Saturday 30th of May 2020 01:59:54 PM

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজারঃ বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে লকডাউনসহ জনজীবনে যে দুর্বিষহ অবস্থা বিরাজ করছে, এই দুর্যোগময় মুহূর্তে বাংলাদেশের নিরন্ন, দুস্থ ও নি¤œ আয়ের মানুষের পাশে মৌলভীবাজার পৌর শহর পূর্বা ল বিএনপি।
মৌলভীবাজার পৌর শহর পূর্বা ল বিএনপি’র উদ্যোগে ১০০ শত পরিবারের মধ্যে দেশনায়ক তারেক রহমানের আহবানে বিএনপি’র ত্রান সামগ্রী বিতরন করা হয়।
আজ ২ মে শনিবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ১নং ওয়ার্ডের কাশীনাথ রোডস্থ হাফিজা মঞ্জিলে সাবেক সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন এর সার্বিক তত্ববধানে ও ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বাবু স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরীর স ালনায় মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও সাবেক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভিপি মিজানুর রহমান মিজান ,ত্রান সামগ্রী তুলে দন। ত্রান সামগ্রীর মধ্যে ছিলো চাল,ডাল,লবন,তৈল,আলু,সাবান।
এসময় জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ভিপি মিজানুর রহমান মিজান বলেন করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির কারণে সরকার সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে গরীব অসহায়, দিন মজুর, ছিন্নমূল মানুষ অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। তাদের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মুহিতুর রহমান হেলাল সাংবাদিক আজাদ আহমদ সহ এলাকার ব্যক্তিবর্গ।

এম ওসমান, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ এক দিনের টানা কয়েক ঘন্টা বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে যশোরের শার্শা উপজেলার কয়েকশত বিঘা বরো ধান। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে বরো ধানের সাথে সাথে কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন। হালকা, মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাতে তলিয়ে যাওয়া মাঠের পাকা ধান নিয়ে কঠিন বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।
একদিকে শ্রমিক সঙ্কট, অপরদিকে বোরো ধান কেটে বাড়ি আনতে তিনগুণ পরিশ্রমের পরও সোনালী ফসল ঘরে তুলতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উপজেলার শত শত কৃষককে। হঠাৎ করে বৃষ্টির কারণে কেটে রাখা ভিজে ধান ঘরে তোলা, ধান মাড়াই করে শুকাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।
চোখের সামনেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রোদ বৃষ্টি মাথায় করে অনেক কষ্টে উৎপাদিত শত শত বিঘা জমির ধান। ফলে কৃষকের বুকে বিরাজ করছে এক প্রকার চাপা আর্তনাদ। চোখে-মুখে ফসল হারানোর শঙ্কার ছাপ গুলি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে  ।
বৃষ্টিতে ধান গাছ নুয়ে পড়েছে, আবার কোথাও ভেসে গেছে, মৃদু ঝড়ের আঘাতে নুয়ে পড়া ধান, কোথাও ভারী বৃষ্টিতে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে পাকা ধান। বৃষ্টি শুরুর আগেই যাদের ধান কাটাশেষ হয়েছে তাদের অনেকেই ধান শুকাতে পারেনি।
এমতাবস্থায় সঠিক সময়ে ধান শুকিয়ে ঘরে না তুলতে পারলে ওই ধান গবাদি পশুকে খাওয়ানো ছাড়া আরকোনো কাজে আসবেনা বলে জানান অনেক কৃষক। এদিকে, বৃষ্টির কারণে ধান ভিজে গেলে সেই ধান আর গোলায় রাখা যায় না। সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধ করে চাল করতে হয়। এমন ধানের চালের রংও কিছুটা লালচে হয়। নষ্ট হয়ে যায় স্বাদও।
উপজেলা কৃষি অফিসের  তথ্যমতে, শার্শা উপজেলায় এ বছর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ২২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে। যা ছিলো লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দেড় হাজার হেক্টর বেশি।তেমনি ভাবে ফলনও ছাড়িয়ে গেছে লক্ষ্যমাত্রা।
মাঠ ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ফলন ভালো হলেও একদিনের বৃষ্টি ও মৃদু ঝড়ো হাওয়ায় ধান মাটির সাথে শুয়ে গেছে। আর ভারী বৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়ায় অনেক জমির ফসলই তলিয়েগেছে। ফলে একদিকে যেমন ছড়া থেকে ধান ঝরে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে, তেমনি পানিতে তলিয়ে মাটিতে শুয়ে থাকা এসব ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যেতে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
 উপজেলার নাভারণ দক্ষিণ বুরুজ বাগান     গ্রামের কৃষক জামির হোসেন মিয়া জানান, এবার বোরো ধানের আবাদ খুব ভাল হয়েছিল। গত এক দিনের বৃষ্টির কারণে জমির ধান মাটিতে পড়ে গেছে। জমি থেকে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
কৃষক কামরুল ইসলাম জানান, জমিতে পানি জমে থাকায় ধানগাছ গুলো পানির নিচে।শেষমেশ কতটা ধান থাকবে, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছি। অনেক কৃষক ধারদেনা করে মাঠে ধান চাষ করে খরচের টাকাও ঘরে উঠাতে পারবেনা। যে কারনে এখন আকাশে মেঘ জমলে কৃষকদের সব সময় ভয় হচ্ছে কখন জানি কি হয়।
আমির হোসেন জানান, চলতি বছর প্রায় দুই একর জমিতেবোরো চাষ করেছিলেন। কষ্টার্জিত ফসল ঘরেতোলার আগেই বৃষ্টির পানিতে ডুবেগেছে তার জমির সদ্য কাটা পাকা ধান। এতে ধানের সঙ্গে ডুবেছে কৃষকের স্বপ্নও। ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।
ধার দেনা করে বোনা ফসল এভাবে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এই উপজেলায় এখনও অর্ধেকেরও বেশি ফসল রয়ে গেছে কাটা-মাড়াই ও শুকানোর অপেক্ষায়।
তারা চেয়ে আছেন প্রকৃতির উপর। যদি আকাশের মেঘ কেটে সোনালী সূর্য হাসে, তবে সামান্য হলেও ভোগান্তি কমবে তাদের। উৎপাদিত ফসলে লাভ না হোক, অন্তত হিসেবের খাতায় লসের অঙ্ক কষতে হবে না এখানকার চাষীদের ।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল জানান, প্রাকৃতিক সমস্যায় আমাদের কারোরি হাত নেই। বৃষ্টিতে যে সমস্ত বরো ক্ষেত তলিয়ে গেছে সে সমস্ত ক্ষেতের আইল কেটে দ্রুত পানি বের করে দিতে হবে। পানি থেকে ধান উঠিয়ে উঁচু স্থানে রেখে শুকানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তারপরে সে ধান মাড়াই করতে পারলে কিছুটা হলে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে পারবে কৃষকরা।

জহিরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগানে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার রাতে শিশুটির পিতা এই ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় ১ টি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শিশুটির পিতা এ ব্যাপারে বলেন, গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভাড়াউড়া চা বাগানে শিশুটি তার নিজের বাড়িতে একা ছিলো। এসময় এলাকার ঝুলন ভুঁইয়া শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় শিশুটি চিৎকার করলে এলাকার লোকজন চলে আসলে ঝুলন ভুঁইয়া পালিয়ে যায়।
অভিযুক্ত ঝুলন ভুঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই ঘটনার সাথে আমি জড়িত না। এখানে আমার ব্যাপারে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুছ ছালেক বলেন গত শুক্রবার রাতে মেয়ের পিতা থানায় এসে  ঝুলনের নামে  লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইনী ব্যাবস্থা  নিবো । এ ধরনের ঘটনায় আমরা সব সময় কঠোর অবস্থানে থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুর খান ইউনিয়নের বেলতলী এলাকায় এবার ১২ বছরের শিশুর করোনা পজিটিভ  শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় আজ পর্যন্ত করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪ এ। এর আগে আরও ৩ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। এর মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাংকের দুই কর্মচারি ও একজন কলেজ ছাত্রী।

জানা গেছে ছেলেটি কয়েকদিন পুর্বে নরসিংদী থেকে ফিরেছেন।

এ ব্যাপারে এএসপি আশরাফুজ্জামান আশিক আমার সিলেটকে জানান, আমরা সংবাদ পেয়েছি ১২ বছরের একটি ছেলের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ।এ ব্যাপারে সরকার কর্তৃক স্বাস্থ্যবিধি পালনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও  স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপরদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম আমার সিলেটকে জানান, আমরা শিশুটির বাসায় যাচ্ছি এবং বাসাটি লকডাউন করা হবে এবং শিশুটির পরিবারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মেনে চলতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত আরও ৫৫২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮,৭৯০ জনে। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ পর্যন্ত মোট ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে পক্ষ থেকে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরটির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, নতুন করে যে ৫ জন মারা গেছেন তারা তিনজন পুরুষ এবং দু্ইজন মহিলা। মৃতরা সকলেই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা।

ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩ জন, ফলে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৭৭ জন।

তিনি আরও জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় হাজার ১৯৩ টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৮২৭ টি। গতদিনের চেয়ে পরীক্ষার সংখ্যা ৩.৯৩ শতাংশ বেশি। সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৬ হাজার ৬৬টি।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় বলে জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে এ ছুটির মেয়াদ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চতুর্থবারের মতো ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দেশবাসীকে নিজ বাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হয়। পরে সেটাও বাড়ানো হয় ৫ মে পর্যন্ত।

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ভালো নেই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মৃৎশিল্পীরা। উপজেলার ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী দাঁড়িয়ে থাকা ভবানীপুর পালপাড়া যেন শিল্পীর তুলিতে আকাঁ একটি স্বর্ণালী ছবি। উপজেলার ভবানীপুর, রাইপুর, মিরাপুর, সাহেবগঞ্জ, বহলা, পাঁচুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য কুটিরের নয়নাভিরাম মৃৎ শিল্পীদের বাসস্থান। যা সহজেই যে কারোর মনকে পুলকিত করে। আর এ মৃৎশিল্প’র ঐতিহ্য আঁকড়ে থাকা পাল বংশের লোকদের টিকে থাকা যেন কঠিন হয়ে পড়েছে।

এক সময় এ গ্রামগুলিতে মৃৎশিল্প’র জৌলুস ছিল। এ শিল্পে জড়িয়ে ছিল এখানের শতাধিক পরিবার। হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার কষ্টে-শিষ্টে তাদের পূর্ব-পুরুষদের এ পেশা ধরে রেখেছেন। কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারনে সম্পুর্নরুপে বন্ধ হয়ে গেছে এ মাটির কাজ। তাই এই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই হতাশা হয়ে পড়েছে।

এক সময় উপজেলার এসব গ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার পরিবারও প্রত্যক্ষভাবে এ শিল্পের সাথে জড়িত ছিল। পালরা খোলা, হাড়ি, পাতিল, কলসি, ব্যাংক, পিঠা তৈরির ছাঁচ, পুতুলসহ ছোট-ছোট খেলনা ইত্যাদি সব জিনিসপত্র তৈরি করত। এখানকার তৈরি মৃৎশিল্পের অনেক সুনাম ও সুখ্যাতি থাকলেও এখন শুধুমাত্র দধির পাত্র ও পিঠার খোলা তৈরি করে কোন রকমের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এ অ লে খোলা পাত্রের কদর বেশী রয়েছে।

একটি খোলা তৈরিতে মাটি ও পোড়ানো বাবদ প্রায় ৫ টাকা খরচ হলেও তা বাজারে বিক্রি হয় ১০ টাকা। এর মধ্যেই রয়েছে শ্রম ও মাল বহনের খরচ। ফলে লাভের মুখ তারা দেখে না। অথচ ঐ একটি খোলা এক হাত ঘুরে বাজারে খুচরা ক্রেতা কিনছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। ফলে সহজেই অনুমেয় মূল মুনাফা চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের হাতে। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় মৃৎশিল্পীরা এ পেশার প্রতি হতাশ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান প্রজন্ম এ ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে।

মৃৎশিল্পের নিপুণ কারিগরেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে এখন অনেকটা অসহায় ও মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেক পুরুষ এ পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় চলে গেছেন। মাটির তৈরি জিনিসপত্র আগের মত দামে বিক্রি করতে পারছে না। মাটির এ সকল পাত্রের চাহিদাও আগের মত নেই।

রাইপুর গ্রামের মৃৎশিল্পের কারিগর বিপ্লব কুমার পাল বলেন, ‘লাভ লসের হিসাব করি না। বাপ-দাদার কাজ ছাড়ি কি করি। করোনার আমাগো সকল কাজ বন্ধ হইয়া গেছে। আমরা এখন অসহায় জীবন যাপন করছি। তিনি আরো বলেন, ‘পূর্বপুরুষের পেশা বাঁচিয়ে রাখতে গিয়ে করোনায় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে আমাদের।

এ ব্যাপারে উপজেলার ভবানীপুর পালপাড়া গ্রামের মৃৎশিল্পী শ্রী ধিরেন্দ্রনাথ পাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন মাটি সংগ্রহে অনেক খরচ করতে হয় তাদের। এ ছাড়াও জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে মিল না থাকায় প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হয় তাদের। তার মধ্যে আবার করোনার প্রভাব পড়েছে এখন কাজ কর্ম সব বন্ধ আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি।

এক কালের ঐতিহ্যের মাটির তৈরি বাসন, হাড়ি, পাতিল, কলসি, ব্যাংক, পিঠা তৈরির ছাঁচ, পুতুল এখন প্যাস্টিকের দখলে। ফলে উপজেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের জৌলুস আর নেই। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। ঐতিহ্যের কারণেই মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখা দরকার বলে মনে করেন উপজেলার সচেতন মহল।

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজার: করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে ১০ টাকা কেজি ধরের বিশেষ ওএমএসের চাল কিনতে দীর্ঘ লাইন। করোনা ভাইরাস বিস্তারের শঙ্কা থাকায় গত ১৩ এপ্রিল এই কার্যক্রম স্থগিত করেছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়।
নতুন তালিকা করে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র আওতায় সারাদেশে ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এসব পরিবারকে প্রতি মাসে ১০ টাকা কেজি ধরে চাল দেয়া হবে।
এরই অংশ হিসেবে শনিবার (০২ মে) দুপুর ১২টায় মৌলভীবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কাউন্সিলর মনোবীর রায় মঞ্জু ,পৌর মেয়র ফজলুর রহমানকে সাথে নিয়ে মৌলভীবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ ১০ টাকা কেজি ধরে চাল গ্রহণের কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করেন।
এসময় মেয়র ফজলুর রহমান বলেন করোনা ভাইরাস জনিত কারনে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশে মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ৬ হাজার বিশেষ ওএম এস কার্ড বিতরণ করার কার্যক্রম আজ থেকে শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে আরো ২ হাজার সহ মোট ৮ হাজার কার্ড বিতরণ করা হবে। একটি কার্ডে একজনে ১০ টাকা ধরে ২০০ টাকায় ২০ কেজি চাল নিতে পারবেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা খাদ্য নিয়স্ত্রক বিপ্লব চন্দ্র দাস,প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক পান্না দত্ত সহ পৌরসভার কর্মকতা কর্মচারী বৃন্দ।

নুরুজ্জামান ফারুকী:  হবিগঞ্জ জেলার সবগুলো  উপজেলা করোনা আক্রান্ত হলে ও দীর্ঘ ১ মাস পর নবীগঞ্জ উপজেলায় এই প্রথম একদিনেই নারায়ণগঞ্জ ফেরত ৫  গার্মেন্ট কর্মী করোনা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়,গতকাল বৃহস্পতিবার  সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে যাদের পরীক্ষা পাঠানো হয়েছে এরমধ্যে নারায়নগঞ্জ ফেরত ৫ জনের শরীরে ধরা পড়েছে করোনাভাইরাস। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ জনই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানার শ্রমিক।আক্রান্তদের মধ্যে ৫ জনই পুরুষ। এদের মধ্যে উপজেলায় ১ নং বড় ভাকৈর পশ্চিম  ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের ৩ জন, গ্রামের ৩ হাটির ৩ জন আক্রান্ত হওয়ায় পুরো গ্রাম করোনা ঝুঁকির মধ্যে।  জগন্নাথপুর গ্রামের মধ্য হাটির ১জন আক্রান্ত হওয়ায় তার বাড়ী লকডাউন করা হয়েছে ও করগাঁও ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের ১জন নারায়ণগঞ্জ থেকে আসার পর স্থানীয় প্রাইমারী স্কুল হোম কোয়ারেন্টিনে থাকায় তার বাড়ী লকডাউন করা হয়নি। নবীগঞ্জ হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার চম্পক কিশোর সাহা আক্রান্তদের বাড়ি ঘুরে এসে জানান কাল আক্রান্ত বাড়ী সহ আশেপাশের সব সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।আক্রান্ত সবার বয়স ২০ থেকে ৩০ মধ্যে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জের স্বাস্থ্য ও পঃপঃ  কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ বলেন করোনা  আক্রান্ত ৫ জনকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা  হাসপাতালে আইসোলেশনে সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তদের পরিবারের মানুষদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

এব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন আক্রান্ত ৫জনের মধ্যে ৩জনের বাড়ি সোনাপুর গ্রামের হওয়ায় এই এলাকার মানুষদের এলাকা থেকে বের হওয়া ও  ভিতরে ঢুকার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত পরিবারগুলোকে বাধ্যতা মূলক হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে।

সাধারন মানুষের মাঝে মারাত্মক আতংক

নূরুজ্জামান ফারুকী:  নবীগঞ্জ উপজেলায় নারায়নগঞ্জ থেকে আসা ৬ জনের মধ্যে করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। ১ মে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা থেকে এ রিপোর্ট নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। পরে সিলেট থেকে আসা রিপোর্ট অনুযায়ী নবীগঞ্জের আরো একজন করোনা আক্রান্ত বলে সনাক্ত হয়। এই প্রথম এক দিনেই নবীগঞ্জে ৬ জন আক্রান্ত হয়। এদিকে এ খবর পৌছুলে নবীগঞ্জে সাধারন মানুষের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে।

করোনা আক্রান্ত ৬ জনের মধ্যে ৩ জনের বাড়ী ১নং বড়ভাকৈর পশ্চিম ইউনিয়নের সোনাপুর ১ জন একই ইউনিয়নের জগন্নাথপুর এবং ১ জনের বাড়ী করগাও ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে। করোনা পজেটিভ সংবাদ পাওয়া মাত্র নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান নবীগঞ্জ বাহুবল আসনের এমপি শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী, নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল, টিএইচও ডাঃ আব্দুস সামাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

নবীগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত হিসাবে পরিচিত ১ নং ইউনিয়নের জগন্নাথপুর, সোনাপুরসহ অন্যান্য কয়েকটি গ্রামে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নবীগঞ্জে ৫ শতাধিক মানুষ প্রবেশ করেছে।
এ সময়ই আশংকা করা হয়েছিল এদের মধ্যে করোনা ভাইরাস থাকতে পারে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, বার বার করোনা ভাইরাসের মধ্যে ব্যক্তিগত ভাবে সচেতন হওয়ার আহবান জানানোর পরও কেউই সাড়া দিচ্ছেন না। মানা হচ্ছেনা সরকারি কোনো নির্দেশনা।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ বলেন, আক্রান্তদের ও তাদের পরিবারের লোকজনের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যাদের করোনা পজেটিভ এসেছে তারা সবাই নারায়নগঞ্জ থেকে এসেছেন। তাদের করোনা পজেটিভ এসেছে এতে ভয়ের কিছু নাই, তাদেরকে আমরা আজকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে তাদেরকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আইসোলেশনে পাঠানো হবে এবং পরিবারের অন্যান্য সদসস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।
এমপি শাহনওয়াজ মিলাদ গাজী বলেন, এতে ভয়ের কিছু নেই। আল্লাহর রহমতে আমরা এর মোকাবেলা করব। এই সংকটকালীন সময়ে নবীগঞ্জ বাহুবলবাসীর করোনা রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে একটি গাড়ী বরাদ্দ দিয়েছি।
উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে ১৭০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রেরন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনের পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে

এম ওসমান,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ যশোরের শার্শা উপজেলার বেড়ী নারায়নপুর গ্রামে শুরু হয়েছে অপরুপ সৈন্দর্যের প্রতিক পদ্ম ফুলের চাষ।
উপজেলার বেড়ী-নারায়নপুর গ্রামের আবদুল বারিক ওরফে ফুল বারিকের ছেলে সিরাজুল ইসলাম নামে এক চাষী তার দীর্ঘ দুই বছরের চেষ্টায় একটি মাত্র চারা বিজ দিয়ে আজ তিনি চার বিঘা জলাকারে ফুটিয়ে তুলেছেন পদ্ম ফুলের বিশালাকার লিলাভুমী। তবে বর্তমানে মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন মলিন হতে চলেছে তার।
পদ্ম ফুল গ্রামবাংলার মানুষের কাছে অতি পরিচিত একটি ফুল। এক সময় বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামের নদ নদী জলাশয়ে আপনা-আপনি বেড়ে উঠতো মনোমুগ্ধকর নয়নাভিরাম  সৈন্দর্যের বাহক এই পদ্ম ফুল।
কালের বিবর্তনে জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনে হারিয়ে গেছে পদ্ম ফুলের সৈন্দর্যের লিলাভুমি। কিন্তু বর্তমানে কদর বাড়তে থাকায় দেশের কোথাও কোথাও এই পদ্ম ফুলের চাষ হতে দেখা গেছে।
তেমনি ভাবে শখের বশে এই পদ্ম ফুলের চাষ শুরু করেছেন সিরাজুল ইসলাম নামে এই সৌখিন চাষী। তিল তিল করে জমতে থাকা স্বপ্ন যখন দানায় পরিপূর্ণ ঠিক সেই সময় দেশে বিদ্দমান করোনা ভাইরাসের নিষ্ঠুরতায় সেই স্বপ্ন আশা চুরমার হয়ে গেছে এক নিমিষেই।
সরেজমিনে পদ্ম ফুলের চাষের বিশালতা উপভোগ করতে গেলে দেখা যায়, চার বিঘা জলাকারে বিছিয়ে আছে হাজার হাজার পদ্ম ফুল। হালকা আভায় মৃদু মৌ মৌ গন্ধে পরিপূর্ণ গোটা জলাকারের কানায় কানায়।
কেউ আসছে পদ্ম ফুলের সৈন্দর্য দেখতে কেউবা আসছে শখকরে পদ্ম পাতা ও ফুল কিনতে। এভাবে প্রতিদিন শত শত উৎসুক এলাকাবাসীর পাশাপাশি দুরদুরান্ত থেকে আসা লোকজন ভীড় করছে সিরাজুলের পদ্ম পাড়ে।
ফুল কিনতে আসা সোহেল রানা বলেন, এই পদ্ম ফুল আগের মতো এখন আর দেখা যায় না। বহুযুগ পরে সিরাজুল ভাইয়ের মাধ্যমে আমরা আবার এই পদ্ম ফুলের দেখা পেলাম। তাই বাড়িতে স্ত্রী সন্তানদের জন্য পদ্ম পাতা ও ফুল কিনতে এসেছি। এমন অসংখ্য পদ্ম ফোটা ফুল দেখে খুবই ভাল লাগছে।
হাসমত ও ইয়াছিন এসেছেন পদ্ম ফুল দেখতে তারা জানান, আমরা এই উপজেলারই লোক। অনেক দুর থেকে এসেছি পদ্ম ফুল দেখতে। লোক মারফত খবর পেয়ে পদ্ম ফুলের সৈন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি অনেক ভাল লাগছে।
পদ্ম ফুল মুলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে উৎপত্তি এবং এটি ভারতের জাতীয় ফুল। এটি কন্দ জাতীয় ভূ-আশ্রয়ী বহু বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। এর বংশ বিস্তার ঘটে কন্দের মাধ্যমে।
পাতা পানির ওপরে ভাসলেও এর কন্দ বা মূল পানির নিচে মাটিতে থাকে। পানির উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে গাছ বৃদ্ধি পেতে থাকে। পাতা বেশ বড়, পুরু, গোলাকার ও রং সবুজ হয়।
পাতার বোটা বেশ লম্বা, ভেতর অংশ অনেকটাই ফাঁপা থাকে। ফুলের ডাটার ভিতর অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য ছিদ্র থাকে। ফুল আকারে বড় এবং অসংখ্য নরম কোমল পাপড়ির সমন্বয়ে সৃষ্টি পদ্ম ফুলের।
ফুল ঊধ্বর্মুখী, মাঝে পরাগ অবস্থিত। ফুটন্ত তাজা ফুলে মিষ্টি সুগন্ধ থাকে। ফুল ফোটে রাত্রি বেলা এবং ভোর সকাল থেকে রৌদ্রের প্রখরতা বৃদ্ধির পূর্ব পযর্ন্ত প্রস্ফুটিত থাকে।
রৌদ্রের প্রখরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফুল সংকোচিত হয়ে যায় ও পরবর্তীতে প্রস্ফুটিত হয়। ফুটন্ত ফুল এভাবে বেশ অনেক দিন ধরে সৌন্দর্য বিলিয়ে যায়। পদ্ম ফুলের রং মূলত লাল সাদা ও গোলাপীর মিশ্রণ যুক্ত।
তাছাড়া নানা প্রজাতির পদ্ম ফুল দেখা যায়। এর মাঝে রয়েছে লাল, সাদা ও নীল রঙের ফুল। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি প্রাকৃতিক জলাধার, হাওর-বাঁওড়, খাল-বিলে ও ঝিলের পানিতে পদ্ম ফুল ফুটতে দেখা যায়।
বর্ষা মৌসুমে ফুল ফোটা শুরু হয়। তবে শরতে অধিক পরিমাণে ফুল ফোটে এবং এর ব্যপ্তি থাকে হেমন্তকাল অবধি। ফুটন্ত ফুলের বাহারি রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।
যে রূপের মায়ায় মুগ্ধ হয়ে শরৎ ঋতুর পদ্ম ফুলকে নিয়ে অনেক কবি তার কাব্যের উপমায় পদ্ম ফুলের রঙ-রূপকে তুলে ধরেছেন ভিন্ন ভিন্ন ভাবে।
হিন্দু ধমার্লম্বি মানুষজনের কাছে অতি প্রিয় ও পবিত্র ফুল পদ্ম। বিশেষ করে দুর্গা পূজাতে পদ্ম ফুলের রয়েছে বেশ চাহিদা ও কদর। ফুলের চাহিদা থাকার কারণে এ পদ্ম ফুল সংগ্রহ ও বিক্রয় নির্ভর করে অনেক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন।
তাছাড়া পদ্ম ফুল ভেষজগুণ সমৃদ্ধ ফুল গাছ। এর ডাটা সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। মানব দেহে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে অতুলনীয়। চুলকানি ও রক্ত আমাশয় নিরাময়ে বেশ উপকারী।
জানতে চাইলে পদ্ম ফুলের সফল চাষী সিরাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ দুই বছরের চেষ্টায় এখন আমি এ চাষে সফল হয়েছি। একবার এই ফুলের বংশ বৃদ্ধি পেলেই আর পেছনে ফিরে তাকানো লাগেনা।
কোন খরচ ছাড়ায় পদ্ম ফুলের চাষ করে এক মৌসুমে লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। এই ফুলের ডাটা, পাতা, ফুল, কুড়ি ও পদ্ম ফলের আলাদা আলাদা চাহিদা রয়েছে।
তবে দুঃখের বিষয় হলো এমন সময় আমার চাষের সফলতা এসেছে যখন বিশ্বজুড়ে চলছে ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের মহামারি। যার কারণে দুর-দুরান্ত থেকে কেউ ফুল কিনতে আসতে পারছেনা। তাই সব মিলিয়ে সফলতার প্রথম মৌসুমেই বেচাকেনা কম হওয়ায় লাভ লোকষানের হিসাব মিলাতে পারছিনা।
তবে আশা করছি ফুল মৌসুম থাকতে থাকতে যদি পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে তবে কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখতে পারবো।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৌতম কুমার শীল বলেন, দেশে এবং দেশের বাইরে পদ্ম ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ফুলের চাষ ও ব্যবহার সঠিক ভাবে করতে পারলে অনেকাংশে লাভবান হওয়া সম্ভব।
আমার কৃষি বিভাগ প্রতিটি চাষে এবং প্রতিটা কৃষকের সব সময় সকল সুযোগ সুবিধা দিতে প্রস্তুত। চাষী সিরাজুল ইসলামের সকল প্রকার সহযোগিতা করতে সার্বিক ভাবে চেষ্টা করবো।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় কম নমুনা পরীক্ষা করে দেশে বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। তার মধ্যেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা শনাক্তের ফলাফল নিয়ে। পিসিআর ল্যাবে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হলেও অন্য ল্যাবে তার ফল আসছে নেগেটিভ। কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে ৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে এমনই ঘটনা ঘটেছে।

কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে ৬৭ জনের করোনা পজিটিভ হলেও ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথে (আইপিএইচ) ৬৫ জনের নেগেটিভ এসেছে। মাত্র দুইজনের করোনা পজিটিভ বলে সেখান থেকে জানানো হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থাপিত ল্যাবে সোমবার চার জেলার ১৭৩ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়াসহ আরও তিন জেলার ৬৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। আগের তুলনায় পজিটিভ রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চিন্তায় পড়ে কর্তৃপক্ষ।

দুদিন পর কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ৬৭ জনের পজিটিভ শনাক্তের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। নতুন করে নমুনা আইপিএইচে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পুণরায় পরীক্ষা করে চূড়ান্ত ফলাফল দেয়া হবে। পরে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে ৬৭ জনের করোনা পরীক্ষার ফলাফল পাঠানো হয়।

এর মধ্যে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার দুইজনের করোনা পজিটিভ এবং বাকি ৬৫ জনের নেগেটিভ এসেছে। ওই ফলাফলে কুষ্টিয়ার কারো শরীরে করোনা শনাক্ত হয়নি।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম সমকালকে জানান, সোমবার কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেুরপুর জেলার ১৭৩ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৬৭ জনের পজিটিভ আসে। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় পুনরায় পরীক্ষা করার জন্য আইপিএইচে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে পুনরায় পরীক্ষার ফল এসেছে। তাতে ৬৫ জনের নেগেটিভ এসেছে।

কুষ্টিয়া ল্যাবের প্রধান নাজমীন রহমান এ ব্যাপারে বলেন, ‌‘৬৭ টির মধ্যে একটির ব্যাপারে আমরা ক্লিয়ার (স্পষ্ট) ছিলাম। ৬৬ টি নিয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল।

নুরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ থেকে: প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চল নবীগনজের অধিকাংশ লোকজনেরই জীবিকা নির্বাহের প্রধান উপায় বোরো ফসল। রোপা এবং বোনা আমন চাষ করলেও মূল উপার্জন হয়ে থাকে এই বোরো ফসল থেকেই।
প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে ফসল গড়ে তুলটা কৃষকের কাছে নতুন কোনও বিষয় না। অকাল বন্যায় তলিয়ে গেলেও কৃষকরা হার মানেন না। পুনরায় ফলান সোনালী ফসল। কিন্তু এই হার যদি মানতে হয় মানবসৃষ্ট সমস্যার কাছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
যেমনটা ঘটে চলেছে বিগত কয়েক বছর যাবৎ। ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন প্রান্তিক কৃষকগণ। লোকসানের মুখে পড়ে পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক। চলতি বছর করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। এনিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেল কয়েক বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এবার বুক ভরা আশা নিয়ে বোরো আবাদ করেছেন কৃষকরা। ধান কাটার শুরুতে আগাম বন্যার আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। দিনরাত পরিশ্রম করে গড়ে তুলা হচ্ছে সোনার ফসল। অথচ স্থানীয় কিছু মহাজনদের সিন্ডিকেটের কারণে ধানের দাম কমে গেছে।
কৃষক মমিন ইসলাম   জানান, কনকনে শীতের মধ্যে পরিবারের সদস্য ও শ্রমিকদের নিয়ে ইরি/বোরো জমি চাষ করেছি বর্গা নিয়ে। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৭ হাজার টাকা। অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের শ্রমতো রয়েছেই। বিঘায় ফলন হয়েছে ২০ মন করে। বিক্রি করতে হচ্ছে মনপ্রতি ৫০০ টাকা। সবশেষে বিঘাপ্রতি পাওয়া যাচ্ছে ১০ হাজার টাকার ধান। যেটুকু লাভ হয়, সেটুকু দিয়ে দিতে হয় ধান কাটার শ্রমিক এবং আনুষাঙ্গিক খরচ বাবত। সবশেষে থাকে শুধু গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত খরটুকুই।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ২০ জন কৃষকের সাথে কথা বললে তারা একই হিসেব দিয়েছেন। এদের অধিকাংশই নিজেদের পেশা বদল করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলার সফিক মিয়াওমদনপুর গ্রামের কৃষক খোরশেদ  মিয়া জানান, শুরু থেকেই আবহাওয়া অনকূলে থাকায় এবার ভাল ফলন হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরুর পূর্বেই ঘরে উঠবে ধান। শুরুর দিকে মনটা ভাল থাকলেও বর্তমানে ধানের দাম কমে যাওয়ায় সারা বছর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কিভাবে চলবেন সেই চিন্তা করছেন তিনি। তিনি আরো জানান, শুরুর দিকে ধানের দাম ভাল থাকলেও এলাকার কিছু ব্যবসায়ী একাট্টা হয়ে ধানের দাম কমিয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  জানান অত্র উপজেলায় আবাদি জমি ২০হাজার  হেক্টর। বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে ২০হাজার  হেক্টর জমিতে। বর্তমানে ৫২ শতাংশ জমির ধান কর্তন করা হয়েছে। বর্তমান বৈরী আবহাওয়ার কারণে ৮০ শতাংশ ধান পাকার পরই কর্তনের জন্য কৃষকদের প্রতি আহব্বান জানান তিনি।

নওগাঁ-২ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এই প্রথম কোনো সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন।

সংসদে সরকারদলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিক আজ (শুক্রবার) রাতে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ওনার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তবে ওনার এখনও শারীরিক কোনো অসুবিধা নেই। ভালো আছেন। তাও নিজেকে আইসোলেশনে রেখেছেন তিনি। উনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।”

নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে বলেন, “উত্তরাঞ্চলের একজন মাননীয় সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন। দোয়া করি সৃষ্টিকর্তা তাকে যেন দ্রুত সুস্থ করেন। আমি তার জন্য সবার কাছে দোয়াপ্রার্থী।”

৬৫ বছর বয়সী সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান গত ২৮ এপ্রিল তার নির্বাচনি এলাকা থেকে ঢাকায় আসেন। সে রাতেই জ্বর ও গলা ব্যথায় আক্রান্ত হন তিনি। অসুস্থতা না কমলে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আজ (শুক্রবার) নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন। তাকে জানানো হয়েছে, তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকায় তাঁর জন্য বরাদ্দ দেওয়া ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে আছেন।

তিনবারের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। আগের সংসদে তিনি হুইপের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এম ওসমান,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ  শার্শা উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ঘরবন্ধি নিম্ন আয়ের হত দরিদ্র আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সারা দেশের ন্যায় শার্শা উপজেলার ৩০০ আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মাঝে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
শুক্রবার সকাল ১০টায় শার্শা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের সামনে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়।
এসময় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ঘরবন্ধি ৩০০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মাঝে ৫ কেজি চাউল, ২ কেজি আলু ও ১কেজি ডাউল, ১লিটার তেল, ১টি সাবান ও ১টি মাস্ক বিতরন করা হয়েছে।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী মানুষ যখন ঘরবন্দি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দীর্ঘদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর গোটা দেশ যখন লকডাউনে উপনীত হয়েছে তার প্রভাব পড়েছে প্রতিদিনের শ্রমজীবি নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে খাবার সংকট দেখা দেওয়ার কারণে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশ ক্রমে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিস এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন।
খাদ্য সামগ্রী বিতরন কালে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রাসেল, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষিকা সাজেদা আক্তার ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আনসার ও ভিডিপি কমান্ডারগন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc