Saturday 30th of May 2020 01:24:12 PM

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ  যশোরের শার্শায় সদ্য নবজাতক একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছে এক কৃষক। বৃহস্পতিবার (৩০শে এপ্রিল) সকালে উপজেলার কাঠুরিয়া গ্রামের একটি পটলের ক্ষেত থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন তিনি।

কৃষক ফজলুর রহমান জানান, ভোরে পটলের ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে একটি বস্তা দেখতে পায়।বস্তার কাছে গিয়ে দেখি ভীতরে কিছু নড়াচড়া করছে। বস্তার মুখ খুলতেই দেখি সদ্য নবজাতক একটি শিশু কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ছটফট করছে। শিশুটিকে বাড়িতে এনে প্রাথমিক পরিচর্যা করি।

এ ঘটনা মুহুর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক এলাকাবাসী শিশুটিকে একনজর দেখার জন্য ছুটে আসেন।

উলাশী ইউনিয়নের মহিলা ইউপি সদস্য মমতাজ বেগম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং ফজলুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে শিশুটির বিষয় খোঁজ খবর নিয়েছি।

কৃষক ফজলুর রহমানের দম্পতি নিঃসন্তান হওয়ায় তিনি শিশুটিকে নিজের সন্তানের মতোই লালন পালন করতে ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করে ফজলুর রহমানের বাড়িতে শিশুটিকে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, রাখে আল্লাহ মারে কে, কে বা কারা শিশুটিকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে ফেলে দিয়ে যায়।
আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে জীবিত অবস্থায় নিঃসন্তান কৃষকের ঘরে ঠাঁই হলো তার।

শার্শা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহমুদ-আল ফরিদ ভুইয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, উদ্ধারকৃত নবজাতকের বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নবজাতকের গর্ভধারিণী মাকে চিহ্নিত করে কয়েকদফা জিজ্ঞাসাবাদ করেও নবজাতকের জন্মদাতাকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এমনকি ভিকটিমের পক্ষ থেকেও আইনগত সহায়তার জন্য কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ফলে আইনগত পদ্ধতিতে পাপের ফসল নবজাতকের জন্মদাতাকে সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে নাভারণ সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপারের সাথে আলাপ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। নবজাতক শিশুটি বর্তমানে ভিকটিমের বাড়ির পাশে ফজলুর রহমানের বাড়িতে পুলিশী জিম্মায় আছে।

“সরকারি ‘খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী’র চালসহ এক আ’লীগনেতা পুত্রসহ র্যাবের হাতে আটক”

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  বুধবার রাতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কালোবাজারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা মূল্যের চাল চুরির অভিযোগে ছেলেসহ আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করেছে র‌্যাব-৯। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭ বস্তায় ২১০ কেজি চাল জব্দ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে তারা উপকারভোগীদের চাল সুকৌশলে আত্মসাৎ করে বিক্রি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।বুধবার (২৮ এপ্রিল) রাতে র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি দল অভিযান চালিয়ে চুরিকৃত ২১০ কেজি চালসহ বাবা-ছেলেকে আটক করে।আটক ডিলার আবু আব্দুল্লাহ ও তার ছেলে আজিজুর রহমান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে জানিয়েছেন, তারা ইসলামপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের সরকারি চাল বিভিন্ন সময় সুবিধাভোগীদের টিপসই জাল করে চুরি করে আসছে।

এ বিষয়ে র‌্যাব-৯ এর শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অধিনায়ক এএসপি শামিম আনোয়ার জানান, এসব চাল গরীবের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার। ডিলার আবু আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন থেকে উপকারভোগীদের টিপসই জাল করে চাল আত্মসাৎ করে বিক্রি করে আসছিল এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘরে খাতাপত্রে ২৩ বস্তা থাকার কথা থাকলেও ৩০ বস্তা চাল পাওয়া যায়। উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হান্নান ও স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য মৃনাল কান্তি সিংহ, বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফয়জুল হকের উপস্থিতিতে আবু আব্দুল্লাহ ও ছেলে আজিজুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।

আটক আসামিদ্বয়কে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য কমলগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে মর্মেও নিশ্চিত করেন এ র‍্যাব কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গভীর রাতে অভিযান শেষ হবার সময়ও কয়েক শ স্থানীয় জনতা উপস্থিত থেকে ‘চাল চোর’ পিতাপুত্রকে আটক কররার জন্য র‍্যাবকে ধন্যবাদ জানান।

জহিরুল ইসলাম.নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশে  গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আরও ৫৬৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ৬২৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৬৮ জনের। এছাড়া দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা  মোট দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬৬৭ জনে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ হাজার ৬২৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে চার হাজার ৯৬৫টি। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬৪ হাজার ৬৬৬টি।

নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও ৫৬৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ৬৬৭ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও পাঁচজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৮ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১০ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন।

নতুন করে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং দুজন নারী। দুজন ষাটোর্ধ্ব এবং তিনজন চল্লিশোর্ধ্ব   বয়স।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

চার মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস ক্রমে গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা সোয়া ৩২ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সোয়া দুই লাখ। তবে প্রায় ১০ লাখ রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। যদিও এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু পোশাক কারখানা সীমিত পরিসরে খুলতে শুরু করেছে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও।

“অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদ্যস্যসহ উপস্থিতদের একজন এএসপি শামীম আনোয়ার।তার মত সাহসী যোদ্ধা যার রাত জেগে অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সেহেরিবিহীন রোজা রাখাই আরেকটি সরাইল পরিস্থিতি প্রতিরোধের উপাখ্যান তৈরি করলো”

জহিরুল ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টারঃ পৃথিবীব্যাপী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের ছোবলে যখন দিশেহারা অগণিত মানুষ তখন বাংলাদেশও এই মহামারীর আঘাতে জর্জরিত। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার একটি জানাজায় সরকারের স্বাস্থ্য বিধি,লকডাউন উপেক্ষা করে স্থানীয় প্রশাসনের দুর্বলতায় এবং মুসুল্লিদের কেহ কেহ টুপি-পাঞ্জাবি লুকিয়ে রেখে ছদ্মবেশ ধারণ করে হবিগঞ্জ জেলাসহ বি-বাড়িয়া থেকে হাজারো মানুষের ওই মাওলানার জানাজায় উপস্থিতি লাখো মানুষকে মহামারীর দিকে ঠেলে দিয়ে দেশব্যাপী সকল মহলে সমালোচনার ঝড় বইয়ে দিয়েছে এমনকি শঙ্কিত করে তুলেছে পুরো জাতিকে। এরই পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলছিল মৌলভীবাজার জেলায়ও। বিপুল পরিমাণ লোকসমাগমের শঙ্কা ও অনিশ্চয়তাকে পাশ কাটিয়ে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলো মৌলভীবাজার জেলার বরুনা মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল মুমিতের দাফন প্রক্রিয়া। বুধবার (২৯এপ্রিল,২০২০) ভোর ৪ টা ৩০ ঘটিকায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ঢেওপাশা গ্রামে মরহুমের বাড়ির উঠানে দুই শতাধিক মুসল্লির উপস্থিতিতে নামাজে জানাযা শেষে মৃতদেহ সসম্মানে কবরস্থ করা হয়।

কবর খনন তদারকি করছেন এ এস পি আনোয়ার হোসেন শামিম ও স্থানীয় গণ্যমান্য মুরুব্বিসহ অন্যান্যরা।

জামেয়া লুৎফিয়া আনওয়ারুল উলুম হামিদ নগর বরুনা মাদরাসার মুহাদ্দিস পদে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন শায়খুল হাদিস আল্লামা আবদুল মুমিত ঢেউপাশি। বহুদিন এই মাদ্রাসায় দায়িত্বরত থাকায় এলাকার সাধারণ জনগনের মধ্যে তার ভিন্নরকম একটি গ্রহণযোগ্যতা ছিল। বিপুল পরিমাণ ভক্তবৃন্দের পাশাপাশি ছিল অসংখ্য প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী। মূলত এই কারনেই তার জানাযা কেন্দ্রিক ব্যপক লোকসমাগমের সম্ভাবনা তৈরি হয়। দেখা দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনাও।

কিন্তু র‍্যাব, পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও রাত জেগে সময়োচিত সিদ্ধান্তের কারনে কোন রকম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ছাড়াই লাশ দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

এক্ষেত্রে র‍্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম’র তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী,স্থানীয় মুরুব্বিসহ সচেতন মহল। তার তৎপরতা ও ব্যবস্থাপনায়ই সকালের জন্য অপেক্ষা না করে ভোর থাকতেই জানাযা ও দাফন শেষ করে মৃতের পরিবার।এ সময় রাত জেগে কবর খননসহ জানাজায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চক বেঁধে দাঁড়াতে সকল মুসুল্লিকে অনুপ্রাণিত করেন।

জানাজায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মুসুল্লিদের অনুরোধ করছেন এএসপি আনোয়ার হোসেন শামিম,অধিনায়ক র‍্যাব-৯

প্রসঙ্গত,জানাজা নামাজ মুলত ফরজে কেফায়া,যা কিছু সংখ্যক লোক আদায় করলেই মৃত ব্যাক্তির অধিকার ও জীবিতদের হক আদায় হয়ে যায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে মাথায় তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করলে মুহাদ্দিস আব্দুল মুমিতকে দ্রুত সিলেটে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বজনরা। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সিলেট থেকে মৌলভীবাজারে লাশ আনার পর দাফনের পূর্বপর্যন্ত সারারাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দাফন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা পালন করেন র‍্যাব-৯, শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম। রাতভর নির্ঘুম দায়িত্ব পালনের পর সেহেরি খেতে যেতে না পারায় শুধু পানি পান করেই রোজা রাখেন এ র‍্যাব কর্মকর্তা ও সাথে থাকা অন্যান্য র‍্যাব সদস্যরা।

এ প্রসঙ্গে এএসপি আনোয়ার বলেন, “আসলে ওই সময় বাসায় যেয়ে সেহেরি খাওয়ার মতো সময় ও পরিস্থিতি ছিল না। কারন সিদ্ধান্ত হয়েছিলো, ফজরের নামাজের পরপরই দাফন প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলা হবে। যদি ওই মুহূর্তে আমরা সেহেরি খেতে আসতাম, এর মধ্যেই বিপুল জনতা জানাযার জন্য উপস্থিত হয়ে যেতে পারতো এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টির সম্ভাবনাও থাকতো। তাই সেহেরি খেতে না পারলেও আমি এটা ভেবেই খুশি যে, অবশেষে সবকিছু কোনরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না ঘটেই সুসম্পন্ন হয়েছে “।

এএসপি আনোয়ারের প্রত্যক্ষ ভূমিকায় উঠানে স্বল্পসংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে জানাযা সম্পন্ন হয়। এমনকি জানাযার লাইনে দাড়ানোর পরও তিনি উপস্থিত মুসল্লিদেরকে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ানো নিশ্চিত করেন এবং অতিরিক্ত মানুষজনকে উঠান থেকে চলে যেতে অনুরোধ জানান। তার সপ্রতিভ ও সক্রিয় ভূমিকার প্রতি উপস্থিত মুসল্লিদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় বারবার।

সেহাব উদ্দিন নামে এক লোক জানান, ফেইসবুকে বুধবার দুপুর ২ টায় কেহ আবার সকাল ৬ টায় জানাজার সময় দিয়েছিলো আমরাও প্রস্তুতি নিয়েছিলাম জানাজায় সময়মত যেতে। এর মধ্যে ভোরে একাধিক ফেইজবুক স্ট্যাটাসে লিখেছে ভোর বেলায় জানাজা সম্পন্ন হয়ে গেছে।কেন এত তাড়াতাড়ি হল জানতে চাইলে এক ফেইসবুক ফ্রেন্ড জানান,র‍্যাব কর্মকর্তার কারণেই সময় চেঞ্জ করা হয়েছে যাতে সরাইলের অবস্থা না হয়, তিনি কোন মতেই রাত পোহাতে সম্মত হয়নি। এ সময় জেলা পুলিশের অফিসাররাও উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন৷ উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিভিন্ন মানবিক কাজের মাধ্যমে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম। তিনি ৩৪ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডার ব্যাচের একজন কর্মকর্তা।

নুরুজ্জামান ফারুকী: নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জে নারায়নগঞ্জ থেকে আসা যুবককে মসজিদে নামাজ পড়তে না গিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলাকে কেন্দ্র করে হামলা লুটপাট ও  ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলায় গুরুতর আহত ৪ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের প্রজাতপুর গ্রামের আলীফর উল্লার পুত্র গার্মেন্টস কর্মী মাহিদ মিয়া গত শুক্রবার নারায়নগঞ্জ থেকে নিজ বাড়ি প্রজাতপুর গ্রামে আসে। বাড়ীতে এসে সে গ্রামে অবাধে চলাফেরা করে। ধর্মমন্ত্রণালয় কর্তৃক তারাবী নামাজে ১২ জনের বেশী মুসল্লী নামাজ না পড়তে বিধিনিষেধ দেয়া হলেও মাহিদ প্রথম রোজা থেকেই গ্রামের মসজিদে নামাজ পড়ে আসছে।

এমন অবস্থায় গত ২রমজান সন্ধায় একই গ্রামের মৃত ছাও মিয়ার পুত্র মইনুল ইসলাম মাহিদকে ঘর থেকে বের না হয়ে সরকারের নির্দেশনা মেনে ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে অনুরোধ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহিদ বলে আমি কোথায় থাকবো না থাকবো তাতে তোর কি। এ নিয়ে দুজনের মধ্য তর্কবিতর্ক হয়।  এ সময় মাহিদের পক্ষ নেয় তার সঙ্গী শাহিন আহমদ বসুর ও নুর আলম। তারা মইনুলের উপর আক্রমন করতে চাইলে গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, স্বপন মিয়াসহ কয়েকজন লোক আসলে আক্রমনকারীদের হাত থেকে রক্ষা পায় মইনুল।

এর জের ধরে মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে শাহিন আহমেদ বসুর ও মঈন উদ্দিনের ছেলে নুর আলমের নেতৃত্বে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে মাহিদসহ তার অন্যান্য লোকজন বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে শজ্জিত হয়ে গত বুধবার (২৯এপ্রিল) ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় মইনুল ইসলাম, তার চাচাতো ভাই স্বপন মিয়া ও সিরাজুল ইসলামের বাড়ীতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা সিরাজুল ইসলামের বাড়ীতে লুটপাট ও ভাংচুর করা হয় বলে জানাগেছে।

হামলায় ১০জন আহত হন। আহতদের মধ্য তারেক মিয়া (২২), স্বপন আহমেদ (৩০) ইমরান মিয়া (২০) ও সালামিন (২৫) কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহত সেলিম মিয়া (৩৫), উজ্জল আহমেদ (৩৩), মইনুল ইসলাম (২৮), প্রবীর মিয়া (২৫), হাফিজুল ইসলাম (২৯)। তাদেরকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘুম থেকে উঠে মইনুলের লোকজনসহ গ্রামবাসী ঘটনা স্থলে ছুটে আসলে হামলাকারীরা ঘটনা স্থল ত্যাগ করে।
এ ব্যাপারে ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সামছউদ্দিন খাঁন জানান, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে যাই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন,এবার বাম্পার ফলন হয়েছে,আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলবো হাওরে উৎসব মুখর পরিবেশে বোরো ধান কাটা মাড়াই হচ্ছে। তিনি আরোও বলেন,এবার ধান ক্রয়ে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
লটারির মাধ্যেম প্রকৃত কৃষক বাছাই করে এপসের মাধ্যমে ক্রয় কাজ সম্পন্ন করা হবে।সুনামগঞ্জসহ হাওরের সাত জেলায় গড়ে ৬৫ভাগ ধান কাটা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের হাওনে প্রায় ৭৫ভাগ ধানকাটা শেষ। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ধানকাটা শেষ হবে। আগামীতে ধান কাটার মেশিন আরো দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওরা লের কৃষকসহ সবার প্রতি আন্তরিক।
এসময় তিনি কৃষক ও শ্রমিকদের মাঝে ত্রান ও বস্ত্র বিতরন করেন।বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরের পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। এর পূর্বে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাংহাই হাওরে ধান কাটা পরিদর্শন করনে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানন,মুহিবুর রহমান মানিক এমপি,মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি,পীর মিসবাহ এমপি,জয়াসেন গুপ্তা,শামীমা শাহরিয়ার এমপি,জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ,পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান,জেলা আ,লীগের সাধারন সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন,পৌর মেয়র নাদের বখত,তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল,উপজেলা নিবার্হী অফিসার বিজেন ব্যনার্জি,জেলা শ্রমিকলীগ আহবায়ক সেলিম আহমদ,উপজেলা আ,লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খাঁ,সাধারন সম্পাদক অমল কান্তির কর,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম,যুবলীগ আহবায়ক হাফিজ উদ্দিন পলাশ,সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রায়হান উদ্দিন রিপন,উত্তর বড়দল ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মাসুক মিয়া,বাদাঘাট সরকারী কলেজের অধ্যাক্ষ জুনাব আলী,ছাত্রলীগ সভাপতি আবুল বাসার,সাধারণ সম্পাদক তুশার,ছাত্রলীগ নেতা ধীমান চন্দ্র,রাহাদ হায়দার,মনিরাজ শাহ,পুলক মিয়া,প্রমুখ।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টাকা ধার না দেওয়ায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের উত্তর কানাইদেশী গ্রামের প ান্নোর্ধ্ব করম উদ্দিনের বাড়ী-ঘর, আসবাবপত্র ভাংচুর,লুটপাট ও অন্তস্বত্তা নারীসহ ৩জনকে কুপিয়ে-পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কমলগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত মামলাসূত্রে (মামলা নং/১৭.জিআর/৭১/২০২০ইং) জানা যায়,প্রতিবেশী সাদেক মিয়া করম উদ্দিনের কাছে টাকা ধার না পেয়ে ক্ষিপ্ত ছিলেন। ২৭ এপ্রিল (মংগলবার) দুপুরে সাদেক মিয়া সংঘবদ্ধভাবে করম উদ্দিনের বাড়ীতে গিয়ে হামলা ও লুটপাট চালান। এ সময় করম উদ্দিনের সাত মাসের অন্তস্বত্ত্বা পূত্রবধু সহ আরও দুই জন গুরুতর আহত হন।

তিনি অভিযোগ করেন,এ সময় ঘরের শোকেসের ড্রয়ারে রক্ষিত প্রবাসী স্ত্রীর পাঠানো প াশ হাজার টাকাও তারা লুটপাট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।তাদের অবস্থা গুরুতর দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

বর্তমানে অন্তস্বত্ত্বা নারী অলিমা বেগম ও তার স্বামী ওয়ারিস মিয়া সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাদেক মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম,এ, হান্নান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবী করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক আনিসুর রহমান বলেন, তদন্তক্রমে দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানূগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গীতি গমন চন্দ্র রায়,স্টাফ রিপোর্ট: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বুধবার পীরগঞ্জ কলেজ হাট বার থাকায় পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের কেনাবেচা করতে আসে যা বাজার পরিদর্শনে দেখা যায়।
কলেজ হাট বাজারে পীরগঞ্জ এলাকার মোঃসলেমান আলীর সাক্ষাতে কথা হলে তিনি বলেন আজ বুধবার পীরগঞ্জ কলেজ হাট বার পরিবারের জন্য শাক সবজি, লবণ, তৈল ইত্যাদি নেওয়ার জন্য বাজারে এলাম।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলার কাচন ডুমুরিয়া এলাকার এক কামারের দোকানদার দোকান নিয়ে আসে তিনি জানান করোনা ভাইরাস দেশে আসায় আমার দোকানে মালামাল বিক্রি হচ্ছে না সংসার চালাতে কঠিন হয়ে পড়ছি।
অপরদিকে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, শ্রমজীবী কর্মজীবি,রিক্সা চালক,ভ্যান অটোরিকশা চালক,পরিবার ও সংসারের খাবার খরচ চালাতে কঠিন দূরাবস্থায় পড়েছেন।এবং মধবিত্ত পরিবারের লোকেরা আরো অসহায় হয়ে পড়েছেন বলে জানা যায়।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  চুনারুঘাটে দৈনিক খবরপত্র ও প্রথমসেবা ডটকমের চুনারুঘাট প্রতিনিধি মোজাম্মেল হক (২৪) ও তার পিতা মোঃ তুরাব হোসেন (৪৮) কে পুর্ব বিরোধের জের ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে বর্বরোচিত হামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার বিকাল অনুমান সাড়ে ৫ টায় চুনারুঘাট পৌরসভার পশ্চিম পাকুড়িয়া গ্রামে। আহত সাংবাদিক মোজাম্মেল জানান, তার পিতা তাদের জমিতে কাজ করতে গিয়ে তাদের সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে একই বাড়ির মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুল করিমের নেতৃত্বে সুলাইমান,দুলন মিয়া, সুজন ,মিজান মিয়াসহ ১০/১২ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রনিয়ে বর্বরোচিত হামলা করে।
এসময় তাদের শোর চিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে বাহুবল হাসপাতালে ও পরে আশংঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বাহুবল হাসপাতালের দায়িত্বরত ডাক্তার জানান, সাংবাদিক মোজাম্মেল হকের মাথায় একাধিক রামদার কুপ এবং সারা শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এছাড়াও তার পিতার অবস্থা খুবই গুরুতর মাথায়, হাতে ও হাটুতে অসংখ্য কুপের চিহ্ন রয়েছে। তার শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, তাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমানীতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে বাহুবল হাসপাতালে ছুটে যান, বাহুবল উপজেলা আওয়ামিলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক সুহেল আহমদ কুটি, বাহুবল প্রেসক্লাবের সভাপতি নুর ইসলাম নুর,চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের সেক্রেটারী মোঃ জামাল হোসেন লিটন, যুবলীগ নেতা আব্দুল কাদির প্রমুখ। হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।
চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়েছি। এসআই রাজন এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন, তিনি বলেন আসামি ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

কোভিড-১৯ বা করোনা সংক্রমণের কারণে বাংলাদেশে চিকিৎসক-নার্সসহ ৭২৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার এ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে।

সংগঠনের মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী গতরাতে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক ৩১৬ জন, নার্স ১৪৮ জন এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন ২৬৩ জন। এতো বিপুল সংখ্যক চিকিৎসাকর্মী আক্রান্তের ঘটনায় সেবাদানকারীদের মধ্যেই দারুণ উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

বিএমএস মহাসচিব জানান, সর্বোচ্চ আক্রান্ত ঢাকায় ৫৪৮ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসক ২৩১ জন, নার্স ১২৪ জন এবং স্বাস্থ্যকর্মী ১৯৩ জন। বরিশালে চিকিৎসক ১৩ জন, নার্স ২ জন এবং স্বাস্থ্যকর্মী ৭ জন, চট্টগ্রামে চিকিৎসক ১৩ জন, স্বাস্থ্যকর্মী ৭ জন, খুলনায় চিকিৎসক ১০ জন এবং স্বাস্থ্যকর্মী ৫ জন, রংপুরে চিকিৎসক ৫ জন, নার্স ২ জন এবং স্বাস্থ্যকর্মী ৪ জন, সিলেটে চিকিৎসক ৭ জন, নার্স ২ জন এবং স্বাস্থ্যকর্মী ৭ জন, ময়মনসিংহে চিকিৎসক ৩৬ জন, নার্স ২১ জন এবং ৩৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এ পর্যন্ত চিকিৎসক-নার্সসহ ৩০ স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন। পরিচালক জানান, আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক ৮ জন, নার্স ১৬ জন, ওয়ার্ড মাস্টার ২ জন, ওয়ার্ড বয় ৩ জন এবং একজন আনসার সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের সংস্পর্শে থাকায় ১৫ চিকিৎসক ও ৩৭ নার্সকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পরিচালক।

প্রথম পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

ঢাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী (৪০) নামের একজন পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। আজ (বুধবার) সকালে আইইডিসিআর জানিয়েছেন, ওই কনস্টেবলের নমুনায় করোনা পাওয়া গেছে। বংলাদেশে এই প্রথম কোনো পুলিশ সদস্যদের করোনায় মৃত্যু হলো।

মৃত জসিম উদ্দিন পাটোয়ারীর বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচংয়ে। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। জসিমউদ্দিন ওয়ারী পুলিশ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ওয়ারী ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি করোনায় সংক্রমিত হন। তাঁর সঙ্গে আরও একজন সদস্য সংক্রমিত হলেও তাঁর অবস্থা ভালো।

আক্রান্ত ৩৯২ পুলিশ

করোনাভাইরাসে ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে গিয়ে পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। গত ৫ দিনে সারাদেশে ১৭৪ জন পুলিশ সদস্য নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে। গত ২৩ এপ্রিল আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২১৮। তা বেড়ে আজ বুধবার দাঁড়িয়েছে ৩৯২ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে কনস্টেবলদের সংখ্যাই বেশী।

সবচেয়ে বেশি পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকায়। তারপরেই রয়েছে গাজীপুর, গোপালগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকাতে আজ সকাল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৮১। এর মধ্যে ১২ জন নারী সদস্য।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীসহ সারাদেশেই টহলসহ সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তায় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে পুলিশকে। দিন-রাত মহাসড়কে, শহরের অলি-গলিতে দাযিত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। একই সাথে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করন ও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতেও ছুটে যাচ্ছেন তারা। অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুর পর লাশ উদ্ধার করে মর্গে নিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর পর যখন জানাযা, দাফন করাতে কেউ এগিয়ে যেতে চায় না তখনও এগিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।এর ফলে কখন কিভাবে কে আক্রান্ত হচ্ছে তা বোঝা দুষ্কর হয়ে যায়।

আক্রান্ত ১০ কারারক্ষী

ওদিকে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ১০ জন কারারক্ষী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েক দিনে তাদের একাধিকবার পরীক্ষা করা হলে ফলাফল পজিটিভ আসে।

এই ১০ জন বর্তমানে জিঞ্জিরা ২০ শয্যা হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মিরপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুর ইসলাম গণমাধ্যম‌কে বিষয়‌টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ব‌লেন, আক্রান্তদের ১০ জনই পুরান ঢাকার কারাগারে থাকতেন। তাদের দায়িত্ব ছিল অসুস্থ বন্দিদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো। কিছুদিন আগে এক কারারক্ষী প্রথমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এদের সংস্পর্শে যারা এসেছে তাদেরসহ পুরান ঢাকার কারাগারে থাকা আরও বেশ কয়েকজনের করোনা পরীক্ষা করা হলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানায় করোনা পরীক্ষায় তাদের পজিটিভ এসেছে।পার্সটুডে

নজরুল ইসলাম তোফা: সবশ্রেণীর মানুষদের জীবনের উৎকর্ষ-অপকর্ষের সূবিচার হয় তাদের ‘চরিত্র’-পরিচয়ে। মানুষদের ”জীবন এবং কর্মের” মহিমায় তাদের চরিত্রের আলোকেই পায় দীপ্তি। সকল মানুষ তার চরিত্র-বৈশিষ্ট্য অনুসারেই কাজ বা চিন্তা করে এবং সেই অনুযায়ী যেন সমাজজীবনে ভূমিকা রাখে। মানুষের জীবনে চরিত্র যে তার অহংকার ও সম্পদ। জনৈক দার্শনিক বলে ছিলেন, মানুষ হচ্ছে তিন প্রকার।
একশ্রেণীর মানুষ হলো খাদ্যের জন্য সংগ্রাম করে যাদের দরকার হয় সবসময়েই খাদ্য। আরেক শ্রেণীর মানুষ হলো, ঠিক ওষুধের মতোই যাদের দরকার হয় মাঝে মাঝে। আরেক শ্রেণীর মানুষরা হলো, রোগের মতো যা তাদের কখনো যেন দরকার হয় না। এ মানুষরা এই তিনটি বিষয় নিজ থেকে বিশ্বাস করে কিন্তু সৃষ্টিকর্তা এখানে বৃহৎ ভুমিকা আছে তাইতো তাঁরা এমন আচরণেই কথা কপচায় এবং দাপটের সঙ্গেই চলে।
যার যেটা শক্তিশালী সে সেটা নিয়ে অহংকার করে। সুতরাং, সৃষ্টিকর্তা তাদের অহংকার একনিমেষেই পরিবর্তন করে দিতেও পারেন। মানুষের বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু বোকামীর কোন সীমাবদ্ধতা নেই। তাইতো এই জগতের মানুষরা দাম্ভিকতা প্রকাশ করে এবং অহংকার করে।
সৃষ্টিকর্তা তাদেকে দেয় উজ্জ্বল শোভা ও সমুন্নত মহিমা। ফুলের সম্পদ যেমন তার সৌন্দর্য কিংবা সুরভি, আবার মানুষের সম্পদ তেমনি যেন চরিত্রশক্তি। নানা সদগুণের সমন্বয়েই যেন সব মানুষ হয়ে উঠে চরিত্রবান। মানুষদের সাথে সেই রূপ আচার আচরণ করো যেমন তারা পছন্দ করে। কিন্তু নিজের ইচ্ছা বা পছন্দ মাফিক আচরণ কর না।
তাতে তারা কষ্ট পায়, একজনের কোনো রোগ হয়না কিন্তু সে ব্যক্তি রোগী ব্যক্তিকে অবহেলা করে বনজঙ্গল কিংবা রাস্তায় রোগীকে ফেলে চলে যায়। কিযে নির্মমতা ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষ এই সমাজে আছে। তাদের যদি কোনো সময়ে এমন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েই যায় তখন তাদের উপায় কি, তারা একবারেও ভাবে না।
সদাচারণ, সত্যবচন, সৎসংকল্প এবং সৎ জ্ঞান হয় তার জীবনে আদর্শ। মানুষ হিতৈষী হয় তার জীবনব্রত নিয়ে।সে মানুষ কোথায়, সমাজ কি অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে।ভূল করা দোষের কথা নয় বরং ভূলের উপরে প্রতিষ্ঠিত থাকা দোষণীয়। দেখা যাচ্ছে দিন দিন যেন ভুলের উপর ইচ্ছা করেই হাবুডুবু খাচ্ছে। চারিত্রিক দৃঢ়তাও মানুষদের বিন্দুমাত্র খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক সময় আমাদের জানা ছিল, চারিত্রিক গুণাবলীর স্পর্শে সমাজের অধম ব্যক্তিরাও নিজের কুলষিত জীবনকে সুধরে নেয়ার যেন সুযোগ পায়।
এখন সুধরে নেওয়া তো দূরের কথা মানুষ অহংকারী হয়ে উঠছে। এখানে অহংকার শব্দটাকে যেই ভাবে আলোচনা করার চেষ্টা, তার উদ্দেশ্য অবশ্যই ভিন্ন আঙ্গিকে। অহংকার গুরুগম্ভীর শব্দটা অবশ্যই মানুষের কাছে পরিচিত হলেও তা নেতিবাচক একটি শব্দ। মানুষ তাকে নিজস্ব আত্মায় ইচ্ছাকৃতভাবে ধারন করে অনেক বড়াই করে। এ ধরনের কথাকে ভেবেই বলা যেতে পারে যে, অহংকারী মানুষরা কখনোই ভালো মানুষদের কাছে সম্মান পায় না।
কিসের এতো অহংকার? অনেক সবুজ ধান গাছের পাকা ধান গুলো কাটছে একটি মহল, কিন্তু সেই ধান গাছের ছবিতে দেখা যায় পাকা ধাপগুলি যেন  চোখেই পড়ছে না। জমির মালিকও বলছেন, পাকা ধান কাটা হচ্ছে। মালিক কি ভয়েই বলছেন আমাদের জানা নেই। হয়তো বা ক্ষমতার দাপটে মালিকে বলিয়ে নিতেও পারেন। ক্ষমতার দাপট কিংবা দাম্ভিকতাটাও- সে সকল মানুষের আত্মঅহংকার পর্যায়ে পড়ে বলেই মনে করতে পারি।
ঘুম ভাঙলে সকাল, আর না ভাঙলে পরকাল। অহেতুক এতো অহংকার বা দাপট কেন? মানুষ নিজের অবস্থান নিয়ে অনেক গর্ব এবং অহংকার করে থাকে কিন্তু ভেবে দেখেও না যে, তাঁর যা অবস্থান রয়েছে তার পেছনে যে কার না কারো অবদান আছে। সুতরাং বলা যেতে পারে অহংকারী ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষেই অকৃতজ্ঞ, কৃতঘ্ন ও গর্বিত কুলাঙ্গার। খুব ‘বেশি অহংকার’- কখনোই ভালো হয় না। তিন ধরনের মানুষ অনেক বেশি ‘অহংকার’ করে থাকে। বেশি শিক্ষিত হলে, বেশি সুন্দর হলে, হঠাৎ করেই তারা বড়লোক হলে। তা ছাড়াও আরো একটি কারণ রয়েছে, তাহলো অল্প বিদ্যা অর্জনকারী ব্যক্তি নিজকে অহেতুক আড়াল করে রাখার জন্যেই যেন এক ধরনের ভাব ধরে অহংকার করে। সুতরাং জ্ঞানীরা মূর্খদেকে চিনতে পারে কেননা সে জ্ঞানী। পক্ষান্তরে মূর্খ জ্ঞানীকে চিনতে পারে না, কেননা সে মূর্খ। তাই তো সামাজিক ভাবে কে জ্ঞানী  আর কে মূর্খ বুঝা কঠিন। শুধুই এই সমাজে লক্ষ্য করা যায় দাম্ভিকতা কিংবা অহংকারের বেড়াজালে সাধারণ মানুষরা বন্ধি। অ-মানুষের জ্ঞান কবে হবে, যে অধিকার আদায়ের পেছনে চেষ্টা চালানো হয় তা কখনই বৃথা যায় না। সততা ও নিষ্ঠার সহিত অহংকার পরিহার করেই কি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার করা যায় না। কেনই বা এই দেশের হতদরিদ্র অসহায় মানুষদের ‘খাদ্যদ্রব্য’ ক্ষমতার দাপটে চোরি করে খেতে হবে।
সমগ্র পৃথিবীতে আজ অবধি যত সত্য কথাগুলো জানা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম সত্যি কথা অহঙ্কার পতনের মূল আর মানুষের নায্য চাহিদা থেকে বঞ্চিত করা। তাই তো ‘জন রে’ বলেছিলেন, ‘লোভী ও অহংকারী মানুষকে বিধাতা সবচাইতে বেশী ঘৃণা করে।’ তাই বলতেই হয় যে, “যতক্ষণ অহংকার ততক্ষন অজ্ঞান। যতক্ষণ নিজ স্বার্থ ততক্ষণ পতন”। অহংকার কিংব অত্মসাতে মতোই স্বার্থ থাকতে কখনোই মুক্তি হবে না। নীচু হলে তবে উঁচু হওয়া যায়, চাতক পাখির বাসা নিচে কিন্তু উঠে খুব উঁচুতে। এ ধরনের ‘অহংকার নয়’ আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করলেই বড় হওয়া যায়, সকল শ্রেণীর মানুর জাতি সম্মান করে। যাদের আত্ম বিশ্বাসের অভাব এবং আত্মবিশ্বাসেই অন্ধ তারা অন্য মানুষকে ভালো কাজ থেকে কি ভাবে সরিয়ে রাখা যায় সে চেষ্টাই করে থাকে। তারা নিজেরা পারে না বলেই যেন, অন্যকে কৌশলে ফেলে বিভিন্ন চাল ঘটিয়ে চাল চোরি এবং অন্যান্য কিছু পেলেই ভোগ করে থাকে। আবার অতি আত্মবিশ্বাস ও অহঙ্কারহীন মানুষকে নিজ চেষ্টা কিংবা ”সঠিক কিছু শেখা” থেকেই বিরত রাখতেও চেষ্টা করে।
দাম্ভিকতার শিক্ষায় বেশকিছু মানুষরাই এক দিন না এক দিন নিজ স্বার্থ ও অহংকার দেখিয়েই কখন পতন ঘটে যায় তা টেরও পায় না এবং পরেই আপসোস করে। অহংকার এটি অনেক ‘খারাপ গুণ’। এটা অবশ্যই শয়তানের বৈশিষ্ট্য, ঠিক শয়তান মানুষকে দিনে পর দিন অহংকারী রূপেই বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। তাই “সৃষ্টি কর্তা” মনেই করেছেন, অহংকারী মানুষ গুলো কখনোই ভালো হয় না। দিনে দিনেই তাদের অন্তরকে ‘আলোহীন’ করে দেয়। তাদের অন্তরটিতেই যেন একসময়- ‘পরিপূর্ণ অহংকার’ জায়গা করে নেয়। আর কোনোভাবে সরাতে পারে। ভালো চেতনা নষ্ট  হয়ে যায়। সর্ব প্রথম সৃষ্টি কর্তা এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর যে অহংকার করেছিল সে হচ্ছে, অভিশপ্ত ইবলিস। সুতরাং অহংকার ইবলিসি চরিত্র।
অহংকারী মানুষ খুব জঘন্য স্বভাবের হয়। এটা আসলে আত্মার মারাত্মক মরন ব্যাধি। মানুষ নিজেকে অন্যদের থেকে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম বলে মনে করলেই যেন মনের মধ্যে এক ধরনের আনন্দের হাওয়া বয়ে যায়। এমন– আনন্দ হাওয়ার কারনে মন ফুলে ফেপে উঠে। এটাই অহংকার।মনে রাখতে হবে যে অহংকার ও বড়াই মানবাত্মার জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং মারাত্মক ব্যাধি, যা কিনা মানুষদের নৈতিক চরিত্রকে শুধু কলুষিতই করে না বরং মানুষদের সত্যের পথ থেকে খুব দূরে সরিয়ে ভ্রষ্টতা বা গোমরাহির পথে নিয়ে যায়। কোনো শ্রেণী-পেশার মানুষদের অন্তরে অহংকার ও বড়াই এর অনুপ্রবেশ ঘটে ঠিক তখনই তার জ্ঞান, বুদ্ধির ওপরেই তা বিস্তার করে। নানা প্রলোভন ও প্ররোচনার মাধ্যমেই খারাপ আত্মা খুব শক্ত হস্তেই টেনে নিয়ে যায় কু-পথে এবং বাধ্য করে সত্যকে অস্বীকার বা বাস্তবতাকেই প্রত্যাখ্যান করার মতো অনেক কিছু। ইচ্ছা জাগ্রত থাকেও না খুব ভালো কাজে। ‘অংহকারী মানুষ’ সবসময়ে চেষ্টা করে অন্যের হক কুক্ষিগত করে নিজের ফায়দা লুটা যায় কিভাবে। তাদের কাছে খুব সজ্জিত ও সৌন্দর্য মণ্ডিত ব্যপারগুলো হয়ে ওঠে যেন কিছু বাতিল, ভ্রান্ত, ভ্রষ্টতাসহ গোমরাহি মতোই নানা বিষয়। যার কিনা কোনো বাস্তবতা খোঁজে পাওয়া যায় না।
এ সবের সাথে আরও যোগ হতে থাকে, যেই মানুষ যতোই বড় হোক না কেন, তাকে অহংকারী’রা নিকৃষ্ট মনে করবে এবং তুচ্ছ- তাচ্ছিল্য করে তাকে অপমান করবে। দেখা যায় অনেক মানুষরা আবার প্রতিভার কারণে প্রাথমিকভাবেই সফল হয়, কিন্তু সেই মানুষরা অহঙ্কারের কারণেই যেন নিজের সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি। অহংকারী মানুষেরাই তার নিজের ভুল ত্রুটি কাউকে দেখতেও দেয়না। ইগো তাকে অন্ধ করে দেয়, সে যতটা না বড়, নিজেকে তার চেয়েও যেন বেশি বড় করে দেখতে শুরু করে। কারও পরামর্শ এরা নেয় না। মনে করে নিজেই সবচেয়ে ভালো বোঝে।সুতরাং এমন ধরনের মানুষ সমাজে অহরহ চোখে পড়ে নিজেকে নিয়েই অহংকার করতে করতে ধ্বংস হয়েছে। সমাজ তাদেরকে অনেকেই ঘৃণার চোখে দেখে। সুতরাং পা পিছলে পড়ে যাওয়া লজ্জার কথা নয়। বরং যথাযথ সময়ে উঠে না দাঁড়ানোই লজ্জার ব্যাপার। এ মানুষদের লজ্জা হবে কবে।
অহংকার- তো তারাই করে, যাদের কোনো ধরনের গুন নেই। অহংকার শব্দটির প্রতিশব্দটা হচ্ছে: আত্মাভিমান অহমিকা ও গর্ব। অহংকার অথবা গর্ব এমন একপ্রকার  আবরণ, যা মানুষের সকল মহত্ত্ব আবৃত করেও ফেলে। মানুষের সকল মানবীয় গুণের বহিঃপ্রকাশ হলো মহত্ত্ব। এইসব মানবীয় গুণাবলি দিয়েই মানুষেরা অন্যান্য প্রাণী থেকে নিজেকে আলাদা করেছে। হয়েছেও ‘সৃষ্টির সেরা’ জীব। মহৎ মানুষরা অহংকারী ও আত্মকেন্দ্রিক না হয়ে, দেশ ও দশের কল্যাণে আত্মোৎসর্গ করেছে।
তাই, তাঁরা সকল প্রকার “হীনতা, দীনতা, সংকীর্ণতা, স্বার্থপরতা বা অহংকার” থেকে মুক্ত থাকে। তাঁরা সবসময় দেশ, জাতি ও সমাজকে নিয়ে চিন্তা করে, নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে যায়। তারা বিশ্বাস করেন, মরিচা- যেমন লোহাকে বিনষ্ট করে, তেমনি অতিরিক্ত অহংকার মানুষকে ধ্বংস করে।সৎ মানুষেরা এও বিশ্বাস করেন যে, অহংকারী ব্যক্তিকে আল্লাহ ধ্বংস করে দেন, তার প্রভাব-প্রতাপ নস্যাৎ করে দেন এবং তার জীবনকে সংকুচিত করে দেন। যে ব্যক্তি অহংকার করতে চায় কিংবা বড়ত্ব দেখাতে চায় আল্লাহ তাকে বেইজ্জতি করেন। সুতরাং, অহংকারী হওয়া ঠিক নয়, গারিবদেকে ঘৃণা করা উচিত নয়। তাদের যা প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মানুষের সাথেই বন্ধুত্ব ছিন্ন করে অর্থ উপার্জন করতে যেও না। কারণটা, বন্ধুত্ব স্থাপনই যেন নিজস্ব অর্থাপর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম তা স্মরণ রাখতে হবে।
লেখক: নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজারঃ করোনা প্রতিরোধে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডক্টরস সেফটি চেম্বার দিলেন জেলা যুবলীগ সভাপতি নাহিদ আহমদ। এই চেম্বারের মাধ্যমে চিকিৎসক, নার্স ও রোগীদের করোনা সংক্রমন ঝঁকি কমবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও রোগীদের করোনা ঝুকি কমাতে আজ সকালে ডক্টরস সেফটি চেম্বার এর উদ্বোধন করেছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নেছার আহমদ।

জেলা যুবলীগ সভাপতি নাহিদ আহমদ এর পৃষ্ঠপোষকতায় ডক্টরস সেফটি চেম্বার আজ উদ্বোধনের পর থেকে চালু হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রার্থ সারথী দত্ত কানগো, সিভিল সার্জন ডা. তউহীদ আহমদ, জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান, জেলা বিএমএ সভাপতি সাব্বির হোসেন খান,জেলা যুবলীগ সভাপতি নাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক পান্না দত্ত সহ হাসাপাতলে কর্মরত চিকিৎসক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

মৌলভীবাজার হাসপাতালে স্থাপিত এ চেম্বারে রোগীর শরীরে তাপমাত্রা, রক্তচাপ নির্ণয়সহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা যাবে। জরুরী বিভাগে আসা রোগীরাও এই ডক্টরস সেফটি চেম্বার থেকে সেবা নিতে পারবেন ।স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্যদের সুরক্ষায় ডক্টরস সেফটি চেম্বার স্থাপনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে এই প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে ৩জন।
বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রোকসানা হ্যাপি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ী গ্রামের আব্দুর রশিদের মাদ্রাসা পড়–য়া ছেলে সাদিক (১৪), তার শ^াশুড়ী আনোয়ারা বিবি (৬২) ও বাড়ির কাজের লোক সামাদ আলী (৩২) কোভিক -১৯(করোনা ভাইরাসে) আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোকসানা হ্যাপি জানান, গত কয়েক দিন আগে নীলফামারী থেকে ৩১জন ধান কাটা শ্রমিক আসার পর ঐ বাড়ীর লোকদের মাঝে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ধানকাটা শ্রমিক ও বাড়ীর সদস্যসহ মোট ৩৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ৪জনের রিপোর্ট আমরা হতে পেয়েছি তার মধ্যে ৩জন পজেটিভ ও ১জন নেগেটিভ। এছাড়া বাঁকি শ্রমিকেদের রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। সেই সাথে তাৎক্ষনিক শ্রমিকসহ বাড়ীর লোকদের হোমকোয়ারেন্ট নিশ্চিত করা হয়েছে।

এম ওসমান, বেনাপোলঃ বাংলাদেশ ও ভারতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। তারই জেরে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর এলাকার অর্থনীতি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। বেনাপোলে নেই কোনো শিল্প-কারখানা। বেনাপোল স্থলবন্দর ঘিরে জীবিকার জন্য নির্ভরশীল কয়েক হাজার মানুষ। এই পথে আমদানি-রফতানি দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকায় রোজগারে টান পড়েছে শ্রমিকদের। স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল-পেট্রাপোল। একই সঙ্গে বেকার হয়ে পড়েছেন বন্দরসংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার শ্রমিক। বন্দর ও কাস্টমস সংশ্লিষ্ট কয়েকশ’ এনজিওকর্মীরও একই অবস্থা। ভারত দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সিংহভাগ পণ্য আসে এই বন্দর দিয়ে। আপাতত বেনাপোল বন্দরের সঙ্গে যুক্ত সীমান্ত এলাকার মানুষ করোনা নয়; রুজি-রুটি হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন।
গত ২২ মার্চ ভারতে কারফিউ থাকায় এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২৩ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত লকডাউনের ঘোষণা দেয় ভারত। এর মধ্যে ২৩ মার্চ রাতে হঠাৎ ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তার সময়সীমা ছিল গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। তারপর আবারও বাড়ানো হয় লকডাউনের সময়সীমা, যা এখনও চলছে। কবে উঠবে লকডাউন তাও কেউ বলতে পারছেন না।
বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধের ফলে উভয় সীমান্তে আটকা পড়েছে কয়েক হাজার পণ্যবোঝাই ট্রাক। যার অধিকাংশই বাংলাদেশের রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের ও দেশীয় বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল। যেগুলো বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায়।
গত ২২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেনি। বেনাপোল বন্দর দিয়ে কোনো পণ্য নিয়ে ট্রাক পেট্রাপোল বন্দরে যায়নি। আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ ট্রাক যোগে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভারত থেকে আমদানি হয়। ভারতে রফতানি হয় দেড়শ’ থেকে ২শ’ ট্রাক বাংলাদেশি পণ্য। প্রতি বছর এ বন্দর থেকে সরকার প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা আমদানি পণ্য থেকে ও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব পায়। কিন্তু এখন সবই স্থবির। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আর কতদিন আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে সেটা কেউ বলতে পারছেন না।
এরই মধ্যে গত ২২ এপ্রিল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সরকার ১০ দিনের (৫ মে পর্যন্ত) সাধারণ ছুটি বাড়িয়ে দেয়। তবে ছুটির সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে কাস্টমস হাউজ ও কাস্টমস স্টেশনসমূহে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেয় এনবিআর। সেই হিসেবে বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরে কাজ চলছে। তবে তা আশানুরূপ নয়।
গত ৩০ মার্চ এক আদেশে আমদানিকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী ও অন্যান্য সেবা সামগ্রী, শিল্পের কাঁচামাল এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার আমদানিকৃত পণ্য খালাসের জন্য কাস্টম হাউস ও শুল্ক স্টেশনগুলোকে নির্দেশ দেয় এনবিআর। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বেশকিছু পণ্য বেনাপোল কাস্টমস থেকে খালাস করলেও অধিকাংশ আমদানিকারক পণ্য খালাসে আগ্রহী ছিল না। তবে পণ্য আমদানি-রফতানি ও খালাসের সঙ্গে ভারতীয় কাস্টম, বন্দর, বেনাপোল বন্দর, ব্যাংক, ট্রান্সপোর্ট, উভয় দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও বন্দর শ্রমিকরা জড়িত রয়েছে। সবার সঙ্গে সমন্বয় না হলে কার্যত পণ্য আমদানি-রফতানি ও খালাস প্রক্রিয়া কতটুকু সফলতা পাবে সেটিও ভাবার বিষয়।
এদিকে বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে নানাভাবে আলোচনা হয়। কিন্তু পণ্য নিয়ে যাওয়া-আসা ট্রাকচালক ও হেলপারদের ফেরার পথে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক করায় পণ্য পরিবহনে অনীহা প্রকাশ করেছেন তারা।
ওপারের বন্দর সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল বন্দরে আটকে থাকা ভারতীয় আটটি খালি ট্রাকসহ চালক এবং হেলপাররা কয়েক দিন আগে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তবে পেট্রাপোল বন্দরে ফিরে যাওয়া ট্রাকচালক এবং হেলপারদের ওপর বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব চালকরা ভারতের উওর প্রদেশ ও বিহারের বাসিন্দা।
পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ভারতে দফায় দফায় লকডাউন ঘোষণা করায় সব ধরনের আমদানি-রফতানিসহ সীমান্ত-বাণিজ্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে করোনার আতঙ্কের জেরে স্থলবন্দর এলাকার অর্থনীতি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। পণ্যবোঝাই কয়েক হাজার ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় দীর্ঘদিন পড়ে আছে। সেগুলোকে সঠিক পদ্ধতিতে বাংলাদেশে পাঠিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায় কি-না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা চলছে।
ওপারের সীমান্তে বাণিজ্যে জড়িত ব্যবসায়ী প্রদীপ দে বলেন, আগে মানুষের জীবন। তারপর ব্যবসা। গত ২৩ মার্চ থেকে আমাদের কয়েকটি পাট বীজবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে পেট্রাপোল বন্দরে। লাখ লাখ টাকা ক্ষতির মধ্যে পড়ে আছি। তবু আমরা সরকারের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসেবে নিয়েছি। কারণ কোনোভাবেই কোনো দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হোক আমরা তা চাই না।
বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, করোনাভাইরাস আতঙ্ক এতটাই ভয়ঙ্কর যে, সীমান্ত সিল করে দিয়েছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে। পাশাপাশি এর প্রভাবও ব্যবসা বাণিজ্যে পড়েছে। এখনই ক্ষতির মুখ দেখতে শুরু করেছে ভারত-বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রফতানিকারকরা। ক্ষতি কাটিয়ে নিতে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়বে। সেই সঙ্গে সীমান্ত এলাকার হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ বিকল্প সঠিক পথ না পেয়ে বিপথে পা বাড়াবে। তাতেই সমস্যার সম্মুখীন হবে দেশের ব্যবসায়ীসহ বন্দর ব্যবহারকারীরা।
বেনাপোল কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার আকরাম হোসেন বলেন, আমরা কাস্টম হাউজ খোলা রেখে কাজ করে চলেছি। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা পণ্য নিতে চাইলে আমরা দ্রুত সেটা শুল্কায়ন শেষে খালাসের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আমাদের সব কর্মকর্তা প্রস্তুত।

জহিরুল ইসলাম.নিজস্ব প্রতিবেদক: শ্রীমঙ্গল ফুলছড়া চা বাগানের এক শিক্ষার্থী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলো।

২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার উপাধ্যক্ষ ড.  মো. আব্দুস শহীদ এমপির  পক্ষ থেকে ফুলছড়া চা-বাগানের কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ও তার পরিবারের জন্য খাদ্য সামগ্রী উপহার হিসাবে প্রদান করা হয়।

খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেন শ্রীমঙ্গল পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবেদ হোসেন, সাথে ছিলো মোঃ সাইফুল ইসলাম।

শ্রীমঙ্গলে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এনিয়ে দুই জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষার ফলাফলে শ্রীমঙ্গলের একজনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত করা হয়।

শ্রীমঙ্গলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা  বলেন, ‘আমরা গত ২৩ তারিখ আক্রান্ত রোগীর স্যাম্পল সংগ্রহ করে পাঠিয়েছিলাম রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

এদিকে গত রোববার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে স্থাপিত পিসিআর ল্যাবে মোট ১৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। যাদের মধ্যে ৮ জনের পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে। যার মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয় মৌলভীবাজারে ৬ জন। যাদের মধ্যে একজন শ্রীমঙ্গল, একজন বড়লেখা ও চারজন কুলাউড়া।

উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হন। তিনি শহরের একটি বেসরকারি ব্যাংকের জুনিয়র কর্মকর্তা।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc