাদের ঘরে জ¦লেনি বিদ্যুতের আলো। খুঁটি গেরে তার টানানো, ট্রান্সফরমা স্থাপন ও ড্রপতার টাঙানো হলেও তারা শুধু প্রহর গুনছে মিটার প্রাপ্তির।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আত্রাই উপজেলার জামগ্রামের নতুন করে গড়ে উঠা দু’টি পাড়া রয়েছে। একটিতে ১৫ ঘর অপরটিতে ১১ ঘর লোকের বাস। সমগ্র গ্রাম বিদ্যুতায়িত হলেও এ দু’টি পাড়ায় ওই সময় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি।

পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য হানিফ পালোয়ান তাদেরকে জানান বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গেলে আপনাদের মিটার প্রতি ৪ হাজার টাকা দিতে হবে। সে অনুযায়ী তারা ৪ হাজার টাকা করে প্রায় লক্ষাধিক টাকা ইউপি সদস্যকে দেন। টাকা দেবার পর খুঁটি গেরে তার টানানো, ট্রান্সফরমা স্থাপন ও ড্রপতার টাঙানো হলেও এক বছরের বেশি সময় ধরে মিটার দিয়ে সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে না। ফলে তারা হতাশায় পড়ে রয়েছেন।

এদিকে টাকা নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ায় একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম গত বছরের ২৭ জুন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিটক একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
ওই গ্রামের বেদারুল ইসলাম, লেবু শেখ, শহিদুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা দু’টি পাড়ার ২৬ টি পরিবার বিদ্যুতের আশায় ইউপি সদস্য হানিফ পালোয়ানকে ৪ হাজার টাকা করে প্রদান করেছি। টাকা দেয়ার পর বিদুতের আনুসাঙ্গিক কাজ করা হলেও এক বছরের বেশি সময় ধরে আমাদেরকে মিটার দেয়া হচ্ছে না। ফলে আমরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছি।
এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেও কোন প্রতিকার পাইনি।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য হানিফ পালোয়ান বলেন, তাদের টাকা দিয়ে নওগাঁ থেকে বিদ্যুতের পোল ও অন্যান্য মালামাল পরিবহন করা হয়েছে। এখন মিটারের জন্য আরও ৬০০ টাকা করে লাগবে। এটা না দেয়ার কারনে এবং করোনা পরিস্থিতির কারনে সংযোগ বিলম্বিত হচ্ছে।
এবিষয়ে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আত্রাই জোনাল অফিসের এজিএম ফিরোজ জামান বলেন, পোল ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনের সমুদয় ব্যয়ভার বহন করবেন ঠিকাদার। গ্রাহকের টাকা দিয়ে মালামাল বহন করতে হয় না। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নেবার জন্য মিটার বাবদ ৪৫০ টাকা অফিসকে দিতে হয়। এ ছাড়া আবেদন ফি ও ঘর ওয়েলিংসহ সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭০০ টাকার উপর খরচ হয় না। জামগ্রামে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে এটা আমাকে কেউ জানায়নি। বিষয়টি আমি জানতে পারলাম তারা যোগাযোগ করলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের  কমলগঞ্জে  এক  ভয়াবহ  অগ্নিকাণ্ডে   প্রায়  অর্ধ  কোটি টাকার  ক্ষয় ক্ষতি  হয়েছে বলে  ধারণা করা হচ্ছে । সোমবার  সকাল  উপজেলার  আদমপুর বাজারে  বৈদ্যুতিক  শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে  তিনটি  গোডাউন সহ বড়  বড়  দশটি  ব্যবসা  প্রতিষ্ঠান  আগুনে পুড়ে  ছাই হয়ে  যায়।
কমলগঞ্জ  ফায়ার সার্ভিস  স্টেশনের  একটি  ইউনিট  এসে  এক ঘন্টার  চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে । আদমপুর বাজার  ব্যবসায়ী  কল্যাণ সমিতির সভাপতি  জাহাঙ্গীর  মুন্না  রানা  জানান,  বাজারের  রেজাউল  মার্কেটের  সবকটি দোকান  পুড়ে  যাওয়ায় প্রায়  পঞ্চাশ  লাখ টাকার  ক্ষয়  ক্ষতি  হয়েছে।
আদমপুর  ইউনিয়নের  ভারপ্রাপ্ত  চেয়ারম্যান  হেলাল  উদ্দিন  ঘটনার  সত্যতা স্বীকার করে  বলেন,  এ  অগ্নিকাণ্ডের শিকার  ব্যবসায়ীরা  সর্বস্ব  হারিয়ে  এখন  নি:স্ব  হয়ে গেছে । কমলগঞ্জ  উপজেলা নির্বাহী অফিসার  আশেকুল হক  বলেন,  ক্ষতিগ্রস্থদের  তালিকা  সংগ্রহ  করে   তাদেরকে   সহায়তা  প্রদান করার  ব্যবস্থা করা হবে ।

 পীরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে  ১ গৃহহীন ব্যক্তির  জমি আছে ঘর নাই প্রকল্প থেকে গৃহ নির্মানের জন্য নানান জনের মাঝে  আকুতি মিনতি করছেন।
জানা যায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার পৌরসভা এলাকা ভেলাতৈড় দক্ষিণ পাড়া গ্রামের মৃত সফিউদ্দিনের পুত মোঃ মুক্তারুল ইসলাম।তিনি একজন হতদরিদ্র ৫ শতাংশ জমি আছে তার  দীর্ঘদিন ধরে ঘর নির্মাণ করার পরিকল্পনা করে তার সঠিক সামর্থ্য না হওয়ায় গৃহ নির্মাণ করতে পারতেছেন না। তাই তিনি অসহায় হওয়ায় সরকারের সংবাদ মাধ্যমে তার গৃহ পুনর্বাসন ও নির্মানের কথা সাংবাদিককে জানান।
মোঃ মুক্তারুল ইসলাম বলেন আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাই, জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের থেকে আমি একটি ঘরের জন্য আকুতি মিনতি করছি আমি সরকারের প্রতি এবং পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতি আকুল আবেদন জানাই আমার গৃহ পরিদর্শন করে আমার প্রতি লক্ষ্য রেখে যেন আমার গৃহ নির্মাণের সহায়তা করেন।
এ বিষয়ে মোঃ মুক্তারুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান আমি দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি গৃহ নির্মাণ করার জন্য শত চেষ্টা করেও অভাব ও আর্থিক অনটন হওয়ায় আমি গৃহ নির্মাণ করতে পারি নাই তাই আমি বিনীত অনুরোধ জানাই সাংবাদিকদের প্রতি সাংবাদিক ভাইয়েরা যেন আমার কথা গন মাধ্যমসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকাতে প্রকাশ করেন সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরে প্রকাশ করে আমাকে গৃহ নির্মাণের সুযোগ দিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন করেন।তিনি আরো বলেন বর্তমানে আমার ঘরে বৃষ্টির পানিতে ভিজে ভিজে থাকতে হয় দেখার মত আমার কেউ নেই।
তাই পীরগঞ্জউপজেলা নির্বাহী উপজেলা অফিসার ও পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার প্রতি আকুল আবেদন আমার নিজ গৃহ পরিদর্শন করে আমার গৃহ নির্মাণে সরকারি সহায়তার জন্য একান্ত দৃষ্টি কামনা করছি।

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সাদ্দাম বাজার নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে বিজিবি। বিজিবি ৫৫ ব্যাটালিয়ান গুইবিল বিওপির কমান্ডার নায়েব সুবেদার বোরহান উদ্দিন জানান, সোমবার (৮ জুন) বিকাল পৌনে পাঁচটায় বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা সংবাদ এর ভিত্তিতে ওই স্থানে অভিযান চালায় নায়েক আবুল হোসেন এর নেতৃত্বে একদল বিজিবি।
এ সময় তারা আধা কেজি গাঁজাসহ উপজেলার হাপটার হাওর গ্রামের জালাল উদ্দিনের পুত্র সোহাগ মিয়া (২৮)কে জনসম্মুখে  গ্রেপ্তার করেন। সোহাগের নামে আরোও একটি মাদক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সোহাগের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়ে চুনারুঘাট থানায় হ্যান্ডওভার করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ করোনা পজিটিভ সিলেটের সাবেক মেয়র ও আ’লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমদকে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে ভর্তির পর প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা তাকে প্লাজমা থেরাপি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এ অবস্থায় কামরানের চিকিৎসার জন্য এ পজেটিভ গ্রুপের রক্তের প্লাজমা দাতার সন্ধান করা হচ্ছে।

রোববার রাতে সিলেট মহানগর যুবলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মেহেদী কাবুল সাংবাদিকদের এ সব তথ্য জানান। তিনি জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ এমন প্লাজমা দাতার সন্ধান চেয়ে ‘জনতার কামরান’ আবারও জনতার কাছে হাত বাড়িয়েছেন;লেখা খুদে বার্তা বিভিন্ন জনের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

মেহেদী কাবুল আরও জানান, রাত পৌনে ৭টার দিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন কামরান।

এর আগে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তিনি সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল থেকে বের হন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়।

গত শুক্রবার ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে কামরানের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়। এরপর শনিবার তীব্র জ্বর ও বমিটিংয়ের জন্য নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে গত ২৮ মে আসমা কামরানেরও করোনা শনাক্ত হয়।

আগের সংবাদ দেখুন,

করোনা পজিটিভ সিলেটের আ’লীগ নেতা কামরান ঢাকায়

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

আজ রোববার রাত পৌনে ৯টায় গুলশানের শাহাবউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, করোনায় আক্রান্ত আহসান উল্লাহ হাসানকে রোববার দুপুরে শাহাব উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রাতে সেখানেই তিনি মারা যান। তার স্ত্রীও করোনায় আক্রান্ত। তিনিও শাহাব উদ্দিন মেডিকেলে ভর্তি আছেন। তার দুই ছেলে সুস্থ আছেন।

মহানগর উত্তরের দপ্তর সম্পাদক এবিএমএ রাজ্জাক জানান, দুইদিন আগে আহসানউল্লাহ হাসানের নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাস পজিটিভ ফল আসে। রাজধানীতে কোনো হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে আশুলিয়ার মশুরিখোলায় গ্রামের বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটলে তাকে শনিবার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আনা হয়। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা না থাকায় তাকে গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়া হয়। পরে রোববার সকালে তাকে গুলশানের সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রাজ্জাক বলেন, আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের জন্য রাজধানীর ছোট-বড় সব হাসপাতালে আমরা গত দুইদিন হন্যে হয়ে ঘুরেছি। কোথাও চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যায়নি।

আহসান উল্লাহ হাসানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

একাদশ নির্বাচনে আহসানউল্লাহ হাসান ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি টানা তিন দফায় ঢাকা সিটি করপোরেশনে মিরপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কমিশনার ছিলেন। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

এদিকে, রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউ-এর প্রধান ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন (৬৭) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আজ বিকেল ৪টায় স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিনের গত একমাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তিনি একজন সিনিয়র কনসাল্ট্যান্টের পাশাপাশি স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালকদের একজন ছিলেন। ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনেরও (বিএমএ) একজন সদস্য ছিলেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী।

বিএমএ-এর তথ্যানুসারে, এ নিয়ে সারাদেশে করোনাভাইরাসে ১৮ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হলো।পার্সটুডে

নড়াইল প্রতিনিধিঃ  নড়াইলের কালিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আলিম শেখ নামে এক মসজিদের মোয়াজ্জিন মারা গিয়েছেন। শনিবার (৬জুন) রাতে তিনি খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে রোববার তাকে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
জানা গেছে, কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল গ্রামের মসজিদের মোয়াজ্জিন মোঃ আলিম শেখ (৬০) ১৪ মে করোনায় আক্রান্ত প্রথমে বাড়িতে চিকিৎসা নেন। পরে তিনি খুলনার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং শনিবার রাতে তার মৃত্যু ঘটে।

এদিকে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কাজল মল্লিক জানান, শেখ আলিম প্রথমে করোনা পজিটিভ হলেও পরে পর পর দুবার করোনা নেভেটিভ রিপোর্ট আসে। মূলত তিনি যক্ষা জনিত কারনে মারা গিয়েছে।

একই মন্তব্য করেছেন কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুদা। তবে নড়াইল সিভিল সার্জন অফিসের প্রাত্যহিক রিপোর্টে (সিভিল সার্জন স্বাক্ষরিত) তার করোনায় মৃত্যু দেখানো হয়েছে। এ বাপারে সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আবদুল মোমেনকে রোববার বিকেল ৩টায় একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জানা গেছে, নড়াইলে এ পর্যন্ত ৩১জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ১৯জন। বর্তমানে আক্রান্ত রয়েছেন ১০জন। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১জন লোহাগড়া উপজেলায় ৮জন এবং কালিয়া উপজেলায় ১জন আক্রান্ত রয়েছেন।

এছাড়া কালিয়ায় ২জন করোনায় মারা গিয়েছেন। গত ৯মে কালিয়া উপজেলার চোরখালি গ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজিত রায় চৌধুরী মৃত্যু বরণ করেন।

নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: উপজেলার বুক চিরে যুগযুগ ধরে প্রবাহমান আত্রাই নদী আপন মহিমায় বয়ে চলেছে তার গতিধারা। প্রতিবছর বর্ষামৌসুম শুরু হলে এলাকাবাসীকে নির্র্ঘুম রাত যাপন করতে হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে যাচ্ছে যুগের পর যুগ। তাদের উদাসিনতায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও খনন না করায় নদী ভরাট হয়ে প্রতিবছর বাঁধভেঙ্গে মানুষের বাড়ী-ঘর জান-মাল মাটির সাথে মিশে দেয় বলে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন।
জানা গেছে,কৃষি ও কৃষকের ভাগ্যউন্নয়নের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের গৃহিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক পানি উন্নয়ন বোর্ড সত্তরের দশকে মান্দা থেকে সিংড়া পর্যন্ত নদীর দুইধারে বাঁধ তৈরী করে।এসময় বাগমাড়া,মান্দা, রাণীনগর, নন্দীগ্রাম, সিংড়া এবং নাটোর সদর উপজেলার নদীর মোহনায় পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে আত্রাই নদীর উপর সাহেবগঞ্জ, আহসানগঞ্জ, কলেজপাড়া, শুটকিগাছা, ভবানিপুর-মির্জাপুর এবং গোড় নদীর উপর কাশিয়াবাড়ী, ইসলামগাঁথী এবং সমসপাড়া নামক স্থানে স্লুইচগেট নির্মাণ করে প্রবাহমান নদীর পানি চলাচল সচল রাখে। শুরুতে স্লুইচগেটের চাবি সময়মত সরবরাহ করে পাল্লাগুলো ফাঁকা করে দেওয়া হলেও বর্তমানে অসাধু প্রভাবশালী মহলের কারনে সেগুলোর কার্যকারিতা আর নাই। প্রতি বছর অল্প বন্যা হলেই নদীর বাঁধভেঙ্গে মাঠের ফসলসহ বাড়ী ঘড়ের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। যেকারনে লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল নিয়ে এলাকার কৃষকরা থাকেন উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায়। বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে প্রশাসনসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষ নরেচড়ে বসলেও কার্যত এর বাস্তব কোন সমাধান আজও মিলেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত বছর কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নের কথা চিন্তা করে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সাংসদ মো. ইসরাফিল আলম নদীর খনন কাজ শুরু করেন। কিন্তু মাত্র ৩/৪ কিলোমিটার খনন করতেই অদৃশ্য কারনে তা বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে বাঁকা গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, নদীতে গেট করার আগে মাঠে ধীরে ধীরে পানি আসতো ধানও ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতো। গেট করার ফলে একদিকে রক্তদহ বিলের পানি এসে মাঠ ভরে যায় সেইসাথে গেটগুলো সময়মত না খুলে দিয়ে ইচ্ছেমত খোলার কারনে মাঠের ধান ডুবেযায়। পানির প্রয়োজনে গেট খুলতে বললে বলে চাবি নাই আবার চাবি থাকলে সেটা কাজ করছেনা ।
এ বিষয়ে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সাংসদ মো. ইসরাফিল আলম এর সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান।
এলাকাবাসী কৃষি ও কৃষকের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে বাঁধ ভাংগন রোধে অতিদ্রুত আত্রাই নদীর খনন কাজ সমাপ্ত এবং স্লুইচগেটগুলো সংস্কার করণে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

হাবিবুর রহমান খান,জুড়ী প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের জুড়ী বড়ধামাই গ্রামে ২০ পিছ ইয়াবাসহ ২ ইয়াবা ব্যবসায়ীকে স্থানীয়রা গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার রাত ৮টায় উপজেলার ২নং পূর্বজুড়ী ইউপির বড়ধামাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশে মোটর সাইকেল যোগে রহস্যজনক ভাবে ঘুরাফেরা করতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাদেরকে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকালে তাদেরকে বড়ধামাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী রাস্তা দিয়ে অহেতুক সন্দেহজনক ভাবে ঘুরাফেরা করলে স্থানীদের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী তাদেরকে আটক করে জুড়ী থানায় খবর দেন। পুলিশ এই দুইজনের দেহ তল্লাশি করে ২০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট ও মোটর সাইকেলসহ তাদেরকে আটক করে।
আটককৃত আসামী হলেন, উপজেলার জামকান্দি গ্রামের মৃত ইয়াছিন আলীর পুত্র সিপন আহমদ (২৪) অপর জন একই গ্রামের ফারুক আহমদের পুত্র লুৎফুর আহমদ (৩৫)।
জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে জুড়ী থানায় মামলা (মামলা নং ০৪) দায়ের হয়েছে।

মিজানুররহমান চুনারুঘাট থেকেঃ চুনারুঘাটে সরকারি চাউলসহ কাজল মিয়া নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। সে উপজেলার মিরাশী ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার পুত্র। শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাত একটায় উপজেলার নালমুখ বাজারে তার বাসা থেকে চাউলসহ আটক করেন চুনারুঘাট থানার ওসি (তদন্ত) চম্পক দাম।

চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক বলেন,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে উপজেলার নালমুখ বাজারে কাজল মিয়ার দোকানে সরকারী চাউল রয়েছে এবং কয়েকদিন যাবৎ বিক্রি করে আসছেন। এরই পেক্ষিতে গতকাল রাতে ওসি তদন্তের নেতৃত্বে একদল পুলিশ পাঠিয়ে ১৮ বস্তা সরকারী সিল মোহরযুক্ত চাউলসহ তাকে আটক করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সত্যজিত রায় এর ফোন ব্যস্ত পাওয়ায় কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc