Thursday 2nd of April 2020 10:14:42 PM

সানিউর রহমান তালুকদার,নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দিতে জে.আই.সি স্যুট লিমিটেড গার্মেন্টসে বকেয়া বেতন না পাওয়ায় ফের মহাসড়ক অবরোধ করেছে শ্রমিকরা। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সকল গার্মেন্টসের ন্যায় নবীগঞ্জের জে.আই.সি স্যুট গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে করোনা ভাইরাসের জন্য ১০ দিনের বন্ধ ঘোষণার
কারনে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ক্ষুব্ধ নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা প্রায় আধা ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এলাকার গণ্যামন্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
জানাযায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলায় আউশকান্দি শহীদ কিবরিয়া চত্বর এলাকায় অবস্থিত জে.আই.সি স্যুট লিমিটেড গার্মেন্টস এর দুটি পোশাক কারখানা রয়েছে। উক্ত কারখানা দুটিতে প্রাায় ২ হাজার নারীসহ প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক কাজ করে। দীর্ঘদিন ধরে নীতিমালা লঙ্ঘন করে তাদেরকে বেতন বৈষম্যের মাধ্যমে কাজে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অনেক শ্রমিককে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা করে মাসিক বেতন প্রদান করা হয় এবং তাদেরকে প্রতিদিন ৪/৫ ঘন্টা অতিরিক্ত কাজ করিয়ে কোনো অতিরিক্ত বেতনও প্রদান করা হয় না। উপরোন্ত বায়ার আসলে তাদের বলা হয় শ্রমিকদের বেতন ৮/১০ হাজার টাকা দেয়া হয়। শেখানো কথা বায়ারদের কাছে না বললে শ্রমিকদের নির্যাতন করা হয় এবং চাকরীচ্যুত করা হয়। গত দুই মাস যাবত শ্রমিকদের কোনো বেতন ভাতা প্রদান করা না হলে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেল ৫ টা থেকে সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত গার্মেন্টস এর শ্রমিকরা আধা ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ, শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, গোপলা বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা জন্য গার্মেন্টস মালিক পক্ষের সাথে আলোচনায় বসেন। এ সময় দ্রুত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতা প্রদান করা হবে মর্মে আশ্বাস প্রদান করলে দেশের বর্তমার পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে অবরোধ তুলে নেয়। তবে সময় মতো বেতন না দিলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা দেয়া হবে বলে জানান আন্দোলনকারী শ্রমিকরা।

বেনাপোল প্রতিনিধি: করোনা ভাইরাস আক্রান্ত প্রতিরোধে ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারকে বিনামুল্যো মাস্ক ও হেড ক্যাপ দিল বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮ টার সময় ১৪ টি কার্টুনে আনা ৩০ হাজার মাস্ক ও ১৫ হাজার হেডক্যাপ বেনাপোল নো-ম্যান্সল্যান্ডে ভারতীয় গাড়ি থেকে বাংলাদেশের গাড়িতে হস্তান্তর করেন।
ভারতের রফতানি কারক হেলথ লাইফ কেয়ার লিঃ এই পন্য পাঠায় বাংলাদেশে। বাংলাদেশে পন্য আমদানি করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশন। এই পন্যর খালাসকৃত সিএন্ড এফ ছিল বেনাপোল বন্দরের বারলো প্যাকেজ এন্ড সিপার্স। পন্য চালানটির ইনভয়েস নং বিজি- এই আই /৭২, তারিখঃ ২০.০৩.২০।
এসময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বিজিবি এবং উভয় দেশের সিএন্ডএফ এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারে গৃহিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সাধারণ জনগনের জীবন সুরক্ষার্থে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার তাহিরপুর সদর,বালিজুরি,বাদাঘাট,বড়দল উত্তর,বড়দল দক্ষিণ,শ্রীপুর উত্তর,শ্রীপুর দক্ষিণ ৭টি ইউনিয়নের সকল হাটবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল প্রকার দোকাপাট বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আর প্রতিটি বাজারে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন বাজারের বাজার কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক গুরুত্ব সহকারে বাজার তদারকিতে নেমেছেন এবং বাজারের ব্যবসায়ীদেরকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানপাট ছাড়া সকল ধরনে দোকানপাট বন্ধ রাখার অহ্বান জানান।
সে লক্ষ্যেই বুধবার সকাল থেকেই উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত বাদাঘাট বাজারে বানিক সমিতির সভাপতি সেলিম হায়দার,সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়া,বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্প ইনর্চাজ এস আই মোঃ মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বাজারের বিভিন্ন সড়কের দোকানপাট পরিদর্শন করেন। এদিকে নিজের নিরাপত্তার ও প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বাজারের প্রতিটি দোকানের মালিক ও ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
বাদাঘাট বাজারে বানিক সমিতির সভাপতি সেলিম হায়দার,সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়া বালেন,বাদাঘাট বাজারের সবাই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারী আদেশ মেনে দোকান বন্ধ রেখেছেন আর আমরা সবাই মিলে সকাল থেকেই বাজারের তদারকি করছি। নিজের বাচঁনা হবে এরপর সব কিছু সবাই সচেতন হলেই এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জী জানান,উপজেলার ৭ইউনিয়নের হাটবাজার ও পাড়া মহল্লার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান ব্যাতিত সকল ধরনে দোকানপাট পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। নিজের সুরক্ষার জন্যই সবাইকে এই নির্দেশ মানতে হবে। এর অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  বিশ্বজুড়ে যখন করোনা ভাইরাসের করালগ্রাসে আতঙ্কে শত কোটি মানুষ। এই অজানা আতঙ্ক থেকে সাধারণ জনগোষ্ঠীকে নিরাপদে থাকতে আজ বুধবার বিকালে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা চত্বরে সকল প্রকার পথচারীদের মধ্যে শ্রীমঙ্গলে রোটারী ক্লাব কর্তৃক পাঁচ শতাধিক মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। পথচারীরা আতঙ্কিত হলেও সানন্দে এগিয়ে এই মাস্ক গ্রহণ করতে দেখা যায়।

সম্প্রতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে চারজনের মৃত্যু হয়েছে আইসোলেশন রয়েছেন ৩৯ জন । কিন্তু  পর্যাপ্ত মাস্ক ও গ্লোভসের অভাবে বাংলাদেশের জনগণ রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে। তারপরও মানুষ একে অপরের প্রতি ভালোবাসা অকৃত্রিম ও উদার থাকায় নিজ নিজ উদ্যোগে  কেহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে বেরিয়ে পড়েছে যার যার স্থান থেকে  সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়াতে।

এরই মধ্যে এই ভাইরাস থেকে বেঁচে থাকার জন্য জরুরী প্রয়োজন সচেতনতাবৃদ্ধিসহ সতর্ক থাকা, মাস্ক এবং হ্যান্ড গ্লাভস ও সেনিটাইজারের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। আমাদের আশপাশের দোকানসহ ফার্মেসিগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ এর ব্যবস্থা না থাকায়  এবং সচেতনতার অভাব, কেউ বা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করায় ৫/১০ টাকার একটি মাস্ক ১০/১৫ গুণ বেশি দামে কিনতে সাহস পাচ্ছে না।এই সংকট মুহূর্তে অন্যান্যদের মত শ্রীমঙ্গল রোটারী ক্লাবের নেতৃবৃন্দও আজ পাঁচ শতাধিক মাস্ক বিতরণ করেছেন খেটে খাওয়া মানুষদের মধ্যে, যা  প্রশংসনীয় ।

বিতরনের সময় উপস্থিত ছিলেন রোটারি ক্লাব শ্রীমঙ্গল শাখার প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আতিকুল আম্বিয়া সুমন, সাবেক প্রেসিডেন্ট অবিনাশ আচার্য, সাধারণ সম্পাদক শাহ আরিফ আলী নাসিম, সাবেক প্রেসিডেন্ট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী সাজু, সহ-সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান রিপন, সদস্য রাধেস্ব‍্য ধর রাজন ও বিভিন্ন মিডিয়ার ব্যক্তিবর্গ।

পথচারীদের ভাবনা এই সংকট মুহূর্তে সামর্থবানদের এগিয়ে আসতে হবে।দেশের সকল বিত্তশালীদের উচিত  বেকারদের দিকে এগিয়ে আসা, তবেই কেবল এই দুর্যোগের মোকাবেলা করার কাজ সহজ হবে।

কুরআনে কারীমে উল্লেখিত কিছু দোয়া।

📖 নাহ’মাদুহু ওয়া’নুসাল্লি আ’লা রাসুলিহিল কারীম, আম্মাবা’দ। দোয়া শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ‘ডাকা’ যা একটি পদ্ধতি-সিদ্ধ মিনতি প্রক্রিয়া। আল্লাহপাক তার কুরআনে করীমের সূরা আল-মু’মিনে বলেছেন, ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব (আয়াত ৬০)

পবিত্র কুরআনে করীমে উল্লেখিত ফজিলতপূর্ণ কিছু দোয়া (دُعَاء) একত্রে করলাম। আশাকরি প্রতিটা মুসলমানের উপকারে আসবে। আমি মনেকরি একজন মুসলমান হিসেবে মহান আল্লাহপাকের নৈকট্য লাভের জন্য দোয়াগুলি নিয়মিত পাঠকরা প্রয়োজন। বর্তমানে মুনাজাতে দোয়া করা’ত দুরে থাক, মুনাজাত’কেও ফতোয়ার কালো থাবা থেকে রেহাই দিচ্ছেনা। আর সাম্প্রতিক কিছু মুনাজাতকারীকে দেখা যায় আরবীতে রচনা করা বিভিন্ন মুনাজাত করতে, হ্যাঁ বর্তমান সময়ানুযায়ী প্রেক্ষাপটে মুনাজাত করলেও কুরআনে করীমে শিখিয়ে দেয়া মুনাজাতের কিন্তু বিকল্প নেই। সুতরাং আমাদের বিশেষ করে যারা সম্মানীত ইমামগন আছেন আপনাদের কাছে বিশেষ অনুরোধ থাকবে মুনাজাতের মাঝে প্রেক্ষাপট দেশ ও দশের সাথে সাথে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন আয়াতে কুরআনকে উল্লেখ করতে। দোয়া কামনায় অধম ..✍ ইমরান বিন বদরী।

♥বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম ➲

رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
❇ হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে কবূল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী’। (আল-বাকারা ১২৭)

رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
❇ হে আমাদের রব, আমাদেরকে আপনার অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধরের মধ্য থেকে আপনার অনুগত জাতি বানান। আর আমাদেরকে আমাদের ইবাদাতের বিধি-বিধান দেখিয়ে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।(আল-বাকারা ১২৮)

إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
❇ (হে আমাদের রব) নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী,প্রজ্ঞাময়’। (আল-বাকারা ১২৯)

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
❇ হে আমাদের রব,আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন।আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন। (বাকারা ২০১)

رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
❇ হে আমাদের রব,আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন, আমাদের পা স্থির রাখুন এবং আমাদেরকে কাফের জাতির বিরুদ্ধে সাহায্য করুন’। (আল-বাকারা ২৫০)

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
❇ হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আর আমাদের উপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন। (আল-বাকারা ২৮৬)

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
❇ হে আমাদের রব,আপনি হিদায়াত দেয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা। (আলে-ইমরান ৮)

رَبَّنَا إِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ
❇ হে আমাদের রব,নিশ্চয় আপনি মানুষকে সমবেত করবেন এমন একদিন, যাতে কোন সন্দেহ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। (আলে-ইমরান ৯)

رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
❇ হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা ঈমান আনলাম। অতএব, আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন’।(আলে-ইমরান ১৬)

رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ
❇ হে আমাদের রব, আপনি যা নাযিল করেছেন তার প্রতি আমরা ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি।অতএব, আমাদেরকে সাক্ষ্যদাতাদের তালিকাভুক্ত করুন’। (আলে-ইমরান ৫৩)

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
❇ হে আমাদের রব,আমাদের পাপ ও আমাদের কর্মে আমাদের সীমালঙঘন ক্ষমা করুন এবং অবিচল রাখুন আমাদের পাসমূহকে, আর কাফির কওমের উপর আমাদেরকে সাহায্য করুন’। (আলে-ইমরান ১৪৭)

رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
❇ হে আমাদের রব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং বিদূরিত করুন আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি,আর আমাদেরকে মৃত্যু দিন নেককারদের সাথে’। (আলে-ইমরান ১৯৩)

رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدْتَنَا عَلَىٰ رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ
❇ হে আমাদের রব, আর আপনি আমাদেরকে তা প্রদান করুন যার ওয়াদা আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে।আর কিয়ামতের দিনে আপনি আমাদেরকে অপমান করবেন না।নিশ্চয় আপনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না। (আলে-ইমরান ১৯৪)

رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ
❇ হে আমাদের রব,আমরা ঈমান এনেছি।সুতরাং আপনি আমাদেরকে সাক্ষ্য দানকারীদের সঙ্গে লিপিবদ্ধ করুন। (আল-মায়েদা ৮৩)

وَارْزُقْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
❇ (হে আমাদের রব) আর আমাদেরকে রিয্ক দান করুন,আপনিই শ্রেষ্ঠ রিয্কদাতা’। (আল-মায়েদা ১১৪)

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
❇ হে আমাদের রব, আমরা নিজদের উপর যুলম করেছি। আর যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদেরকে দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব’।(আল-আ’রাফ ২৩)

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
❇ হে আমাদের রব,আমাদেরকে যালিম কওমের অন্তর্ভুক্ত করবেন না’।(আ’রাফ ৪৭)

رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
❇ হে আমাদের রব,আমাদেরকে পরিপূর্ণ ধৈর্য দান করুন এবং মুসলিম হিসাবে আমাদেরকে মৃত্যু দান করুন।(আল-আ’রাফ ১২৬)

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
❇ হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে যালিম কওমের ফিতনার পাত্র বানাবেন না’।(ইউনুস ৮৫)

رَبَّنَا إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا نُخْفِي وَمَا نُعْلِنُ ۗ وَمَا يَخْفَىٰ عَلَى اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ
❇ হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি জানেন,যা আমরা গোপন করি এবং যা প্রকাশ করি,আর কোন কিছু আল্লাহর নিকট গোপন নেই,না যমীনে না আসমানে।(ইবরাহীম ৩৮)

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ
❇ হে আমার রব,আমাকে সালাত কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও, হে আমাদের রব, আর আমার দো‘আ কবূল করুন’।(ইবরাহীম ৪০)

رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
❇ হে আমাদের রব,যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিবেন’।(ইবরাহীম ৪১)

رَبَّنَا آتِنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً
❇ হে আমাদের রব, আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন (আল-কাহফ ১০)

رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
❇ হে আমাদের রব, আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আমাদেরকে ক্ষমা ও দয়া করুন, আর আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’(আল-মুমিনুন ১০৯)

رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ ۖ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا
❇ হে আমাদের রব,আপনি আমাদের থেকে জাহান্নামের আযাব ফিরিয়ে নাও। নিশ্চয় এর আযাব হল অবিচ্ছিন্ন’।(আল-ফুরকান ৬৫)

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
❇ হে আমাদের রব,আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন’।(আল-ফুরকান ৭৪)

رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ
❇ হে আমাদের রব, আপনি রহমত ও জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিব্যপ্ত করে রয়েছেন। অতএব যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর জাহান্নামের আযাব থেকে আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন’।(গাফির ৭)

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ
❇ হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু।(আল-হাশর ১০)

رَبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
❇ হে আমাদের প্রতিপালক,আমরা আপনার ওপরই ভরসা করি, আপনারই অভিমুখী হই আর প্রত্যাবর্তন তো আপনারই কাছে।(আল-মুমতাহিনা ৪)

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا ۖ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
❇ হে আমাদের রব,আপনি আমাদেরকে কাফিরদের উৎপীড়নের পাত্র বানাবেন না। হে আমাদের রব, আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।(আল-মুমতাহিনা ৫)

رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
❇ হে আমাদের রব,আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে সর্বক্ষমতাবান।’(আত-তাহরীম ৮)

رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
❇ হে পালনকর্তা,তাদের(মা-বাবা) উভয়ের প্রতি রহম কর,যেমনিভাবে তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।(সুরা বনি ইসরাইল ২৪)

لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
❇ (হে পালনকর্তা) আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমি পাপী।(আল আম্বিয়া ৮৭)

اهدِنَــــا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ
❇ (হে পালনকর্তা) আমাদেরকে সরল পথ দেখান। সে সমস্ত লোকের পথ,যাদেরকে আপনি নেয়ামত দান করেছেন।(সুরা ফাতিহা ৬-৭)

সুপ্রিয় পাঠক ➲ দোয়া’তে অধমকে স্মরণ করার অনুরোধ রইলো। মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আজ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার সকালে ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। করোনায় আক্রান্ত ওই বৃদ্ধের ডায়বেটিস ও হাইপার টেনশনের সমস্যা ছিল। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত হিসেবে কাউকে শনাক্ত করা হয়নি।সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন সাত জন এবং আইসলিওসনে আছে ৩৯ জন।

বুধবার দুপুরে সরকারের রোগতত্ত্ববিদ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) দায়িত্বাধীন পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য জানান।

আকস্মিকভাবে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বয়স বিবেচনায় ও মানবিক কারণে সাজা ছয় মাস স্থগিত রেখে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মুক্তির শর্ত হলো, এ সময়ের মধ্যে তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে পারবেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য তুলে ধরে আরও জানান, খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার, বোন সেলিমা ইসলাম এবং বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই বিষয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেখানে খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদনের ব্যাপারে কথা বলেন তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বা কাল খালেদা জিয়া মুক্তি পেতে পারেন বলে জানা গেছে।
করোনাভাইরাস মহামারিতে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব যখন অবরুদ্ধ, ঠিক তখনই ২৫ মাস সাজা ভোগের পর মুক্তি পেতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দলীয় নেত্রীর মুক্তির খবরেও রাজপথে আনন্দ-উল্লাস করেননি বিএনপি নেতাকর্মীরা। মুক্তির সিদ্ধান্তের পর স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসী স্বস্তিবোধ করছেন।
করোনাভাইরাসে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সেজন্য ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে এখনই মুক্তির দাবি জানান বিএনপি নেতারা।
সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে আজ বুধবারের মধ্যে খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহীদুজ্জামান। তিনি সমকালকে বলেন, আশা করি বুধবারের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া শেষ করা যাবে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি সূত্র জানায়, সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তির বিষয়টি কারারক্ষীদের মাধ্যমে গতকালই খালেদা জিয়াকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদ নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি আছেন খালেদা জিয়া। পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে কারা তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে ঢাকার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়া এবং ওই সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না- এমন শর্তে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মতামত পাঠিয়েছি।’ তিনি বলেন, তার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সদয় হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই তিনি মুক্তি পাবেন। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাউকে বিদেশে পাঠানো মানে তাকে সুইসাইডের মুখে ফেলা।
অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমার কাছে একটা দরখাস্ত করা হয়েছিল। আবেদনে লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার, তার বোন সেলিমা ইসলাম, তার বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই বিষয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেখানে এই আবেদনের ব্যাপারে তারা কথা বলেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
চিকিৎসার শর্তের বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, এখানে কিন্তু বলা হচ্ছে না যে, তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন না। বাসায় থেকে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। হাসপাতালে যদি ভর্তি হতে হয়, তাহলে বাংলাদেশের সবচেয়ে মানসম্পন্ন হাসপাতালেই তো তিনি আছেন। হাসপাতালে তাকে ভর্তি হতে হবে কিনা সেটা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা যাবে। কিন্তু শর্ত হচ্ছে, ঢাকায় নিজ বাসায় থেকে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। ওই সময়ে দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।
প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর মুক্তি নির্দেশনা কারাগারে পৌঁছাবে :খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের মুক্তি দিতে আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় থেকে সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এটি অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করা সংক্রান্ত নির্দেশনা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এরপর খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল সমকালকে বলেন, ‘আইনমন্ত্রী যা বলেছেন তা সঠিক। ইতোমধ্যে ফাইলটি আইন মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে। এটির সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। এরপর অনুমোদন হলে কারাগারে পাঠানো হবে। তবে ফাইলটি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
প্রস্তুত ফিরোজা ভবন :খালেদা জিয়ার জন্য গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের ১ নম্বর বাড়ি ফিরোজা ভবন প্রস্তুত করা হয়েছে। মুক্তির পর তিনি এ বাড়িতেই উঠবেন বলে জানা গেছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পর তার ভাই শামীম ইস্কান্দার সমকালকে বলেন, খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর তার বাসভবন ফিরোজায় উঠবেন। বাড়িটি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে।
বিএসএমএমইউর সামনে নেতাকর্মীর সমাগম :খালেদা জিয়ার মুক্তির সংবাদের পরপরই গতকাল রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সামনে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ভিড় করতে থাকেন। এর মধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদারসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড় না করতে দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তারা সরে যান।
দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজা :জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায় ঘোষণার পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর দুদকের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাজা দশ বছর বৃদ্ধি করেন হাইকোর্ট।
অন্যদিকে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে একই বছর ঢাকার আদালত সাত বছরের কারাদ দেন। এরপর তিনি সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে জামিন চান। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল গত বছর ৩১ জুলাই খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। এরপর গত বছর ১২ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে পর্যবেক্ষণসহ জামিন নাকচ করে আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেন।
পরে জামিন চেয়ে ফের আবেদন করা হলে সর্বশেষ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আবারও খারিজ করে দেন। জামিনের পক্ষে ‘নতুন কোনো কারণ না পাওয়ায়’ জামিন দেননি বলে জানিয়েছেন আদালত। উচ্চ আদালতে কয়েক দফা চেষ্টা করে বিফলের পর গত ৪ মার্চ খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য সাময়িক কারামুক্তি চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার। আবেদনপত্র পেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মতামত নেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। চিঠির আইনগত বিষয়টি পর্যালোচনা করে আইন মন্ত্রণালয় তার মুক্তির বিষয়ে মতামত দেয়।

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ  যশোরের শার্শায় ভ্রাম্যমান আদলত অভিযান চালিয়ে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকালে উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারে বিভন্ন আড়ৎ ও মুদি দোকানে এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচলনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোরসেদ আলম চৌধুরি।
ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, বিভিন্ন মারফত জানতে পারি করোনা ভাইরাসে মানুষ যখন অতঙ্কিত তখন এটাকে পুঁজি করে বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্য দ্রব্য বেশী মুল্যে বিক্রি করছে। এমন খবরে বিকালে শার্শার বাগআঁচড়া বাজারে অভিযান পরিচলনা করে দেখা যায়, দ্রব্য মুল্যের মুল্য তালিকা নেই, চাউল রাখার জন্য চটের বস্তার ব্যবহার না করে প্লাস্টিকের বস্তার ব্যবহার করছে এবং প্রতি বস্তা চাউলে দুইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা বেশী দরে বিক্রি করছে। এ সকল অভিযোগে বাগআঁচড়া বাজারের ছিদ্দিক স্টোরকে, ২ হাজার টাকা, মেসার্স সালাম স্টোরকে ৫ হাজার টাকা, আলামীন স্টোরকে ২ হাজার টাকা, বৈশাখী স্টোরকে ২০ হাজার টাকা, বাবুল স্টোরকে ২৫ হাজার টাকা, খলিল স্টোরকে ৫ হাজার টাকা, মওলা ভান্ডারকে ১০ হাজার টাকা, বিসমিল্লা স্টোরকে ২০ হাজার টাকা, ইসরাফিল স্টোরকে ৫ হাজার টাকা, হারুন অর রশিদকে ৫ শত টাকা, ইউনুচ স্টোরকে ২০ হাজার টাকা, এবং রবিউল স্টোরকে, ৫০ হাজার টাকাসহ মোট বার জন ব্যসায়ীকে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা জরিমান করা হয়। এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মুল্য তালিকাসহ সকল অনিয়ম ঠিক করে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতারসহ দেশের সবগুলো টেলিভিশন চ্যানেল প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করবে।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব জুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো করোনা ভাইরাস নিয়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা দেবেন বলে গতকাল সোমবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। তবে কখন এই ভাষণ প্রচারিত হবে তা এখনো জানানো হয়নি।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো চারজনে। আর আক্রান্তের সংখ্যা আরো ছয়জন বেড়েছে।

এতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ জন। নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে একজন ওমরাহ ফেরত। বাকি চারজন আক্রান্তদের থেকে সংক্রমিত হয়েছেন।

আজ ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল ২৫ মার্চের কালরাত। ইতিহাসের এই দিনে পাশবিকতা, নৃশংসতা আর হিংস্রতার রূপ প্রকাশ করে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক ও সেনাবাহিনী। বাংলার মানুষের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার, চলে নির্বিচারে গণহত্যা।
১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ইতিহাসের ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করে। পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ণ সামরিক অস্ত্র নিয়ে রাত ১০টার পর দেশজুড়ে শুরু হয় এই জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ। শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বাঙালি হত্যার নৃশংস নীলনকশা বাস্তবায়নের পথে পা বাড়ান। ২৫ মার্চ পাকহানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

অস্ট্রেলিয়ার ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ পত্রিকা জানিয়েছিল, শুধু ২৫ মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা গণহত্যার ইতিহাসে এক জঘন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। পরবর্তী নয় মাসে একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার লক্ষ্যে ৩০ লাখ নিরপরাধ মানুষ হত্যার মধ্য দিয়ে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পূর্ণতা দিয়েছিল সেই ঘৃণ্য ইতিহাসকে।

ভয়াল কালরাত, জাতীয় গণহত্যা দিবস আজ। দিনটি স্মরণে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ করে বাণী দিয়েছেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে এর মধ্যেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব, বঙ্গভবনের অনুষ্ঠান ও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশব্যাপী স্বাধীনতা দিবসের সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

অতর্কিত সেই হামলা প্রতিরোধ করেছিল পুলিশ লাইনের পুলিশ বাহিনী। কিন্তু সেই প্রতিরোধ টেকেনি। পাকিস্তানি বাহিনী রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা ঢাকা শহরে চালায় হত্যাযজ্ঞ ও অগ্নিসংযোগ। নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেও সেদিন মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যায়নি। ২৫ মার্চের ভয়াবহ সেই কালরাতের হত্যাযজ্ঞ বাঙালিকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রেরণা যুগিয়েছিল।

এর আগে সকালে প্রেসিডেন্ট ভবনে ভুট্টো-ইয়াহিয়া এবং ইয়াহিয়া ও পিপলস পার্টির উপদেষ্টাদের মধ্যে আলোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর কাছে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ঢাকা ত্যাগের খবর সঙ্গে সঙ্গেই পৌঁছেছিল। রাত ৯টার পর বঙ্গবন্ধু তার বাসভবনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু জেনারেল ইয়াহিয়া খান সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে চাচ্ছেন। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট অখণ্ড পাকিস্তানের সমাপ্তি টানতে চলেছেন।

পিলখানায় ইপিআর ব্যারাক ও অন্যান্য স্থান থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার লিখিত বাণী ওয়ারলেসের মাধ্যমে সারা দেশে মেসেজ আকারে পাঠানো হয়। এই বার্তা চট্টগ্রাম ইপিআর সদর দফতরে পৌঁছায়। চট্টগ্রাম উপকূলে নোঙর করা একটি বিদেশি জাহাজও এই বার্তা গ্রহণ করে। চট্টগামে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক জহুর আহমেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বাণী সাইক্লোস্টাইল করে রাতেই শহরবাসীর মধ্যে বিলির ব্যবস্থা করেন।
এদিকে বঙ্গবন্ধুকে রাত দেড়টায় তার বাসভবন থেকে বন্দি করে শেরেবাংলানগরের সামরিক বাহিনীর সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুকে সেনানিবাসে স্থানান্তর করা হয়। সকাল পর্যন্ত আদমজী কলেজের একটি কক্ষে বঙ্গবন্ধুকে আটক রাখা হয়।

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হামলায় নিহত সব শহিদকে। এ বছর বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার প্রেক্ষিতে আমরা কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকেছি। আমরা দেশবাসী জনগণকে যার যার অবস্থান থেকে সেদিনের শহিদদের স্মরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc