Thursday 2nd of April 2020 09:23:29 PM

এম ওসমান, বেনাপোল : আজ ৭ মার্চ বেনাপোল পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ছাত্রলীগ নেতা তুহিন নিখোঁজের ৭ বছর। ৭ বছরেও তুহিন নিখোঁজ রহস্য উন্মোচিত হয়নি। তুহিন বেঁচে আছেন না চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে চলে গেছেন, তা এখনও কেউ জানে না। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছেন না। তুহিনের পরিবার এখনো চেয়ে আছে, কখন তিনি বাড়ি ফিরবেন। তুহিনের স্ত্রী আর পুত্র সন্তান এখনো পথ চেয়ে বসে আছে স্বামী আর বাবার অপেক্ষায়।
তুহিন নিখোঁজের পরের ঘটনা আরো লোমহর্ষক। বিভিন্ন মোবাইল ফোন দিয়ে একটি চক্র ‘তুহিন তাদের কাছে আছে’ এই ফাঁদ পেতে তার স্ত্রীর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। তুহিনকে তো ফিরে পায়নি, উপরন্তু তার কাছে থাকা ও ধার-দেনা করে আরো কয়েক লক্ষ টাকা হারিয়ে এখন বাকরুদ্ধ স্ত্রী সালমা বেগম। নিখোঁজের দুই বছর পর ছেলের খোঁজ না পাওয়ায় সন্তান হারানোর বেদনা নিয়ে তুহিনের বাবা ২০১৫ সালের ২৭ এপ্রিল রাতে মারা যান। তুহিনের মাও দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী।
তারিকুল আলম তুহিন (৩৮) ছিলেন বেনাপোল পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। ২০১৩ সালের ৭ মার্চ বেলা ১১টার দিকে ঢাকার শেরে বাংলানগরস্থ ন্যাম ভবনের যশোর-১ শার্শা আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের বাসা (এমপি হোস্টেল) থেকে নীচে নামার পর পরই নিখোঁজ হন তুহিন নিখোঁজের ৭ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গুম হওয়া অনেক নেতাদের মতো তুহিনও স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। তুহিন বেনাপোল পৌরসভার ভবারবেড় এলাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি মৃত ডাক্তার ইউসুফ আলমের ছেলে।
ছাত্রলীগ নেতা ও প্যানেল পৌরসভার মেয়র তারিকুল আলম তুহিন নিখোঁজ বা গুমের রহস্য উদ্ঘাটনে দীর্ঘদিন পর ফের নড়েচড়ে বসেছিল ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ। আর এ নড়েচড়ে বসার মধ্য দিয়ে মুখোশ উন্মোচিত হতে পারে বলে অনেকে আশা করলেও সে আশা পূরণ হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর-১ আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের সঙ্গে বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের দ্বন্দ্ব শুরু হয় ২০১২ সালের মাঝামাঝি থেকে। এমপির পক্ষে আগে যেখানে মেয়র লিটন নেতৃত্ব দিতেন, দ্বন্দ্ব শুরু হলে তুহিন এমপির পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া শুরু করেন। ২০১৩ সালের ৩ মার্চ মেয়র আশরাফুল আলম লিটন ও প্যানেল মেয়র তারিকুল আলম তুহিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে মেয়র ও তুহিনের বাড়িতে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এদিন রাতে র‌্যাব তুহিনের বাড়িতে হানা দেয়। পরদিন ৪ মার্চ সকালেই তুহিন ঢাকায় চলে যান। সেখানেই অবস্থান করতে থাকেন তুহিন। ৭ মার্চ বেলা ১১টার দিকে মোবাইলে একটি ফোন পেয়ে নীচে নেমে আসেন তুহিন। এর পর থেকে আজো নিখোঁজ রয়েছে তুহিন।
তুহিন নিখোঁজের ব্যাপারে বেনাপোলসহ শার্শা উপজেলায় হরতাল, অবরোধ, মানববন্ধনসহ মিছিল মিটিং হয়েছে একাধিক। সাংবাদিক সম্মেলনও করেন আওয়ামী লীগ, তার পরিবার ও পৌরসভার কাউন্সিলররা।
তুহিনের নিখোঁজ বা গুমের ঘটনার পাঁচ দিন পর ১২ মার্চ তার চাচাতো ভাই সুমন ঢাকার শেরে বাংলানগর থানায় প্রথমে একটি জিডি করেন। কিন্তু ঘটনার তদন্ত খুব একটা গতি পায়নি। ঘটনার ৭ মাস পর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পড়ে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের ওপর। এরপরই বেনাপোলের ছাত্রলীগ নেতা জুয়েলকে যশোর থেকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে নিয়ে যায় ঢাকায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই ঘটনায় নাটকীয় মোড় নেয়। বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের পিসিপিআর যাচাই করা হয়। তাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা। এরপর ঝিকরগাছা, শার্শা ও বেনাপোল থানায় পিসিপিআর যাচাইয়ের জন্য ৩-৪ জনের নামে নোটিস আসে। কিন্তু এরপর তদন্ত আর এগোয়নি। ৭ বছর কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত তুহিনের কোন সন্ধান দিতে পারেনি আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। তুহিন নিখোঁজের সময় স্ত্রী সালমা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। স্বামী নিখোঁজের ২০ দিন পর তিনি পুত্রসন্তানের মা হন। অপেক্ষায় ছিলেন তুহিন বাড়িতে ফিরলে ছেলের নাম রাখবেন। কিন্তু স্বামী দীর্ঘদিন না ফেরায় ছেলের নাম রাখা হয় তুমুল আলম।
তুহিনের স্ত্রী সালমা আলম বলেন, ‘৭ বছরেও আমার স্বামীর সন্ধান কেউ দিতে পারেনি। জীবিত হোক আর মৃত হোক, আমি তুহিনকে চাই। আমি যেভাবে স্বামী হারিয়ে কাঁদছি তেমনি যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের স্ত্রীদেরও একই অবস্থায় পড়তে হবে। আমার স্বামী নিখোঁজ হবার পর তাকে উদ্ধারের ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের উল্লেখ করার মতো কোনো ভূমিকা নেই। গোয়েন্দা পুলিশ তুহিন নিখোঁজের তদন্ত করলেও কতটুকু সফল হয়েছে তাও জানতে পারিনি।’
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। আমার স্বামীকে সুস্থ শরীরে ফিরে পেতে চাই।’
উল্লেখ্য, ৭ বছর আগে নিখোঁজ বেনাপোল পৌরসভার কাউন্সিলার ও ছাত্রলীগের সভাপতি তারিকুল আলম তুহিনের কংকালের খোঁজে দীর্ঘ পাঁচ ঘন্টা অভিযান চালিয়েছে সিআইডি। তবে এ ঘটনায় কোনো কংকাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
আদালতের নির্দেশে ২০১৯ সালের ১২ই মার্চ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বেনাপোল বাজার কমিটির কার্যালয়ে ঢাকা থেকে আসা সিআইডির একটি প্রতিনিধি দল ও একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং পোর্ট থানার পুলিশের সহযোগিতায় একটানা এ অভিযান চালানো হয়।
ঢাকা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাসের নের্তৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এটি তদারকি করেন। এসময় যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাওছার হাবিব, বেনাপোল পোর্টথানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই কামাল হোসেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ।
এ সময় প্রশাসনের সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এম ওসমান, বেনাপোল:  বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারত ভ্রমণে যাওয়া পাসপোর্ট যাত্রীরা পড়েছে চরম দূর্ভোগে। ভারত ভ্রমণে যাওয়ার জন্য বেনাপোল চেকপোষ্টে সোনালী ব্যাংকের বুথে ভ্রমণ ট্যাক্সের কোন রসিদ নেই। যাত্রীদেরকে দেওয়া হচ্ছে একটি করে ট্রেজারী চালান। এতে করে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে পাসপোর্ট যাত্রীরা।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ৭টা থেকে এ সংক্রান্ত একটি জরুরী নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের সোনালী ব্যাংক বুথ শাখায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভারত ভ্রমণে যাত্রীরা চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। প্রত্যেক যাত্রীকে সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে একটি করে ট্রেজারী চালান কপি দেয়া হচ্ছে। সেই যাত্রীকে আবার সেই একটি করে ট্রেজারী চালান কপি থেকে সেটি ৩টি ফটোকপি করে নিতে হচ্ছে। অনেক যাত্রী চালান কপি লিখতেও পারছে না।
অন্যদিকে, সোনালী ব্যাংকের বুথে যে নোটিশটি টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে কোন কোর্ড নম্বরও দেওয়া নেই। যে নম্বরে যাত্রীরা অনলাইনে টাকা জমা দেয়া যাবে, এমন কোন দিক নির্দেশনাও নেই। আর যে নোটিশটি সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাঙ্গিয়ে দিয়েছে তার নিচেও কর্তৃপক্ষের কোন স্বাক্ষর নেই। আর তাতে করে অনেক যাত্রী পড়ছেন বিভ্রান্তে।
ঢাকা থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রী ফাতেমা আক্তার বলেন, আমরা মহিলা মানুষ। ভারত ভ্রমণে যাচ্ছি। আমাদেরকে একটি করে ট্রেজারী চালান ধরিয়ে দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এতো কিছু বুঝি না। আবার একটি করে ট্রেজারী চালান দেওয়া হয়েছে সেটি আবার ফটোকপি করে নিতে হচ্ছে। কোথা থেকে ফটোকপি করবো আর কোথা থেকেই বা চালান লিখে নেবো তাও জানিনা। এ সংক্রান্ত কোন নোটিশও আগে থেকে জারি করা হয়নি। এমন আন্তর্জাতিক বন্দরে এ ধরনের সমস্যায় বড়ই বিব্রতকর অবস্থায় পড়লাম।
স্থানীয় বাসিন্দা নাহিদ হাসান শুভ জানান, এর আগে বেনাপোল চেকপোস্টে ভ্রমণ ট্যাক্স সংক্রান্ত এ ধরনের কোন জটিলতা আমাদের চোখে পড়েনি। এমন বন্দরে এ ধরনের সমস্যা খুবই হতাশাজনক। যেখানে গড়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত করে থাকে। সেখানে আগে থাকতে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম এ বন্দরের সুনাম নষ্ট ছাড়া কিছুই না। সকাল থেকেই দেখছি যাত্রীরা চরম হতাশা নিয়ে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করছে।
এ ব্যাপারে বেনাপোল সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার রকিবুল হাসান জানান, রসিদ বই সংকটের কথা দুই মাস আগে রাজস্ব বোর্ডকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা এখনও পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। তিনি আরো জানান, অনেক যাত্রী আছে তারা অনলাইন বুঝে না, তারা টাকা কিভাবে জমা করবে? এভাবে পাসপোর্ট যাত্রী হয়রানিতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ স্মরণে মৌলভীবাজার উদ্বোধন হলো বজ্রকন্ঠ।
আজ ৭মার্চ শনিবার সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন,মৌলভীবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য জহুরা আলাউদ্দিন,জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন,জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ।
এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান বলেন বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন ৭ মার্চ । ১৯৭১ সালের এ দিনে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) জনসভায় লাখ লাখ জনতার উদ্দেশে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়ে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। সেই ৭ মার্চ ভাষণকে আগামী প্রজম্ম জনানর জন্য বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ছবি দিয়ে বজ্রকন্ঠ নির্মাণ করা।
পরে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনগুলো একে একে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: বিজয়ের আন্দন ভাগাভাগি করতে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর জড়ো হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।
কিন্তু দুর্ঘটনাজনিত এক মাইন বিস্ফোরণে সে দিন মারা যান মুক্তিযোদ্ধারা। মুহূর্তেই বিজয় উৎসবের সব আয়োজন প- হয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।এলাকাবাসী ছিন্নভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ একত্র করে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে সমাধিস্থ করেন। সেই সমাধিস্থল জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে সংস্কার করা হয়েছে। আজ ৭ মার্চ শনিবার দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান শুভ উদ্বোধন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,মৌলভীবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য জহুরা আলাউদ্দিন,জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন,জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ। এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান বলেন ২০ ডিসেম্বরকে মৌলভীবাজারবাসী স্থানীয় শহীদ দিবস হিসাবে দীর্ঘ দিন ধরে পালন করে আসছে।

সরকারী স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে মুসলমানদের গনকবর দেওয়া হয় এবং হিন্দুদের দাহ করা হয়। তাদের সম্মানেই এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছিল।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ উপলক্ষে নড়াইলে  শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও বঙ্গবন্ধুর ৭ইমার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা শিশু একাডেমী কার্যালয়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা শিশু একাডেমীর আয়োজনে চিত্রাঙ্কন ও বঙ্গবন্ধুর ৭ইমার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতায় মোট  ৬টি গ্রুপে শতাধিক শিশু অংশগ্রহণ করে।  চিত্রাংকনে ক গ্রুপে-  চিলড্রেন ভয়েস্ স্কুলের ২ য় শ্রেনীর হাসিবুল ইসলাম,  খ-গ্রুপে-মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেনীর তাহিরা আল-মাশরী গ-গ্রুপে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেনীর মুন্তাসির রহমান মাহিন বিজয়ী হয়।

বিজীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মোঃ ইয়ারুল ইসলাম।

এসময়জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ ওয়ালিউর রহমান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা( অবঃ) মোঃ ইউসুফ আলী,  নারীনেত্রী আঞ্জুমান আরা, শিশু ও তাদের অভিভাবক, শিক্ষক সাংবাদিক সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া নড়াইলের সুলতান মঞ্চ চত্বরে  দুপুর ৩ টায় জেলা প্রশাসন .নড়াইলের আয়োজনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ৩০ ফুট লম্বা বঙ্গবন্ধু টাওয়ার প্রদর্শন, ২৭০/ ৮৫ ফুট বিশিষ্ট বাংলাদেশের মানচিত্র প্রদর্শন ,৬০/৩৬ ফুট বিশিষ্ট জাতীয় পতাকা প্রদর্শন, সহস্্র কন্ঠে শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত ও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন পরিবেশন, গণ সংগীত , কবিতা আবৃতি বিভিন্ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে

করোনা-ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কাবা শরীফ ও মসজিদে নববী প্রতিদিন এশার জামাতের এক ঘণ্টা পর থেকে ফজরের জামাতের এক ঘণ্টা আগ পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সউদী আরব।

একই কারণে বুধবার সবার জন্যে ওমরাহ হজ বন্ধের পর, এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে সৌদি সরকার ওমরাহ ভিসা স্থগিত করে এবং ছ’-দেশীয় উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলের নাগরিকদের পবিত্র মক্কা ও মদীনায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করে।

কাবা শরীফের যেখানে হাজীরা ৭ বার তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার যেখানে সা’ঈ করেন, ওমরাহ পালনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আগ পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী এলাকা মাসাও বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কেবল মসজিদুল হারামের ভেতরে নামাজ আদায় করতে পারবেন মুসল্লীরা।

ওমরাহ বন্ধ থাকাকালে মসজিদে নববীতে রওজা শরীফ, শায়খাঈনের মাজার ও জান্নাতুল বাকী জিয়ারতও বন্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত মসজিদুল হারামে ইতিকাফও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, হাজীদের জন্যে বন্ধ থাকবে পবিত্র আবে জমজমের পানির কনটেইনার সরবরাহ।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে হারামাঈন শরীফাঈনে শুরু হয়েছে করোনাভাইরাসের আশঙ্কায় জীবাণুমুক্ত কার্যক্রম। এ সময় কাবা শরীফ খালি করা হয়েছিলো। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কাবাতুল্লাহ’র চারদিকের সাদা টাইলযুক্ত পুরো এলাকায় যেখানে সব সময় হাজার হাজার হজযাত্রীতে ভরা থাকে, তা খালি করে জীবাণুমুক্তের প্রক্রিয়ার চিত্র দেখানো হয়েছে। এ পদক্ষেপটি একটি অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা বলে জানিয়েছেন এক সোদি কর্মকর্তা। সৌদি আরবে করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সূত্র: আরব নিউজ, আল-জাজিরা, মিডল ইস্ট আই ও ডেইলি মেইল।

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে অটো চার্জার চালিত ভ্যান নিয়োন্ত্রণ হারিয়ে মোতালেব (৫৫) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্য নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার সিংড়া সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোতালেব উপজেলার গুড়নই গ্রামের মৃত লায়েবুল্লার ছেলে।

এ ব্যাপারে আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোসলেম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার বিকেলে মোতালেব মেম্বার বাড়ি থেকে আত্রাই সাহেবগঞ্জ বাজারে অটো চার্জার চালিত ভ্যানে আসছিলো সামনে থেকে এক শিশু বাইসাইকেল নিয়ে ভ্যানের সামনে আসলে ভ্যান নিয়োন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়।

এতে ঘটনাস্থলেই অটো চার্জারের আরোহী মোতালেব গুরত্বর আহত হয়। এলাকাবাসী সাথে সাথে তাকে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। রাজশাহীর বাগমাড়া এলাকায় পৌচ্ছালে পথ মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

একটি ভাষন উজ্জীবিত করেছিল সমগ্র জাতিকে, করেছিল রুখে দাড়ানোর জন্য ঐক্যবদ্ধ। সেই ফলশ্রুতিতে আমরা পেয়েছিলাম স্বাধীন বাংলাদেশ।আজ সেই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে অপেক্ষা করছে কোটি বাঙ্গালী।

সেই সূত্র ধরে কবির ভাবনা “একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য কি দারুণ অপেক্ষা আর উত্তেজনা নিয়ে/ লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে/ ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে/ ‘কখন আসবে কবি’?/ …শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে/ রবীন্দ্রনাথের মত দৃপ্ত পায়ে হেঁটে/ অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন/…. কে রোধে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী?/ গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর কবিতাখানি/ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। / সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের।” দেশের স্বনামধন্য কবি নির্মলেন্দু গুণ রক্তক্ষরা একাত্তরের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বহুল প্রতীক্ষিত শিহরণ-জাগানো কালজয়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ডাক সংবলিত ঐতিহাসিক বর্জ্রকঠিন ভাষণের মুহূর্তটি এভাবেই তাঁর কবিতায় তুলে ধরেছিলেন।

’৭৫ পরবর্তী দীর্ঘ একুশ বছর বঙ্গবন্ধুর যে ঐতিহাসিক ভাষণটি বাজানোর ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ছিল, সময়ের ব্যবধানে স্বাধীনতার ডাক সংবলিত বজ্রকঠিন বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণটিই আজ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণের স্বীকৃতি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য দলিল। এ ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের গৌরব-সম্মান আরেকবার আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তাই বাঙালী জাতি আজ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সারাদেশেই এক আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন করবে কৃতজ্ঞ বাঙালী জাতি। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালীর স্বাধীনতা-মুক্তি ও জাতীয়তাবোধ জাগরণের মহাকাব্য, বাঙালী তথা বিশ্বের সকল লাঞ্ছিত-বঞ্চিত নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির সনদ। ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালীর পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের চূড়ান্ত প্রেরণা। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণিক দলিল এবং বিশ্বে সর্বাধিকবার প্রচারিত ও শ্রবণকৃত ভাষণ।

তবে এবার এক ভিন্ন আবহে জাতির সামনে এসেছে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। আর মাত্র ৯ দিন বাকি। আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন। ওই দিন থেকেই শুরু হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত বছরব্যাপী ‘মুজিববর্ষ’। আগামী বছরের ১৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বছরব্যাপী মুজিববর্ষের নানা অনুষ্ঠান, উৎসব। তাই এবার শুধু মাসব্যাপী নয়, পুরো একবছর কৃতজ্ঞ বাঙালী জাতি নানা আনুষ্ঠানিকতায়, উৎসব-অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বাংলাদেশ নামক ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্রের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

আজ থেকে ৪৯ বছর আগের কথা। ১৯৭১ সালে পরাধীনতার দীর্ঘ প্রহর শেষে পুরো জাতি তখন স্বাধীনতার জন্য অধীর অপেক্ষায়। শুধু প্রয়োজন একটি ঘোষণার, একটি আহ্বানের। অবশেষে ৭ মার্চ এলো সেই ঘোষণা। অগ্নিঝরা একাত্তরের এইদিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নামক মহতী কাব্যের স্রষ্টা কবি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রগম্ভীর কণ্ঠ থেকে ধ্বনিত হয়েছিল স্বাধীনতার ঘোষণা।

বঙ্গবন্ধু শুধু স্বাধীনতার চূড়ান্ত আহ্বানটি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের রূপরেখাও দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা মুক্তিকামী মানুষের কাছে লাল-সবুজ পতাকাকে মূর্তিমান করে তোলে। আর এর মাধ্যমে বাঙালীর ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা হয়। শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধে নয়, বঙ্গবন্ধুর সেই বজ্রনির্ঘোষ আজও বাঙালী জাতিকে উদ্দীপ্ত করে, অনুপ্রাণিত করে। মূলত রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণই ছিল ৯ মাসব্যাপী বাংলার মুক্তি সংগ্রামের মূল ভিত্তি।

ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মুক্তিপাগল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এই ভাষণ থেকেই মূলত স্বাধীনতার অঙ্কুরোদগম ঘটতে থাকে এ বাংলায়। বাঙালীর নিজের দেশের হাজার বছরের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়ার অবশ্যম্ভাবী পরিণতির দিকে এগুতে থাকে। আজ সেই ঐতিহাসিক দিন, ৭ মার্চ। বাঙালী জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি অনন্য সাধারণ দিন।

দেখতে দেখতে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের বয়স ৪৯-এ ঠেকেছে। সময়ের বিবর্তনে অনেক কিছুই কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। বিকৃতির নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্রের আবহে বদলে ফেলার চেষ্টা হয়েছে স্বাধীনতার অনেক ইতিহাস। কিন্তু এই ৪৯ বছরে অনেক কিছুই বদলে গেলেও বদলানো যায়নি শুধু মাত্র ১৯ মিনিটের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সেই ভাষণটি। বিশ্বের অনেক মনিষী বা নেতার অমর কিছু ভাষণ আছে। বিশ্বের মধ্যে এই একটি মাত্র ভাষণ যা যুগের পর যুগ, বছরের পর বছর, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বেজে চলেছে- কিন্তু ভাষণটির আবেদন আজও এতটুকু কমেনি।

বরং যখনই প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই ঐতিহাসিক ভাষণটি শ্রবণ করেন, তখনই তাঁদের মানষপটে ভেসে ওঠে স্বাধীনতার গৌরবগাঁথা আন্দোলন-সংগ্রামের মুহূর্তগুলো, আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠে দেশপ্রেমের আদর্শে। ৪৯ বছর ধরে একই আবেদন নিয়ে একটানা কোন ভাষণ এভাবে শ্রবণের নজির বিশ্বের ইতিহাসে নেই। নানা গবেষণার পর মাত্র ১৯ মিনিটের বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণটি আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণের অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

কী হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক দিনে ॥ স্বাধীনতার জন্য সারাদেশ থেকে ছুটে আসা পিপাসার্ত মানুষের ঢলে একাত্তরের এদিন রেসকোর্স ময়দানের চতুর্দিকে রীতিমত জনবিস্ফোরণ ঘটে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে নারী-পুরুষের স্রোতে সয়লাব হয়ে যায় তখনকার ঘোড়দৌড়ের এই বিশাল ময়দান। বিকেল ৩টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই মানুষের ভিড়ে তিল ধারণের ক্ষমতা হারায় সেদিনের রেসকোর্স। রাজধানী ঢাকার চতুর্দিকে ভারি অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানী সামরিক জান্তারা রক্তচক্ষু নিয়ে প্রহরায়। আকাশে উড়ছে হানাদারদের জঙ্গী বিমান। মুক্তিপাগল বাঙালীর সেদিকে ন্যূনতম ভ্রƒক্ষেপ নেই। সবার শুধু অপেক্ষা তাঁদের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু কখন আসবেন।

গণমানুষের সেøাগানের মধ্য দিয়ে বিকেল তিনটা ২০ মিনিটে জনসমুদ্রের মঞ্চে আসেন স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু। আকাশ কাঁপিয়ে সেøাগান ওঠে- ‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’, ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’। মঞ্চে দাঁড়িয়েই বিশাল জনসমুদ্রে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে বাঙালী জাতিকে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাত্ত আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। পাকিস্তানী সামরিক জান্তাদের বঙ্গবন্ধু সাফ জানিয়ে দেন, স্বাধীনতাকামী জনতাকে আর বুলেট-বেয়নেটে দাবিয়ে রাখা যাবে না। তাই বজ্রনির্ঘোষ কণ্ঠে রেসকোর্সের মাঠে তিনি আবৃত্তি করেন বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতা, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাল্লাহ! এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

মুজিবের স্বাধীনতার ডাকে রক্ত টগবগিয়ে ওঠে মুক্তিপাগল বাঙালীর। মুহূর্তেই উদ্বেল হয়ে ওঠে জনতার সমুদ্র। মুহুর্মুহু সেøাগানে কেঁপে ওঠে বাংলার আকাশ। নড়ে ওঠে হাতের ঝা-ায় তাদের গর্বিত লাল-সবুজ পতাকা, পতাকার ভেতরে সোনালী রঙে আঁকা বাংলাদেশের মানচিত্র। সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু উদাত্ত কণ্ঠে বলেছিলেন- ‘আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমাদের কাছে অনুরোধ রইল ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করো…’।

সেদিন বেতারে সরাসরি বঙ্গবন্ধু মুজিবের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি প্রচারের কথা থাকলেও তা করতে দেননি পাকিস্তানী সামরিক জান্তারা। কিন্তু মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে শেখ মুজিবের নির্দেশ, ‘আজ থেকে কোর্ট-কাচারি, আদালত, ফৌজদারি আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গরিবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষের কষ্ট না করে, সে জন্য যে সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে, সেগুলোর হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিক্সা, গরুরগাড়ি, রেল চলবে। ….সেক্রেটারিয়েট ও সুপ্রীমকোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সেমি-গবর্নমেন্ট দফতর, ওয়াপদা- কোন কিছুই চলবে না। …আমরা ভাতে মারব, আমরা পানিতে মারব…আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।’

বেতারে বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণ সম্প্রচার না করার প্রতিবাদে বেতারের বাঙালী কর্মচারী তাৎক্ষণিক ধর্মঘট শুরু করে। ফলে বিকেল থেকে ঢাকা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। তবে গভীর রাতে তৎকালীন সামরিক কর্তৃপক্ষ ঢাকা বেতারে বঙ্গবন্ধুর রেসকোর্সের ভাষণের পূর্ণ বিবরণ প্রচারের অনুমতি দেয়। পরদিন সকালে বঙ্গবন্ধুর সেই কালজয়ী ভাষণ দিয়েই ঢাকা বেতার কেন্দ্র পুনরায় চালু হয়।

স্বাধীনতার জন্য সারাদেশ থেকে ছুটে আসা পিপাসার্ত মানুষের তৃষ্ণা মিটল বঙ্গবন্ধুর মাত্র ১৯ মিনিটের অমর কবিতায়, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণে। এই একটি ভাষণেই নিরস্ত্র বাঙালীকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেন বঙ্গবন্ধু। বিশ্বের ইতিহাসে কোন রাষ্ট্রনায়ক বা নেতার স্বাধীনতার ঘোষণাপূর্ব এই ধরনের ভাষণ দেয়ার নজির নেই। বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণার দিন থেকেই মূলত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার অঙ্কুরোদগম ঘটতে থাকে এ বাংলায়। বাঙালীর নিজের দেশের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেয়ার অবশ্যম্ভাবী পরিণতির দিকে এগুতে থাকে। কেননা একাত্তরের ৭ মার্চ জাতির জনকের কণ্ঠে ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা শোষিত-নির্যাতিত বাঙালী জাতিকে মুক্তির জন্য অস্থির-পাগল করে তুলেছিল। পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসনের নিগড় থেকে মুক্তির তীব্র আকাক্সক্ষার উন্মাতাল সেই তরঙ্গ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শ্যামল বাংলার আনাচে কানাচে।

বঙ্গবন্ধুর অমোঘ মন্ত্রে দীক্ষিত-প্রাণিত হয়ে কঠিন সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে দেশ থেকে হানাদারমুক্ত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল গোটা জাতি। শুধুমাত্র অদম্য মনোবলকে সম্বল করে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে নিরস্ত্র বাঙালী মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তানের আধুনিক সমরসজ্জিত, প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। মৃত্যুপণ লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুঃসাহসে দীপ্ত মুক্তিকামী বাঙালী একাত্তরের মাত্র ন’ মাসে প্রবল পরাক্রমশালী পাক হানাদারদের পরাস্ত-পর্যুদস্ত করে ছিনিয়ে এনেছিল মহামূল্যবান স্বাধীনতা। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ, দুঃসাহসিকতা আর আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙালী অর্জন করল নিজস্ব মানচিত্র, লাল-সবুজের পতাকা।

এ কারণেই ৭ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় গৌরবের দিন। আজ গৌরবদ্দীপ্ত হয়ে দিনটিকে বাঙালী জাতি গভীর আবেগ, ভালবাসা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। কৃতজ্ঞ বাঙালী স্মরণ করে স্বাধীনতার মহানায়ক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আজ শনিবার দেশব্যাপী ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন করবে। দলটির কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- সকালে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সাতটায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জমায়েত ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন। বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ বক্তব্য রাখবেন। আজ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলসহ দেশের প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা, উপজেলা, মহানগর ও জেলাসমূহের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি গুরুত্বের সঙ্গে সম্প্রচার করা হবে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সর্বোচ্চ সংক্রমণ ঘটালে বিশ্বজুড়ে অন্তত দেড় কোটি মানুষ প্রাণ হারাতে পারেন বলে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি।  

আমার সিলেট আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সর্বোচ্চ সংক্রমণ ঘটালে বিশ্বজুড়ে অন্তত দেড় কোটি মানুষ প্রাণ হারাতে পারেন বলে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকদের দাবি। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এই গবেষকরা বলছেন, একেবারে নিম্নমাত্রার মহামারি হলেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে আসতে পারে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে সংক্রমণ যদি বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে পৌঁছায় তাহলে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে প্রাণহানির সংখ্যা ৬ কোটি ৮০ লাখে ঠেকতে পারে। এর মধ্যে লাখ লাখ মানুষ মারা যাবে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে। ভয়াবহ সেই মহামারি বিশ্বের কোনও কোনও দেশের অর্থনীতির সংকোচন ঘটাতে পারে ৮ শতাংশের মতো; যা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে প্রবল ধাক্কা তৈরি করবে।
এমনকি স্বল্প সময়ের জন্য এই মহামারির প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও তা বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে গবেষণার সঙ্গে জড়িত দুই গবেষক সতর্ক করে দিয়েছেন। তবে নিম্নমাত্রার প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রেও চীনে প্রায় দুই শতাংশ মানুষ মারা যাবে। গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়। দুই মাস পর চীনে সংক্রমণ এবং প্রাণহানি কমে এলেও গত কয়েকদিনে বিশ্বজুড়ে তা বেড়েছে। বর্তমানে করোনায় চীনের বাইরে মৃত্যুর হার প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
গবেষকদের ধারণা, নিম্নমাত্রার মহামারি হলেও প্রাদুর্ভাব শুরুর প্রথম বছরে বিশ্বজুড়ে দেড় কোটি মানুষের প্রাণ কাড়বে করোনা। অস্ট্রেলীয় এই গবেষকদের দাবি, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র চীন এবং ভারতে কয়েক মিলিয়ন করে মানুষ মারা যাবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণ হারাতে পারে ২ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। চীনের ব্যাপক সংক্রমণ ঘটলেও যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন ১১৫ জন এবং মারা গেছেন একজন। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, নিম্নমাত্রার মহামারি শুরু হলে যুক্তরাজ্যে ৬৪ হাজার, জার্মানিতে ৭৯ হাজার এবং ফ্রান্সে ৬০ হাজার মানুষ মারা যেতে পারেন।
অস্ট্রেলীয় এই গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইতালিতেও লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। নিম্নমাত্রার মহামারিতে যুক্তরাজ্যের দেড় এবং আমেরিকার ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাবে। গবেষকদের ধারণা, করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়বে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া এবং জার্মানিতে মারাত্মক মন্দা দেখা দেবে।
তবে করোনার প্রাদুর্ভাব তীব্র মহামারির আকার ধারণ করলে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটবে। গবেষকরা বলছেন, এক্ষেত্রে বিশ্বে মানুষের প্রাণ যাবে ৬ কোটি ৮০ লাখ। তীব্র মহামারিতে শুধুমাত্র চীনেই মারা যাবে এক কোটি ২০ লাখ, যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ১০ লাখ, ব্রিটেনে ২ লাখ ৯০ হাজার। একইভাবে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে জার্মানি এবং ফ্রান্সে।

গবেষকদের তথ্য বলছে, উচ্চ মহামারি হলে রাশিয়াতেও ১০ লাখের মতো মানুষ মরবে। বিপর্যয়কর এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের আঘাত আসবে। অনেক দেশে দেখা দেবে তীব্র মন্দা। ভয়াবহ এই মহামারিতে চলতি বছরে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি সংকুচিত হবে ৬ শতাংশ। ২০০৯ সালে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের চেয়ে যা ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
তবে মাঝারি মাত্রার মহামারি হলে বিশ্বে প্রাণ হারাবে ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ৫ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়বে। গবেষকরা বলছেন, তাদের ভবিষ্যদ্বাণীকৃত ফলাফলের সম্ভাব্যতা অত্যন্ত অনিশ্চিত। এসব লক্ষ্য ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট না হলেও রোগের সম্ভাব্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক ব্যয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।
গবেষকরা বলছেন, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রতিরোধমূলক কিছু নীতিমালা গ্রহণ করা দরকার। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রাণঘাতী এই করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৮৭টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসের বিস্তারের ঘটনায় বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করে মহামারির শঙ্কা প্রকাশ করেছে। চীনে এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ৪২ জন, সংক্রমিত হয়েছেন ৮০ হাজার ৫৫২ জন। চীনের বাইরে মারা গেছেন ৩৪২ জন এবং সংক্রমিত হয়েছেন ১৭ হাজার ৮৮১ জন।
চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ইতালিতে। দেশটিতে করোনা সংক্রমিত হয়ে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪৮ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৮ জন। এদিকে, চীনা একদল বিজ্ঞানী আগামী এপ্রিল মাসেই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের সম্ভাবনা আছে বলে প্রত্যাশা করেছেন। সূত্র: ডেইলি মেইল অবলম্বনে।

এম ওসমান, বেনাপোল: যশোরের শার্শায় পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে ৪৫০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল ও ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় বেনাপোল পোড়াবাড়ি গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী রুহুল আমিন (৩৫) ও যশোর কোতয়ালি থানার চাঁচড়া হঠাৎপাড়া গ্রামের মৃত: আব্দুস ছাত্তারের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান (৩০) কে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, যশোর জেলা পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় ও নাভারণ “খ” সার্কেল এএসপি জুয়েল ইমরানের সহযোগিতায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর ৫ টায় শার্শা উপজেলার কামারবাড়ী মোড় পাকা রাস্তার উপর থেকে সন্দেহজনক একটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্টো ট-১৬-৬৯২৫) আটক করা হয়। এসময় কাভার্ডভ্যান থেকে একজন দৌঁড়ে পালিয়ে গেলেও রুহুলকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে কাভার্ডভ্যানের কন্টিনারের ভিতর থেকে ৪৫০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে ভোর সাড়ে ৫ টায় উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের শুড়া গ্রামস্থ দিলীপ পালের বাড়ির উত্তর পাশের পাকা রাস্তার উপর হতে একটি নসিমন আটক করে গোড়পাড়া ফাঁড়ি পুলিশ। নসিমনে থাকা মাদক ব্যবসায়ী হাফিজুরের তথ্যমতে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
শার্শা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান পৃথক অভিযানে ৪৫০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল ও ১৫ কেজি গাঁজাসহ দু’মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামীদের নামে মাদক আইনে মামলা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: ভারতে মুসলিম গণহত্যা-নির্যাতন ও মসজিদ-মিনারে অঙ্গিসংযোগের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে গনমিছিল করেছে সমমান ইসলামী দলসমূহ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বাদ জুমআ নামাজেরপর শহরের অলতাফ স্কায়ার রোড এলাকা থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
এসময় বক্তারা বলেন,মুসলমানদের উপর কোন ধরণের নির্যাতন সহ্য করবো না। আমরা মুজিববর্ষের বিরোধী নই,কিন্তু রক্তপিপাসু নরেন্দ্র মোদী বিরোধী। তাকে এদেশের মুসলমান জনগণ কখনও মেনে নেবে না। সন্ত্রাসী মোদী মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করছে,নির্যাতন করছে। মসজিদ-মাদ্রাসা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। মিনারে হনুমানের পতাকা লাগিয়েছে। এসব কাজ বিশ্বের ১৮০কোটি মুসলমানদের কলিজায় আঘাত দিয়েছে। মুজিববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের জনগণ দেখতে চায় না। মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে মোদি যোগ দিলে এদেশে বদরের যুদ্ধের পূণরাবৃত্তি হবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বক্তাগন।
এসময় বক্তব্য রাখেন,মাওলানা নুরুল ইসলাম খান,মাওলানা আনোয়ার হোনে,মাওলানা সাজিদুল হক,মাওলানা খলিলুর রহমান প্রমুখ।
এতেই সময় তাহিরপুর উপজেলা বালিজুরী ইউনিয়নের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বক্তব্য রাখেন,হুসাইন শরীফ বিপ্লব,আশরাফুর আলম নুরুল হুদা,মাও রমজান আলী,ইমাম মোঃ তোফায়েল,মাহববুব উল্লাহ,সৈয়দ রেজাউল করিম প্রমুখ। এছাড়াও ঝেলার বিভিন্ন উপজেলার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc