Saturday 30th of May 2020 02:26:21 PM

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকদপা উত্তেজিত জনতার ভয়াবহ সংঘর্ষ থেকে পুলিশের উপস্থিতিতে বেঁচে গেলো দু’টি গ্রামের অগণিত মানুষ। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ২নং ভুনবীর ইউনিয়ন এলাকার সরকারবাজারএলাকায়  আজ শুক্রবার (১৫ মে) রাত্র ৮ টায় আলিশারকুল গ্রামের গিয়াস মিয়া ও জামাল মিয়ার সাথে রাজপাড়া দুদু মিয়া বালু মহালদারের বালু পরিবহণের ট্রাক নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঠেলা ধাক্কা ও কিল-ঘুষির মত ঘটনা ঘটে।

উক্ত ঘটনা মীমাংসা করতে গিয়ে স্থানীয় মুরুব্বি মুসাব্বির মিয়া নামের একজনের মাথায় আঘাত লেগে ফেটে গিয়ে আহত হয়।
মুরুব্বি মুসাব্বিরের আহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলিশারকুল গ্রাম এবং রাজপাড়ার বাদে-আলিশারকুল গ্রামের মধ্যে আবার উত্তেজনা বিরাজ করে। উত্তেজনার সংবাদ পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে সৃষ্ট ঘটনা স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মুরুব্বিরা একমত হয় এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে থানায় ফিরে আসে।

পরবর্তীতে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ন’টার দিকে আলিশারকুল গ্রামের মোঃ জালাল মিয়া (বর্তমান মেম্বার) ৬নং ওয়ার্ড ২নং ভুনবীর ইউপি এবং অপরপক্ষ রাজপাড়া ও বাদে-আলিশারকুল গ্রামের আহাদ মিয়া (বর্তমান মেম্বার) ৫নং ওয়ার্ড ২নং ভুনবীর ইউপিঁর এই দুইজনের মধ্যে টেলিফোনে হুমকি ধামকির জের ধরে উভয় পক্ষের হাজারো উত্তেজিত গ্রামবাসী দেশিয় অস্ত্রসস্র নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে।

দুই দল গ্রামবাসীর আবারও উত্তেজনার সংবাদ থানায় পৌঁছালে সার্কেল এএসপি আশরাফুজ্জামান এর নির্দেশে ওসি আব্দুস ছালেক এর নেতৃত্বে এবং তদন্ত ওসি সোহেল রানার উপস্থিতিতে পুলিশের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এতে সম্ভাব্য দাঙ্গাকারিরা কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পরে । পরে পুলিশ ও স্থানীয় মুরুব্বিগন কর্তৃক সমাধানের আশ্বাস দিলে জালাল মিয়া মেম্বারের লোকেরা দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়ীতে ফিরে যান।

অপরদিকে রাজপাড়া গ্রামের আহাদ মেম্বারসহ তাদের গ্রামের  মুরুব্বিদের সাথে সার্কেল এএসপি আশরাফুজ্জামান এবং ওসি আব্দুস ছালেকসহ উভয় পক্ষের ২০ জনকে নিয়ে সৃষ্ট ঘটনার সমাধানের সিদ্ধান্ত হয়।

এ ব্যাপারে সার্কেল এএসপি আশরাফুজ্জামান এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন,”দুই দল গ্রাম বাসীর উত্তেজনার সংবাদ পেয়ে ওসি আব্দুস ছালেক ও শ্রীমঙ্গল থানার বেশ কয়েকজন এস আই এবং পুলিশসদস্যসহ এসপি স্যারের নির্দেশে দাঙ্গা পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনা স্থলে দ্রুত পৌঁছে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে উত্তেজনাকর পরিবেশ শান্ত করে মীমাংসার সিদ্ধান্ত হচ্ছে।

আমার সিলেট ডেস্কঃ  নভেল করোনাভাইরাস-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ এ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

আনিসুজ্জামানের ছেলে আনন্দ জামান রাতে তার বাবার শরীরে করোনার সংক্রমণ ছিল বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সকালে বাবার নমুনা নেওয়া হয়। বিকালে মৃত্যুর পর আবারও নমুনা নেওয়া হয়। রাতে জেনেছি তার রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে।

গত ২৭ এপ্রিল হৃদরোগ সমস্যার পাশাপাশি কিডনি ও ফুসফুসে জটিলতা, পারকিনসন্স, প্রোস্টেটের সমস্যা ও রক্তে সংক্রমণের সমস্যা নিয়ে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে রাজধানীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে গত শনিবার অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার সেখানেই মারা যান তিনি। ড. আনিসুজ্জামানের বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

কিছু মানুষ নিজের কর্ম ও পরিচয়ের গুণে ধীরে ধীরে একটি জাতির জন্য মহিরুহসম আকার ধারণ করেন। জাতির বাতিঘর, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তেমনই একজন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠেন।

এই বাতিঘর তাই সর্বজনমান্য ‘স্যার’ হিসেবেই পরিচিত ও গণ্য ছিলেন। তিনি একাধারে বরেণ্য শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক, ভাষাসংগ্রামী, মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী, সংবিধানের অনুবাদক, স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রবর্তী মানুষ।

দেশ ও মানুষের যে কোনো বিপর্যয়ে তিনি অতন্দ্র বাতিঘরের মতো যুক্তিনিষ্ঠ, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে নিরাবেগ মতামত ও দিকনির্দেশ প্রদান করেছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এটিএম মোয়াজ্জেম ও মা সৈয়দা খাতুন। বাবা ছিলেন বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক আর মা গৃহিণী হলেও সাহিত্যের প্রতি ছিল তার আন্তরিক ভালোবাসা। আনিসুজ্জামানের পিতামহ শেখ আবদুর রহিম ছিলেন তার সময়ের একজন বরেণ্য লেখক ও সাংবাদিক। ভারত ভাগের পর তার পরিবার এপার বাংলায় চলে আসে।

অধ্যাপাক আনিসুজ্জামান ছয় দশকেরও বেশি সময় শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন তিনি। ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনসহ পরবর্তী প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। এছাড়া ধর্মান্ধতা ও মৌলবাদবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডে সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব আনিসুজ্জামানের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।

সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড. আনিসুজ্জামান ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ১৯৮৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি। জীবনজুড়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আরও পেয়েছেন অলক্ত পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার।
এ ছাড়াও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত হয়েছেন। ড. আনিসুজ্জামান ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ও লাভ করেন।

শুধু হাঁচি-কাশি নয়, কথা বলার ক্ষেত্রেও সতর্ক হতে হবে। কারণ নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির কথা থেকে আসা জলীয় কণার মাধ্যমে আরেকজনের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির বা পিএনএএস’র জার্নালে প্রকাশিত এ সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল (বুধবার) গবেষণা–বিষয়ক এ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।

এ নিয়ে একাধিক গবেষণায় কথা বলার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর বিষয়টি প্রমাণিত হলো। এর ফলে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মার্কিন গবেষকদের নতুন এইগবেষণায় দেখা গেছে,উচ্চস্বরে কথা বলার সময় মুখ থেকে বের হওয়া অতি ক্ষুদ্র জলীয় কণা বা মাইক্রোড্রপলেটস বদ্ধ স্থানে ১০ মিনিটেরও বেশি সময় বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

লালার মধ্যে করোনাভাইরাসের ঘনত্বকে মাথায় নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন যে, প্রতি মিনিট উচ্চস্বরে কথা বলার ফলে এক হাজারেরও বেশি ভাইরাসযুক্ত জলীয় কণা বের হতে পারে। একটি বদ্ধ স্থানে তা আট মিনিট বা তার বেশি সময় ধরে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে।

এর আগে এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আস্তে কথা বললে মুখ থেকে জলীয় কণা তুলনামূলকভাবে কম বের হয়। কথা বলার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর বিষয়টি গবেষণায় প্রমাণিত হওয়ায় মাস্ক পরার গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।পার্সটুডে

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ  করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে কর্মরত সাংবাদিকদের পিপিই
 ও ডাক্তারদের ফেইস শিল্ড দিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জী।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম,সহ সভাপতি বাবরুল হাসান বাবলু,সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন শাহ,আবির হাসানসহ কয়েক জন সাংবাদিকদের পিপিই ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আর এম ও ডাঃ সুমন চন্দ বর্মনের হাতে ফেইস শিল্ড তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জী বলেন,করোনায় পেশাগত দায়িত্ব-পালনকালে অনেকে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মৃত্যুও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা উপজেলা পরিষদের সহযোতিায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে সুরক্ষা পোশাক এবং পাশাপাশি ডাক্তারদেরকেও ফেইস শিল্ড প্রদান করেছি যেন তাঁরা সুস্থ-স্বাভাবিক ভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc