Saturday 21st of September 2019 11:24:28 AM

শংকর শীল,প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে কুখ্যাত ডাকাত নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ ৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় চুনারুঘাট থানা এসআই শেখ আলী আজহারের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স উপজেলার নয়ানী বনগাও এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ডাকাত নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত নজরুল ওই এলাকার ওহাব উল্লাহ’র পুত্র। চুনারুঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত নজরুলের বিরুদ্ধে ৩টা ডাকাতি মামলা রয়েছে। সে ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী। দির্ঘ্যদিন থেকে পলাতক ছিল।
পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করলে নজরুল পালিয়ে যাওয়ার সময়ে ২ কিঃ মিঃ দৌড়াইয়া তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামীকাল দুপুরে নজরুল কে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হবে বলা জানান তিনি।

শংকর শীল,হবিগঞ্জ থেকেঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় রোপা আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার
করেছে কৃষকেরা। এলাকার কৃষকরা ধান চাষের পূর্ব প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। কৃষকদের দম ফেলার ফুরসত পর্যন্ত নেই। ফজরের আযান দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়িয়ে পড়ে জমি চাষের জন্য।

এ সময় কৃষকেরা আউশ ধান ঘরে তুলে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ ব্যস্ত। গরুর হাল ছাড়াও পাওয়ার টিলা, হ্যারো হাল দিয়ে তিন থেকে পাঁচবার করে হাল দিয়ে জমি প্রস্তুত করে নেন কৃষকেরা। সরেজমিনে দেখা যায়, জমিতে হাল দিয়ে অনেক কৃষক সপ্তাহ খানেক বা তারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করে। তারপর জমিতে জাবর দিয়ে রাখা
হয়। কারণ হলো পূর্বের বোরো ধানের খরের নাড়াগুলো যাতে পঁচে যায়। বাড়তি জৈব সারের চাহিদা ধানের খরের পঁচা নাড়া হতে চলে আসে। এ সময় কারো কারো বীজতলায় আগাম ধানের চারা সপ্তাহ খানেক আগেই বপনের জন্য প্রস্তুত হয়েছে আর কারো বা সপ্তাহ পরে। উপজেলার বিভিন্ন স্হান ঘুরে দেখা গেছে অনেক কৃষক ৮-১০দিন আগেই জমি প্রস্তুত করে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করছেন।

উঁচু শহরি জমিগুলোতে স্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিয়ে অনেক কৃষক রোপা আমন ধান রোপণে করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। কাজের ধুম, যেন কাজ গুলো তাড়াতাড়ি শেষ হতেই চায় না। তারপর আসবে বোরো আবাদি। উপজেলার চান্দপুর চা বাগান, লস্করপুর চা বাগান, চন্ডী চা বাগান সহ বেশ কয়েকটি বাগান থেকে আসা মজুরী কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,রোপা আমন ধান রোপনের সমস্ত কাজ চুক্তি ভিত্তিতে ক্ষেত মজুররা কৃষকদের করে দিয়ে থাকেন।

এক খের প্রতি (৩৬শতাংশে) ৮০০- ১২০০ টাকা করে নিয়ে ধান রোপনের সমস্ত কাজ করে দেন তারা। আবার অনেক কৃষক নিজেই ধানের চারা রোপন করে থাকেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন সরকার বলেন, কৃষক একটু সচেতন হলে এবং কৃষি পরামর্শ নিয়ে সাড়িবদ্ধ ভাবে ধান রোপন করলে আরো ভালো ধানের ফলন হবে।

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর আত্রাই সাবরেজিস্টার  অফিসের দলিলের বালাম বইয়ের অংশ কর্তনে করে রদবদল করার অপরাধে মহাতাব হোসেন নামে এক কর্মচারীকে শোকোজ করার ঘটনা ঘটেছে।

ফলে ধানী জমি বিক্রয় করা হলেও ক্রেতা কৌশলে ভিটা জমি উল্লেখ করায় বিপাকে পড়েছেন দাতারা। ঘটনাটি ঘটেছে আত্রাই সাবরেজিস্ট্রি অফিসের আওতাধীন নাটোরের খাজুরা মৌজায়।

এ ব্যাপারে দাতাগণ নওগাঁ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খাজুরা গ্রামের হাসেম আলী ও হোসেন আলী দুই ভাই ১৯৭৯ সালের ২১ মে তারিখে ৪ শতক ধানী জমি বিক্রয় করেন। আত্রাই সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং ২৯৬৪, তারিখ ২১/০৫/৭৯, বালাম নং ৪৮, পাতা নং- ১০২-১০৪। উক্ত জমির ক্রেতা সুরজান বিবি কৌশলে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের অসাধু লোকজনের সহায়তায় ধানীর পরিবর্তে ভিটা উল্লেখ করে দীর্ঘদিন পর তা জবর দখল করতে আসছে। এতে করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে আত্রাইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবরেজিস্টার জবা মন্ডলের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, জমির শ্রেনী পবির্তনের বিষয়টি সঠিক নয়। তবে ওই দলিলের বালাম বইয়ে অংশ কর্তনে কিছু রদবদল করায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে শোকোজ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

পুর্বের সংবাদের লিংক নিম্নে দেখুন

আত্রাইয়ে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কেরামতিতে বিপাকে বিক্রেতা

নড়াইল প্রতিনিধিঃ ৫ সেপ্টেম্বর স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানী বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী নড়াইলে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি শাহাদতবরণ করেন।

যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। মহান এই বীরের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাষ্টের উদ্যোগে) মাজার জিয়ারত, কোরআন খানি , র‌্যালী, শহীদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সশস্ত্র সালাম , আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় ।

আজ বৃহস্পতিবার এ উপলক্ষে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ নগর থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নূর মোহাম্মদ স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন নড়াইল জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠন। এসময় পুলিশের একটি চৌকষ বাহিনী রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

পরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্মৃতি গ্রন্থাগার ও যাদুঘরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার), সিভিল সার্জন ডাঃ নুপুর কান্তি দাস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা সেলিম,নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাষ্টের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ভূইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডঃ এস,এ মতিন, মক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

হোসাইন ইকবাল স্পেন থেকেঃ লন্ডন প্রবাসী অল ইউরোপীয়ান বাংলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি জাহিদুল আলম মাসুদ স্পেনের মাদ্রিদে এসে পৌঁছালে তাঁকে অভিনন্দিত করেছেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইন স্পেন। উল্লেখ্য মাসুদ বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইন স্পেনের মনোনয়নে অল ইউরোপীয়ান বাংলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ইতোপূর্বে তিনি বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইন স্পেনের সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
মাদ্রিদের বাংলাটাউনের হল রুমে আয়োজিত এক চা-চক্র ও অভিনন্দনজ্ঞাপক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইন স্পেনের সাধারন সম্পাদক বকুল খাঁন, এন টি ভি ইউরোপের স্পেন ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক সেলিম আলমের সভাপতিত্বে বিশিষ্ট লেখক কলামিষ্ট ফখরুদ্দীন রাজির সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও আমানাহ মানিট্রান্সফারের সত্বাধিকারী মাসুদ রানা, বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব নাজু আহমেদ, বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ আবুল হাশেম মেম্বার, এন টি ভি ইউরোপের স্পেন প্রতিনিধি হোসাইন মোহাম্মদ ইকবাল, আলোককুঞ্জ সামাজিক সংগঠনের পরিচালক হানিফ মিয়াজী, সোহেল রানা, জসীম উদ্দিন প্রমুখ।
এসময় জাহিদুল আলম মাসুদ, তাঁর সম্মানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ও উপস্হিত সংবাদ ঘনিষ্ঠজনদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। বক্তারা এসময় জাহিদুল আলম মাসুদের সাথে তাঁদের নানান স্মৃতিময় অতীতের কথা স্মরন করেন।
প্রধান অতিথি আয়েবাপিসি সাধারন সম্পাদক বকুল খান ও সাংবাদিক সেলিম আলমের নেতৃত্বে মাদ্রিদের সংবাদপত্র কর্মীগন কর্তৃক জাহিদুল আলম মাসুদকে এসময় ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিষিক্ত করা হয়।

অনলাইন প্রেস ইউনিটি চট্টগ্রাম মহানগর-জেলার অভিষেক ও শপথ অনুষ্ঠান ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪ টায় জেলাা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজনে প্রধান অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিন।
উদ্বোধন করবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়–য়া। বিশেষ অতিথি থাকবেন আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি, কলামিস্ট শান্তা ফারজানা, দৈনিক আলোকিত একুশে সংবাদ সম্পাদক হেদায়েত উল্লাহ মানিক, আলহাজ্ব আবদুন নবী লেদু ও শফিউল আলম ছগীর। প্রধান আলোচক থাকবেন অনলাইন প্রেস ইউনিটির প্রতিষ্ঠাতা কলামিস্ট মোমিন মেহেদী।
আলোচক থাকবেন বাঁশখালী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহানা আক্তার কাজল, শাহজালাল ভূঁইয়া উজ্জল প্রমুখ। সভাপতিত্ব করবেন অনলাইন প্রেস ইউনিটির ভাইস চেয়ারম্যান আজগর আলী মানিক।

নজরুল ইসলাম তোফা: ধন সম্পদ গড়ে তুলতে দরকার হিসেবি মানসিকতা। যা ইনকাম করছেন বা কামাচ্ছেন তার সবটুকু খরচের চিন্তা না করে তাকেই ‘পরিবার তথা অর্থনৈতিক’ লক্ষ্য অর্জনে কাজে লাগানোর চিন্তা ভাবনার প্রয়োজন। দেখা যায় বেশির ভাগ মানুষই প্রয়োজন মাফিক খরচ করে। আর বাকি অর্থ জমায়। টাকা পয়সা এবং ধন-সম্পদ এমনিতেই জমালে চলবেনা। উন্নতির একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। লক্ষ্য নির্ধারণ করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতেই হবে। প্রাথমিক অবস্থায় কিছু সমস্যা হলেও হিসেবের জায়গাতে ক্ষতি মনে করা যাবে না। হিসাবে আপনি অভস্ত হয়ে উঠতে পারলে তাড়াতাড়ি উপার্জন করছেন, যদি আপনি অবসরের জন্যে এখনো সঞ্চয় করা শুরু করেননি।
এমনটা হলে অবশ্যই বোঝা যাবে আপনার সঞ্চয়ের কোনো সুযোগ নাই। আপনার যা জমানো অর্থ সব বেহিসাবী মতোই যেন খরচ করে ফেলছেন। এরজন্য যেখানেই কর্মরত এবং যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সেখানে প্রোভিডেন্ট ফান্ডে সঞ্চয় করুন। সবচেয়ে ভালো হলো হিসাব করেই উপার্জন মাত্রই এমন কাজটি শুরু করুন।আসলে সেদিকে এ আলোচনা নয় কথা হলো যে বেহিসাবি মানুষ কারা কিংবা তাদেরকে চেতনার উপায় নির্ণয় করা উচিত।
দৈনন্দিন মানুষের জীবনের জন্যেই অত্যাবশ্যক চাহিদা পুরণেই যে মন ব্যস্ত তা হলো হিসেবি মন। এ জীবন পরিক্রমায় নিত্যদিনের হিসাব মেলাতে গিয়েই এ ধরনের মন মানসিকতা বাঁধা পড়ে যেন ছক বাঁধা বাধ্যবাধকতা মধ্যে। ফলে সেই জীবনে থাকে না স্বচ্ছন্দে বিচরণের স্বাধীনতা। আপনার নিজ সহজাত যৌক্তিক মনটাকে কাজে লাগান। দামি গেজেট না কিনে নিত্যদিনের কাজ চলতেই যা যা দরকার তা কেনা কিংবা ভাবার কথা চিন্তা করুন। এতে অর্থ সাশ্রয় হবে। আর কাজটি যেন আটকেও থাকবে না। অর্থ ব্যবস্থাপনাতে নিজের সিদ্ধান্ত মতো চলতে পারবেন। নিজস্ব যেকোনো  চিন্তা আদর্শের হলেই কৌশলগুলো খুব কার্যকর হয়। অপ্রয়োজনীয় কাজে অতিরিক্ত ব্যয় কিংবা বেহিসাবি মনে কখনোই চলবেন না।
জানা দরকার, বেহিসাবি মানুষরা বাধ্যবাধকতার গন্ডিতে আবদ্ধ থাকতে চায় না। সে মানুষরা যেন স্বভাব- বৈশিষ্ট্য দেখলেই চেনাা যায় বা মোটা মুটি তারা একই রকমের আচরণের। এদের না থাকে স্বাধীনতা, না বুঝা যায় এদের বিচিত্র মন ও সেই মনের খেয়ালের স্বরূপ। আর সেই মানুষ হিসাবি মনের চেয়ে বেহিসাবি স্বভাব-বৈশিষ্ট্য একেবারেই হয় আলাদা। মানুুষের এ বেহিসাবিয়ানার মধ্যেই খোঁজে পাওয়া যায় দৈনন্দিন নেতিবাচক স্বভাব-বৈশিষ্ট্যকে। সংসারের ছক বাঁধা জীবনটা এদের আকর্ষণ করে না। এই মানুষদেরই কেউ বা কেউ একতারা হাতে পথে-প্রান্তরে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করে। সংসার-বিরাগী উদাসী বাউলও হয়ে যান। আবার কেউ নিজ অর্থ-সম্পদ উজাড় করে দেয় মানবকল্যাণে। এমন মানুষগুলো স্বভাবেই কৃপণ হয় না, আত্ম স্বার্থপর নন। আবার কেউ বা কেউ যদি নিছক বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে দেওয়া জন্য বাজে বাজে খরচে- ধন-সম্পদ উজাড় করে দেন তবে তাতে আবার প্রকাশ পায় উচ্ছৃঙ্খলতা।
সুতরাং দেখাও যায় সৌন্দর্য পিপাসু, সংস্কৃতিবান মানুষেরা অভাব-অনটনের মধ্যেই যেন বেহিসাবি খরচ করে দেশ ভ্রমণ করে, পুস্তক কেনায় কিংবা ভালো লাগা ছবি ও পুরাকীর্তি সংগ্রহের জন্যেও উপার্জিত অর্থ বেহিসাবি ভাবেই খরচে নষ্ট করে। বস্তুত বেহিসাবি খরচের মধ্যেই যেন এই মানুষের মানসিকতার পরিচয় স্পট হয়ে উঠে। ফুটে উঠে তার ব্যক্তিগত মানব প্রবণতা, তার ঝোঁক কিংবা তাদের স্বাতেন্ত্র্যর যথার্থ পরিচয়। সুতরাং- মানুষ অপব্যয় করে নিজ খেয়ালেই, কোনো বাঁধা ধরা নিয়মের অনুসারী হয় না। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় যার যা খরচের চেয়ে বাজে খরচেই মনোনিবেশ করে। এ স্বভাবের মানুষকে দেখলেই চেনা যায়।
বলতে চাই তা হলো এই, অনেক মানুষের মধ্যেই সঞ্চয়ের গুণটি নেই তা বলবো না। অবশ্যই দেখা যায় তারা সঞ্চয়ী। কিন্তু তারা আবার যেন হিসাব রাখেন না যে টাকা কোথা থেকে আসছে আবার কোথায় যাচ্ছে। লক্ষ্যে পৌঁছাতেই হলে আপনার কী করতে হবে সে বিষয়ে প্রায়ই উদাসীনতা বহু জনের দেখা যায়। খরচের সঠিক হিসাব অনেক সময়ই থাকে না তাদের কাছে। আসলেই অর্থের আসা-যাওয়ার হিসাবটা স্পষ্ট থাকতে বেহিসাবি স্বভাবটা আস্তে আস্ত দূর হবে। নয়তো বেহিসাবি হয়ে যাবেন।
মানুষদের আয় বৃদ্ধি হলে, আবশ্যই সেই ধরনের বেহিসেবি মানুষের চিন্তা ধারারও পরিবর্তন হবে।এটি সবচেয়ে ভালো সমাধান। অর্থ সঞ্চয় বৃদ্ধির চেয়ে যেন আয় বৃদ্ধি ভালো সমাধান বয়ে আনে। আবার আয় বাড়লে সে মানুষের অর্থ ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হয়ে আসে। সঞ্চয়ও বাড়ে তাছাড়া জীবন যাপনও উন্নত হতে পারে। তাই- বেহিসাবি স্বভাব দূর করে যে অর্থ সঞ্চয় করবেন। সেটাকে কাজে লাগিয়েই নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করা অবশ্যই সম্ভব। তবে বিনিয়োগে সাবধান হতে হবে। বাজে খরচের দিকে মনোনিবেশ না করে সেই মনটাকে অবশ্যই হিসেবে মধ্যেই আনা প্রয়োজন।
লেখকঃ  নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

১৩৮০ বছর আগে ৬১ হিজরির চতুর্থ মহররম এর  দিনে কুফায় নিযুক্ত ইয়াজিদের নরপিচাশ গভর্নর ইবনে জিয়াদ ‘কাজি শুরাইহ’ নামের এক দরবারি আলেম ও প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে নেয়া ফতোয়ার ভিত্তিতে হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ)-কে হত্যার জন্য জনগণকে উস্কানি দিয়েছে।

কুফার মসজিদে ইবনে জিয়াদ ওই ফতোয়া শুনিয়ে একদল মানুষকে ইমামের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে। ইবনে জিয়াদ কুফার মসজিদে সমবেত জনগণকে এই বলে হুমকি দেয় যে, তাদেরকে হয় ইমাম হুসাইনের (রাঃ) বিরুদ্ধে সেনা-সমাবেশ ঘটাতে হবে অথবা মৃত্যু-বরণ– এ দু’য়ের যে কোনো একটি পথ বেছে নিতে হবে! তারা যদি হুসাইন (রাঃ)’র বিপক্ষে যুদ্ধ করে তবে তাদের পুরস্কার দেয়া হবে বলেও জিয়াদ ঘোষণা দেয়।

ইবনে জিয়াদের নির্দেশে তৈরি করা কাজি শুরাইহ’র ওই ফতোয়ায় বলা হয়েছিল হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের তথাকথিত খলিফা ও ‘আমিরুল মুমিনিন’ ইয়াজিদের আনুগত্য করেননি, তাই তাকে দমন করা তথা তার রক্তপাত ঘটানো মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব।

কুফার ১৩ হাজার বিভ্রান্ত মুসলমান ইমাম হুসাইন (রাঃ)’র বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ওমর সাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। এদের মধ্যে শিমার বিন জিল জুশান ছিল ওই ১৩ হাজার সেনার চার জন গ্রুপ-লিডারের অন্যতম।

হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ)’র নেতৃত্বে কারবালার মহাবিপ্লব খোদাদ্রোহী ও মুনাফিক চরিত্রের অধিকারী উমাইয়া শাসকদের স্বরূপ উন্মোচন করেছিল। ইসলামের নামে ধর্মান্ধতা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ চালু করেছিল ইয়াজিদি শাসক গোষ্ঠী। উমাইয়াদের রাজতান্ত্রিক ইসলামে বসেছিল দরবারি আলেমদের মেলা। লাখ লাখ জাল হাদিস প্রচার করে ইসলাম সম্পর্কে ধুম্রজাল ও বিভ্রান্তি জোরদার করা হয়েছিল সে সময়।  ইসলামের খাঁটি নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা ও ভন্ড প্রকৃতির নেতাদের মাহাত্ম্য প্রচার করা ছিল তাদের স্বভাব।

উমাইয়া রাজশক্তি পক্ষ থেকে ইমাম হুসাইন (রাঃ) ও তাঁর মহান সঙ্গীদেরকে ‘ইসলামী হুকুমাতের’ বিরুদ্ধে বিদ্রোহী বলে প্রচার করা হয়েছিল। তাই ঐতিহাসিক বর্ণনায় দেখা গেছে, হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ)-কে হত্যার জন্য উদ্যত সেনাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল নামাজি। তারা বলছিল: তাড়াতাড়ি হুসাইনের মাথা কাট, নামাজ  বা জামায়াতে নামাজ আদায়ের সময় পার হয়ে যাচ্ছে !

এরা একবারও হয়তো চিন্তা করেনি যে, রাসূল (দঃ)’র আহলে বাইতের একজন মহান সদস্যকে তারা হত্যা করতে এসেছে! আর আহলে বাইত (দঃ)’র ওপর দরুদ পেশ করা ছাড়া নামাজ আদায় হয় না।

উল্লেখ্য জাহেলি যুগেও আরব মুশরিক ও কাফিররা  পবিত্র মহররম মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ করত না। কিন্তু উমাইয়া শাসনামলে মুসলমান নামধারী শাসকরা এতটাই হীন ও নীচ হয়ে পড়েছিল যে তারা রাসূলের (দঃ) নাতি ও তাঁর পরিবারকে এই নিষিদ্ধ বা পবিত্র মাসেই নৃশংসভাবে শহীদ করতে কুণ্ঠিত হয়নি।

বাংলার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সে যুগের উমাইয়া শাসকদের প্রকৃতি তুলে ধরেছিলেন এভাবে:

ওরে বাংলার মুসলিম তোরা কাঁদ্।..তখতের লোভে এসেছে এজিদ কমবখতের বেশে !

এসেছে সীমার, এসেছে কুফা’র বিশ্বসঘাতকতা,ত্যাগের ধর্মে এসেছে লোভের প্রবল নির্মমতা !

মুসলিমে মুসলিমে আনিয়াছে বিদ্বেষের বিষাদ, …কাঁদে আসমান জমিন, কাঁদিছে মোহররমের চাঁদ।

একদিকে মাতা ফাতেমার বীর দুলাল হোসেনী সেনা,আর দিকে যত তখত-বিলাসী লোভী এজিদের কেনা।..

এই ধুর্ত্ত ও ভোগীরাই তলোয়ারে বেঁধে কোরআন,আলী’র সেনারে করেছে সদাই বিব্রত পেরেশান !

 এই এজিদের সেনাদল শয়তানের প্ররোচনায় হাসানে হোসেনে গালি দিতে যেত মক্কা ও মদিনায়।

সুত্রঃপার্সটুডে

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc