Thursday 13th of August 2020 02:37:40 AM

টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে তাঁর ওপরে ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সাধারণ মানুষকে ঘিরেই আমার সকল কার্যক্রম। জাতির পিতার কন্যা হিসেবে আমার জীবনেরও একমাত্র লক্ষ্য মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আমার ওপর ভরসা রাখুন। আমি আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই।”

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে গত ১১ বছরে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। আসুন, দলমত–নির্বিশেষে সকলে মিলে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নতুন করে শপথ নিই।’

তবে,সংসদের বাইরে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে জনগণ ভরসা রাখতে পারছে না ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে জাতি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। একটি প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা ক্ষমতা দখল করে আছে। জাতির প্রত্যাশা ছিল সংকট নিরসনের একটি পথ তার (প্রধানমন্ত্রী) বক্তব্যে থাকবে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বা এমন কোনো ইঙ্গিত বা কোনো সংলাপের কথা বলবেন; কিন্তু কোনোটাই তিনি বলেননি। এই সংকট নিরসনের জন্য তিনি কোনো পথ দেখাননি।

ফখরুল বলেন, বক্তব্যের মধ্যে তিনি যে আশা ও ভরসা রাখতে বলেছেন, সেই ভরসা মানুষ কোত্থেকে রাখবে। অর্থনীতি চরমভাবে নিচে নেমে গেছে। যে অর্থনীতির বর্ণনা তিনি দিয়েছেন, তা তার ভাষণের মধ্যে, বাস্তবে ঠিক উল্টোটা। ব্যাংকগুলো ভেঙে পড়ছে। মানুষ আস্থা রাখবে কোথায়?

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের আয় কমে যাচ্ছে, ব্যয় বাড়ছে। প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়েছে। আজ সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় মানুষ কী করে ভরসা রাখবে। বাংলাদেশ এখন একটা রোল মডেল। এই রোল মডেল হচ্ছে দুর্নীতির রোল মডেল, দুঃশাসনের রোল মডেল- এই হচ্ছে বাংলাদেশ। ভাষণটা ওনাদের নিজেদের জন্য। ওনার নিজের আত্মতুষ্টির জন্য। ওনারা জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন, জনগণের ভাষা যে ওনারা বুঝতে পারছেন না, জনগণের আওয়াজ যে তারা শুনতে পারছেন না- এই বক্তব্যটা তারই প্রমাণ।

ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসের জন্য শুধু বিএনপিকে দোষারোপ করেছেন। কিন্ত ভুলে গেছেন ওনারা যে ১৭৩ দিন হরতাল করেছেন। কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে সেই সময় বাসে ১১ জন ব্যক্তিকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। আর অনেক লোক নিহত হয়েছিল। দেশের রাজনীতির যে কালচার ছিল, এখনও আছে, যেটা এখন সরকার করছে। তারা হত্যা করেছে, তুলে নিয়ে গিয়ে মারছেন, নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে, গুম হয়ে যাচ্ছে। এই জিনিসগুলো প্রধানমন্ত্রীর ভাষনে আসেনি।

মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই গ্রেপ্তার হয়েছে ধর্ষক মজনু। বুধবার দুপুরে কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান র‍্যাবের পরিচালক (গণমাধ্যম) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষক মজনুকে গ্রেপ্তারের বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, মামলাটি ক্লুলেস ছিল। মূলত নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করতে আমরা সক্ষম হই।মোবাইলের সূত্র ধরেই শেওড়া স্টেশনের কাছ থেকে মজনুকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মজনু ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছে। বলেছে সে একাই ছিল, নির্যাতনের শিকার ছাত্রীও তেমনই বলেছে। জিজ্ঞাসাবাদে মজনু র‍্যাবকে জানিয়েছে, সে নিরক্ষর।

ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শেওড়া যাওয়ার উদ্দেশে বাসে ওঠেন ঢাবি শিক্ষার্থী। সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুর্মিটোলায় বাস থেকে নামার পর মজনু তাকে পেছন থেকে গলা ঝাপটে ধরে পাশে ঝোপের আড়ালে নিয়ে যায়। সেদিন মজনু অসুস্থতার কারণে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছিল। সেখান থেকে রাস্তায় বের হয়ে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে দেখে। এরপরই সে আলোড়িত হয় ও ধর্ষণ করার জন্য টার্গেট করে।

ঘটনার পর মজনু ঘটনাস্থল থেকে চলে যান রাস্তার ওপারে শেওড়ার রেলস্টেশন এলাকায়। সেখানে অরুণা নামের এক নারীর কাছে মজনু কেড়ে নেওয়া মোবাইল ফোন সেটটি ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন। এরপর মজনু ওই রাতে পাড়ি দেন নরসিংদী জেলায়। নরসিংদী রেলস্টেশন এলাকায় ঘটনার পরদিন সোমবার পুরো দিন কাটিয়ে দেন তিনি। সেখান থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে আবার চলে আসেন শেওড়া রেলক্রসিং এলাকায়। এরপরই ধরা পড়েন মজনু।
মজনুকে ধরার পর বুধবার দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান র‍্যাবের পরিচালক (গণমাধ্যম) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম।কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই ব্রিফিংয়ে লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, মজনু যাঁর কাছে তাঁর মোবাইল ফোনটি বিক্রি করেন, সেই অরুণাকে আটক করা হয়। আটকের পর অরুণা জানান, তিনি কেনার সময় মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। মেরামতের জন্য অরুণা সেটটি খায়রুল নামের একজনের কাছে দিয়েছিলেন। পরে খায়রুলকে আটক করা হয়। অরুণা ও খায়রুলের কাছেই মজনুর শারীরিক গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে মজনুকে আটক করা হয়।

মজনুর মুখের সামনে দুটি দাঁত ভাঙা ছিল। ১২ বছর আগে ট্রেন থেকে পড়ে দাঁত দুটি ভেঙে যায়। ধর্ষণের শিকার মেয়েটির দেওয়া বিবরণের সঙ্গে অরুণা ও খায়রুলের দেওয়া মজনুর চেহারার বিবরণ মিলে যায়। এরই সূত্র ধরে মজনু আটকের জন্য র‍্যাব অভিযান শুরু করে।

র‍্যাবের ব্রিফিংয়ে বলা হয়, মজনুর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা গ্রামে। বেশ কিছু দিন আগে তাঁর স্ত্রী মারা যান। মজনু ঢাকায় বিমানবন্দর, শেওড়া এলাকায় কখনো দিনমজুর, কখনো হকারের কাজ করতেন। তবে এসব পেশার আড়ালে তিনি ছিনতাই, চুরি করতেন। আবার মাদকাসক্তও ছিলেন। এর চেয়েও ভয়ংকর ঘটনাও ঘটাতেন মজনু। সেটি হচ্ছে ধর্ষণ। ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী নারীদের তিনি টার্গেট করতেন। এ ধরনের নারীদের কৌশলে নিয়ে শেওড়া এলাকায় রাখতেন তিনি। এরপর এই নারীদের ধর্ষণ করতেন মজনু। তিনি একজন ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ বা ক্রমিক ধর্ষণকারী।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, মজনু এভাবে পাঁচ-ছয়জনকে ধর্ষণ করেছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মজনু তাঁর এসব অপকর্ম ও হিংস্রতার কথা স্বীকার করেছেন। ধরা পড়ার পরও মজনু নির্বিকার রয়েছেন। র‍্যাবের পরিচালক সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘মজনু বিকৃত মানসিকতার লোক। তাঁকে শনাক্ত করেছেন ধর্ষণের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মেয়েটির সঙ্গে আমি কয়েকবার কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, আমি দুনিয়া সমস্ত মানুষের চেহারা ভুলব। কিন্তু এর চেহারা ভুলব না।

ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) প্রতিবাদে চলা বিক্ষোভের জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্ধারিত অসম সফর বাতিল হয়েছে। তাঁর আগামী শুক্রবার গুয়াহাটিতে ‘খেলো ইন্ডিয়া ইয়ুথ গেমস ২০২০’-র উদ্বোধন করার কথা ছিল। এই মুহূর্তে অসমের পরিস্থিতি ঠিক নয়, বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সিগুলো। এর ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রধানমন্ত্রীর সফর বাতিল করা হয়েছে বলে খবর।

‘খেলো ইন্ডিয়া গেমস’-এর নির্বাহী কর্মকর্তা অবিনাশ যোশি বুধবার বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম।এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে জানানো হয়নি তিনি আসছেন কিনা। তবে আমাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, তিনি আসবেন না।’

এর আগে অসমের ছাত্র সংগঠন ‘আসু’র পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে অসম সফরে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ দেখানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সংসদে পাশ হওয়ার পর এই প্রথম অসম সফরে যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। কিন্তু সংসদে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘সিএএ’ পাস হওয়ার পর থেকেই এর বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলনে নেমেছে ‘আসু’-সহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ-আন্দোলনের জেরে অসমে এরইমধ্যে ১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সেখানে সহিংসতায় কমপক্ষে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আসু-সহ অসমের বিক্ষোভকারীদের  অভিযোগ ‘সিএএ’-এর জেরে ১৯৮৫ সালের ‘অসম চুক্তি’র বিরোধিতা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, অসম চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে আসা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু ‘সিএএ’তে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আসা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের বড় অংশ এদেশের নাগরিকত্ব পেয়ে গেলে অসমের মানুষদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, অধিকার রক্ষিত হবে না বলেও আন্দোলনকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

‘সিএএ’ নিয়ে বিক্ষোভের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি করায় কিছুদিন আগে ফ্রান্স, ব্রিটেন, আমেরিকাসহ একাধিক দেশ পর্যটকদের অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করেছে।

এর আগে অসমে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের প্রস্তাবিত সফরও স্থগিত হয়ে যায়। গত ডিসেম্বরে অসমের গুয়াহাটিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বিরোধী তুমুল বিক্ষোভ-আন্দোলনের জেরে প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদি ও  জাপানের প্ৰধানমন্ত্ৰী শিনজো আবের বৈঠক স্থগিত হয়ে যায়।

প্রস্তাবিত ওই বৈঠকে দুই রাষ্ট্ৰ প্ৰধানের মিলিত হওয়ার কথা ছিল। ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বর ওই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

হাবিবুর রহমান খান,জুড়ী প্রতিনিধিঃ  মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী ফুলতলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা বিশিষ্ট সমাজ সেবক,শিক্ষানুরাগী ফয়াজ আলী আজ বুধবার ভোর ৪টার সময় উনার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন।ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৬০ বছর।তিনি স্ত্রী,সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জননেতা ফয়াজ আলীর মৃত্যুতে তাঁর নিজ এলাকাসহ গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকে ছায়া।
বুধবার বিকাল ৩টার সময় উনার বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাঠে জানাযার নামাজ অনুষ্টিত হয় পরে স্থানীয় কবর স্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

নড়াইলে শেখহাটি ইউনিয়নের শেখহাটী তপনবাগ যুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইল সদরের শেখহাটি ইউনিয়নের শেখহাটী তপনবাগ যুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বাবর আলী মোল্যা ও সদ্য অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শক্তিপদ হালদারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
জানা গেছে বর্তমান সভাপতি ও সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি বাবর আলী ও তার সহযোগি এ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য রুহুল এবং প্রধান শিক্ষক প্রভাব খাটিয়ে সুকৌশলে বিদ্যালয় হতে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনের ছাদ ভাঙ্গার পর টেন্ডার ছাড়াই ছাদের পুরানো রড বিক্রি করে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ২০১৯ইং সালে শতবর্ষী একটি বড় আম গাছ ও কয়েকটি মেহগনি গাছ নিয়ম বহির্ভুত ভাবে বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষাধিক টাকা। টেন্ডারের মাধ্যমে বিদ্যালয় চত্বর হতে ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা গাছ বিক্রি করেছেন। সেই টাকার কোন হিসেব দেননি।

আবু জাফর মোঃ মুরাদ হোসেনকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য করার জন্য ১০ হাজার টাকা নেন সাবেক প্রধান শিক্ষক শক্তি প্রসাদ হালদার ও সভাপতি বাবর আলী মোল্যা। কিন্তু তারা তাকে কোন রশিদ দেননি। ওই টাকা বিদ্যালয় ফান্ডে জমা করেননি। দুই কিস্তিতে টিউশন ফিস’র ৮৭ হাজার ৫শ টাকা ব্যাংক হতে উত্তোলন করেছেন। ওই টাকা শিক্ষকদের প্রাপ্য হলেও তা শিক্ষকদের দেননি। সাবেক প্রধান শিক্ষক শক্তি প্রসাদ হালদার ও সভাপতি বাবর আলী ৫জন শিক্ষক এবং ১জন গ্রন্থাগারিক ও ১ জন এমএলএসএস নিয়োগ দিয়ে অনুদানের নামে ১৬ লক্ষ ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কল্পে। কিন্তু দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন করেননি। সভাপতির আতিœয় হওয়ায় শিক্ষিকা ফারজানা আক্তার বিদ্যালয়ে না এসেও কয়েকদিন পর এসে হাজিরা খাতায় সাক্ষর করেন।

এমনকি একাধারে ৭৫ দিন অনুপস্থিত থেকে সব সাক্ষর এক সাথে করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন সততা ষ্টোর স্থাপনের জন্য ৩০ হাজার টাকা দেয়। ওই টাকা হতেও ২১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন সাবেক প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সভাপতি ১২ হাজার টাকা বিদ্যালয় হতে নিলেও কোন উন্নয়ন করেননি। ২০১৯ সালের ২০ জুন মোবাইলের সিম ক্রয়ের নামে ভাউচার দিয়ে ৩হাজার টাকা নিয়েছেন। বাস্তবে কোন সিম ক্রয় করেননি। শিক্ষা সফরের নামে প্রায় ১৮ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
বর্তমান বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ) আ স ম ফারুক হোসেন জানান, গত ডিসেম্বর মাসের ৫ তারিখে প্রধান শিক্ষক স্যার অবসর গ্রহন করলেও আনুষ্ঠানিক ভাবে তাকে কোন দায়িত্ব দিয়ে যান নাই, শুধু বিদ্যালয়ের মোবাইলটা দিয়ে গেছেন, এ ব্যাপারে সভাপতির সাহেবকে জানালেও তিনি কোন ব্যাবস্থা নেন নাই। প্রধান শিক্ষক স্যারের কাছে দায়িত্ব চাইলে তিনি বলেন , আমার সময় কেউ আমাকে দায়িত্ব বুঝে দেই নাই, আমিও দায়িত্ব বুঝে দিতে পারব না। প্রধান শিক্ষক স্যার বর্তমান সভাপতির সাথে যোগ সাজসে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন কাজসহ বিভিন্ন নামে মিথ্যা বিল ,ভাউচার করে বিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষতি করে গেছেন। দুর্নীতি দমন থেকে সততা ষ্টোরের জন্য প্রাপ্ত ৩০ হাজার টাকার মাত্র ৮-৯ হাজার টাকা বিদ্যালয় বুঝে পেয়েছে, বাকী টাকা হেড মাষ্টার ও সভাপতি ভাগ করে নেছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য কাগজে আমার কাছ থেকে জোর করে সই নেয়ার চেষ্টা করছে। আমি সই দিইনি।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মোঃ রুহুল, সভাপতি ও তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজে প্রধান শিক্ষক হবার জন্য এবং বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করার জন্য এ সব অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিদ্যালয়ের সকল হিসাব পত্র ঠিক আছে, এখানো কোন দুর্নীতি অনিয়ম হয় নাই, এলাকার কিছু লোক বিদ্যালয়ের পড়াশুনার পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এসব করছে।
এ ব্যাপারে অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শক্তিপদ হালদার বলেন, তার নামের সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয় বলেন আগের প্রধান শিক্ষকরা যে নিয়মে কাজ করেছে ,আমিই তাই করেছি। আমিও কারও কাছ থেকে ক্ষমতা বুঝে নিইনি ,আমি কাউকে বুঝে দিতে পারবো না।
বিদ্যালয়ের সভাপতি বাবর আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
শেখহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ বুলবুল আহম্মেদসহ ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্যরা বলেন,্ বিদ্যালয়ের গাছ কাটা,গাছ বিক্রি, রড বিক্রিসহ বিদ্যালয়ের সকল আয়ের উৎসের হিসাব আমরা চাই, এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বর্তমান কমিটির সভাপতি বাবর আলী মোল্যা ও সদ্য অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শক্তিপদ হালদারের দুর্নীতির আইনানুগ সঠিক তদন্ত দাবি করছি। বিদ্যালয়ে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে সে যেই হোক না কেন তার বিচার দবি করছি।
সভাপতি ও সাবেক প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি অনিয়মের কারনে বিদ্যালয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। শ্রেণিপাঠ কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। বর্তমানেও প্রায় ৭শ শিক্ষার্থী রয়েছে। দিন দিন প্রতিষ্ঠানের ফলাফল নি¤œগামি হচ্ছে। সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিযে আনার দাবি জানিয়েছেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc