Saturday 30th of May 2020 02:50:36 PM

এম ওসমান, বেনাপোল প্রতিনিধি:  ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হওয়ার পর প্রায় দুই মাস ধরে ঢাকা থেকে নিখোঁজ ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির হাতে আটক হয়েছে। শনিবার (০৩ মে) গভীর রাতে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুরের একটি মাঠের মধ্য থেকে তাকে আটক করে রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ।

বেনাপোল রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার আশেক আলী সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ফটো সাংবাদিক কাজলকে রাতে টহল দলের বিজিবি সদস্যরা সাদিপুর সীমান্তের একটি মাঠের মধ্য থেকে আটক করে। অবৈধ ভাবে ভারত থেকে আসার সময় তাকে আটক করা হয়। বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটা মামলা করা হয়েছে। মামলা নং-০৫।

এদিকে কাজলের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি তার স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসি নয়নও নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ফোনে কাজলের সঙ্গে কথা হয়েছে। বেনাপোল থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। এই খবর পেয়ে রাতেই স্বজনরা তাকে নিতে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন।’

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল ১০ মার্চ সন্ধ্যায় ‘দৈনিক পক্ষকাল’ এর অফিস থেকে বের হন। এরপর থেকে তার কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে নিখোঁজের ঠিক ৩০তম দিনে (৯ এপ্রিল) সাংবাদিক কাজলের ফোন নম্বরটি বেনাপোলেই চালু হয়েছিল। তখন কাজল নিখোঁজের বিষয়টির তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই মুন্সী আবদুল লোকমান বলেছিলেন, ‘নিখোঁজ সাংবাদিক কাজলের ফোন নম্বরটি চালু হয়েছিল। লোকেশন দেখিয়েছে বেনাপোল। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে ও নম্বরটি চালু থাকার সময় কম হওয়ায় বেনাপোলে কোনও অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।

গত বছরের ডিসেম্বরে করোনাভাইরাস সম্পর্কে প্রথম জানা গেলেও এরই মধ্যে এই ভাইরাস এবং এর ফলে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ এর মহামারি সামাল দিতে হচ্ছে বিশ্বকে।অধিকাংশ মানুষের জন্যই এই রোগটি খুব ভয়াবহ নয়, কিন্তু অনেকেই মারা যায় এই রোগে।

ভাইরাসটি কীভাবে দেহে আক্রমণ করে, কেন করে, কেনই বা কিছু মানুষ এই রোগে মারা যায়?

‘ইনকিউবেশন’ বা প্রাথমিক লালনকাল এই সময়ে ভাইরাসটি নিজেকে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত করে।

আপনার শরীর গঠন করা কোষগুলোর ভেতরে প্রবেশ করে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ার মাধ্যমে কাজ করে ভাইরাস।

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ ফেরতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে (ফাইল ফটো)
করোনাভাইরাস, যার আনুষ্ঠানিক নাম সার্স-সিওভি-২, আপনার নিশ্বাসের সাথে আপনার দেহে প্রবেশ করতে পারে (আশেপাশে কেউ হাঁচি বা কাশি দিলে) বা ভাইরাস সংক্রমিত কোনো জায়গায় হাত দেয়ার পর আপনার মুখে হাত দিলে।

শুরুতে এটি আপনার গলা, শ্বাসনালীগুলো এবং ফুসফুসের কোষে আঘাত করে এবং সেসব জায়গায় করোনার কারখানা তৈরি করে। পরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নতুন ভাইরাস ছড়িয়ে দেয় এবং আরো কোষকে আক্রান্ত করে।

এই শুরুর সময়টাতে আপনি অসুস্থ হবেন না এবং কিছু মানুষের মধ্যে হয়তো উপসর্গও দেখা দেবে না।

ইনকিউবেশনের সময়ের – প্রথম সংক্রমণ এবং উপসর্গ দেখা দেয়ার মধ্যবর্তী সময় – স্থায়িত্ব একেকজনের জন্য একেকরকম হয়, কিন্তু গড়ে তা পাঁচদিন।

নিরীহ অসুখ
অধিকাংশ মানুষের অভিজ্ঞতায় করোনাভাইরাস নিরীহ অসুখই মনে হবে।

দশজনে আটজন মানুষের জন্যই কোভিড-১৯ একটি নিরীহ সংক্রমণ এবং এর প্রধান উপসর্গ কাশি ও জ্বর।

শরীরে ব্যাথা, গলা ব্যাথা এবং মাথাব্যাথাও হতে পারে, তবে হবেই এমন কোনো কথা নেই।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ায় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করার ফলে গায়ে জ্বর আসে।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটিকে শত্রুভাবাপন্ন একটি ভাইরাস হিসেবে শনাক্ত করে এবং বাকি শরীরে সাইটোকাইনস নামক কেমিক্যাল পাঠিয়ে বুঝিয়ে দেয় কিছু একটা ঠিক নেই।

এর কারণে শরীরে ব্যাথা ও জ্বরের মত উপসর্গ দেখা দেয়।

প্রাথমিকভাবে করোনাভাইরাসের কারণে শুষ্ক কাশি হয়। কোষগুলো ভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়ার কারণে অস্বস্তিতে পড়ার কারণে সম্ভবত শুকনো কাশি হয়ে থাকে।

তবে অনেকের কাশির সাথেই একটা পর্যায়ে থুতু বা কফ বের হওয়া শুরু করবে যার মধ্যে ভাইরাসের প্রভাবে মৃত ফুসফুসের কোষগুলোও থাকবে।

এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে পরিপূর্ণ বিশ্রাম, প্রচুর তরল পান করা এবং প্যারাসিটামল খাওয়ার উপদেশ দেয়া হয়ে থাকে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন হয় না।

এই ধাপটি এক সপ্তাহের মত স্থায়ী হয়। অধিকাংশ মানুষই এই ধাপের মধ্যেই আরোগ্য লাভ করে কারণ ততদিনে তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসের সাথে লড়াই করে সেটিকে প্রতিহত করে ফেলে।

তবে কিছু কিছু মানুষের মধ্যে কোভিড-১৯ এর আরো ক্ষতিকর একটি সংষ্করণ তৈরি হয়।

এই রোগ সম্পর্কে হওয়া নতুন গবেষণায় ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে যে রোগটির এই ধাপে আক্রান্তদের সর্দিও লাগতে পারে।

ভয়াবহ ব্যাধি
এই ধাপের পর যদি রোগ অব্যাহত থাকে, তা হবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটি সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ায়।

যেই কেমিক্যালগুলো শরীরে বার্তা পাঠাতে থাকে, সেগুলোর প্রতিক্রিয়া তখন শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রদাহ হয়।

লন্ডনের কিংস কলেজের ডক্টর নাথালি ম্যাকডরমেট বলেন, “রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় ভাইরাসটি। এর ফলে শরীর অতিরিক্ত মাত্রায় ফুলে যায় শুরু হয়। কীভাবে এটি ঘটছে, তা আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না।”

ফুসফুসে প্রদাহ তৈরি হওয়াকে নিউমোনিয়া বলে।

আপনার মুখ দিয়ে প্রবেশ করে শ্বাসনালী দিয়ে ফুসফুসের ছোট টিউবগুলোয় যদি যাওয়া যেত, তাহলে আপনি হয়তো শেষপর্যন্ত ক্ষুদ্র আকারের বায়ুথলিতে গিয়ে পৌঁছাতেন।

এই থলিগুলোতেই রক্তে অক্সিজেন যায় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড বের হয়। কিন্তু নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে এই ক্ষুদ্র থলিগুলো পানি দিয়ে ভর্তি হতে শুরু করে এবং ফলস্বরুপ শ্বাস নিতে অস্বস্তি তৈরি করা, শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যার মত উপসর্গ তৈরি করে।

কিছু মানুষের শ্বাস নিতে ভেন্টিলেটরও প্রয়োজন হয়।

চীন থেকে পাওয়া তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী, এই ধাপে ১৪% মানুষ আক্রান্ত হয়।

করোনাভাইরাস আক্রান্ত ফুসফুসের স্ক্যান, নিউমোনিয়া আক্রান্ত অংশ চিহ্নিত করা রয়েছে
অতি জটিল রোগ
এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে যে প্রায় ৬% করোনাআক্রান্ত ব্যক্তির রোগ অতি জটিল পর্যায়ে যায়।

এই ধাপে শরীর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে অসক্ষম হয় এবং মৃত্যুর বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

মূল সমস্যাটা হয়, এই ধাপে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করে এবং সারা শরীরেই বিভিন্ন রকম ক্ষয়ক্ষতি তৈরি করে।

রক্তচাপ যখন মারাত্মকভাবে নেমে যায় তখন এই ধাপে সেপটিক শক পেতে পারেন আক্রান্ত ব্যক্তি, এমনকি তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।

শ্বাস-প্রশ্বাসে তীব্র সমস্যা হওয়ার উপসর্গ দেখা দেয় ফুসফুসে প্রদাহ ছড়িয়ে পড়লে, কারণ সেসময় শরীরকে টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট অক্সিজেন পুরো শরীরে প্রবাহিত হতে পারে না। এর ফলে কিডনি রক্ত পরিশোধন ছেড়ে দিতে পারে এবং অন্ত্রের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

ডাক্তার ভারত পঙ্খানিয়া বলেন, “ভাইরাসটি এত বড় পরিসরে প্রদাহ তৈরি করে যে শরীর পুরো ভেঙ্গে পড়ে, একসাথে একাধিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ফেইল করে।”

এ পর্যায়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যদি ভাইরাসের সাথে পেরে না ওঠে তাহলে তা শরীরের সব প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং আরো বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি করে।

এ পর্যায়ে আক্রান্তকে চিকিৎসা দিতে ইসিএমও বা এক্সট্রা-কোর্পোরেয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে।

এই পদ্ধতিতে একটি কৃত্রিম ফুসফুস দ্বারা টিউবের মাধ্যমে শরীর থেকে রক্ত বের করে নিয়ে সেই রক্ত অক্সিজেনপূর্ণ করে আবার শরীরে প্রবেশ করানো হয়।

তবে ক্ষতির মাত্রা বেশি হলে কখনো কখনো অঙ্গ প্রত্যঙ্গ শরীরকে আর বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয় না।

ইসিএমও মেশিন দিয়ে এক রোগীর চিকিৎসা করা হচ্ছে
প্রথম মৃত্যু
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও অনেকসময় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

চীনের উহান শহরের জিনইনতান হাসপাতালে মারা যাওয়া প্রথম দু’জন আপাতদৃষ্টিতে স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি ছিলেন, যদিও তারা দু’জনই দীর্ঘসময় ধরে ধূমপান করতেন।

প্রথম যিনি মারা গিয়েছিলেন, ৬১ বছর বয়সী এক পুরুষ, তিনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় তার তীব্র নিউমোনিয়া ছিল।

তার শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা ছিল, এবং ভেন্টিলেটরে রাখা হলেও তার ফুসফুস বিকল হয়ে যায় এবং হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়।

হাসপাতালে ১১ দিন থাকার পর ঐ ব্যক্তি মারা যান।

৬৯ বছর বয়সী দ্বিতীয় যে ব্যক্তি মারা যান তারও শ্বাস প্রশ্বাসে ব্যাপক সমস্যা ছিল।

তাকেও একটি ইসিএমও মেশিনের সহায়তা দেয়া হয়, কিন্তু তবুও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রক্তচাপ কমে যাওয়ার পর তীব্র নিউমোনিয়া ও সেপটিক শকে মারা যান তিনি।বিবিসি বাংলা থেকে নেওয়া।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: অবৈধ পন্থায় সরকারী জমি থেকে বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ায় রবিবার সকালে উপজেলার শিরিকান্দি ভুমি অফিসের অফিস সহায়ক ফারুক আহম্মদ, বিশগাঁও ভুমি অফিসের অফিস সহায়ক হুসাইন আহম্মদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারন শাখার অফিস সহায়ক ছায়েদ আলীকে পিঠিয়ে আহত করেছে বালু খেকোরা। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রবিবার বিকালে ২নং আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের মেম্বার ছয়শ্রী গ্রামের আব্দুর রশীদের ছেলে সফিকুর রহমান সাফু (৩৫)কে আটক করেছে পুলিশ।

আহত ফারুক আহম্মদ জানান, ছয়শ্রী গ্রাম দিয়ে প্রবাহিত সুতাং নদী থেকে সিলিকা বালু চুরির খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক ছায়েদ আলী বালু চুরির ছবি তুলতে যান। এসময় বালু চোরেরা ছায়েদকে মারধোর করতে থাকে।
খবর পেয়ে বিশগাঁও ভুমি অফিসে কর্মরত হুসাইন আহম্মদ ও ফারুক আহম্মদ ঘটনাস্থলে গেলে বালু চোরেরা তাদের উপর ও চড়াও হয়। আহত ব্যক্তিদের শোর চিৎকারে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বালু চোরদের কবল থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এলাবাবাসীর সূত্রে জানা যায়, ছয়শ্রী গ্রামের সুতাং নদী থেকে বিগত ৫ বছর ধরে ইউপি সদস্য সাফু ও তার লোকজন অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে পাচার করে আসছেন। গ্রামের লোকজন বালু উত্তোলনে বেশ কয়েকবার বাধা দিয়েছেন কিন্তু প্রভাবশালী ইউপি সদস্য সাফু ভয় ভীতি দেখিয়ে সাধারন মানুষের মুখ বন্ধ রেখেছেন।

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিল্টন পাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জহিরুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২ নং ভুনবীর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. চেরাগ আলী (৬৫) আজ রোববার দুপুর দেড়টায় স্ট্রোক করে ইন্তেকাল করেছেন । ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তিনি ১৯৫২ সালের ১৭ ই মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন। ভুনবীর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন তিনি।
জানা যায়,মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে কাউসার মিয়া।
পরিবারের সুত্রে জানা যায়, আজ রোববার দুপুরে হঠাৎ করেই স্টোক করেন তিনি।এসময় পরিবারের লোকেরা তাকে নিয়ে মৌলভীবাজার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায়ই  মৃত্যু বরণ করেন তিনি।
মো. চেরাগ আলী ২০১৬ সালে আনারস প্রতিক নিয়ে ২য় বারের মতো ২নং ভুনবীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০১ সালে তিনি প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

করোনা মহামারীর কারণে স্বাস্থ্য বিধি রক্ষার সার্থে আজই রাত ১২ টার মধ্যে দাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে একটি দায়িত্বশীল সুত্রে জানা গেছে। আপডেট নিউজ।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ৬৬৫ জন। এটি এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ করোনা পজিটিভ শনাক্ত। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট শনাক্ত হলেন ৯ হাজার ৪৫৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ২ জনের। এ নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৭৭ জনে। এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৬৩ জন।

রবিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ হাজার ২১৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগের কিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৬৮টি। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৮১ হাজার ৪৩৪টি। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও ৬৬৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন নয় হাজার ৪৫৫ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও দুজন। এদের একজনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছর, অপরজন ষাটোর্ধ্ব। একজন নারায়ণগঞ্জের, অপরজন রংপুরের বাসিন্দা। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৭ জনে। আর এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৬৩ জন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইল করোনা ভাইরাস সংক্রামণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ক্ষতিগ্রস্থ কওমী মাদ্রাসার জন্য ধর্ম মন্ত্রনালয় থেকে প্রাপ্ত চেক বিতরণ করা হয়েছে।

আজ রবিবার নড়াইল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সদর উপজেলার চেক বিতরণ করেন প্রধান অতিথি জেলর প্রশাসক আনজুমান আরা।

নড়াইল সদরের ৩২ টি কওমী মাদ্রাসার প্রতিনিধির কাছে চেক হস্তান্তর করা হয়। সদরের প্রতিটি মাদ্রাসাকে ১০ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়। জেলায় মোট ১২২ টি মাদ্রাসায় জন্য  ১২ লক্ষ ৩২ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হবে। 

 সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা সেলিম, কওমী মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা  সময় উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা জানান, করোনা ভাইরাস এর এই বৈশ্বিক মহামারি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কওমী মাদ্রাসার জন্য দেয়া উপহার  চেক আজ সদরে  ৩২ টি মাদ্রাসায়  প্রতিনিধির কাছে বিতরণ করা হল জেলায় মোট  শত ২২ টি কওমী মাদ্রাসার জন্য  ১২ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

জহিরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক: মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলা শহর গুলোতে দিন দিন বাড়ছে করোনা পজেটিভ রোগীর সংখ্যা ।

অনেকেই বলছে আগামিতে শহর গুলোতে আরোও বাড়তে পারে। মানুষ যদি নিজ থেকে সচেতন না হয় তাহলে রোগী বাড়তে পারে। সরকারী নিদের্শনা অমান্য করে লোকজন বিভিন্ন কারনে ঘরের বাহিরে বের হচ্ছে।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া চা বাগানে ষাট উর্দ্ধো মৃত ব্যাক্তি চৈতু কর্মকারের শরিরে করোনা পজেটিভ মিলেছে।

২৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯ টায় নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে করোনার উপসর্গ ছিলনা। মৃত্যু পর গ্রাম বাসির আভিযোগে নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে পাঠালে পরীক্ষা ধরা পরে করোনা ভাইরাস।
তবে বৃদ্ধের এক নাতি ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন একই ঘরে।১৪ দিনের মাথায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় দাদা চৈতু কর্মকারের।

জেলায় সম্প্রতি নরসিংদী ফেরত নতুন করে ১২ বছরের এক শিশু করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।এ নিয়ে জেলায় মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮ জনে।

উল্লেখ্য করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলায় মোট ৩ জন মারা যান। এর মধ্যে রাজনগরে ১ জন, জেলা সদরের ১ জন ঢাকায় মারা যান ও সর্বশেষ কমলগঞ্জে ১ জন মারা যান। করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান ৭ জন।

“উদ্ধারকৃত লাশের খুনের রহস্য গ্রেপ্তারের ২/৩ ঘণ্টার মধ্যেই উম্মোচন করলেন মৌলভীবাজার পুলিশ” 

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ  মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের অন্তর্গত লাইংলা এলাকার আনিকেলিবড় গ্রামের বাইনকার একটি ছড়া (খারা গাং) থেকে মেরাজ মিয়া (৪০), পিতা আলতা মিয়া নামে ২ সন্তানের জনক এক ব্যক্তির শরীরে ও মুখ মণ্ডলে প্রচুর জখমযুক্ত লাশ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় সন্দেহ মূলক মৃতের ৪ সহোদর ভাইকে আটক করে পুলিশ, এ সময় আটক কৃতদের মধ্য থেকে নিহতের ছোট ভাই বদরুল মিয়া (২৩) পুলিশের কাছে পরকীয়ার বিস্তারিত বর্ননা দিয়েছেন, পুলিশের একটি সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়,স্থানীয় সংবাদ এর ভিত্তিতে শুক্রবার বিকাল ৩ টার দিকে মৌলভীবাজার সদর থানার পুলিশের একটি দল বাইনকা এলাকার একটি ছড়া (খারা গাং) থেকে মৃত মেরাজের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। এ সময় দেখা গেছে লাশের গায়ে প্রচুর জখমের চিহ্ন।পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে এবং এই ঘটনায় সন্দেহমূলক মৃতের চার ভাইকে আটক করে পুলিশ ।

আটককৃতরা হলো  নিহতের ছোট ভাই ফজলু (৩৮),খছ্রু মিয়া (২৮),নজরুল মিয়া (২৬),বদরুল মিয়া (২৩) সর্ব পিতা আলতা মিয়া, সর্বসাং গিয়াসনগর ইউনিয়নের অন্তর্গত লাইংলা এলাকার আনিকেলিবড় গ্রামে।বিস্তারিত আসছে………

পুর্বের সংবাদের লিঙ্ক দেখুন

মৌলভীবাজারে দুই শিশু সন্তানের জনকের লাশ উদ্ধার

ফাহিম আহমদ চৌধুরীঃ  মহামারি করোনায় গোটা দেশ যখন লকডাউনে তখন মানুষের খাদ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি নিয়ে অনলাইনে প্রচারণা করেছে ফাইট ফর রাইটস নামক একটি অনলাইন প্লাটফর্ম। আজ দিনব্যাপি সিলেট শহর ও বিভিন্ন উপজেলার ছাত্র-পেশাজীবিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজন এই অনলাইন প্রচারণায় অংশ নেন। ‘দান নয়-ত্রাণ নয়-রেশন চাই’ ‘করোনা নয় ক্ষুধার জালায় মরছি’ ‘সবার জন্য রেশন ও চিকিৎসা চাই’ ইত্যাদি দাবি সম্বলিত প্লেকার্ডসহ নিজেদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে আপলোড করেন।

এছাড়া এই প্লাটফর্মের উদ্যোগে সুনামগঞ্জ দোয়ারাবাজার এলাকায় স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে প্রতিকী মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনের আয়োজক আমির উদ্দিন বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ টন ফসল অতিরিক্ত উৎপাদন হয়।কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো দেশের ২০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত অভুক্ত থাকে । কারণ উৎপাদন যতই হোক মধ্যসত্ত্বভোগী সিন্ডিকেট ব্যাবসায়ীদের দৌরাত্মে কৃষকও ফসলের দাম পায়না আবার একই খাদ্যপণ্য বাজারে উচ্চমূল্যের জন্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে না ।

অথচ সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যয্যমূলে ফসল কিনে সরাসরি রেশনিং এর মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বন্টন করলে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম থেমে যাবে। সাধারণ মানুষ তার খাদ্যের অধিকার পাবে। আবার করোনা পরিস্থিতিতে ক্রমেই মানুষের সংকট বাড়ছে । নি¤œবিত্ত তো বটেই মধ্যবিত্তরাও এই সংকটের বাইরে নয়। তাই এই করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশে^র বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশেও পুনঃবার রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি।
অনলাইন প্রচারণায় বলা হয় গোটা বিশে^ প্রতি মিনিটে গড়ে ৩ জন মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যায় অথচ সারা দুনিয়ায় ক্ষুধায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ১৭ জন মানুষ !! করোনার চেয়েও ভয়ংকর এই ক্ষুধাকে মোকাবেলা করতে অবিলম্বে রেশনিং বা গণবন্টন ব্যাবস্থা চালু না করলে আগামীতে ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়তে পারে এদেশের মানুষ। এই সংকট ত্রাণ কিংবা সহযোগীতা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। চাই সম্মিলিতভাবে রেশনিং ব্যাবস্থা চালু করে মানুষের খাদ্যের অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে আমাদের এই কর্মসূচি । এছাড়া সবার জন্য চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করাও এই করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় অন্যতম প্রধান শর্ত ।
অনলাইন প্রচারণায় সবার স্বার্থে এই দুইটি মৌল মানবিক দাবি নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানানো হয় ।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc