Thursday 2nd of April 2020 10:48:05 PM

“এলাকাবাসীর অনুমান নির্ভর দাবী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত!পরিবারের অস্বীকার” 

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: করোনা সন্দেহে সোমবার (২৩ মার্চ) মৌলভীবাজার শহরের কাশিনাথ সড়কের ৫টি ভবনকে হোম কোয়ারেন্টাইন (স্বেচ্ছাবন্দী) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, কাশিনাথ সড়কের এম আর ভিলা’য় রেজিয়া বেগম নামে যুক্তরাজ্য ফেরত ষাটোর্ধ্ব এক নারী অসুস্থ হয়ে মারা যান। তবে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে ওই নারী প্রায় তিনমাস আগে জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশে এসেছিলেন। তিনি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়া পাশের আরেকটি বাসায় সদ্য ইতালি ফেরত এক যুবক অসুস্থ রয়েছেন।
এ অবস্থায় এম আর ভিলাসহ আশেপাশের ৫টি ভবনকে করোনা সন্দেহে ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ ঘোষণা করে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে জেলা পুলিশ। ঘটনাস্থলে সিভিল সার্জন ডা. তৌহীদ আহমদ, মেয়র ফজলুর রহমান, উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম, সদর মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের টিম, পুলিশ ফোর্স এবং পৌরসভার টিম ছিলেন। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং তথ্য নিশ্চিন্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কারো সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই বৃদ্ধার মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ উঠলে সোমবার সকালে জরুরি বৈঠকে বসেন সিভিল সার্জনসহ মৌলভীবাজারের করোনা প্রতিরোধ কমিটি। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচটি বাড়ি লকডাউন করা হয়।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. তওহিদ আহমদ বলেন, এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারব না। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে পরে জানানো হবে।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান বলেছেন, বৃদ্ধার মৃত্যুর পর তার বাসাসহ পাঁচটি বাসা লকডাউন করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

অপরদিকে মৌলভীবাজার কাশিনাথ সড়কের এম আর ভিলা,গ্রামের বাড়ী ভাদগাও এবং ইংল্যান্ড ক্যামডেন শহর নিবাসী প্রবাসী মকদ্দুস আলীর সহধর্মিণী রেজিয়া খাতুন (৬৭) গত কাল রবিবার হঠাৎ বুকে ব্যাথা শুরু হলে মৌলভীবাজার লাইফ লাইন হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন দুপুর ১ টায় মৃত্যু বরণ করেন। রেজিয়া বেগম শুধু মাত্র ডায়বেটিস,ব্লাড পেশার রোগ ছিল এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সুস্থ ছিলেন। তাছাড়া করোনা ভাইরাসের কোন লক্ষণ সর্দি জ্বর,কাশি তার শরীরের মধ্যে ছিল না বলে  মরহুমার  পারিবারিক সূত্র দাবী করেন।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায় গত ১০ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে  তিনি দেশে আসেন।তার মৃত্যু নিয়ে অনেকেই অনুমান নির্ভর নিউজ করছেন এবং করোনা ভাইরাসে  আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করছেন যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ। বাস্তবতার সহিত এর কোন মিল নেই। এরকম সংবাদ প্রকাশের ফলে বর্তমান নাজুক প্রেক্ষাপটে আতঙ্কের সৃষ্টি হতে পারে দাবী পরিবারের।

নিজস্ব প্রতিনিধি: পৃথিবীব্যাপী মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস এর আক্রমণ থেকে গণসচেতনতা মূলক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন। এরই প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল শহরেও গণসচেতনতা বাড়াতে এবং করুণা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে লিফলেট বিতরণ করেছেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভা।

আজ সোমবার সকাল ১১ টা থেকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আয়োজনে ও কিশোরী ক্লাবের সহযোগিতায় শ্রীমঙ্গল পৌসভার নয়টি ওয়ার্ডে পৃথকভাবে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনতা মুলক লিফলেট সাধারণ জনগণের হাতে তুলে দেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

এদিকে প্যানেল মেয়র (২) মীর এম এ সালাম এর উদ্যোগে এবং শ্রীমঙ্গল পৌরসভার  ৭ নং ওয়ার্ডের শান্তি শাপলা কিশোরী ক্লাবের সহযোগিতায় তিনি তার নিজ ওয়ার্ডে  করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় স্থানীয়রাসহ ‘কিশোরী ক্লাব’ এর সদস্য ও নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে ৭ নং ওয়ার্ড থেকে এই প্রচার প্রচারনার কাজ শুরু করেন কাউন্সিলর মীর এম এ সালাম।

প্রসঙ্গত গত ২০শে মার্চ শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় শ্রীমঙ্গল র্যাব ক্যাম্প ৯ কর্তৃক গনহাত ধোয়ার নিমিত্তে নির্মিত বেসিনে হাত ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত সাবান এবং পানির ব্যবস্থা করেন শ্রীমঙ্গল পৌর মেয়র মোঃ মহসীন মিয়া মধু।

কাউন্সিলর মেয়র এম এ সালাম আমার সিলেটকে জানান এই প্রচার প্রচারনা শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পক্ষ থেকে ৯টি ওয়ার্ডেই অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং এর সংখ্যা পর্যায় ক্রমে আরো বাড়ানো হবে।

তিনি তার ৭ নং ওয়ার্ড ও পৌরসভার সকল জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সাবধান থেকে করোনা ভাইরাসসহ যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেদেরকে ধৈর্য ধরে সমন্নিতভাবে এর মুকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ছেলে বলেন, তার বাবার মৃত্যু নিয়ে নানা ধরনের ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ দেওয়া হচ্ছে। এটি পরিষ্কার করতে তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন। তার পরিবার এখন বাসায় কোয়ারেন্টিনে আছেন।

পোস্টে তিনি লিখেছেন- পিতার মৃত্যু এবং সন্তানের ব্যর্থতা। আমি কখনো ভাবিনি যে আমার পিতার মৃত্যুর ঘটনা আমাকে এই ভাবে লিখতে হবে। কিন্তু কিছু মিডিয়ার মিথ্যা রিপোর্ট দেখে আমি বাধ্য হলাম ফেসবুকে কিছু সত্য প্রকাশ করতে।

গত ১৬ তারিখে আব্বা অসুস্থ বোধ করলে আমাদের ড্রাইভার ওই দিন বিকেলে তাকে কল্যাণপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসে। ওই সময় আমরা ভাইয়েরা সবাই অফিসে। আমি অফিস থেকে বাসায় এসে শুনলাম ডাক্তার ধারণা করছে উনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং কোভিড-১৯ টেস্ট এর জন্য প্রস্তাব করেছে।

অতঃপর ওই রাত্রেই আমরা টেস্ট এর জন্য আইইডিসিআরের হান্টিং নম্বরে ফোন দেওয়া শুরু করি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তাদের সঙ্গে আমরা কমিউনিকেশন করতে সমর্থ হই, তারা আমাদের জানায় যেহেতু অসুস্থ ব্যক্তি বিদেশ ফেরত না এবং বিদেশ ফেরত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে উনি আসেন নাই সেহেতু এই টেস্ট ওনার জন্য প্রযোজ্য নয়, আমি তাদের বলেছিলাম উনি মসজিদে যায় এবং ওখান থেকে এই ভাইরাস আসতে পারে কি-না ? তারা আমাদের বলেছেন যে এই ভাইরাস বাংলাদেশে কমিউনিটিতে মাস লেভেলে এখনো সংক্রমিত হয়নি সুতরাং আপনারা চিন্তা করেন না, এটা সাধারণ শ্বাস কষ্টের প্রবলেম।

ওই রাত্রেই আনুমানিক সাড়ে ১০টায় আমি তাকে শ্যামলীর একটি বড় হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং আমাদের পরিচিত একজন স্পেশালিস্ট ডক্টরকে দেখাই উনি আমাকে বলেন, রোগীর নিউমোনিয়া হয়েছে তাকে নিউমোনিয়ার ট্রিটমেন্ট দিতে হবে। তবে বাংলাদেশের কোনো হসপিটাল এই রোগীর ভর্তি নেবে না, আপনারা বাসায় ট্রিটমেন্ট করেন। আমি ওই রাত্রে বাসায় চলে আসি এবং আব্বাকে নেবুলাইজার দেওয়া এবং মুখে খাওয়া অ্যান্টিবায়োটিক দিতে থাকি।

পরের দিন ১৭ তারিখে দুপুরে আমি আব্বাকে নিয়ে যাই শ্যামলীর ওই হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে। তারা রোগী দেখে বলে যে রোগীর অবস্থা ভালো না তাকে আইসিইউ সাপোর্ট দিতে হবে। এবং তাদের আইসিইউ তারা দিতে পারবে না। এরপর আমি অন্য একটি হাসপাতালে কথা বলি। ওরা বলে ওদের আইসিইউ খালি আছে। আমরা দ্রুত আব্বাকে নিয়ে কেয়ার হাসপাতালে যায় এবং আইসিইউতে ভর্তি করি। ১৫ মিনিট পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের বলে এই রোগী তারা রাখতে পারবে না।

অতঃপর আমরা রোগী নিয়ে কল্যাণপুর একটি হসপিটালে যাই তারা আমাকে কেবিন দিয়ে সাহায্য করে কিন্তু তাদের আইসিইউ খালি নাই। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টায় হাসপাতালের ডাক্তার আমাকে বলেন, এই রোগীর আইসিইউ লাগবে আপনারা দ্রুত আইসিইউ এর ব্যবস্থা করেন, আমি বিভিন্ন হাসপাতালে কথা বলতে থাকি কোথাও আইসিইউ খালি নাই। অতঃপর মিরপুরের ওই হাসপাতাল (যেখানে মারা গেছেন) তাদের আইসিইউ দিতে রাজি হয়। আমি এবং আমার ছোট ভাই রাত্রে ৪টার সময় আব্বাকে নিয়ে সেখানে আসি এবং দুপুর ১২টার পর থেকে আব্বা লাইফ সাপোর্টে চলে যান। ১৮ তারিখ দুপুর থেকে আমরা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি কিন্তু ব্যর্থ হই। অতঃপর ১৯ তারিখ বিকেলে আইইডিসিআর রাজি হয় এবং রাত্রে টেস্ট করে এবং পরের দিন ২০ তারিখ দুপুরে তারা আমাদের জানায় যে রিপোর্ট পজিটিভ। আমাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলে ১৫ দিন।

রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর থেকে ওই হাসপাতাল আমাদের প্রেশার দিতে থাকে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়ার অনুমোদন দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা অনুমতি না দিয়ে তাদের বলতে থাকি ট্রিটমেন্ট দিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা আর রোগীর কাছেও যায়নি এবং আমাদের আইসিইউ এর ভেতর ঢুকতেও দেয়নি। যা হোক আমার আব্বু অবশেষে ২১ তারিখ ভোর তিনটার সময় ইন্তেকাল করে।

আমরা সন্তানরা ব্যর্থ, পিতার সঠিক ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করতে এবং এমনকি তার জানাজাতে আমরা উপস্থিত থাকতে পারি নাই। সন্তান হিসেবে, একজন পুত্র হিসেবে এর চেয়ে কঠিন কষ্ট আর কিছুই হতে পারে না। আমার বুকে পাথর বেঁধে বাসায় অবস্থান করছি সরকারের আইন মেনে ১৫ দিন। কিন্তু কিছু পেজ এবং ফ্রন্ট লাইনের মিডিয়া আমাদের নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে আমার ভগ্নিপতি বিদেশ থেকে আমাদের বাসায় এসেছে, যেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমার দুই ভগ্নিপতি, বড় বোন এবং তার স্বামী চিটাগং এর দুটি সরকারি কলেজের অধ্যাপক। অন্য ভগ্নিপতি জাপান থাকে। সে গত এক বছরের মধ্যে আসে নাই, আমার বাবা যেদিন আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে চলে যায় সে দিন মানে ১৯ তারিখে আমার বড় বোন এবং বড় দুলাভাই চিটাগং থেকে আমাদের বাসায় আসে এবং তারাও হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করছে।

আমাদের এই বিপদের সময় দয়া করে আমার পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা রিপোর্ট করবেন না। এখন পর্যন্ত আমাদের পরিবারের বাকি সদস্যরা সুস্থ আছে কারও মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দেয় নাই, আমার ছোট ভাই এবং আমার ড্রাইভারের কোভিড ১৯ টেস্ট করা হয়েছে, যেটা নেগেটিভ এসেছে। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেন, বাংলাদেশের সবাইকে যেন আল্লাহ হেফাজত করেন।ইত্তেফাক

লকডাউন হলেও ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আগামী ২৫-৩১ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশের শপিংমল ও মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে খোলা থাকবে নিত্যপণ্য ও ওষুধের দোকান। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশের দুই উপজেলা ‘লকডাউন’ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরো এলাকা লকডাউন হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে নগদ অর্থের লেনদেন করতে পারে সেই জন্য যেকোনো অবস্থায়ই ব্যাংকের সব শাখা খোলা রাখতে হবে। লক ডাউন হলেও শাখা বন্ধ করা যাবে না। রোববার (২২ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত নগদ টাকার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত এক নির্দেশনা জারি করেছে।

দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং এর কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রোধকল্পে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকসমূহকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এরূপ পরিস্থিতিতে গ্রাহকের চাহিদার বিপরীতে দৈনন্দিন নগদ অর্থের সরবরাহ যেন বিঘ্নিত না হয় সে লক্ষ্যে ব্যাংকের শাখাগুলোতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কোন এলাকা/অঞ্চল সরকারী ঘোষণার মাধ্যেমে লক ডাউন করা হলে সে এলাকায়/অঞ্চলে প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সহায়তা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে রোববার করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রোধে জরুরি বৈঠক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৈঠকে নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে ব্যাংকের সব শাখা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি সব ধরনের প্রশিক্ষণ বন্ধ করা ও বিদেশ থেকে আসা কর্মীরা যেন ব্যাংকে না আসা ও সব ধরনের প্রোগ্রাম- যেখানে বেশি মানুষের সমাগম হয় তা বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নর্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রোধে সব ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ অথবা অফিসিয়াল কাজে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের ১৪ দিনের ছুটি দেওয়া হবে। এমনকি যাদের পরিবারে কোনো সদস্য বিদেশ থেকে এসেছে তাদের ক্ষেত্রেও ১৪ দিন বাধ্যতামূলক ছুটি নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তিনি আরও জানান, খুব শিগগির বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিটি বিভাগের সামনে থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যেই বেশিরভাগ বিভাগের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকের কয়েকটি শাখা বন্ধ রেখে অন্যান্য শাখাগুলো বন্ধ ঘোষণার অনুরোধ করেছিল একটি ব্যাংক। কিন্তু সেটা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারণ সংকটের সময়গুলোতে মানুষের টাকার প্রয়োজন বেশি হয়। সতর্কতা অবলম্বন করে সবাই ব্যাংক থেকে টাকা উঠাতে ও জমা দিতে পারবে। এছাড়া মহামারির এ সময়ে ব্যাংককে বোর্ড মিটিংগুলো ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

লকডাউন দুই উপজেলা
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন দুই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। প্রথমে বিষয়টি কেউ না জানলেও পরে পরীক্ষায় তাদের করোনা শনাক্ত হয়। এজন্য গোটা উপজেলা লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নবী নেওয়াজ। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে মাদারীপুরের শিবচর লকডাউনের ঘোষণা দেয় উপজেলা প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ওই লকডাউন বলবৎ থাকবে। তবে ওষুধ, কাঁচামাল ও মুদি দোকান লকডাউনের আওতামুক্ত রয়েছে।

মৃত্যু ছাড়িয়েছে ১৩ হাজার, আক্রান্ত ৩ লাখের বেশি
বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে, একই সঙ্গে তিন লাখের কোটা পার হয়েছে মোট আক্রান্তের সংখ্যা। ইতোমধ্যেই ১৮৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। সবশেষ তথ্য অনুসারে, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৭ হাজার ৬২৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৩ হাজার ৫০ জন। চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৯৫ হাজার ৭৯৭ জন কোভিড-১৯ রোগী। চিকিৎসাধীন ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৭৮। এদের মধ্যে অন্তত ৯ হাজার ৩০০ জনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। চীনে গতকাল নতুন করে ৪৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, মারা গেছেন ছয়জন। এ নিয়ে সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়ছে ৮১ হাজার ৫৪ জন, মৃত্যু ৩ হাজার ২৬১ জনের।

দেশে শেষ খবর পর্যন্ত আক্রান্ত বেড়ে ২৭ 
মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে দেশে নতুন করে আরও তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে ভাইরাসটিতে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ জন। এছাড়া সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও দুজন, ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন পাঁচজন। তবে নতুন করে কারও মৃত্যু হয়নি। অর্থাৎ করোনায় দেশে মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত দুজনই। স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হিসেবে আরও ৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৭। এছাড়া আগে আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। এবার নতুন করে আরও দুজন সুস্থ হয়েছেন। ফলে মোট পাঁচজন সুস্থ হয়েছেন।

“মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জন,আক্রান্তদের পাঁচজন চিকিৎসা নিয়ে সেরে উঠেছেন”

দেশে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও তিন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে।

রোববার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে একজন নারী, দুইজন পুরুষ। এদের মধ্যে দুইজন বিদেশ থেকে ফিরেছেন। আর একজন বিদেশফেরত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন।

তাদের একজনের বয়স চল্লিশের ঘরে, একজন ত্রিশের ঘরে এবং একজনের বিশের ঘরে। নতুন আক্রান্ত দু’জনের মধ্যে একজনের একাধিক প্রাণঘাতী ব্যাধির উপস্থিতি রয়েছে বলে জানান আইইডিসিআরের পরিচালক।

সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচজন চিকিৎসা নিয়ে সেরে উঠেছেন।

গত ৮ মার্চ প্রথমবারের মতো দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর জানায় আইইডিসিআর।

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে রোববার পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪৮ জনে। এর মধ্যে ইতালিতেই গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৯৩ জন মারা গেছেন।

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিস্টেমস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ( সিএসএসই)-এর তথ্য অনুযায়ী, নভেল করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ৩ লাখ ৭ হাজার ২২৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৯২ হাজার ৩২৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৮৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) হু।

নাটোর জেলা কারাগারের এক কয়েদির শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাকি কয়েদি ও কারাগারে কর্মরত কর্মীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারা হাসপাতালের আইসোলেশন বেডে ভর্তি থাকা ওই কয়েদিকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই তাঁকে জামিনে মুক্ত করে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ।

নাটোর জেলা কারাগার সূত্রে রোববার জানা যায়, সদর থানার একটি মারামারি মামলার আসামি এই কয়েদি পাঁচ দিন আগে জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথায় আক্রান্ত হন। তাঁকে কারাগারের ভেতরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি সুস্থ হচ্ছেন না। বরং আজ সকালে তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হয়। তাঁর শরীরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গগুলো স্পষ্ট।

আজ সকাল ১০টায় ওই কয়েদিকে কারা হাসপাতালের আইসোলেশন বেডে স্থানান্তর করা হয়। জেল সুপার বিষয়টি জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, পুলিশ সুপার, সরকারি কৌঁসুলি ও সংশ্লিষ্ট বিচারককে অবহিত করেন। বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনে তাঁরা আলাপ করেন। আপাতত ওই আসামিকে জামিনে মুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

জেল সুপার আবদুল বারেক বলেন, ওই কয়েদিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। তাঁর অসুস্থতা দেখে কারা হাসপাতালের চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে তাঁর সুরক্ষার পাশাপাশি কারাগারের অন্য কয়েদি ও কারাকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। দ্রুত করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা করানো দরকার তাঁর। তা না হলে সবাইকে ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হবে। তাঁরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওই কয়েদিকে কারাগার থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে পুরো বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভর করছে।

জেলা সিভিল সার্জন কাজী মিজানুর রহমান বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনা জানার পর তাঁরা রোগীকে আপাতত হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কোভিড-১৯ পরীক্ষার পর চিকিৎসা নিয়ে কাজ করা হবে। একই সঙ্গে কারাগারসংশ্লিষ্টদের কোয়ারেন্টিনের বিষয়েও ভাবা হবে। প্রথম আলো

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc