Saturday 21st of September 2019 10:42:57 AM

চুনারুঘাট  প্রতিনিধিঃ   চুনারুঘাট পৌরশহরে সাবেক কাউন্সিলর  ৫নং ওয়ার্ডের মৃত আলাই মিয়ার  গৃহপরিচারিকা গলায় পরনের উরনা দিয়ে নিজ রুমে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহত রামিমা বি বাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার মাছমা  গ্রামের নিম্বর আলীর কন্যা। তবে কি করনে আত্মহত্যা করেছে  তা বলতে  পারছেনা কেহ।
আজ শনিবার  (৩১ আগস্ট ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পৌর শহরের উত্তর বাজারে এ ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে চুনারুঘাট  থানার ওসি শেখ নাজমুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ  ঘটনার স্থলে  গিয়ে তার রুম থেকে  সিলিং ফ্যানের  ঝুলন্ত নিহতের লাশ  উদ্ধার  করেন। চুনারুঘাট  থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোসলিম জানান, সন্ধ্যা  ৭টার দিকে সংবাদ পেয়ে  মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল  তৈরি করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বাসার মালিক সাবেক কাউন্সিলর আলাই মিয়ার স্ত্রী হেলেনা বেগম  বলেন জানিনা কি কারনে সে আত্মহত্যা করলো সে আমার সম্পর্কে ভাই জি লাগে আমি তাকে কাজের মেয়ে  হিসেবে দেখিনা সে আমার মেয়ের মত, আমরা একসাথে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমাইছি। সে ঘুম থেকে কখন উঠলো বলতে পারিনা হঠাৎ উঠে দেখি তার স্বয়ন কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পাইয়া আশপাশের লোকজনকে অবগত করলে থানায় খবর দেন।  পুলিশ  এসে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায়  পায়। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।
সুত্র জানায় নিহত রামিমা প্রায় ১৩ মাস ধরে কর্মরত তাদের বাসায়।  এবিষয়ে পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিল রামিমা । এসব কারণে হয়তো সে আত্মহত্যা করতে পারে তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

উল্লেখ্য নিহত রামিমার স্বজনদের মধ্যে কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এম ওসমান : শার্শা উপজেলার নাভারণ ডিগ্রী কলেজে সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব শফিউদ্দিন আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি ২৯শে আগস্ট বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় যশোরের ঝিকরগাছার পৌর সদরের কৃষ্ণনগরের নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, ৪ ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য শুধানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন শার্শা উপজেলা নাভারন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ পদে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে ২০০৯ সালের জুন মাসে অবসর গ্রহন করেন। শুক্রবার জুম্মা নামাজ বাদ ঝিকরগাছা সম্মিলনী মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে তার জানাজা নামাজ অনুষ্টিত হয়। জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মরহুমের নামাজে জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ৮৫ যশোর-১ (শার্শা) আলহাজ¦ শেখ আফিল উদ্দিন এবং মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ৮৬ যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) ডাক্তার মোঃ নাসির উদ্দিন,যশোর জেলা পরিষদের সদস্য ও নাভারণ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ইব্রাহীম খলিল, সাবেক বিদুৎ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, পৌর মেয়ের মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল, ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহামুদ, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম রেজাসহ তাহার সকল পর্যায়ের সহকর্মীবৃন্দ।

মরহুমের জানাজার নামাজ পড়ান তার ছোট পুত্র হাফেজ মোঃ সবুজ হোসেন।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানের চা শ্রমিক সুজিত রেলী কে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে চা শ্রমিকরা। ৩০ আগস্ট শুক্রবার সকাল ১১টায় নোয়াপাড়া চা বাগানে চা শ্রমিকরা অর্ধদিবস কর্মবিরতি দিয়ে এ মানববন্ধন ও শোকসভা করেছেন।

এসময় বক্তব্য রাখেন – মেম্বার দুলাল বোশ, সাবেক মেম্বার নারঙ্গী, মহিলা মেম্বার মীরা কইরি, পঞ্চায়েত প্রধান কেমট নায়েক, অজিত বিশ্বাস চাষা, শ্রাবন শাওতাল, শ্যামল ব্যানার্জী, ধিরা নায়েক, ইকবাল পাঠান, কেনু নায়েক, অর্জুন তেলেঙ্গা, অমল রেলী, বাবু রেলী, বিচিত্র রেলী, লেবিও,  সুজয় লাল নায়েক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন- অবিলম্বে ঘটনার মূল হোতা হেলাল রেলী সহ সকল আসামীদের গ্রেপ্তার ও সঠিক বিচারের দাবি জানিয়ে। মাধবপুর থানা এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কাশেম নিহতের পরিবার কে শান্তনা দিয়ে বলেন – আসামিরা যতোই শক্তিশালী হোকনা কেন তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এবিষয়ে নিহতের ছেলে ধনু রেলী ও স্ত্রী আরতি র‌্যালী জানান – বিগত ১৯ আগষ্ট ২০১৯ ইং তারিখে সকালে একটি দোকানে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আমি সহ ৫/৬ জনকে মারধর করে হেলাল রেলী সহ তার কতিপয় লোকজন।

ওইদিন বিকাল হেলাল বাহিনীর ১০/১২জনের একটি সদস্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় আমার পিতা সুজিত রেলীকে কুপিয়ে হত্যা করে তারা।  আমি এব্যাপারে মাধবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করি। মামলার প্রেক্ষিতে মাধবপুর থানা পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে হবিগঞ্জ জেলা আদালতে প্রেরণ করেছেন। অপরদিকে ঘটনার মূল আসামী হেলাল রেলী, সেলিম রেলী ও সহদেব রেলী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে কিন্তু পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করতেছে না। যার কারণে আতঙ্কিত আমার পরিবারের সদস্যরা।

হোসাইন ইকবাল,স্পেন থেকেঃ স্পেনের মাদ্রিদে বিক্রমপুর মুন্সিগঞ্জ সমিতির আয়োজনে  বনভোজন ও আনন্দ ভ্রমণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৭ আগষ্ট বর্ণাঢ্য আয়োজন ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে বনভোজন সম্পন্ন হয়।

কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি থেকে মুক্তি ও আনন্দ দিতে বিক্রমপুর মুন্সিগঞ্জ সমিতির বনভোজনে অংশ নেন মাদ্রিদে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী সহ সামাজিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা, এছাড়াও বিপুলসংখ্যক প্রবাসীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বনভোজনটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সকাল ১১টায় মাদ্রিদের গ্লোরিয়েতা এম্বাখাদোরেছ থেকে ৩টি বাস এবং বেশ কয়েকটি প্রাইভেট কারে চরে ২ শতাধিক বিক্রমপুর মুন্সিগঞ্জ প্রবাসী ছুটে যায় কাছা লেগাছের উদ্দেশ্যে। কাছা লেগাছ অত্যন্ত মনোরম সুন্দর একটি জায়গায়। বিশাল লেক। লেকের অপর পাড়ে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে সবুজের ফাঁকে ফাঁকে দাড়িয়ে থাকা বাড়িগুলো সত্যিই অপুর্ব।

সারাদিন হৈ-হুল্লোড় খেলাধুলা লেকের পানিতে সাঁতার কাটা। মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে শুরু হয় নানা খেলাধুলার আয়োজন। বনভোজন আয়োজকদের মধ্যে এসময় উপস্থিত ছিলেন বিক্রমপুর মুন্সিগঞ্জ সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান ঝন্টু, সাধারণ সম্পাদক রাসেল দেওয়ান,  শাহীন আহমেদ, জয়নাল আবেদীন রানা,স্বপন হোসেন, মাসুদ রানা, আবু তাহের, মোহাম্মদ সেলিম ,টুটুল আহমেদ প্রমুখ।

বনভোজন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহিরুল ইসলাম নয়ন, একরামুজ্জামান কিরন, আবুল হোসেন , রিপন মোল্লা,কামরুজ্জামান মাসুম,আবুজাফর রাসেল, জাকিরুল ইসলাম জাকি, ফাতেহ আহমেদসহ আরও অনেকে।

সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন  এমকেএম জহিরুল ইসলাম, ইব্রাহিম খলিল, সেলিম আলম, কবির আল মাহমুদ।

সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি সাহিন আহমদ , সহসভাপতি আবু তাহের,মোঃ স্বপন,তুহিন আহমদ কায়ুম, ওয়াহিদুজ্জামান, সাব্বির আহমেদ সাগর, পনির হাওলাদার, আব্দুল আলীম, রবিউল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সকালের নাস্তা শেষে শুরু হয় দিনব্যাপি চলে খেলাধুলা,মধ্যখানে বিরতি দিয়ে মধ্যাহ্নভোজ শেষে খেলাধুলার মধ্যে ছিল মহিলাদের মিউজিক্যাল পিলো বালিশ খেলা,মিউজিক্যাল চেয়ার, হাড়ী ভাঙ্গা, ছেলে-মেয়েদের ১০০মিঃ ও ৫০মিঃ দৌড়,বড়দের ছিল, বলিবল, ফুটবল, দড়ি টানাটানি ও ২০০ মিটার দৌড়, বিশেষ আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশি খাবারের ব্যাপক আয়োজন। শেষ পর্বে  রাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

ঈদ পুনর্মিলনী ও বনভোজন অংশ গ্রহণকারী প্রবাসীরা বলেন, ঈদের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ কমিউনিটির মানুষদের একত্রিত করে একটি পুনর্মিলনী আমাদের সবাইকে আনন্দঘন একটি মুহুর্ত উপভোগের সুযোগ করে দেয়।

পরিশেষে সভাপতি মাহবুবুর রহমান ঝন্টু ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল দেওয়ান সকল অথিতিবৃন্দ,কার্যকরী কমিটির সকল সদস্যকে ধন্যবাদ দিয়ে বনভোজন অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করেন৷

কড়া সতর্কতায় বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ 

 

বেনাপোল থেকে এম ওসমানঃ বিভিন্ন নামে মরণঘাতি ভায়াগ্রার আমদানি বন্ধে কড়া সতর্কতায় রয়েছে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বেনাপোল স্থলবন্দরে ভিন্ন ভিন্ন নামে মরণঘাতি ভায়াগ্রা প্রবেশের পর কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী ও তার নিয়োজিত টিমের দৃঢ়তায় ভায়াগ্রার দুটি বড় চালান ধরা পড়ে যার একটির নাম ‘ফুড ফ্লেভার’ অপরদিকে অন্যটির নাম ‘সোডিয়াম স্টাচগ্লাইকোলেট’ দিয়ে আমদানি করা হয়। বাস্তবে এর নাম সিলডেনাফিল সাইট্রেট, যা মূলত ঔষুধ উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কিছু বিশেষ ওষুধের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ইদানীং কিছু কোমল পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোমল পানীয় উৎপাদনে এ পণ্য ব্যবহার করছে মর্মেও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্যটি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক যৌন উত্তেজক ঔষুধ তৈরিতেও ব্যবহার করা হয় বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
এই দুটি চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্টান যথাক্রমে বায়োজিদ এন্টার প্রাইজ মিটফোর্ড ও রেড গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল কলাবাগান ঢাকা। সম্প্রতি বেনাপোলে ভায়াগ্রার এই দুটি চালান ধরা পড়ার পর বিষয়টি উন্মোচিত হয়। এরপর স্থলবন্দরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কাষ্টম হাউজে নেয়া হয়েছে কঠোর নজরদারি। ভায়াগ্রা চিহ্নিত করণে দুর্বলতার সুযোগে মিথ্যা ঘোষণায় জীবন বিধ্বংসী পণ্যটি অবাধে দেশে ঢুকে পড়ছে যা জনস্বাস্থ্যই শুধু নয়, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায়ও বড়ো হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থলবন্দর গুলোতে ভায়াগ্রা শনাক্তকরণের দুর্বলতার সুযোগে এটি আসছে এবং বিগত সময়ে কী পরিমাণ ঢুকেছে তা স্পষ্ট নয়। তবে দুটি চালানেই ‘২ হাজার ৭শ’ কেজি ধরা পড়ায় অনুমেয় যে, এর আগেও বিপুল পরিমাণ ভায়াগ্রা দেশে প্রবেশ করে থাকতে পারে। এটি ঢুকেছে মূলত সোডিয়াম স্টার্চ গ্লাইকোলেট, ফ্লেভার নামে। বাস্তবে এর নাম সিলডেনাফিল সাইট্রেট, যা মূলত ওষুধ উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কিছু বিশেষ ওষুধের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত হয়। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্যটি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরিতেও ব্যবহার করা হয় বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে অপঘোষণায় ভায়াগ্রা আমদানি করা হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, স্থলবন্দর গুলোতে ভায়াগ্রা শনাক্তকরণে দুর্বলতার কারণে সহজেই এটি দেশে ঢুকতে পারছে। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের ভিত্তিতে পণ্য শুল্কায়ন কিংবা খালাস করা হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এমনকি বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানও সঠিকভাবে ভায়াগ্রা চিহ্নিত করতে পারেনি।
সম্প্রতি উদ্ঘাটিত ভায়াগ্রার চালানটি তেমনি করেই খালাস হয়ে যাচ্ছিল। বিসিএসআইআরের কায়িক পরীক্ষায় চালানটি সোডিয়াম স্টার্চ গ্লাইকোলেট হিসেবে শনাক্ত করা হয়। বলবতঃ আমদানি নীতি আদেশের বিধান অনুযায়ী আমদানিকৃত খাদ্যদ্রব্যসহ অনেক পণ্যকেই আমদানি পর্যায়ে বিসিএসআইআরে কায়িক পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে মতে, পণ্যটি সেখানে পরীক্ষার পর খালাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ভিন্ন ভিন্ন নামে ভায়াগ্রা পণ্যের চালানটি খালাসের প্রাক্কালে বেনাপোলের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীর কাছে গোপন সংবাদ আসে যে, ঐ চালানের মাধ্যমে মূলত ভায়াগ্রা পাচার হচ্ছে। তখন খালাস কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং পুনরায় পণ্যের প্রতিনিধিত্বশীল নমুনা সংগ্রহ করা হয়, যা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ল্যাবে সিলডেনাফিল সাইট্রেট বা ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত হয়। খুলনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠালে সেখানেও ভায়াগ্রা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এ অবস্থায় পণ্য শনাক্তকরণের একটি সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের অসামঞ্জস্যতা দূর না করলে অবাধে দেশে ভায়াগ্রার আগ্রাসন ঠেকানো যাবে না। যেসব রিপোর্টের ভিত্তিতে ভায়াগ্রা অন্য নামে খালাস হয়ে যাচ্ছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নাকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো অসাধু কর্মকর্তার অবহেলার কারণে দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে, তাও অনুসন্ধানের দাবি রাখে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের চালান যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেই উদ্যোগ নেওয়ার দাবি সংশ্লিষ্ট মহলসহ সাধারন জনগনের।
উল্লেখ্য, পণ্য চালানটি টেস্টে পাঠানোর আগেই ছেড়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরীকে জীবননাশেরও হুমকি দেয়া হয় বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়।

২১ শে আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে স্পেন যুবলীগের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হোসাইন ইকবাল স্পেন থেকেঃ স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে বাংলাটাউন রেস্টুরেন্টে গত ২৯ শে আগস্ট উক্ত দোয় মাহফিল ও আলোচনা সভায সভাপতিত্ব করেন যুবলীগের সভাপতি এ,কে,এম সেলিম রেজা, সাধারন সম্পাদক দবির তালুকদারের পরিচালনায় , প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্পেন আওয়ামী লীগের আহবায়ক এস আর আই এস রবিন বলেন ১৯৭১ সালের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা আজও থেমে নেই । ১৯৭৫ সালে ১৫ ই আগস্ট আমরা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সবাইকে হারিয়েছি , দুস্কৃতিকারীরা হত্যা করেছে দেশ ও জাতির আদর্শ কে ।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা  করে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি জামাতের সরকার l তিনি আর ও বলেন দেশ আজ ও নিরাপদে নয় ,দেশের ভেতর ঘাপটি মেরে আছে পাকিস্তানের দোসররা, চলছে দেশ নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র, সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণ করে আহতদের সুস্থতা কামনা এবং স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন স্পেন আওয়ামীলীগ এর যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল ইসলাম মাস্টার, সদস্য শ্যামল তালুকদার , স্পেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি খসরু চৌধুরী, জিদ্দি চৌধুরি ,এফ এম ফারুক পাভেল , রুবেল খাঁন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান , যুবলীগ নেতা শেখ রুবেল উদ্দিন, শাকিল উদ্দিন ,আব্দুল আজিজ  ,শফিক মিয়া , যুব নেতা ওলিউর, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব রাখেন , হানিফ মিয়াজী, আল আমিন মিয়া , শাহেদ আহমেদ রাজা, কবির উদ্দিন, রাকিবুল ইসলামসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃৃবৃন্দ।

আলোচনা সভা শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং ২১ আগস্ট ২০০৪ গ্রেনেড হামলায় আহত ও নিহত শহীদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মুহিবুর রহমান।

সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যুবলীগ নেতা এম এ মালেক , প্রধান বক্তা যুবলীগ নেতা এনাম আলী খান।

দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা শেষে নৈশভোজে আয়োজন করা হয়।

হাবিবুর রহমান খান,জুড়ী প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের জুড়ীতে “উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র” নির্মাণের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন করেছে জুড়ী উপজেলাবাসীর ব্যানারে। শুক্রবার (৩০আগষ্ট) দুপুরে জুড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা চত্তরে ঘন্টাব্যাপি এই বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বেলাগাওঁ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলু মিয়া বজলুর সভাপতিত্বে এবং জাঙ্গীরাই যুব কল্যাণ পরিষদের উপদেষ্ঠা মুজিবুর রহমান আজিজির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জুড়ী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহসভাপতি হাজী লাল মিয়া, আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ জামাল উদ্দিন, আব্দুল লতিব, ডাঃ ইসমাইল আলী মাষ্টার, ফুল মিয়া, ফিরুজ মিয়া, শাহজাহান আলম, সাংবাদিক হারিস মোহাম্মদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ইব্রাহিম আলী, আব্দুল গনি সরদার, আসাদ মিয়া, লিয়াকত আলী, রেজান মিয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল হোসেন, কবির উদ্দিন, আলাউদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন, শাহালম, হাবিবুর রহমান, মোঃ খোকন মিয়া, যুবলীগ নেতা আব্দুল হাকিম ইমন, উপজেলা চত্ত্বর তরুণ সংঘের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম জয়দুল, মাওলানা ফরহাদ বিন সাজেদ সহ বিভিন্ন মসজিদের সভাপতি, সম্পাদক, খতিব ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
উক্ত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জুড়ী উপজেলা সদর দপ্তরের অভ্যন্তরে উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি নির্মাণ হলে উপজেলাবাসীর জন্য খুবই ভালো হবে। এতে করে উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসলমান সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আগতরা এ মসজিদে নামাজ আদায় এবং এর সুফল ভুগ করতে পারবে। বক্তারা আরো বলেন, জুড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ট উপজেলা চেয়ারম্যানের পদক প্রাপ্ত প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মুমিত আসুকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে উপজেলা কমপ্লেক্সের ভিতরেই এই মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় একটি কুচক্রী মহল এ মডেল মসজিদটি অন্য একটি অকার্যকর স্থানে সরিয়ে নেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
আমরা এই মনববন্ধন থেকে বলতে চাই, অবিলম্বে এ মডেল মসজিদটি উপজেলা কমপ্লেক্সের ভিতরে নির্মাণ করা হউক। অন্যথায় আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাদ্য হবো।

এস এম সুলতান খান,চুনারুঘাট থেকেঃ চুনারুঘাটের শারিরীক প্রতিবন্ধী তাজুল প্রতিবন্ধী ভাতা পাবে কবে। সরকার  প্রতিবন্ধী, বিধবা, বয়স্ক ও মুক্তিযুদ্ধাদের ভাতার আওতায় আনলেও, অনেক অসহায় ব্যাক্তিরা ওই  ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
চুনারুঘাট উপজেলার ৪ নং পাইকপাড়া ইউনিয়নের হলদিউড়া গ্রামের মোঃ সিরাজ মিয়ার প্রতিবন্ধী ছেলে মোঃ তাজুল ইসলাম (২৩)  নামে এই অসহায় যুবকটি গতকাল বিকালে চুনারুঘাট রাস্তায় দেখা যায়। এ সময় তাকে জিজ্ঞাস করলে সে বলে দীর্ঘ দিন যাবত প্রতিবন্ধী ভাতা না পেয়ে, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডঃ মাহবুব আলীর কাছে এসেছি। তখন চুনারুঘাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক মোস্তফা শহীদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা তাতীলীগের  উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্টান চলছিল।
এ সভার প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী এডঃ মাহবুব আলী এমপি । তখন প্রতিবন্ধী  তাজুল চেছড়িয়ে মঞ্চে উঠে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে প্রতিবন্ধী ভাতা এখনও পায়নি বলে অভিযোগ করেন।
এ সময় মন্ত্রী এডঃ মাহবুব আলী ওই প্রতিবন্ধীকে  ভাতার কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দেন। ওই ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার আব্দুল খালেক।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জ শহরের উকিলপাড়ায় অবস্থিত ‘সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব’ এর আরো শাখা নেই বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানা বিবৃতিতে যৌথ স্বাক্ষর করেছেন প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুন নাহার বেগম শাহানা রব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ।

এ নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ারও আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে তারা বলেন,সুনামগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রয়াত আব্দুল হাইয়ের হাত ধরে গণমাধ্যমকর্মীদের কল্যাণে ১৯৬২ সালে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শহরের উকিলপাড়া এলাকায় প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ আব্দুস সামাদ আজাদের অনুদানে প্রেসক্লাবের ভবন নির্মিত হয়।

ক্লাবের নেতৃত্ব দেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী, প্রয়াত সাংবাদিক কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিশিষ্ট আইনজীবী শহীদুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ।

চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বাংলাদেশ তাঁতী লীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় চুনারুঘাট বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামূল হক মোস্তফা শহীদ অডিটরিয়ামে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি কবির মিয়া খন্দকার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী সাংসদ এডভোকেট মাহবুব আলী।

উপজেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবুলের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্কর, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আবিদা খাতুন, জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মুদ্দত আলী, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সহ-সম্পাদক আরিফুল হাই রাজিব, চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রওশন খান, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মাস্টার, আলহাজ্ব আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু তাহের মিয়া মহালদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস, জেলা তাঁতী লীগের সহ-সভাপতি সাজু নাসের চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মানিক সরকার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, জেলা তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ আহমদ আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম রুবেল ও কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সায়েম তালুকদার প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে দেশ পাওয়া যেত না। বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে।

এম ওসমান, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ  বেনাপোলে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, বেনাপোল পৌর শাখার আয়োজনে ৩ দিন ব্যাপী বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরুষ্কার বিতরন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ফলজ বৃক্ষরে চারা বিতরণ করা হযেছে। শুক্রবার বিকালে বেনাপোল বলফিল্ড ময়দানে অবস্থিত পৌর কমিউনিটি সেন্টারে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সাংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন।
১৫ আগষ্ট উপলক্ষে আয়োজিত ৩ দিন ব্যাপী বুধবার, বৃহষ্পতিবার ও শুক্রবার এ মেলার আয়োজনে ছিল বই মেলা, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র প্রদর্শনী সন্ধ্যা, হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা সব শেষে প্রতিযোগীদের মধ্যে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও গাছের চারা বিতরন।
এসময় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড বেনাপোল পৌর শাখার আহবায়ক কামরুজ্জামান তরুর সভাপতিত্বে এবং আয়োজনটির সমন্বয়ক শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ বেনাপোল পৌর শাখার মহাসচিব ফারুক হোসেন উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ আফিল উদ্দিন এমপি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বই মেলা ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীর কর্মসূচি বেনাপোলে আমরাই প্রথম সূচনা করলাম। বঙ্গবন্ধু কি পরিমাণ বই প্রেমিক ছিল তা আমরা বঙ্গবন্ধুর ‘কারাগারের রোজনামচা’ পড়লেই বুঝতে পারি।’ ‘বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অনেক কিছুই জানতে হবে। আর তার সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য জানতে আমাদেরকে অবশ্যই বই পড়তে হবে। সেই সব ব্যক্তিদের বই আপনাদের পড়তে হবে যারা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানে ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। এই বই মেলার মধ্য দিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে আমাদেরকেও বই পড়তে হবে।’ ‘বঙ্গবন্ধুর আতœজীবনী’ নিয়ে চলচিত্র প্রর্দশনীর মাধ্যমে বাংলার জনগনের মাঝে পৌছে দিতে হবে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান, শার্শা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফ্ফর হোসেন ও ডেপুটি কমান্ডার নাসির উদ্দীন, যশোর জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল মুকুল, সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন, শার্শা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য অহিদুজ্জামান অহিদ, বেনাপোল পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ-আলম হাওলাদার, উপজেলা বাস্তহারালীগের সভাপতি আবুল হোসেন, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দু রহিম সর্দার, সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন রাসেল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু, সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেন, বেনাপোল পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন জোয়ার্দার, সাধারন সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আশিকুর রহমান পারভেজ,  আল-ইমরান, আরিফ হোসেন রুবেল, আশিকুর রহমান, কবির, আওয়াল, জুয়েল, হারুন প্রমুখ।

চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ  চুনারুঘাটের উত্তর বাজার থেকে ২৫২ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব ৯ ক্যাম্প শ্রীমঙ্গলের একটি দল । ২৯ আগস্ট বিকেলে র‌্যাব-০৯ এর একটি টহল দল চুনারুঘাট উত্তর বাজারে অভিযান চালিয়ে উজ্জল ভিলার  নিকট থেকে দুই জনকে আটক করে।
পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে তাদের পকেট থেকে ২৫২ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, বাল্লারোড বাবরু মিয়ার ছেলে ফেরদৌস (২৯) বড়াইল  উত্তর বাজার এলাকার চান মিয়ার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (২৯), এ ঘটনায় ৩০ আগস্ট র‌্যাব ৯ এর এসআই ইমদাদুল বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করে আটকদের পুলিশে সোপর্দ করেছেন।  যার মামলা নং ২১ /১৯৬ চুনাঃ ।
চুনারুঘাট থানার ওসি (তদন্ত) আলী আশরাফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) সমন্বয়কারী প্ল্যাটফর্মকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিরোধী ভূমিকার বিষয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশের সরকার।

‘এনজিও প্ল্যাটফর্ম কোঅর্ডিনেশন’-এর কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর ডমিনিকা আরসেনিক গতকাল বৃহস্পতিবার এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর কার্যালয়ে সংস্থার মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করতে গেলে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এ সময় সংস্থাগুলো দেশের প্রচলিত আইনবিরোধী কাজে লিপ্ত নয় বলেও তাদের পক্ষে জানানো হয়েছে।

এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আবদুস সালাম  সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত ‘এনজিও প্ল্যাটফর্ম কোঅর্ডিনেশন’ থেকে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এদিন তার কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে আসে। এ সময় তাদের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিরোধী ভূমিকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তারা এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত নয় বলে জানিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো এনজিও এ ধরনের কাজে জড়িত থাকলে তাদের বিষয়ে তথ্য দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ রকম কোনো তালিকা পেলে তাৎক্ষণিক সংশ্নিষ্ট এনজিওর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনজিও ব্যুরোর রোহিঙ্গা সেলের আহ্বায়ক ও সংস্থার উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল খায়রুম  সাংবাদিকদের বলেন, ক্যাম্পে কর্মরত সব এনজিওর প্রতিনিধিদের নিয়ে ব্যুরোর সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব এসেছে এনজিও প্ল্যাটফর্ম থেকে। এ বৈঠকে স্থানীয় প্রশাসন এবং শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের প্রতিনিধিকেও রাখতে বলেছি।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে গত ২১ আগস্ট বিবৃতি দিয়েছে ৬১টি সংস্থা। এ ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে তাগিদ দেওয়া হয়।

মুক্তি এনজিওর ৬ প্রকল্প স্থগিত করেছে এনজিওবিষয়ক ব্যুরো: রোহিঙ্গাদের জন্য ‘ধারালো অস্ত্র’ তৈরির অভিযোগ ওঠায় মুক্তি কক্সবাজার নামে একটি এনজিওর ছয়টি প্রকল্প সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছে এনজিওবিষয়ক ব্যুরো। সম্প্রতি কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের সমাবেশে তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র দেখার পর আলোচনার মধ্যে এ পদক্ষেপ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আবদুস সালাম।

এনজিও ব্যুরোর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার সিরাজুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণের জন্য এনজিও ব্যুরোর অনুমোদনহীন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হাতিয়ার (ছয় হাজার নিড়ানি) তৈরির কারণে মুক্তি কক্সবাজারের চলমান প্রকল্পের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার সাংবাদিকদের জানান, তাদের ৩০টি প্রকল্প চলমান। তার মধ্যে ছয়টির কার্যক্রম স্থগিত করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে কৃষি উপকরণ হিসেবে নিড়ানি তৈরির অর্ডার দিয়েছিলাম। এ কাজ যাকে দেওয়া হয়েছিল, তিনি কোথায় বানাতে দিয়েছেন, জানি না। ওই লোক এখন বলেছে, উখিয়ায় এসব তৈরি করেছে। বিমল চন্দ্র দে বলেন, এসব নিড়ানি এখনও গ্রহণ করিনি, বিতরণও করা হয়নি। তিনি বলেন, এক বছরের জন্য ছয়টি প্রকল্পে তিন কোটি ৪০ লাখ টাকার কাজ করার কথা। দুই লাখ টাকায় এসব নিড়ানি তৈরি করা হচ্ছিল। তদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। ঝুঁকিপূর্ণ হাতিয়ার বা অনুমোদনহীন কিছু বিতরণের প্রশ্নই ওঠে না।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থা প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোনো দেশ বাংলাদেশের পক্ষে নেই এখন। চীন, ভারত, জাপান, রাশিয়া—সব মিয়ানমারের পক্ষে। দুই বছর ধরে বাংলাদেশ কী করল ও দুই বন্ধু রাষ্ট্র চীন ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ কী করল, তা নিয়ে প্রশ্ন রাখেন মির্জা ফখরুল। তিনি সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনেরও সমালোচনা করেন।

আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা—জাসাসের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় ফখরুল এসব কথা বলেন। সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, মিয়ানমার গণহত্যা করেছে, নির্যাতন করেছে, সেসব নিয়ে সরকার কোনো বিবৃতি দেয়নি। মিয়ানমারের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, তাতে কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমার যা বলছে, তা–ই করতে হচ্ছে। সরকার মিয়ানমারের ফাঁদে পড়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেবকে মনে হচ্ছে তিনি খুব বিব্রত, কিছুটা বলা যেতে পারে ভারসাম্যহীন অবস্থায় আছেন। তিনি (ওবায়দুল কাদের) বলছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নাকি আমরা তৈরি করেছি … কী বলবেন। হাসিও পায় তাঁর কথা শুনে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দলের বর্তমান চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শাসনামলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করা হয়েছিল দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান সাহেবের সময় রোহিঙ্গারা এসেছিল। তখন তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে মিয়ানমারকে বুঝিয়ে শুনিয়ে তাদের ফেরত পাঠিয়েছিলেন। কেন পেরেছিলেন, সেই শক্তি জিয়াউর রহমানের ছিল। সেই সময় জিয়াউর রহমান কক্সবাজারে একটা ক্যান্টনমেন্ট তৈরি করে ফেলেছিলেন। মিয়ানমারকে বলেছিলেন আইদার ইউ গেট ব্যাক, অর ইউ ফেস। খালেদা জিয়ার সময় ৯৪ সালে ২ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা এসেছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, ফেরত নেবে না অন্য ব্যবস্থা নেব। তারা ফিরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ব্যর্থ।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ আগের আওয়ামী লীগ নেই। যে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে সংগ্রাম করেছে গণতন্ত্রের জন্য, সেই আওয়ামী লীগ এখন নেই।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার কথাগুলো মনে করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে চান বলে জানান বিএনপির মহাসচিব। এ জন্য তিনি সংগ্রাম ও আন্দোলনের দিকে যাওয়ার কথা বলেন।

জাসাসের সভাপতি অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল হাই শিকদার, জাসাসের সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী প্রমুখ।পার্সটুডে

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নেয়ার দায়িত্ব মিয়ানমারের। এ ক্ষেত্রে কীভাবে তারা নিজেদের নাগরিকদের আস্থা অর্জন করবে সেটি তাদের বিষয়, বাংলাদেশের নয়। কিন্তু উল্টো তারা বাংলাদেশকেই দোষারোপ করছে। ফলে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দেশটির ওপর আরও চাপ বাড়াতে হবে।পার্সটুডে

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং মিশন প্রধানদের রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্রিফ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

বিদেশি রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশন প্রধানসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যা যা করার করে যাব, করছি। কিন্তু আপনারা যারা গ্লোবাল লিডার আছেন, আপনাদেরও দায়-দায়িত্ব আছে। আমরা অ্যাপিল করেছি, আপনারা (আন্তর্জাতিক বিশ্ব) এই সমস্যা সমাধানে আরও অ্যাগ্রেসিভ, আরও বেশি করে উদ্যোগ নেবেন। কেননা, এটা শুধু আমাদের সমস্যা না, এটা সবার সমস্যা। আপনারা আরও সক্রিয় উদ্যোগ নেবেন, যেন মিয়ানমারকে তাদের স্বজাতিকে নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখনো প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু লোকগুলোকে সেখানে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে হবে মিয়ানমারকে। এছাড়া সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও চলাফেরার স্বাধীনতা বিষয়েও মিয়ানমারকে নিশ্চয়তা দিতে হবে।’

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সাম্প্রতিক সমাবেশ

কূটনীতিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘ঢাকায় যত কূটনীতিক আছেন এবং জাতিসংঘের এজেন্সিতে যারা কাজ করেন তাদেরকে আজ জানিয়েছি, মিয়ানমার গত ২২ আগস্ট একটি প্রেসরিলিজ দিয়ে আমাদের ওপর ব্লেইম করেছে। বলেছে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে ফেইল করেছে। সে প্রেক্ষিতে আজকে আমরা আন্তর্জাতিক বিশ্বকে বললাম, আমাদের (বাংলাদেশের) যা যা করার আমরা সব করেছি। দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তি মতে, মিয়ানমারের দায়িত্ব ছিল রোহিঙ্গাদের মাঝে আস্থা বা বিশ্বাসের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা, যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরে যায়। কিন্তু মিয়ানমার সেই আস্থার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখানে আমাদের দায়িত্ব ছিল লজিস্টিক সাপোর্ট জোগাড় করা, যা আমরা শতভাগ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের জন্য ৩ হাজার ৪৫০ জনের তালিকা আমাদের দিয়েছিল আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেই তালিকা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে দিয়ে দিয়েছি, যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় যাবে কি না সেটা তারা জানতে পারে এবং সেখানে মিয়ানমারের প্রতিনিধি ও চীনের প্রতিনিধি পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার বলছে যে তারা রাখাইনে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। যদি করে থাকে, তাদের লোক তাদেরকে বিশ্বাস করে না, এই যে ট্রাস্ট ডেফিসিয়েট, এখানে কাজ করতে হবে। সেজন্য মিয়ানমারকে আমরা আবার বলেছি যে আস্থা বা মিয়ানমারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য দুনিয়ার যত মিডিয়া আছে বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কিংবা জাতিসংঘের লোকজন কিংবা অন্য দেশ-বিদেশের লোককে রাখাইনে নিয়ে তোমরা (মিয়ানমার) দেখাও যে কী করেছ। আরও বলেছি, রোহিঙ্গা শিবিরের যে সব নেতারা (মাঝি) আছে তাদের নিয়ে রাখাইন ঘুরিয়ে দেখানো হোক যে সেখানে মিয়ানমার কী করেছে।’

‘মিয়ানমার রাখাইনে কী করেছে তা অন্যদের নিয়ে দেখায় না কেন?’— এমন প্রশ্ন রেখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের যথেষ্ট চিন্তা আছে। কেন না এক সময় তারা নিপীড়িত হয়েছিল, তারা নিহত হয়েছিল। এ জন্য রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা এবং চলাচলের স্বাধীনতা চায়। মিয়ানমার আমাদেরকে একাধিকবার বলেছে যে, রাখাইনে রোহিঙ্গারা নিরাপদে এবং স্বাধীনভাবে চলতে পারবে। যদি তাই হয় তবে মিয়ানমার অন্যদের নিয়ে দেখায় না কেন? একটি দলকে নিয়ে দেখায় না কেন? আমরা এগুলোই আজকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী চীনে গিয়েছিলেন। সে সময়ে ওই দেশটির রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। এ ছাড়া দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তারা সবাই আমাদের সঙ্গে একমত যে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই সমস্যার একমাত্র সমাধান। মিয়ানমার এই সমস্যা তৈরি করেছে, তাদের সমাধান করতে হবে। চীন বলেছে, তারা আমাদের সঙ্গে আছে। দুই দেশই তাদের বন্ধুরাষ্ট্র। ফলে সমস্যার সমাধানে তৃতীয়পক্ষ হিসেবে তারা কাজ করতে চেয়েছে। বুধবারও চীনের রাষ্ট্রদূত এসে সে কথাই বলে গেছেন। এরপর চীনের রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ করে সময়সূচি জানাবেন। পরবর্তীতে তিন দেশের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চুক্তি রয়েছে। এ নিয়ে কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। সর্বশেষ ২২ আগস্ট কিছু লোক নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় রোহিঙ্গারা সেখানে যেতে রাজি হয়নি।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc