Tuesday 21st of May 2019 09:06:33 AM

লন্ডন থেকে ১০ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এর আগে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ১ মে (বুধবার) ১০ দিনের সরকারি সফরে লন্ডন যান প্রধানমন্ত্রী।

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীরের আইটি শাখার এক বিশেষজ্ঞকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম রিয়াজ উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের শুভাড্যা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিট। গ্রেফতার রিয়াজ উদ্দিন হিজবুত তাহরীরের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কদের একজন সংগঠক এবং আইটি বিশেষজ্ঞ। তার বিরুদ্ধে সেনা সমর্থন আদায়ের মাধ্যমে সরকার উৎখাত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পুলিশ সুপার মো. মাহিদুজ্জামান জানান, এন্টি টেরোরিজম ইউনিট গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হিজবুত তাহরীরের সমন্বয়ক রিয়াজকে শনাক্ত করে। তিনি গত তিনবছর ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, শ্যামপুর, দনিয়া ও গেন্ডারিয়া এলাকায় হিজবুত তাহরীরের সমন্বয়ক হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। বর্তমান সরকারকে ‘উৎখাত’ করে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলনে মাঠ পর্যায়ে সংগঠনের ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি রিয়াজ অনলাইনভিত্তিক হিজবুত তাহরীরের প্রচারণা, সদস্য সংগ্রহ ও নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র করায় রিয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।ইত্তেফাক

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে পৃথক পৃথক অভিযানে নেশা জাতীয় অ্যাম্পুল ইনজেকশন ও হেরোইনসহ দুই মহিলা মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে আত্রাই থানা পুলিশ ।

শনিবার তাদের নওগাঁ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলো উপজেলার সদুপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী রিয়া খাতুন (২১) ও সাহেবগঞ্জ গ্রামের ত্বোহার স্ত্রী আঁখি আক্তার (২৫)।

এ ব্যাপারে আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মোবারক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ উপজেলার সদুপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিয়া খাতুনকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে ৩৩পিচ নেশা জাতীয় অ্যাম্পুল ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। এবং শুক্রবার রাতে উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আঁখি আক্তার আটক করা হয়। এসম তার কাছ থেকে ২গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় শনিবার তাদের বিরুদ্ধে আত্রাই থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং শনিবার তাদেরকে নওগাঁ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ শেখ আবদুল হালিম আহবায়ক ও আবু জাফর মোল্লা সদস্য সচিব 

বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদের এক সভা আজ ১০-০৫-২০১৯ খ্রীঃ সকাল ১০.০০ টায় ৩২, ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কার্যকরি সভাপতি জনাব আনিছা পারভিন বুলবুল। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল হালিম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু জাফর ঢাকা কমার্স কলেজের সাবেক অধ্যাপক রোমজান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক চৌধুরী, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মিসেস রিপা রহমান, সাহানারা আক্তার, মাফিয়া ইসলাম পুতুল, রাশেদুল হাসান, মোঃ রমজান আলী, মোঃ সরোয়ার, ইকবাল হোসেন কবীর, নূর মোহাম্মদ, বাংলাদেশ উন্মূক্ত বিশ^বিদ্যালয়ের উপ- পরিচালক মোঃ মনসুর আলম প্রমূখ।
সভায় বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদেও দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান এর জন্য পূর্বের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নি¤œরুপ একটি নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
১। আহবায়ক : অধ্যক্ষ শেখ আবদুল হালিম,
২। সদস্য সচিব : মোঃ আবু জাফর মোল্লা
৩। যুগ্ম আহবায়ক : মোঃ রফিকুল ইসলাম
৪। সদস্য : মোঃ আবদুল মালেক চৌধুরী
৫। সদস্য : মোঃ ইকবাল হোসাইন খান
৬। মোঃ রোমজান আলী
উক্ত ব্যক্তি বর্গকে অনতি বিলম্বে ৫১ + সদস্য সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটির নাম ঘোষনার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পাশাপাশি এই আহবায়ক কমিটি গঠনতন্ত্র মোতাবেক পরবর্তী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ গঠনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।প্রেস বার্তা

নজরুল ইসলাম তোফা: এদেশের অধিকাংশ মানুষ শ্রমিক, মজুর। তাদের মাথার ঘাম ঝরিয়েই উপার্জন আসে কৃষি কাজ করে। এই দেশ কৃষিভিত্তিক হওয়া সত্ত্বেও মুক্তবাজার অর্থনীতির নগ্নথাবা কৃষিতে যেন ভঙ্গুরতার সৃষ্টি করে। কৃষির অনগ্রসরতার কারণেই দরিদ্রতার ঘেরাটোপে প্রায়শই গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্রঋণের আশ্রয় নিতে হয়। কিন্তু এই ঋণের অর্থ পরিশোধ করার সময় আসলেই তাদের জীবনে নেমে আসে নিদারুণ সমস্যা বা কষ্ট। অনেকেই সেই কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য বিভিন্ন উপায়েই ‘ঋণের অর্থ’ শোধ করে। ক্ষুদ্রঋণের আশ্রয় হলো এনজিও। আর এনজিওকেই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে গন্য করা হয়। তাছাড়া এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর দলিলে লেখা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এনজিওটা হচ্ছে কোনো ‘ব্যক্তি বা গ্রুপ কর্তৃক’ তৈরি করা একটি বৈধ সংগঠন। যা সরকারের সঙ্গে কোনো সম্পর্কেযুক্ত না হয়েই যেন নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে। সুুতরাং, অলাভজনক সংগঠন বিশ্ব সহ এ দেশ, সমাজ এবং মানুষের উন্নয়নের জন্যেই যেন নানামুখী কাজ করে থাকে। আবার তাদের বৃহৎ উদ্দেশ্য তা হচ্ছে, বিভিন্ন বিদেশি দাতাদের অর্থায়নের ভিত্তিতে- সরকারকেও উন্নয়নের সহযোগীতা করে কিংবা ”আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে” সক্রিয় অবদান রাখে। বলা যায়, অসহায়ত্ব এবং অক্ষমতাকে পুজিঁ করে, উন্নয়নের নামেই যেন এই এনজিওর ব্যপকতা বা তৎপরতা। কিছু সংখ্যক এমন এনজিওর উদ্দেশ্য, আকার, প্রকার, অঞ্চল বা প্রকৃতিভেদে বাংলাদেশে এখনো কাজ করছে। তারা মাত্রাতিরিক্ত ঋণ এবং সুদ আদান প্রদানের কারণে বেশিরভাগ সময়েই দরিদ্র মানুষ দিশেহারা হয়ে যায় এবং তখনই তারা বিপজ্জনক সিদ্ধান্তের দিকে যেন আগ্রসর হয়। কারণটা জানা যায় যে, তাদের নিজস্ব শরীর ছাড়া যেন কোনো সম্পদ শেষ পর্যন্ত থাকে না যা দিয়ে তারা ঋণ পরিশোধ করতে পারে। তাই তো, বাংলাদেশে সেই সব এনজিওগুলোর মধ্যেই উল্লেখ যোগ্য হলো যেমন:- গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, সেইভ দ্য চিলড্রেন, অক্সফাম, এডুকেশনওয়াচ, ব্রাক, একশন এইড, মুসলিম এইড, প্রশিকা ইত্যাদি। বহু এনজিও আবার ব্যবসা বাণিজ্যও করছে তবে তাদের রয়েছে ইনকাম জেনারেটিং প্রজেক্টের আইনগত বৈধতা।

এভাবেই গোল বৈঠকে হত দারিদ্র নারীদের প্রলোবন দেখানো হচ্ছে

বাংলাদেশসহ সমগ্র পৃথিবীতে বর্তমানে ছোট কিংবা বড় প্রায় ৪০ হাজার আন্তর্জাতিক এনজিও রয়েছে। পৃথিবীর মোট আয়ের মাত্র ৫ শতাংশের সমান প্রায় ৪০ শতাংশই পৃথিবীর হত-দরিদ্র মানুষরা আয় করে থাকে। সারাবিশ্বে গড়প্রতি দুইটি শিশুর মাঝেই যেন একজন গরীব। তাই দারিদ্রতা বিমোচন লক্ষ্যে যেন এই গুলো এনজিও দাঁড় করানো হয়েছে। পৃথিবীতে কিংবা এই বাংলাদেশের এনজিওগুলোতে যত শ্রম বিক্রি হয় তার ৬৬ শতাংশ নারী থেকে আসে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য শ্রমের জন্যে যে বিনিময় হয় তার মাত্র ১০ শতাংশ পায় এ নারীরা। পৃথিবীর মোট সম্পত্তির শতকরা একভাগের মালিকানাই যেন এই নারীরা। তাই এদেশের এনজিও গুলোতে সামাজিক উন্নয়নে নানাবিধ কার্যক্রম নারী দ্বারাই করে নিচ্ছে। এ নারীকেই পাচ্ছে ক্ষুদ্রঋণ, নারী ও শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম, মানবাধিকার এবং আইনি কার্যক্রম, মানবসম্পদ উন্নয়ন কিংবা গ্রামীণ উন্নয়ন, আদিবাসী উন্নয়ন, উন্নয়ন গবেষণা, বাজার গবেষণা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, জেন্ডার, পরিবেশ, মিডিয়া, কৃষি, কর্ম সংস্থান ইত্যাদি। তবুও- এ নারীরা যেন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। তারা এনজিও কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করে বলে, গ্রামীণ ব্যাংক এবং ব্র্যাকের মতো বহু প্রতিষ্ঠান ঋণের অর্থ পরিশোধে খুব নগ্ন ভাবে যেন চাপ প্রয়োগ করে ঋণ গ্রহীতাদের ওপর। শুনা যায় যে তাদেরকে শারীরিক ভাবেও নির্যাতন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হবে এমন ভয়ও দেখানো হয়।

সাপ্তাহিক কিস্তি প্রদানের নিয়ম কানুন জানিয়ে দিচ্ছেন সমিতির কেন্দ্র স্যার।

সুতরাং যে কোনো এনজিওর সাফল্য কিংবা দুর্নীতি বা সুনাম নষ্ট হয় টিম ওয়ার্কের ওপর। এ টিমওয়ার্ক মূলত একই উদ্দেশ্যেই যেন এক বৃহৎ সংঘবদ্ধ কর্ম। প্রকল্প ব্যবস্থাপককে এ জন্যেই তার টিমের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হয়। টিম খুব ভালো করলেই তাদের প্রোজেক্টের আউটপুট ভালো হয়। আর টিম খারাপ করলে প্রোজেক্টে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এজন্য প্রকল্প ব্যবস্থাপককে সংস্থার মিশন-ভিশনের সঙ্গেই প্রকল্পের যোগসূত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হয় তার টিমকে। তাই সবাই যাতে একই উদ্দেশ্যে নিয়ে সমান ভাবে নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারে তার জন্য নিতে হয় এনজিওগুলোর নানা পদক্ষেপ। যেকোনো এনজিও গুলো’র টিকে থাকা নির্ভর করে বৈদেশিক সাহায্য এবং তাদের নিজস্ব সম্পদ আছে কিনা তার ওপর। বাংলাদেশের অধিকাংশ এনজিও মূলত দাতাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই তাদের সুবিধা ভোগীদের সেবা দিয়ে থাকে। এমন এ সেবার মেয়াদ ‘বিভিন্ন প্রকল্পের ছকে’ বাঁধা থাকে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে যেন ঐ সেবার সমাপ্তি ঘটে। আর তখন তাদের খুঁজার প্রয়োজন হয়, নতুন নতুন প্রোজেক্ট। বিকল্প কোনো ‘ফান্ড’। নিজস্ব ফান্ড তৈরি তাই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন দেশে সংবিধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনদ কিংবা অধিকার অনুযায়ী সকল মানুষের অধিকার সমান প্রাপ্তি- এমন কথাটি জানা, বোঝা এবং চর্চ্চায় এনজিও’রা একটা বড়ো ভূমিকা রাখলেও হতদরিদ্র নারী ব্যথিত সবাই পায় না। তাই, বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের মানুষের মনোগঠন পরিবর্তনে তারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে যেন ব্যর্থ হয়েছে। হতদরিদ্রের মধ্যেই কেউ কেউ ঋণের টাকা শোধ না দিতে পেরে সবার অগোচরে নিজ গ্রাম ছাড়া হয়েছে এমন ঘটনাও ঘটেছে।

সাপ্তাহিক কিস্তি প্রদানের নিমিত্তে নারীদের হাতে ঋণ তুলে দেওয়া হচ্ছে।

জানা দরকার যে এমন এই এনজিওগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত অমুনাফাভিত্তিক এক ধরনের বিশেষ স্বেচ্ছা সেবী সামাজিক সংগঠন। সরকারের দৃষ্টিতেই সার্বিক উন্নয়নের জন্যে বেসরকারি সাহায্য হতেই এনজিও’র সূচনা। একবিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রবৃদ্ধি কিংবা কার্যকরণের সম্প্রসারণ ঘটে। সুতরাং ‘এনজিও’ শুধুই যে জাতীয় ভাবে তা নয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েই বিস্তৃতি ঘটেছে। দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং পল্লী উন্নয়নেও কাজ করছে এইসব এনজিও। বর্তমানে এনজিওগুলোর মূল কাজ হচ্ছে মানুষের মধ্যে যে আত্ম বিকাশের ক্ষমতা রয়েছে তা কাজে লাগানো। ‘মানুষ’ যেন নিজেই নিজের অবস্থা পরিবর্তন করতে পারে তার ব্যবস্থা করে দেওয়া। এ প্রক্রিয়া থেকেই সুবিধা বঞ্চিত ‘হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী’ যখন লাভবান হন তখন তাদের মধ্যে একটি বিশেষ আত্মতৃপ্তি কাজ করে, তাতে করে তাদের সামাজিক মর্যাদা বাড়ে- যা তাদের আরো সামনে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করে। এনজিও গুলো দেখে যে, একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী এবং লোকালয়ের মানুষদের কোন্‌ কোন্‌ ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রয়োজন সেই অনুযায়ী তারা কাজও করে থাকে। বাংলাদেশের সব জায়গাতে এরা কাজ করে থাকে। আবার এনজিওর মধ্যে যেন কিছু কিছু শহরকেন্দ্রীক, কিছু রয়েছে গ্রাম কেন্দ্রীক, তাছাড়াও কিছু এনজিওগুলো যারা কিনা শহর ও গ্রামাঞ্চলের উভয় জায়গায় কর্মপরিচালনা করে। আসলে এমন এনজিও গুলোর কাজ বিশেষ ভৌগোলিক এলাকা ভিত্তিক-ও হয়ে থাকে, যেমন চর/উপকূলীয়/পার্বত্য এলাকা কেন্দ্রীক এনজিও। বলাই যায়, তারা বিশেষ জনগোষ্ঠীকে নিয়েই নানা ধারার কাজ করে। যেমন: প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী, শ্রমজীবি শিশু এবং নির্যাতিতা নারী ইত্যাদি। তাই বলতেই হয় যে, এনজিও গুলোর কাজ বহুমুখী, সেখানে তাদের কাজের ক্ষেত্রও যেন অনেক বিস্তৃত। তারা মাঠ পর্যায়ে “ছোট-বড়” বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মেলা মেশার সহিত তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথাকে সরকার কিংবা সমাজের প্রতিষ্ঠিত মহলকে জানিয়ে থাকে, তাদের মুল উদ্দেশ্য সমাজে যারা হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্য এবং জীবন যাপন সুন্দর হয় সেহেতু বিভিন্ন প্রজেক্ট হাতে নেয়। সুতরাং এর জন্য দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকেও অনুদান সংগ্রহ করে, তাই সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন প্রজেক্ট পরিচালনা করে। কিন্তু এতো সুনামের পরও বেশকিছু ঠকবাজ এনজিও সমূহ মানুষের জীবন যাপনের সম্ভাবনাকে ম্লান করে দিয়েছে। নানান স্তরে এনজিওতে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকা স্বত্বেও তারা আজকে দারিদ্র্য বিমোচনে নামে- অসহায় মানুষের কাছ থেকেই যেন শতশত কোটি কোটি টাকা উপার্জন করছে।

ঋণের টাকা গুনে নিচ্ছেন এক সদস্যা

পরিশেষে বলতে চাই এনজিওতে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের পাশেই এনজিওর দাঁড়ানোর ইচ্ছা পোষণ করা প্রয়োজন। উন্নয়ন মূলক কর্মে সরাসরি নিজেকে নিয়োজিত করতে পারাটা আনন্দের। তবে এনজিওদের ব্যপারে সমালোচনার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। দেশের অধিকাংশ এনজিও গুলোর তহবিল, মূলধন ও বিনিয়োগ আসে খ্রীস্টান সংগঠন সমূহের পক্ষ থেকে। ‘দরিদ্র’ ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে ৪০% ভাগের উপর মুনাফা কিংবা ‘সুদ’ নেয়ার পরও সরকারকে কর দেয় না। তাই সম্পূর্ণ করমুক্ত সুবিধা পায়। ”এনজিও ব্যুরোর নিয়মানুযায়ী”- বলা যায় যে, প্রতিটি প্রকল্পের পনেরভাগ টাকা প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য রেখে বাকি পঁচাশি ভাগ টাকা কর্মসূচির কাজে ব্যয় করতে হবে। অথচ এমনও দেখা যায়, প্রকল্পের বরাদ্দের শতকরা ৮০ ভাগ যায় পরিবহন ও বিদেশী কর্মকর্তা উপদেষ্টাদের পেছনে। আবার পনেরো ভাগ ব্যয় করে স্থানীয় কর্মচারীদের পেছনেই এবং টার্গেট গ্রুপের জন্য ব্যয় হয় শতকরা মাত্র ৫ ভাগ। সুতরাং এই সকল আয় এনজিওগুলোর থাকতেই হবে আর তা যেন আসবে একেবারেই হতদরিদ্র মানুষের হাতে ধরে। অতএব ঋণগ্রহীতাদের কণ্ঠেই যেন ফুটে ওঠে সামগ্রিকভাবে এনজিওর বিরূপচিত্র। একজন ভ্যান চালকে জিজ্ঞেস করে জানা যায় যে, সে বেশ গরীব, তার অনেকগুলো এনজিওতে নাকি ঋণ আছে যার পরিমাণ প্রায়- ‘১ লাখ’ টাকা। পরিশ্রম করেও ঋণের টাকা শোধ করতে পারছে না। এনজিওর কথা মতো বাড়ির সকল আসবাবপত্র বিক্রি করে দিয়ে “ঋণের টাকা পরিশোধ করেছে। এক দিকে এনজিও গুলো সরকারকে বুঝিয়ে ফায়দা হাসিল করছে অন্যদিকে গরীবরা ঋণ নিয়ে লাভের চেয়ে ক্ষয়- ক্ষতির মধ্যেই পড়ছে। সুতরাং, কেন তারা সফলতা অর্জন করতে পারছে না এনজিওকেই চিহ্নিত করতে হবে। সে সব সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের প্রয়োজন বলে মনে করি। তাহলেই এনজিওর মাধ্যমে দারিদ্র্য, পথশিশু, কিশোর অপরাধ,মাদকাসক্তি, নারীর প্রতি সহিংসতা, দুর্নীতি, সহায়হীন বার্ধক্য এবং অসহায়ত্ব দূর হবে। সরকার এমন এই এনজিও গুলোর দিকে খুব কঠোর দৃষ্টি না দিলে- “উন্নয়ন সচেতনতা কিংবা সামাজিক সমস্যাগুলো” দূর হবে না। লেখক: নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

এম ওসমান : যশোরের বেনাপোলের সবার প্রিয় বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান আর নেই। তিনি শুক্রবার সকালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহে ……….. রাজেউন। মৃত্যুকালে মরহুমের বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি স্ত্রী, ৭ ছেলে, ৩ মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহি রেখে গেছেন। মরহুম বজলুর রহমান বেনাপোল নাগরিক কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব মাষ্টার মোঃ শহীদুল্লা’র বড় ভাই।
জুম্মা নামাজের পর দৌলতপুর নিজ গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার পর জানাজা শেষে মসজিদের পাশে পারিবারিক কবর স্থানে তাকে দাফন করা হয়। বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের একটি চৌকস দল মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমানের গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এ সময় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় ১ মিনিট নিরবতা পালন করেন। গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মৌসুমী জেরীন কান্তা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা নামাজে অংশ নেন বেনাপোলের বিশিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব শামছুর রহমান, বেনাপোল নাগরিক কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব মাষ্টার মোঃ শহীদুল্লাহ, বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দিন, পুটখালি ইউপি চেয়ারম্যান হাদিউজ্জামান, যশোর সেচ্ছা সেবক লীগের নেতা লুৎফুল কবীর বিজু, আবুল মোড়ল, অহিদুজ্জামান দুদু, আলতাফ হোসেন প্রমুখ।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc