Sunday 12th of July 2020 07:47:30 PM

চা বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ’র উদ্যোগে আজ অর্থমন্ত্রী বরাবরে  সিলেট ও হবিগঞ্জে জেলা প্রশাসক ও ফেঞ্চুগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। সিলেটে স্মারকলিপি পেশের পূর্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চা বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সংগঠক অধীর বাউরীর সভাপতিত্বে ও রানা বাউরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন,সঞ্জয় কান্ত দাস,নেপাল ছত্রী,রাম নিধি,আরমান হোসেন,সাগর,গোপন বাউরী প্রমুখ।
হবিগঞ্জে একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের সাথে স্বাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি পেশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চা বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের উপদেষ্টা শফিকুল ইসলাম,শ্রী প্রসাদ চৌহান। ফেঞ্চুগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে স্বাক্ষাৎ করে স্বারকলিপি পেশ করেন শিপু বাউরী, শুভন রায় দীপ্ত, রাজেন কুর্মি, যীশু আচার্য প্রমুখ।
এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, “অর্থকরী ফসল চা। চা জনগোষ্ঠির অমানুষিক পরিশ্রমে শুধু নান্দনিক সৌন্দর্যের চা বাগানই গড়ে উঠছে না, সচল হচ্ছে দেশের অর্থনীতির চাকা। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বর্তমান করোনা সংক্রমণের মধ্যেও দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার কাজ করে যাচ্ছেন চা শ্রমিকরা। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন,এমনকি মারাও গেছেন কয়েক জন। সংক্রমনের শুরুতেই করোনায় সবেতন ছুটি চেয়েও ছুটি মিলে নি, আবার এখনও পর্যন্ত চা শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম ঝুঁকিভাতার কোন ঘোষণা আসেনি। করোনায় গোটা দেশের ন্যায় চা শ্রমিকদের জীবনও থমকে আছে। মাত্র ১০২ টাকা দৈনিক মজুরি দিয়ে কোন ভাবেই একটি চা শ্রমিক পরিবার চলতে পারে না, সেক্ষেত্রে স্বাভাবিক সময়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাগানের বাইরে যতটুকু সম্ভব কাজ করেও অন্তত কোন রকমে জীবন ধারনের চেষ্টা করেন। কিন্তু করোনকালীন সময়ে বাইরের সকল কাজ বন্ধ আছে।
এদিকে বাগানে কাজ চালু আছে এ কারণে চা শ্রমিকরা বিশেষ কোন ত্রাণও পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা এ সময়ে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যেই এনজিওগুলো কিস্তি আদায়ে তৎপর হয়ে উঠেছে, যা সামনে বাড়বে। আবার চা বাগানের শিক্ষার্থীরাও তার পড়াশোনসহ সমাগ্রিক ব্যয় নির্বাহ করেন কোন না কোন জায়গায় কাজের বিনিময়ে অর্জিত টাকা দিয়ে,এ সময় তাও সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় চা বাগানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন বিপন্ন প্রায়। খুব স্বাভাবিক ভাবেই চলতি শিক্ষা বর্ষের বেতন ও অন্যন্য ফি, আসন্ন একাদশ শ্রেণীর ভর্তি ফি জোগাড় করতে না পারার কারনে বহু শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে দুঃখজনক হলেও সত্যি স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও শিক্ষাসহ সকল মৌল মানবিক অধিকার বঞ্চিত চা শ্রমিকরা। আজ সারা দেশের ১৬৬ টি বাগানের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ১২/১৪টিতে, আর মাধ্যমিক স্কুল আছে ৩টিতে। অথচ সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “রাষ্ট্র একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যে এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা দানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন”।
সংবিধানের এ ঘোষণা চা বাগানে আজও কার্যকর হয়নি, শুধু তাই নয় ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ সরকারের ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা’ কর্মসূচিও চা বাগানে বাস্তবায়ন করা হয়নি। এরপরও যে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে চূড়ান্ত আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শিক্ষার উপকরণই তারা ক্রয় করতে পারে না। তাই বাগান কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে শিক্ষা বৃত্তি চালু এবং বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণও সরবরাহ করা প্রয়োজন।
এমনিতর পরিস্থিতিতে চা জনগোষ্টির সামগ্রিক জীবন মান উন্নয়নে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। তাই আসন্ন জাতীয় বাজেটে চা বাগানের শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে চা জনগোষ্টির শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং চা বাগানের শিক্ষার নিম্নোক্ত আশু সমস্যাগুলোর সমাধাণ করবেন।”
দাবি সমূহ
১. চা বাগানের শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দাও।
২. চা বাগানের শিক্ষার্থীদের চলতি শিক্ষা বর্ষের বেতন ফি মওকুফ কর।
৩. চা বাগানের শিক্ষার্থীদের জন্য আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক ভর্তি ফি মওকুফ কর।
৪. চা বাগানের শিক্ষার্থীদের জন্য বাগান কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে শিক্ষাবৃত্তি চালু এবং সকল প্রকার শিক্ষা উপকরণ বিনামূল্যে সরবরাহ কর।

হাবিবুর রহমান খান,জুড়ী প্রতিনিধিঃ  মৌলভীবাজারের জুড়ীতে ১০পিছ ইয়াবাসহ রাহাদ খান (৩৪) নামে এক যুবকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯ টার সময় উপজেলার ২নং পূর্বজুড়ী ইউপির বড় ধামাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশে সন্দেহজনক ভাবে ঘুরাফেরা করতে দেখে এলাকাবাসী তাকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে রাহাদ বড়ধামাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী রাস্তা দিয়ে অহেতুক সন্দেহজনক ভাবে ঘুরাফেরা করলে স্থানীদের সন্দেহ হয়। তার পরিচয় জানতে চাইলে সে পরিচয় দানে অনিচ্ছুক। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে আটক করে জুড়ী থানায় খবর দেন। পুলিশ রাহাদের দেহ তল্লাশি করে ১০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাকে আটক করে।
আটককৃত আসামী হলেন, নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের আবুল হোসের খানের পুত্র রাহাদ খান (৩৪)।
জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে জুড়ী থানায় মামলা (মামলা নং ০৩) দায়ের হয়েছে।

সোলেমান আহমেদ মানিক, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ  শ্রীমঙ্গলে ঘুমন্ত মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে পুলিশ লাশ দু’টি উদ্ধার করেছে।

নিহতরা হচ্ছেন উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের জামসি গ্রামের মৃত জাবেদ উল্লার স্ত্রী জায়েদা বেগম (৫৫) ও তার বিবাহিত মেয়ে ইয়াছমিন (২৮)। ভোররাতে এ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারনা করছে পুলিশ।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,  জামসি এলাকার একটি টিনশেডের ঘরে মা জায়েদা বেগম ও তাঁর মেয়ে ইয়াছমিন বেগম থাকতেন। সকালে এলাকাবাসী তাঁদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতর ঢুকে মা ও মেয়ের রক্তাক্ত লাশ নিচে পড়ে থাকতে দেখতে পান। তাঁদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খুনি ঘরের পেছনের টিন খুলে ভেতরে প্রবেশ করে এ হত্যাকাণ্ড চালায়।

এ ব্যাপারে নিহত জাবেদা বেগমের ছেলে ওয়াহিদ মিয়া জানান, তিনি স্ত্রী নিয়ে আলাদা বাড়িতে থাকেন। তার বোনকে বিয়ে দিয়েছেন বেলতলী গ্রামের আছকর মিয়ার কাছে। আছকর মিয়ার সাথে পারিবারিক কলহের জেরে তার বোন বেশ কিছুদিন ধরে তার মায়ের সাথেই থাকতো। তিনি জানান, তার বোনের দুটি সন্তানও রয়েছে তারা বোনের স্বামীর বাড়িতেই থাকে।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস ছালেক জানান, প্রায় এক বছর আগে ইয়াছমিনের সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তাঁদের লাশ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধি: করোনার কালেও  থেমে নেই জৈন্তাপুরে নারী নিয়ে রঙ্গখেলা, রঙ্গখেলা শেষে হত্যার উদ্যেশে কুয়ায় নিক্ষেপ করে হত্যা করার চেষ্টার অপরাধে মামলা হয়েছে এতে একজন কে আটক করা হয়েছে এবং দুইজন পলাতক রয়েছে ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ৪ জুন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে একাধিক মাদক মামলার আসামী ও মাদক বিক্রেতা কদমখাল গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০), চাঙ্গীল গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে শাহীন আহমদ (২৮) এবং মুক্তাপুর টিলাবাড়ী গ্রামের মোহন মিয়ার ছেলে বশির মিয়া (২৯)।

চক্রটি সিলেট শহর হতে কন্টাকে এক নারীকে নিয়ে আসে জৈন্তাপুরে। পরে নারীকে জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তাপুর ইউপি’র মুক্তপুর টিলাবাড়ী গ্রামের বশির মিয়ার দোকান কোঠার সংলগ্ন পরিত্যাক্ত ঘরে রেখে রঙ্গখেলায় মেতে উঠে।

একপর্যায়ে রঙ্গখেলা শেষ হলে রাত ৩টায় ঐ নারীকে হত্যার উদ্যেশ্যে দোকান গৃহ সংলগ্ন একটি পানির কুয়ার নিক্ষেপ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে যায় নারী লোভী চক্রটি। নিজের প্রাণ রক্ষার্থে কন্টাকে আসা নারী চিৎকার শুরু করে। নারীর চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে গিয়ে দেখতে পায় অপরিচিত একনারী কুয়ার মধ্যে চিৎকার করছে। বিষয়টি দেখে এলাকাবাসী দ্রুত জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার এস.আই কাজী শাহেদ এ.এস.আই রায়হান পারভেজ সঙ্গীয় ফৌস নিয়ে নারীকে কুয়া হতে উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া নারী জানান উল্লেখিত আসামীরা সিলেট শহর হতে থাকে নিয়ে আসে ঐ দোকান সংলগ্ন ঘরে নিয়ে রঙ্গখেলা করে। পরে তাকে টাকা পয়সা না দিয়ে হত্যার উদ্যেশে কুয়ায় ফেলে রেখে চলে যায়। ঘটনার পর পর পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে এজাহার নামীয় আসামী জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মুক্তাপুর গ্রামের মোহন মিয়ার ছেলে বশির মিয়া (২৯) কে আটক করে। অপরদিকে ঐ নারী জৈন্তাপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বনিক নারী উদ্ধারের বিষয় স্বীকার করে বলেন, বাদীনির অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধনী/২০০৩)এর ৯(৪)(খ)/৩০ মামলা রেকর্ড করা হয়েছে (মামলা নং-০২, তারিখ-০৫-০৬-২০২০)। গ্রেফকৃত আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে, বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াগাতি থানার কলাবাড়িয়া ইউপি মেম্বর ও কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম সিকদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি, ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডঃ মাহামুদুল হাসান কায়েস জেল-হাজতে। শুক্রবার দুপুরে তাকে নড়াগাতি আমলি আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেল-হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে যশোরের বেজপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৬। জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ২৬মে রাতে বিলাফর গ্রামের হাসু সিকদারের ছেলে বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলের সাবেক অধিনায়ক কাইয়ূম সিকদারকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা।

এ সময় নড়াগাতি থানা কৃষকলীগের সভাপতি আবুল হাসনাত মোল্যা, কলাবাড়িয়া গ্রামের মতিয়ার মল্লিক,সজীব মল্লিককে ও জামাল গ্ররুতর জখম হয়। এ ঘটনায় ২৯মে স্থানীয় ইউপি মাহামুদুল হাসান কায়েসকে প্রধান আসামি করে ৪৫ জনের নামে মামলা দায়ের করেন নিহত কাইয়ূমের ছেলে নাইমুল ইসলাম মিল্টন।

নড়াগাতি থানার ওসি রোকসানা খাতুন প্রধান আসামি কায়েস গ্রেফতারের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: টানা তিনদিনের টানা বর্ষন ও উজান থেকে বয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে ডুবে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। হু হু করে বাড়ছে ধলাই নদীর পানি।

শুক্রবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে আদমপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল,গোলেরহাওর,কালারায়বিল,কেওয়ালীঘাট,উত্তরভাগ,বনগাঁও জালালপুর,আধকানী,ভানুবিল,ঘোড়ামারা, দঃতিলকপুরসহ ১৫/১৬টি গ্রাম. শতাধিক হেক্টর ফসলী জমি ও অনেক রাস্তাঘাট পানির নীচে তলিয়ে গেছে।

কমলগঞ্জে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ১১টি স্থান ঝূঁকিপূর্ণ থাকায় বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য  ড. আব্দুস শহীদ এমপি শুক্রবার বিকালে নিমজ্জিত এলাকা পরির্দশন করেছেন।

এ সময় তিনি শতাধিক মানুষের কাছে নগদ অর্থও বিতরণ করেন। ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম,এ,হান্নান.আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ হেলাল উদ্দিনের সাথে কথা বলে জানা গেছে পাহাড়ি ঢলে কাঠালকান্দি গ্রামের ৫/৬টি মাটির ঘর ধসে পড়েছে।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও, তিলকপুর ও নাজাতকোনা এবং ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ যে কোন সময় ভেঙে যেতে পারে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে ২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হওয়ার কারণে ১৩০ হেক্টর আউস ধানের জমি নিমজ্জিত হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক বলেন, আমি সকালে খবর পেয়েছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলে দিয়েছি নজর রাখার জন্য। আশা করছি বৃষ্টি না হলে পানি দ্রুত কমে যাবে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৬ নং আশিদ্রোন ইউনিয়নের পুর্ব জামশী গ্রামে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় মা জায়েদা বেগম (৫৫) ও মেয়ে ইয়াসমিন (২৪) নিজ বসত ঘরে এক সাথে ধারালো ছুরির আঘাতে খুন হয়েছেন।আজ শুক্রবার সকালে খুন হওয়া নারীদের ঘরের দরজা বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়, পরে তারা স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যান জহর বর্ধনকে জানালে পুলিশের একটি টিমসহ ঘটনা স্থলে গিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে।

তাৎক্ষনিক প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, গত রাতের কোন এক সময় তারা খুন হয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান জহর বর্ধন জানান, খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ঘটনা স্থলে বন্ধ ঘরের দরজা ধাক্কা দিয়ে প্রবেশ করে প্রথমে মা’কে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় পরে কাপর দিয়ে ঢেকে রাখা মেয়ের লাশও পাওয়া যায়,ঘরের তরজার বেড়া ভেঙ্গে ঢুকে তাদের খুন করা হতে পারে,কারণ ঘরের বেড়া ভাঙ্গা পাওয়া গেছে, তবে কে বা কারা এই কাজ করেছে তা নিশ্চিত নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন “মেয়ের স্বামীর সাথে বনিবনা ছিলনা। আমি নিজেও কয়েকবার চেষ্টা করেছি মীমাংসার জন্য সম্ভব হয়নি।পরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে আদালতে মামলা মোকাদ্দমা চলছে।মেয়ে মায়ের  বাড়িতে থাকতেন।”

ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম রয়েছে এবং অন্যান্য কর্মকর্তার মধ্যে এ এস পি আশরাফুজ্জামান, নয়ন কারকুন (ওসি অপারেশন) ও এস আই সাইফুল ইসলামসহ ঘটনা স্থলে আছেন । বিস্তারিত পরের সংবাদে দেখুন

“ভিডিও ধারণকারীকে আইনের আওতায় আনলে আগুনের রহস্য বের হবে”

জুড়ী (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতাঃ মৌলভীবাজারের জুড়ীতে দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়ে যাওয়া “বন্ধু পোল্ট্রি ফার্মের” মালিক দীনবন্ধু সেন দাবি করেন খামারে আগুনের শেষ পর্যায়ের এক মিনিটের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল করে মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। ওই ভিডিও ধারণকারী ও প্রচারকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আগুনের মূল রহস্য বের হয়ে আসবে। বুধবার (৩/৬) জুড়ীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান, ব্যবসায়ীক অংশীদার শাহাজান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, গত ১ জুন গভীর রাতে উপজেলার আমতৈল গ্রামে আমার বন্ধু পোল্ট্রি ফার্ম প্রায় ২ হাজার লেয়ার মুরগীসহ পুড়িয়ে দেয়া হয়। আগুনের বিষয়ে ফেসবুুকে একটি ভিডিও ভাইরাল করা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, ফার্মে সামান্য আগুন জ্বলছে। সেখানে এক পুলিশ সদস্য এই সামান্য আগুন পানি দিয়ে নেভানোর কথা বলছেন। দীনবন্ধু বলেন, ভিডিওটি আগুনের একেবারে শেষ পর্যায়ে ধারণ করা, যাতে সামান্য আগুন দৃশ্যমান। অথচ ভাল করে দেখলে বা কোন এক্সপার্ট দিয়ে ভিডিওটি পরীক্ষা করালে দেখা যাবে যে, ভিডিওটি এডিট করা এবং পুরো খামারের ভিতর, ঘরের চাল সবকিছু পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। একটি কুচক্রীমহল পূর্বপরিকল্পিতভাবে আগুনের শেষ সময়ের এই ভিডিওটি ধারণ করে ও এডিট করে ছড়িয়ে দিয়ে আগুন লাগানোর মূল হোতাদের আড়াল করার অপচেষ্টা করছে। সেই সাথে সমাজে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে তৃতীয় কোন পক্ষ আগুন দেয়ার যে কথা ছড়ানো হচ্ছে সেটা গুজব। খামারের প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা গত ১ মে রাতে খামারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করলেও পুলিশ আসামী না ধরায় আসামীরা খামারে আগুন দেয় বলে আমার সন্দেহ হচ্ছে। ওরাই গত ২৪ মে খামারে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছিল। সংবাদ সম্মেলনে খামার ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি হারিস মোহাম্মদ, বাহার উদ্দিন, দীনবন্ধুর পুত্র সুইট সেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করে হলেও মূল বিষয় উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে এবং অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

জুড়ী (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতাঃ মৌলভীবাজারের জুড়ীতে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়েছেন আনা মিয়া (৭০) ও তার পুত্র সাইবুল ইসলাম (১১)। ঘটনাটি মঙ্গলবার রাত দশটায় উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ কালাছড়া গ্রামে ঘটেছে।

আনা মিয়ার মেয়ে শামীমা (১৪) জানায়, তার ছোট ভাই সাইবুল ইসলাম (১১) গত কয়েকদিন থেকে প্রতিবেশী বলাই মিয়ার পুত্র ফাহিম (২৫) এর সাথে কাটমিস্ত্রী কাজের সহকারী হিসেবে কাজে যায়। এ সুবাধে ফাহিম মঙ্গলবার রাতে আমাদের বাড়ীতে এক বোতল জুস নিয়ে আসে। আমার মা, বাবা, ভাইসহ আমাকে জুস খেতে অনুরোধ করে। আমি খেতে রাজি হইনি। আমার মা মুখে দিয়ে ফেলে দেন। এক পর্যায়ে জোর করে আমার বৃদ্ধ বাবা ও ছোট ভাইকে জুস খাইয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর বাবা ও ছোট ভাই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। রাতেই বাবাকে জুড়ী আধুনিক (প্রাঃ) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি।

বুধবার (৩/৬) সেখান থেকে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করি। ছোট ভাই স্থানীয় ভাবে চিবিৎসায় কিছুটা সুস্থ হয়। শামীমার মামা ইয়ারছ আলী বলেন, ফাহিম জুসের সাথে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ বা চেতনা নাশক কোন কিছু খাওয়ায়। আনা মিয়ার চারটি ছাগল চুরি করা বা মেয়েটির ক্ষতি করা এরকম কোন উদ্দেশ্যে ফাহিম এ কাজ করতে পারে। আনা মিয়া সুস্থ হবার পর প ায়েতের মুরব্বীদের সাথে পরামর্শক্রমে থানায় মামলা করা হবে।

জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ প্রিয়জ্যোতি ঘোষ অনিক বুধবার রাত দশটায় জানান, রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেকটা ভাল।

যাত্রীদের অভিযোগ, বাস চালক ঘুমিয়ে ছিল !

নবীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় এনা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মহিলাসহ অন্তত ২০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের সদরঘাট নতুন বাজার নামকস্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী এনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকা-মেট্রো (ব ১৪-৭২০৯) উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের সদরঘাট নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী মালবাহী একটি ট্রাক সিলেট-মেট্রো (ঢ ১১-০৫২২) এর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাক চালক-হেলপারসহ এনা পরিবহন বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ হয়। তবে তাৎক্ষণিক আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। এদিকে বাস যাত্রীদের অভিযোগ, বাস চালক ঘুমিয়ে ছিল এজন্যই এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এরশাদুল হক ভূঁইয়া দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম কাজ করছে।

এম ওসমান : যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউজকে দীর্ঘদিন ধরে ফলোআপ করে ফেইসবুকে ‘বাইক সেল’ নামে একটি ভুয়া অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজ খুলে নিলামে ভারতীয় মোটর সাইকেল বিক্রয়ের মূল হোতা প্রতারণাকারী আরমান (২৮) কে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে ঢাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটক আরমান কুমিল্লা জেলার মৃতঃ শাহ আলমের ছেলে।
সূত্রে জানা যায়, ভারত থেকে আনা বৈধ কাগজপত্র বিহীন মোটরসাইকেল বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটকের পর তা বেনাপোল কাস্টমস হাউজে জমা করা হয়। পরবর্তীতে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশানুযায়ী সেই মোটরসাইকেল গুলোকে নিলামে তোলেন এবং সার্কুলার অনুযায়ী বিভিন্ন ক্রেতাগণ এই মোটর সাইকেলগুলো দরপত্রের মাধ্যমে কাস্টমস হাউজ থেকে নিলামে কিনে থাকেন।
আর এক শ্রেণির প্রতারক চক্র সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, বেনাপোল কাস্টম হাউজকে ফলোআপ করে ফেইসবুকে ‘বাইক সেল’ নামে একটি ভুয়া অফিসিয়াল পেইজ খোলে। তারপর সেই পেইজের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে, বোকা বানিয়ে দেশের দূর-দূরান্তের মোটরসাইকেল ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন।
এমন অসংখ্য ক্রেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে, বেনাপোল কাস্টমস হাউজের চোখে ভুয়া অফিশিয়াল পেইজটি দৃষ্টিগোচর হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২০১৮ সালের (০১ জুনে) বেনাপোল কাস্টমসের পক্ষে রাজস্ব কর্মকর্তা নাঈম মিরন বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-২৬।
তিনি জানান, বেনাপোল কাস্টম হাউসকে জড়িয়ে একটি প্রতারক চক্র ফেইসবুকে ‘বাইক সেল’ নামে একটি ভুয়া অফিসিয়াল পেইজ খুলে প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি কাস্টমের নজরে আসলে তাৎক্ষণিক মামলা দায়ের করা হয়। কাস্টম কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই প্রতারক চক্র ভারত থেকে চোরাই পথে মোটরসাইকেল এনে এই পেইজের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকেন।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান বলেন, বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। সেই মোতাবেক প্রধান আসামি আরমানকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আটক আসামিকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc