Wednesday 23rd of October 2019 05:56:06 AM

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এড. মাহবুব আলী চুনারুঘাটের জনসভায় 

 

চুনারুঘাট থেকেঃ  উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা গ্রামের মানুষদের নিকট পৌছে দিতে হবে। শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আসামপাড়া টু জারুলিয়া ভায়া উছমানপুর রাস্তার শুভ উদ্বোধনকালে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এড. মাহবুব আলী এমপি একথাগুলো বলেন।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্কর, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত ফাতিমা, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আবিদা খাতুন, চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. আকবর হোসাইন জিতু, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু তাহের মহালদার, গাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির খান, আহাম্মদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সেক্রেটারী আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু, পাইকপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামসুজ্জামান শামীম, শানখলা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল হক তরফদার সবুজ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মানিক সরকার, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সোহেল আরমান প্রমুখ।

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে গাঁজাসহ নয়ন প্রামানিক (৩২)) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে থানা পুলিশ।শনিবার সকালে তাকে নওগাঁ জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের বেওলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত নয়ন উপজেলার বেওলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

এ ব্যাপারে আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোসলেম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই ছাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ উপজেলার বেওলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ নয়ন প্রামানিক নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করে।

তিনি আরও বলেন তার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়োন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং তাকে নওগাঁ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এম ওসমান,বেনাপোলঃ  যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ায় বালু বোঝায় ট্রাকের চাপায় রাব্বি (২০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ টার সময় যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের বাগআঁচড়া ময়ুরী সীনেমা হলের সামনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত রাব্বি শার্শার উপজেলার রাড়ীপুকুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, নিহত রাব্বি সকালে বিশেষ কাজে বাসা থেকে বের হয়ে নাভারনে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে শার্শার বাগআঁচড়া ময়ুরী সীনেমা হলের সামনে পৌঁছালে যশোর দিক থেকে সাতক্ষীরাগামী একটি বালু বোঝায় ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই সে নিহত হয়।
নাভারন হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ টিটু কুমার নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দূর্ঘটনার খবর শুনে ঘটনা স্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এবং ঘাতক ট্রাকটি আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সাদিক আহমেদ,স্টাফ রিপোর্টার: গতকাল শুক্রবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজার মূল অনানুষ্ঠানিকতা।আজ চলছে মহাসপ্তমী।
ষষ্ঠী পূজা অর্চনার মধ্য শুরু হলো শারদীয় এই উৎসবের।চারিদিকে শিউলি ফুলের গন্ধে শরতে যখন মাতোয়ারা মন, হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের দাবী তখন তাদের দেবীর আগমনে খুশি ও আনন্দে ভরপুর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে। আর এই সময় চারিদিকে ঢাকের শব্দ জানান দিচ্ছে দুর্গাপূজার বরাত।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসমতে অসুর দমন করতে দেবীদুর্গার আগমন ঘটে পৃথিবীতে।অসুর দমন করে পৃথিবীতে শান্তির আগমন ঘটিয়ে বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে যান কৈলাশে।
সারাদেশের ন্যায় ব্যতিক্রম নয় চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলেও।ঢাকের বাধ্য আর পূজা মন্ডপে উৎসবমুখর এক পরিবেশের রূপ নিয়েছে শহরটি।
পূজা উৎযাপন পরিষদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার তথ্য মতে এবছর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৬৭ টি পূজা মন্ডপে দেবীর আরাধনা করা হচ্ছে।যার মধ্যে ১৫৫ টি পূজা মন্ডপ সার্বজনীন ও বাকি ১২ টি পূজা মন্ডপে ব্যক্তিগতভাবে  আয়োজন করা হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার।
শ্রীমঙ্গলের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল পূজা উৎযাপন পরিষদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখারা সাধারণ সম্পাদক দিলীপ দত্ত বলেন “পূজার পরিবেশ খুবই ভালো,পরিস্থিতি খুব  স্বাভাবিক। আইনশৃঙ্খলা অবস্থা খুবই ভালো খুবই প্রশংসনীয়।ওসি সাহেব নিজ দায়িত্বে খুব যত্ন সহকারে সব কিছুর তদারকি করছেন।এখন পর্যন্ত কোনো রকম অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়নি।শান্তিপূর্ণ ভাবে চলছে “পূজা”।তিনি পূজা উৎযাপন পরিষদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস পৃথিবী থেকে অসুররূপী কালোশক্তি বদ করে পৃথিবীতে শান্তির বার্তা পৌছে দিয়ে দেবী ফিরে যাবেন কৈলাসে।আগামি মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় এই দুর্গোৎসবের।
এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শপিংমল গুলোতে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়।শহরের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর,এমবি লেগাচি থেকে শুরু করে মিদাদ শপিং সিটি,শাপলা সুপার মার্কেট,খাতুন ম্যানশন,মিতালী মার্কেট,ফসিউর রহমান সুপার মার্কেট,শ্রীলক্ষী বস্ত্রালসহ সাইফুর রহমান পৌর সুপার মার্কেট কানায় কানায় পরিপূর্ণ ক্রেতাদের ভীড়ে।
পোশাকের দাম স্থিতিশীল ও সাধ্যের মধ্যে বলছেন দোকান মালিকরা।এদিকে বরাবরের মতো পোশাকের দাম বেশী রাখা হচ্ছে শপিং মল গুলোতে ক্রেতাদের অভিযোগ। অতিরিক্ত ফায়দা লুটছে ব্যবসায়ীরা এমন অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।পোশাক থেকে শুরু করে ছেলেদের চশমা, ঘড়ির দোকান,মেয়েদের বিভিন্ন কসমেটিকস ও প্রসাধনীর দোকান গুলোতেও ভীড় ছিলো চোখে পড়ার মতো।
জেন্টস হেয়ার পার্লার,সেলুন ও লেডিস বিউটি পার্লারগুলোতে পরিমানের চেয়ে কাস্টমার বেশী বলছেন সেলুন মালিকরা।নিজেদের পছন্দমত হেয়ার স্টাইলে নিজেকে পূজোয় ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত সবাই।
পূজার সার্বিক নিরাপত্তা সম্পর্কে শ্রীমঙ্গল থানার ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুস ছালিক দুলাল আমার সিলেটকে বলেন,” শ্রীমঙ্গল খুবই শান্তি প্রিয় এলাকা তার পরেও পূজা উপলক্ষ্যে আমরা সকল প্রকার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি, কোন প্রকার আইন শৃঙ্খলা বিরোধী কর্ম কাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবেনা। যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে শক্ত হাতে দমন করা হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

৪ অক্টোবর  শুক্রবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আলহাজ্জ মো. আবদুল হামিদের ৫৫তম বিবাহ বার্ষিকী অনুষ্ঠিত হলো। ১৯৬৪ সালের ৪ অক্টোবর  এর এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।

বিবাহিত জীবনের দীর্ঘ ৫৫টি বছর সুখে-দুখে, রাজনৈতিক দুঃসময় ও দুর্বিপাকে একসাথে কাটিয়ে এসেছেন জীবনের অধিকাংশ সময়। এরমধ্যে তারা হয়েছেন তিনপুত্র ও এক কন্যার গর্বিত জনক-জননী। মাঠের রাজনীতি করতে গিয়ে আজকের রাষ্ট্রপতি কখনোই ঘর-সংসার কিংবা স্ত্রী-পুত্রের খবর রাখতে পারেননি অথবা একান্ত প্রয়োজনেও পরিবারের সদস্যদের সময় দিতে পারেননি। তিনি সব-সময় থেকেছেন গণমানুষের সাথে। মানুষই যেন তার কাছে সব, মানুষের ঘরই যেন তার ঘর, তার সংসার।

প্রতিটি পুরুষের সাফল্যের পেছনে অধ্যবসায়, কর্মনিষ্ঠা ও একাগ্রতা যেমন থাকতে হয়, তেমনি আড়ালে থাকতে হয় একজন প্রেরণাময়ী নারী। কাজী নজরুল ইসলাম যেমনটি বলেছেন, ‘কোনকালে একা হয়নি তো জয়ী পুরুষের তরবারি/ সাহস দিয়েছে প্রেরণা দিয়েছে বিজয়ালক্ষ্মী নারী’।

কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরবেষ্টিত উপজেলা মিঠামইনের প্রত্যন্ত গ্রাম কামালপুর থেকে উঠে আসা একজন আবদুল হামিদের সাফল্যের ক্ষেত্রেও আড়াল থেকে তাকে সুন্দরের অভিযাত্রায় এগিয়ে নিয়েছেন তেমনি একজন অসম্ভব মমতাময়ী প্রেরণাদাত্রী নারী, যার নাম বেগম রাশিদা হামিদ।

আজকের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ রাশিদা খানমের প্রেরণা ও সহযোগিতাই এই জননেতাকে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে বলে স্বয়ং আবদুল হামিদও অকপটে স্বীকার করেন।

হাওরের প্রবেশদ্বার করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে রাশিদা খানম। পরিবারের তীব্র বাধা পেরিয়ে ১৯৬৪ সালে ওই হাওর-তরুণের মন কেড়ে নেন রাশিদা খানম। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে শক্তি আর সাহস জোগাতে নেপথ্য থেকে অনুপ্রেরণা দিতে থাকেন এই মহিয়সী নারী।

সেই থেকে গল্পের শুরু। গ্রামের একজন সাধারণ ঘরের অতি সাধারণ তরুণী হয়েও নিজের শ্রম-মেধা আর মননের মিথস্ক্রিয়ায় একজন ভালবাসার মানুষকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন রাশিদা খানম। রাজনীতির মাঠে তদানীন্তন স্বৈর-শাসক আইয়ূব খানের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনকে বেগবান করতে গিয়ে যে মানুষটি সেই তরুণ বয়সেই ঘর ছেড়ে বহির্মুখী বোহেমিয়ান জীবন বেছে নিয়েছিলেন, ছন্নছাড়া সেই মানুষটিকে ভালবেসে তার মঙ্গলের জন্য যিনি দিন-রাত শ্রম, মেধা আর মননকে বিনিয়োগ করেছেন, তিনিই এ দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের প্রাণপ্রিয় সহধর্মিনী বেগম রাশিদা হামিদ।

জনমানুষের সাথে মিশতে গিয়ে আবদুল হামিদ ভুলে যেতেন নিজের ঘরের কথা, সংসারের কথা, এমনকি স্ত্রী-পুত্রের কথাও। এসব নিয়ে কোনদিনও অনুযোগ কিংবা অভিমান প্রকাশ করেননি স্ত্রী রাশিদা খানম। সব দুঃখ, নৈরাশ্য ও বঞ্চনাকে মেনে নিয়ে তিনি আবদুল হামিদের পাশে অনেকটা নেপথ্য অভিভাবকের মতোই দায়িত্ব পালন করেছেন।

করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের মৃত আব্দুল হালিম খানের চার ছেলে আর দুই মেয়ের মধ্যে রাশিদা সবার বড়। বাড়ির পাশের মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর ১৯৬৩ সালে এসভি সরকারি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজে ভর্তি হন। এ সময় পরিচয় হয় কামালপুরের সেই সম্ভাবনাময় তরুণ গুরুদয়াল কলেজ ছাত্র সংসদের তৎকালীন জিএস মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে। পরিচয় থেকে প্রেম। তারপর বিয়ে। এইচএসসি পাস করার আগেই আবদুল হামিদের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন তিনি।

তবে তাদের বিয়েটা এত সহজ ছিল না। রাজনীতি করা বোহেমিয়ান ছেলের সঙ্গে কিছুতেই বিয়ে দিতে রাজি ছিলেন না তার মামা-খালারা। কিন্তু আবদুল হামিদ আর রাশিদার মন যে সবার অন্তরালে বাঁধা পড়ে গেছে একে অন্যের প্রেমের বন্ধনে। এ বন্ধন ছিন্ন করার ক্ষমতা কারোরই নেই। তাদের অকৃত্রিম প্রেমের বন্ধন ছিন্ন করার জন্য রাশিদার পরিবার থেকে অনেক চেষ্টা ছিল বটে, কিন্তু তরুণী রাশিদার প্রেমের প্রগাঢ়তার কাছে পরিবারের সব চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে যায়। তাই এক সময় উভয় পরিবারের সম্মতির মধ্য দিয়ে এই প্রেমিকযুগলের অবিচ্ছিন্ন প্রেম সামাজিকভাবে চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে।

প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে তারা হয়ে ওঠেন আদর্শ স্বামী-স্ত্রী। রাশিদার মাতামহ সেই সময়কার পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য মাওলানা সাইদুর রহমানের হস্তক্ষেপে ও মধ্যস্থতায় ১৯৬৪ সালে ৪ অক্টোবর এই প্রেমিকযুগল বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। সময়ের হিসেবে আজ তাদের ৫৫তম বিয়ে বার্ষিকী।

রাশিদা হামিদ বলেন, এসএসসি পাস করার পর বিয়ে! মামা বিয়ের বিষয়ে মত বদলে ফেলতে পারেন। এজন্য তাড়াহুড়ো করে বিয়ে হয়ে যায়। স্বামী রাজনীতি করেন। কিশোরগঞ্জে একটি ছোট বাসায় থাকতাম। গ্রামের বাড়ি থেকে ছোট ছোট অনেক দেবর আর ভাগ্নে বাসায় থেকে লেখাপড়া করে। তাদের কেউ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, কেউবা ষষ্ঠ শ্রেণিতে। সারাদিন বাসায় লোকজন লেগেই থাকত। তাদের চা-নাশতা দেয়া, পরিবারের লোকজনের জন্য রান্না, খাওয়ানো সব আমাকে সামলাতে হতো।‘বিয়ের পর হঠাৎ করে এমন অবস্থায় পড়লাম, কোনো অবসর ছিল না। নিজের দিকে খেয়াল রাখার সুযোগ ছিল না। টানাপোড়েনের সংসার। দিনেদিনে সংসার বড় হতে থাকে। ছন্দপতন ঘটে নিজের লেখাপড়ায়। তারপরও হতোদ্যম না হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকি। গভীর রাতে একটু একটু করে পড়ি। এভাবে এইচএসসি পাস করি। স্বামী আর বাচ্চাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজের জীবন নিয়ে কোনো চিন্তার সুযোগ পাইনি। তবে আমার স্বামী মানুষকে ভালোবাসেন। তিনি অতিশয় সহজিয়া ও সৎ রাজনীতিক। এজন্য একদিন সে ভালো করবে- এমন বিশ্বাস ছিল আমার’- এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এমনটিই বলছিলেন, দেশের টানা দু’বারের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের স্ত্রী রাশিদা হামিদ।

স্বামীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জেল-জুলুম, হুলিয়া আর নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে রাশিদা হামিদ বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র শিক্ষা আন্দোলন, ছয়দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, সর্বোপরি ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলন আর একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আবদুল হামিদ। মুক্তিযুদ্ধের সময় মিঠামইনে গ্রামে গ্রামে পালিয়ে বেড়াতে হয় রাশিদাকে। ডাকাতরা কেড়ে নেয় সবকিছু।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সন্তানদের মুখে সময়মতো খাবার তুলে দিতে পারেননি। মেলেনি প্রয়োজনীয় কাপড়। তবে থামেনি তার জীবন-সংগ্রাম। আবদুল হামিদকে রাজনীতির কারণে বারবার জেলে যেতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৬ সালে গ্রেফতার করা হয় আবদুল হামিদকে। দুই বছর পর তাকে জেল থেকে বের করে আনেন রাশিদা হামিদ।

রাশিদা হামিদের ছোট ভাই আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. আ. ন. ম. নৌশাদ খান বলেন, ধৈর্য আর সহিষ্ণুতার চরম পরীক্ষা দিয়ে আমার বোন রাশিদা আপা এদেশের হাজারো নারীর আইডলে পরিণত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। কঠিন পরিস্থিতিতে অবিচল থেকে স্বামীকে পেছনে থেকে প্রেরণা দিয়ে মর্যাদার আসনে তুলে এনেছেন তিনি। আপার জন্য আমাদেরও গর্বে বুক ভরে যায়।

রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবদুল হক নুরু বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেনাবাহিনী বড় ভাই আবদুল হামিদকে কিশোরগঞ্জের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। সেই সময়কার তাঁর শিক্ষক গুরুদয়াল কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াসীম উদ্দীন আহম্মদকে দিয়ে রাতে আবদুল হামিদকে বাসা থেকে ডেকে বের করা হয়। সকালে ভাবী রাশিদা হামিদ জানতে পারেন, তার স্বামীকে আর্মিরা ধরে নিয়ে গেছে। কিশোরগঞ্জ জেল থেকে তাকে পাঠানো হয় ময়মনসিংহ কারাগারে। পরে আবদুল হামিদকে নেয়া হয় রাজশাহী ও কুষ্টিয়া কারাগারে।

কুষ্টিয়া কারাগারে থাকার সময় এক পর্যায়ে আবদুল হামিদ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই সময় ভাবী রাশিদা খানম স্বামীকে দেখতে ঘুরে বেড়ান দেশের বিভিন্ন কারাগারে। একদিকে পরিবার আরেক দিকে সংসার। দুই দিকই সামলাতে হয় তাকে। হাসপাতালে ভর্তির পর রাশিদা হামিদ আদালতে রিট করেন।

রাষ্ট্রপতির জ্যেষ্ঠপুত্র বর্তমান সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের মতোই আমার মা মানুষের পাশে থেকে সারাজীবন পরিবার, এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের সেবা করেছেন। মমতাময়ী একজন মায়ের যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার আমার মায়ের মধ্যে তা পরিপূর্ণভাবেই রয়েছে। তখন আমি ছোট হলেও মায়ের সেই স্নেহপূর্ণ স্মৃতির কথা আজও জ্বলজ্বল করে। আব্বার কারাবাসকালীন চরম দুর্দিনেও তিনি আমাদেরকে বাবার অভাব বুঝতে দেননি। সেই মায়ের সন্তান হতে পেরে আমি নিজেও গর্ববোধ করি। প্রকৃত মায়ের আদর দিয়ে তিনি আমাদের এতগুলো ভাই-বোনকে বড় করেছেন। তিনি একজন মহান শিক্ষক। তার কাছ থেকে আমরা জীবনের পাঠ নিয়েছি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তখন ১৯৮১ সাল। দেশের রাষ্ট্রপতি সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান। তার পিএস ছিলেন রাশিদা হামিদের মামা কর্নেল এ ওয়াই এম মাহফুজুর রহমান। তাকে দিয়ে আবদুল হামিদ ও রাশিদা হামিদকে ক্যান্টনমেন্টের বাসায় ডেকে পাঠান জিয়াউর রহমান। তাকে প্রস্তাব দেয়া হয় আওয়ামী লীগ বাদ দিয়ে তার মন্ত্রিপরিষদে যোগ দিতে। কিন্তু রাশিদা হামিদ ও তার স্বামী আবদুল হামিদ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এজন্য অনেক অত্যাচার সহ্য করতে হয় তাদের। রাষ্ট্রপতির কণিষ্ঠপুত্র রাসেল আহমেদ তুহিন বলেন, আম্মা আমাদের পরিবারের সকল সদস্যদের কাছে আদর্শের জীবন্ত প্রতীক। আব্বা রাজনীতির বাইরে পরিবারের খোঁজ নিতে পারতেন না। সবকিছু সামলাতে হয়েছে আম্মাকে। আম্মার কাছে থেকে শুনেছি, পঁচাত্তরে জাতির জনককে হত্যার পর গোটা পরিবারকে কঠিন সময় পার করতে হয়। পরিবারের উপার্জনক্ষম কেউ ছিল না। চরম অবস্থায় বাধ্য হয়ে ভরণ-পোষণের জন্য আম্মা পরিবারের সবাইকে নিয়ে আশুগঞ্জে মামার বাসায় চলে আসেন। আমরা ছয় মাস সেখানে ছিলাম। আব্বা জেলে থাকার সময় ১৫ দিন পরপর আম্মা আমাদের নিয়ে আব্বাকে দেখতে যেতেন। আইনি বিষয়গুলো নিজেই খোজঁ-খবর নিতেন। আব্বাকে রাজশাহী জেলে নেয়ার পর আম্মার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এমন সময় গেছে টাকার অভাবে আমাদের একমাত্র ছোট বোনটি অসুস্থ হয়ে পড়লেও তার চিকিৎসা করাতে পারেননি। তারপরও আম্মা কোনো কিছুর বিনিময়ে কোনো আপস করেননি। অবিচল থেকে আব্বাকে সাহস জোগাতেন। কুষ্টিয়া জেল থেকে আব্বাকে অসুস্থ অবস্থায় পিজি হাসপাতালে ভর্তি করার পর আম্মা হাইকোর্টে রিট করেন। সেই সময়কার প্রধান বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে দেখা করে বিনাবিচারে আটক করে রাখা আব্বার মুক্তির জন্য তার সহযোগিতা চান। মাকে নিয়ে গর্বিত তিন ছেলে এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, রাসেল আহমেদ তুহিন ও রিয়াদ আহমেদ তুষার এবং একমাত্র মেয়ে স্বর্ণা হামিদ। তারা জানান, প্রচণ্ড অভাব-অনটনের মধ্যেও কোনোকিছু অপূর্ণ রাখেননি তাদের প্রিয় আম্মাজান। আবদুল হামিদের মতোই সাধারণ ও সহজিয়া জীবনে অভ্যস্ত বেগম রাশিদা হামিদ। আবদুল হামিদ স্পিকার হওয়ার আগ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ শহরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সান রাইজ কিন্ডারগার্টেন নামক একটি স্কুল। সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন রাশিদা হামিদ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন রাশিদা হামিদ। বর্তমানে রাশিদা হামিদ বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত আবদুল হালিম খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। তিনি একজন শিক্ষানুরাগী। প্রতি বছর এ ফাউন্ডেশন কৃতী শিক্ষার্থীদের অনুদান প্রদান করেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। তার পরিবারের সদস্যরা এটি পরিচালনা করে থাকেন। আবদুল হালিম খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু জানান, রাশিদা আপা একজন আদর্শ নারী। তার মতো মহিয়সী নারীকে পেয়ে ফাউন্ডেশনের সবাই গর্বিত ও আনন্দিত। প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি সব প্রয়োজনে ছুটে আসেন ফাউন্ডেশন ও কলেজের নানা কাজে। প্রায় প্রতি সপ্তাহে তিনি সবার খোঁজ-খবর নেন। তিনি আমদের আদর্শ ও নীতিবান হতে শিখিয়েছেন। এলাকার সবার প্রিয় আপা রাশিদা হামিদ বলেন, স্বামী আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদে সাতবার এমপি হয়েছেন। সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা, ডেপুটি স্পিকার, স্পিকার, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও পরপর দু’বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এটা আমার জন্য অনেক গর্বের। কারণ আমাদের প্রেমের বিয়েতে পরিবারের কোনো কোনো সদস্যদের বিরোধীতা ছিল। পরে তারা সবাই আমাদের দু’জনার সম্পর্কের গভীরতা উপলব্ধি করে শেষ পর্যন্ত আমাদের বিয়েটা মেনে নেন। সেই থেকে দু’জন একসাথে, একপথে দীর্ঘ ৫৫টি বছর পার করে এসেছি। স্বামীর সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে যতটুকু পেরেছি স্বামীকে শক্তি-সাহস ও প্রেরণা যুগিয়েছি। বঙ্গভবনে থাকলেও আমার মন পড়ে থাকে গ্রামে। গ্রামীণ পরিবেশের সেই কোলাহল, সাধারণ মানুষজনের আন্তরিকতা ও শিশুদের মুখরতা আমাকে আজও টানে। আমি মনে করি সততা-ত্যাগ, জনসম্পৃক্ততা আর মানুষের ভালোবাসাই আবদুল হামিদকে আজকের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। তিনি আরও বলেন, তিনি এখনও সেই আগের মতোই আছেন। সংসার জীবন শুরু করেছিলাম এক কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। তখন রাত দেড়টা-দুটার আগে ঘুমাতে পারতাম না। সবাই ঘুমিয়ে গেলে বই নিয়ে পড়তে বসতাম। এভাবেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখনও রাত দুটার আগে ঘুমাতে পারি না। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, আবদুল হামিদকে কতটা ভালোবাসি তা কেবল আমিই জানি। ওকে কলেজ জীবন থেকেই ভালোবাসি, কারণ সে মানুষকে ভালোবাসে। কারও ক্ষতি করে না। তার সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। এখনও বঙ্গভবনে লুঙ্গি পরে এলাকার কোন সাধারণ মানুষ এলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে লাফ দিয়ে উঠে পড়েন। এ কারণেই এ মানুষটিকে এতবেশি ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি।সুত্রঃপিবিএ

নজরুল ইসলাম তোফা: হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আনন্দ আয়োজন শারদীয় দূর্গোৎসব। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশাল জনগোষ্ঠীর অনেক আনন্দ, উল্লাস এবং বিনোদনের আনুষ্ঠানিকতা লক্ষ করা যায় এমন উৎসবে। আবারও সাজো সাজো রব পড়ে গেছে গোটা বাংলায়। এসে গেল বাঙালির সেরা উত্‍‌সব। এক বছর পেরিয়ে বাপের বাড়ি আসছেন দেবী দুর্গা। ‘মা আসছেন’ শব্দটিতেই বাঙালির সমস্ত আবেগ যেন পরতে পরতে সাজানো রয়েছে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণের কণ্ঠস্বরে স্তোত্র পাঠের অপেক্ষার পরই যেন যাবতীয় অপেক্ষা শেষ হয়, ঢাকেল বোলে ২০১৯ সালের দুর্গা পুজোয় মাতবে বাঙালি। এবার পুজো বেশ কিছুটা আগেই। পিতৃপক্ষের অবসান হয়ে দেবীপক্ষের আয়োজন শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। সেই দিনটাই মহালয়া।
শুভ মহালয়া থেকে চণ্ডীপাঠ, মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোকে আমন্ত্রণ জানায় ভক্তকুল। অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা করবার লক্ষ্যে মর্ত্যে আসে দেবী দুর্গা। পঞ্চমীর মধ্যেই সমস্ত প্যান্ডেলে ঠাকুর এসে যায়। শেষ মুহবর্তের ব্যস্ততায় পুজো কমিটি গুলিতে ততদিনে হিড়িক পড়ে যাবে উদ্বোধনের। ২০১৯ সালের মহাপঞ্চমী তিন অক্টোবর, বৃহস্পতিবার। শাস্ত্র মতে মহাষষ্ঠী পড়ে যায় ৪ অক্টোবর, শুক্রবার। আর মহাসপ্তমী শুরু হয় ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর, শনিবার ।
সে দিনই নবপত্রিকা স্নানের মাধ্যমে অর্থাৎ তাদের শাস্ত্র মতেই ঢাকে কাঠি পড়ে যায় পুজোয়। ২০১৯ সালের মহাঅষ্টমী ছয় অক্টোবর, অর্থাৎ রবিবার দিন। এই অষ্টমীর কাজ গুলো দুপুর থেকেই যেন হয়, আর তা শেষ হয় সন্ধিপুজো সময় পর্যন্ত। জানা দরকার নবমী ও দশমী ২০১৯ সালের মহানবমী পড়েছে ৭ অক্টোবর, অর্থাৎ সোমবার। মহাদশমী পড়েছে মঙ্গলবার ৮ অক্টোবর। আর এর সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হতে চলেছে ২০১৯ সালের দুর্গাপুজোর পর্ব। সচরাচর বিকেল বেলায় সূর্যাস্তে সময় সিঁদুর খেলার আনন্দে যেন গা ভাসিয়ে এবং ঢাক-ঢোল বাজিয়েই  দুর্গাপুজোর বিদায় জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীর মানুষ।
তাদের পূজা মণ্ডপে মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমীতে সকল হিন্দু সম্প্রদায় অর্থাৎ হাজার হাজার নারী-পুরুষ ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করে। বলা দরকার, হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী দুর্গা পূজার দিন ক্ষণ গণনা শুরু হয় মহালয়ার দিনে অর্থাৎ ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবে আনন্দকে কেন্দ্র করে। তাই এ দূর্গোৎসব হিন্দুদের অবশ্যই বিশুদ্ধ পঞ্জিকার আলোকেই নির্ধারণ করা হয়। শারদীয় দুর্গোৎ​সবের শুভ দশমীটাই তাদের কাছে শেষ দিন। আর এই শুভ বিজয়ার দশমীতে পূজা সমাপন করে এবং দেবী দুর্গাকে বিসর্জনে ব্যাস্ত হন সকল হিন্দু সম্প্রদায়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে তারা এদেশ ও সারা বিশ্বে ৩০ সেপ্টেম্বর সনাতন ধর্মীয় জনগোষ্ঠী সকল মানবের চাহিদাকে পুরনের লক্ষে সর্ব বৃহৎ দেবী দুর্গাকে মণ্ডপে দাঁড় করানোর বাসনায় জাগ্রত হন।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, তারা মহানবমী উপলক্ষে অনেক পূজা মণ্ডপেই আরতি প্রতিযোগিতা এবং প্রসাদ বিতরণ করে। দশমীতে সব মণ্ডপে থাকে বিষাদের সুর। কারণ, তাদের শুভ বিজয়া দশমীর দিনেই দূর্গাকে বিসর্জনের মধ্য দিয়েই যেন মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসের স্বামী গৃহে ফিরে যায় দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। সুতরাং এই দিনে বাহির হয় ভক্তদের শোভাযাত্রা, দেবী দুর্গাকে বিদায়ের মাধ্যম হিসেবে জলে নৌকা নয়তো স্হলে রংবে রংয়ের ট্রাকে সাজ সজ্জা ঘটিয়ে আনন্দ উল্লাস করে হিন্দু সম্প্রদায়। বিদায় বেলায় শত সহস্র ভক্তদের আনন্দ-উল্লাসে আর বিজয়ার অশ্রুতে আকাশ বাতাস কম্পিত হয়ে উঠে। দেবী দুর্গাকে স্বর্গালোকে এমন বিদায় দেওয়ার আয়োজন সত্যিই সনাতন বিশ্বাসীদের বা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের গভীর আত্তার সঙ্গে মিলিয়েই যেন শঙ্খ ধ্বনি আওয়াজ তুলে এবং ঢাকের তালে তালেই কম্পিত হয় আকাশ বাতাস। তাদের এমন দেবী দূর্গাকে বিদায়ের সুরের সাথেই সঙ্গী সাথীও করেন অসহায় গবীব দুখী মানুষদের।
জানা প্রয়োজন তাহলো এই যে, এবার কিন্তু দূর্গা দেবীর বিদায় নেবে ঘোটক কিংবা ঘোড়ায়। এই ঘোড়া কেন্দ্রিক অর্থাৎ তিনি ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গালোকে গমন করবে। সেহেতু এমন বিদায়ের ফল শ্রুতিতে অনেক রোগ-ব্যাধি বাড়বে বৈকি এবং অনেক ফসল নাকি নষ্টও হয়ে যাবে। সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীদের এমন ধারনা এবং তাদের বিশুদ্ধ পঞ্জিকায় তার যথাযত সত্যতার প্রমাণ মিলে। তবে এ উৎসবে দেবী দূর্গা এসেছিল নৌকায় চড়ে, ধর্মের আদর্শ বার্তা নিয়ে বছর ঘোরে বারংবার দেবী দূর্গা আসে মর্ত্যলোকে অর্থাৎ পৃথিবীতে। তিনি অবশ্য এজগতে তার ভক্তকুলের মঙ্গল কামনায় আসে, তাই তো বিশ্বাসী হিন্দু সম্প্রদায় বলেন, এমন আগমনের ফলেই অতি বৃষ্টি ও শস্য বৃদ্ধি হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ধর্মীয় এমন অনন্দকে নিয়ে ঘরে ঘরে পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে আপ্যায়নের উপঢৌকন তৈরী করে। যেমন, জল-তিল-অন্ন আরো কতো কি। এমন উৎসর্গে তাদের অনেক আনন্দ দান করে। তারা মনে করে, পিতৃ পক্ষে প্রয়াত আত্মারা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আসে। মৃত আত্মীয়-পরিজন এবং তাদের পূর্ব পুরুষদের আত্মার প্রতি মঙ্গল কামনা করার একটি শুভ দিন।
সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীরা এই দেবীপক্ষকে সবচেয়ে শুভ দিন মনে করেই নতুন নতুন পোষাক ও সামর্থ্য অনুযায়ী ভাল ভাল খাবার তৈবী করে। এ সময় তারা সব ধরনের শুভ কাজ সম্পন্ন করে থাকে। পুরাণের কথায় বলা যায়, অসুর শক্তির নিকট পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হয়েছিল। সে জন্য চারদিকে অশুভের প্রতাপ দেখা দিয়েছিল। তাই এ অশুভ শক্তিকে ধ্বংস বা বিনাশ করতেই একত্রিত হন দেবতারা। অসুর শক্তির বিনাশে অনুভূত হয়েই এক মহা শক্তির আবির্ভাব হয়। সুতরাং সেই দেবতাগনের চরম মহাশক্তির তেজরশ্মি থেকেই আবির্ভূত এক বৃহৎ শক্তি তিনিই হলেন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা। পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেছিল। বসন্তে তিনি এ পূজার আয়োজন করায় দূর্গা দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজাও বলা হয়। তিনি কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগেই শ্রীরামচন্দ্র দুর্গা পূজার আয়োজন করেছিল।
শরৎ কালের এ পূজাকে হিন্দুদের মতে বলা চলে, অকালবোধন। তাদের এই ধর্ম মতে, এ দিনেই দেব-দেবীকুল দুর্গা পূজার জন্য ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করে। তাই মহালয়ার দিনে সূর্য উদয়ের আগেই শঙ্খধ্বনি এবং চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মন্দিরে মন্দিরে নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে সকল হিন্দু সম্প্রদায় দেবী দূর্গাকে আবাহন জানায় এবং উল্লসীত সুরেলা কন্ঠে জয়ধ্বনি তোলে, বলো “দূর্গা মাইকি জয়”।
লেখক:
নজরুল ইসলাম তোফা,’টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক’।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় যাদুকাটা নদীতে কর্মরত শ্রমিকদের নিয়ে অবহিত করণ সভা অনুষ্টিত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৫টায় উপজেলায় বাদাঘাট ইউনিয়ন লাউড়েরগড় বাজারে সুনামগঞ্জ জেলা আ,লীগের সদস্য ও বাদাঘাট ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন,তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল,বাদাঘাট পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্য আমির উদ্দিন,লাউড়েরগড় বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবিব,আ,লীগ নেতা জমিস উদ্দিন,ছাবু মিয়া,মোতালিব মিয়া,বিল্লাল মিয়াসহ যাদুকাটা নদীর শ্রমিকগন।
সভায় বক্তাগন বলেন,সবাইকে আইন মেনে সব ধরনের কাজ করতে হবে। আইনের বাহিরে গিয়ে কাউকে কোন ধরনের কাজ করতে দেওয়া হবে না। যাদুকাটা নদীতে যারা শ্রমিক ও সর্দার আছেন আপনারা সবাই নদীতে বেধে দেওয়া সীমানার ভিতরে থেকে কাজ করতে হবে। এর বাহিরে গেলে কোন ছাড় পাবেন না। আইন সবার জন্য সমান। ভারতীয় সীমানার কাছে ও নদীর পাড় কাটা যাবে না। নদীতে কাজ করার জন্য যে সীমানা দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে থেকে কাজ করবেন। নদীতে কোন প্রকার চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। যে চাঁদাবাজি ও নদীর পাড় কাটতে আসবে তাদের ধরে পুলিশের কাছে সোর্পদ করবেন।
এসময় যাদুকাটা নদীতে কমর্রত শ্রমিকগন দাবি করেন বলেন,আমরা দিন মুজুর দিনে আনি দিনে খাই। নদীতে কাজ না করতে পারলে অন্য কোন কাজ না থাকায় বেকার থাকতে হয়। ফলে ছেলে,মেয়ে,মা,বাবাসহ পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হয়। আমরা কাজ করে খেতে চাই। আমরা বংশ পরম পরায় এই নদীতে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। কিন্তু একটি কুচক্র মহল আমাদের কাজে বিভিন্ন ভাবে বাধা সৃষ্টি করে আসছে। এছাড়াও ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করে আমাদের কাজে বাধা সৃষ্টিকরে তার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করেছি আর আগামীতের করব। কারন আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

এম ওসমান,বেনাপোলঃ  হিন্দু ধর্মালম্বীদের সব থেকে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে শনিবার (৫ই অক্টোবর) থেকে মঙ্গলবার (৮ই অক্টোবর) পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সকল প্রকার আমদানী-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
তবে বেনাপোল বন্দরে পন্য খালাশ ও বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে বলে বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দর সুত্রে জানা গেছে।
ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের ষ্টাফ ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক শ্রী কার্তিক চক্রবর্তী জানান, শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে (৫ই অক্টোবর) থেকে (৮ই অক্টোবর) ভারতে সরকারী ছুটি থাকায় বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের আমদানী- রফতানী বাণিজ্য বন্ধ থাকবে।
এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বেনাপোল কাস্টমস ও বেনাপোল স্থলবন্দর কে দেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল কাষ্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ নাসিদুল হক আমাদের প্রভিনিধিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভারতীয় সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের কর্তৃপক্ষ এক চিঠির মাধ্যমে ৫ই অক্টোবর থেকে ৮ই অক্টোবর ভারতে সরকারী ছুটি থাকায় বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের আমদানী- রফতানী বন্ধ থাকবে।
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক আব্দুল জলিল জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পেট্রাপোল-বেনাপোল বন্দরে টানা ৪দিন আমদানী রফতানী বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। তবে বেনাপোল বন্দরের পন্য খালাশসহ সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলে বাংলাদেশ পরিবার কল্যান সহকারি সমিতির জেলা প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবার কল্যান সহকারি সমিতি, নড়াইল জেলা শাখার আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরিবার কল্যান সহকারি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব রাজিয়া খাতুন ।
বাংলাদেশ পরিবার কল্যান সহকারি সমিতি নড়াইল জেলা শাখার ভাপ্রাপ্ত সম্পাদক গুলশান আরার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ পরিবার কল্যান সহকারি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির অতিরিক্ত মহাসচিব আসমা আক্তার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জেবুন্নেছা, সদও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তকর্তা এস,এম জাফরি,জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য রওশন আরা লিলি, আওয়ামীলীগনেত্রী আঞ্জুমান আরা, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ,বাংলাদেশ পরিবার কল্যান সহকারি সমিতিনড়াইলের কর্মকর্তা-সদস্যগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে পরিবার কল্যান সহকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম এইচ,এস,সিতে উন্নীত করণসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকদেও ন্যয় ১৫ তম গ্রেডে বেতন স্কেল করা, উন্নয়ন খাত হকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হওয়া পরিবার কল্যান সহকারিদের ১০০ভাগ পেনশন সুবিধা নিশ্চিতকরাসহ ৬ দফা দাবি পেশ করা হয়।

শারদীয় দুর্গোৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দুর্গাপূজা উপলক্ষে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা তথা মৌলভীবাজার জেলার হিন্দু ধর্মাবলম্বী সকল নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান,যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মৌলভীবাজার জেলা আ’লীগ ও মৌলভীবাজার দি চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাঃ এর সভাপতি মোঃ কামাল হোসাইন ।

তিনি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন ‘দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি আজ সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’- এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে উৎসব পালন করব। আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার সু নিশ্চিত করা হয়েছে। সকলে মিলে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। তাই এই দেশ আমাদের সকলের। বাংলাদেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি।

পরিশেষে  ‘দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ সকল নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করি।

‘আসুন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’  প্রেস বার্তা

 

বিভাগীয় তদন্তে ৩ জনের বিরুদ্ধে আরো ৫টি অভিযোগ দাখিল 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ  হবিগঞ্জের “চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ বাণিজ্যে, লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও মফিজ” সহ বিভিন্ন শিরোনামে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিভাগীয় তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস, আলমপুর সিলেটে এ তদন্ত কার্যক্রম করেন জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার (উপ-সচিব) সৈয়দ ফারুক আহাম্মদ এর নেতৃত্বে একটি বোর্ড।

তদন্তে ভুক্তভোগীরা আপীল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহমেদের যোগসাজসে সার্ভেয়ার রাখাল চন্দ্র দাশ ও কথিত পেশকার মফিজুল ইসলাম তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে স্বাক্ষ্য প্রদান করেন।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার স্বাক্ষরিত এক পত্রে সংশ্লিষ্টদের স্বশরীরে হাজির হয়ে স্বাক্ষ্য প্রমান দেওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করেন।

“চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ বানিজ্য লাখ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে পেশকার” শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয় সেটেলমেন্ট বিভাগসহ সাধারণ মানুষের মাঝে। তা নজরে আসে সেটেলমেন্ট জোনাল কার্যালয়ের।

এক পর্যায়ে কথিত পেশকার মফিজের ঘুষ লেনদেনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, মফিজ পৌনে তিন লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।

এছাড়া আরো বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার সৈয়দ ফারুক আহাম্মদ বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি নোটিশ জারি করেন। নোটিশে ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ ঘটিকায় তার কার্যালয়ে অভিযুক্ত আপীল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহ্মেদ, সার্ভেয়ার রাখাল চন্দ্র দাস ও কথিত পেশকার মফিজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিত থাকার জন্য পত্রে উল্লেখ করা হয়।

এর প্রেক্ষিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসের ঘুষ-বাণিজ্যের ঘটনার তদন্ত সিলেট শহরের আলমপুরস্থ জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে অনুষ্ঠিত হয়। তদন্ত বোর্ডে নোটিশপ্রাপ্ত ভুক্তভোগী সাতপাইকা মৌজার ফারুক মিয়া, দিলীপ সিং, পারকুল মৌজার কানু শুক্ল বৈদ্য, নুর হোসেন, অজিত ছাড়াও মফিজের নিকট টাকা পাওনাদার ফারুক মাহমুদ, পর্চা নিতে টাকা প্রদানকারী সাতপাইকা মৌজার ফুল মিয়া, মিহির লাল কানু, তফসির মিয়া, সফর আলী, রুদ্রপুর মৌজার হাবিবুর রহমান সহ আরো ১০/১২ জন স্বাক্ষ্য প্রদান করেন।

কথিত পেশকার মফিজ, সার্ভেয়ার রাখাল চন্দ্র দাস ও আপীল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহ্মেদ এর বিরুদ্ধে তাদের কাছ থেকে পর্চা দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার কথা জানান এবং ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন করেন। তদন্তে তাদের নির্ধারিত নোটিশ জারিকারক থাকলেও মফিজকে দিয়ে কেন নোটিশ জারি করা হয়েছে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কেউই উত্তর দিতে পারেননি। ভুক্তভোগীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

নোটিশ না পেয়েও যারা তদন্ত বোর্ডের কাছে তদন্তকালে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নির্দেশ দেন। ফারুক মাহমুদ জানান, আমি তদন্ত বোর্ডে উপস্থিত সকলের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছি। সার্ভেয়ার রাখাল চন্দ্র দাস ও কথিত পেশকার মফিজ আমার পাশের একটি রুম ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস বসবাস করেছেন এবং অফিসে গিয়ে কাজ করতেন। এ সুবাদে আমার সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক তৈরী করে বিপদের কথা বলে মফিজ আমার কাছ থেকে হাওলাদ হিসেবে ৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা নেওয়ার দিন রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। আমার টাকাগুলো পাওয়ার জন্য আমি উপস্থিত সকলের সম্মুখে তদন্ত বোর্ডের সদয় দৃষ্টি কামনা করে পাওনা টাকা আদায়ে জোর দাবি জানাই।

তদন্তে এসময় উপস্থিত ছিলেন- তদন্ত বোর্ডের প্রধান সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার (উপ-সচিব) সৈয়দ ফারুক আহাম্মদ, কারিগরি উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির-২ সহ আরো ২ জন কর্মকর্তা এবং চুনারুঘাট সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার অসীম ভূষণ সাহা, অভিযুক্ত আপীল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহমেদ, সার্ভেয়ার রাখাল চন্দ্র দাশ সহ ভুক্তভোগী ১৪/১৫ জন।

এদিকে আপীল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহমেদ সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন সহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে গত ১ অক্টোবর সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার বরাবরে ভুক্তভোগী রুদ্রপুর মৌজার হাবিবুর রহমান, সাতপাইকা মৌজার ছালেহ আহমদ, মানিক মিয়া, ফুল মিয়া সহ ৫ জন বাদী হয়ে বিভাগীয় তদন্তে আরো ৫টি লিখিত দাখিল করেছেন।  শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগীরা এ প্রতিবেদকের হাতে দাখিলকৃত অভিযোগের কপি দিয়ে বলেন, বিভাগীয় তদন্ত ধামাচাপা না দিয়ে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমারা জোর দাবি জানাচ্ছি।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc