Saturday 30th of May 2020 03:01:40 PM

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  শ্রীমঙ্গল উপজেলার মৌলভীবাজার রোডস্থ মহাসড়কে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় লামুয়া এলাকায় আজ বুধবার সোয়া দুইটার দিকে ঘটনাস্থলসহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিতাই পদ দাস হাজরার ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। অপর দিকে হাসপাতালে অজ্ঞাত এক ব্যাক্তি ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী পাঞ্জাবি পরিহিত নিহত সম্ভবত মাদ্রাসা ছাত্রের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলে জানা গেছে।

মৌলভীবাজার সদর থানার সুত্রে জানা গেছে “এখন পর্যন্ত তাহার কোনো পরিচয় পাওয়া যায় নাই ও তাহাকে সনাক্ত করা সম্ভব হয় নাই। যদি কেহ উক্ত ব্যক্তির সন্ধান বা তাহার নাম ঠিকানা পরিচয় পান তাহলে মৌলভীবাজার মডেল থানাকে অবহিত করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করা হইল।”

সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়, মৌলভীবাজারগামী একটি চাউল বোঝাই পিকআপ  ( যার নং-  ঢাকা মেট্রো-ন ১৫-৪৪৬৯) অপরদিক দিক থেকে আসা  শ্রীমঙ্গলগামী  সিএনজি নং (মৌলভীবাজার-থ ১১৪৪২৬) কে ধাক্কা দিলে ধূমরে মুচড়ে যাওয়া সিএনজিতে থাকা ৫ জনের এক জন ঘটনা স্থলেই নিহত হয়। অপর দুইজন গুরুতরসহ আরও দুই জন আহত হয়। গুরুতর আহত দুইজনকে নিয়ে স্থানীয়রা মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের একজনকেও (অজ্ঞাত ১৮/২০) মৃত বলে জানান এবং অপর জনকে সিলেটে প্রেরণ করা হয় তার নাম রুমেল। এ নিয়ে এই ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনায় নিহতের ব্যাপারে এস আই আসাদুর রহমান বলেন আমরা একটি আইডি কার্ড পেয়েছি যাতে নাম লেখা আছে “নিতাই পদ দাস হাজরা (৩০) বাড়ি মৌলভীবাজারের সাতাইল।” তবে এটি কি নিহতের আইডি কার্ড নাকি অন্যজনের একেবারে কনফার্ম করা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উল্লেখিত পিকাপটি দুর্ঘটনার স্বীকার সিএনজিকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় ১০০ ফুট দূরে গিয়ে রাস্তার পাশে থাকা গাছের সাথে আবারো ধাক্কা লেগে আটকে যায়। স্থানীয়রা বলছে চালক সম্ভবত মধ্যপ ছিল যে কারণে বেপরোয়া গতিতে  গাড়িটি চালাচ্ছিল।  ঘটনার সংবাদ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করতে আসা শ্রীমঙ্গল থানার এসআই আসাদুর রহমান এবং পরবর্তিতে আসা এস আই মুখলেসুর রহমানসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে  দুর্ঘটনাকারী পিকাপটিও এর মধ্যে থাকা চাউলের বস্তা অপর একটি পিকাপে জব্দ করে শ্রীমঙ্গল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এসময় ৫ নং কালাপুর ইউপির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি আনিসুল ইসলাম আশরাফী ও উপস্থিত ছিলেন।  দুর্ঘটনাকারি পিকাপের কাউকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুছ ছালিক আমার সিলেটকে জানান, আমরা ঘটনা স্থল থেকে একটি মৃত দেহসহ আলামত উদ্ধার করেছি পরবর্তিতে এই ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুর্বের সংবাদের লিঙ্ক টি দেখুন

শ্রীমঙ্গলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-২,গুরুতরসহ আহত-৩

নড়াইল প্রতিনিধিঃ  নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ছায়মনারচর গ্রামে রহিমা বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। নিহত রহিমা বেগম ওই গ্রামের আলী আকবরের স্ত্রী। মঙ্গলবার (১০ মে) গভীর রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের স্বামী। এ ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিন্টু নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ছায়মনারচর গ্রামের মুসা মেম্বর পক্ষ ও বুলবুল মাষ্টার পক্ষের মধ্যে অনেকদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল। করোনার প্রকোপে কাজ হারিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা বুলবুল মাষ্টার পক্ষের লোকজন গ্রামে ফিরে আসার পর সোমবার রাতে প্রতিপক্ষের বাড়ি ভাংচুর করে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিলো। এর জের ধরে মঙ্গলবার গভীর রাতে মুসা মেম্বরের পক্ষের লোকজন বুলবুল মাষ্টারের পক্ষের আলী আকবরের বাড়িতে চড়াও হয়ে রহিমা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করে।
লোহাগড়া থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিহত রহিমা বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদও হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ এ ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিন্টু নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মিনহাজ তানভীর,নিজস্ব প্রধিনিধিঃ  শ্রীমঙ্গল উপজেলার মৌলভীবাজার রোডস্থ লামুয়া এলাকায় আজ বুধবার সোয়া দুইটার দিকে ঘটনাস্থলসহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতরসহ আরও তিন জন আহত হয়েছে এর একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

জানা যায় মৌলভীবাজারগামী একটি চাউল বোঝাই পিকআপ  ( যার নং-  ঢাকা মেট্রো-ন ১৫-৪৪৬৯) অপরদিক দিক থেকে আসা  শ্রীমঙ্গলগামী  সিএনজি নং (মৌলভীবাজার-থ ১১৪৪২৬) কে ধাক্কা দিলে ধূমরে মুচড়ে যাওয়া সিএনজিতে থাকা ৫ জনের এক জন ঘটনা স্থলেই নিহত হয়। অপর দুইজন গুরুতরসহ আরও দুই জন আহত হয়। গুরুতর আহত দুইজনকে নিয়ে স্থানীয়রা মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের একজনকেও মৃত বলে জানান এবং অপর জনকে সিলেটে প্রেরণ করা হয়। এ নিয়ে এই ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছে।

পাঞ্জাবি পড়া ছেলেটি (১৮) হাসপাতালে গিয়ে মারা গেছে ঠিকানা পাওয়া যায়নি। 

দুর্ঘটনায় নিহতের ব্যাপারে এস আই আসাদুর রহমান বলেন আমরা একটি আইডি কার্ড পেয়েছি যাতে নাম লেখা আছে “নিতাই পদ দাস হাজরা (৩০) বাড়ি মৌলভীবাজারের সাতাইল।” তবে এটি কি নিহতের আইডি কার্ড নাকি অন্যজনের একেবারে কনফার্ম করা যাচ্ছে না।অপরদিকে হাসপাতালে একজন মারা গেছে বলে শুনেছি তার বয়স ১৭/১৮ হতে পারে। কারো নাম ঠিকানা এখনো জানা যায়নি তবে  কার্ডধারীর লোক জন আসলে বলা যাবে । অপর দিকে সাধারণ আহতদের শ্রীমঙ্গল কালীঘাট রোডস্থ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।স্থানীয়রা অভিযোগ করে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দিলেও আধা ঘণ্টা পর ঘটনা স্থলে এসে পৌছায়।

ঘাতক চালক পিকাপটি গাছে আটকে দিয়ে পালিয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উল্লেখিত পিকাপটি দুর্ঘটনার স্বীকার সিএনজিকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় ১০০ ফুট দূরে গিয়ে রাস্তার পাশে থাকা গাছের সাথে আবারো ধাক্কা লেগে আটকে যায়। স্থানীয়রা বলছে চালক সম্ভবত মধ্যপ ছিল যে কারণে বেপরোয়া গতিতে  গাড়িটি চালাচ্ছিল।  ঘটনার সংবাদ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করতে আসা শ্রীমঙ্গল থানার এসআই আসাদুর রহমান এবং পরবর্তিতে আসা এস আই মুখলেসুর রহমানসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে  দুর্ঘটনাকারী পিকাপটিও এর মধ্যে থাকা চাউলের বস্তা অপর একটি পিকাপে জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ধূমরে মুচড়ে যাওয়া সিএনজিটি ।

এসময় ৫ নং কালাপুর ইউপির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি আনিসুল ইসলাম আশরাফী ও উপস্থিত ছিলেন।  দুর্ঘটনাকারি পিকাপের কাউকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুছ ছালিক আমার সিলেটকে জানান, আমরা ঘটনা স্থল থেকে একটি মৃত দেহসহ আলামত উদ্ধার করেছি পরবর্তিতে এই ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপডেট নিউজ।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত ‘র‌্যাপিড ডট ব্লট’ নামের করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য ২০০টি নমুনা চেয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। পাশাপাশি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য খরচ বাবদ চার লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে বলেছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।

আজ (মঙ্গলবার) বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছে বলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানিয়েছেন, গণস্বাস্থ্যকে বিএসএমএমইউ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর ফলে কিট পরীক্ষায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

পরে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমরা খুশি, বিলম্বে হলেও বিএসএমএমইউর কাছ থেকে আজকে চিঠি পেয়েছি। আমরা আগামীকাল সকালেই পরীক্ষার জন্য অর্থ জমা দিয়ে নমুনা তাদের কাছে দেবো।”

৩০ এপ্রিল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গণস্বাস্থ্যকে তাদের উদ্ভাবিত কিটের নমুনার কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ অথবা আইসিডিডিআরবিতে জমা দেওয়ার অনুমতি দেয়। নানা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে ১২ দিনেও কোনো জবাব না আসায় সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে

বিশ্বমহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর পরই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে একদল গবেষক কোভিড-১৯ শনাক্ত করতে ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট’ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। গবেষক দলের অন্যরা হলেন- ড. ফিরোজ আহমেদ, ড. নিহাদ আদনান, ড. মো. রাইদ জমিরুদ্দিন ও ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার।

‘র‌্যাপিড ডট ব্লট’ নামের এই পদ্ধতিতে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।পার্সটুডে

কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৪ – ১৯০৭) ছিলেন বাঙালি জগতে এক স্বনামধন্য কবি।যার রেখে যাওয়া সোনালি অক্ষরে লিখিত কবিতার কিছু অংশ শত বৎসর পরেও আমাদের প্রেরণা যোগায়। এই প্রেরণার প্রতিফলন যেন ফুটিয়ে তুলেছেন এক মানব প্রেমী কবি শ্রীমঙ্গল র‍্যাব-৯ ক্যাম্পে কর্মরত খাগড়াছড়ি জেলার কৃতি সন্তান এএসপি আনোয়ার হোসেন শামিম। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের ভাষায়-

“ চিরসুখীজন ভ্রমে কি কখন
ব্যথিতবেদন বুঝিতে পারে।
কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে
কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে ” 

সরকারী একজন কর্মকর্তা হিসেবে দেশের জনগণের সুখ-দুঃখ বুঝার শক্তি তার নিম্নের লেখার মাঝে ফুটে উঠেছে। তিনি ব্যথিতদের ব্যথা বুঝতে সক্ষম কতটা তা তার নিজের ভাষায় লেখা একটি স্ট্যাটাসই সচেতন পাঠকদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে নেটিজেনরা বিশ্বাস করে।নিম্নে স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

“ধ্বংসস্তূপবাসী পরিবার এবং একটি ‘বাংলাদেশ কুটির’এর গল্প”

“২৫ এপ্রিল মধ্যরাত। স্ত্রী ও তিন শিশুসন্তান নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন আব্দুল কাদির। হঠাৎ কালবৈশাখীর ঝড় এসে পুরো ঘরটিকে নিমিষেই মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। সপরিবারে ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকা পড়ে যান কাদির। প্রতিবেশিরা ছুটে এসে বিধ্বস্ত ঘরের এক কোন উঁচু করে ধরে তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। কি, ভাবছেন পরিবারটির দুর্দশার এখানেই ইতি? ভুল। অভাগা কাদিরের জন্য এ ছিলো কলির সন্ধ্যা মাত্র।

শ্রীমঙ্গলের পুরানগাও গ্রামের বাসিন্দা কাদির পেশায় দিনমজুর। করোনা পরিস্থিতির কারনে কাজকর্ম না থাকায় হাতও একদম ফাঁকা। কিন্তু যত যাই হোক, ঘর বিধ্বস্ত হবার পর এখন মাথাগোঁজার ঠাঁই তো লাগবে। স্ত্রী সন্তানের মুখে দুমুঠো ডালভাত তুলে দেওয়াই যেখানে দায়, সেখানে নতুন করে ঘর তৈরির বিষয়টা কাদিরের জন্য চিন্তারও অতীত। অগত্যা আত্মীয়স্বজন, পাড়াপড়শিদের কাছে আশ্রয় সন্ধান। কিন্তু লাভ নেই। এই করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের দিনে বাড়িতে কোন অতিথি দেখতে নারাজ সবাই। সব চেষ্টা বিফল হওয়ায়, একে একে সব দুয়ার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে পরিবার সমেত ফের এই বিধ্বস্ত কাঠামোর মধ্যেই এসে ঢোকেন নিরুপায় কাদির। আগের রাতে যেই জীবন বাঁচাতে ধ্বংসস্তুপ থেকে বের হয়ে এসেছিলেন, পরদিন সেই জীবনের তাগিদেই ফের সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিতে হলো। হায় নিষ্ঠুর করোনার দিন, হায় মানবতা!!!

সেই থেকে এখন ( ১২ মে) পর্যন্ত প্রায় ১৮টি দিন স্ত্রী সন্তানসহ এই ধ্বংসস্তুপের ফাঁকফোকরেই জীবন হাতে নিয়ে তার বসবাস। কখনো বৃষ্টির পানি রাতের ঘুমে বাগড়া দিয়েছে, কখনো সাপ- বিষাক্ত পোকামাকড় চলে এসেছে রাতের ঘুমের সঙ্গী হতে, অনন্যোপায়, অসহায় কাদির সেখানেই মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন, পড়ে থাকতেই হয়। এর মধ্যেই একদিন প্রসব বেদনা ওঠে কাদিরের সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর। মড়ার ওপর খাড়ার ঘা আর কি। এখন কি করা। এই ঘরে নবজাতক জন্ম দেওয়া আর তাকে গলা টিপে নিজ হাতে মেরে ফেলা সমান কথা। বাধ্য হয়ে কাদির নির্লজ্জের মতো সেই ফিরিয়ে দেওয়া প্রতিবেশিদের দ্বারস্থ হন আবারো। অনেক চেষ্টা তদবিরের পর এক প্রতিবেশী শুধু স্ত্রীকে থাকার জায়গা দিতে সম্মত হন। আর কাদির তার তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে পড়ে থাকেন আগেরই ঠিকানাতেই।

গতকাল বিকেলে সিভিল পোশাকে ঘুরেঘুরে এলাকার কোয়ারেন্টাইন ও সামাজিক দূরত্ব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখছিলাম। তখনই হঠাৎ ঘর(!!)টি নজরে আসে আমার। প্রথম দেখায় মনে হবে পরিত্যক্ত কোন জঞ্জাল। কাছে গিয়ে কয়েকটি বাচ্চাকে ভেতর থেকে উঁকি দিতে দেখে অবাক না হয়ে পারিনি। এরা এই বিপদসংকুল জায়গায় কি করে!!! জঞ্জালটির সামনে যেতেই ভেতর থেকে এক প্রকার হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়ে আসেন চল্লিশোর্ধ্ব আব্দুল কাদির। শোনালেন তার দুর্ভাগ্যের ইতিকথা। কৌতূহলবশতঃ আমিও একটু ঢুকেছিলাম (অবশ্যই হামাগুড়ি দিয়ে) জঞ্জালের স্তুপটির মধ্যে। দুই মিনিটেই নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসাতে দ্রুত বেরিয়ে এলাম। না, কোন মানুষের পক্ষে একদিনও এই জায়গায় থাকা সম্ভব নয়। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়, কাদিরের তিন শিশু সন্তান সুমাইয়া(৯), নাহিদ(৭) ও সামিয়া(৪); যাদের এখন কেবল খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকার কথা, তার বদলে তারা সারাক্ষণ শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। সর্বনাশা কালবোশেখী যেভাবে তাদের ঘরটিকে মুহূর্তে দুমড়েমুচড়ে দিয়েছিল, জঞ্জালের মধ্যে এই দীর্ঘ জীবন শিশুগুলোর মনোজগতকেও কি প্রতিনিয়ত একইভাবে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে চলেছে!!!

আমি ও আমাদের শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্প পরিবার কাদিরের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আমার নিজের ১০ হাজার টাকার সাথে ক্যাম্পের অন্যান্য সদস্যদের স্বেচ্ছায় দেওয়া ২ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ১২ হাজার টাকা সন্ধ্যার আগেই কাদিরের হাতে তুলে দিয়ে আসি। ঘর নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা হয়ে যাক। প্রতিবেশিদেরকেও সাধ্যমতো পাশে দাড়ানোর অনুরোধ করে এসেছিলাম। কিছুক্ষণ আগে আজ আবার গিয়ে দেখি, এর মধ্যে নির্মানকাজ শুরু হয়ে গেছে। নির্মানে যুক্ত শ্রমিকেরা কোন টাকা নেবেন না বলে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিবেশী অনেকেই বিভিন্ন নির্মানসামগ্রী দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। যারাই কাদিরকে বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়েছেন, তাদেরকে আমি ১০ কেজি করে চালসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের প্যাকেট উপহার হিসেবে দিয়ে এসেছি।
এছাড়াও কর্মহীন কাদিরের পরিবারকে কিনে দিয়ে এসেছি ৫০ কেজি চালসহ পরিমাণমতো ডাল, সেমাই, চিনি, আলু, তেল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী। আপাতত কিছুদিন পরিবারটা খাবারের টেনশন থেকে মুক্ত থাকুক। আরেকটি কাজ করে এসেছি- কাদিরের ঘরটির নামকরণ। কাজ সম্পন্ন হবার পর এই ঘরের নাম হবে ‘ বাংলাদেশ কুটির’। বিপদের মুহূর্তে আমরাসহ তার অন্যান্য প্রতিবেশীদের সহায়তায়ই এই ঘরের নির্মাণ। আর পরস্পরের প্রতি এই সহমর্মিতাই আবহমান বাংলার চিরায়ত রূপ। এই নামকরণের পেছনের কারন এটাই।

আশা করি, দুয়েক দিনের মধ্যেই ধ্বংসস্তুপের উপর সগর্বে মাথা তুলবে আব্দুল কাদিরের ‘বাংলাদেশ কুটির’। দুঃস্বপ্নের প্রহর পেরিয়ে ঘরের মেঝেতে আবার নানারকম খেলায় মেতে উঠবে খুদে সুমাইয়া, নাহিদেরা। সকলের নিকট অনুরোধ- এই করোনার দিনে আপনাদের নিজ নিজ এলাকাতেও একটু খোঁজখবর রাখুন। সেখানেও আছে কি কোন আব্দুল কাদির পরিবার? করোনার এই বৈশ্বিক মহামারির দিনে কাজ হারিয়ে অর্থাভাবে এমন ভয়াবহ দুর্দশায় পতিত আছেন যারা, প্লিজ তাদের পাশে দাঁড়ান।” 

কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে প্রায় আড়াই’শতের অধিক কমেন্ট থেকে একটি কমেন্ট নিম্নে উল্লেখ করছি, তিনি বলেন  NaZmuL HaSaN LinKoN আমাদের ডিফেন্সে এমন কোনো বাহিনী আছে যানা ছিল না।।।।। এমন একটা কারণে আমার ইচ্ছে ছিল আর্মিতে যাওয়ার কিন্তু বাগ্যে জুটে নায়। কিন্তু আমার এমন বাহিনীর জন্য আমার কিছু বলার থাকে না। আমার এমন আরও অনেক এমন কিছু কথা শুনে বাহিনীতে যোগদানে অনুপ্রাণিত হবে ইনশাল্লাহ।।।।। হয়ত এটার ফল আপনি এহন না ও পেতে পারেন? কিন্তু এটার আনন্দ সব কিছুর থেকে বেশি।
বাহিনী যোগদানের মানে এটা না যে আপনি আপনার ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য যোগদান করবেন। 

নজরুল ইসলাম তোফা:  আমাদের এ সমাজকাঠামোর নানান দিক বদলায়, নানান বাঁক আর উথাল পাথালকে ছুঁয়েও যেতে হয়। এইজীবনটাকে খুব সুন্দর করতে হলে সৌন্দর্যের নিদর্শন হিসেবে লেখালেখি শিল্পটাকেই মানব জীবনের বিশিষ্ট স্থানে আসন না দেওয়াটা বোকামি। কে বা কারে সেই যোগ্য স্থানটা করে দিবে। যে যার- নিজের স্বার্থেই ব্যস্ত। হুমায়ূন আজাদের একটি উক্তি মনে পড়ে, ”যতো দিন মানুষ অ-সৎ থাকে, ততো দিন তার কোনোই শত্রু থাকে না, কিন্তু- যেই সে সৎ হয়ে উঠে, ঠিক তখনই তার শত্রুর অভাব থাকে না।” অ-মানুষ কি সৎ মানুষকে দিনেদিনেই শত্রুর কাতারে ফেলছে। এতো দিন ধরে বহু গণমাধ্যমের বহু লোকদের নিকটে- “ভালো লাগা কিংবা ভালোবাসার কথা অনেক শুনেছি। বহু স্মৃতিকথা গুলো বারবারই যেন লেখালেখির মাঝে উৎসাহ যোগায়। সেই মানুষরাই যখন অতীত স্মৃতিকথা গুলোকে ভুলে বিভিন্ন নেতিবাচক কথা শুনায়, বহুত খারাপ লাগে। লেখালেখি করলেই কি, তাদের কাছ থেকে এই ধরনের নেতিবাচক কথা গুলো শুনতেই হয়ে। কোনো মানুষের নিকটে কিছু চাওয়ার থাকে না। তবুও আঘাত পেতে হবে। উইলিয়াম শেক্সপিয়র বলেন, ”আমি সবসময় নিজেকে সুখী ভাবি, কারণ আমি কখনো কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করিনা, কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করাটা সবসময়ই যে দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়”। এই উক্তির সঙ্গে এজীবনের কিছুটা হলেও মিলে যায়। কিন্তু অমানুষরা কি করেই বুঝে, সুখী মানুষের সুখ যে কোনো উপায়ে নষ্ট করতে হবে। সুতরাং এমন পরিবর্তনশীল মানুষের চরিত্রগুলো আজকে খুবই ভাবায়, বড়ই অবাক করে। বেশকিছু অমানুষ কৌশলেই ফেসবুকের ইনবক্সে ইদানিং নেতিবাচক বহু শব্দ শুনায়, আমি তাদেরকে ডব্লিউ জি নেহাম এর উক্তির সঙ্গে এক মত পোষণ করেই বলি, ‘আমি জ্ঞানী নই, কিন্তু ভাগ্যবান কাজেই আমি সর্বতোভাবে সুখী।
অনেকটা গাছে উঠলে চারপাশ যেইরকম রঙ্গিলা লাগে, ঠিক সেরকম লেখা লেখির জগৎটা ভীষণ রঙ্গিলা মনে হয়, অবশ্যই তা অনেক আগের কথা। কিন্তু- এখন আর রঙিন লাগে না, বর্তমানে মনের গহীনে এক বিষাক্ততার রক্তিম ছোবলে সাঁতার কাটতে হয়। এখন হতাশায় বেশ বড়সড় দীর্শশ্বাস ফেলি। দুনিয়া জুড়েই কি গণ মাধ্যমের মাঝেই বিষাক্ত বাতাস ছড়িয়ে বেড়ায়। এমন গণ মাধ্যম ও মিডিয়া জগৎটাকে কেউ কি কখনো উপলব্ধি করতে পারে না, ভালো লেখক না হলে কোনোকিছুই সৃষ্টি হতো না। এই কথাটিকে বোঝার মতো চেতনা কি কারো নেই। কতো দিন আর সহ্য করে যাবে ভালো মানুষ। মারিয়াক তাঁর এক উক্তিতে বলেছেন,- ‘বলির পাঠারা সব সময়েই ধারন করেছে মানুষের- অত্যাচার, দুর্নীতি আর খুব কষ্ট করার হিংস্র প্রবণতাকে মুক্তি দেয়ার রহস্যময় ক্ষমতা।’ ভালো মানুষের যেন নিজস্ব কর্মে বাধা, সৃজনশীলতাকে সঠিকভাবে ভালো মর্যাদা পূর্ণ জায়গা থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের একটা কথা বিশ্বাস করতে হবে গণমাধ্যম কিংবা মিডিয়া জগতে ভালো মানুষের অভাব। আজ তাঁরা যদি ভালো থেকেছে কালই সব কিছুকে ভুলে চোখ পাল্টিয়ে ফেলেছে। লেখকেরা আজকের দিনে সে সব মানুষদের কাছে অবহেলিত। এমন কথা গুলো লিখতে এবং টাইপ করতে চাইনি কিন্তু বাধ্য করেছে বেশ কিছু গণমাধ্যমের মানুষ। এই অঙ্গনের এমন হীনচরিত্রের মানুষ যে আছে, তারা এতোটা কুৎসিৎ মনের অধিকারী, আজকে গভীর কষ্টে যেন বারবার ভাবিয়ে তুলে। লেখকরাই তো তাদের অলংকার হওয়া উচিত, তাদের স্ব স্ব জায়গাতে প্রতিটা লেখকের মনের কথা সহ নান্দনিকতার সুন্দর রুপ ফুটে ওঠে। তাদের নিকট লেখকসমাজের জীবন কি পুরাটাই বৃথা হয়ে যাবে, গলা ফাটায়ে সমালোচনা করবে আবার সেই লেখকদের নামে বদনাম করবে। কেউ আবার সেই লেখকের নাম পরিচয় বাদ দিয়েই লেখকদের নান্দনিক লেখাটাকে তাঁরা নিজ পত্রিকা কিংবা অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশ করবে। এটা খুবই দুঃখ জনক ব্যাপার, তখন কষ্ট রাখার জায়গা থেকে না।
আসলে এই লেখালেখি মানুষের সহজাত ধর্ম। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে এমন ভাবেই তৈরি করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন যে, তাদের প্রকাশের একটা নিজস্ব ভঙ্গি থাকে। কেউবা তাকে বক্তব্যের মধ্যে ভালো প্রকাশ করে, কেউ বা লেখা লেখির মাধ্যমেই প্রকাশ করে থাকে। আবার কেউ কেউ নাচ, সাজ গোজ, আর্ট কিংবা চিত্রাঙ্কন এবং অভিনয়ের মাধ্যমেই প্রকাশ ভঙ্গি দেখিয়ে থাকে। কেউ লিখে প্রকাশ করলে তাকে ‘অনেক ছোট’ করেই দেখা হবে কেন? যদি এলেখালেখিটা মানুষের প্রকাশের সবচেয়ে বড় ধর্ম হয়ে থাকে, তবুও সবাই লিখতে পারে না। এটি অবশ্য একটি অনন্য গুণ, যা চর্চা করতে হয়। আপাতত সৃষ্টিতে লেখা- লেখিকে বিশ্বাসের ভিত্তিভূমি বানিয়েই বুকের মধ্যে যেন আগলে রেখেছিলাম, তা আজ কেমন যেন আলগা হয়ে গেলো। কি করে পৌঁছে গেলাম- এই পচনশীল সমাজের অসৎ মানুষের কাছে, আজ শুধু মাত্রই তাদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে নির্বোধ থাকতে হয়। সমস্ত আবেগকে যেন নিরাশ্রয় করা একজন শূন্যতাবোধের মানুষ আমি। তবে এখন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই না, সময় ও সুযোগ পেলে লিখনিতেই তাদের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। যা অসুন্দর, যা কদর্য, যা কুৎসিৎ, যা কদাকার সে সবকে কোনো-না-কোনো উপায়ে জীবন থেকে তাড়াতে হবে। খুব সত্য যেমন বাঞ্ছনীয় জীবনের অপরিহার্য এক অঙ্গ, শ্রেয় যেমন বাঞ্ছনীয় এ জীবনের অপরিহার্য একটি অঙ্গ, সুন্দরও তেমনি সেই বাঞ্ছনীয় জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ। কিছু মানুষ, মানুষকেই চিনছে না। মানুষের মধ্যেই সত্য, সুন্দর বা মঙ্গল বোধের এতোই অভাব। ভালোটাও ভালো লাগে না। বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ আজকের এ দিনে হিংসায় লিপ্ত। নিন্দা করা ছাড়া যেন তাদের মগজ কাজ করেই না। সুতরাং উইলিয়াম শেক্সপিয়রের মতের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলা যায়,- ”তারাই সুখী যারা নিন্দা শুনে এবং নিজেদের সংশোধন করতে পারে”।
লেখকদের অসম্মানিত করবেন ইতিহাস বলে ঊনবিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম সাহিত্যিক রূপে খ্যাত ‘বিষাদ সিন্ধু’র অমর লেখক ‘মীর মশাররফ হোসেন’। তিনি সেই সময় যা কিছু লিখেছেন সেইটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। গদ্য, পদ্য, নাটক, উপন্যাসে মীর মশাররফ হোসেন প্রায় ৩৭টি গ্রন্থ রচনা করেছিল। তার গদ্যরীতিটা ছিল বিশুদ্ধ বাংলা, যা তদানীন্তনকালে কোনো বিখ্যাত হিন্দু কিংবা মুসলমান লেখকও লিখতে পারেননি। তাঁর প্রতি অনেক মানুষের জেলাসি ছিল। তিনি তো জমীদার দর্পণ নাটক লিখে তদানীন্তনকালে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকারের মর্যাদা লাভ করেছিল। কেউ তার মুক্ত চিন্তা চেতনা থেকে দুরে সরিয়ে রাখতে পারে নি। সুতরাং কারও কারও ক্ষেত্রেই লেখা লেখি এমনিতে আসে। কারও কারও ক্ষেত্রে প্রচুর পড়তে হয়। গুনাগুনেরা বলেছিলেন, এক লাইন লেখার আগে অন্তত ২০ লাইন পড়ে নাও। উল্লেখ যোগ্য আরও একটি কথা বিখ্যাত সাংবাদিক লেরি কিংকেই একবার একজন প্রশ্ন করেছিল, আপনার লেখা লেখি, প্রকাশনী কিংবা টিভি টক শোর প্রশ্ন এত শক্তিশালী কীভাবে হয়? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘লেখা বা বলার আগে পড়তে হবে। তাহলেই আপনার লেখনী শক্তিশালী হবে।’ এই যে প্রতিদিন আমরা বিভিন্ন কাজে অ-কাজে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে মিশি, তা লেখার জন্যেই খুব বড় সহায়ক উপাদান। তবে নিরন্তর সাধনাটা হচ্ছে একটি খুব ভালো লেখার পূর্বশর্ত। লেখক হয়ে ওঠার জন্যই প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। আর একাজে লেগে থাকতে হয় সদাসর্বদা। তবুও কিছু মানুষ পরিশ্রমী লেখকদের নাম পরিচয় বাদ দিয়েই তার নিজের ‘নাম কিংবা পরিচয়’ লাগিয়ে দিয়েই খুব সহজে লেখক খ্যাতি পেতে চান। একজন লেখকের সার্থকতাকে হরন করে বা তাঁর আদর্শের চিন্তা- চেতনায় আঘাত করে। আল ফারাবি বলেছেন, ‘বৃক্ষের সার্থকতা যেমন ফল ধারণে সেরকম নৈতিক গুনাবলীর সার্থকতা শান্তি লাভে। চরম এবং পরম শান্তি লাভের পথটা হচ্ছে- ক্রমাগত সৎ জীবন যাপন করা’। সুতরাং বলতেই হচ্ছে, সৎ মানুষের বড় অভাব, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ বলেছিলেন, -“এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না, শুধুই- সুখ চলে যায়”। তাই তো আজকের দিনে অমানুষদের জাঁতা কলে পিষ্ট হয়ে প্রকৃত এবং ভালো মানুষদের ভালোবাসা বা সুখ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। মরমি কবি ‘হাছন রাজা’ নিজস্ব জমিদারি ছেড়ে সুখের আশাতেই অজস্র গান ও কবিতা রচনা করেছেন। লোকমুখেই আজও শুনা যায়- ‘লোকে বলে বলে রে,…. ঘর বাড়ি ভালা নায় আমার,…. কী ঘর বানাইমু আমি,…… শূন্যের-ই মাঝার,….. ভালা করি ঘর বানাইয়া,… কয় দিন থাকমু আর,… আয়না দিয়া চাইয়া দেখি,…… পাকনা চুল আমার।’ জমিদারি ছাড়ার পরেই বৈরাগী ভাব নিয়ে ছিল যখন ঠিক তখন হাছন রাজাকে অনেকেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিল। কিন্তু তাঁর মরমি সেই অজস্র ‘গান বা কবিতা’ আজও মানুষের হৃদয়ে রয়েছে। মানুষের মনে দুঃখ থাকলে লেখার মধ্যে তেজ তৈরি হয় না। সুতরাং দুঃখের কাহিনি থাকলে প্রকাশটা শক্তিশালী হয়। হাছন রাজা তারই প্রমাণ।
দুনিয়াতে কতো লোকের যে জন্ম হয়েছে, কতো শাসক, রাজা চলে গেছে! দুনিয়া কাঁপিয়েছে অনেক বিশ্বনেতা। কিন্তু তারা দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছেন। সৃষ্টিশীল কর্মদ্বারা আজো যেন অনেকে বেঁচে আছে মানুষের মন মন্দিরে। বেঁচে থাকবেন আরও সহস্র বছর ধরে। ভাবনা অনেকের মধ্যেই থাকে। তার প্রকাশ না ঘটলেই তা যেন হয়ে যায় অনর্থক। লেখা লেখির মাধ্যমেই মানুষের মনে বেঁচে থাকার চিরঞ্জীব বাসনা তৈরি হয়- কবি, লেখক বা সাহিত্যেদে মন। তাদের মনে কখনোই আঘাত করা ঠিক নয়। তাদের কাজ, চিন্তা ও মূল্যবোধ মানুষের জীবনকে গভীরভাবে স্পর্শ করে যায়, তারা শারীরিক ভাবেই গত হলেও মানুষের জীবন এবং চেতনার মাঝে থেকে যান। লেখকের থরেথরে সাজাতে হয় রাজনীতি, সমাজনীতি, প্রবন্ধ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, শিল্পকলা, উপন্যাস ও কবিতা, গল্প, ধর্মীয় নানান দিক, জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিকসহ আইনের বিভিন্ন দিক। মানুষ মাত্রই ভুল করে, তবুও তো তাঁরা চেষ্টা করে জাতিকে কিছু দেওয়ার। খুব স্বাভাবিক কারণে তাদেরকে অনেক পড়তেও হতো। তবে পেশাগত দরকারের বাইরেও তাদের প্রচুর পড়াশোনা করতেই হয় কিংবা লিখতেও হয় বলেইতো তাঁরা লেখক হন। আবার সামাজিক নানা কর্ম কাণ্ডে নিয়োজিত বা নিবেদিত প্রাণ আছে বলেই তো তাঁরা একটু ‘আলাদা মাপের মানুষ’। এ লেখকেরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তৃতা করে। তা ছাড়া তারা হয়ে উঠেন স্থানীয় লাইব্রেরির সাধক। সব সময়েই টিভি, দৈনিক পত্রিকা এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের খবরা খবর জানার জন্যেই চেষ্টা করে। সেই লেখকদের অসম্মানিত করা মোটেও ঠিক হবেনা। ইদানিং বেশকিছু গজিয়ে ওঠা ‘পত্রিকা বা অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মিডিয়া নামধারী মানুষ’রা’ অহরহ অনেক বাজে আচার আচরণ করে থাকে। যে লেখা গুলো পছন্দ হতো না, তা তিনারা প্রকাশ করেন না। একজন লেখকের- সব লেখা ভালো নাও হতে পারে, সেই লেখাটিতে ভালো তথ্য নাও থাকতে পারে। আবার বেশি তথ্যের কারণে লেখাটি বড় হয়ে যেতেই পারে। কিন্তু দেখা যায় কিছু মানুষ অহেতুক লেখকদের টেনশনে রাখে। পছন্দ হওয়া- ‘আর্টিকেল বা ফিচারটি’ নিজস্ব ডেস্ক কিংবা নিজস্ব প্রতিবেদক বলেও চালিয়ে দেন। লেখকেরা তাদের কাছে কি পায়? নাম বা পরিচয় লেখকের নাইবা থাকে কেনো কষ্ট করে লিখবে।আবার বলে পত্রিকা সম্পাদনার নিয়োম নাকি সে ভাবে প্রকাশ করা। যদি লেখকরা কিছু নিয়ম কানুন ও অর্থের কথা তুলে ধরে, তা হলেই শুরু হয়ে যাবে মান অভিমান। কি আর করা সে কিশোর কালে পড়া আর লেখার প্রতি যে ঝোঁক তৈরি হয়ে ছিল, তা আজও আছে সমানতাল। তাইতো হাজারও বাধা বিপত্তি এবং বহু কষ্ট সহ্য করেই লিখে যেতে হচ্ছে।
বহু বই-পুস্তক, ম্যাগাজিন, পত্রিকা সহ বহু নাটক সমগ্র  কিনে নিয়ে ঘর বোঝাই করে লেখকরা। পড়ালেখা এবং কর্ম জীবন ছাড়া ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ খুব কম থাকে। যখন একটি ভালো লাগা ও ভালোবাসার লেখা পত্রিকা কিংবা অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রকাশ হয় তখন যে কতো আনন্দ একজন লেখকের তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কিন্তু সেই পরিমণ্ডলে বেশ কিছু জানা-অজানা  চেনা-অচেনা অজস্র ধোঁকাবাজ মানুষের সঙ্গেই সম্পর্ক যখন গড়ে উঠে লেখকের খুব দ্রুত গতিতে, দেখাও যায় তার স্থায়ীত্ব কালটাও যেন অনেক দ্রুতগতিতে শেষ হয়। এই সব অভিজ্ঞতা কখনো পুলকিত করে আবার কষ্টের মাঝেই ডুবিয়ে রাখে। নিজের কর্মক্ষেত্রে বারবার সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেও বেশকিছু ভালো মানুষদের কারণেই যেন ফিরে আসতে হয়েছে। তাদের একধরনের আলাদা তাগাদা থাকায় মনের ভেতর আবার লেখালেখির স্হান সৃষ্টি হয়েছে। নানা সময়ে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থাকে বলা যায় কাজের ব্যবস্থার চাপে, সেই আলোকেই বর্তমানের বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আর অলীক কল্পনার ছোটা ছুটিতেই মস্তিস্ক যেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। মাঝে মধ্যে নিজের কানে বাজত বঙ্কিম চন্দ্রের কপাল কুণ্ডলার সেই একটি প্রশ্ন,- ”পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছ?” আবারও তাই সজাগ হয়েই লেখা লেখির অদ্ভুত নেশা মধ্যেই যেন তীব্র ভাবে উঁকি-ঝুঁকি দেওয়ার চেষ্টা করি। যখন সুযোগ পেয়েছি, ঠিক তখন নিজের হাতের ছোট্ট এক মোবাইল ফোনের নোটবুক বা এক টুকরো কাগজের পাতায় মনে জমে থাকা দাগ গুলো লেখার মধ্য দিয়ে কেটে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, শুধুই কষ্টের স্মৃতিকথা গুলো লিখে, যখন যা মনে আসে বলা যায় হিজিবিজি লিখে। এমন দেশের ‘ম্যাগাজিন’, ‘অনলাইন নিউজ পোর্টাল’, ‘দৈনিক পত্রিকা’ ও ‘গবেষণা জার্নালে’ নানা সময়ের বিক্ষিপ্ত ভাবনাগুলো ছাপা হয়েছে। সমসাময়িক ‘প্রবন্ধ বা ফিচার’ নিয়ে লেখা প্রকাশ করার জন্যও অনুরোধ পেয়েছি। সেগুলো একটু ঝালাই করলে নতুন আরও অনেক ”প্রবন্ধ, সংকলন বা ফিচার ও প্রতিবেদন হিসেবেই একটি বই প্রকাশ সম্ভব। প্রতি দিনের ব্যস্ততায় ভাবি, আসলেই কি তা করে যেতে পারবো। ব্যক্তিগত লাইব্রেরির দিকে তাকালে শুধুই যেন আক্ষেপ হয়, অন্যের লেখা বই পড়ি কিন্তু নিজের লেখা বই আকারে প্রকাশ হলো না। তাই আগামী ‘বই’ মেলাতে দু’টি ‘প্রবন্ধ বই প্রকাশ’ করার ইচ্ছা পোষণ করি। হাজার দুঃখ কষ্টের মাঝেও বলতে চাই যে, ‘এখন আমার জেগে ওঠার সময় এখন আমার সময় পথে নামার এখন সময় নতুন সূর্যের….এখন সময় পূর্বপানে চাওয়ার।’ বয়স তো হয়েছে, হুমায়ূন আহমেদ বলেন, ”লাজুক ধরনের মানুষ বেশীর ভাগ সময়েই মনের কথা বলতে পারে না। মনের কথা হড়বড় করে বলতে পারে শুধুমাত্র যেন পাগলরাই। আর পাগলরা মনে হয় সেই কারণেই সুখী’।
পরিশেষে রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতেই চাই যে, ‘আমার এ ধূপ না পোড়ালে গন্ধ কিছুই নাহি ঢালে,…/ আমার এ দীপ না জ্বালালে দেয় না কিছুই আলো’। লিখছি লিখেই যাব। ভালো বাসুক আর নাই বা বাসুক, নিন্দা করুক বা নাই বা করুক। জ্ঞানের অন্বেষণের তৈরি হওয়া মানুষ ও ভালোবাসার মানুষ দু’একজন হলেও আছে। বলতে হয়, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, হাছন রাজা, মীর মশাররফ হোসেন” এর মতো রুটিনমাফিক নিজের দায়িত্ব পালন করতে না পারলেও চেষ্টার অবহেলা নেই। দৈনন্দিন খুবই ব্যস্ততার মধ্যে লেখালেখি করি। বাংলা সাহিত্যের সব শাখাগুলো অমশ্রিণ হলেও কবিতা, গান, গদ্য, নাটকসহ শিল্প চর্চার সবকিছুতেই যেন এ হাতের ছোঁয়া রয়েছে। পারদর্শিতার বড়াই নয়। কেবল মাত্রই চেষ্টা আর চেষ্টা। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে আমার যত সামান্য হলেও কিছু অবদান আছে। “কবিতা, ছোট গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, চিঠি সাহিত্য, নাটক, সংগীত, চিত্রকলা সহ সব শাখায় দাপটের সহিত নাহলেও চেষ্টা করে যাই।আবারও হুমায়ূন আহমেদের কথাতেই বলি,- “পৃথিবীতে আনন্দ কিংবা দুঃখ সব সময়ে থাকবে না সমান-সমান। বিজ্ঞানের ভাষায় আনন্দের সংরক্ষণশীলতা।.. একজন কেউ চরম আনন্দ পেলে, অন্য জনকে চরম দুঃখ পেতে হবে’।
লেখক:
নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

গতকাল (ঢাকা, ১২ মে, ২০২০) ভিডিও কনফারেন্সিং- এর মাধ্যমে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ ডিজিটাল সামিট ২০২০ আয়োজন করলো হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড। অনুষ্ঠিত এ সামিটে বিটিআরসি, ওকলা ও উইন্ডসোর প্লেসের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। তারা ফাইভ-জির বৈশ্বিক ইকোসিস্টেম, আর্কিটেকচার, স্পেকট্রাম এবং স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন আউটলুকের ওপরে আলোচনা ও মত বিনিময় করেন।
সামিটে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক; বিটিআরসি’র স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মো. আমিনুল হাসান; বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল আলম, পিবিজিএমএস; হুয়াওয়ের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট চেন মিংজি (জে); হুয়াওয়ে টেকসনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ঝাংঝেং জুন; হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের চিফ টেকনিক্যাল অফিসার (সিটিও) জেরি ওয়াং; উইন্ডসোরের পক্ষে স্কট ডব্লিউ. মাইনহেন এবং ওকলার পক্ষে ভিক্টর জেং ও আরভিন মোগানাসহ বাংলাদেশ ফাইভ-জি কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
ফোরজি, ফাইভ-জি, এআই ও আইওটি অর্থনীতি এবং সমাজের জন্য কীভাবে বিভিন্ন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করতে পারে তার ওপরে সামিটে আলোকপাত করেন বক্তারা। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ে টেলিযোগাযোগ খাতের গুরুত্বের কথাও তাদের আলোচনায় উঠে আসে। আলোচনায় আরও উঠে আসে, ফোরজি/ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র অত্যাধুনিক যোগাযোগ সেবার ভিত্তিই নয়, পাশাপাশি, এ প্রযুক্তি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করবে এবং শিল্পখাতে বড় ধরণের ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরাণ্বিত করবে।
সামিটে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, ‘পুরো পৃথিবীই এখন এক প্রতিকূল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর এ সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আমরা যখন ভবিষ্যতের নানা সুযোগ উন্মোচনে যুগান্তকারী উদ্ভাবনী সব প্রযুক্তি নিয়ে আসার দ্বারপ্রান্তে রয়েছি ঠিক এমন সময়ই কোভিড-১৯ আমাদের আক্রমণ করলো। সরকার ফাইভ-জির গুরুত্ব অনুধাবন করে পরিস্থিতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ফাইভ-জির মাধ্যমে আমরা প্রবৃদ্ধির নতুন উপায় খুঁজে পাবো। আমি এ সামিট আয়োজকদের ধন্যবাদ দিতে চাই, এ প্রতিকূল সময়েও তারা এ রকম একটি উদ্যোগ নিয়ে এসেছে।বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল আলম, পিবিজিএমএস, বলেন, ‘আগামী বছরেই আমরা ফাইভ-জি সেবা চালু করার পরিকল্পনা করছি। দেশের টেলিকম অপারেটেদের সে অনুযায়ী স্পেকট্রামও বরাদ্দ দেওয়া হবে। কোভিড-১৯ এর সময়ে টেলিযোগাযোগাযোগ নেটওয়ার্কের দৈনন্দিন ব্যবহার অনেক বেড়েছে। আর এ সময়ে, হুয়াওয়ে, অপারেটরদের এর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সরঞ্জামাদি দিয়ে সহায়তা করছে। যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
জে চেন বলেন, প্রযুক্তির সময়োপোযোগী ব্যবহার সর্বোত্তম ফল নিয়ে আসতে পারে। এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষতা মানবতার জন্যই। তাই, আইসিটি ইকোসিস্টেমে আরো অবদান রাখতে হুয়াওয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে এর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব ও কর্মীদের বিনিয়োগ করে চলেছে। ইতোমধ্যেই, তথ্য ও যোগাযোগ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এই অভূতভূর্ব সঙ্কটের সময় সরকার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও জনগণের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যাতে করে সবার যূথবদ্ধতায় ভাইরাসটিকে পরাজিত করা যায়। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সবার যৌথ প্রচেষ্টায় খুব শিগগিরই আমরা এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মো. আমিনুল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশে এ রকম সময়োপযোগী একটি অনলাইন ডিজিটাল সামিট আয়োজনের জন্য হুয়াওয়েকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এ সামিটে অংশগ্রহণকারী সবাই বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন, বিশেষ করে, কোভিড ১৯ এর এই প্রতিকূল সময়ে ফাইভ-জির সহায়তায় প্রযুক্তি কীভাবে অর্থনীতি ও সমাজকে বেগবান রাখতে পারে। প্রেস বার্তা

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় মাদক কেনা বেচাকে কেন্দ্রকরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী জুলুর ৪ বছরের শিশু পুত্র শাহরিয়ার গুরুত্বর আঘাত প্রাপ্ত হয়। পুলিশ ঐ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসেবী মুন্না (২৫) কে আটক করেছে।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, সোমবার দুপুরে শার্শা উপজেলার নাভারন যাদবপুর (ডকের বাগান) গ্রামে মৃত আখের আলীর ছেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম মোড়ল, জুলফিকার আলী জুলু এর সাথে একই এলাকার মৃত আজিজ মোল্লার ছেলে মাদকসেবী মুন্না এর মধ্যে মাদক কেনা-বেচাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মুন্না তাহার বাড়ি থেকে ধারালো অস্ত্র এনে জুলফিকার আলী জুলুকে মারতে যায় তখন জুলু একটি শাবল দিয়ে মুন্নাকে মারতে যায়।

এ সময় মুন্না জুলুকে হাসুয়া দিয়ে কোপ মারতে গেলে উক্ত কোপ পাশে থাকা জুলফিকার আলী জুলুর ৪ বছরের শিশু পুত্র শাহরিয়ার এর কপালের ডান পাশে লেগে গুরুত্বর আঘাত প্রাপ্ত হয়। তাকে তাৎক্ষনিক চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শাহরিয়ারকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। তার অবস্থা আশঙ্কা জনক।

শার্শা থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম খান বলেন, ঘটনা শোনার পর পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান মুন্নাকে আটক করা হয় এবং ঘটনা সময় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি (হাসুয়া) উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ব্যপারে আটককৃতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এলাকার আইন শৃংখলা স্বাভাবিক রয়েছে।

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে নবগঠিত সংগঠন “মানবিক তরুণ সোসাইটি”র পক্ষ থেকে ইফতার বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১১মে) বিকাল ৩টায় পৌরশহরে রিক্সা, টমটম চালক সহ অসহায় দুস্থদের মাঝে এ ইফতার বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ওই সংগঠনের প্রতিষ্টাতা রেজুয়ান চৌধুরী, জাহিদুল হক জুনেদ, মোহাম্মদ ইমন আহমেদ, সদস্য নাইমুর রহমান নাইম, বনিউল আলম তাপস, আজিজুর রহমান রিয়াজ, নাহিফ চৌধুরী প্রমুখ।

জহিরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আলীশারকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অগ্নিকান্ডে স্কুলের দরজা, জানালা, ইলেকট্রনিক তাঁর পুড়ে গেছে, স্কুলের ভবনটির রং ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। স্কুল ম্যানজিং কমিটির সহ-সভাপতির রাখা ধানের খড়ের স্তুপ থেকে এই আগুনের সুত্রপাত হয়েছে।স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের রাখা খড় থেকে

গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১ টার উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের আলীশারকুল এলাকার আলীশারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে।
খবর পেয়ে সরেজমিনে মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল বেলা আগুনে পুড়া খড়গুলো ও খড়ের ছাই ছড়িয়ে নিচ্ছেন গ্রামের কয়েকজন। মানুষজন দেখার আগেই তারা আগুনের পুড়া সব ছাই ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে দেয়।স্কুলের দরজা ও জানালাগুলো আগুনে পুড়ে অর্ধেকাংশ কালো হয়ে গেছে।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজনের ধানের খড় সেখানে ছিলো বলে জানা গেছে।

আলীশারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিমা সরকার বলেন, গত কয়েক দিন আগে স্থানীয় এলাকাবাসী ধানের খড় স্কুলের বারান্দায় শুকানোর জন্য রাখে।স্কুলের দপ্তরি তাদের কে খড় রাখতে বেশ কবার বারণ করেছে। তারা অনেকেই কথা শোনেনি। সবাই খড়গুলো সরিয়ে ফেললেও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি সুরু মিয়া তার খড়গুলো সরাননি।
স্কুলের দপ্তরি রুপন দেব বলেন, আমি রাতে বাড়িতে খাবার খাওয়ার জন্য যাওয়ার পরই খড়ে কে বা কাহারা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।
নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুল ম্যানেজিং কমিটির ১ জন সদস্য বলেন, গ্রামের শাহবুদ্দিন মিয়া, আলাউদ্দিন মিয়াসহ অনেকেই করোনার কারনে স্কুল বন্ধ হওয়ার কারণে স্কুলের বারান্দায় প্রায় প্রতিদিনই খড় ইত্যাদি রাখে,ধান শুকানো খড় শুকানোসহ বিভিন্ন কাজে স্কুলের বারান্দা ব্যবহার করে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লেচু মিয়া বলেন, বৃষ্টির জন্য স্কুলের সহ-সভাপতি সহ গ্রামের কয়েকজন স্কুলের বারান্দায় ধানের খড় রেখেছিলো। বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেননি।অগ্নিকান্ডের ব্যাপারে স্কুলের সহ-সভাপতি সুরুত মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি শুনেছি।বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc