Friday 22nd of November 2019 10:44:55 AM

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। বাংলাদেশ সময় রোববার দুপুর ২ টা ১৫ মিনিটে (নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রাত ৩ টায়) তিনি ইন্তেকাল করেন।

সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এক ফেসবুক পোস্টে তার পিতার ইন্তেকালের খবর জানিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খানও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কয়েক বছর ধরে খোকা নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। কয়েক দিন আগে শারীরিক অবস্থা আর অবনতি ঘটে। চিকিৎসকরা তাকে ক্যান্সারের চিকিৎসা দেয়া বন্ধ করে দেন। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে কৃত্রিম উপায়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ফেসবুক পোস্টে তার পিতার ইন্তেকালের খবর জানিয়েছেন।

সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে পা রাখেন সাদেক হোসেন খোকা। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন ও দলের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি হন। ১৯৯১ সালে সূত্রাপুর-কোতোয়ালি আসন থেকে খোকা প্রথমবার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন এবং পরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হন।

২০০১ সালে একই আসন থেকে তিনি এমপি নির্বাচিত হন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০০২ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি প্রায় নয় বছর ধরে ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের কয়েকদিন আগে সাবেক মন্ত্রী খোকাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১৪ সালের ১৪ মে মাসে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যান। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময়কালে দেশে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা হয়। এর কয়েকটিতে তাকে সাজাও দেয়া হয়েছে। সুত্রঃ পার্সটুডে

জুড়ী প্রতিনিধি: জুড়ী উপজেলার দক্ষিণ জাঙ্গিরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে একাধিক ব্যবসায়ীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার অত্যাচারে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। স্কুলের সম্মুখে মেসার্স দেওয়ান ট্রেডার্স এর স্বত্ত্বাধীকারী দেওয়ান ফজলুল হক, মেসার্স মর্তুজা এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধীকারী মোঃ মর্তুজ আলী প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার দ্বারা লাি ত হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া ক্ষমতাসীন দলের নেতা। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি মানুষের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। অনেকেই তার ভয়ে সদা থাকেন তটস্থ।

উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্যের দাপট খাটিয়ে তিনি সর্বত্র দম্ভোক্তি করে বেড়ান। তার স্কুলের সম্মুখে ব্যবসায়ী দোকানদারদের সাথে করেন অসৌজন্যমূলক আচরণ। সম্প্রতি দুই ব্যবসায়ীসহ অন্য ব্যবসায়ীরা তার অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ করলে ওই শিক্ষক তাদের হুমকি দিয়ে বলেন, দাঁড়ান দেখাচ্ছি। উজ্জল ভূঁইয়া আরো কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মীকে তাৎক্ষণিক উত্তেজিত হয়ে ওই শিক্ষক তাদেরকে গালাগালিসহ হুমকী দিয়ে বলেন, এখানে ব্যবসা করতে হলে আমার কথামতো চলতে হবে। তিনি তার দলীয় ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ব্যবসায়ীদেরকে নানা ভাবে হয়রানি করছেন। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী ফজলুল হক, মর্তুজ আলীসহ অনেকেই জানান, তারা তাদের দোকানের সামনে মালামাল রাখতে গেলেই সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বাঁধা দেন।

এছাড়া পণ্যবাহী গাড়ী এসে দোকানের সামনে দাঁড়ানো মাত্রই সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া কোন কারণ ছাড়াই গাড়ীর চালক এবং ব্যবসায়ীদের অকথ্য ভাষায় গালীগালাজ করেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে, শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো জয় পাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আলহাজ্জ মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার এই জয়ের পর এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি দলের সব খোলোয়াড়, কোচ, ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। ভবিষ্যতেও জয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অপর এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাপুটে এই জয়ের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সব সদস্য, কোচ, ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান।

রোববার দিল্লিতে ভারতের ১৪৮ রানের জবাবে মুশফিক-সৌম্যর দারুণ ব্যাটিংয়ে তিন বল থাকতে ৭ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় টাইগাররা। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর ছক্কায় শেষ হাসি হাসে বাংলাদেশ। ম্যাচে মুশফিক অপরাজিত ৬০ রান করেন। আর ৩৫ বলে ৩৯ রান করেন সৌম্য সরকার। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম জয় টাইগারদের।

সাকিব-তামিমকে ছাড়াই ভারতকে হারিয়ে দিয়েছে টাইগাররা। এমন জয়ের পর দলের এ দুই অপরিহার্য তারকাকে স্মরণ করে সৌম্য বলেন, তামিম ও সাকিব আমাদের অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। অবশ্যই তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন দলে। এ জয় তাদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৭ উইকেটের দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এটি টি-টুয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশে প্রথম জয়। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে ৮ বারের ভারতের মোকাবেলা করলেও একবারও জিততে পারেনি টাইগাররা।

আজ (রোববার) দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে বোলিং করে ভারতকে  ১৪৮ রানে আটকে দেয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। জবাবে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ভর করে ১৯.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই লিটন দাস (৭) পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। লিটন দাসের উইকেট নেন দিপক চাহার। এরপর অভিষিক্ত নাইম শেখ আর সৌম্য সরকার মিলে দলের হাল ধরেন। এই দুই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মিলে টাইগারদের প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন। দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৪৬ রানের জুটি। ইনিংসের ৮ম ওভারের শেষ বলে দলীয় ৫৪ রানের মাথায় যুজবেন্দ্রা চাহালের প্রথম শিকার হয়ে ফিরে যান নাইম শেখ। আউট হয়ে ফিরে যাওয়ার আগে ২৮ বলে ২৬ রান করেন নাইম।

রোহিত শর্মার উইকেট উদযাপন করেন শফিউল ইসলাম

নাইম শেখ আউট হয়ে যাওয়ার পর মুশফিকের সঙ্গে ৬০ রানের জুটি গড়েন সৌম্য সরকার। তবে ইনিংসের ১৭তম ওভারের শেষ বলে খলিল আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান সৌম্য। আউট হওয়ার আগে ৩৫ বলে ৩৯ রান করেন সৌম্য। এরপর অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের পথে ধরে রাখেন মুশফিকুর রহিম। ইনিংসের ১৯তম ওভারে টাইগারদের প্রয়োজন তখনও ২২ রান। প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে রিয়াদকে। এরপরের বলে দৌড়ে প্রান্ত বদল করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। শেষ চার বলেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন মুশফিক। শেষ চার বলে খলিল আহমেদকে মারা চারটি বাউন্ডারিতে শেষ ওভারে টাইগারদের প্রয়োজন মাত্র ৪ রান।

শেষ ওভারে বল করতে আসেন শিভম দুবে। মাহমুদুল্লাহ স্ট্রাইকে থেকে প্রথম বলটি ডট দেন, এরপরের বলে ডাবল নিলে টাইগারদের দরকার তখন চার বলে মাত্র ২ রান। পরের বলে ওয়াইড দিলে স্কোর লেভেল হয়ে যায় এবং ২০তম ওভারের তৃতীয় বলে ওভার বাউন্ডারি মেরে দলকে জয় এনে দেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

৪৩ বলে অপরাজিত ৬০ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন মুশফিকুর রহিম

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে ব্যক্তিগত ৯ রানে এলবির ফাঁদে পড়ে আউট হন ভারতের ওপেনার রোহিত শর্মা। এরপর দলীয় ৩৬ রানের মাথায় আমিনুল ইসলামের বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ তুলে দেন ১৭ বলে ১৫ রান করা লোকেশ রাহুল। দলীয় ৭০ রানের মাথায় আবারও আঘাত হানেন লেগ স্পিনার আমিনুল। এবার ফিরিয়ে দেন শ্রেয়ার্স আইয়ারকে। ১৩ বলে এক চার আর দুই ছক্কায় ২২ রান করে মোহাম্মদ নাঈমের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

ম্যাচের ১৫তম ওভারে রানআউট হন ওপেনার শিখর ধাওয়ান। বিদায়ের আগে এই ওপেনার ৪২ বলে করেন ৪১ রান। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার আর একটি ছক্কার মার। দলীয় ৯৫ রানের মাথায় ভারত চতুর্থ উইকেট হারায়। ১০২ রানের মাথায় বিদায় নেন অভিষিক্ত শিভাম দুবে (১)। আফিফ হোসেনের বলে তারই হাতে ক্যাচ তুলে দেন এই অভিষিক্ত। ২৬ বলে ২৭ রান করা রিশব পান্থকে ফেরান শফিউল ইসলাম। ক্রুনাল পান্ডিয়া ৮ বলে ১৫ এবং ওয়াশিংটন সুন্দর ৫ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে শফিউল ইসলাম ৪ ওভারে ৩৬ রান খরচায় কোনো উইকেট পাননি। মোস্তাফিজ ২ ওভারে ১৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন। ৩ ওভারে আমিনুল ২২ রান দিয়ে তুলে নেন দুটি উইকেট। সৌম্য সরকার ২ ওভারে ১৬, মোসাদ্দেক ১ ওভারে ৮, মাহমুদউল্লাহ ১ ওভারে ১০ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। আফিফ হোসেন ৩ ওভারে ১১ রান দিয়ে পান একটি উইকেট।

৪৩ বলে অপরাজিত ৬০ রান করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পুরস্কার পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম।পার্সটুডে

এম এস জিলানী আখনজী,চুনারুঘাট থেকে: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে উৎপাদিত বিষমুক্ত নিরাপদ মাল্টা বাগান করার প্রতি ঝোঁক বেড়েছে এখানকার কৃষকদের। রোগ-বালাই কম থাকায় উৎপাদন ও লাভ বেশি, আর এসব করণেই দিন দিন এ অ লে মাল্টা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গেল বেশ কয়েক বছর আগেও এ অ লে হাতেগোনা কয়েকটি মাল্টা বাগান ছিল। তবে মর্তমানে এর চিত্রটা পাল্টে গেছে। এ পর্যন্ত চুনারুঘাট উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে মাল্টা আবাদ হয়েছে; এর মধ্যে ২০১৭ইং সালে স্থাপিত ৫০ শতকের একটি বাগানেই এ বছর ৪০মণ মাল্টা আবাদ হয়েছে।

আগামী বছর ১০ হেক্টর জমিতে কয়েকগুন বেশি মাল্টা ফলনের আশাবাদী। এ বছরে উৎপাদিত মাল্টার খুছরা বাজার মূল্য প্রায় ২লক্ষ টাকা হবে। আগামী বছর কয়েকগুণ বেশি মাল্টা উৎপাদনের আশা করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। চুনারুঘাট উপজেলার ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়নের ময়নাবাদ গ্রামের চন্দনা ব্লকের কৃষক শাহনুর রশিদ চৌধুরী তিন বছর আগে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে ২শ ২০টি বারি মাল্টা-১ জাতের কলমের চারা নিয়ে ৫০ শতাংশ জমিতে রোপন করেন। শাহনুর বলেন, ‘প্রথম বছর তেমন মাল্টা না হলেও দ্বিতীয় বছর ৫০ হাজারেরও বেশি টাকার মাল্টা বিক্রি করি।

এ মৌসুমে ২শ ২০টি মাল্টা গাছে প্রচুর পরিমানের মাল্টা আসে। বর্তমান বাজারে চীন থেকে আমদানি করা মাল্টা ২শ’ থেকে ২শ’ ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ ওই মাল্টায় তেমন রসালো বা সুস্বাদু না। চুনারুঘাটে উৎপাদিত মাল্টা যেমন রসালো, তেমন সুস্বাদুও। তিন থেকে চারটি মাল্টায় এক কেজি ওজন হয়। সর্বনি¤œ ১শ’ থেকে ১শ’ ২০ টাকা কেজি দরে মাল্টা বিক্রি করলেও আমার এবছর দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকার মাল্টা বিক্রি করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চীনা থেকে আমদানি করা মাল্টায় ফরমালিন থাকে। আর আমাদের পরিশ্রমে উৎপাদিত মাল্টা সম্পূর্ণ বিষমুক্ত নিরাপদ ফল। গতবছর আমি এ বাগান থেকে বিষমুক্ত নিরাপদ কমলাও বিক্রি করেছি। এবছরও একইভাবে বাগান থেকে বিষমুক্ত মাল্টা ও কমলা বিক্রি করছি। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন যায়গা থেকে অনেকেই মাল্টা নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন। আমি আশা করছি, আগামী বছরও আমার বাগানে তিনগুণ মাল্টা উৎপাদিত হবে। আর এতে করে আমার লাভের অংশও বেড়ে যাবে।’

শাহানুর আরো জানান, তার বাগানের উৎপাদিত মাল্টা বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষিরা এসে দেখে যান। ইতিমধ্যে তার দেখাদেখি এলাকার অনেকেই মাল্টা গাছ লাগিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এভাবে আমাদের দেখাদেখি মাল্টা চাষে ঝোঁক বাড়ছে অন্যদেরও। এরই ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে চুনারুঘাট থেকে মাল্টা বিদেশসহ সারা বিশ্বে পাঠানো সম্ভব হবে।’

কৃষি মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আরিফুর রহমান অপু বলেন, সরকার কৃষি খ্যাতে বিভিন্ন উন্নয়নের যে কার্যক্রমগুলি নিচ্ছে, তা মূলত কৃষকদের অধিক লাভের জন্যই। এ মাল্টা বাগানটি মূলত ধানের জমি ছিল, এখানে ধান চাষ করা যেত। কিন্তু কৃষক উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে মাল্টার বাগান করেছে।

তিনি বলেন, প্রতি ৫০ শাতাংশ জমিতে ২’শর মত মাল্টা গাছ লাগানো যেতে পারে। হাড়াই বছর বয়সী গাছগুলিতে যে পরিমাণের মাল্টা উৎপাদন হয়েছে তা ধানের চেয়ে ৪০গুনের বেশি এবং এখানে কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে বিষমুক্ত মাল্টা উৎপাদন এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, নিরাপ এবং পুষ্টিকর খাদ্য বাস্তবায়ন করতে হলে বিষমুক্ত খাদ্যের বিকল্প নেই।

ইতিমধ্যে আমাদের দেশে পুষ্টিকর খাদ্য ধান ও আলু উৎপাদনে আমরা সক্ষমতা অর্জন করেছি। এখন আমাদেরকে পুষ্টিকর ফল ও অন্যান্য প্রটিন সমৃদ্ধ খাদ্যের দিকে নজর দিতে হবে। একইভাবে এটা যদি অর্তনৈতিক উন্নতির দিকে লাভবান হয় এবং আমরা যদি কৃষকদেরকে বুঝাতে সক্ষম হতে পারি তাহলেই এ পরিবর্তনটা করা সম্ভব হবে। তিনি এ বাগানটি পরিদর্শন করতে এসে কৃষকের ফলানো উৎপাদিত ফসল দেখে খুবই আনন্দি হন এবং তিনি আশা করেন অন্যান্য কৃষকরাও যাতে এ রকম মাল্টা বাগান করতে আগ্রহী হন।

শুধু কৃষকই না যাদের বাড়ীর পাশে একটুকানি জমি আছে তারাও এই মাল্টা ও অন্যান্য ফলের বাগান লাগাতে পারেন এবং এতে করে অনেক লাভবানও হবেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অ লের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ শাহ জাহান বলেন, সিলেট অ লে শষ্যের নিবিরতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প থেকে আমরা প্রতি বছর সিলেট বিভাগের চারটি জেলায় মাল্টা বাগানের আবাদ শুরু করেছি। তিনি বলেন, ময়নাবাদ গ্রামের শাহনুরের বাগানটি ৩য় বছর, এখানে এবছর প্রচুর পরিমানে গাছে ফল আসছে।

এক সময় আমরা জানতাম যে, শুধু এ এলাকায় কমলা চাষ হয়। কিন্তু এখন এর বিপরীতে সিলেট অ লের চারটি জেলাতেই মাল্টার আবাদ খুবই ভালো হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হবিগঞ্জ জেলার উপ পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের দেশ যেহেতু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এ জন্য সরকার খাদ্য শষ্যের পরিবর্তে উচ্চ মূল্যের ফসল যেগুলো আছে যেমন, মাল্টা, কমলা, তরমুজ ও বার মাসের তরমুজসহ অন্যান্য ফল সমূহ উৎপাদনের দিকে নজর দিচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা আমাদের একটি প্রজেক্ট ছিল শষ্যের নিবিরতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প সিলেট অ ল। সে প্রজেক্টের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ জমির উপর আমরা একটি মাল্টা প্রদর্শনী দেই।

তিনি বলেন এখন ঐ মাল্টা বাগানের গাছগুলোতে বিপুল পরিমানের ফসল আসছে। তিনি আশা করছেন এ বাগানের সফলতা দেখে আশপাশের সকল কৃষকও অনুপ্রাণীত হবেন এবং আমাদের চুনারুঘাট উপজেলাসহ হবিগঞ্জ জেলায় মাল্টাসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনের সফলতা নিয়ে আসবে। উপজেলা কৃষি অফিসার জালাল উদ্দিন সরকার বলেন, হবিগঞ্জ জেলার মধ্যে মাল্টা উৎপাদনে চুনারুঘাট এগিয়ে। এখানে এবছর ১০ হেক্টর জমিতে ৪০মণ মাল্টা উৎপাদন হয়েছে। মাল্টা চাষে ১ম অবস্থানে চুনারুঘাট উপজেলা। তিনি আরও জানান, একটি বাগানে ৫০শতক জমিতে বছরে তিন বার ধান চাষ করলে লাভ হতো ১৪ হাজার টাকা।

কিন্তু একই পরিমাণ জমিতে মাল্টা চাষ করলে লাভ পাওয়া যাবে ১লক্ষ ৫০হাজার টাকা।’ ১০ বছরে একই পরিমাণ জমিতে ধান চাষ করলে আয় হবে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। যেখানে একই পরিমাণের জমিতে মাল্টা চাষ করলে ১০ বছরে আয় হবে ৫৪ লক্ষ টাকা। ধান চাষ থেকে মাল্টা চাষে লাভবান হওয়া যাবে ১০ বছরে ৪০ গুণ বেশি। মাল্টায় তেমন কোনও রোগ-বালাই নেই বলেও জানান তিনি। এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশী কমলা গাছের সঙ্গে কলম করে বারি-১ জাতের মাল্টা গাছ লাগানো যায়। দুইবছর পরিচর্যার পর ওই গাছে বিপুল পরিমাণ মাল্টা ধরে। এ কারণে বাড়ছে মাল্টার বাগান। আমরা আশা করছি আগামী বছর দ্বিগুণ জমিতে মাল্টা উৎপাদন হবে।’

তিনি আরও বলেন, সিলেট অ লে শষ্যের নিবিরতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় চারা, স্যার, বেড়া ও আনুষাঙ্গিকসহ অন্যান্য খরছ কৃষকদেরকে প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন আগামী বছর ৭০থেকে ৮০মণ মাল্টা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা হবে। চুনারুঘাটে এরকম আরও ১শ’ টিরও বেশি মাল্টা বাগান রয়েছে।

নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার সকাল ১০টায় থানা বিএনপি’র অস্থায়ী কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংগঠনকে শক্তিশালী ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।

এ সময় থানা বিএনপি’র নবগঠিত আহ্বায়ক আব্দুল জলিল চকলেট তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘চিকিৎসার অবহেলায় জেলখানায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু হলে দেশের জনগণ বর্তমান সরকারকে ছেড়ে দেবে না। এজন্য বর্তমান সরকারই দায়ী থাকবে। ক্ষমতাসীন সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে না। তাই দলকে তৃণমূল পর্যায় থেকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলে জোরদার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে নেত্রীকে মুক্ত করতে হবে।

থানা বিএনপি’র যুগ্ন আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান সরদারের স ালনায় নবগঠিত আহ্বায়ক আব্দুল চলিল চকলেটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, যুগ্ন আহ্বায়ক ফৌজদার মো. শফিকুল ইসলাম বেলাল, এসএম রেজাউল ইসলাম রেজু, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, তসলিম উদ্দিন, এড, মোজাহারুল হক, শেখ মঞ্জুরুল আলম, এসএম ফারুক বখ্ত, মোয়াজ্জেম হোসেন চাঁন্দু, আব্দুল হাকিম, আব্দুল করিম সরদার, সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, রেজা তালুকদার, মামুনুর রশিদ হিরু, আসমাইল মাস্টার, প্রকৌশলী আতিকুর রহমান রতন মোল্লা, মতি মেম্বার, আব্দুল কাদের মেম্বার, আসদুজ্জামান আসাদ, আবু জাহিদ ডালিম, রফিকুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা লাভলু, শহিদুর রহমান চ ল, আলমগীর হোসেন, হামিদুল হক, এড. আবু বেলাল জুয়েল, শাহজাহান আলী, সাইফুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, সাইদ মেম্বার, মাহবুবুল করিম রকেট, শাহিন আলম, আবুল কালাম আজাদ পারভেজ, নিয়ামতুল্লাহ বাবু, সাজ্জাদ হোসেন তোতা, সুরুজ মেম্বার, ডা. মোফাজ্জল হোসেন, আনোয়ার তরফদার, আনোয়ার হোসেন, মেরিনা বেগম, জাহিদুল ইসলাম, এসপি ও সাইদুর রহমান প্রমূখ।

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে জেল হত্যা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে রবিবার জেলা আওয়ামীলীগ ও জেলা ছাত্রলীগ আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করে। জেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে এ উপলক্ষে আলোচনাসভা ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডঃ সুবাস চন্দ্র বোসের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ সোহরাব হোসেন বিশ^াস, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডঃ ফজলুর রহমান জিন্নাহ, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক অ্যাডঃ সৈয়দ মোহাম্মদ আলী, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডঃ অচিন চক্রবর্ত্তি,সাধারন সম্পাদক অ্যাডঃ ওমর ফারুক, লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুন্সী আলাউদ্দিন, সাধারন সম্পাদক সৈয়দ মশিয়ুর রহমান প্রমূখ। অপরদিকে জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে শহরের বঙ্গবন্ধু মে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চ ল শহারিয়ার মীম।

সভায় সাধারন সম্পাদক রকিবুজ্জামান পলাশের পরিচালনায় জেলা আওয়ামীলীগ ,ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। পরে দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় আওয়ামীরীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজার, ষ্টেশন রোড ও তার আশপাশের এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৩ টি প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৮ শত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (০৩ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ভোক্তা অধিকার আইনের বিভিন্ন ধারায় এ জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: আল-আমিন এর নেতৃত্বে অভিযানে সহযোগিতা করেন কমলগঞ্জ থানার পুলিশ ফোর্স । অভিযানকালে ভানুগাছ বাজারে অবস্থিত ইমান আলির সবজির দোকানকে ১ হাজার টাকা, ভাই ভাই ষ্টোরকে ৮ শত টাকা, ষ্টেশন রোডে অবস্থিত লোকনাথ ষ্টোরকে ১ হাজার টাকাসহ মোট ২ হাজার ৮ শত টাকা জরিমানা আরোপ ও তা আদায় করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রনালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: আল-আমিন উক্ত অভিযানে ওজনে কম দেওয়া, মূল্য তালিকা না রাখা, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রয় করাসহ বিভিন্ন অপরাধে এসকল জরিমানা করেন।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ক্রসফায়ারের হুমকি বিষয়ে অস্বীকার করে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আতিকুর রহমান বলেন,আমার বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের হুমকি অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট আর পরিকল্পিত। অসত্য উদ্দেশ্যে হাসিল করতেই এই অভিযোগ। আমি কোন সময়ই কাউকে হুমকি ত দুরের কথা কোন দিন আমার জানা মতে কারো সাথেই খারাপ ব্যবহার করেনি। ঐ লোকটিকে ত আমি চিনিই না। আমি আমার কাজ রেখে কেন তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দিব। আমার কাজ আইনশৃংখলা রক্ষা করে জনগনের নিরাপত্তাসহ আইনের বাস্থবায়ন করা। তিনি একদিন ফোন দিয়েছিল তার পর কথা হয়। আর আমি চাকরি করতে এসে কেন কাউকে হুমকি দিতে যাব। সব চেয়ে বড় কথা হল আমি থাকে ক্রসফায়ারে হুমকি দেয় নি মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

এদিকে সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা,তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করায় পুলিশের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাহিরপুর উপজেলা বাস্তুহারা লীগের সাধারণ সম্পাদক (২০০৯সালে গঠিত কমিটি) মিজানুর রহমান। তিনি তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের লাকমা নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল মিয়ার ছেলে।
মিজানুর রহমান বলেন,আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সে কারণে এলাকা ছেড়ে চলে গেছি। মিজানুর রহমান আরো জানান,এমপির বিরুদ্ধে প্রথম দফায় অভিযোগ করার পর আমার বাসায় পুলিশ গিয়ে হুমকি দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার ২৯অক্টোবর আমি তাকে (ওসি) সাবেক জানিয়েছিলাম স্থানীয় এক আ’লীগ নেতার মাধ্যমে বৌলাই নদীতে ড্রেজিং করার মাটি রসুলপুর,চিসকা এলাকায় গর্ত ভরাট করার নামে চাঁদাবাজি হচ্ছে।

পুলিশ কেন নদীতে চাঁদাবাজি করে এবং তাহিরপুরের নদী খননের মাটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে মিলে প্রতি শতাংশ ১৫শত টাকা বিক্রি করছে। একথা বলার পর ওসি আমাকে বলেছেন,তুই বেশি বাইড়া গেছত। তরে ক্রসফায়ার দিয়া মাইরা ফালামু। সাথে সাথে এই বিষয়টি এসপি সাহেবকে বলছি। এছাড়া লিখিত ভাবে পুলিশের নিরাপত্তা সেলকে জানানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে,তাহিরপুর থানার ওসি একজন ব্যক্তিকে ক্রসফয়ারের হুমকি দিয়েছেন এমন খবর শুধু পত্রিকায় দেখেছি। আর অভিযোগকারীর মনগড়া কথা এর কোন প্রমান নেই বলে জানান,সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন,এক দিন ফোন করে ওসি ও আমাকে নদীতে চাঁদাবাজির বিষয়ে কথা বলেছিলেন মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। আমি চাদাঁবাজদের বিভিন্ন সময় আটক করেছি। আমার কাছে কোন অনিয়মের স্থান নেই। ক্রসফায়ারের হুমকির বিষয়টি আমি ওসির কাছে জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন তিনি ওই ব্যক্তিকে চিনেন না। এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি।

আগামীতে যারা এ এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করতে চান তারাই এ ষড়যন্ত্র করছেন। ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে নির্বাচনি এলাকার জনগণের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। দুদকে দায়ের করা এসব অভিযোগের কোনও সতত্যা নেই। দুদকে যে কেউ যে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে পারে। তদন্তে প্রমাণিত হবে কে দোষী আর কে নির্দোষ। এগুলো ভিত্তিহীন অভিযোগ বলে জানান,সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে আরো বলেন,আমি কৃষকের সন্তান এলাকার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে তিনবার এমপি নির্বাচিত করেছে। একটি কুচক্রী মহল তা সহ্য করতে না পেরে আমার নামে দুদকে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে আমার মানহানীর চেষ্টা করছে।

জানা যায়,দেশ ব্যাপী আলোচিত ক্যাসিনোকাণ্ডের পর পর উপজেলা ২০০৫ সালে গঠিত কমিটি বাস্তুহারা লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান গত ৩ ও ১৩ অক্টোবরে তাহিরপুর,জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-১আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে দুদকে লিখিত অভিযোগ করেন।

এর আগে যুবলীগের নেতা পরিচয় দেওয়া ঠিকাদার জি কে শামীম গ্রেপ্তারের পর দেশ ব্যাপী আলোচিত ক্যাসিনো কাণ্ডে সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম আসায় তাঁর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুদক। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত ও সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc