Monday 19th of August 2019 11:23:07 AM

যাচ্ছে খাদ্য দ্রব্য মটর, আসছে ইয়াবা, মদ ও মাদক সামগ্রী

জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধি: ঈদকে সমানে রেখে জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্ত জুড়ে চোরাকারবারীরা সক্রিয়, নিষ্কৃয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে খাদ্য দ্রব্য সামগ্রী মটর, প্লাষ্টিক সমাগ্রী বিনিময়ে আসছে জিরা, নি¤œমানের চা-পাতা, ইয়াবা, মদ ও নাছির বিড়ি।

সরেজমিনে জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকাঘুরে দেখা যায়, নলজুরী, আলুবাগান, মোকামপুঞ্জি, আদর্শগ্রাম, ঝিঙ্গাবাড়ী, মিনাটিলা, কেন্দ্রী হাওর, কেন্দ্রী, ডিবিরহাওর, ফুলবাড়ী, ঘিলাতৈল, টিপরাখলা, কমলাবাড়ী, গোয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, কালিঞ্জি, জালিয়াখলা, খালাখাল চা-বাগান, আফিফা নগর চা-বাগান, তুমইর, বালীদাঁড়া, সিঙ্গারীরপাড় এলাকা দিয়ে দিন দুপরে চোরাকারবারী চক্রের সদস্যরা সীমান্তের ওপার থেকে বানের পানির মত নিয়ে আসছে ইয়াবা, মদ, নাসির বিড়ি, ভারতীয় নি¤œ মানের চা-পাতা, জিরা, ভারতীয় বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট ও ভারতীয় রোগাক্রান্ত গরু, মহিষ। বিনিময়ে বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে হাজার হাজার বস্তা মটর ও প্লাষ্টিক সামগ্রী। মাঝে মধ্যে বিজিবি লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করলে রাতের অন্ধকারে যেন ভারত বাংলা একাকার হয়ে যায়। চেরাকারবারী দলের সদস্যরা হলেন আনোয়ার হোসেন, রাম কিশ্বাস, হারুন মিয়া, আলমগীর হোসেন, শ্রমিকনেতা সাইফুল ইসলাম, আমিন উদ্দিন, মানিক মিয়া, এমরান হোসেন, সোহেল আহমদ, ইউনুছ মিয়া, গুলজার মিয়া, আব্দুল করিম, আব্দুল্লাহ মিয়া, লালা মিয়া, পারভেজ মিয়া, নজরুল ইসলাম নজাই, নাজিম মিয়া, আব্দুল মন্নান, সোহেল আহমদ, বিলাল মিয়া, সেলিম আহমদ, রহিম উদ্দিন, লোদাই হাজি, আব্দুর রশিদ, রফিক আহমদ, হেলাল উদ্দিন সহ প্রায় ২শতাধিক চোরাকারবারী। ঈদকে সামনে রেখে জৈন্তাপুর সীমান্ত যেন অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এদিকে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে একাধিক বার স্থানীয় সংবাদকর্মীরা বিষয়টি উত্থাপন করা হলে কোন কাজ হচ্ছে না। এদিকে সীমান্তের এসব কারবার নিয়ে ৩১ জুলাই সকাল অনুমান ১০টায় চোরাকারবারী দলের সদস্য রাম বিশ্বাস, আলমগ্রীর ও শ্রমিকনেতা সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ভারতের মুক্তাপুর বস্তির রাবিশ নামের এক খাসিয়াকে ধরে নিয়ে আসে। সংবাদকর্মীরা বিষয়টি জানার পর রাত ৯টায় ছেড়ে দেওয়া হয়। চোরাকারবারীদের অপতৎপরতার কারনে সীমান্ত এলাকার বাসিন্ধারা এখন নিরাপদ জীবন যাপন করতে পারছে না। এসবের কারনে গত জুলাই মাসে ভারতীয় গরু পাচারের সময় সীমান্তের বাসিন্ধাদের গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জুলাই মাসে ১টি ভারতীয় গরু এবং ৩টি স্থানীয় ইউপি সদস্যার গরু সহ চোরাইগরু বহনকারী পিকআপ আটক করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সম্প্রতি উপজেলা বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার বস্তা মটর সাপ্লাই হলেও সীমান্ত আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারন সম্পাদক সচেতন দেশবাসীর দৃষ্টি আর্কষন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইস বুকে স্যার্টাস দেন নি¤œ তার স্যার্টাসটি হুবুহু তুলে ধরা হল, %%সচেতন ও দেশ প্রেমিকদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি%% দেশটা নাকি ভারতের অঙ্গরাজ্য হয়ে গেল এ দেশেকি দেশদরদী জনগনের অভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার টন খাদ্য শস্য দেদারছে লালাখাল সীমান্ত দিয়ে ভারত চলে যাচ্ছে, আর বিনিময়ে সীমান্ত দিয়ে আসছে মাদক ও ভারতীয় সীগারেট। যার কালো হাতের থাবায় ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ,, আমাদের খাদ্য চাহিদা কি আর নাই, আমাদের কি খাদ্য চাহিদা পুরন হয়ে গেসে। এ সবের সুযোগ প্রশাসনের কিছু দুর্নীতি বাজ কর্তা ব্যক্তিরা বসে বসে মাল লুটসে, এসব অপকর্মকি দেখার কেউ নেই। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আমরা এসব অপকর্মের জবাব দেবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আসুন সচেতন দেশবাসী সকলে মিলে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি।।

এবিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন- আমি দায়িত্ব গ্রহনের পর পর তিনটি আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি কঠোর হওয়ার আহবান জানাই কিন্তু কেন তারা বিষয়টি দেখছে না তা নিয়ে আমি শংঙ্কিত। আগামী জেলা আইন শৃঙ্খলা বৈঠকে বিষয়টি তুলো ধরব।

এবিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বনিক বলেন- আমি আজ ৬দিন হয়েছে এই থানায় যোগদান করেছি। যোগদানের দ্বিতীয় দিন ৫ বোতল অফিসার চয়েছ মদ সহ একজনকে আটক করি হাজতে প্রেরন করেছি। আমার অঙ্গীকার জৈন্তাপুরে হয় মদ থাববে, না হয় আমি থাকব।

এম ওসমানঃ  যশোরের বেনাপোল বন্দর এলাকা থেকে অবৈধভাবে আমদানিকৃত সাড়ে ১২ কোটি টাকা মূল্যের আড়াই টন ভায়াগ্রা পাউডার (যৌন উত্তেজক ঔষধের) সর্ববৃহৎ একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
বুধবার আটকের বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী বলেন, একটি অসাধু চক্র ভারত থেকে আমদানি যোগ্য পণ্যের আড়ালে সোডিয়াম স্টার্চ গ্লাইকোলেট ঘোষণা দিয়ে ভায়াগ্রা পাউডারের একটি পণ্য চালান আমদানি করে ছাড় নেওয়ার সময় পরীক্ষণ করে চালানটি জব্দ করা হয়।
পরে বেনাপোল কাস্টমস ল্যাব,ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, বিসিএসআইআর, বুয়েট ও কুয়েয়ে পণ্যের নমুনা পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় আমদানিকৃত আড়াই টন পাউডারটি ভায়াগ্রা। যার মূল্য সাড়ে বার কোটি টাকা।
অভিযুক্ত আমদানিকারকটি হলো, ঢাকার মিটফোর্ড রোডের ৪৭/সি  এলাকার মেসার্স বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ। রপ্তানিকারক ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আ বি ট্রেডার্স । অবৈধ আমদানিতে সহযোগী ছিলো সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান বেনাপোলের সাইনী শিপিং সার্ভিসেস।
এর আগে গত জুলাই মাসে একইভাবে ২০০ কেজি পাউডার ভায়াগ্র আটক করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী আরো বলেন,  এ অপরাধের জন্য ইতোমধ্যে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সাইনী শিপিং সার্ভিসেস এর লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। জালিয়াতি ও অবৈধ পণ্য সুকৌশলে আমদানি অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি  প্রতিবেদনের পর দোষীদের বিরুদ্ধে  ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এম ওসমান: যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে ৩২ পিস স্বর্ণের বার (২.৮ কেজি ওজনের) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।
বুধবার (৭ আগষ্ট) সকালে বেনাপোল বাজারের দূর্গাপুর মোড় থেকে এ স্বর্ণের চালানটি উদ্ধার করা হয়। তবে এসময় চোরাচালানী চক্রের কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র যশোর-৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোঃ সেলিম রেজা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে নায়েব সুবেদার  আব্দুল মালেক এর নেতৃত্বে একটি টহলদল বেনাপোল বাজারের দূর্গাপুর মোড় থেকে একটি মোটরসাইকেলের পিছু ধাওয়া করে। এসময় চালক মোটরসাইকেল ফেলে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলটি তল্লাশি করে সাইলেন্সার পাইপের মধ্যে বিশেষ কায়দায় ফিটিং করা ৩২ পিস স্বর্ণেরবার  উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বারের আনুমানিক মূল্য ১,২৩,২০,০০০/-(এক কোটি তেইশ লক্ষ বিশ হাজার) টাকা বলে তিনি জানান।

এম ওসমান, বেনাপোলঃ  ভালো কাজের প্রলোভনে বিভিন্ন সময়ে সীমান্তের অবৈধপথে ভারতে পাচার হওয়া রাজগঞ্জ মনিরামপুরের মৃত কাদেরের কন্যা সুমাইরা খাতুন (৩০) নামে এক বাংলাদেশি তরুণীকে ভারত সরকারের দেয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তরুণীকে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে তুলে দেয়। লাইট হাউজ নামের একটি এনজিও সংস্থা তরুণীদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে নিজেদের জিম্মায় নিয়েছে।
লাইট হাউজ যশোর শাখার ইনচার্জ আনিসুজ্জামান ও বেনাপোলের ইনর্চাজ মানসুরা খাতুন জানান, সংসারে অভাব-অনটনের কারণে সাড়ে ৪ বছর আগে এই বাংলাদেশি তরুণী দালালের খপ্পরে পড়ে সীমান্তের অবৈধপথে ভারতে যান। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে। সেখান থেকে মাদ্রাজের সোস্যাল সার্ভিস ইমারেল রিচার্ড রাইটনাউ ফাউন্ডেশন নামে একটি শেল্টার হোম তাদেরকে ছাড়িয়ে নিজেদের আশ্রয়ে রাখে।
পরে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগের মাধ্যমে বিশেষ ট্রাভেল পারমিট আইনে তাকে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। রাতেই বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে নিয়ে যশোরে রওনা দিয়েছেন তারা। পরে তাদের অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদেরকে লাইট হাউজ এনজিওর হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের গরু চোরাচালানী ও নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য অবৈধভাবে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ৩টি কোরবানীর গরুর হাট বসাতে তৎপরতা শুরু করেছে সরকার বিরোধী ও সুবিধা ভোগী একটি মহল। এর মধ্যে জনতা বাজার ও শান্তিপুর বাজার সরকার বিরোধী ও স্বার্থনেশ্বী মহল প্রশাসনকে বৃদ্ধাগুল দেখিয়ে নাকের ডগায় হাট বসিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অপরদিকে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নিয়ে নিরব ভুমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে উপজেলার জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা ঝড় উঠেছে।

অবৈধ ভাবে কোন কোরবানীর হাট বসানোর সুযোগ না দিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবার জন্য উপজেলার বৈধ ইজারাদারগন দাবী জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানা যায়,জেলার তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর,উত্তর বড়দল ইউনিয়নের জনতাবাজার ও শান্তিপুর বাজারে কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তে গরু চোরাচালানীদের মাধ্যমে চুরাই পথে গরু এনে চাঁদাবাজি ও অধিক মুনাফা লাভের আশায় দীর্ঘ দিন ধরে উপজেলা ও জেলার উধর্বতন কর্মকর্তাদের ভুল বুজিয়ে ও সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত করে ফায়দা লুটতে চাইছে একটি মহল।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে বিজিবি কঠোর নজরদারী রাখলেও সীমান্তের চিহ্নিত চোরাচালানীরা তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঐ সরকার বিরোধী স্বার্থনেশ্বী মহলের সহযোগীতায় বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছে। যদি ঐ তিনটি বাজারে কোরবানির গরুর হাট বসানো হয় তাহলে ভারত থেকে চুরাই পথে অবৈধভাবে আসা দুবর্ল ও রোগাক্রান্ত গরু সয়লাব হবে উপজেলায়। আর সারা বছরের জন্য এসব গরু বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া হবে। আর রোগাক্রান্ত গরু খেয়ে মানুষ জন রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভবাবনা রয়েছে অন্য দিকে সরকার ও ব্যবসায়ী এবং ইজারাদাগন ক্ষতি গ্রস্থ হবে। তাই প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেবার দাবী জানান সর্বস্থরের জনসাধারন।

এছাড়াও উপজেলার বাদাঘাট বাজার ব্যবসা বানিজ্যের প্রান কেন্দ্র এবং দীর্ঘ দু-যুগেও বেশী সময় ধরে গরুর হাট হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। যার ফলে এবাজারটি ইজারাদারগন প্রচুর পরিমানে সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ইজারা আনে। এখন এই বাজার রেখে আরো বাজার হলে ইজারাদার গন ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ফলে আগামীতে আর কেউই সরকারকে অধিক রাজস্ব দিয়ে বাদাঘাট বাজারটি ইজারা আনবে না। এটি সরকারের বর একটি রাজস্ব খাত তা বিবেচনায় রাখা উচিত বলে মনে করেন জেলার সচেতন মহল।

বাদাঘাট বাজারের ইজারাদার হুমায়ুন কবির ক্ষোভের সাথে জানান,বাদাঘাট বাজারটি আমরা সরকারী ভাবে সকল নিয়ম মেনে ইজারা এনেছি। এখন যদি এই বাজারের এক কিলোমিটার দূরে আরো দুটি বাজার বসায় আমি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। আমাদের ক্ষতি করার জন্য চোরাচালানীদের সুবিধা দিয়ে নিজেদের চাঁদাবাজি আর স্বার্থ হাসিল করার জন্য মানববন্ধন আর বিভিন্ন ভাবে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করছে একটি মহল আমরা এর নিন্দা জানাই। সেই সাথে অবৈধ ভাবে জনতা বাজার ও শান্তিপুর বাজার গরুর হাট বসানো বন্ধের দাবী জানাই।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণ সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান,প্রতি বছরেই উপজেলায় সর্ব সাধারণের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে ঈদ উপলক্ষে উপজেলায় সকল চেয়ারম্যানগনে উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থান গরুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবার চেয়ারম্যানগন মাসিক সমন্নয় সভায় হঠাৎ করেই কোন কারন ছাড়াই সভা বয়কট করায় কোন বিষয়েই রেজুলেশনের করা হয় নি। যার জন্য এই অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এর দায় দায়িত্ব চেয়ারম্যানদের কেই নিতে হব।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ জানান,আমার জানা মতে এই দুটি বাজার ইজারা দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার জন্য বলেছি।

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়ায় শিশু শ্রেণির ছাত্রী (৬) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এঘটনায় আজ বুধবার ভোর রাতে ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ আগষ্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটলেও মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ধর্ষিতা শিশুকে তার বাবা-মা চিকিৎসার জন্য লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। বর্তমানে শিশুটি নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। মল্লিকপুর ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
ধর্ষিতা শিশুর মা(রাবেয়া বেগম) অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে (শিউলী) মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাঁচুড়িয়া গ্রামের মৃত মোবারেক শেখের ছেলে চটপটি বিক্রেতা আকরাম শেখ (৫৫) কিছু খাবারসহ ১০ টাকা হাতে দিয়ে ফুসলিয়ে পাঁচুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাশর্^বর্তী বাগানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ওই শিশুর মা পরের বাড়িতে কাজ করেন এবং শিশুর পিতা (আকুব্বর শেখ) ভ্যান চালক।

পরের বাড়িতে কাজ করবার জন্যে চলে যাওয়ায় বাড়িতে ছিলেন না শিশুর মা। বাড়িতে এসে ওই শিশু তার ছোট বোন (৫) মরিয়মকে ঘটনার কথা জানালে মরিয়ম তার ফুপু রহিমাকে ঘটনা বলে দেয়। বিকালে শিশুটি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়লে রহিমার কাছ থেকেই শিশুর মা ও বাবা বিষয়টি প্রথম জানতে পারে। এসময় শিশুটিও তার বাবা মাকে ঘটনা খুলে বলে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসার জন্য লোহাগড়া হাসপাতালে শিশুটিকে আনে তার বাবা-মা।
লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের ডাক্তার রিপন কুমার ঘোষ বলেন, শিশুটির গোপন অঙ্গে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ মোকাররম হোসেন বলেন, এঘটনায় লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত আকরামকে আজ বুধবার ভোর রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডাঃ মশিউর রহামন বাবু জামান, ধর্ষনের শিকার শিশুটির প্রাথমিক মেডিকেল সম্পন্ন হয়েছে।

নড়াইল প্রতিনিধি: মাদককে জিরো টলারেন্স আনতে হবে,মাদকের সাথে সে যেই হোক তাদের ধরতে হবে। আমরা চাই যারা মাদক ব্যাবসার সাথে যুক্ত ,তারা ধরা পড়লে কেউ যেন ছাড়াতে না যাই –নড়াইলে জেলার পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময় সভায় এ কথা বলেন নড়াইল -২ সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্তুজা।আজ বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট ওয়ানডে দলের অধিনায়ক সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্তুজা।
জেলা প্রশাসক আনজুমান আরার সভাপতিত্বে সভায়, পুলিশ সুপার মোহম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ) কাজী মাহবুবুর রশীদ,সিভিল সার্জন ডাঃ আসাদ-উজ জামান মুন্সি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডঃ সুবাস চন্দ্র বোস,সদর হাসপাতালের তত্ত্বধায়ক ডাঃ মোঃ শাকুর ,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর,সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গনপূর্ত, জনস্বাস্থ্য বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলীগন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাগন, জনপ্রতিনিধি,সরকারি কর্মকর্তাগন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সংসদ সদস্য বলেন , মাদকমুক্ত নড়াইল গড়তে সকলের সহযোগীতা চাই। মাদকের সাথে যুক্ত,মুলত যারা মাদক বিক্রি কওে তাদের কোন সুযোগ দেয়া হবে না। আমরা চেষ্টা করছি সামাজিক ভাবে এ সচেতনতা বাড়াতে কোন মাদক ব্যাবসার সাথে যুক্ত কেই ধরা পড়লে , কেউ যেন ছাড়াতে না আসে।

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধি: সাবেক সেনা অফিসার ও জৈন্তাপুর উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান’র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন, বিভিন্ন মহলের শোক।
গত ৬ আগষ্ট সকাল ১১টায় হঠাৎ করে অসুস্ত হয়ে পড়েলে রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মহান মুক্তিযোদ্ধের সূর্য সন্তান জৈন্তাপুর উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার মোঃ আব্দুল হান্নান ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহির রাজিউন)। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছার, তিনি ২ ছেলে ও স্ত্রী সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে যান।

৭ আগষ্ট বুধবার সকাল ১০টায় ক্যাপ্টেন রশিদ স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানের পক্ষ হতে বীরমুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার আব্দুল হান্নানের কফিনে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পন করেন আশরাফের নেতৃত্ব সেনা সদস্যের বিশেষটিম এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরীন করিম ও জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বনিকের নেতৃত্বে বীরমুক্তিযোদ্ধার কফিনে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পন করা হয়।

শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পন শেষে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী ও সেনাবাহিনী সদস্যরা পৃথক পৃথক ভাবে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানান মহান মুক্তিযোদ্ধে সক্রিয় অংশ নেওয়া এই সূর্ষ সন্তানকে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল হান্নানের নামাজে জানাজায় শরিকহন জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষে বীরমুক্তিযোদ্ধা আফতাব আলী, সিদ্দিকুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহী স¤্রাট, ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, জৈন্তাপুর উপজেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক লিয়াকত আলী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমদ বাবর, আ.লীগ নেতা আলা উদ্দিন, উপজেলা শ্রমীকলীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ, বিএনপি নেতা আব্দুস শুকুর, আব্দুল আহাদ, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম, সাবেক অর্থ সম্পাদক গোলাম সরওয়ার বেলাল সহ মুক্তিযোদ্ধা বৃন্দ, উপজেলার সর্বস্থরের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশনেন। জানাযা শেষে আসামপাড়া পাঞ্জেখানা কবরস্থানে সূর্য সন্তানের দাফন সমপন্ন করা হয়।
বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নানের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ-
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ইমরান আহমদ এম.পি শোক বার্তায় বলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান ছিলেন আমার অত্যান্ত কাছের মানুষ। তার মৃত্যুতে আমি গভীর ভাবে শোকাহত। তার অকাল মৃত্যুতে আমি সহ উপজেলার সর্বস্থরের মানুষ হারালো তাদের একজন প্রিয় অভিভাবকে। আমি তার বিদ্রোহী আত্মার মাগফিরাত ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এছাড়া আরও যারা শোক প্রকাশ করেন জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পলিনা রহমান, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি উপাদক্ষ্য শাহেদ আহমদ, জৈন্তাপুর অনলাইন প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, জৈন্তাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের পক্ষে সাবেক কমান্ডার সিরাজুল হক, ডেপুুটি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন, জৈন্তাপুর উপজেলা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কল্যাণ সমিতি, জৈন্তাপুর ষ্টেশন বাজার সমবায় সমিতি, জৈন্তাপুর ষ্টোন ক্রাশার মালিক সমিতি, জৈন্তাপুর ট্রাক মালিক ও চালক সমবায় সমিতি।

নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:  নওগাঁর আত্রাইয়ে পল্লীবিদ্যুতের দু’টি শক্তিশালী উপ-কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। এ দু’টি উপ-কেন্দ্র চালু হলে আত্রাইয়ে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাপ থাকবে না। ফলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবল থেকে মুক্তি পাবেন উপজেলার হাজার হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক।

জানা যায়, ৯০ এর দশকে আত্রাইয়ে পল্লী বিদ্যুতের কার্যক্রম চালু হয়। সে সময় হাতেগোনা কয়েক শ গ্রাহক ছিল সমগ্র উপজেলা জুড়ে। ১টি ফিডারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হতো বিদ্যুৎ। তাও আবার নিয়ন্ত্রীত ছিল নওগাঁর অধীন। বর্তমানে উপজেলার ৮ ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৫৩ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প, বাণিজ্যিক, আবাসিক ও দাতব্য সংযোগ। এসব গ্রাহকদের এলাকা ভিত্তিক ৬টি ফিডারে ভাগ করা হয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কয়েক বছর পূর্বে আত্রাইয়ে পল্লী বিদ্যুতের একটি সাব-স্টেশন গড়ে তোলা হয়। এ সাব-স্টেশন থেকে ৬ ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু বিপুল সংখ্যক সংযোগে বিদ্যুৎ সরবারাহ করতে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ পাওয়া যায় খুবই কম। ফলে প্রাপ্ত ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে উপজেলা সদর ফিডার সচল রাখলেও মফস্বঃল ফিডারগুলোতে লোড শেডিংয়ের চাপ থাকতো অনেক বেশি।

এদিকে “প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ” এ শ্লোগানকে বাস্তবায়িত করতে ২০১৮ সালে আত্রাই উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়। শহর থেকে গ্রামে প্রতিটি জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার ফলে এ উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে গেছে অনেক বেশি। এ চাহিদা মেটাতে নতুন করে ৩৩/১১ কেভি দু’টি উপ-কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন ভরতেঁতুলিয়া গ্রামে একটি ও হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের বান্দাইখাড়া বাজারে একটি উপ-কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। এর মধ্যে ভরতেঁতুলিয়া উপকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে প্রাথমিকভাবে তা চালু করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ উপকেন্দ্রগুলো পুর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেক কমে আসবে। বর্তমানে সচল ৬ টি ফিডারের গ্রাহকদের ১০ ফিডারের আওতায় আনা হবে। এতে করে বর্তমানের চেয়ে তারা অনেক বেশি বিদ্যুৎ পাবেন।

এ ব্যাপারে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আত্রাই জোনের এজিএম মো. ফিরোজ জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে বাস্তবায়ন করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। এলাকাবাসী যেন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পায় এবং লোড শেডিংয়ের কবলে পড়তে না হয় এ জন্য আত্রাইয়ে দুইটি শক্তিশালী ৩৩/১১ কেভি দু’টি উপ-কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের ফিডারগুলো অনেক লম্বা রয়েছে। এ উপকেন্দ্র দু’টি চালু হলে ফিডার সংখ্যা বেড়ে যাবে, তাতে প্রতি ফিডারের আওতায় গ্রাহক সংখ্যা কমে আসবে। ফলে ফিডার ভিত্তিক বিদ্যুতের চাপ কমে আসবে। তখন আর গ্রাহকদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে না।

নজরুল ইসলাম তোফা: ‘ঈদ’ আরবি শব্দ। আসলে এর অর্থটাই হচ্ছে ফিরে আসা। এই ফিরে আসা’কে ঈদ বলা হয় এ কারণে যে, মানুষ বারংবার একত্রিত হয়ে সাধ্য মতো যার যা- উপার্জন তা অনেক খুশিতে আল্লাহ্ পাকের দরবরে সোয়াব এর আশায় আনন্দ উৎসব করে। বলা যায়, সোয়াবের পাশা পাশি একে অপরের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ দূর হয়। সুতরাং ঈদকে দ্বারাই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাকে নিয়ামাত কিংবা অনুগ্রহে ধন্য করে থাকে। বারংবারই তাঁর ইহসানের নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে। আল্লাহ্ তায়ালার প্রতিই ভালোবাসা লাভের উদ্দেশ্যে কিছু বিসর্জন দেয়াকে কোরবানী বলা যেতে পাবে। সুতরাং আর্থিক ভাবেই সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপরেই কোরবানির হুকুম পালন ওয়াজিব হয়েছে। তাই সামর্থ্য থাকা সত্তে কেউ যদি কোরবানির মতো ইবাদত থেকে বিরত থাকে কিংবা কোরবানি না দেয়। তাহলে সেই ব্যক্তি অবশ্যই যেন গুনাহগার হবে। আল্লাহর হুকুমের আনুগত্যের মধ্যে কোরবানি একটি বিশেষ আমল। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে মহান আল্লাহ পাক মুসলিম উম্মাদের জন্য যেন ‘নিয়ামাত’ হিসেবেই ঈদ দান করেছে। হাদিসে বর্ণিত রয়েছে যে ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় যখন আগমন করে ছিল তখন মদিনা বাসীদের ২টি দিবস ছিল, সে দিবসে তারা শুধুই খেলাধুলা করত।’ আনাস রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্বের সঙ্গে প্রশ্ন করে ছিল এমন দুই দিনের তাৎপর্যটা কী? মদিনা বাসীগণ উত্তর দিলেন : আমরা জাহেলী যুগে এই দুই দিনে খেলা ধুলা করে কাটাতাম। তখন তিনি বলেছিলেন, আল্লাহ রাববুল আলামিন এই দু’দিনের পরিবর্তেই তোমাদেরকে এর চেয়েও শ্রেষ্ঠ দু’টো দিন দিয়েছেন। তাহচ্ছে মুসলিম উম্মার ‘ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর।’

সুতরাং শুধু খেলা-ধুলা বা আমোদ-ফুর্তির জন্যই যে দু’দিন ছিল তাকে পরিবর্তন করেই সৃষ্টিকর্তা এইদুটি ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের ঈদের দিনকেই দান করে ছিল। সমগ্র উম্মতগণ যেন ঈদের দিনেই মহান আল্লাহর শুকরিয়া, জিকির এবং তাঁর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনার সহিত শালীনতায় আমোদ-ফুর্তি ও নিজস্ব সাজ-সজ্জা কিংবা খাওয়া-দাওয়ার ব্যপারেও সবাই সংযম হতে পারে। এমন কথা গুলো বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ পুস্তকে ইবনে জারীর রাদি আল্লাহু আনহুর অনেক বর্ণনায় উঠে এসেছে। জানা দরকার, দ্বিতীয় হিজরিতে প্রথম ঈদ করে ছিল ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।’ তাই ইসলাম ধর্মে ‘বড় দুইটি’ ধর্মীয় উৎসবের দিনের মধ্যে একটি ঈদ হচ্ছে- ঈদুল আযহা। এইদেশে এমন উৎসবটিকে আবার অনেক মানুষরা কুরবানির ঈদ বলেও সম্বোধন করে। ‘ঈদুল আযহা’ মূলত ‘আরবী বাক্যাংশ’। এর অর্থটা দাঁঁড়ায় ‘ত্যাগের উৎসব।’ এরই মূল প্রতিপাদ্য বিষয়টা হচ্ছে ‘ত্যাগ করা’। এ দিনটিতে মুসলমান তাদের সাধ্যমত ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী উট, গরু, দুম্বা, ছাগল কোরবানি কিংবা জবাই দিয়ে থাকে। ঈদুল আজহার দিন যেন ঈদের সালাতের পূর্বে কিছু না খেয়ে সালাত আদায় করে। তার পরে কুরবানি দিয়েই গোশত খায়। এটাই সুন্নাত এবং বিশ্ব নবী তাই করে ছিল। “বুরাইদা রাদি আল্লাহু আনহু” হেকে বর্ণিত রয়েছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন না খেয়ে ঈদগাহে যেতো না। আবার ঈদুল আযহা’র দিন তিনি ঈদের সালাতের পূর্বেও খেতেন না। এমন “তাকওয়ার সহিত ‘কোরবানি’ আদায় করা দরকার। আবার এও জানা যায় যে, ‘কোরবানী দেওয়া পশুর রক্ত জমিনে পড়ার পূর্বেই আল্লাহ তায়ালা যেন সেই কোরবানি কবুল করে নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে।

এখন এ ঈদ আনন্দের বাস্তবতার দিকে আসা যাক। ‘ঈদ’ শব্দটিকে যখন মানুষ প্রথম বুঝতে শিখে তখন তাঁদের শিশু কাল থাকে এবং সেসময় তারা বড়দের উৎসাহে ১ম ঈদের আনন্দকে উপভোগ করে। তারা সারা রাত না ঘুমিয়ে খুব ভোরে নতুন সুগন্ধি সাবান দিয়ে গোসল করে। তারপর ঈদের নামাজের জন্যই আতোর, সুরমা এবং নতুন নতুন জামা কাপড় পরে বাবা ভাইদের নিয়ে পাড়া- প্রতিবেশীদের সঙ্গেই যেন তারা প্রিয় ঈদগাহে যেত। তবে ঈদগাহে যে পরিবেশ হয়ে উঠে সেটিই মুলত ঈদের খুশি। ঈদগাহের মাঠে পায়ে হেঁটে যাওয়া বা আসার মজাই আলাদা। জানা যায়, ‘আলী রাদি আল্লাহু আনহুর’ বর্ণনা মতে সুন্নাত হলো ঈদগাহে- পায়ে হেঁটেই যাতাযাত করা। সুতরাং, উভয় পথের লোকদেরকে সালাম দেয়া এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করাও ভালো হয়। উদাহরণ স্বরূপ নবীকারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে এক পথে গিয়ে আবার অন্য পথেই ফিরেছে। “ঈদুল আযহার” তাৎপর্য হলো ইসলাম ধর্মের নানা বর্ননায় যা পাওয়া যায় তা হলো এই, মহান ‘আল্লাহ তায়ালা’ ইসলাম ধর্মেরই এক নবী ‘হযরত ইব্রাহীম (আঃ)’কে স্বপ্নে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকেই আল্লাহ তায়ালাকে খুশির উদ্দেশ্যেই কুরবানির নির্দেশ দিয়ে ছিল। সেই আদেশেই ‘হযরত ইব্রাহিম(আঃ)’ তাঁর সবচেয়ে প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কুরবানি করার জন্যেই যেন প্রস্তুত হয়েছিল। কিন্তু তাঁর সৃষ্টিকর্তা তাঁকে তা করতে বাধা দিয়ে ছিল। সেখানেই নিজ পুত্রের পরিবর্তেই একটি পশু কুরবানি হয়েছিল এবং তা হয়েছিল সৃষ্টিকর্তার নির্দেশেই। এ ঘটনাকে স্মরণ করেই বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা মহান আল্লাহ্ তায়ালার সন্তুষ্ঠি অর্জনে প্রতি বছর ঈদুল আযহা দিবসটি পালন হয়ে আসে। হিজরির বর্ষ পঞ্জির হিসাবেই জিলহজ্জ্ব মাসের দশ তারিখ থেকেই শুরু করে বারো তারিখ পর্যন্ত ৩ দিন ধরেই যেন ঈদুল আযহা চলে। হিজরি চান্দ্র বছরের গণনা অণুযায়ী “ঈদুল ফিতর” এবং ঈদুল আযহার মাঝে দু’মাস ১০ দিনের ব্যবধানেই হয়ে থাকে। আর দিন হিসেবেই তা সবোর্চ্চ ৭০ দিনও হতে পারে।

জানা দরকার ঈদুল আযহার দিন থেকেই শুরু করে যেন পরবর্তী দু’দিন পশু কুরবানির জন্যেই নির্ধারিত থাকে। বাংলাদেশের মুসলমানেরা সাধারণত গরু বা খাসী “কুরবানি” দিয়ে থাকে। এক ব্যক্তি একটি মাত্র গরু, মহিষ কিংবা খাসি কুরবানি করতে পারে। তবে গরু এবং মহিষের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্য ৭ ভাগে কুরবানি করা যায় অর্থাৎ দুই, তিন, পাঁচ বা সাত ব্যক্তি একটি গরু, মহিষ কুরবানিতে শরিক হলে ক্ষতি নেই। তাই এ দেশে সাধারণত কুরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করেই- ১ ভাগ গরিব-দুঃস্থদের মধ্যে ১ ভাগ আত্মীয় -স্বজনদের মধ্যে এবং এক ভাগ নিজেদের খাওয়ার জন্য রাখা উচিত, তবে ইসলামের আলোকেই জানা যায়, এই ঈদের মাংশ বিতরনের জন্য কোন প্রকার সুস্পষ্ট হুকুম নির্ধারিত নেই। এমন কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থগুলো দান করে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। কোনো মুসাফির অথবা ভ্রমণকারির ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব নয়। আবার ঈদুল আযহার ঈদের নামাজের আগেই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পশু কুরবানি সঠিক হয় না। জানা যায়, এমন কুরবানির প্রাণী খাসী বা ছাগলের বয়স কমপক্ষে ১ বছর ও ২ বছর বয়স হতে হয় গরু কিংবা মহিষের বয়স। নিজ হাতে কুরবানি করাটাই উত্তম। এই কুরবানি প্রাণীটি দক্ষিণ দিকে রেখে কিবলা মুখী করে খুবই ধারালো অস্ত্র দ্বারা অনেক স্বযত্নে মুখে উচ্চারিত ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে জবাই করাটা ইসলাম ধর্মের বিধান। সুতরাং এই ‘ঈদ’ আনন্দে ভরে উঠুক প্রতিটি প্রাণ। সবাই সবার প্রতি ‘ভালোবাসা ও আনন্দ’ নিয়ে একসঙ্গেই কাজী নজরুল ইসলামের ঈদুল আযহার গান অন্তরে ধ্বনিত করি:- “ঈদুল আযহার চাঁদ হাসে ঐ, এলো আবার দুসরা ঈদ, কোরবানি দে কোরবানি দে, শোন খোদার ফরমান তাকিদ।
এমনি দিনে কোরবানি দেন, পুত্রে হযরত ইব্রাহিম।
তেমনি তোরা খোদার রাহে, আয়রে হবি কে শহীদ।।

লেখকঃ নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৮তম মহাপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় কালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশার সঞ্জীব কুমার ভাটী।

কালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশনের সভাপতি এম মতিউর রহমান মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, রবীন্দ্র গবেষক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. আতিউর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. চৌধূরী মো: জাকারিয়া , নওগাঁ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিমন রায়, আত্রাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এবাদুর রহমান , উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছানাউল ইসলাম, রাজশাহী বরেন্দ্র বান্ধব চেয়ারম্যান তপন কুমার সেন, কালগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিবসহ এলাকার সন্মানিত জনপ্রতিনিধি, বীরমুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দু, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং বুদ্ধিজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠান শষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc