Wednesday 18th of September 2019 05:35:37 PM

বৃষ্টি উপেক্ষা হাজারো মুসল্লির অংশ গ্রহনে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহসহ সারা দেশের ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের জামাত  অনুষ্ঠিত হয়েছে এতে নিজ নিজ বসবাসকারী এলাকায় গুরুত্ব পূর্ণ ব্যক্তিবর্গ জামাতে অংশ নেন। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের জামাত শুরু হয় এ নামাজে ইমামতি করেন পেশ ইমাম হাফেজ মিজানুর রহমান।

ঈদের প্রধান এই জামাতে নামাজ আদায় করেন প্রেসিডেন্ট আলহাজ্জ মো. আবদুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মন্ত্রিসভার সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আজ সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ঈদের নামাজে নানা বয়সী মুসল্লিদের ঢল নামে। সকাল ৭টা থেকেই ঈদের প্রধান এই জামাত জাতীয় ঈদগাহ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আল্লাহু আকবার তাকবির ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে ঈদগাহ ময়দান।

জাতীয় ঈদগাহে আলাদা ব্যবস্থা থাকায় নারী মুসল্লিরাও ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করেন। সারিবদ্ধভাবে মুসল্লিরা ঈদগাহে প্রবেশ করেন।

নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ ও জাতি তথা মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেন।এসময় আমিন আমিন ধ্বনিতে কান্নায় ভেঙে পড়ে মহান আল্লাহর কাছে জীবনের সকল গোনাহ মাফ চেয়ে ফরিয়াদ করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। নামাজ শেষে ধনী-গরিব নির্বিশেষে কোলাকুলি ও মুসাফাহ করেন মুসলমানেরা।

এদিকে ঈদ জামায়াতকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ দেশের গুরুত্ব পুর্ণ শহর ও আশপাশ এলাকায় নেওয়া হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নেওয়া হয় তিন স্তর বিশিষ্ট কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) দায়িত্তে ছিলো।

এছাড়া র‌্যাব ও ঢাকা মহানগর পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা ছিলো আশপাশসহ জেলা শহর গুলোতে। ফলে মুসল্লিরা নিরাপদে নামাজ আদায় করেন। তবে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায়  কিছু এলাকায় নামাজ আদায় করতে অসুবিধায় পড়তে হয় মুসুল্লিদের।

“দেশীয় দোসর এখনো সনাক্ত-ই হয়নি;রয়েছে অধরা, এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরির পুরো কাজটি নিয়ন্ত্রণ হতো ইউক্রেন থেকে”

বাংলাদেশে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও সেটা নিয়ন্ত্রণ হতো ইউক্রেন থেকে। আর এ জন্য মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে বুথের ভেতরে কার্ড প্রবেশ করিয়ে টাকা তোলা হতো। ফোনে ইউক্রেনে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতো এই জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন।

তিনি বলেন, এই চক্রের সদস্যরা কোনো এটিএম বুথে প্রবেশ করে সেই বুথের সঙ্গে মূল সার্ভারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর তারা নিজস্ব সংযোগ ব্যবস্থা চালু করে। এসময় মোবাইলে যোগাযোগ স্থাপন করে কার্ড ভেতরে ঢোকালেই বুথ থেকে টাকা বের হয়ে আসে। এ কাজে তারা আন্তর্জাতিক রোমিং সিম ব্যবহার করতেন বলে জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।

গত ৩১ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুই বিদেশি নাগরিক রাজধানীর বাড্ডায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি এটিএম বুথ থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এই টাকা সরিয়ে নেওয়া হলেও এতে কোনো গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হননি। এমনকি ব্যাংকের সিস্টেমেও টাকা তোলার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ছবি: ফোকাস বাংলা

পরদিন খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের সামনে ডাচ-বাংলার আরেকটি বুথ থেকে টাকা তোলার সময় এক বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পান্থপথের একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয় আরও পাঁচ বিদেশিকে।

তারা হলেন- শেভচুক আলেগ (৪৬), ভালোদিমির ত্রিশেনস্কি (৩৭), ভালেনতিন সোকোলোভস্কি (৩৭), সের্গেই উইক্রাইনেৎস (৩৩), দেনিস ভিতোমস্কি (২০), নাজারি ভজনোক (১৯)।

বিদেশি চক্রটির সঙ্গে বাংলাদেশের কেউ জড়িত আছেন কিনা জানতে চাইলে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, বাংলাদেশের কেউ জড়িত নেই এটা বলা যাবে না। জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহের মধ্যে রয়েছে।ইত্তেফাক

পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন জানান, গ্রেফতারদের কাছে থেকে যে ৫০টি কার্ড পাওয়া গেছে তার মধ্যে ইসরাইলের কার্ডও রয়েছে। একজন ইউক্রেনীয় নাগরিক হয়ে কেন তারা ইসরায়েলি ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করতেন তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে এই চক্রের সদস্যদের ভারতে যাওয়ার কথা ছিল বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, আটদিনের টুরিস্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে ইউক্রেনের এই নাগরিকরা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তুর্কি এয়ারওয়েজের একটি বিমানে করে ইউক্রেন থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে বাংলাদেশে আসেন তারা।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসী এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান।

বিবৃতিতে শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

তিনি বলেন, মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর খুশি আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন।

তিনি বলেন, ঈদ সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে সব মানুষকে। পবিত্র ঈদুল ফিতরে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্বের মহীমান্বিত আহ্বানে শান্তি-সুধায় ভরে উঠুক প্রতিটি মানুষের হৃদয়।খবর বাসসের।

এছাড়া অন্য এক বিবৃতিতে দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পবিত্র ঈদুল ফিতরে তিনি দেশবাসীর মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করেন।

বাংলাদশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এবারও কারাগারেই ঈদ-উল-ফিতর পালন করতে হচ্ছে। দু’টি দুর্নীতির মামলায়  ১৭ বছরের দণ্ড মাথায় নিয়ে তিনি বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় কারা হেফাজতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে আটক রয়েছেন।

ঈদের আগেই তাকে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল বিএনপি, ২০ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ নাগরিক সমাজ। কিন্তু তার মুক্তি মেলেনি। ফলে, এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো তার ঈদ কাটবে স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চার দেয়ালের বন্দী কক্ষে। এ অবস্থায় আজকেও কারাবন্দী বেগম জিয়াকে মুক্ত পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তার দল।

আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলীয় চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বজনদের সাথে ঈদ পালনের জন্য তার মুক্তি দাবি করে সরকারর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। রিজভী বলেন, ‘৭৪ বছর বয়সী গুরুতর অসুস্থ নারীকে আর বন্দী রাখবেন না। তাঁর সুচিকিৎসা ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করার সুযোগ দিন।’

রিজভী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষ জানেন, আইনি লড়াইয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। একদলীয় হানাদারি শাসনের ঘন অন্ধকার দূর করে আলোর প্রত্যাশা পূরণে খালেদা জিয়ার মুক্তি অপরিহার্য। অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন।’ রিজভীর বক্তব্য, ‘আপনারা মধ্যরাতের অভিনব ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় থাকার জন্যই তাঁকে জেলে পুরেছিলেন, সেই কাজ তো ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতেই সেরে ফেলেছেন।’খবর পার্সটুডে

বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে আইনি লড়াই ছাড়াও বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনসমূহ  রাজপথে মিছিল, গণঅনশন, মানববন্ধন, গণস্বাক্ষরতা- এসব কর্মসূচিও পালন করেছে।

তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারের সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকালও বিএনপি’র আন্দোলন সক্ষমতাকে কটাক্ষ করে বলেছেন, বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য তার দল এমন কোন আন্দোলন করতে পারেনি যাতে সরকার বা আদালতের ওপর কোন চাপ সৃষ্টি হয়।

বিএনপি নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকার যে অনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যে সেটা তা পরিষ্কার হয়েছে। কারণ বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির জন্য তারা আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই করছেন। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন। এখন আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টির কথা বলে কী বুঝাতে চাইছেন ওবায়দুল কাদের?

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে সাজার রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন। ইতিমধ্যে সে মামলায় জামিন পেয়েছেন। তবে তিনি এক মামলায় জামিন পেলে অন্য মামলায় অটক দেখিয়ে মুক্তি আটকে দেয়া হয়। বর্তমানে তিন ডজনের বেশির মামলা  মোকাবেলা করছেন।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এবারে ঈদের এই খুশির দিনে আমরা বেদনার্ত। কারণ আমাদের মাঝে নেই গণতন্ত্রের প্রতীক, অধিকারহারা মানুষের আশা-ভরসার প্রেরণা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। নিষ্ঠুর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তাঁকে প্রায় দেড় বছর বন্দী করে রাখা হয়েছে। এই দিনে আমরা তাঁর মুক্তি ও সুস্থতার জন্য দোয়া করব। ঈদুল ফিতরের এই দিনে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য আমরা মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করব।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc