Thursday 2nd of April 2020 09:06:00 PM

আজ ২১/০৩/২০২০ তারিখ হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলার সকল হাট-বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী এবং ঔষধের দোকান ব্যতীত অন্যান্য দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন রাত ৮.০০ ঘটিকার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  সম্প্রতি পৃথিবীতে করোনা ভাইরাসের করালগ্রাস এর আক্রমণ থেকে বেচে থাকার জন্য অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রশাসনের বিভিন্ন শাখা কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলা শুরু করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম আজ শনিবার সন্ধ্যায় একটি লিখিত ঘোষণাপত্র জারি করে শহরে মাইকিং করেছে। নিম্নে হুবহু ঘোষণাপত্রটি জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে প্রচার করা হলো।

                                                          “একটি বিশেষ ঘোষণা”

এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ছড়িয়ে পড়া COVID-19 করুণা ভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে. ইতিমধ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রায় একশর কাছাকাছি হোম কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে। কিন্তু  হোমকোয়ারেনটাইনে থাকা লোকজন কোয়ারেন্টাইন নিয়মকানুন যথাযথভাবে প্রতিপালন না করায় শ্রীমঙ্গলের সকল শ্রেণীর জনগণের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমনের হুমকি দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বিশেষ সতর্কতা হিসেবে ইতিমধ্যে সব ধরনের ধর্মীয়,রাজনৈতিক,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি কমিউনিটি সেন্টার বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এমতাবস্থায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় করোনা ভাইরাসের  বিস্তার রোধে অদ্য ২১/০৩/২০২০ তারিখ হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলার সকল হাট-বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী এবং ঔষধের দোকান ব্যতীত অন্যান্য দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন রাত ৮.০০ ঘটিকার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। উক্ত আদেশ ভঙ্গকারী ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আদেশক্রমে

নজরুল ইসলাম

{স্বাক্ষরিত}

উপজেলা নির্বাহী অফিসার

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজার

উল্লেখ্য,গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হয়। এরপর বিশ্বের ১৫০ টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া এই করোনা ভাইরাসে ইতিমধ্যে ১১ হাজারের বেশি জনের মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে ইতালিতে একদিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড ৭৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ  আজ শনিবার এই তথ্য জানিয়েছে।এর একদিন আগে করোনায় দেশটিতে ৬২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রতিনিয়ত দেশটিতে করোনায় রেকর্ড সংখ্যক লোকের প্রাণহানি ঘটছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনায় এখন পর্যন্ত ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৮ শ ২৫ জন।

দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনায় আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ৪৭ হাজার ২১ জন থেকে আক্রান্ত বেড়ে ৫৩ হাজার ৫৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সারা দেশে সামাজিক, ত্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সমাবেশ নিষিদ্ধ করার পরও শুক্রবার (২০মার্চ)মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের আয়োজন করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী হাকিম আশেকুল হক বিয়ের আয়োজন পন্ড করে কমিউনিটি সেন্টার সিলগালা করে সেন্টারের মালিককে নগদ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) বেলা ১টায় রহিমপুর ইউনিয়নের জিসা কমিউনিটি সেন্টারে এ অভিযান চলে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী হাকিম আশেকুল হক বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল করে দিয়ে কমিউনিটি সেন্টারের ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও সেন্টার সিলগালা করার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নিষেধজ্ঞা অমান্য করায় এই জরিমানা করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে ভারত,সিঙ্গাপুর,দুবাই,কাতার,ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশী গত ১মার্চ থেকে ১৭মার্চ পর্যন্ত ২২২৮জন প্রবাসী দেশে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৯১জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে জানান,সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন সামছুদ্দিন। তিনি জানান,খোঁজ পাওয়া প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তারা নজরদারীতে রয়েছে। অন্যান্যদের সন্ধানেও প্রশাসনিক তৎপরতা অব্যাহত আছে।
তিনি অরোও জানান,করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে এসে ভর্তি করার পর জরুরি ভিত্তিতে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা বিভাগে (আইইডিসিআর) যোগাযোগ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন,এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জে যারা প্রবাসীরা এসেছেন তাদের অনেক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন না। আমরা তাদের খোঁজে সকল প্রবাসীদের নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসছি। যারা হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম মানবেন না তাদেরকে সংক্রামক রোগ আইনের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করবো। পাশাপাশি সবাই যাতে নিজ থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মেনে চলেন সেজন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ  সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস আতঙ্ক। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন শঙ্কায় গত কয়েকদিন ধরে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বেচাকেনা। এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা চাল,পেয়াজসহ বেশকিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি বাজারে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানা করেছে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে।
এমন সুযোগে সুযোগ সন্ধানী একটি চক্র মোবাইল কোর্ট পরিচালনা টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই পরিচয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম ব্যবহার করে ভ্রাম্যমান আদালত নিয়ে ব্যবসয়ীদের কাছে চাঁদা দাবী করছে বলে অভিযোগ উঠেছে ।
আজ শুক্রবার দুপুরে, ০১৭১৩১৬৬৬২১ নাম্বার থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের এসআই পরিচয় দিয়ে মোবাইল কোর্ট আসিতেছে বলে জানায় মিষ্টি মেলার মালিক সুজিত দেব, মধুমেলার মালিক মোশাহিদ তালুকদার, শ্রী দুর্গা মিষ্টি দোকান মালিক নিরেশ চন্দ্র পালসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে। পাশাপাশি আপনাদেরকে মোটা অংকের টাকা জরিমানা করা হবে। এখনও সময় আছে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাইল কোর্টে আসার আগে তাৎক্ষনিক যোগাযোগ করুণ। নতুবা মোটা অংকের জরিমানা এবং ব্যবসা প্রতিষ্টান বন্ধ করে দেয়ার হুমকী দেয়া হয়।
কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই চুনারুঘাট ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরিচয়ে ০১৩১৫০৩৬০৯৭ নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে শ্রী দুর্গা মিষ্টি দোকান মালিক নিরেশ চন্দ্র পাল, মিষ্টি মেলার মালিক সুজিত দেব, মধুমেলার মালিক মোশাহিদ তালুকদারসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জানায় আপনাদের দোকানে ভেজাল বেশি বড় অংকের জরিমানা দিতে হবে। এরই মধ্যে মিষ্টি মেলার মালিক সুজিত দেবের কাছ থেকে ০১৭১৩১৬৬৬২১ নাম্বারে ২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায়।
বিষয়টি বাজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাৎক্ষনিক মধুমেলার মালিক মোশাহিদ তালুকদার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সত্যজিৎ রায় দাশ এর  সাথে যোগাযোগ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট টিম থেকে কোন প্রকার ফোন করা হয়নি। উল্লেখিত নাম্বারে ভোক্তভুগীদের অভিযোগ করতে বলেন। এ প্রেক্ষিতে তিনি বলেন প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন। ভ্রাম্যমান আদালত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হবে এক্ষেত্রে জরিমানা আদায় করে ডিসিআর (জরিমানা আদায়ের রশিদ) দিয়ে দোকান মালিককে বুঝিয়ে দেয়া হয়। কোন অবস্থাতেই ভ্রাম্যমান আদালত ব্যতীত কোন প্রতারক চক্র যদি ভ্রাম্যমান আদালতের নামে ফোন দেয় অথবা মোবাইল কোর্ট পরিচয় দিয়ে বাজারে আসে তাদের কোন প্রকার সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানাতে বলা হয়েছে।
একই সাথে তিনি জনান যে, বাজার সিন্ডিকেটের সাথে যারা জড়িত তাদের প্রতি তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। বাজার সিন্ডিকেট করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন ইতিপূর্বে বিভিন্ন জায়গাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসিয়াল মোবাইল নাম্বার ক্লোন করে অনেক সময় এধরনের প্রতারনা করতে দেখা গেছে।এইক্ষেত্রেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন স্ব-শরীরে ওনার অফিসে হাজির হয়ে এবিষয়ে সত্যতা যাচাই ও সকল ধরনের লেনদেন পরিহার করতে নির্দেশ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ওসি (তদন্ত) চম্পক দাম বলেন, পুলিশ পরিচয়ে যদি কেহ ফোন করে থাকে তাহলে সে প্রকৃত পুলিশ কিনা বিষয়টি ভেরিফাই করা দরকার। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করলে সে যেই হোকনা কেন আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc