Tuesday 25th of February 2020 05:28:31 PM

তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)সংবাদদাতাঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দারুল উলুম ধুতমা-জয়নগর-লক্ষীপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষ্যে বুধবার দুপুরে প্রতিষ্টানটির ভিত্তি স্থাপনের কাজের শুভ উদ্ভোধন করেন,আলহাজ মাঃ সিদ্দিক আহমদ মাহমুদপুরী,আলহাজ মাঃ শামসুদ্দিন সাহেব পিরুজপুরী।

আড়ও উপস্থিত ছিলেন,তাহিরপুর উপজেলা ক্রিড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন পলাশ,কোর্ট মসজিদের ইমান ও খতিব মহিবুর রহমান,উপজেলার বাজার মসজিদের ইমান দীন আজাদী, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম,মাদ্রসার মুফতামিম আবু সুফিয়ান,আব্দুর বারিকসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগন। পরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্টিত হয়।

এম ওসমান :  ভারতে পাচারকালে বেনাপোল পোর্ট থানাধীন  সাদিপুর সীমান্তের পাকা রাস্তার উপর থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ১০টি স্বর্ণের বারসহ জিহাদ আলী (২৮) নামে এক স্বর্ণ পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। আটক স্বর্ণ পাচারকারী জিহাদ আলী বেনাপোল পোর্ট থানাধীন সাদিপুর গ্রামের তাহাজ্জত আলীর ছেলে।
যশোর-৪৯ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল সেলিম রেজা প্রেস বিফিংয়ে জানান, বুধবার (৫ ফেব্রয়ারি) সকালে কাশিপুর বিওপি’র সুবেদার আব্দুল মালেক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল পোর্ট থানাধীন সাদিপুর পাকা রাস্তার উপর থেকে ১০ টি স্বর্ণের বারসহ জিহাদকে আটক করা হয়।
আটককৃত স্বর্ণের সিজার মূল্য ৬৯,৯৬,০০০/- (ঊনসত্তর লক্ষ ছিয়ানব্বই হাজার) টাকা। আটক জিহাদ আলীকে স্বর্ণসহ বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সানিউর রহমান তালুকদার, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকেঃ নবীগঞ্জ উপজেলায় টেকা দীঘি অটো মিলে বয়লার বিস্ফোরণে ফায়ারম্যান নাসির মিয়া (৩৬) নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৬ জন। নিহত নাসির মিয়া উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের ভূমিরবাক গ্রামের আব্দুর রশিদের পুত্র। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৮টার দিকে ওসমানী রোডে অবস্থিত টেকা দিঘীর মার্কেটে ধান সিদ্ধ দেয়া সময় বয়লার মিলে এ ঘটনাটি ঘটে।
এসময় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বয়লার বিস্ফোরণের শব্দে পুরো শহর ক্ষেপে উঠে। বিকট শব্দ শোনার পরপরই বাসা-বাড়ির নারী পুরুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। তারা জানান, প্রথমে ভূমিকম্প ভাবলেও পরে বিস্ফোরণের খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বিস্ফোরণে চুলার চিমনী প্রায় ৫০০-১০০০ গজ দূরে উড়ে গিয়ে পড়ে। এসময় বয়লার মিলের পাশে থাকা ইব্রাহিম (রঃ) জামে মজসিদ, আলী ভিলা, আনসার ভিডিপি ব্যাংক ও আল হেরা বই ঘরসহ বেশ কয়েকটি বাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জানা যায়, ওইদিন সকালে বয়লারের ফায়ারম্যান নাসির মিয়া’সহ ৫ জন শ্রমিক ধান সিদ্ধ দেয়ার কাজ করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে চিমনী বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ফায়ারম্যান নাসির মিয়া নিহত হন। আহত হন, আব্দুল কাদির (৩৯), নিতাই দাশ (৪০), ম্যানাজার মিলন দাশ (৪৬), শফিকুর রহমান (৩৫) শ্রীকান্ত দাশ (৪০), আব্দুল কাদির (৩৯) ও পাশের বাসার রীনা দাশ (৪০)। এ সময় স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক তাদেরকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপেক্সে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তবে গুরুত্বর আহত আব্দুল কাদিরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একদল কর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ঘন্টাখানেক পর আগুন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
এ ব্যাপারে, নবীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুর রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

“কবিরাজের সাঙ্গোপাঙ্গদের কথামত অনৈতিক কাজ না করার অপরাধে গ্রাম ছাড়ার হুমকি,মৌলভীবাজার থানায় মামলা নিস্তেজ !”  

 

আলী হেসেন রাজন.মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ বন্ধ্যা নারীদের সন্তান হওয়া, অল্প বয়সে চুল পাকা, প্রতিবন্ধী শিশুদের ভালো করা, প্রেমিক-প্রেমিকাকে পাইয়ে দেয়া, জিন- ভূত তাড়ানো, যেসব নারীদের বয়স পেরিয়ে গেলেও বিয়ে হচ্ছে না ক্যানসার, ডায়াবেটিকস, আমাশয়, গ্যাস্ট্রিক, পিত্তথলিতে পাথর, প্যারালাইজড, বাতের ব্যথা, হাঁপানি, একশিরা, যৌন দুর্বলতা, আলসার, ব্যথা, স্বপ্নদোষসহ নানা জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা করে। আর রোগের তাবিজের হাদিয়া নিয়ে থাকে ২১শ টাকা।
মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের সনকাপন গ্রামের তাজিন মিয়ার ছেলে শামিম মিয়ার ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে বিভিন্ন গ্রাম এলাকার সহজ-সরল মানুষ। সর্বরোগ সারানোর কথা বলে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওইসব  ভণ্ড সাধু কবিরাজের ঝাড়-ফুঁক, পানি পড়া আর তাবিজ-কবজ এনে দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে লুটে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এ প্রতারণার কাজে সহযোগিতা করছেন একই গ্রামের তারই পাতানো চাটুকার রুবেল মিয়া ও সোহেল মিয়া।
সরেজমিনে গেলে জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারী জৈতুন মিয়ার মেয়ে শাবনুর বেগমের প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য একটি তাবিজ এনে দেয় শামিম, আর শামিম শাবনুরকে বলেন রাতে হিন্দুদের শ্বশান ঘাটে উলঙ্গ হয়ে তাবিজ জ্বালানোর জন্য। ছেলের সুস্থতার কথা চিন্তা করে শাবনুর সনকপন ও ঘাগুটিয়ার মাঝা মাঝি শ্বশান ঘাটে উলঙ্গ হয়ে তাবিজ জ্বালায়,ঐ সময় শামিম তার মোবাইল দিয়ে শাবনুরের উলঙ্গ অবস্থায় ছবি তোলে। ১৪ জানুয়ারী সকালে শামিম শাবনুরের নানা বাড়িতে এসে বলে কবিরাজ বলেছে তোমার তাবিজ জ্বালানো হয়নি তাই আজ রাতে আরেক টি তাবিজ জালাতে হবে। এই তাবিজ জ্বালানোর জন্য তোমার সাথে ১৪/১৫ বয়েসের একজন মেয়ে সাথে নিতে হবে।শামিমের কথা শুনে শাবনুর যেতে অস্বিকার করে।এসময় শামিম বলে কবিরাজ বলেছে আজ তাবিজ না জ্বালালে তোমার ছেলের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে,তাই তোমাকে তাবিজ জ্বালাতে হবে।

ছেলের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সে কারনে শাবনুরের খালাত বোন কনা মিয়ার মেয়ে সুইটিকে নিয়ে শ্বশান ঘাটে রাতে য়ায়,সেখানে শাবনুর উলঙ্গ হবার সময় সাথে থাকা সুইটি দেখে পেলে শ্বশান ঘাটে দেয়ালের পাশে দুইটি ছেলে রুবেল ও সোহেল লুকিয়ে আছে । তখন শাবনুরকে সুইটি বলে উলঙ্গ না হওয়ার জন্য। ছেলেদের দেখে সেখান  থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করলে শামিম ,রুবেল ও সোহেল তাদের কে ধরে পেলে এবং তাদের সাথে খারাপ কাজ করতে চাইলে শাবনুর ও প্রিয়ার সুর-চিৎকার শুনে স্থানীয়  উজ্জল নামে একটি ছেলে ছুটে আসে, শাবনুর ও সুইটিকে তাদের হাত থেকে ছাড়িয়ে দিলে শাবনুর ও সুইটি পালিয়ে বাড়িতে চলে যায় এবং মেয়ে দুটিকে উদ্ধারকারী উজ্জলকে আটক করে শামিম ,রুবেল ও সোহেল মিলে শ্বশান ঘাটে গাছের সাথে  বেঁধে মার দর করে। ঐ রাতেই উজ্জলকে সঙ্গে নিয়ে শামিম,রুবেল ও সোহেল শাবনুরের নানা বাড়িতে আসে,দরজা  ভেঙ্গে  তাদের কে হুমকি দিয়ে বলে তাদের সাথে খারাপ কাজ না করলে মোবাইলে তোমার উলঙ্গ অবস্থায় থাকা ছবি ইন্টারনেট,ফেইজবুকে ছড়িয়ে দিব,এসময় তারা ঘরের  সব কিছু মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করে নেয়। বিষয় টি যখন জানা জানি হলো তখন তাদের এলাকার পবন মিয়ার বাড়িতে পবন মিয়া,পবন মিয়ার ছেলে ইকবাল মিয়া ,মাহমুদ মিয়,সালিক উদ্দিন মালিক উদ্দিন তড়িঘড়ি করে একটি সালিশ বসায়,সেখানে পবন মিয়া অভিযুক্ত শামিম,রুবেল ও সোহেলের অভিবাভকদের বলেন ৪০ হাজার টাকা দেয়ার জন্য।

সালিশ না মেনে পর দিন মৌলভীবাজার মডেল থানায় শাবনুর বাদি হয়ে একটি অভিযোগ দ্বায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার মডেল থানার এস আই গিয়াস ও সদর সার্কেল রাতে অভিযান চালালে অভিযোক্ত শামিম,রুবেল ও সোহেল পালিয়ে যায়।
এই প্রতিবেদক কে মেয়েদের অভিবাভকরা জানান সালিশ না মানায় পবন মিয়া তাদের কে এই গ্রাম ছেরে চলে যাওয়ার  নির্দেশ  দিয়েছে এবং এলাকার কেউ যাতে আমাদের সাথে না মিশে তাও নিষেধ করে দিয়েছে।
এবিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার এস আই গিয়াস বলেন বাদী যোগাযোগ না রাখায় তাদের অভিযোগ আলোর মুখ দেখেনি। আর মডেল থানার অফিসার ইনর্চাস আলমগীর হোসেন বলেন এবিষয়ে জেনে কথা বলবেন।
বর্তমানে এই পরিবর টি রয়েছে হুমকির মুখে সরকার ও প্রশাসনের কাজে সহযোগীতা চায়।দেশের আইন–প্রশাসন এগুলোর প্রতি নজর না দিলে সরল মনের মানুষেরা প্রতারিত হতেই থাকবে বলে সচেতন মহল আশংকা করছে।

নজরুল ইসলাম তোফা: পরিকল্পিত উন্নয়নের ছোঁয়াতে বদলে গেছে বা যাচ্ছে বাংলাদেশ। বদলে যাচ্ছে- দেশের জনপ্রিয় ইতিহাস, ঐতিহ্যের তথ্য আদান-প্রদানের বৃহৎ  মাধ্যম ডাকঘর। তমধে বদলেও গেছে ছোট্ট একটি শব্দ চিঠি, তার মাধ্যমে আদানপ্রদানের প্রচলন। এমন চিঠির প্রচলন ও ইতিহাসটা ছিল অনেক পুরোনো। চিঠি অথবা পত্রের মাধ্যমে একজনের পক্ষ থেকে অন্যজনের কাছে লিখিত তথ্যধারক বার্তা বললেও ভুল হবে না। চিঠিতেই দুজন বা দুপক্ষের মধ্যেই যেন যোগাযোগ বজায় রাখে। বলাই চলে যে, বন্ধু এবং আত্মীয় স্বজনদের খুবই ঘনিষ্ট করে, পেশাদারি সম্পর্ককে খুব উন্নয়ন করে এবং আত্ম প্রকাশের সুযোগ প্রাণবন্ত করে তোলে। কিন্তু ‘ডিজিটাল সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে’ এসেই চিঠি লেখার পাট শেষের পথে। নিজ হস্তে চিঠি লেখার প্রচলন এখন নেই বললেই চলে। কালি কলম বা বল পেনের মাধ্যমেই চেয়ারে বসে ঠিক টেবিলের উপর সাদাকাগজ কিংবা রঙিন কাগজে চিঠি আর লেখেনা। বলতেই হয় যে আধুনিক যুগে উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কালের গর্ভেই যেন এমন এই মাধ্যমের ব্যবহার বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। স্ব-হস্তে লেখা চিঠির মধ্যেই হৃদয়ের শত সহস্র কথা ও তার আবেগ, আকুলতা এবং ব্যাকুলতা সব বিষয় প্রকাশ পেত। মা-বাবা তাঁর সন্তনের হাতের লেখা চিঠিটা যখন কাছে পেত, ঠিক তখনই যেন লেখাটিতে কোমল হৃদয় দিয়ে পড়ে। চিঠির মধ্যেই বাবা মা নিজের সন্তানের মুখটাও দেখতে পেতো। অবচেতনে চিঠি বুকে জড়িয়েও আদর করে। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ চিঠি আদানপ্রদান করেছে, ইলিয়াডে তার উল্লেখ ছিল। হিরোডোটাস ও থুসিডাইডিসের রচনাবলীতে তা উল্লেখ করাও আছে।

অশিক্ষিত মানুষরা শুধুমাত্র চিঠি পড়া ও লেখার জন্যেই যেন স্বাক্ষরতা অর্জনের খুব চেষ্টা করেছিল। সেই সময়ে স্বাক্ষরতা টিকিয়ে রাখার বিশাল অবদান ‘চিঠি’। আবার পারিবারিক চিঠি গুলো অনেক সময় খবরের কাগজের বিকল্প হিসাবেই যেন ব্যবহার করেছিল। কোনো চিঠিতে গ্রামের যেকোন ঘটনা ও আশা ভরসার খবর, আবাদের খবর বা প্রকৃতিক দুর্যোগের খবরসহ বিভিন্ন খবর লেখা থাকত। আসলে, হাতে লেখা চিঠি পরিবারের মধ্যে যেন নিবিড় সম্পর্ক ও ভালবাসার গভীরতার সেতু বন্ধন সৃষ্টি হতো। প্রেম ভালোবাসার চিঠি গুলো তো ছিল একেকটি কালজয়ী বৃহৎ প্রেমের ইতিহাস। প্রচলিত চিঠির যুগেরই সকল প্রেমিক-প্রেমিকা’রা হৃদয়ের আকুলতা-ব্যাকুলতা কিংবা প্রতীক্ষার প্রহরের খুঁটি নাটি অনেক কিছুই সহজ সরল ভাষায় মনের মাধুরীতে লিখত। যা পড়ে পুলকিত হওয়ার পাশাপাশি তা সংগ্রহ করে রাখতো। চিঠিগুলোর ভাষা ও  ভাবকে মনেই হতো শত ফুল দিয়ে গাঁথা একটি গল্প বা উপন্যাস। বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিঠিটা লিখেছিল নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একজন নারী তার প্রেমিককে। ১৯৫২ সালে কোরিয়াতেই যুদ্ধ চলাকালীন সময় লেখে। তখন তার প্রেমিক মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন যুদ্ধের সৈনিক ছিল। সেই চিঠিটার দৈর্ঘ্য ছিল ৩ হাজার ২০ ফুট লম্বা যা লিখতে সময় লেগেছিল একমাস। আবার খুবই  ক্ষুদ্র চিঠি লিখেছিল চমৎকার ভাষাতে ফ্রান্সের বিখ্যাত সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক ভিক্টর হুগো। তা ছাড়াও আর এক ঘটনা স্মরণ করার মতোই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শৈশবের লেখা একটি চিঠি বা পত্র সম্পর্কে বলতেই হয়, তিনি বাড়ি থেকে বহুদূরে পড়তে গিয়েই সবেমাত্র বাংলা স্বরবর্ণের পরিচয় হয়েছিল। তখন তাঁর টাকার প্রয়োজন হয়েছিল। তিনি কী আর করবে, শুধু মাত্র স্বরবর্ণ দিয়েই বাবার কাছে চিঠি বা পত্র লিখেছিল। বর্ণের সাথে ‘কার’ যোগ করলে তা ঠিক এমনটি হয় ‘বাবা টাকা পাঠাও তো পাঠাও, না পাঠাও তো- ভাত অভাবে মরি’। তাঁর চিঠিতে এই ভাবে লিখে ছিল- ‘বব টক পঠও ত পঠও ন পঠও ত ভত অভব মর’। চিঠি নিয়ে সে সময়ের বহু স্মৃতির মতো এখনকার আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি যুগে তেমন স্মৃতি স্মরণ রাখার মতো নেই বললেই চলে। চিঠিপত্র লেখাকে কেন্দ্র করেই বেড়ে গিয়েছিল চিঠি লেখাকে পেশা রূপে নেয়ার প্রবণতা। ডাকঘরের বারান্দায় লাইনের পর লাইন ধরেই সকল শ্রেণীর মানুষের ভিড় লেগেই থাকত। ডাকটিকিট, পোস্টাল অর্ডার, ইনভেলাপ, রেজিস্ট্রিচিঠি, মনিঅর্ডার, পোস্ট কার্ড, বীমা, পার্সেল, জিএমই, ভিপিপি, ইএমএস, স্মারক ডাকটিকিট, ডাক জীবনবীমা, লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক সহ সরকারি কর্মচারীদের বেতন। এমনকি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পও ডাকঘর থেকেই যেন সংগ্রহ করতো। এ গুলো চাহিদাতেই চিঠিপত্রের আদান প্রদানের মাধ্যম খুব দ্রুতগতিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠ ছিল। তখনকার যুগে যে সব মানুষরা লেখাপড়া জানতোই না, ডাকঘরের লেখকেরা সেই ডাকঘরের বারান্দাতে কিংবা সুবিধাজনক স্থানেই চেয়ার-টেবিল বসিয়ে লেখাপড়া না জানা মানুষের পে চিঠিপত্র, মনিঅর্ডার কিংবা মালামাল প্রেরণসংক্রান্ত কাজ করে দিতো। ব্রিটিশ আমল থেকেই শুরু করে দেড় শ’ বছর পর্যন্তই ছিল চিঠিপত্রের রমরমা অবস্থা। গাঁওগেরামের বেশকিছু স্বল্পশিতি লোকজনরাই বিনে পয়সায় চিঠি লিখে দেওয়ার কাজ করতো। অবশ্য তাদের কদরই ছিল আলাদা। তাদের এমন এই মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা যেন নাওয়া-খাওয়ার এতটুকু সময় পেতো না। আর এ যুগের মানুষ হয়েছে স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক। তখনকার দিনে পত্র মিতালীর প্রচলনও ছিল খুব বেশ। প্রতি বছর প্রচুর ছেলে-মেয়ের নাম ঠিকানা সম্বলিত পত্রমিতালী গাইডও পাওয়া যেত বিভিন্ন বুক স্টলে বা পত্রিকার স্টলে। এসব পত্রমিতালীর গাইড থেকেই অনেকে পছন্দের বন্ধু খুঁজে নিত আর শেয়ার করতো জীবনের সুখ-দুঃখের বহুগল্প। একজন অন্য জনকে চিঠি লিখতো অনেক সুন্দর করে। যাতে স্থান পেত বিভিন্ন কবিতার লাইন বা গানের কথা। ব্যবহার হতো বিভিন্ন বর্ণিল চিঠির প্যাডও। হলুদ খামের এক একটি চিঠি যেন একটি গীতি কবিতা।

আবার অনেক দিনের চিঠিগুলি তারা যেন ফেলে দিতো না। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই সাইকেলের স্পোকের মাথায় বড়শির মতো করে তার মধ্যেই যেন গেঁথে রাখতো। সেই চিঠিগুলো তাদের নীরব স্বাক্ষী। বাজারে রাইটিং প্যাডও (চিঠি লেখার প্যাড) পাওয়া যেতো। রঙ-বেরঙের হরেক রকমের প্যাডে প্রিয়জনের নিকটে সুস্পষ্ট হরফে বিভিন্ন কালি বা কলমের মাধ্যমে চিঠি লিখতো। আবার চিঠিটা লিখে, আঠা দিয়ে খামের মুখটা বন্ধ করে তাতে স্ট্যাম্প সেঁটে, বহুদূর হেঁটে গিয়ে যেন ডাকবাক্সে চিঠি ফেলতো।প্রেম ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে তাদের যদি- প্রেমের ব্যর্থতা আসতো, সেক্ষেত্রে চিঠি দিয়ে অনুভূতি গুলোকে প্রকাশ করতো। আবার পরিবারের চিঠিই হোক বা প্রেমের চিঠি হোক না কেন, তা অবশ্যই নান্দনিকতার সৃষ্টিতেই লেখা হয়। কোন কোন চিঠিটা পড়ে হৃদয় জুড়িয়ে যেত। কোন চিঠি পড়ে আনন্দে পুলকিত হতো। আবার কোন চিঠিটা পড়ে চোখের জলও পড়ে। মনের আবেগ-অনুভূতি এবং চাওয়া-পাওয়া, স্বপ্ন-সাধের কথাগুলো লেখাও থাকতো সকল মানুষের চিঠিতে। ডাক পিয়নের প্রতীক্ষায় দিনের পর দিন মানুষেরা থাকতো কখন পিয়ন এসেই কাঙ্খিত চিঠিটি তার হাতে দেবে। চিঠি পেলেই মনের মধ্যে সে কী অনুরণন! যতক্ষণ চিঠি না পড়বে ততক্ষণ মনের শান্তনা খুঁজে পায়না।

বাংলাদেশের মানুষ বিদেশে চিঠি পৌঁছানোর জন্যে যেন বিশেষ ধরনের নীল রঙের এয়ার মেইল পার অ্যাভয়েন ছাপাঙ্কিত খাম ব্যবহার করতো। বলাই যায় নীল কাগজ এবং খামে লেখা চিঠিগুলো ছিল প্রেমের চিঠির প্রতীক। পোস্ট অফিসের এ সব চিঠিকে ঘিরেই এসেছে সভ্যতা।প্রথম স্ট্যাম্প করা চিঠি রানী ভিক্টোরিয়ার রাজত্ব কালে ১৮৪০ সালের দিকেই শুরু হয়। প্রাচীন কাল থেকে ভাব বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। মানুষের মনের ভাব আদান প্রদানে চিঠি দীর্ঘকাল ধরেই রাজত্ব করেছে। এই মাধ্যম যতদিক দিয়ে সফল হয়েছিল, তা ভবিষ্যতে অন্য কোনো মাধ্যমের দ্বারা সফলতা পাবে কিনা সন্দেহ। তাই চিঠির যুগের কথা মনে হলে এখনো যেন মানুষের কানে কানেই ভাসে বাংলা ছায়াছবির জনপ্রিয় গান ‘চিঠি দিও প্রতিদিন, চিঠি দিও/ নইলে থাকতে পারবো না’। প্রেমের এই চিঠি আদান-প্রদানও ছিল এ্যাডভেঞ্চারাস। লুকিয়ে চিঠি লিখে খামে ভরেই ‘পোস্ট অফিসের বাক্সে’ ফেলার পর শুরু হতো ফিরতি চিঠির পাওয়ার প্রহর গোনা। এই ক্ষেত্রে পিয়নরাও ছিল প্রণয় গভীর করে দেওয়ার জন্যে অনুঘটক। গত ৮০ কিংবা ৯০-এর দশকে চিঠিতেই যেন যোগাযোগ মাধ্যম ছিল অন্যতম। চিঠি আসবে প্রেমিক- প্রেমিকার; সেই অপেক্ষাতেই প্রেমিক বা প্রেমিকার বসে থাকা পথের দিকে চেয়ে। চিঠি পাঠাবে ছেলে; মাও যেন অপেক্ষাতে থাকে। স্বামীর চিঠির অপেক্ষাতেই মুখ ভার করে পুকুর পাড়ে স্ত্রীর বসে থাকে, যার কোনো অস্তিত্বই আজ খোঁজে পাওয়া যায় না।

চিঠির যুগে মানুষের ভাষাজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থাকলেও আন্তরিকতার বিন্দুমাত্র কমতিও ছিল না চিঠির পাতায়। বানান ও ভাষাগত ভুলভ্রান্তি যেন চাপা পড়েছিল তাদের আন্তরিক ভালোবাসার আড়ালে। বিখ্যাত কবি, মহাদেব সাহাও লিখেছিল-‘ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তাও…/এটুকু সামান্য দাবি,…চিঠি দিও,… তোমার শাড়ির মতো…/ অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি’। আগেকার রাজা বাদশারা- প্রেমিকার কাছে চিঠি লেখতো। তারা এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থাপন করতে এবং দেশের কূটনৈতিকদের মধ্যে প্রধান সমন্বয় করতে চিঠির মাধ্যমে আদানপ্রদান হতো। তারা স্ব-দেশের খবর দূর-দূরান্তে পৌঁছাতে যেন ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে বা কবুতর কিংবা পাখির পায়ে চিঠি লিখে উড়িয়ে দেয়া হতো। প্রতুত্তরে অন্যান্য দেশের রাজাগণও কবুতরের পায়ে চিঠি লিখে খবর পৌঁছিয়ে দিতো। জানা যায়, সম্রাট শের শাহের সময়েই ঘোড়ায় চড়ে ডাক বিলি প্রথা চালু হয়। কালক্রমেই জমিদারদের এমন প্রথা চালু ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় চিঠি আদান প্রদানের প্রচলন দেখা দিয়ে ছিল। রানাররা পিঠে চিঠি বা সংবাদের বস্তা সহ ১ হাতে হারিকেন অন্য হাতে বর্শা নিয়ে রাতের অন্ধকারে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছুটে যেতো।

বাংলা সাহিত্যেও ’চিঠি’ বেশ জায়গা দখল করে আছে। অবশ্য এক্ষেত্রে বলা যায় যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলো অগ্রগামী। কবিগুরু জীবনে যা চিঠি লিখেছিল তা অন্য কোন কবি ও সাহিত্যিক লিখে ছিল কি না সন্দেহ। আর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পত্র নির্ভর আত্মজৈবনিক উপন্যাস লিখেছিল-বাঁধনহারা। সেখানে তিনি প্রথম স্ত্রী নার্গিসকে যে চিঠি লিখেছিল তা আজও অনন্য। চিঠির এক জায়গায় কবি লিখেছিল-‘তুমি ভুলে যেও না আমি কবি,… আমি আঘাত করলেও ফুল দিয়ে আঘাত করি।… অসুন্দর কুৎসিতের সাধনা আমার নয়। আরও লিখা আছে, ‘আমার আঘাত বর্বরের কাপুরুষের আঘাতের মতো নিষ্ঠুর নয়’। সুতরাং- চিঠি যে শুধু মনের ভাব আদানপ্রদান হতো তা নয় বরং কবি সাহিত্যিকদের চিঠির মধ্যেই ফুটে উঠতো সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা দিক। কবি কালিদাস কর্তৃক প্রেমিকার নিকট প্রেরিত বার্তাতে দূত ছিল মেঘ। নল-দময়ন্তীর পত্রের বাহক হাঁস, আবার রামায়ণের পত্র বাহক- হনুমান, মহাভারতে বাহক- বিদুর ও আনারকলিতে হরিণ দূতিয়ালির কাজে ব্যবহার হতো চিঠি।

চিঠি বা মানি অর্ডার কমে যাওয়াতেই যেন সমগ্র দেশের ডাকঘর ও ডাকবাক্সের সংখ্যাও কমে গেছে। জানা যায় বর্তমানে সারাদেশেই রয়েছে ৯ হাজার ৮৮৬টি ডাকঘর। এর মধ্যে বিভাগীয় ডাকঘরের সংখ্যা- ১ হাজার ৪২৬ ও অবিভাগীয় ডাকঘরের সংখ্যা ৮ হাজার ৪৬০টি যেখানে কর্মরত ৩৯ হাজার ৯০৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। আবার বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৮৬ ও ভাতা প্রাপ্ত বা অবিভাগীয় কর্মচারীর সংখ্যা- ২৩ হাজার ২১জন। অবিভাগীয় ডাক কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি জাতীয় স্কেল দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের যেন তা পুরন হয়নি। তাই আশার প্রদীপ এখন সবার কাছেই নিভু নিভু। কালের পরিক্রমায় মোবাইল ফোন আর বহু যান্ত্রিক যোগাযোগের উন্নতির কারণে যে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই চিঠি লিখন পদ্ধতি। হাতের লেখা চিঠির প্রচলন বর্তমানে না থাকলেও এখনো বহু মানুষ, পুরনো চিঠি পড়ে স্মৃতি রোমান্থন করে, খুঁজে পেতে চায় আপন মানুষ গুলোর হার্দিক স্পর্শ। ব্যক্তিগত অনুভূতি মিশানো চিঠি গুলোতে থাকতো মনের গহীনে লুকানো ভাবাবেগ, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা বা আনন্দ বেদনার সাবলীল প্রকাশ যা অন্য কোন মাধ্যমেই এই ভাবে বলা হয়ে উঠেনা বা ব্যক্ত করা সম্ভব না। পুরনো মানুষের চিঠি লেখা হয় না এখন কারো কাছে। চিঠির যুগ বদলে এসেছে- ইমো, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেইসবুক, টুইটারসহ নানা ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সব শ্রেণীর মানুষ প্রয়োজনের তাগিদেই যেন- ‘মুঠোফোন’ ব্যবহার করছে। তাছাড়াও ইন্টারনেট, চ্যাট, ই-মেইল, এসএমএস কিংবা ফেসবুকের মতোই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর কাগজ-কলমে হাতে লিখে চিঠি আদানপ্রদান করছেনা।
মানুষের আবেগ কেড়ে নিয়েছে এমন প্রযুক্তির ব্যবহার, মানুষও আজকে আন্তরিকতা হারিয়ে অনেকটা যান্ত্রিক হয়ে গেছে। অবশ্যই প্রযুক্তির ভালো দিক যেমন রয়েছে তেমন খারাপ দিকটা লক্ষণীয়। তাই আমাদেরকেই ভাল দিকটা বেছে নিতে হবে। তাহলেই যেন এ দেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী চিঠির সুনাম বিদ্যমান থাকবে। আর দুঃখজনকহলেও সত্য যে বেশিরভাগ ডাকঘরের অবস্থা করুণ। জনবলের অভাবে, ভাঙা চেয়ার ও টেবিল এবং জরাজীর্ণ কাঠের বাক্স ও আলমারি। বর্তমানে সরকারি আসবাবপত্রের বরাদ্দ হলেও তা উপজেলা কিংবা শাখা পর্যায়ের ডাকঘরগুলোতে যেন পৌঁছে না। দেখা যায় যে কোনো কোনো ডাকঘরে যেন প্রয়োজনীয় আলমারি না থাকাতেই অফিসের নথিপত্র যেখানে-সেখানে অরক্ষিত ভাবে ফেলে রাখায় তা নষ্ট হচ্ছে। আহা! সে দিনের সেই চিঠির ভাষা হতো ঠিক এমন- “এলাহী ভরসা”। সম্বোধন করতো এমনভাবে,’পাকজনাবেষু ভাইজান, আমার শত কোটি সালাম গ্রহণ করিবেন। সকলকেই আমার সালাম এবং ভালবাসা পৌঁছাইয়া দিবেন। পর সমাচার এই যে’, ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার চিঠি নিয়ে কতো গান শুনা যেত এখন আর শুনা যায় না। রেডিও টেলিভিশনে শুনা যেত বিদেশ গিয়ে বন্ধু তুমি আমায় ভুইলো না চিঠি দিও পত্র দিও জানাও ঠিকানারে।

লেখক:
নজরুল ইসলাম তোফা: টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে গত ৭দিনে পৃথক অভিযান চালিয়ে ইয়াবা,জাল টাকা ও জালটাকা তৈরির সরঞ্জামসহ ৫জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ককে ম্যানেজ করে গত ২৬.০১.২০ইং রবিবার ভোর ৫টা থেকে বিজিবির সোর্স পরিচয়ধারী ও চোরাচালানীরা সরকারের লক্ষলক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চাঁরাগাঁও,বালিয়াঘাট,টেকেরঘাট,চাঁনপুর ও লাউড়গড় সীমান্ত এলাকা দিয়ে একযোগে শতশত ট্রলি বোঝাই করে ভারত থেকে সারাদিন পাথর ও কাঠ পাচাঁর শুরু করে।

আর রাতের আধারে পাচাঁর করে কয়লা,মদ,গাঁজা,হেরুইন,ইয়াবা,বিড়ি,গরু,ঘোড়া,জাল টাকা ও অস্ত্র। সীমান্তের এই অনিয়ম-দূর্নীতি নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর গত ০২.০২.২০ইং রবিবার সন্ধ্যায় সীমান্তের চাঁনপুর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন রাজাই এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রি করার সময় মাদক ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন (২৮)কে ২শত পিছ ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে সুনামগঞ্জের ডিবি পুলিশ। আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী রাজাই গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে।

অন্যদিকে তাহিরপুর থানার পুলিশ চাঁরাগাঁও সীমান্তের চাঁরাগাঁও বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন চাঁরাগাঁও শুল্কস্টেশনে অভিযান চালিয়ে বিজিবি সোর্স পরিচয়ধারী দীপক মিয়া (৩৬) কে জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরি সরঞ্জামসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এরপর দীপকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার ৩ সহযোগী রুবেল মিয়া(২৮),আব্দুল্লা মিয়া(৩০) ও তানজিল মিয়া(৩৫)কে গ্রেফতার করা হয়।

দীপক মিয়া নিজেকে সুনামগঞ্জ বিজিবি অধিনায়কের সোর্স পরিচয় দিয়ে সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত দাপটের সাথে মাদক,জালটাকা ও অস্ত্র ব্যবসা করার পাশাপাশি চাঁদাবাজিতে লিপ্ত ছিল। কিন্তু বিজিবি কখনই তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। দীপক গ্রেফতার হওয়ার পর তার সহযোগী বিজিবির সোর্স পরিচয়ধারী শফিকুল ইসলাম ভৈরব,মোফাজ্জল,রমজান মিয়া,আব্দুল আলী ভান্ডারী ও সোহেল মিয়া সীমান্তের সব দায়িত্ব পালন করছে বলে জানাগেছে।

এব্যাপারে বড়ছড়া ও চাঁরাগাঁও শুল্কস্টেশনের বৈধ কয়লা ও পাথর ব্যবসায়ীরা জানায়,সোর্স পরিচয়ধারী লাকমা গ্রামের ইয়াবা ব্যবসায়ী ল্যাংড়া বাবুল,বালিয়াঘাটের জিয়াউর রহমান জিয়া,তাজু মিয়া,ইসলাম উদ্দিন,লালঘাটের ইয়াবা কালাম, বড়ছড়ার কামাল মিয়া,রজনীলাইনের ফিরোজ মিয়া,আমির আলী,চাঁনপুরের আবু বক্কর,বিল্লাল মিয়া,জম্মত আলী,বারেকটিলার রফিকুল ইসলাম,লাউড়গড়ের আমিনুল,রফিক মিয়া,জজ মিয়া,নুরু মিয়া,শহিদ মিয়াসহ আরো একাধিক সোর্স পরিচয়ধারীদের নেতৃত্বে চলছে সীমান্ত চোরাচালান ও চাঁদাবাজি। কিন্তু তারা সবাই রয়েছে ধরাছোয়ার বাহিরে। অথচ এসব সোর্স পরিচয়ধারীদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক,কয়লা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলা।

এব্যাপারে তাহিরপুর থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন,আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এম এস জিলানী আখনজী, চুনারুঘাট প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের আমুরোড বাজারস্থ গ্রীন আই একাডেমী প্রাঙ্গনে প্রতিষ্ঠানের ৭ম তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে গ্রীন আই একাডেমী কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল কাদির লস্কর।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন একাডেমীর সভাপতি, উপজেলা তাঁতীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোঃ ফজল মিয়া এবং স ালনায় ছিলেন একাডেমীর সাবেক সভাপতি ও উপজেলা তাঁতীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান বাবুল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা তাঁতীলীগের সভাপতি মোঃ কবির মিয়া খন্দকার, ইউপি সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রউফ, সমাজ সেবক ও অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোঃ শামছুল আলম ফুল মিয়া, একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আরব আলী রিজু, হাজ্বী মোঃ দুলাল আহমেদ, মোঃ বশির আহমেদ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ আব্দুল হান্নান, উপজেলা তাঁতীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ এমরান হোসেন স্বপন সাই, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ সালাউদ্দিন বাবরু ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান শামীম ও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক/শিক্ষীকা, অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

একাডেমীর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ম কে সাজানো হয় এক নান্দনিক সৌন্দর্যে। ছাত্রদের পরিবেশিত মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত ও নৃত্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান তাঁর ভাষণে ছাত্রদেরকে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ক্রীড়াসহ অন্যান্য সহ-শিক্ষামূলক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করে ভবিষ্যতে আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পড়ালেখার পাশাপাশি শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটিয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার আহ্বান জানান।

পরে একাডেমীর পক্ষ হতে আমন্ত্রিত আতিথিবৃন্দ দেরকে সম্মাননা স্বারক ক্রেস্ট তুলে দেন এবং অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দরা বিজয়ী ছাত্র/ছাত্রীদের নিকট পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানের সভাপতির সমাপনি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয়।

শাল্লায় নবযোগদানকৃত চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময়

শাল্লা প্রতিনিধিঃ যতো সাধ ছিল, কিন্তু সাধ্য ততো নেই। মেডিকেল অফিসার, ষ্টাফ নার্সেস অন্যান্য কর্মকর্তা/কর্মচারীদের আবাসন, নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার দাবীতে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সুনামগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ ড. জয়া সেনগুপ্তা এমপি ওই উক্তিটি করেন। এসময় তিনি বলেন, আমরা হাওর পাড়ের মানুষ, আপনারা স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত হয়ে এই দুর্গম অ লে অনেক দূ:খ-কষ্টে আমাদের সেবা করে আসছেন, তাতেই আমরা খুশী।
তবে, আমি অনুরোধ করবো আপনার কেউ প্রশিক্ষণের নাম করে চলে যাবেন না। আপনার সবেমাত্র মানব কল্যাণে যোগদান করেছেন, মানুষের সেবা করে যান, দেখবেন একদিন অপনার অনেক বড় চিকিৎসক হয়েছেন। এই কথাগুলো সাংসদ ড. জয়া সেনগুপ্তা এমপি শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন যোগদানকৃত মেডিকেল অফিসারদের উদ্দেশ্য করে বলেন।
মঙ্গলবার (৪ফেব্রুয়ারী) বিকেল ২টায় শাল্লা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কনফারেন্স রুমে মেডিকেল অফিসার ডা: মির্জা মুর্শেদা’র পরিচালনায় এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংসদ ড. জয়া সেনগুপ্তা এমপি প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
তাছাড়া ওই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মোঃ অলিউল হক, দিরাই আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উক্ত সভায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডা: সালমা বেগম, ডা: সিধু সিংহ, ডা: নির্মল রায় চৌধুরী, ডা: নিরূপম রায়, শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশরাফুল ইসলাম, সিনিয়র স্টাফ নার্স মেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক বিজয়কৃষ্ণ সরকার, প্রধান সহকারি নিশিকান্ত তালুকদার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র বিভিন্ন সমস্যা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: সাদী।
এর আগে তিনি বেলা ১২টায় উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের আঙ্গারুয়া, নওয়াগাঁও, সুখলাইন, হরিনগর, পোড়ারপাড়, শিবপুর, হবিবপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও, আছানপুর, পুটকা, খলাপাড়া, জাতগাঁও, নারকিলা, মার্কুলী, টুকচানপুর, হবিবপুর, নোয়াগাঁও গ্রামে বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনে যুবলীগ নেতা হিমেল সরকারের পরিচালনায় ও বাহাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রামানন্দ দাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংসদ ড. জয়াসেন গুপ্তা। উদ্বোধনের সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মোক্তাদিও হোসেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ, আটগাও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, হবিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল, বাহাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিধান চৌধুরী, শাল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামান চৌধুরী, উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু লেইছ চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টু প্রমুখ।

এম এম সামছুল ইসলাম জুড়ী (মৌলভীবাজার): অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত দেশের ঐতিহ্যবাহী হাকালুকি হাওর। প্রতি বছরের মতো এবারো বিচিত্র রং ও বর্ণের পাখি আসছে এখানে। গরম আবহাওয়ায় খাদ্যের নিশ্চিয়তা পেতে পুরো শীত মৌসুমে এরা উড়ে বেড়াবে হাকালুকি হাওর এলাকায়। আর বসন্তের শুরুতেই তাদের অস্থায়ী ঠিকানা গুটিয়ে নিজ নিজ দেশের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবে এরা। শীত মৌসুম এলেই অতিথি পাখির আগমনের অপেক্ষায় থাকেন পাখি প্রেমিরা। পাখিদের এমন মুখরিত দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য দেখতে অনেককেই দেখা যায় হাওরের আশপাশে। ওরা হাওরপাড়ের হিজন, করচ, বরুন, আড়াং গাছেই গড়ে তোলে তাদের অস্থায়ী নিবাস।

দুপুর বা বিকেলে হাকালুকির কয়েকটি বিলে পাখিদের খাবার নিয়ে ঝগড়া কিংবা খাদ্য সংগ্রহের দৃশ্য এখন নিত্য ব্যাপার। হাওর পাড়ের স্থানীয় অধিবাসীরা জানালেন, ইতোমধ্যে বড় বড় দলে হাওরের পিংলা , চাতলা, পরতি, চৌকিয়া, হাওর খাল, মালাম, গৌড়কুড়ি, নাগুয়া, তুরল, ফুটবিলে বিভিন্ন জাত ও রঙের অতিথি পাখির দেখা পাওয়া যায়। ক’দিন পর পাখিদের কিঁচিরমিচির আওয়াজে হাওরপাড়ের চার পাশ মুখরিত হয়ে উঠবে। ভূকশিমইল, সুজানগর ও জায়ফরনগর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা জানালেন, তাদের প্রতিবেশী অনেকেই এসব বিলে বিভিন্ন কৌশলে ফাঁদ পেতে জাল ও বিষটোপ দিয়ে প্রতিদিন ভোর, বিকেল ও রাতে পাখি ধরছে শিকারিরা। আর এসব পাখি বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় ভোজনরসিকদের কাছে।

এ ছাড়া হাওরের পাশের বাজার কিংবা মৌলভীবাজার, সিলেট বিভাগীয় শহরেও বিক্রি হচ্ছে এসব অতিথি পাখি। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, বিভিন্ন সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে শিকারিরা তাদের সহযোগিদের নিয়ে পাখি শিকার করে বিক্রি করে। বাংলাদেশ হাওর বাঁচাও কৃষক বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি সিরাজ উদ্দিন আহমদ বাদশা জানান, শীতে পাখিগুলো মাত্র আসতে শুরু করেছে।

এ সুযোগে একশ্রেণির অসাধু পাখি শিকারি ওদের নিধনে ফাঁদ পাততে শুরু করেছে। এদের কবল থেকে অতিথি পাখি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের শিগগির কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, আমি নিজে হাকালুকি হাওরে গিয়ে পাখির আনাগুনা দেখতে পেয়েছি। স্বচক্ষে না দেখলে এ অপরুপ সৌন্দর্য দেখা যাবে না। পাখি শিকারিদের ধরতে শীগ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মঙ্গলবার বেসরকারী সংস্থা আশা-মৌলভীবাজার জেলার ৩১টি  ব্রাঞ্চের ব্রাঞ্চ ম্যানেজারদের নিয়ে ষান্মাসিক বিএম সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।সংস্থার জেলা ব্যবস্থাপক তৌফিক উদ্দিন আহম্মদের সভাপতিত্বে মৌলভীবাজারের রেষ্ট ইন হোটেল-এ অনুষ্টিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আশা’র এ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মোঃ নজরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আশা’র সিলেট ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার মোঃ ইসকান্দার মির্জা, এডিশনাল ডিভিশনাল ম্যানেজার মোঃ কামরুল হাসান।প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে ২০১৯ইং সালের জেলার সার্বিক কাজের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন ২০১৯ইং সালের জুলাই হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯৫০০ জনের নিকট ১২৭৯১১৭০০০ টাকা, ঋন বিতরণ করা হয়েছে ৩৫৩৪২ জনের নিকট ১৩৬০৪৫১০০০ টাকা ঋন বিতরন অর্জনের হার ১০৬%। ২০২০ইং সালের জানুয়ারী হতে জুন পর্যন্ত ০৬ মাসে ৩৬৭৯১ জনের নিকট ১৪৮৯০২৬০০০ টাকা ঋণ বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়।

লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রধান অতিথি সকলকে আন্তরিকতা ও চালেঞ্জিং মনোভাব নিয়ে কাজ করতে পরামর্শ দেন। তিনি আরো বলেন, আশা সংস্থার সদস্য বান্ধব ও জন কল্যাণধর্মী কর্মসূচী হিসেবে সদস্যগণকে অবসরজনিত সম্মানী প্রদান, মৃত্যু পরবর্তী বিশেষ সহায়তা এবং স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ অথবা অক্ষমতাজনিত কারণে ঋণ মওকুফ করার মাধ্যমে আশা ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ও বিশ্বে নজির সৃষ্টি করেছে।

এছাড়াও আশা মাইক্রোক্রেডিট এর পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে সামাজিক কার্যক্রম হিসাবে ছাত্র-ছাত্রী ঝরে পড়া রোধ কল্পে প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ, স্যানিটেশন সুবিধা, বিনা মূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা, ফিজিওথেরাপি ক্যাম্প কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এছাড়াও নিজস্ব ক্যাম্পাসে আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, আশা ম্যাটস, চক্ষু হাসপাতাল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জেলায় মোট ১০টি ব্রাঞ্চ ১৫০টি শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ৫২০০ জন হতদরিদ্র পরিবারের ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে।

জেলায় ১টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ মোট ৫টি ব্রাে র স্বাস্থ্য সেবিকার মাধ্যমে ডায়াবেটিস, জ্বর, প্রেগনেন্সী টেস্টসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে।

পাশাপাশি জেলার সকল ব্রাঞ্চ কার্যালয়ের মাধ্যমে সাপ্তাহিক সভা করে স্বাস্থ্য সচেতনতা মূলক বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সদস্যদেরকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। 

এম ওসমান : যশোরের নাভারনে ট্রেনে কেটে ১ অজ্ঞাত নিহত হয়েছে ৷ সোমবার সকাল ১১টায় ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেসে ঘটনাটি ঘটেছে ৷
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাভারনের হাই বাবুর চাতালের পাশের রেল লাইনের উপর দীর্ঘক্ষন ধরে অজ্ঞাত এ যুবক বসে ছিলেন ৷ সকাল ১১টায় ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস তাকে দ্বীখন্ডিত করে চলে যায় ৷
শার্শা থানা পুলিশ সকাল সাড়ে ১১টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করেছে ৷

পাভেল পার্থঃ  চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস এখন এক বৈশ্বিক আতংক। আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু ও দ্রুত সংক্রমণ পরিসংখ্যান বেড়েই চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক সতর্কতা জারি করেছে। এ নিয়ে একদিকে যেমন আতংক জারি আছে, একইভাবে ছড়িয়েছে নানা গুজব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে অনলাইন গণমাধ্যমে এ সম্পর্কিত খবরের পর অনেকেই নানাভাবে বর্ণবাদী বৈষম্যমূলক মন্তব্যও ছড়িয়েছেন। আতংক নয়, সকলের সম্মিলিত চেষ্টাতেই এই ঝুঁকি সামাল দেয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে। বাংলাদেশ নানাভাবে চেষ্টা করছে, বন্দরগুলোতে থার্মাল স্ক্যানিং, চীনফেরতদের কোয়ারেনটাইন থেকে শুরু করে সচেতনতামূলক প্রচারণা। যদিও এইসব প্রচেষ্টা ও মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। নানাদিক থেকে নানাকথা ভাসছে চারপাশে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও সাবধানতাকেই আপাতত সংক্রমণ থেকে বাঁচার প্রাথমিক উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে তর্ক আছে। বলা হচ্ছে মুখে মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি, কিন্তু এর ভেতরেই নির্দয় বাজার মাস্কের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে ফেলেছে। আবার শিশুদের মাপে মাস্ক মিলছেও না, এমনকি শিশুরাতো বড়দের মতো মাস্ক পড়েও থাকতে চায় না। বলা হচ্ছে ভাল করে হাত ধোয়াটা জরুরি, হাত ধুতে তো পানি লাগবে। নগরের বস্তি ও গরিব এলাকায় এই পানির এমনিতেই আকাল। বলা হচ্ছে ভাল করে সময় নিয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুতে, আবার বেশি পানি ধরলে ঠান্ডা লাগবে বলে বাচ্চাদের মানাও করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে অপ্রয়োজনে ঘরের দরজা জানালা না খুলে বন্ধ করে রাখতে, অন্যদিকে বায়ু দূষণের কারণে ঘরের ভেতর বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হচ্ছে। কেউ বলছে প্রতিষেধক তৈরি হয়ে গেছে, কেউ বলছে ২০২১ সন নাগাদ হবে। মধুর সাথে হুইস্কি মিশিয়ে খাওয়ার প্রচার যেমন হয়েছে, আরেকদিকে কেউ গোবর চিকিৎসাও ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি গণমাধ্যমে এসেছে মৃত ও আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা গোপন করছে চীন, তারা গোপনে মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলছে। সন্দেহ নেই তথ্যভারাক্রান্ত এই সময়ে নানাদিকের নানা কথা আমাদের করোনা নিয়ে উদভ্রান্ত করে তুলছে। বিশেষ করে এই দূষিত ঢাকা নগরে আমরা দারুণ সব বিপদজনক সময় সামাল দিয়েই বেঁচে আছি। দূষিত বায়ুর এই নগরে এমনিতেই সারাবছর আমাদের ঠান্ডা, কাশি, জ্বরজারি, শ্বাসকষ্ট লেগেই থাকছে। করোনা ভাইরাস আক্রান্তের প্রাথমিক লক্ষণও এইসব আমাদের নিত্যদিনের জ্বরজারি। চলতি লেখাটি করোনা ভাইরাস নিয়ে কোনো প্রাথমিক স্বাস্থ্যআলাপ গোছের নয়, বিশ্বব্যাপি পরিবেশগত বিপদের সংকটকে বোঝাই এই আলাপের লক্ষ্য। গত প াশ বছরে আমরা বিশ্বব্যাপি নানারকমের বিপদজনক রোগসংক্রমণ ও মহামারি ছড়িয়ে যেতে দেখেছি। এই অবস্থা আরো জটিল হচ্ছে নৃশংস নগরায়ণ ও দুনিয়াজুড়ে প্রতিবেশব্যবস্থা চুরমার হয়ে যাওয়ার ফলে।

২.
গ্রীক শব্দ করোনে মানে মুকুট এবং ল্যাটিন শব্দ করোনা মানে মালা থেকেই করোনা ভাইরাস পরিবারের নামটি এসেছে। ১৯৬০ সনে খুঁজে পাওয়া এই ভাইরাস পরিবারে দুই শতাধিক সদস্য আছে তবে মানুষের ভেতর সংক্রমণের জন্য আগে ছয়টি ভাইরাস চিহ্নিত হয়েছিল। ২০১৯ সনে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া আলোচিত এই ‘নোবেল করোনা ভাইরাস (২০১৯ এনসিওভি)’ হলো মানুষে সংক্রমিত হওয়া করোনার সপ্তম প্রজাতি। কেন বিশ্বে একের পর এক এমনসব জটিল জীবাণু সংক্রমণ ঘটছে? এক সংক্রমণের ধাক্কা সামাল না দিতেই আরেক বিপদ হাজির। সার্স, মার্স, নিপাহ, ইবোলা, হেনিপা, বার্ড ফ্লু ভাইরাসের ভয়াবহতা জারি থাকতেই আবার করোনা। এক চিকুনগুনিয়া আর ডেঙ্গু সামাল দিতে না দিতেই আবার করোনা। কেন প্রকৃতি এমন বিমুখ হচ্ছে এই ‘চকমকে ঝলকানো সভ্যতার’ প্রতি? আজ করোনা ভাইরাস সামাল দেয়া যেমন জরুরি, একইভাবে কেন প্রকৃতিতে এমনসব মারণমুখী জীবাণুরা জাগছে এই প্রশ্নও খোঁজা জরুরি। দুনিয়াজুড়ে এককভাবে প্রজাতি হিসেবে মানুষের লাগাতার অবিচারই আজ মাতৃদুনিয়াকে এমনস দুর্বিষহ বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এথনোসেন্ট্রিক উন্নয়নপ্রক্রিয়া দুনিয়ার অপরাপর প্রাণপ্রজাতির বৈচিত্র্য নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে, বাস্তুসংস্থান ওলটেপাল্টে দিচ্ছে। ভেঙে পড়ছে প্রাণের সাথে প্রাণের নানামুখী নির্ভরশীল সম্পর্ক ও খাদ্যশৃংখল। আর এই পরিবেশগত বিপর্যয়ে একের পর এক জাগছে, নতুনভাবে বিকশিত হচ্ছে নানা জীবাণুরা। প্রজাতি হিসেবে মানুষের টিকে থাকার জন্য যা বিপদজনক।

৩.
দুনিয়া জুড়েই কমছে প্রাণ-প্রজাতির বৈচিত্র্য। নয়াউদারবাদী করপোরেট বাজারনির্ভর উন্নয়ন প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্যের সহাবস্থানকে বারবার অস্বীকার করছে। দশ হাজার বছর আগে হাজার উদ্ভিদ প্রজাতি থেকে মানুষের খাদ্যের জোগান আসতো, আজ মাত্র চারটি শস্যফসল মানুষের খাদ্যবাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ঐসময়ে দুনিয়ায় মানুষ ছিল এক ভাগ আর বন্যপ্রাণ ছিল ৯৯ ভাগ। আজ মানুষ হয়েছে ৩২ ভাগ, গবাদি প্রাণিসম্পদ ৬৭ ভাগ আর বন্যপ্রাণ মাত্র এক ভাগ। দুনিয়াজুড়ে নির্দয়ভাবে উধাও হচ্ছে বন্যপ্রাণের জাত ও পরিসংখ্যান। মানুষ আজ মাছ, পাখি, বাদুড়, বাঘ, হাতি কী মৌমাছি সবাইকে উচ্ছেদ করে নিজের বসতি গড়ছে। প্রকৃতিতে এক মানুষ ছাড়া আরসব প্রাণপ্রজাতির বিচরণস্থল ও নিজেদের আপন বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়েছে। প্রতিবেশবিমুখ এই উন্নয়ন বাহাদুরিই একের পর এক নানা অসুখ ও মহামারী ডেকে আনছে। যার প্রভাব জীবনযাপন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি কী বৃহৎ সামাজিক প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। এক একটা বিপদের মুহূর্তে শুধুমাত্র কিছুটা সময়ের জন্য আমরা ঝুঁকি থেকে বাঁচার জন্য মরিয়া হচ্ছি, কিন্তু বিপদ কিছুটা কমলেই আবার ভুলে যাচ্ছি। নিজেরাই এক একজন প্রবল পরিবেশ-হন্তারক হয়ে ওঠছি। করোনা ভাইরাস বা এমনসব মারণমুখী জীবাণুর বিপদ থেকে বাঁচতে আমাদের চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে প্রশ্ন করতে হবে। প্রাণ-প্রকৃতির আপন গণিতকে বিকশিত হওয়ার পথগুলো উন্মুক্ত ও সচল রাখতে হবে। প্রকৃতি নিজেই ঝুঁকি তৈরি করে এবং সামাল দিতে জানে। প্রকৃতির উপর খবরদারি নয়, নিজেকে আজ এই প্রকৃতির অংশ হিসেবে ভাবতে হবে আমাদের।

৪.
নানা তর্ক আছে কীভাবে এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। উহানের বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাজার থেকে কাঁচাবাজার নানাকিছু। বন্যপ্রাণী কেন বাজারে বিক্রি হবে? বৈশ্বিক প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষা উদ্যোগগুলো তাহলে কী করে? আবার গণমাধ্যমে এমনও প্রকাশ হয়েছে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে অবস্থিত জীবাণু অস্ত্রের গবেষণাগার থেকেই নাকি এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি শোহামের সূত্র উল্লেখ করে গণমাধ্যমের ভাষ্য ‘উহান ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজি’ চীনের প্যাথোজেন লেভেল-৪ মানের এক গুরুত্বপূর্ণ জীবাণু প্রযুক্তি গবেষণাগার। জীবাণু ছড়িয়ে না পড়ার ব্যবস্থা থাকতে হয় এখানে। ১৯৮৫ সনে আন্তর্জাতিক জৈব অস্ত্র কনভেনশনে স্বাক্ষরের পর ১৯৯৩ সনে চীন উহানকে দ্বিতীয় জৈব অস্ত্র গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা দেয়। শোহামের দাবি সার্স ভাইরাসও চীনের জীবাণু-অস্ত্র প্রক্রিয়ার অংশ। করোনার ক্ষেত্রে এমন যদি নাও হয়ে থাকে তবুও বিষয়টি আশংকাজনক যে দুনিয়াজুড়ে এমনসব প্রাণঘাতী গবেষণা চলছে। করোনার সাম্প্রতিক সংক্রমণ থেকে আমাদের এই সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি যে, জীবাণু-অস্ত্রের সকল গবেষণা বিশ্বব্যাপি নিষিদ্ধ করতে হবে। জানা যায়, ১৯১৬ সনে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার যোদ্ধারা ইম্পেরিয়াল রাশিয়ান আর্মির বিরুদ্ধে ফিনল্যান্ডে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু ব্যবহার করে। ১৯৮৪ সনে যুক্তরাষ্ট্রের অরেগনে শ্রী রজনীশের অনুসারীরা সালমোনেলা টাইফিম্যুরিয়াম জীবাণু ছড়িয়ে এলাকার জনসংখ্যাকে নিষ্ক্রিয় করে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল। ঐ হামলায় ৭১৫ জন খাদ্যবিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হলেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ১৯৯৩ সনের জুনে জাপানে অম শিনরিকিও নামের একটি সংগঠন অ্যানথ্রাক্স জীবাণু ছড়িয়ে হামলা করেছিল। ভারতে প্রথম প্রমাণিত জৈবসন্ত্রাসের ঘটনাটি ঘটে ১৯৩৩ সনের ২৬ নভেম্বর। ‘পাকুড় হত্যা মামলা’ নামে পরিচিত এ ঘটনায় পাকুড় রাজবাড়ির ছোটকুমার অমরেন্দ্রচন্দ্র পান্ডের ওপর হাওড়া রেলস্টেশনে প্লেগ জীবাণু ছড়িয়ে দেয়া হয়। এতে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জৈবসন্ত্রাস বা বায়োটেররিজম ঠেকাতে বাংলাদেশের একটি পাবলিক উদ্যোগের কথা জানা যায়। ২০১৬ সনের আগষ্টে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ‘বায়োসেফটি, বায়োসিকিউরিটি, বায়োটেররিজম ও বায়োডিফেন্স’ শীর্ষক এক আর্ন্তজাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কোথায় আমরা টেনে নিয়ে যাচ্ছি এই মাতৃদুনিয়া? কী হবে আমাদের উন্নয়নের নিয়তি? কেন আমরা বারবার প্রকৃতির ব্যাকরণ চুরমার করে আমাদের বিরুদ্ধেই দাঁড় করাচ্ছি কোনো সংক্রমণ, মহামারী বা এমনকি জলবায়ুজনিত ঝুঁকিকে? জীবাণু-অস্ত্র গবেষণার নামে জিনপ্রযুক্তিতে বিকৃত কোনো জীবাণু যদি প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে তার সামাল কী মানুষ দিতে পারবে? তাহলে এই প্রাণঘাতী গবেষণা কী বাণিজ্য কার বিরুদ্ধে কিংবা কার স্বার্থে? মানুষের এই অবাধ্য দখলবাজ অস্থিরতা থামাতে হবে। তা না হলে আজ করোনাকে সামাল দিলেও, আগামীতে আরেক বিপদ আরো জটিল করে তুলবে আমাদের টিকে থাকা।

৫.
আমরা করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি চাই। আমরা চাই না প্রতিদিন প্রাণঘাতী সব জীবাণুরা জেগে ওঠুক। এমনতিই জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে টলছে পৃথিবী। বাড়ছে দূষণ ও তাপদাহ। গলছে বরফ ও হিমবাহ। নানা গবেষণায় প্রমাণ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দুনিয়া জুড়ে জাগছে নানা প্রাণঘাতী জীবাণুরা। সাম্প্রতিক করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে দুনিয়া তাহলে কী শিক্ষা গ্রহণ করবে? আগামীর জন্য কেমন পৃথিবী কল্পনা করবে? এর উত্তর ঘুমিয়ে আছে আমাদের মনস্তত্ত্ব ও চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়ার পরিবেশ-উদাসিনতার ভেতর। করোনা সংক্রমণ সামাল দেয়ার পাশাপাশি আজ বিশৃংখল প্রকৃতির সংকেতগুলো বিশ্বব্যািপ পাঠ করা জরুরি। কেবল চীনের উহান নয়, দুনিয়ার যেকোনো  অঞ্চল থেকেই তা না হলে ছড়িয়ে পড়তে পারে আরেক কোনো বিপদবার্তা। 

লেখকঃ প্রাণ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক গবেষক। 

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc