Thursday 2nd of April 2020 09:34:25 PM

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে শহরের উকিলপাড়াস্থ প্রেসক্লাবের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য,পিপি অ্যাডভোকেট শামসুন্নাহার বেগম শাহানা’র সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক শহিদনুর আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ, প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি ও দৈনিক সুনামকন্ঠের সম্পাদক বিজন সেন রায়, প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি রওনক আহমেদ।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক সুনামগঞ্জের সময়ে’র সম্পাদক মোঃ সেলিম আহমদ তালুকদার, সময় টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি হিমাদ্রি শেখর ভদ্র, প্রেসক্লাবে সদস্য সাংবাদিক আল হেলাল, দৈনিক জালালাবাদের জেলা প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন, দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক’র নির্বাহী সম্পাদক কে জি মানব তালুকদার, দৈনিক সমাচার প্রতিনিধি মিজানুর রহমান মিজান, দৈনিক আজকালের জেলা প্রতিনিধি আমিনুল হক।
উপস্থিত ছিলেন বাংলাভিশন প্রতিনিধি ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি মাসুম হেলাল, প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম শ্যামল, দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক’র স্টাফ রিপোর্টার সুলেমান কবীর, চ্যানেল এস প্রতিনিধি ফুয়াদ মুনি,সাংবাদিক সোহেল আলম,সাংবাদিক বাবুল প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধু’র আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন আলিমাবাগ জামে মসজিদের ঈমাম মাওলানা দিলোয়ার হোসেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মুজিববষে উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পিতা, তোমার কাছে আমাদের অঙ্গীকার, তোমার স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়বোই। আর সেদিন বেশি দ‚রে নয়। তোমার বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তুমি ঘুমাও পিতা শান্তিতে। তুমি ঘুমিয়ে আছ টুঙ্গিপাড়ার সবুজ ছায়াঘেরা মাটিতে পিতা মাতার কোলের কাছে। আমরা জেগে রইবো তোমার আদর্শ বুকে নিয়ে। জেগে থাকবে এদেশের মানুষ – প্রজন্মের পর প্রজন্ম-তোমার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে। তোমার দেওয়া পতাকা সমুন্নত থাকবে চিরদিন।

বক্তব্যের শুরুতেই মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিক এবং বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানান বঙ্গবন্ধুর জেষ্ঠ্যকনা শেখ হাসিনা। এরপর ছোটবোন শেখ রেহানার পক্ষ থেকেও দেশের সকল বষয়, শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আজ ১৭ই মার্চ। ১৯২০ সালের আজকের দিনে এই বাংলায় জন্ম নিয়েছিলেন এক মহাপুরুষ। তিনি আমার পিতা, শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ নামের এই দেশটি তিনি উপহার দিয়েছেন। দিয়েছেন বাঙালিকে একটি জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের মর্যাদা। তাইতো তিনি আমাদের জাতির পিতা। দুঃখী মানুষকে ক্ষুধা-দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে নিজের জীবনের সব সুখ-আরাম বিসর্জন দিয়ে তিনি সংগ্রাম করেছেন আজীবন। বারবার কারারুদ্ধ হয়েছেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁকে ব্যথিত করতো। অধিকারহারা দুঃখী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেকোন ত্যাগ স্বীকারে তিনি দ্বিধা করেননি।এই বঙ্গভ‚মির বঙ্গ-সন্তানদের একান্ত আপনজন হয়ে উঠেছিলেন তাই তিনি বঙ্গবন্ধু।টেলিভিশনে ভাষণ ও অনুষ্ঠানমালায় মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় মুজিবষের বছরব্যাপী আয়োজনের। নিজের এবং বোন শেখ রেহানার পক্ষ থেকে সবাইকে মুজিবর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনার শুরু করা এই ভাষণে জাতির পিতার শৈশব এবং সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন,দুঃখী মানুষকে ক্ষুধা-দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে নিজের জীবনের সব সুখ-আরাম বিসর্জন দিয়ে তিনি সংগ্রাম করেছেন আজীবন। বারবার কারারুদ্ধ হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আজ থেকে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৬-এ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ উদযাপন করা হবে। ২০২১ সালে উদযাপিত হবে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিভিন্ন বন্ধুপ্রতীম দেশ, ইউনেসকো, ওআইসি-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মুজিববর্ষ উদযাপনে অংশীদার হয়েছে। সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের প্রতি। আমরা মুজিববর্ষ পালনের সুযোগ পেয়েছি। এ যে আমাদের জীবনে কত বড় পাওয়া, তা ভাষায় বোঝাতে পারব না। আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই দেশবাসীর প্রতি- যাঁরা আমার দল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে, পরপর তিনবার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে মুজিববর্ষ উদযাপনের সুযোগ করে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভুত পরিস্থিতিতে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তবে বছরব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করবো। একই কারণে বিদেশি অতিথিবৃন্দের সফর স্থগিত করা হয়েছে। আজকের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ১৫ই আগস্টের শহিদদের প্রতি। স্মরণ করছি জাতীয় ৪- নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদকে। নির্যাতিত মাবোন এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধাদের সালাম।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের দুঃখ-কষ্টে ব্যথিত হতেন জাতির পিতা। অকাতরে বিলিয়ে দিতেন তার জামাকাপড়, বই, ছাতা। যার যখন যা প্রয়োজন মনে করতেন, তাকে নিজের জিনিষ দিয়ে দিতেন। নিজের খাবারও তিনি ভাগ করে খেতেন। দুর্ভিক্ষের সময় গোলার ধান বিলিয়ে দিতেন। মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেই তিনি আনন্দ পেতেন। নিজের জীবনের কোন চাওয়া পাওয়া ছিল না। বাংলাদেশের মানুষকে উন্নত, সুন্দর জীবন নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন তিনি। তার সে ত্যাগ বৃথা যায়নি। তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে মর্যাদার আসনে আসীন। আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। গড়তে হবে জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

আজকের শিশু-কিশোর, তরুণ সমাজের কাছে আমার আবেদন- তোমরা দেশকে এবং দেশের মানুষকে ভালবাসবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা। স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলার উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে তোমাদের নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ঠিক যেভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের মানুষকে ভালবেসেছিলেন, সেভাবেই ভালবাসতে হবে। তার আদর্শে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, পিতা, ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নিয়েছে তোমাকে। তোমার দেহ রক্তাক্ত করেছে। তোমার নাম বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওরা পারেনি। ঘাতকেরা বুঝতে পারেনি তোমার রক্ত ৩২ নম্বর বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে- বেয়ে ছড়িয়ে গেছে সারা বাংলাদেশে। জন্ম দিয়েছে কোটি কোটি মুজিবের। তাই আজ জেগে উঠেছে বাংলাদেশের মানুষ সত্যের অন্বেষণে। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। আজ শুধু বাংলাদেশ নয় তোমার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশকে বিশ্ব চিনে নিয়েছে তোমার ত্যাগের মহিমায়।

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে যথাযোগ্য মর্যাদায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙ্গালী, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০তম জন্মবার্ষিকী পালন ও মুজিব বর্ষের উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য প্রদানের মাধ্যমে দিনের শুভ সূচনা করা হয়। এসময় প্রতিকৃতিতে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় এমপি নেছার আহমেদ, মহিলা এমপি সৈয়দা জহুরা আলাউদ্দিন, জেলা প্রশাসন নাজিয়া শিরিন, পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
পরে বেলুন উড়িয়ে মুজিব বর্ষের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এরপর পৌরসভার সামনে মুজিব বর্ষের মে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ও দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

জন্মশতবার্ষিকী, পিতা ও পুত্রী

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীঃ  ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওয়াহের লাল নেহেরুকে বলা হয় আধুনিক অসাম্প্রদায়িক ভারতের স্থপতি। বেশ কয়েক বছর আগে তার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় বলেছিলেন, ‘প-িত নেহেরুকে স্মরণ করতে গেলে তাঁর কন্যা ইন্দিরা গান্ধীকেও স্মরণ করতে হয়। কারণ, নেহেরুর আধুনিক ভারত গঠন ইন্দিরা গান্ধীকে ছাড়া সমাপ্ত হতো না।’

আজ ১৭ মার্চ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তাকে পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে গিয়ে আমারও মনে হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ার কাজ কন্যা শেখ হাসিনাকে ছাড়া বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকত। ইন্দিরাকে ভারতের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র রক্ষার কাজে সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে হয়নি। হাসিনাকে দীর্ঘকাল জেল-জুলুম ও হত্যা চেষ্টা মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রক্ষা ও উদ্ধারের কাজে লড়াই চালাতে হয়েছে।

আজ যে আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে পারছি তাকে জাতির পিতার আসনে পুনর্প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি, তার মূলেও রয়েছে শেখ হাসিনার অবদান। একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা বঙ্গবন্ধুকে তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ হত্যা করার পর তার হাতে গড়া অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের ভিত্তি ধ্বংস করার উদ্যোগ নিয়েছিল। এক ঘাতক খলনায়ককে দেশের ত্রাতা ও স্বাধীনতা ঘোষণাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা দানের চেষ্টা করেছিল। বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগকেও বিলুপ্তির পথে নিয়ে গিয়েছিল।

এই অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর ভূলুণ্ঠিত পতাকা আবার তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন করেন। দলটিতে আবার প্রাণ সঞ্চার করেন। বঙ্গবন্ধু যেমন পাকিস্তানী সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন, তেমনি শেখ হাসিনা দুই দুইটি সামরিক শাসন ও খালেদা জিয়ার স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে অপহৃত স্বাধীনতা এবং জাতির পিতার মর্যাদা পুনরুদ্ধার করেছেন। তাই বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কথা আসবেই।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নাদর্শ এবং শেখ হাসিনার স্বপ্নাদর্শ কি অভিন্ন? এই প্রশ্নের জবাব হলো, মৌলিক আদর্শের ক্ষেত্রে তা অভিন্ন। কিন্তু তার বাস্তবায়নের কাজে দু’জনের পথ একটু ভিন্ন। এই ভিন্নতা কেন তা জানতে হলে বঙ্গবন্ধুর মৌলিক আদর্শের দিকে তাকাতে হবে। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন দেশে গণতন্ত্রের সঙ্গে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের পূর্ণ প্রতিষ্ঠা। রাষ্ট্রকে পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ করা। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি অনুসরণের জন্য আগে মিশ্র অর্থনীতি চালু করা এবং আমলাতন্ত্র নির্ভর প্রশাসনের বদলে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক প্রশাসন গড়ে তোলা।

এই আদর্শের পূর্ণ বাস্তবায়ন বঙ্গবন্ধু করে যেতে পারেননি। তিনি রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পর অর্থনৈতিক মুক্তির পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন। বুর্জোয়া অথবা আধা বুর্জোয়া গণতন্ত্রের পথ ছেড়ে শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ ধরেছিলেন। এটাই ছিল তাঁর দ্বিতীয় বিপ্লবের লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধুর এই দ্বিতীয় বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জন যদি সফল হতো তাহলে আজকের বাংলাদেশ হতো পূর্ব ইউরোপীয় সাবেক সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মতো একটি অর্থনৈতিক বৈষম্যহীন এবং সামাজিক সাম্যের দেশ। বুর্জোয়া ও ধনতান্ত্রিক দেশগুলোর চাকচিক্য তাতে থাকত না। কিন্তু তার অর্থনীতি ও সামাজিক সাম্যের ভিত্তি হতো শক্তিশালী। তবে এই রাষ্ট্রে সমাজতন্ত্র রক্ষার নামে সোভিয়েত সৈন্যের পাহারা প্রয়োজন হতো না। দেশের মানুষই এই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার হতো অতন্দ্রপ্রহরী।

প্রণতি পিতা জয়তু বঙ্গবন্ধু

তোয়াব খান ॥ ওই মহামানব আসে, দিকে দিকে রোমাঞ্চ লাগে…। আজ সতেরোই মার্চ।

দক্ষিণ এশিয়ার সব থেকে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে উন্মুখ গোটা জাতি। কৃতজ্ঞ জাতি নানা অনুষ্ঠানে নিবেদন করছে বিনম্র শ্রদ্ধা। জন্মশতবর্ষের সূচনালগ্নে তাই পিতার প্রতি প্রণতি। জয়তু বঙ্গবন্ধু। ভয়াবহ রকম যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং পাকি সেনা বাহিনীর নৃশংস তা-বে ল-ভ- যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি দেশকে আবার দাঁড় করানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো একে একে সবই তিনি গ্রহণ করেছিলেন। সড়ক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যুদ্ধে অচল হয়ে যাওয়া বন্দরগুলো চালু করা, এক কোটি ছিন্নমূল মানুষসহ দেশের বিপুলসংখ্যক জনগণের জন্য খাদ্যের সংস্থান, প্রশাসনিক কাঠামোকে স্বাধীন দেশের উপযোগী করে গড়ে তোলা বঙ্গবন্ধুর প্রশাসনিক দূরদর্শিতারই পরিচায়ক। আর এসবের জন্য বঙ্গবন্ধু সময় পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। এই সময়ের মধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং স্টেট ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দেশবাসী স্বগর্বে প্রত্যক্ষ করেছে। পাকিস্তানীদের নির্মম লুটপাট ও শোষণে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে নিজের পায়ে- দাঁড় করানো এবং স্বাধীন বিকাশ এবং অগ্রগতির সোনালি সড়কে নিয়ে যাওয়ার জন্য শুরুতেই বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কিন্তু পাকিস্তান এবং তার বিশ্ব মুরুব্বিরা নানা চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে বঙ্গবন্ধুর পদক্ষেপগুলো বানচালের অবিরাম চেষ্টা চালায়।

এ কথা আজ দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট স্বাধীনতার প্রথম বছরেই সংবিধানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু জাতির অগ্রগমনের পথরেখাটি নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। তার মূল ভিত্তিই ছিল মুক্তিযুদ্ধের চারটি মৌলনীতি (১) জাতীয়তাবাদ (২) গণতন্ত্র (৩) ধর্মনিপেক্ষতা (৪) সমাজতন্ত্র। ’৭২ সালের সংবিধানে বিধৃত নীতিমালায় ঘোষিত ছিল দুনিয়ার শোষিত নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার। জাতিসংঘে ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এমন এক বিশ্ব ব্যবস্থা গঠনে বাঙালী জাতি উৎসর্গীকৃত, যে ব্যবস্থায় মানুষের শান্তি ও ন্যায়বিচার লাভের আকাক্সক্ষা প্রতিফলিত হবে এবং ‘আমি জানি আমাদের এই প্রতিজ্ঞা গ্রহণের মধ্যে আমাদের লাখ লাখ শহীদের বিদেহী আত্মার স্মৃতি নিহিত রয়েছে।’

বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে ভাষণে আরও বলেছিলেন, বাংলাদেশের সংগ্রাম ন্যায় ও শান্তির জন্য সার্বজনীন সংগ্রামের প্রতীক স্বরূপ। সুতারাং বাংলাদেশ শুরু থেকেই বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়াবে এটাই স্বাভাবিক। বঙ্গবন্ধু ফিলিপিনের জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকার অর্জনের পক্ষে সোচ্চার হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমাদের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব এমনভাবে পালন করতে হবে যাতে প্রতিটি মানুষ নিজের ও পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় জীবন ধারণের মান প্রতিষ্ঠা অর্জনের নিশ্চয়তা লাভ করে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের পঞ্চাশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রায় একই সময়ে পালিত হতে চলেছে। পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ নিজের পায়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠাকালে অন্ন-বস্ত্রের দুঃখ-কষ্টের দারিদ্র্যক্লিষ্ট দিন আজ অতীতের বিষয়। ’৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ আর বস্ত্র সঙ্কট, রংপুরের বাসন্তী জাল পরানো ফেক ছবির কথা এখন আর কেউ ভুলেও বলেন না। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই শুধু নয়, কিছু চাল রফতানি করতে চায়। বস্ত্র তথা পোশাক শিল্পে অন্যতম শীর্ষ রফতানিকারক দেশ। বিদেশী সাহায্য ছাড়াই নিজস্ব অর্থে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু এখন স্বগর্বে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে।

বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু ছিলেন নানা অভিধায় বন্দিত। কিউবার রাষ্ট্রনায়ক ফিদেল ক্যাস্ট্রোর কাছে হিমালয়। আর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের অব্যবহিত পরেই সংসদে ঘোষণা করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীÑ ঢাকা এখন স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্ত রাজধানী। আর এই নতুন রাষ্ট্রের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর চরম ক্ষুব্ধ আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ জায়েদ আল নাহিয়ান বাংলাদেশকে দেয়া সকল সুবিধা বাতিল করেছেন। প্রেসিডেন্ট টিটো ঘাতক মোস্তাককে স্বীকৃতিদানে অস্বীকৃতি জানান।

জাতির ক্রান্তিকালে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী পালনে জাতি কি শুধু শ্রদ্ধা নিবেদনেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবে। এমন কিছু চিন্তা-ভাবনা কি করা যায় না যাতে বঙ্গবন্ধু নির্দেশিত পথেই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এনে প্রশাসনের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া যায়। সচিবালয়ভিত্তিক আমলা প্রশাসন যারা করেছিলেন উপনিবেশের সেই ব্রিটিশ শাসকরা এবং পরবর্তীকালের তাদের অনুসারীরা ফলগুলো ভোগ করেছেন। স্বাধীন ও মুক্ত মানুষের জন্য নতুন চিন্তা-ভাবনা দরকার।

জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আমরা কি একটু অন্যভাবে চিন্তাভাবনা করতে পারি না? তুরস্ক কিন্তু তাদের আধুনিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা আতাতুর্ক মোস্তফা কামাল পাশাকে সেই মর্যাদা দিতে ভোলেনি। এমনকি মোস্তফা কামাল পাশা নামটির পরিবর্তে লোকে এখন আতাতুর্ক (তুরস্কের পিতা) বলেই চেনে। তুরস্ক তাদের সংবিধানে এমন ব্যবস্থা করে রেখেছে যে সরকারের পরিবর্তন হলেও বা সংবিধান সংশোধন হলেও এ ধারাটি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে।

আজ আমরা কি মহাভারতের কর্ণপুত্রের মতো পিতা প্রতিজ্ঞা রক্ষার জন্য নিঃসঙ্কোচে উদ্ধত খড়গের নিচে মাথা পেতে দিয়ে কি বলতে পারব : ‘পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতা হি পরমান্তপঃ?’

জনকণ্ঠ, প্রকাশিত : ১৭ মার্চ ২০২০ 

নতুন করে তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। সোমবার শনাক্ত হওয়া নতুন এ তিনজনই স্থানীয়ভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়েছে। এ তিনজন হচ্ছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ইতালিফেরত এক ব্যক্তির স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান- ছেলে ও মেয়ে। এরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের শিকার নতুন এ তিনজনসহ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট জনে। এ ছাড়া এখনও আইসোলেশনে আছেন ১০ জন।

সোমবার রাজধানীর মহাখালীতে সংবাদ সম্মেলন করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

গত ৮ মার্চ প্রথমবারের মতো দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর জানায় আইইডিসিআর। এ রোগের ব্যাপারে বিভিন্ন সকর্ততা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক জানান, যারা হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মঙ্গলবার থেকে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এসময় পরীক্ষা বা কোচিং সেন্টারও বন্ধ খাকবে। তবে শিক্ষার্থীরা যাতে এসময় ঘরে থাকে সেটা নিশ্চিত করার আনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা আগামী ১৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে ১৮ মার্চের মধ্যে হল ছাড়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে আগামী এপ্রিলে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরও স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে যাঁরা আসবেন, তাঁদের অবশ্যই বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এতে কোনো মাফ নেই।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। আজ সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এ সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অন্যদিকে আজ সন্ধ্যায় করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ প্রসঙ্গে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের ব্রিফ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলমও তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এম ওসমান : ইটালি থেকে আসা এসএম আব্দুর রশিদ (৫৩) নামে এক ব‍্যক্তিকে নিজ  বাড়িতে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হয়েছে।
সে শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের (মেঠপাড়ার) মৃত রাহাতুল্লার ছেলে।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্যও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইউছুপ আলী বলেন, ১৩ই মার্চ ইটালি থেকে বিমান যোগে আবুধাবী বিমান বন্দরে অবতরণ করার পর বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স যোগে শাহাজালাল বিমান বন্দরে আসেন। পরে সেখান থেকে পরিবহনে করে নিজ বাড়ি টেংরা গ্রামে আসেন।
শনিবার সন্ধায় জামতলা বাজারে ঘুরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয়রা ভীতসন্ত্রস্থ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানান।
“রাতেই তাকে বাইরে ঘুরা ফেরা না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়ে আগামী ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সার্বক্ষনিক তার গতি বিধি লক্ষ্য করার জন্য ২জন স্বাস্থ্য সহকারীকে সর্তক রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল বলেন, ইতালি থেকে ফিরে আশা ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যপারে সার্বক্ষনিক তৎপর রয়েছে।
এদিকে ইটালি থেকে গ্রামে ফিরে আসার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারন মানুষ ভীত সন্ত্রস্থ্য হয়ে পড়েছে, সে যাতে ১৪দিনের আগে বাড়ির বাইরে আসতে না পারে সে ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর জন্য এলাকাবাসি দাবি করেছেন।

আমি শোয়েব এলাহী, মূক ও বধির। মানে কথা বলতে পারি না, আবার কানেও শুনি না।একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শত্রুপক্ষের মর্টার বিষ্ফোরণের প্রচন্ড শব্দে আমার কান ফেটে যায় বলে মা বাবার কাছে শুনেছি। সে সময় আমার বয়স ছিলো মাত্র দশ মাস। ভারতে শরণার্থী হিসেবে বসবাসরত আমার মায়ের কোলে ছিলাম। বাবা ভারতের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে গিয়ে শরণার্থী বাঙালীদের রেশন সরবরাহ করতেন ও পাক হানাদারদের গতিবিধি গোপনে পর্যবেক্ষণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য দিতেন। মূলত পাক হানাদাররা আমার মাকে লক্ষ্য করে মর্টার ছুঁড়ছিলো।

ভাগ্যক্রমে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে অদুরে পড়ে মর্টার বিষ্ফোরিত হয়।সে থেকে আজ ৪৬ বছর ধরে মূক ও বধির জীবন কাটাচ্ছি ।আমার বাবা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি প্রয়াত এম,এ, সবুর ও মা প্রয়াত ভাষা সৈনিক কয়েকবারের এম.এন.এ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছ এমপির বোন শামছুন নাহার।

যখন যুদ্ধের দামামায় চারদিক সরগরম। রাজনীতিবিদ বাবা এম,এ,সবুর মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করছেন।কমলা খাঁন, কুতুব খাঁন, চেরাগ আলীসহ এলাকার অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে উত্তরভাগ¯’ নিজের বাড়ীর বৈঠকখানায় গোপন সভা করে শলা পরামর্শ করতেন।মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয়  শান্তি কমিটির সদস্য ও রাজাকাররা রাতের আঁধারে সে বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে দিলো।এলাকার সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন আতংকিত হয়ে পড়লো।বাবা কয়েকটি হিন্দু পরিবারকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের হালাহালি শহরে পৌঁছে দিলেন।

সাথে আমার মা,আমি ও বড় বোন আড়াই বছরের শিশু কন্যা ইশরাত জাহান বীথি। আমাদের নিয়ে মা-বাবা আশ্রয় নিলেন ভারতের থানাবাজার এলাকার পারকুল গ্রামে এক হিন্দু বাড়ীতে।  মায়ের কাছ থেকে জেনেছি, আমাদেরকে জনৈক নগেন্দ্র কাকার বাড়ীতে রেখে বাবা বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সুসংগঠিত করা,ধলাই সীমান্ত পেরিয়ে তাদেরকে ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়া এবং পাকিস্তানী সৈন্যদের গতিবিধি গোপনে পর্যবেক্ষণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য সরবরাহের কাজে ব্যস্ত হযে গেলেন। এছাড়া আমার বড় মামা মোহাম্মদ ইলিয়াসকে নিয়ে ভারতের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে শরণার্থীদের রেশন ও রসদ সরবরাহ করতেন।তখন ছিলো এপ্রিল মাসের কোন এক দুপুর। বাড়ীতে বৃদ্ধ দাদা একা রয়েছেন। এর মধ্যে খবর এসেছে রাজাকাররা জমির পাকা ধান কেটে নিয়েছে।

স্বদেশ আর নিজের বাড়ীর চিন্তায়  অস্তির মা আমাকে কোলে করে নগেন্দ্র কাকার বাড়ীর উঠানে পায়চারি করছিলেন।হঠাৎ অদুরে হেলমেট মাথায় জলপাই রঙের ইউনিফর্ম পরা কয়েকজন সৈন্য তার  চোখ পড়লো। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই আকাশ ফাঁটানো শব্দে একটি মর্টার এসে বিষ্ফোরিত হলো মায়ের পায়ের কাছে।আমাকে কোলে নিয়েই দৌড়ে পালালেন বাড়ীর আড়ালে। পরদিনই বাড়ী বদল করে আমরা দুই ভাইবোনকে নিয়ে চলে গেলেন হালাহালি গ্রামের মাস্টার শরফ উদ্দিন চাচার বাড়ীতে। কিন্তু আমি নাকি কিছুই শুনতে পাই না,কথাও বলতে পারিনা।আমাকে অনেক ডাক্তার দেখালেন। কোন লাভ হয়নি।মাসের পর মাস অপেক্ষা করলেন।আমিও আর মা ডাকতে পারলাম না। ইশারাতেই বাক্য বিনিময় করি। সবাই বললেন, মর্টারের প্রচন্ড শব্দে আমার কান ফেটে গেছে। কাঁদতে কাঁদতে মায়ের চোখের জলও শুকিয়ে গেলো।দেশ স্বাধীন হলন্তুকিন্ত মুখের ভাষা ফিরে পেলাম না আমি। সে থেকে আজ আটচল্লিশ বছর ধরে মূক ও বধির হয়ে জীবন কাটাচ্ছি ।

সিলেট শেখঘাট মূক ও বধির বিদ্যালয়সহ ঢাকা ও ফরিদপুরের বিভিন্ন মূক ও বধির বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছি। এক সময় খুব ভালো ছবি আঁকতে পারতাম। জীবিকার তাগিদে এখন গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় একটি গার্মেন্ট কারখানায় সামান্য বেতনে কাজ করছি। আমার স্ত্রী পারভীন আক্তারও জন্ম থেকেই মূক ও বধির।

আমাদের একমাত্র কন্যা মুমতাহিনা এখন ক্লাস ফোরে পড়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সমীপে আমার আকুল আবেদন একজন যুদ্ধাহত শিশু হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ে যদি আমার  কিঞ্চিত অবদান থাকে তবে আমাকে আপনার সুদৃষ্টি তেকে  বঞ্চিত করবেন না।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় করোনাভাইস প্রতিরোধে ও জনসাধরনের মাঝে সচেতনতার জন্য লিফলেট বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা বিজেন ব্যনার্জি। তিনি সোমবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর উপজেলা বাজারে সর্বস্থরের জনসাধারনের মাঝে এই লিফলেট বিতরণ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,তাহিরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান,দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সরকার,দক্ষিন বড়দল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহর আলী,উপজেলা আ,লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর খোকন প্রমুখ।

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের কামাল প্রতাপ গ্রামে আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে নিহত কৃষক সাফি মোল্লা (৩৫) হত্যার ঘটনায় ২৯জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সদর থানা পুলিশ এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনার জের ধরে ওই গ্রামের বিদ্যুৎ, জাহিদ জোমাদ্দার, রংগু জমাদ্দার এবং পাশ্ববর্তী লোহাগড়া উপজেলার আমাদা গ্রামের আলী খা ও ওহিদার খার বাড়ি ভাংচুর, গরু-ছাগল লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের কামাল প্রতাপ বাজারে একটি দোকানে বসে সাফি গল্প করছিল। এ সময় ওৎ পেতে থাকা ৮-১০ সন্ত্রাসী তাকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহত সাফি কামাল প্রতাপ গ্রামের বজলু মোল্লার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সোহাগ মোল্যা বাদি হয়ে রোববার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় আমাদা গ্রামের সাইদ মল্লিককে প্রধান আসামি করে ২৯জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে( মামলা নং ১৬ তাং ১৫/০৩/২০ )।
গ্রামবাসি জানায়, কামাল প্রতাপ গ্রামে বাবুল শেখ, সাইফুল মোল্যা গ্রুপের সাথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের বিদ্যুৎ জমাদ্দার ও পার্শ্ববর্তী আমাদা গ্রামের সাইদ মল্লিক গ্রুপের বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল বাবুল শেখের ভাই ডাবলু শেখ প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হয়। এ ঘটনা আদালতে বিচারাধীন।
বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের মেম্বর বাদি পক্ষের মোঃ সেকান্দার আসামিদের বাড়ি ভাংচুর-লুটপাট সম্পর্কে বলেন, হত্যার ঘটনার পর কিছু দুস্কৃতিকারী কয়েকটি বাড়ি ভাংচুর-লুটপাট এ কথা সত্য, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। তিনি এ হত্যকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ভাংচুর ও লুটপাটের কিছু ঘটনা লোহাগড়া থানাধীন আমাদা গ্রামে ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেন। তবে বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত এবং ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc