Tuesday 25th of February 2020 05:48:58 PM

“২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আনন্দঘন মূহুর্তে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন”

 

শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোডস্থ জোড়াপুল সংলগ্ন “আই-টেক টেকনিক্যাল কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার” এর ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত। আজ শনিবার  ৮ই ফেব্রুয়ারী পরন্ত বিকেলে আই-টেক টেকনিক্যাল কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আনন্দঘন মূহুর্তে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফের সেলস অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোঃ বশির আহমেদ আরো উপস্থিত ছিলেন আইটেকের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের পরিচালক আলী আহমদ রাসেল, আই-টেক এর স্পোর্টস ইভেন্ট ম্যানেজার রিপন আহমেদ।

আরও উপস্থিত ছিলেন, আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক মকবুল হাসান ইমরান, উপস্থিত ছিলেন আইটেকের সম্মানিত সিইও আবুল কালাম আজাদ (সোহাগ), আইটেকের স্থিরচিত্রগ্রাহক ও মিডিয়া ম্যানেজার  সোহেল রানা,ইমরান আহমেদ মারজান, ইকবাল আহমেদ, আই-টেক এর প্রশিক্ষক জলি মল্লিক, মৌসুমি কর ও বতর্মান,প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চমক দে, উপস্থিত অতিথিবৃন্দ প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ও আগামী দিনগুলির আরো উত্তর উত্তর সাফল্য কামনা করেন। আইটেকের সিইও উনার বক্তৃতায় বলেন আমরা আমাদের সেরাটা দিতে চাই এবং শ্রীমঙ্গলের আইটি সেক্টরকে এক উচ্চ আসনে নিতে চাই, এ সময় তিনি  ২০২০ সালের এস এস সি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পুরস্কার এর ঘোষণা দেন , পরীক্ষার পর যারা আই-টেক ভর্তি হবে তাদের মধ্যে থেকে মেধাবী একজনকে একটি কম্পিউটার দেওয়া হবে। পরিশেষে প্রতিষ্ঠানের সিইও  এবং অতিথিবৃন্দ কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন।

এম ওসমান : যশোরের বেনাপোল বড়আঁচড়া সীমান্ত থেকে ৩০ পিচ স্বর্ণের বারসহ ইকবল (৩০) ও রনি (২৮) নামে দু’যুবক আটক হয়েছে।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেনাপোল বড়আঁচড়া টার্মিনাল মোড় থেকে তাদের আটক করে বিজিবি সদস্যরা।
আটক রনি বেনাপোলের বড়আঁচড়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের ছেলে এবং ইকবাল একই গ্রামের আব্দুর বাজ্জাকের ছেলে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র যশোর-৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ সেলিম রেজা দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩০ পিচ স্বর্ণসহ ২জনকে আটকের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

মিনহাজ তানভীরঃ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা বৃহত্তর সিলেটের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। প্রতিদিন দেশের কোনো না কোনো জেলার লোকজন এই ছায়াঘেরা স্বপ্নীল জায়গা,সবুজ-শ্যামল পাহাড়ি আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ধরে হাঁটছে, ঘুরছে, আনন্দ উপভোগ করছে।

চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলে রয়েছে ছোট-বড় অভিজাতসহ অর্ধশত হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট। কিন্তু হোটেল মালিকরা এই পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে আগত বিভিন্ন জেলার নানা শ্রেণীর মানুষের কথা ভাবলেও এমন ভাবে ভেবেছে কিনা জানা নেই।

তবে সম্প্রতি কোন এক আড্ডার ছলে আমরা কয়েকজন রং চা পান করতে মৌলভীবাজার রোডস্থ শ্রীমঙ্গল থানার বিপরীত পাশে  জিলানী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে ১০/১১ জনের একটি দল সিনিয়র জুনিয়রসহ জিলানী হোটেলে চা পান করতে যাই। কৌতূহলবশত  ক্যাশ টেবিলে বসে থাকা এক ভদ্রলোককে জিজ্ঞাসা করা হয় রং চা কত করে দাম রাখেন ? তিনি বললেন পাঁচ টাকা ,আমাদের মনে হলো তিনি হয়তো মজা করছেন।

যাই হোক চা’য়ের অর্ডার দেওয়ার পর মাথা গুনা প্রতিজনে এক কাপ করে কাঁচের গ্লাসে করে রং চা এবং সাথে করে এক টুকরা লেবু চায়ের কাপের উপর সু-সজ্জিত করে টেবিলে রাখেন। যা চা পান করাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

টেবিলে সাজানো রং চায়ের কাপগুলো

আমরা বিষয়টি দেখে খুব কৌতুহল অনুভব করি যা সাধারণত কোন পার্টি না হলে দেওয়া হয় না। সাথে দুই প্যাকেট বিস্কিট ও। সম্ভবত ১০/১৫ টাকার মধ্যেই প্রতি প্যাকেটের মূল্য হবে। বিস্কুটের মূল্য হতে পারে যাই হোক, ভাবছিলাম আমরা যারা চায়ের জন্য অপেক্ষা করছি আমরা চা পান করবো কিন্তু আমাদের আড্ডা একটু বড় হওয়ায় হোটেলের মালিক ও আমাদের পাশে এসে বসে আমাদের সাথে তিনি ও  চা পান করেন। মনে হলো ওই হোটেলের মালিক এম এ সালাম তিনি একজন রসিক মানুষ খুব সামাজিক।

এখানে একটি  বিষয় লক্ষণীয়, আমাদের দেশে অনেক হোটেল রয়েছে যে হোটেলের খাবার মালিকরা নিজেরাও খান না ! কিন্তু এখানে আমাদের একটু ব্যতিক্রম বলেই মনে হয়েছে।

রং চায়ের মূল্য ৫ টাকা রাখা প্রসঙ্গে আবারো জিলানী হোটেলের স্বত্বাধিকারী এম এ সালাম সাহেবকে আমাদের টিমের একজন সিনিয়র জিজ্ঞাসা করলেন আসলেই কি আপনার হোটেলের চা পাঁচ টাকা নাকি আপনি আমাদের সাথে মজা করেছেন ?  তিনি (এম এ সালাম) বললেন না ভাই, আমি ব্যবসা করি মজা করবো কেন ? তখন উনাকে প্রশ্ন করে আপনি কেন প্রতি কাপ ৫ টাকা করে রাখেন অন্যান্য অভিজাত হোটেল গুলোতে এর চেয়ে বেশি মূল্য। এর কারণ কি ?

তখন তিনি উত্তর দিলেন, যে দেখেন ভাই আমি ব্যবসা করি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আমি চাই ব্যবসার সাথে সাথে সামাজিক সেবা করতে এবং তা চেষ্টাও করি, যেহেতু শ্রীমঙ্গল পর্যটন নগরী বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসে এবং আমার হোটেলটি শ্রীমঙ্গল থানার সম্মুখে হওয়ার ফলে কিছু গরিব লোক থানায় আসা-যাওয়া করে দীর্ঘ সময় থানার সামনে বসে থাকে বারবার চা পান করে। দুধ চা বার বার পান করলে শারীরিকভাবেও ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে যা আপনারা জানেন।

এছাড়া আরও কিছু লোক রয়েছে যারা দুধ চা পছন্দ করেন না, যেমন কিছু সচেতন লোকজন সুস্থ থাকার কার জন্য দুধ চা পছন্দ করেন না। সবমিলিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য আমি রং চা ৫ টাকা করেই রাখি। সবগুলোতে কম রাখা যাবে না। এছাড়া অন্যান্য খাবার চেষ্টা করি সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে রাখতে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সাথে মানসম্মত করে আপনাদেরকে খাওয়াতে।

জানা যায়, জিলানী হোটেলের পরিচালক মীর এম এ সালাম, তিনি দশ বছর ধরে হোটেল ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় দু’বারের নির্বাচিত ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এখনো তিনি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য চায়ের আড্ডায় অংশগ্রহণ করে তিনি আমাদের চায়ের বিল দিতে হবে না বলে অফার করে যদিও আমাদের সিনিয়র ওরা তার এই অফারকে সম্মানের সাথে ফিরিয়ে দেন বলেন ইনশাআল্লাহ আগামীতে হবে।

কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর জন্ম ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, বরিশালে। শৈশব-কৈশোর কেটেছে পিতার কর্মস্থল বিভিন্ন মহকুমা ও জেলা শহরে। তবে ছুটিতে, বিশেষ করে গরমের ছুটিতে প্রায়ই যেতেন গ্রামের বাড়ি বাহেরচরে। সেখানে বাড়ির উঠানে ভাইবোন আর গ্রামের ছেলে মেয়েদের নিয়ে মেতে উঠতেন নাটক, গান, কবিতা আবৃত্তিতে। কিশোর বয়স থেকেই তার কবিতা লেখার শুরু। যে প্রকৃতি আর মানুষ তার কবিতার উপজীব্য হিসেবে বারবার উঠে এসেছে তাকে তিনি প্রথমে প্রত্যক্ষ করেছেন এই গ্রামেই। ১৯৫১ তে তার বয়স মাত্র সতের বছর। সেই সময় বাহেরচরে গ্রামের বাড়ি থেকে তার এক কিশোর সাথীকে চিঠিতে লিখেছিলেন “সত্যিই বর্ষাকালটা বড় অভিমানী। একটুকুতেই মান, একটুকুতেই কান্না। কালো মেঘের মুখ ঢেকে আষাঢ়ের বিরতী আকাশ যখন আমার জানালার ধারে কাঁদতে থাকে তখন আমাদের বুকও হু হু করে কেঁদে ওঠে। … কিন্তু বর্ষা নিয়ে কবিত্ব করা সোজা। অন্তত আমাদের কাছে। জানালার কাছে চেয়ার টেনে বসে আমিও এতক্ষণ করছিলাম।

অথচ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি গাছের ডালে কাকের সাথে কিষাণরাওতো ভিজছে। ভিজে জুপসেতো পরের ক্ষেতে কাজ করছে।” প্রকৃতি ও মানুষ সম্পর্কে কিশোর বয়সেই এই পর্যবেক্ষণ তার ভবিষ্যত মানস গঠনে প্রভাব ফেলেছে। ছাত্র জীবনে তিনি আকৃষ্ট হয়েছেন বামপন্থী রাজনীতির দিকে। তবে রাজনীতিতে যাননি। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ই ছিল তার মূল অঙ্গন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে সাংস্কৃতি সংসদ গড়ে তুলেছেন। বায়ান্ন’র একুশেতে দশজন দশজন করে মিছিলে একশ চুয়াল্লিশ ধারা ভঙ্গ করা হয়। তার একটি মিছিলের সামনে ছিলেন তিনি। পুলিশ তাদের ট্রাকে তুলে নিয়ে ঢাকার বাইরে রেখে এসেছিল। সেই ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণেই বাংলা কবিতায় তার স্পর্ধিত আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল ‘মাগো’, ওরা বলে কবিতায়।

সেই কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ আবির্ভাবেই স্বকীয় বৈশিষ্ট্যতে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। তার স্ফুরণ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে, সুস্পষ্ট বিকাশ একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহ্যে, স্বাধীনতা উত্তর উন্মাতাল সময়ে তিনি স্থিত হন আত্মমগ্নতায়। মাঝখানে তিনি কিছুদিন কবিতা লেখায় বিরতি দিয়েছিলেন। তার নিজের কথায়, কিছুটা প্রাত্যহিক প্রয়োজনের জড়তায়, কিছুটা অভিমানে কবিতার কাছ থেকে দূরে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সত্তরের মাঝামাঝি আবার যখন ফিরেছেন তখন সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছেন। তার কবিত্বশক্তি লক্ষ্য করে স্তম্ভিত হয়েছেন সমসাময়িক কবিরা। আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ পড়ে এদেশের প্রধান কবি শামসুর রহমান নিঃসংকোচে বলেছিলেন, ‘তিনি যদি আর কোন কবিতা নাও লিখেন তবুও তিনি অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন একজন শক্তিশালী কবি হিসেবে’। আর পশ্চিম বাংলার অন্যতম প্রধান কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য ছিল, ‘এমন কবিতা বাংলা ভাষায় লেখা সম্ভব সেটা আমার জানা ছিল না’।

কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর পরিচিতি কেবল কবিতায় নয়। ইংরেজি সাহিত্যে একজন মেধাবী ছাত্র আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ এম এ পরীক্ষার ফল বেরুনোর আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু তখনকার ধারা অনুসারে এবং বিশেষ করে পরিবারের আগ্রহে তিনি পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে সরকারি চাকুরিতে যোগ দেন। এরপর দক্ষ প্রশাসক হিসেবে মহকুমা ও জেলা পর্যায় অতিক্রম করে সরকারের সচিব, টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে এদেশের কৃষি ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো গড়ে তোলেন তিনি।

ঢাকার খামারবাড়ী, কৃষি গবেষণার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বরিশালের রহমতপুরের কৃষি ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও প্রতিষ্ঠান তার স্বাক্ষর বহন করছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি দেশবিদেশের কৃষি বিষয়ক অভিজ্ঞতাকে তুলে এনেছেন তার লেখায়। এদেশের কৃষি উন্নয়নে পথ নির্দেশ করেছেন। কৃষির সাথে জড়িত মানুষগুলোর ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ভূমি সংস্কার, খেতমজুর ও কৃষি শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ও কাজের নিশ্চয়তা বিধানে তার করা সুপারিশসমূহ বাস্তবায়িত করা গেলে এদেশের কৃষি আরো অনেকদূর এগিয়ে যেত। গ্রামীণ মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য স্বশাসিত স্থানীয় সরকার, নারী অধিকারের প্রশ্নে তিনি কেবল সোচ্চার ছিলেন না, সেই লক্ষ্যে কাজও করে গেছেন। শেষ দিকে এসে প্রকৃতি-পরিবেশ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মাধ্যমসমূহে তার লেখাগুলো কেবল তার বিদগ্ধ মনেরই নয়, মানবসমাজ ও পৃথিবীর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালবাসার পরিচয় দেয়।
কবি ও সফল কর্মময় জীবনের অধিকারী এই মানুষটিকে তার জীবনের কাজ পূর্ণ করার আগেই তার প্রিয় পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। গভীর অভিমানে নিজেই যেন স্বেচ্ছানির্বাসনে গেলেন। মৃত্যুর আগে একটি বছর বাকহারা নিশ্চল বিছানায় শুয়ে দিন অতিক্রান্ত করেছেন। পৃথিবীর রূপ রস গন্ধ তার কাছে পৌঁছায়নি। তার কবিতার খাতাগুলো শূন্য থেকেছে। সেই গভীর শূন্যতা তার কোন ক্ষতি করেনি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এদেশের কবিতার ভূবন।
পিতার কবরে তার বক্ষেই তাকে চিরনিদ্রায় শয়ন করানো হয়েছে। তারপরও আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বেঁচে আছেন ও থাকবেন সন্তানহারা মায়ের শিশির ভেজা চোখে, সাহসী পুরুষের সহিষ্ণু প্রতীক্ষায়, কিংবদন্তীর কথামালায়।
কবির জীবনপঞ্জি

জন্ম : ৮ ফেরুয়ারি ১৯৩৪ বরিশাল।

পিতা : মরহুম বিচারপতি আব্দুল জব্বার খান, সাবেক বিচারপতি, পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্ট, সাবেক স্পীকার পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ।

মাতা : মরহুমা সালেহা খাতুন।

শিক্ষা : ইংরেজিতে বিএ (অনার্স) ও এমএ, এসএম হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জনপ্রশাসন ও উন্নয়ন অর্থনীতিতে ডিপ্লোমা, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য।

সম্মাননা : ফেলো, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র, পোয়েট ইন রেসিডেন্ট, ইস্ট ওয়েট সেন্টার, হাওয়াই, যুক্তরাষ্ট্র।

পেশাগত জীবন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা, পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস (সিএসপি) এর সদস্য হিসেবে সরকারি চাকুরিতে যোগদান। মহকুমা, জেলা প্রশাসক ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন ও বাংলাদেশ সরকারের সচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ। টেকনোক্রেট মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত। জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এশীয় প্যাসিফিক অ লের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি মহাপরিচালক। চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সেন্টার অফ এ্যাডভান্সড স্টাডিজ।

পুরস্কার : বাংলা একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক ও অন্যান্য নানা সংগঠনের পুরস্কার।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : সাতনরীরহার, কখনো রং কখনো সুর, কমলের চোখ, আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি, সহিষ্ণু প্রতীক্ষা, বৃষ্টি এবং সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা, আমার সময়, আমার সকল কথা, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি।

অন্যান্য গ্রন্থ : ইয়েলো স্যান্ড ডিউন-চায়না থ্রু চায়নীজ আইজ।

রুরাল ডেভলপমেন্ট : প্রবলেমস এ্যান্ড প্রসপেক্টাস, ক্রিয়েটিভ ডেভলপমেন্ট, ফুড এ্যান্ড ফেইথ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনে অসংখ্য লেখা।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc