Saturday 30th of May 2020 02:52:14 PM

জহিরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়  জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের  সহকারী পরিচালক  মো: আল-আমিন’র নেতৃত্বে ও র‌্যাব-৯ এর সহযোগিতায় শ্রীমঙ্গলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর  হাট-বাজার ও দোকান মনিটরিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল শহরের ষ্টেশন রোড, নতুন বাজার, মাছ বাজার, দক্ষিণ রোডসহ বিভিন্ন জায়গায় তদারকি ও অভিযানে টিসিবি কর্তৃক ন্যায্য মূল্যে পণ্যসামগ্রী তেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজ বিক্রির কাজে নিয়োজিত ট্রাক ডিলারের কার্যক্রম তদারকি করা হয়।

এছাড়াও তদারকি অভিযানে মূল্য তালিকা না রাখা, ওজনে কম দেওয়া, মোড়কজাত বিধিমালা না মেনে পণ্য বিক্রয় করা, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রয় করাসহ  বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৪ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

প্রতিষ্ঠান গুলো হলো, ষ্টেশন রোডে অবস্থিত দেওয়ান ব্রাদার্সকে ৫ হাজার টাকা, নতুন বাজারে অবস্থিত সোনা মিয়ার মাছের দোকানকে ৪ হাজার টাকা, জুতিকা এন্টারপ্রাইজকে ৪ হাজার টাকা, দক্ষিণ রোডে অবস্থিত সাইফুর ষ্টোরকে ৪ হাজার টাকাসহ মোট ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের সহকারি পরিচালক মো. আল আমিন জানান, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চাল, তেল, শাক-সবজি, কাঁচামাল এবং বিভিন্ন জাতের ফলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ন্যায্য মূল্যে প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং যাতে কেউ খাদ্য মজুত করে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করতে না পারে, ভোগ্যপণ্য সামগ্রীর দাম যেন কেউ অনৈতিক ভাবে বাড়াতে না পারে সেই লক্ষ্যে  ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জহিরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক: শ্রীমঙ্গলে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া  গেছে।এ ঘটনায়  শিশুর পিতা বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানাতে বুধবার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ আসামি জামাল মিয়া (১৬) কে আটক করেছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শিশুর পিতা কাঠ মিস্ত্রীর কাজ করেন এবং তার মা বিভিন্ন বাসা বাড়িতে কাজ করেন। শিশুটি বাসায় একা থাকে।এই সুযোগে গত মঙ্গলবার দুপুরে ঐ এলাকার বাস্তুহারা বস্তির মজিবুর রহমানের ছেলে জামাল মিয়া সাইকেলে চড়িয়ে ঘোরার কথা বলে বাগানে নিয়ে যায়।পরে স্থানীয় ভুরভুড়িয়া চা বাগানের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে জানান।

পরে শিশুটি বাসায় এসে কেঁদে কেঁদে তার প্রতিবেশী এক ফুফুকে এ ঘটনাটি জানায়।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (আপারেশন) নয়ন কারকুন জানান,এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীর সাথে  লড়াই করে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১৬ জন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ১৬১৭ জন। যা এখন পর্যন্ত একদিনের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

এই নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৬,৭৩৮ জনে। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা পৌছাল ৩৮৬ জনে।  ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১০,২০৭টি।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২১৪ জন। এই নিয়ে দেশে মোট সুস্থ ৫,২০৭ জন। মৃতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ৩ জন মহিলা।

বুধবার(২০ মে)করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।

 তিনি সবাইকে করোনা প্রতিরোধে ঘন ঘন হাত ধোঁয়া, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নিয়মাবলী মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন।

দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত (কোভিড-১৯) প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

আন্তর্জাতিক জরিপকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটার এর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মহামারি করোনাভাইরাসে সারা বিশ্বে ৫০ লাখ ২৯৫ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে  ৩ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জনে । এছাড়া  সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৯ লাখ  ৭০  হাজার ৯১১ জন।

জুড়ী (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতাঃ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিনভর অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পাওয়া গেছে। সদ্য এমপিওভুক্ত হওয়া একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও কমিটির সদস্যবৃন্দ তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় ওই কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘুষের ১৭ হাজার টাকা জব্দ করে জুড়ী থানা পুলিশ।

উপজেলার শাহপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসাটি অতিসম্প্রতি এমপিওভুক্ত হয়। মাদ্রাসার ১৩ জন শিক্ষক কর্মচারীর কাগজপত্র চলতি মাসের ৪ তারিখের মধ্যে পাঠানোর কথা থাকলেও আমরা যথা সময়ে পাঠাতে পারিনি।

পরে সময় বাড়িয়ে ২১ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে তা পাঠানোর কথা বলা হয়। আমরা ৫-৬ তারিখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কাগজপত্র জমা দেই। তাড়াহুড়ো করে জমা দিতে গিয়ে কাগজে বেশ কিছু ভুল হয়ে যায়। আমরা শিক্ষা অফিসার মোঃ গোলাম সাদেককে বিষয়টি অবগত করে সে গুলো না পাঠাতে বলি। গত শনিবার হুট করে শিক্ষা অফিসার মাদ্রাসায় গিয়ে জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেন।

আমরা উনাকে ১৫ হাজার টাকা দেই। আজ (মঙ্গলবার) সকালে খবর পেলাম শিক্ষা অফিসার এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক শিক্ষকের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা খেয়ে আমাদের ভুল কাগজগুলো জেলা শিক্ষা অফিসে অনলাইনে পাঠিয়েছেন। আমরা সকালে দ্রুত অফিসে আসার পথে দেখতে পাই শিক্ষা অফিসার চলে যাচ্ছেন। এক পর্যায়ে উনাকে জোর করে অফিসে নিয়ে এসে ভুল ফাইলগুলো বাতিল করতে বলি।

তিনি এ কাজের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমরা উনাকে ১৭ হাজার টাকা দিলে এই টাকাগুলো তিনি অফিস সহকারী আব্দুল শহিদের নিকট দিয়ে দেন। কিন্তু পাঠানো ভুল ফাইলগুলো বাতিল করেননি।

এজন্য আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখি। বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেই। সন্ধ্যায় জুড়ী থানার পুলিশ টাকাগুলো জব্দ করে নেয়।

অভিযুক্ত জুড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ গোলাম সাদেক ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিবেদককে বলেন, উনারা জোরপূর্বক আমাকে টাকা দিতে চান, আমি নেইনি। উনারা আমাকে অপমান অপদস্থ করেন, আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। একটি ফাইল পাঠাতে ঘন্টাখানেক সময় লাগে। আজ (মঙ্গলবার) সকালে ভুলবশতঃ ৭টি ফাইল চলে যায়। এগুলো বাতিল করার জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলেছি। তিনি ব্যস্ত আছেন। রাতে ফাইলগুলো বাতিল করার কথা বলেছেন।

জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, ১৭ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। সেগুলো দুদকে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান বঙ্গোপসাগরে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে এগিয়ে আসার কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে দেখাতে বলা হয়েছে ৯ নম্বর বিপদ সংকেত।

আজ (বুধবার) সকাল ৯টায় বিশেষ বুলেটিনে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ থেকে ২২০ কিলোমিটার বেগে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে সাড়ে তিনশ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গেছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসেরও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদ্প্তর।
গতকাল আম্পানের বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করা হয়
এর আগে সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আজ (বুধবার) সকাল ছয়টায় মোংলা সমুদ্র থেকে ৩৯০ ও পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪১০ কিলোমিটার অবস্থান করছিল। এটির অবস্থান ছিল চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ৫৪৫ কিলোমিটার দূরত্বে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পান আজ সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আম্পানের প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরাঞ্চলে ১০ থেকে ১৫ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরাঞ্চলে ১৪০ থেকে ১৬০ মিটার বেগে ঝড়ো বাতাসসহ অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে আজ সকাল থেকেই খুলনা ও পার্শবর্তী জেলায় সারারাত টিপটিপ বৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। আবার কালো মেঘের ফাঁকে এক ঝলক রোদের দেখাও মিলেছে। কম গতিতে দমকা বাতাস বইছে। তবে লোকজনের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার তেমন তোড়জোড় নেই।পার্সটুডে

নড়াইল প্রতিনিধিঃ   প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও ঈদ উপহার খাদ্য সামগ্রী বিতরনে ব্যাস্ত সময় পার করছেন নড়াইল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খাঁন নিলু। তিনি তার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে ঈদ উপহার হিসাবে করোনায় ক্ষতি গ্রস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করে যাচ্ছেন।
আজ শহরের কুড়িগ্রামের নিজ বাসভবন থেকে নিজাম উদ্দিন খাঁন নিলু জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মিদের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রামন প্রতিরোধের কারনে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় হত দরিদ্র ২০০০ পরিবারের মাঝে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিতরণের জন্য তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ আগে তিনি ৫ শত মানুষের মাঝে ৩০০ শাড়ি ২০০ লুঙ্গি বিতরন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ীলীগের উপ-প্রচার প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক বোরহান আহম্মেদ রাজু,জেলা আওয়ীললীগের সদস্য ইঞ্জিঃ খসরুল আলম পলাশ, পৌর আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য ও গনশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিচুর রহমান,ছায়ানট ও ললিতা একাডেমির সহ-সভাপতি মোঃ ইউনুচ,সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈম ভ’ইয়া,তুষার শেখ অনেকে।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খাঁন নিলু বলেন, দুর্যোগ করোনায় বিশ^ এখন স্তব্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। আমাদের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশের মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য সরকারীভাবে অনুদান দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল বাংলার দামাল ছেলেরা তবে তখন ছিলো দৃশ্যমান শত্রু ,বর্তমানে অদৃশ্য শত্রু করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নির্দেশে জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার , সিভিল প্রশাসন সব মানুষের সেবার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্ত্তুজা বাংলাদেশের এসেট হিসাবে বাংলাদেশ তথা নড়াইলের জন্য পর্যাপ্ত পরিমান ত্রান দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে জেলা আওয়ামীলীগ,ছাত্রলীগ,যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবকলীগ,মহিলা আওয়ামীলীগ,শ্রমিকলীগ,কৃষকলীগ সম্মিলিতভাবে যার যার অবস্থান থেকে মানুষের সেবা করে যাচ্ছে।
আমি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান হিসাবে আমার যা যা করনীয় আমি করে যাচ্ছি। আমি যেহেতু নড়াইল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সেহেতু নড়াইলের পাশপাশি কালিয়া ও নড়াগাতিতেও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। তাছাড়া অনেক লোকেরা আমাকে বলেছে মাশরাফি বিন মোর্ত্তূজা যেহেতু নড়াইল-২ আসনে পর্যাপ্ত ত্রান দিচ্ছে সেহেতু আপনি নড়াইল-১ আসেনের অসহায় মানুষের পাশে দাড়ান। বিধায় নড়াইল-১ আসনের প্রত্যেক ইউনিয়নে সাধ্য অনুযায়ী নেতাকর্মীদের দিয়ে ত্রান বিতরন অব্যাহত রেখেছি। যতদিন করোনযুদ্ধ শেষ না হচ্ছে ততদিন আমি তথা জেলা আওয়ামীলীগ অসহায় জনগনের পাশে থাকবে।
পৌর আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য ও গনশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও নিজাম উদ্দিন খাঁন নিলুর ব্যাক্তিগত সহকারী আনিচুর রহমান বলেন,করোনাকাল শুরু থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খাঁন নিলু ভাইয়ের ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে আজ ২ হাজার এ পর্যন্ত ৫ হাজার করোনায় কাষতিগ্রস্থ অসহায় কর্মহীন হয়েপড়া পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। পাশাপাশি অস্বচ্ছল নেতাকর্মিদের মধ্যে ৫ লক্ষাধিক নগদ টাকা এবং অভাবী মানুষের মাঝে ৩০০ শাড়ি ২০০ লুঙ্গি বিতরন করা হয়েছে।

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ   আজ রক্তস্নাত ২০ মে, চা শ্রমিক হত্যা দিবস। ১৯২১ সালের ২০ ই মে  ব্রিটিশদের অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক নিজেদের জন্মস্থানে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চালায়।
মেঘনা ঘাটে এসে পৌছালে আসাম রাইফেলস এর গোর্খা সৈনিকরা  নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হাজার হাজার চা শ্রমিকদের  নির্মমভাবে হত্যা করে  এরপর থেকে ২০ মে চা-শ্রমিকেরা ‘চা-শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন।

তবে বারবার দাবি জানানো এবং অনেক আন্দোলনের পরও ৯৮ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি দিবসটি। ঘুচেনি চা শ্রমিকদের বঞ্চনা। চা শ্রমিক ইউনিয়ন এর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চানপুর চা বাগানের শ্রমিক নিপেন পাল জানান, চা শ্রমিকদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এদেশে এনে স্বল্প মজুরীর মাধ্যমে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের কাজ করানো হয়। তাই শ্রমিকরা নিজ মুল্লুকে ফিরে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি। এখনো চা শ্রমিকরা বঞ্চিত আছে। চা শ্রমিক দিবস উপলক্ষে চুনারুঘাট উপজেলার চান্দপুর চা বাগান,আমু চা বাগান সহ এবং লস্করপুর ভ্যালীর বেশ কয়েকটি বাগানে র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয। পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে চীন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও চায়ের প্রচলন ছিল না।

১৮৫৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেটের মালিনীছড়া চা বাগানে চা চাষ শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সে সময় বৃহত্তর সিলেটে চা বাগান তৈরির জন্য ভারতের আসাম, উড়িষ্যা, বিহার, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়। বিশাল পাহাড় পরিষ্কার করে চা বাগান করতে গিয়ে হিংস্র পশুর কবলে পড়ে কত শ্রমিকের জীবন গেছে তার কোনো হিসেব নেই।

এ ছাড়া ব্রিটিশদের অত্যাচার তো ছিলই। তাদের অব্যাহত নির্যাতনের প্রতিবাদে তৎকালীন চা শ্রমিক নেতা পণ্ডিত গঙ্গাচরণ দীক্ষিত ও পণ্ডিত দেওসরন ‘মুল্লুকে চল’ (দেশে চল) আন্দোলনের ডাক দেন। ১৯২১ সালের ২০ মে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক সিলেট থেকে হেঁটে চাঁদপুর মেঘনা স্টিমার ঘাটে পৌঁছেন। তারা জাহাজে চড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইলে ব্রিটিশরা গুলি চালিয়ে শত শত চা শ্রমিককে হত্যা করে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। যারা পালিয়ে এসেছিলেন তাদেরকেও আন্দোলন করার অপরাধে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

মেঘনা ঘাটে আসাম রাইফেলস এর গোর্খা সৈনিকরা নির্মমভাবে চা শ্রমিকদের হত্যা করে। এর পর যারা বেঁচে ছিলেন তারা নিরুপায় হয়ে আবারো বাগানে চলে আসেন। পরে বঙ্গবন্ধুর ডাকে চা-শ্রমিকরা তীর-ধনুক নিয়ে যুদ্ধ করে। কিন্তু দেশে এখনো চা শ্রমিকরা ভূমির অধিকার ধেকে বঞ্চিত।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন  সাধন সাঁওতাল জানান এখনো চা শ্রমিকদের জীবনমানের কোনো উন্নয়ন ঘটে নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা এখনও পূরণ হয়নি। অবিলম্বে চা শ্রমিকদের চুক্তি নবায়ন, দৈনিক মজুরী ৩০০ টাকা, রেশন হিসাবে সাপ্তাহিক ৫ কেজি চালসহ ৭ দফা দাবি মানতে হবে।

এম ওসমানঃ যশোরের বেনাপোলের ছেলে হাফেজ মোহাম্মাদ আবুসাঈদ পিএইচপি কোরআনের আলো প্রতিযোগিতায় সেরা ১০ এ উত্তীর্ণ হয়েছে।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল এনটিভিতে প্রচারিত হিফজুল কোরআন ভিত্তিক জাতীয় পর্যায়ের রিয়েলিটি শো পিএইচপি কোরআনের আলো-২০২০ প্রতিভার সন্ধানে এবারের বাছাইপর্বে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় ও চতুর্থ রাউন্ডে পরপর চার বার ভালো ফলাফল করে সেরা ১০-এ স্থান করে নেয় সে। হাফেজ আবু সাঈদ ঢাকা মারকাজুত তাহফিজ মাদ্রাসার একজন মেধাবী শিক্ষার্থী।
সূত্র জানায়, হাফেজ আবু সাঈদ শুধু বাংলাদেশেই নয় সে আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত বাংলাদেশ জাতীয় কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্ব হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা আলজেরিয়ায় যাওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ১৭ তম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা আলজেরিয়ার রাজধানী যাজায়েরে অনুষ্ঠিত হবে।  করোনা ভাইরাসের কারণে প্রতিযোগিতা এখন পিছিয়ে রয়েছে।
হাফেজ আবু সাইদ যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার কাগজপুকুর গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী শব্দকর সম্প্রদায়ের একশো পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। মঙ্গলবার (১৯মে) দুপুরে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে চাল জিআর চাল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস কর্মকর্তা

এ,কে,এম মহসিন, আদমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবেরসহ সভাপতি শাব্বির এলাহী,সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য শামছুন্নাহার বেগম, সন্ধ্যা রানী সিনহা, ইউপি সদস্য বশির বক্স, আছকর খাঁন প্রমুখ।এর আগে একশো একষট্টি জন দুঃস্থ নারীকে ৩০কেজি করে বিজিডির চাল বিতরণ করা হয়।

মহামারী করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিড়ি-সিগারেটসহ সব তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রি সাময়িক বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খাইরুল আলম শেখ সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর ক্ষমতাবলে এই নির্দেশ জারি করেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাককে কোভিড-১৯ সংক্রমণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার কথা বলছে। ধূমপানের কারণে শ্বাসতন্ত্রের নানাবিধ সংক্রমণ এবং কাশিজনিত রোগ তীব্র হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাধিক গবেষণা পর্যালোচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের কোভিড-১৯ সংক্রমণে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এছাড়াও গবেষণা দেখা গেছে, কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত ধূমপায়ীর মৃত্যুঝুঁকিও ১৪ গুণ বেশি। কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবিলায় ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাময়িকভাবে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, সীসা বার, উন্মুক্ত স্থানে পানের পিক ফেলার মতো বিষয়গুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সরকার কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ক্রমবর্ধমান কোডিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের তামাক কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ অনুমতিপত্র প্রদান করা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাস করতে প্রণীত সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮-এ সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে বাজার, গণজমায়েত সাময়িকভাবে বন্ধ, দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান থেকে অনা স্থানে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার অজুহাতে এ আইন লঙ্ঘন করে চলেছে। এ কারণে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তামাকমুক্ত বাংলাদেশ পড়ার প্রত্যয় এগিয়ে নিতে সব তামাক কোম্পানির উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও তামাকপাতা ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে এ ব্যাপারে চিঠিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। তবে থেমে নেই মানুষের ঈদযাত্রা। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সড়কে নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। পুরুষ-নারী-শিশু সঙ্গে ব্যাগপত্র  নিয়ে তাদের দীর্ঘ কষ্টকর যাত্রায় মাইক্রোবাস, লেগুনা, সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় এমনকি ভ্যান গাড়ী চড়ে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে উদ্দেশ্যে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিচ্ছেন ‘দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা’। অবশ্য এজন্য গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। আর ঝক্কি বা দুর্ভোগটা  ‘বিশেষ উৎসব বোনাস’।

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) ইফতেখার রোকন গণমাধ্যমকে  বলেন, গণপরিবহন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ঈদকে সামনে রেখে এ মহাসড়কে যাত্রী বেড়েছে। এ সুযোগে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস আর কেউ কেউ অসুস্থতার দোহাই দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে বাড়ি ফিরছেন। সন্দেহজনক কিছু গাড়ি প্রবেশে বাধা দেয়া হলেও বেশিরভাগ গাড়িই সেতু দিয়ে পার হচ্ছে। তবে নদী পথে কীভাবে যাত্রী পারাপার হচ্ছে সে ব্যাপারে তার অজ্ঞতার কথা স্বীকার করেন।

ওদিকে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণ দেখিয়ে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া-শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুট এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ফেরি বন্ধ থাকার পরও দক্ষিণবঙ্গগামী হাজার হাজার মানুষ আজ সকাল থেকেই ফেরি ঘাটে ভিড় করতে থাকে।

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ মো. হেলাল হোসেন জানান, জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে চেকপোস্টসহ ঘাটে প্রবেশের সকল রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবুও বিভিন্ন দিক ঘুরে যাত্রীরা ঘাট এলাকায় ভিড় জমাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ

এদিকে, ফেরিঘাটে আটকেপড়া হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণের জেলাগুলোতে আসন্ন আম্পানের বিপদ এবং পেছনে রাজধানীতে করোনার ভয়- এরকম আতঙ্ক মাথায় নিয়ে পথের মাঝে চরম দুর্বিপাকে পড়েছেন।

এ অবস্থায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ রাজধানী থেকে রওনা হয়ে ফেরিঘাটে আটকেপড়া ঘরমুখী মানুষদের স্ব স্ব অবস্থানে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি ফেরিঘাটে আটকেপড়াদের অনুরোধ করে বলেন, দয়া করে যেখানে ছিলেন সেখানে ফিরে আসুন। যারা আটকে আছেন তাদের ঢাকায় ফেরার জন্য পুলিশ প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর ও করোনা মহামারি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘মনে রাখতে হবে বেঁচে থাকলে আরও অনেকবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা যাবে। কিন্তু মারা গেলে কিংবা করোনা আক্রান্ত হলে এখানেই শেষ। তাই আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি সরকারি যে নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যবিধি সেটা মেনে চলুন।’

তিনি বলেন, ‘দয়া করে কেউ ঝুঁকি নেবেন না। পরিবারের কাছে যাচ্ছেন ঈদ করার জন্য। করোনা নিয়ে সেখানে সংক্রমণ ছাড়ানোর শঙ্কা তৈরি করবেন না।’ পার্সটুডে থেকে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বরুনা মাদ্রাসায় পবিত্র রামাদানুল কারিমের ২৫ তারিখ রোজ মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২০) দিনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

ইফতারপূর্ব বরুণা মাদারাসার ছদরে মুহতামিম শায়খুল হাদিস আল্লামা খলিলুর রহমান হামিদী’র নসিহত ও দোয়ার মাধ্যমে বরুণা মাদরাসার ইফতার মাহফিল সম্পুর্ন হয়।

জানা যায়,এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ঠ মুফাস্সিরে কুরআন হাফিজ মাওলানা ওলিউর রহমান বরুণী,বিশিষ্ঠ সমাজ সেবক মাওলানা আহমদ বিলাল,শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্যানেল মেয়র ২ মীর এম এ সালাম,বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মাওলানা মাহমুদুল হাসান, আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী,মাওলানা আয়েত আলী, আলহাজ্ব মনির বাশার,খেদমতে কুরআন পরিষদ শ্রীমঙ্গলের সভাপতি হাফিজ আব্দুল্লাহ চৌধুরী জুমন,বিশিষ্ঠ ব্যবসাা বেলাল হোসেন চৌধুরী,মাওলানা সাইফুর রহমান,মাওলানা জিয়া উদ্দীন ইউসুফ,হাফিজ মাওলানা আব্দুল বাসিত,হাফিয মাওলানা মিসবাহ উদ্দিন জুবায়ের, মাওলানা রুকন উদ্দিন,মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন,হাফিয সামছুল হক প্রমুখ।

ইফতারের পুর্ব মুহূর্তে দেশ বিদেশের সকল মুসলিমদের কল্যাণে আল্লাহর রহমত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

মহান আল্লাহ জাল্লা শানুহু মানব জাতিকে সৃষ্টি করে তার প্রতি অনুগত থেকে ক্ষমা প্রাপ্তির জন্য নানা রকম সুযোগ সুবিধা তৈরি করে দিয়েছেন।এই সুযোগগুলোকে বিশ্বাসীরা অর্থাৎ মু’মিনরা কাজে লাগিয়ে যেমন ইহকালে ও পরকালে সফল তেমনি এর থেকে অলস অচেতন মানব সন্তান হারিয়ে যায় অন্ধকারের গহবরে। আমরা ঈমান এনে নিজের ভাগ্যকে ক্ষমার যোগ্য করেছি। এখন পূর্ণমাত্রায় এই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে সফলতার উচ্চ শিখরে পৌঁছায় হবে মানব জীবনের সর্বোত্তম পন্থা। পবিত্র রমজানুল মোবারক আমাদের দেহ ও আত্মার জন্য এত বরকতময় মাস যা আর কোন জাতিগোষ্ঠীর ভাগ্যে জুটেনি, তাই আসুন রহমতের ধারা বয়ে যাচ্ছে এর থেকে মহান আল্লাহর অসীম রহমত সঞ্চয় করে নেওয়ার চেষ্টা করি।

“লাইলাতুল কদর” আরবি শব্দ। “লাইলাতুল” অর্থ রাত্রি আর “কদর” শব্দের অর্থ সম্মান বা মর্যাদা। অন্য আরেকটি অর্থ হচ্ছে; ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা। ধর্মীয় সুত্রানুসারে, পবিত্র এই রাতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনঃর্নির্ধারণ করা হয়। বরকতময় রজনী হলো লাইলাতুল কদর। আল্লাহ এ রাতকে বরকতময় বলে অভিহিত করেছেন। কারণ এ রাতে রয়েছে যেমন বরকত তেমনি কল্যাণ ও তাৎপর্য। বরকতের আরও কারণ হল এ রাতে সৃষ্টিকুলের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর পবিত্র আল-কোরান নাজিল হয়েছে। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-সিদ্ধান্ত লওহে মাহফুজ থেকে ফেরেশতাদের হাতে অর্পণ করা হয় বাস্তবায়নের জন্য। এ রাতের অপর একটি বৈশিষ্ট্য হল এর ফজিলত বোঝানোর জন্য মহান আল্লাহ জাল্লাহ শানুহু পবিত্র কোরআনুল কারিমে  সুরা কদর নামে একটি সূরা মুসলিম জাতিকে উপহার দিয়েছেন যা অনাদিকাল পর্যন্ত পঠিত হবে মানব সমাজে।

আমরা জানি রামাদানুল কারিমের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাত গুলোর কোন একটি মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর খুঁজে নিতে হয়। যেটি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রাত। আর এ মাস গুলোকে একত্রে করলে প্রায় ৮৩ বছরেরও অধিক সময় হয়। জীবনে একবার সঠিকভাবে রাতটি পেয়ে গেলে আজীবনের সাওয়াব পেয়ে যায় বান্দা। বান্দার জন্য স্রষ্টাকর্তৃক জীবদ্দশায় এটিও একটি কল্যাণকর রাত। হাদীস শরীফ এ লাইলাতুলকদর রাতের কিছু আলামত বর্ণিত হয়েছে। আসুন সেগুলো দেখে রাতটি মিলিয়ে নেই।

  • রাতটি ভয় করার মতো গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না।
  • নাতিশীতোষ্ণ হবে। অর্থাৎ না গরম, না শীতের তীব্রতা থাকবে।
  • মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে।
  • সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবেন।
  • কোন কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ স্বপ্নে হয়তো তা জানিয়েও দিতে পারেন।
  • কাংখিত  রাতে বৃষ্টি বর্ষণও হতে পারে।
  • সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে। যা পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জল দেখাবে।

কাংখিত সে রাতের একটি বিশেষ দোয়াও রয়েছে যেটা উম্মুল মু’মিনীন হজরত আয়িশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা লাইলাতুল ক্বদর সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছিলেন-ওগো আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমি যদি লাইলাতুল ক্বদর পাই তখন কী করব ? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহাকে  জানিয়ে দেন, তুমি তখন বলবে, اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي  উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউবুন কারীম তুহিব্বুল আ’ফওয়া-ফা’ফু আন্নী।

অনুবাদঃ হে আল্লাহ ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল,ক্ষমা করে দিতেই আপনি ভালোবাসেন অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। তিরমিযি, ইবনে মাজাহ

কেউ যদি পার্থিব জীবনে অনেক কিছু পেয়ে যায় কিন্তু ক্ষমা না পায়, তাহলে তার জীবন ব্যর্থ। তাই এ রাতের সন্ধানে অন্তরকে নরম করে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়ার পূর্বে প্রিয় নবীকে অনুসরণ ও অনুকরণ এর মাধ্যমে তার প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা রেখে খাঁটি দিলে তওবা ইস্তেগফার করা জরুরী। খাঁটি তওবার চারটি শর্ত:

  • পূর্বের গুনাহ থেকে ফিরে আসার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।
  • অতীতের সকল গুনাহর জন্য মনে মনে অনুতপ্ত হতে হবে।
  • ভবিষ্যতে ওই গুনাহ আর করবো না বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
  • বান্দার হক নষ্ট করে থাকলে যথাসাধ্য আদায় করে দিতে হবে।

আল্লাহ সুবহা’নাহু তাআ’লা সবাইকে যথাযথভাবে রাতটি তালাশ করে লাইলাতুল কদরের যথাযথ সম্মান আদায়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহর ক্ষমা ও প্রিয় নবীর ভালোবাসা আদায়ের তৌফিক দান করেন। আমিন,বেহুরমাতে সায়্যিদুল মুরসালিন। লেখকঃ আনিছুল ইসলাম আশরাফী

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc