Monday 19th of August 2019 11:32:45 AM

মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো’র ৫০তম জন্মবার্ষিকীতে তার কবর জিয়ারত করেছেন মহানগর বিএনপির নেতারা।

সোমবার বনানী কবরস্থানে বিএনপি ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মো. আমিনুল হকের উদ্যোগে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফকরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হক রিয়াজ, জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবু, ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল মজিদসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে দেশের মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন সেই মর্যাদা রক্ষা করা হবে। আমরা দেশকে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাব।

তিনি বলেন, ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়া আমার লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। আমি সব কিছু উৎসর্গ করে এদেশের জনগণের ভাগ্য গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। জাতির পিতা এদেশের মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারলে আমার বাবার আত্মা শান্তি পাবে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে এবং যাবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে বসাতে পেরেছি। সামনের দিকের এ অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশকে কেউ যেন খাটো করে দেখতে না পারে, এ জন্য তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং দেশ যে মর্যাদা অর্জন করেছে, তা যেন অটুট থাকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান আত্মত্যাগের মহিমা নিয়েই ঈদ এসেছে। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান যিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। সেই মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। এখন আগস্ট মাস চলছে, ১২ তারিখ। এই দিনও তিনি বেঁচে ছিলেন। আমরা বিদেশে ছিলাম। ১৩ আগস্ট সবশেষ আমাদের সঙ্গে কথা হয়। ১৫ আগস্ট আমার বাবা, মা, ভাইসহ সবাইকে হত্যা করা হয়। আগস্ট মাস আমাদের জন্য কষ্ট, বেদনা নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, আপনারা তাদের সবার জন্য দোয়া করবেন। আজকের এই দিনে আত্মত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে প্রত্যেকেই যাতে দেশের মানুষের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে পারে সেই কামনা করছি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী ও প্রবাসী বাঙালি যারা আছেন সবাইকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানান।

                  ধারালো দেশীয় অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ে আইন চাই

দেশে অপরাধিদের সনাক্ত করতে হলে ধারালো দেশীয় অস্ত্রের প্রকৃত বিক্রেতা ও তৈরিকারক ও বহনকারীদের রেজিস্ট্রেশন এর আওতায় এনে প্রকৃত বিক্রেতা ও তৈরিকারকদের লাইসেন্স নম্বার দেওয়া হউক এবং অস্ত্রের গায়ে তারিখসহ রেজিঃ নং লিখে রেজিস্টার খাতা ফিলআপ করে নির্দিষ্ট স্থানে এবং ক্রেতার বায়োডাটা ও দেশীয় অস্ত্রের নম্বার কোড লিপিবদ্ধ করে বিক্রয় করার জন্য প্রশাসনের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

কারণ গত কয়দিনে ঈদ মৌসুমে দেশীয় অস্ত্রের ক্রয় বিক্রয় দেখে এই অনুরোধ করছি। এতে নম্বার বিহীন দেশীয় অস্ত্রকে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং কোরবানির কাজে নিজ নিজ ঘরে রাখা দেশীয় অস্ত্র গুলোকে সনাক্ত করা সহজ হবে।কখনো কখনো নিরপরাধ মানুষকেও ঘরে রাখা কুরবানির অস্ত্রকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ বলে চালিয়ে দেওয়া হয় যা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখা যায়।আবার একজন থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র অন্যের নামে ও চালিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

অপরদিকে অপ্রীতিকর বহু ঘটনায় ক্লু পাওয়া যায়না এতে ক্লু পেতে সুবিধা হবে বলে আশা করছি।  লেখকঃ গবেষক,কলামিস্ট,কবি ও সাংবাদিক।  

 

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঐতিহাসিক ঈদগাহে ১৯২তম জামাত এবং দিনাজ পুরের  গোড়-এ শহীদ বড় ময়দানে ৬ষ্ঠ বারের মত শান্তিপূর্ণভাবে ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত দেশের বৃহত্তম এই জামাতে ইমামতি করেন শহরের মারকাস মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা হিফজুর রহমান খান।

এবারের জামাতে লক্ষাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন শোলাকিয়া মাঠ কমিটির সদস্য সচিব ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কাদের।

অন্যদিকে ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছিল চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং এপিবিএন সদস্য ছাড়াও দুই প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। পুরো মাঠ নজরদারির জন্য দু’টি ড্রোন উড়ে বেড়িয়েছে শোলাকিয়ায়। বসানো হয়েছিল আর্চওয়ে, ওয়াচ টাওয়ার ও তল্লাশি চৌকি। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসল্লিদের তল্লাশি করে ঈদগাহে ঢুকতে দেওয়া হয়।

জামাত শুরুর আগে ঈদগাহ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী সমাগত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে শান্তিপূর্ণ ঈদ জামাত আয়োজনে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে তিনি মাঠে আসা লাখো মুসল্লিকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এছাড়াও জেলা পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ মুসল্লিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। জামাত শেষে মোনাজাতে ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমান খান বিশ্ব মুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। জীবিত মৃত সকলের নাজাত ও হেদায়েত কামনা করেন। পাশাপাশি পশু কোরবানি কবুল করার জন্যও সৃষ্টিকর্তার প্রতি প্রার্থনা জানান।

তিনি রাষ্ট্রপতি ও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জাতির উন্নয়নে যেভাবে কাজ করছেন তা যেন অব্যাহত থাকে সেজন্য মহান আল্লার কাছে ফরিয়াদ জানান।

এই ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাতে লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নেন। তবে কোরবানির আনুষ্ঠানিকতার কারণে ঈদুল আজহার জামাতে ঈদুল ফিতরের তুলনায় মুসল্লির সংখ্যা কম হয়।

জামাত উপলক্ষে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দু’টি বিশেষ ট্রেন চলাচল করে। ট্রেন দু’টির একটি ভৈরব থেকে এবং অপরটি ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে কিশোরগঞ্জ আসে এবং নামাজ শেষে মুসল্লিদের নিয়ে ভৈরব ও ময়মনসিংহের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

অপরদিকে  দিনাজপুরের গোড়-এ শহীদ বড় ময়দানে সুষ্ঠুভাবে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার   আয়োজিত এই ঈদের জামাতে ৪ লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হয়েছে বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা।

সোমবার সকাল সাড়ে ৮ টায় অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা শামসুল ইসলাম কাশেমী। জামাতে সুপ্রিম কোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।

ঈদ জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আয়োজনে কোন কমতি ছিল না। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, অস্ত্রধারী আনসার, ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা এবং সাদা পোশাকে পুলিশের নিরাপত্তার বলয় ছিল মাঠজুড়ে। সবমিলিয়ে সুষ্ঠুভাবে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোড়-এ শহীদ বড় ময়দানের আয়তন প্রায় ২২ একর। ৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মিনার তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।  ঈদগাহ মাঠের মিনারের প্রথম গম্বুজ অর্থাৎ মেহরাব (যেখানে ইমাম দাড়াবেন) তার উচ্চতা ৪৭ ফিট। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ৪৯টি গম্বুজ। এছাড়া ৫১৬ ফিট লম্বায় ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো মিনার সিরামিক্স দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ঈদগাহ মাঠের দু’ধারে করা হয়েছে ওজুর ব্যবস্থা। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক লাইটিং। রাত হলে ঈদগাহ মিনার আলোকিত হয়ে ওঠে।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ চলছে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইসলাম ধর্মের একটি গুরুত্ব পুর্ণ অনুষ্ঠান পবিত্র ইদুল আযহা পালন। মুসলিমরা আজ কুরবানির মাধ্যমে মহা আনন্দে দিনটি পালন করছে। এ উপলক্ষ্যে নড়াইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সোমবারে সকাল ৭ টায় ঈদ উল আযহার নামাজের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নড়াইল কেন্দ্রীয় পৌর ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নড়াইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) এ, এফ,এম আমিনুল ইসলাম ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) কাজী মাহবুবুর রশীদ, সিভিল সার্জন ডাঃ আসাদ-উজ জামান মুন্সিসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা ঈদ জামায়াতে শরিক হন।

ঈদের প্রধান জামায়াতে ইমামতি করেন নড়াইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা স,ম শফিউল্লাহ। এ সময় মসজিদের প্রধান ইমাম মাওলানা আশরাফ আলী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। দেশ জাতির কল্যান কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

এছাড়াও জেলার মোট ৫১৯টি ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

আজ সোমবার পবিত্র ঈদুল আযহা। দেশব্যাপী আনন্দের বন্যা বইছে। এ উপলক্ষে দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি “ভাঁটির রত্ন” আলহাজ্জ মো. আবদুল হামিদ আজ বঙ্গভবনে সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে পবিত্র ঈদউল আযহার শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বঙ্গভবনে  আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোহম্মদ জয়নাল আবেদিন।

তিনি আরও জানান, মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রথমে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করবেন। পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সিনিয়র রাজনীতিবিদ, বিচারপতি, সংসদ সদস্যবৃন্দ, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের জনগণের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

এরআগে রাষ্ট্রপতি ঈদের দিন সকাল ৮ টায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণস্থ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইয়েমেনের পদত্যাগী প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদির অনুগত যোদ্ধারা জনপ্রিয় আনসারুল্লা বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে পরাজিত হওয়ার পর ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি রাজধানী সানা থেকে পলায়ন করেন। এরপর আনসারুল্লাহ ও তাদের সহযোগী যোদ্ধারা রাজধানী সানার পুরো নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এরপর সৌদি আরব ইয়েমেন বিরোধী সামরিক জোট গঠন করে এবং ব্যাপক হামলা চালিয়ে আনসারুল্লাহর কাছ থেকে রাজধানী সানা দখল করে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু চার বছরে সৌদি আরব তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি বরং ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা আগের চেয়ে আরো বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

আনসারুল্লাহর হাতে রাজধানী সানার পতন ঘটার পর এডেন হচ্ছে ইয়েমেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর যা কিনা সৌদিপন্থি মানসুর হাদির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আমিরাত সম্মিলিতভাবে গত চার বছর ধরে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে এলেও এডেন নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তারা কখনোই ঐক্যবদ্ধ ছিল না। বরং সৌদি আরবের মোকাবেলায় দক্ষিণ ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য আমিরাত সরকার পৃথক অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠন করে এবং নিজস্ব অনুগত মিলিশিয়া বাহিনীকে শক্তিশালী করে। সর্বশেষ তুমুল লড়াইয়ে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আমিরাতের অনুগত বাহিনী সৌদিপন্থি মিলিশিয়া বাহিনীকে পরাজিত করতে সক্ষম হয় এবং এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।

এ ঘটনা নিঃসন্দেহে সৌদি আরবের জন্য অনেক বড় পরাজয়। এ ব্যাপারে এক প্রতিক্রিয়ায় সৌদিপন্থি পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদির তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল রিয়ানি বলেছেন, এডেনের পতন সৌদি আরবেরই পরাজয়। তিনি আরো বলেছেন, এ ব্যাপারে হাদি সরকার কোনো ছাড় দেবে না এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে ব্যবহার করবে।

যাইহোক, এডেন শহরের কেন পতন ঘটল এবং কেন এটাকে সৌদি আরবের জন্য বিরাট পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ধারণা করা হচ্ছে, এডেনের পতনের বড় কারণ হচ্ছে পদত্যাগী মানসুর হাদি সরকারের অনুগতরা হতাশ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া, দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্যও আবুধাবি ও রিয়াদের মধ্যকার বিরোধের অন্যতম কারণ। যার পরিণতিতে তাদের মধ্যকার জোট দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং একপক্ষ অন্য পক্ষকে হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এ অবস্থায় সৌদিপন্থিরা কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছে এবং তাদের মধ্যে কোনো আশা বা প্রেরণা কাজ করছে না। অন্যদিকে দক্ষিণ ইয়েমেনে আমিরাতপন্থী অন্তর্বর্তী পরিষদের প্রধান এইদ্রুস আয যাবিদির অনুগতরা বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিল।

এডেনের পতনের তৃতীয় কারণ হচ্ছে, ইয়েমেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এবং ইয়েমেনের জনগণের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় মানসুর হাদির অনুগত অনেক যোদ্ধা ও কমান্ডাররা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক ছিল না। এমনকি মানসুর হাদির অনুগত অনেকেই আমিরাতপন্থী অন্তর্বর্তী পরিষদে যোগ দিয়েছে।

এসব কারণে এডেনের পতন ঘটেছে। এ অবস্থায় ইয়েমেনের ব্যাপারে সৌদি আরবের নীতি কেমন হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। এমনকি ইয়েমেন যুদ্ধের মোড় ঘুরে যেতে পারে বলেও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।পার্সটুডে

রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ ১৯ বিজবি’র জৈন্তাপুর ক্যাম্পের অভিযানে ৬৫বস্তা সুপারী সহ ১টি নৌকা আটক।
১১ আগষ্ট রবিবার সকাল ১১টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের ছোট নয়াগাং নদীতে অভিযান পরিচালনা করে ১৯বিজিবি জৈন্তাপুর ক্যাম্প কর্তৃক ৬৫বস্তা ভারতীয় সুপারী সহ ১টি নৌকা আটক করতে সক্ষম হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,প্রতিনিয়ত জৈন্তাপুর উপজেলা বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে ভারত হতে চোরাকারবারীরা বিভিন্ন প্রকার কাঁচামাল, সুপারী, মদ, ইয়াবা, মোটর সাইকেল, ভারতীয় নি¤œমানের চা-পাতা, বিভিন্ন প্রজাতীর সিগারেট, নাছির বিড়ি ও গরু মহিষ বাংলাদেশে নিয়ে আসে। এসকল ভারতীয় পন্য সামগ্রী নিরাপদে নিয়ে আসার রোড হিসাবে বর্ষাকালে উপজেলার ছোট নয়াগাং, বড় নয়াগাং ও সারী নদী দিয়ে নৌকা যোগে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

তারা জানায় সুপারী, বিডি ও সিগারেটের বস্তায় মধ্যে সুকৌশলে ভারতীয় মদ, ইয়াবা পাচার করছে। চোরাকারবারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলেতে সাহস পায় না। যার ফলে প্রতিনিয়ত এসকল মাদক দ্রব্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
তারা আরও জানায় উপজেলার হরিপুরের চোরাকারবারী দলের অন্যতম সদস্য আব্দুর রফিক উরফে লোদাই হাজীর ৪টি নৌকা দিয়ে ২৭৫বস্তা ভারতীয় সুপারীর চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করে। জৈন্তাপুর ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা জানতে পেরে নয়াগাং নদীতে অভিযানে নামে।

এসময় তারা ৬৫বস্তা সুপারী সহ ১টি নৌকা আটক করে জৈন্তাপুর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এদিকে বিজিবির উপস্থিতি বুঝেতে পেরে চোরাকারবারী চক্রের সদস্যরা ৩টি সুপারী বুঝাই নৌকা সুকৌশলে নদীর পানিতে ডুবিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।
এবিষয়ে জানতে ১৯বিজিবির জৈন্তাপুর ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার সিগন্যাল তোফাজ্জল হোসেন প্রতিবেদককে আটকের কথা নিশ্চিত করে বলেন- গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে ছোট নয়াগাং নদীতে অভিযান পরিচালনা করে ৬৫বস্তা সুপারী সহ নৌকা আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে আসি।

তিনি আরও বলেন আমি এই ক্যাম্পে নতুন যোগদান করেছি। চোরাচালান বন্ধে আপনারা আমাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন চোরাকারবারী যত শক্তিশালী হউক না কেন, আমরা সীমান্তের চোরাকারবার বন্ধ করতে সর্বদা প্রস্তুত।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে থানা পুলিশের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (১১আগস্ট)দুপুরে তাহিরপুর থানা পুলিশের আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ও হাট-বাজারে ও তাহিরপুর থানা এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
এসময় তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে তাহিরপুর থানার এস আই দীপঙ্কর বিশ্বাস দ্বীপসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোঃ আতিকুর রহমান বলেন,ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। একমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই ডেঙ্গু থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। তাই আমরা আমাদের এলাকা পরিস্কার পরিছন্ন রাখবো।
তিনি আরো জানান,ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর,যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এসব মশা বিভিন্ন টবে ও পরিস্কার পানিতে বাস করে। সাধারণত সকাল এবং সন্ধ্যার কিছু আগে এডিস মশা তৎপর হয়ে ওঠে। এডিস মশা কখনো অন্ধকারে কামড়ায় না। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কাউকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশা ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু জ্বর ছড়িয়ে থাকে। সাধারণত চিকিৎসাতেই ডেঙ্গু জ্বর সেরে যায়।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc