Saturday 30th of May 2020 03:10:51 PM

নার্স ও চিকিৎসকসহ ৮ জনকে নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ এ

জহিরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক: মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সসহ আরও ৮ জনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে।আক্রান্তদের মধ্যে ৩ জন চিকিৎসকসহ নার্স ও  স্বাস্থ্যকর্মী,কর্মচারী।

বুধবার (৬ মে) সকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন এবং জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা.তউহীদ আহমদ।

তিনি আরোও জানান,করোনাভাইরাস পরীক্ষা গত মঙ্গলবার (৫মে) প্রথম মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ১ জন চিকিৎসকের পজেটিভ এর পরিক্ষার রিপোর্ট আসে। ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে যারা ছিলেন তাদের সবার নমুনা সংগ্রহ করে সোমবার (৪মে) সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে জানানো হয় চিকিৎসক ও নার্সসহ হাসপাতালের আরও ৮ পজিটিভ এসেছে। এ নিয়ে মৌলভীবাজার জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ জন।এর মধ্যে চারজন চিকিৎসক রয়েছেন।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালটি এখন লকডাউন করা হয়তো সম্ভব হবে না। তবে কিছু কিছু বিভাগের সেবা বন্ধ রেখে শুধু জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ দু’একটি বিভাগ চালু রাখার সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও জানান সিএস ডা. তউহীদ আহমদ।

মৌভীবাজার জেলায় দিন দিন বাড়ছে করোনা পজেটিভ আক্রান্তের সংখ্যা।সামাজিক দুরত্ব না মেনে চললে এমনি হবে সচেতন মানুষ মনে করছে।

সাদিক আহমেদ,নিজস্ব প্রতিনিধি শ্রীমঙ্গল: দেশব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের থাবায় যখন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী বড় ধরনের অর্থনৈতিক সমস্যাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের অভাবে দিনাতিপাত করছে। এমন সময় সমাজের কিছু লোক নিম্ন-মধ্যবিত্তসহ বিভিন্ন ধরনের অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়িয়েছে। এমন চিত্র শ্রীমঙ্গলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা গেছে।

অনেকে সেলফি ত্রাণ দান করলেও সমাজের কিছু লোককে নীরবে নিভৃতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেছে। এমনই একজন লোক যিনি শ্রীমঙ্গলের ভানুগাছ রোডস্থ শশুর বাড়ি রেস্টুরেন্টের মালিক বদরুল আলম। এই সংকটময় মূহুর্তে সবার চোখের অন্তরালে নিরবে নিভৃতে সমাজের কর্মহীন মানুষের মাঝে দান করেই যাচ্ছেন তিনি।
আজ বুধবার দুপুর থেকে ৬০ জনকে ত্রাণ সহায়তা দান করেছেন তিনি।এর আগেও ত্রাণ দিয়ে সহায়তা করেছেন কয়েকদিন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চাউল ২ কেজি, ডাল আধা কেজি, আলু ২ কেজি, পিয়াজ ২ কেজি করে প্রতি প্যাকেট জনপ্রতি সরবরাহ করে যাচ্ছেন বদরুল আলম ।

ত্রাণ দাতা বদরুল আলমের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি বলেন, নিজ উদ্যোগে সামান্য পরিমাণ এই সহযোগিতা অসহায়দের হাতে তুলে দিয়ে নিজের উপর যে দায়িত্ব রয়েছে তার সামান্য আদায় করেছি মাত্র। আমি চাইনা তা প্রচার হোক তারপরও যেহেতু আপনি জিজ্ঞাসা করেছেন না বলে পারছিনা । আশাকরি যতদিন পর্যন্ত অবস্থার পরিবর্তন না হবে ততদিন পর্যন্ত সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে যাবো।

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজার: পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চাল, তেল, শাক-সবজি, কাচামালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ন্যায্য মূল্যে প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং কেউ খাদ্য মজুত করে যাতে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করতে না পারে, ভোগ্য পণ্য সামগ্রীর দাম যেন কেউ অনৈতিক ভাবে বাড়াতে না পারে সেই লক্ষে মৌলভীবাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজার শহরের হাট বাজার ও দোকানে জাতীয় ভোক্তা

অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তদারকি অভিযান পরিচালনা করে সরকারি নিয়মনীতি অমান্য ও সাধারন ভোক্তাদের সাথে কারচুপির অভিযোগে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লক্ষ ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। শহরের টিসি মার্কেট, শান্তিবাগ রোড, পুরাতন হাসপাতাল রোড, পশ্চিমবাজার, কোর্ট রোড, শ্রীমঙ্গল রোডের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও হাট বাজারে দিনভর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ধারায় টিসি মার্কেটের জাকির পোল্ট্রিকে ৪ হাজার টাকা, পুরাতন হাসপাতাল রোডে অবস্থিত নিউ নাগ ব্রাদার্সকে ৪০ হাজার টাকা, পশ্চিমবাজারে অবস্থিত লতিফিয়া এন্টারপ্রাইজকে ২ হাজার টাকা, মেসার্স মদিনা ট্রেডার্সকে ১০ হাজার টাকা, পুরাতন হাসপাতাল রোডে অবস্থিত নাগ ষ্টোরকে ৪০ হাজার টাকা এবং পশ্চিমবাজারে অবস্থিত ভানু ষ্টোরকে ২ হাজার টাকা জরিমানা ও তা আদায় করা হয়।

এ অভিযানে ৩জন অভিযোগকারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে করা জরিমানায় আইন অনুসারে জরিমানার ২৫% টাকা তিন অভিযোগকারীকে তাৎক্ষণিক প্রদান করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয় এর সহকারী পরিচালক মো: আল আমিন। অভিযানে সাংবাদিকবৃন্দ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ জেলা ভোক্তা অধিকার কমিটির সদস্য বকশি ইকবাল উপস্থিত ছিলেন। জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি টিম এ অভিযানে তাকে সহযোগিতা করে। এ সময় করোনা ভাইরাসের প্রদোর্ভাবে অনেকের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে উল্লেখ করে ব্যবসায়ীদেরকে সর্বনিম্ন লাভে পণ্য বিক্রয় করা জন্য অনুরোধ জানান ভোক্তার সহকারী পরিচালক মো: আল আমিন।

বিগত কয়েকদিন ধরেই মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনা করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তাদের এ অভিযানকে মৌলভীবাজারবাসী সাধুবাদ জানাচ্ছেন, পাশাপাশি এই অভিযান সারাবছরই যেন অব্যাহত থাকে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করেছেন ।

সারা দেশে ২৪ ঘন্টায় ৬ হাজার ২৪১ জনের পরীক্ষা

জহিরুল ইসলাম, নিস্বজ প্রতিবেদকঃ   সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ও মৃত্যু বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩ জন মারা গেছে।তাদের মধ্যে ২ জন পুরুষ ও ১ নারী।নতুন করে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ৭৯০ জন।

আজকের ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত রেকর্ড এটি ৭৯০ জনের। আর  গতকাল মঙ্গলবার ৭৮৬ জন এবং ১ জনের মারা যাওয়ার কথা জানানো হয়।
আজকের প্রেস ব্রিফিংয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মোট মারা গেছেন ১৮৬ জন। মোট শনাক্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৭১৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজার ২৪১ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। আগের দিন ৫ হাজার ৭১১ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৯ হাজার ৫৯৩ জনের নমুনা। দেশে এখন ৩৩টি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। আর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

সরকারী খাদ্য কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়াই এক মহিলা সদস্যসহ ২ ইউপি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক,মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫নং কালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য মুজিবুর রহমান এবং ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য সাহিদা বেগম রুপার  বিরুদ্ধে সরকারী খাদ্য কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই দু’জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫মে ২০২০) এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই সাময়িক বহিস্কারের আদেশ দেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় এর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী।

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় প্রথম ৬জন  করোনায় শনাক্ত হয়েছে। গত ২২এপ্রিল কোন উপসর্গ না থাকলেও ঢাকা,নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুরের গামেন্সে কর্মী হওয়ার তাদের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বশীলরা। হোম কোয়ারেন্টিনে দেওয়া হলেও ফলাফল আসতে বিলম্ব হওয়ায় হোম কোয়ারেন্টিন না মেনে এরা অবাধে চলাফেরা করেছে গ্রামে ও বাজারে।
একারণে অভিবাবকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে উৎবেগ আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার(০৫,০৫,২০২০)দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষার ফলাফল আসে ছয়জনের করোনপজেটিভ। তবে এই আক্রান্তদের মধ্যে  চারজন ইতিমধ্যেই আবার ঢাকায় চলে গেছে বলে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই ছয়জন করোনা পজেটিভদের মধ্যে ৩জন পুরুষের বয়স ৪৫, ৩৫ ও ১৬ বছর ও ৩জন নারীদের মধ্যে দুইজনের বয়স ৩০বছর করে অন্যজনের বয়স ১৮বছর।
তারা সবাই উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের কাউকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আর ছয়জনে চার জনেই এখন তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী আরোও জানা যায়,ঢাকা ফেরত এই ছয় জনকে গত ২২ এপ্রিল নারায়নগঞ্জ,গাজীপুর ও ঢাকা ফেরত এই ছয়জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য বলা হলেও তারা তা মানেনি। বরং অবাধ ঘোড়াফেরা করে আর এর মধ্যেই আক্রান্তদের পাঁচ জন গত চার দিন আগে আবারো ঢাকা,নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুরে চলে গেছে।
বাড়িতে থাকা আক্রান্তদের দুজন সদস্যের মধ্যে একজন আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ধানকাটায় ছিল। দুপুরে করোনা পজেটিভ রেজাল্ট আসলে ডাঃ সুমন চন্দ্র বর্মনের নেতৃত্ব মেডিকেল টিম তাকে জমির ধানকাটা থেকে তুলে নিয়ে আর এক জন মেয়েকে নিজ ঘরে এনে আইসোইশনে রাখেছেন।
প্রথম উপজেলায় ছয়জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানান,তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও)ডাঃ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তিনি আরও জানান,ফলাফল আরো আগে আসা উচিত ছিল। তাহলে আক্রান্তদের কে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া যেত। আজ খবর পাওয়ার পর ডাঃ সুমন চন্দ্র বর্মনের নেতৃত্ব মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। তারা আক্রান্ত দুজনকে আইসোইশনে রাখেছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জী বলেন,পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়ার ১৪দিন পর রেজাল্ট আসলো করোনা পজেটিভ আসায় আমাদের সব চেষ্টা পন্ড হয়ে গেছে।এখন বিশাল গ্রামটি লকডাউনে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করছি।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন শামস উদ্দিন জানান, নতুন করে আরো ২২জন করোনায় আক্রান্ত তাহিরপুর ৬,শাল্লা৫,দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ৪,দিরাই ৩,ছাতক ৩ ও বিশ্বম্ভপুর ১জনসহ মোট ৫৮জন। আক্রান্তদের আইসোলেশনে ও এদের সংস্পর্শে আসা সকলকে লকডাউনে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

মিজানুর রহমান,চুনারুঘাট থেকেঃ  হবিগঞ্জে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হকসহ করোনাভাইরাস সনাক্ত হয়েছে ১৪ জন। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেরও বিভিন্ন উপজেলায় মরণব্যাধি করোনাভাইরাস ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। যার জন্যে সরকার রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। নানা মাধ্যমের ব্যবস্থা গ্রহনের পরেও সাধারণ জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা।
এমতাবস্থায় চুনারুঘাট উপজেলায় প্রশাসন ও পুলিশ কতৃপক্ষের ভূমিকা ইতিমধ্যে মনো আকৃষ্ট করছে।কিন্তু মঙ্গলবার চুনারুঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক ও সরকারি কর্মকর্তা ৫ জনসহ মোট ৮ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানা যায়।এই নিয়ে চুনারুঘাট উপজেলায় ১৪ জন  শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে  একটি ৫ বছরের শিশু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ।

উথালপাথাল হয়ে আছে যখন নিখিল, তখনো নির্ঘুম কৃষক। আলুথালু যখন নাগরিক শংকা, তখনো নির্ঘুম কৃষক। জমিনের উপর যে আজন্ম বিশ্বাস তা কীভাবে চুরমার করে এই করোনার নিদান? যত নিদানই আসুক রক্তজলের শস্য তোলা চাই। শস্য বাঁচাতে না পারলে গৃহস্থের অমঙ্গল হয়। এ এক আদি বয়ান। কত রোশনাই কত ফিরিস্তি আসে যায়। কিন্তু এ বয়ান যেন শত ঝঞ্জা কী নিদানেও জাগিয়ে রাখে ভাটিবাংলার মেহনতের ফুল। আর তাই করোনারকালে বজ্রঝড়ে অঙ্গার হয়েও ভাটির মজুর ধান বাঁচাতে রয়েছে নির্ঘুম। এ ধান যে বাঁচাতেই হবে। দেশের তিন ভাগের এক ভাগ ভাতের থালা তো সাজাতে হবে। ভাটির কৃষকের এই বিবেক আর শিক্ষা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে দেয়নি। গড়েছে হাওরভাটির এক অনন্ত জীবনের ডাক। এই ডাকে নেশা লাগে হাসনের মনে, রাধারমণ কালা কাজলের পাখি ধরতে জলে নামে, শিতালংয়ের পিঞ্জরা থেকে ওড়ে যায় সুয়া, করিমের নাও ঝিলমিলায়। এই ডাকের মায়া আছে বলেই করোনারকালেও হাওরে নামে কৃষক। কেবল নিজের খোরাকের জন্য নয়, বোরো মওসুমের পঁচিশ ভাগ শস্যদানা দেশের গোলায় তুলবে বলে। কিন্তু নিদারুণভাবে এই করোনাকালেও ধান বেচে চাষের খরচ ওঠছে না কৃষকের।

নিদানের কালে ধানের মর্ম
ধানের দাম নিয়ে এই অন্যায় রাজনীতি আজকের নয়, কিন্তু এই নিদানেরকালে জীবনের বিনিময়ে বাঁচানো ধানের দাম নিয়েও কেন কৃষককে ভাবতে হবে? দুনিয়া যেখানে করোনার দুশ্চিন্তায় সেখানে হাওরের কৃষক ধানের দর নিয়ে তড়পায়। অন্য সময় না হয় এর রাজনীতি-দুর্নীতি নিয়ে বাহাস তোলা যায়, কিন্তু এই করোনাকালে কি এই তর্কের সময় আছে? লকডাউনের দুনিয়ায় যে কৃষক যাবতীয় ঝুঁকি নিয়ে আমাদের মুখের গ্রাস জোগালো, সেই জোগানের কোনো মর্ম কী আমরা এই সময়ে বুঝবো না? একবার এই লকডাউনে এই প্রশ্নটা আমাদের নিজেদের কাছে করা জরুরি। রাষ্ট্র, বহুজাতিক বাজার আর নয়াউদারবাদী বাহাদুরি এখানে টানছি না। চালের দাম দুই টাকা বাড়লেই আমাদের শহুরে মুখ ফেনিয়ে ওঠে। অথচ শহরের এক একটি পরিবারে দিনে চালের পেছনে কত টাকাইবা খরচা হয়? যত না খরচ হয় মোবাইল, পরিবহন কী বাহারি খানাদানায়। এই আমাদের মুখে কেন ধানের দাম নিয়ে কোনো কথা নাই? ধানের দাম বাড়লে চালের দামও বাড়বে এই অতি ছোট্ট সমীকরণে? এমন নির্দয় পাষাণ কলিজা নিয়ে আমরা কতদূর যাবো জানি না, তবে করোনাকাল দেখিয়ে দিচ্ছে আমাদের কার কত বাহাদুরি আর মাস্তানি। এক কৃষকই নির্ঘুম থেকে এখনো জোগান দিয়ে চলেছে আমাদের গ্রাস, অন্য কোনো মহাজন নয়।

এক মণ ধানে কয়টা সাবান ?
করোনাকালে বারবার হাত ধুতে হচ্ছে। স্যানিটাইজার কি হ্যান্ডওয়াশ বাদ দিলাম, গ্রামের কৃষক যদি বাংলা সাবান দিয়েও হাত ধোয় তাহলে ৬০০ টাকায় এক মণ ধান বেচে কয়টা সাবান হয়? কৃষককে তো ফসল বেচেই সাবান কী মাস্ক কিনতে হবে। আর এই এক মণ ধান ফলাতে কত মেহনত লাগে তার হদিশ কী রাখে এই বাজার? কেবল মেহনত নয়, কৃষি তো এক ঐতিহাসিক চলমান বিজ্ঞান। তাহলে এই বিজ্ঞান আর হেনতের মর্যাদা নাই কেন? বছর বছর কেন কৃষক মেহনতের ফসল বেচতে পারে না। দুধ ঢালে রাস্তায়, টমেটো ছুঁড়ে ফেলে, ধানের স্তুুপে বসে ফোঁপায়। রাষ্ট্র কেন কৃষকের শস্যফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে কঠোর হয় না। গেল বছরগুলোতে এ নিয়ে কত তর্ক হলো। আগ্রাসী ফড়িয়া, দালাল আর মিলমালিকেরা কমদামে জবরদস্তিতে কিনে নেয় কৃষকের ফসল। এই নির্দয় বাণিজ্য চাঙ্গা হয় বোরো মওসুম আর কিছুটা আমনেও। কৃষকের চারধারে তখন আর কিছুই করবার থাকেনা। ধারদেনা করে আবাদ করা ফসল যেকোনো একটা দামে তাকে বেচতে হয়। কৃষকেরও তো এই মূদ্রানির্ভর দুনিয়ায় চলতে নগদ টাকার দরকার। এই কথা এর চেয়ে টাটকা উদাহরণসমেত সবাই জানে। গ্রামের মাতবর, ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃংখলা কর্তৃপক্ষ, বাজার কমিটি, কৃষিবিভাগ, মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্র, গণমাধ্যম কী সংগঠন। তাহলে দেশের সকল কৃষকের সকল ধান মওসুমভিত্তিক একটি নির্দিষ্টদামে বেচাবিক্রি করা কী খুব কঠিন কিছু? বহুবছরের তর্ক এখানে টানছি না, এই নিদারুণ করোনাকালে কৃষকের ধানের দাম নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। সরকার চলতি বোরো মওসুমে কৃষকের কাছ থেকে ১০৪০ টাকা দরে প্রতি মণ ধান কিনছে। সরকারি দামেই দেশের সব কৃষক বোরো মওসুমের ধান বেচবে এই নিশ্চয়তাটুকু দরকার। এর জন্য হাজারটা কমিটি, তদারকি আর বিশেষজ্ঞের দরকার কী? যারা ধান কিনছেন তারাই তো এটি চালু ও চর্চা করতে পারেন। কেবল মানসিকতাটা বদলাতে হবে। মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের বহমান উপনিবেশিক বাহাদুরিটা এই করোনাকালে না হয় ‘ক্ষেতের চাষার’ কাছে নতজানুই হলো।

ধানক্রয়ের সীমা বাড়াতে হবে
আমরা যারা হাওরের মায়ার ডাকে বান্ধা পড়া ভাটির কৃষকের দানা খেয়ে বাঁচি, আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দশাসই সব ডিগ্রী নেই আমরা তলব করিনা এই মজ্জা আর মাটিতে কত নিদানের দাগ। বছর বছর তল হয় জমিন, কেউ দেখে না। বজ্রপাতে অঙ্গার হয়ে যায় জীর্ণ শরীর, কে শোনে চিৎকার? এ বছর বীজের দাম তো আর বছর সারের দোকানে লম্বা লাইন। কিন্তু আমাদের ঘরে ঘরে সাজানো ভাতের থালায় কৃষকের এইসব অমীমাংসিত নিদানের ভাপ কী ওঠে? আমাদের ভাতের থালায় কোনো হরতাল নেই, লকডাউন নেই। আমাদের মগজ যেন নিশ্চিত হয়ে আছে, বাজারে যাবো আর চাল কিনতে পারবো। কিন্তু কতো উৎপাদন হলো, সরকার কতটুকু কিনলো, কতটুকু আমদানি-রপ্তানি হলো, চাষ করতে গিয়ে কৃষকের কি দুর্ভোগ হলো এসব হিসাব কেন আমরা করবো না? এটি জরুরি, কারণ খাদ্যের জন্য আমরা সরাসরি কৃষকের ওপর নির্ভরশীল। তো চলতি বোরো মওসুমে ৬ লাখ মেট্রিক টন ধান, সাড়ে ১১ লাখ মেট্রিন টন আতপ ও সেদ্ধ চাল এবং ৭৫ হাজার মেট্রিক টন গম কিনবে সরকার। কিন্তু বোরোতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হলো ২ কোটি ৪ লাখ মেট্রিক টন। সরকার ১০৪০ টাকা মণ দরে ৬ লাখ মেট্রিক টন ধান কিনলেও বাদবাকী ধান সরকারি দরে কৃষক বেচতে পারছে না। আর সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকার কিনেও কম, এর আগের বোরো মওসুমে কিনেছিল ৪ লাখ টন ধান ও ১৪ লাখ টন চাল। রাষ্ট্রের ধানক্রয়ের সীমা ও পরিধি বাড়াতে হবে। সরাসরি কৃষকের জমি থেকে ধান কিনে মজুতের সমস্যা থাকলে স্থানীয় বিদ্যালয় বা বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীভাবে ধান মজুত করতে পারে সরকার। গ্রামের গৃহস্থ বাড়ি বা কৃষকের গোলাঘর ভাড়া নিয়েও মজুত করা সম্ভব।

কার কুঞ্জে রাষ্ট্রের মন ?
ভাটির কৃষক যখন এই করোনার নিদানেও সব ধান সরকারি দামে বেচতে পারছে না তখন চারধারে কত কী তড়পায়! এই সজনার হাওর তো এই হাইল, টাঙ্গুয়া থেকে শনি, দেখার হাওর থেকে হাকালুকি, মাটিয়ান থেকে তলার হাওর, বাউরবাগ থেকে ঘুইঙ্গাজুড়ি। একবার কলধূম থেকে ফিরছিলাম উজানধল। শাহ আবদুল করিমের বাড়ি। রাতের শরীর চুইয়ে ভেসে আসে এক করুণ রাধারমণ। পরে এই গীত চন্দ্রাবতী রায় বর্মণের ধারেও শুনেছি। ‘তুমি আওনা কেনে রস বৃন্দাবনে রে আনন্দস্থানে/শ্যাম তুমি আওনা কেনে? বকুল ফুল কী বাসি হইলো, মধু কি শুকাই গেল রে/তুমি না আসিয়া জানিলা কেমনে? চৌষট্টিকূল বৃন্দাবন কার কুঞ্জে মজাইলায় মন রে/ রাধারে কান্ধাইয়া তুমি সাজিলা পাষাণ রে…।’ করোনার নিদানে এই গীত কেন জানি ভাটির কৃষকের আহাজারি হয়ে ওঠে আমার ধারে। দেশের চৌষট্টি জেলার কৃষককূল শস্যফসলের যে বৃন্দাবন তৈরি করে বারবার, রাষ্ট্র কেন এই আনন্দস্থানে আসে না? কৃষককে কাঁদায়ে রাষ্ট্র কেন পাষাণ হয়ে রয়। বছর বছর ধান কাটার শ্রমিক সংকটে কতজনে কৃষকের জমিনে ক্যামেরা নিয়ে হুমড়ি খায়। সরকারি দামে কৃষকের ধান বেচতে তো কেউ আসে না। না আসলে রাষ্ট্র কীভাবে জানবে কৃষকের কি বাসি হয় আর কি শুকায়ে যায় বারবার!

লেখক ও গবেষক-পাভেল পার্থ

জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, বৈষিক মহামারী নবেল করোনা ভাইরাস যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে উন্নত দেশ গুলো হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় ভাবে ভাইরাসটির মোকাবেলা করছেন, বিধায় আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্স করে বলেছেন, যাতে কোন মানুষ না খেয়ে মরেনা, সেই দিকে লক্ষ্যে রাখতে হবে। তিনি অারও বলেন, আওয়ামীলীগ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। সেই লক্ষে সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলা ইউনিয়ন পর্যায়ে আলাদা ভাবে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, আরো ৫০ লক্ষ পরিবারকে খাদ্য সহযোগিতা করা হবে। আওয়ামীলীগের উদ্যোগে যে ত্রাণ কমিটি করা হয়েছে তাতে অসহায় কোন মানুষের নাম বাদ না পড়ে সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দলীয় দৃষ্টি কোন থেকে না দেখে যাদের খাদ্য প্রয়োজন তাদেরকে যেন দেওয়া হয়। কারো নাম বাদ পড়লে যেন সেই নামটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কোন পরিবার যেন না খেয়ে মরেনা সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তিনি আজ মঙ্গলবার জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা গুলো বলেন।
জৈন্তা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের কামাল আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক এডভোকেট মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট আজমল আলী, এডভোকেট মোহাম্মদ আব্বাছ উদ্দিন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জৈন্তা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি জৈন্তাপুর ইউপি চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান, উপজেলা অাওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফয়েজ আহমদ বাবর, হাসিনুল হক হুসনু, সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল হক, আব্দুর রহমান, জাকারিয়া মাহমুদ,  নিচপাট ইউনিয়ন অাওয়ামীলীগের সভাপতি আতাউর রহমান বাবলু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার হাজী আনোয়ার হোসেন, শ্রমিকলীগের সভাপতি ফারুক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, যুবলীগের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক কুতুব উদ্দিন জৈন্তাপুর উপজেলা মহিলা অাওয়ামীলীগের সভাপতি শ্রী জয়মতি রানী সহ উপজেলা অা.লীগের সদস্য ও বিভিন্ন ইউনিয়ন অাওয়ামীলীগ তার সহযোগি অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন৷

নিচের সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে পারেন

সামাজিক দূরত্ব অমান্যকারী রিক্সা চালকদের উল্টো র‍্যাবের বকশিস

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc