Wednesday 8th of July 2020 08:30:35 PM

জহিরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস পজিটিভ হিসেবে নতুন শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৯১১ জন। আর সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছেন ৫২ হাজার ৪৪৫ জন। সংক্রমণে আরো ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে করোনায় এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭০৯ জনের।

আজ মঙ্গলবার (২ জুন২০২০) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রকাশে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

আজ করোনাভাইরাস সংক্রান্ত প্রেসবিফ্রিংয়ে ডা. নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে দেশে আরো ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঁরা ৩৩ জন পুরুষ এবং চারজন নারী। এদের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১০ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুইজন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭০৯ জনের।

৩৭জনের মৃত্যু হয়েছে এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১০ জন,চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫ জন, সিলেট বিভাগের চারজন, বরিশাল বিভাগের তিনজন, রাজশাহী বিভাগের দুইজন, রংপুর বিভাগের দুইজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের একজন।হাসপাতালে মারা গেছেন ২৮ জন এবং বাসায় ৯ জন।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫২৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ১২০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৯৫০টি। পরীক্ষা হয়েছে ১২ হাজার ৭০৪টি। এর মধ্যে করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে দুই হাজার ৯১১ জনকে। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫২ হাজার ৪৪৫ জন। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩টি।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়েছে আরো ছয়জন।এ নিয়ে এখন মোট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ হাজার ২৫৩ জনে। এ ছাড়া বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে হটলাইনে চার হাজার ২১৭ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

ঢাকাসহ সারা দেশে মোট আইসোলেশন সংখ্যা ১৩ হাজার ২৮৪টি। বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে সাত হাজার ২৫০টি এবং ঢাকা সিটির বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশন শয্যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৩৪টিতে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০০টি ও ময়মনসিংহ নার্সিং ডরমিটরিতে আরো ২০০টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুতির কাজ চলছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এসেছেন ২ হাজার ৫০৬ জন। একইসময় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৭ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মোট ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৫ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৪০ জন। বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৮ হাজার ৫৪৫ জন।

সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে সেবা প্রদান যায় বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

বুলেটিনে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং আইইডিসিআর’র হটলাইনে কল এসেছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৩০টি। এসব কলে সবাইকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত হটলাইনে ৮৯ লাখ ৭৩ হাজার ৫১১ জনকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।্য্য

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ইমামে আহলে সুন্নাত প্রখ্যাত আলেম আল্লামা কাজী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমীর (রাহঃ) মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২ জুন) তার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী পবিত্র ধর্ম ইসলামের প্রচার ও প্রসারে তার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মিনহাজ তানভীর: ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা কাজী নুরুল ইসলাম হাশেমী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি আজ মঙ্গলবার ভোর পৌনে পাঁচটায় মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করেছেন । ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।মৃত্যুকালে তিনি প্রায় ৯৪ বছর বয়সী ছিলেন।

আল্লামা নুরুল ইসলাম হাশেমী রহমতুল্লাহি ছিলেন বাংলাদেশের হাজার নক্ষত্রের একটি অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র । বিশ্বব্যাপী সুন্নি  মহল ছিল যার আলোয় আলোকিত।

ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা কাজী নুরুল ইসলাম হাশেমী (রাহঃ) আউলিয়ায়ে কেরামের স্মৃতিধন্য চট্টগ্রাম জেলার তৎকালীন পাঁচলাইশ বর্তমানে বায়েজীদ থানার অন্তর্গত জালালাবাদের এক ধর্মভীরু সম্ভ্রান্ত মুসলিম কাযী পরিবারে হাশেমী বংশে ১৯২৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর, ১৫ রজব জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতা শাহ্ সুফী মাওলানা কাযী আহ্ছানুজ্জমান হাশেমী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) ছিলেন প্রসিদ্ধ হাশেমী বংশের একজন কৃতিপুরুষ। তাঁর মাতা ছিলেন বাংলার মোহাদ্দেসে আযম অলিয়ে কামেল চট্টগ্রাম শাহী জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতীব আল্লামা ছফিরুর রহমান হাশেমী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর ঔরসজাত কন্যা।
আল্লামা হাশেমী জমাতে উলা পাশ করে ওয়াজেদীয়া মাদ্রাসায় একবছর যাবৎ দরস দানে লিপ্ত থাকেন। তখন তাঁর অন্তরে কামিল ডিগ্রী অর্জন করার প্রবল আগ্রহ জন্মে। তৎকালীন উপমহাদেশের ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র কলিকাতা আলীয়া মাদ্রাসাকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়। উচ্চতর জ্ঞান অর্জনের নিমিত্তে আল্লামা হাশেমী ঢাকা গমন করেন এবং তৎকালীন ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা-ই আলীয়া ঢাকাতে ১৯৫১ সালে টাইটেল ক্লাশের হাদীস বিভাগে ভর্তি হন। তথায় তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে হাদীস শিক্ষা সমাপ্ত করেন।
এদিকে ওই সময়ে তিনি সন্ধ্যাকালীন ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে উর্দুতে ডিপ্লোমা কোর্সও সম্পন্ন করেন। তিনি তখনকার সময়ের পাক ভারতের অনন্য ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন আলেম শরীয়ত ও তরিকতের মাজমাউল রাহরাইন আরবী ও উর্দু ভাষায় বিভিন্ন বিষয়াদির উপর অগণিত গ্রন্থ রচয়িতা প্রখ্যাত আলেম আল্লামা মুফ্তি সৈয়দ আমীমুল এহছান মুজাদ্দেদী বরকতী কুদ্দেসা সিররুহুর সান্নিধ্যে থেকে ইলমে হাদীস, ফেকাহ, তাফসীর ইত্যাদি বিষয়ের উপর গবেষণা করে বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন। ১৯৫২ সালে হযরত মুফতী সাহেব (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁকে “নাইলুল মুরাম বে-আসানিদে আশ্ শায়খ নূরুল ইসলাম” বিশেষ সনদ ও সম্মাননা প্রদান করেন। এছাড়া তিনি প্রখ্যাত আরবী সাহিত্যিক আল্লামা আবদুর রহমান কাশগরী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি )-এর স্নেহ লাভেও ধন্য হন।
ঢাকা হতে হুযুর কেবলা শিক্ষা সমাপনীর পর স্বীয় বাড়ীতে ফিরে আসেন এবং তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের প্রসিদ্ধ দ্বীনি শিক্ষা কেন্দ্র চট্টগ্রাম ওয়াজেদীয়া আলীয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতায় যোগ দেন এবং প্রধান মুহাদ্দিসের পদ শূন্য হলে তিনি উক্ত পদে নিযুক্ত হন। মাদ্রাসার অভ্যন্তরে তাঁকে টাইটেল সাহেব সম্বোধন করা হতো।
এছাড়াও তিনি পটিয়া শাহ্চাঁন্দ আউলিয়া আলীয়া মাদ্রাসা, ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলীয়া মাদ্রাসা, হাটহাজারী অদুদিয়া সুন্নীয়া মাদ্রাসায় বেশ কিছুদিন যাবৎ হাদীসে নববী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম-এর খেদমত আঞ্জাম দেন। অতুলনীয় আশেক্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম হুযুর কেবলা আল্লামা হাশেমী তরিকতের মহান দায়িত্ব পালন করছেন এবং দেশের আনাচে কানাচে ওয়াজ নসিহত ও ভাষণ বক্তৃতার মাধ্যমে সর্বসাধারণের মধ্যে দ্বীনের সঠিক মতাদর্শ আকাঈদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতকে প্রতিষ্ঠা করার মহান খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।
আল্লামা হাশেমী (রাহঃ) ১৯৮০ সালে জামাতে আহলে সুন্নাতের অঙ্গসংগঠন হিসেবে আকাঈদে আহলে সুন্নাতের ধারক বাহক এদেশে সুন্নী মতাদর্শ ভিত্তিক ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনরত একক সুন্নী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা গঠনে গুরু দায়িত্ব পালন করেন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সুদৃঢ় করণে তিনি আজীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বর্তমানে এদেশের সুন্নী আকীদা ভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা‘আতের কেন্দ্রীয় পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, আহলে সুন্নাত সম্মেলন সংস্থা-বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, এদেশের আ‘লা হযরত চর্চা ও গবেষণার একমাত্র ঐতিহ্যবাহী সংগঠন আ‘লা হযরত ফাউন্ডেশন-বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, জাতীয় ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উদযাপন কমিটির সম্মানিত আহ্বায়ক।
আল্লামা হাশেমী (রাঃ) নিজ বাড়ীতে ১৯৬৪ সালে আহ্ছানুল উলুম জামেয়া গাউছিয়া আলীয়া মাদ্রাসা হেফজখানা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠায়  অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মাদ্রাসার সাথে মসজিদে গাউছিয়া রেফাঈয়া-এরও ভিত্তি দেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন স্থানে অগণিত মসজিদ ও মাদ্রসা স্থাপন করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি আধ্যাত্মিক তরিকত ভিত্তিক সংগঠন “আঞ্জুমানে মুহিব্বানে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গাউছিয়া জিলানী কমিটি” নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের ব্যবস্থাপনায়  উনার সভাপতিত্বে ১২ দিনব্যাপী ঐতিহাসিক ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শীর্ষক সেমিনার বর্তমান সময়কার দেশ বিখ্যাত মাহফিলে পরিণত হয়েছে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম-এর ৬৩ বছরের হায়াতে তাইয়্যেবা আলোচনার উপর গবেষণাধর্মী ও রূহানী মাহফিল হিসেবে তা ঈমান আক্বীদা হেফাজতকারী। ছাত্র ও যুবকদের সুন্নীয়ত ও তরীকতের দিক্ষা দেওয়ার জন্য তাঁরই নির্দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গাউছিয়া হাশেমী কমিটি-বাংলাদেশ।
শোক প্রকাশ: ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা কাজী নুরুল ইসলাম হাশেমী ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশ এর সম্মানিত চেয়ারম্যান আল্লামা মুফতি ওবায়দুল হক নঈমী (মা.জি.আ), মহাসচিব সৈয়দ মছিহুদ্দৌলা (মা.জি.আ), নির্বাহী মহাসচিব মুফতি আবুল কাসেম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার সম্মানিত অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি অছিউর রহমান আল কাদরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সম্মানিত সভাপতি মাওলানা এম.এ মান্নান, মহাসচিব এম. এ মতিন, আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট মোসাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, কেন্দ্রীয় ছাত্রসেনা সভাপতি জি.এম. শাহাদাত হোসেন মানিক, সেক্রেটারি ইমরান হোসাইন তুষারসহ দেশের শীর্ষ এবং সকল সুন্নি উলামায়ে কেরাম। ইমামে আহলে সুন্নাতের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন সুন্নি বিশ্বকোষের সকল এডমিন, মডারেটর,এডিটর  এবং আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম পরিবারের সদস্যবৃন্দ। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমিন।

জহিরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় লেয়ার মুরগী পোল্ট্রি ফার্মে দূর্বৃত্তদের আগুনে ফার্মের অবকাঠামোসহ ২০০০ মুরগী পুড়ে ভস্ম হয়ে গিয়ে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতির অভিযোগ করে খামারের মালিক পক্ষ ।

জানা যায়, আমতৈল গ্রামের দ্বীনবন্ধু সেন ৪ জনকে শেয়ার নিয়ে নিজস্ব ২০ লক্ষ টাকা এবং ব্যাংক থেকে ২০ লক্ষ টাকা লোন নিয়ে প্রায় তিন হাজার লেয়ার মুরগীর পোল্ট্রি ফার্ম করেন।ফার্মের দূর্গন্ধের কারনে এলাকাবাসী ফার্মটি বন্ধের জন্য অনেকদিন থেকে আন্দোলন করে আসছে। এ নিয়ে এলাকায় দুই পক্ষের বিরোধ চলছে। ১ মে এলাকার একটি পক্ষ নিয়ে জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুকের নেতৃত্বে ফার্মে হামলার অভিযোগ উঠে। রাত আনুমানিক ৩ টায় দূর্বুত্তরা ফার্মে কেরাসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।

খবর পেয়ে জুড়ী থানা পুলিশের উপস্থিতিতে কুলাউড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এতে প্রায় ২০০০ মুরগি পুড়ে মারা গেছে। ফার্মের মালিক দ্বীনবন্ধু সেন ও শাহ ভূইঁয়া বলেন, আমাদের ৩০০০ মুরগির ফার্মে গত ১ মে তারিখে উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে হামলার কারনে ৬০০-৭০০ মুরগি মারা যায় আজ আবার আগুন লাগিয়ে সব মুরগি মেরে ফেলা হয়েছে। ঘর,মুরগিসহ আমাদের প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।

পহেলা ১ জুন সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাউছার দস্তগীর, জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি সহ প্রমুখ। এ ঘটনায় দ্বীনবন্ধু সেন বাদী হয়ে জুড়ী থানাতে উপজেলা চেয়ারম্যানকে আসামী করে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ।

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ থেকেঃ নবীগঞ্জে চলমান করোনা ভাইরাসের সংকটে সরকারি সহায়তার জন্য তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এক নারী কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। সেই তালিকায় নিজের স্বামী, ভাই, ভাবি ও তাদের মেয়ের নামসহ ৬ জন আত্মীয়ের নাম দিয়েছেন তিনি। পৌরসভার ইতিহাসে এমন অনিয়মের অভিযোগ এটাই প্রথম। ফলে খোদ পৌর পরিষদসহ এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।
সুত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সলর বিএনপি নেত্রী রোকেয়া বেগমের তৈরীকৃত সরকারি ত্রাণ সহায়তার অগ্রাধিকার তালিকায় এই চিত্র পাওয়া গেছে। এই তালিকা তৈরি করেছেন নারী কাউন্সিলর রোকেয়া বেগম।
এমন অভিযোগ তুলে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক দরিদ্র লোক। পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা রমিজ উল্লাহ তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন- ওই ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর রোকেয়া বেগম তার নিজ পরিবারের ৬ জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছেন এবং সরকারের এই অর্থ সহায়তার সুবিধা ভোগ করেছেন।
তালিকায় অন্তর্ভূত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন- তার স্বামী রাজু আহমেদ, তার মেয়ে রুবি বেগম, আপন ভাতিজি মেহের জাহান আক্তার, ভাবী জামিনা বেগম, ভাই রুবেল মিয়া, ভাবী হালেমা। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।
রমিজ উল্লাহ তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন- তাদের ওয়ার্ডের অনেক কর্মহীন অসহায় গরীব পরিবার থাকার পরও নারী কাউন্সিলরের একি পরিবারের ৬ টি নাম অন্তর্ভূত করায় এলাকাবাসীর মধ্য তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করে যথাযত আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করতে প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানান এলাকাবাসী।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে বক্তব্য নিতে কাউন্সিলর রোকেয়া বেগমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বিজিত কুমার পালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc