Tuesday 21st of May 2019 08:51:54 AM

এম ওসমানঃ  পঞ্চম দফায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ৭টি আসনে লোকসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আসন গুলো হলো উলুবেড়িয়া, হাওড়া, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, ব্যারাকপুর, হুগলি ও বনগাঁ কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার এক দিনের জন্য বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত পথে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলে ওপারের কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট সুত্রে জানা গেছে। তবে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ওপারে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা তাদের ভোট প্রয়োগ করতে নিজ নিজ এলাকায় চলে যাওয়ার ফলে এ পথে কোন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম হবে না। মঙ্গলবার সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম যথারীতি নিয়মে চলবে।
এদিকে বনগাঁসহ অন্যান্য কেন্দ্রের নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সীমান্ত এলাকাগুলো সিল করে দেয়া হয়েছে। ভোটের দিন কোন প্রকার বহিরাগত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সীমান্ত পেরিয়ে ওপার বাংলায় যাতে প্রবেশ করতে না পারে মূলত সে কারনেই নির্বাচন কমিশন এ নির্দেশ জারি করেছে। নির্দেশ পাওয়ার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীসহ (বিএসএফ) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিএসএফ ও পুলিশ নজরদারি ও টহল বাড়িয়ে দিয়েছে। ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর থাকবে। প্রতিবারেই ভোটের আগে সীমান্ত সিল করে দেয়া হয়। তবে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক কঠোর করা হয়েছে।
ভারতীয় নির্বাচন কমিশন বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর জন্যই এইসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ভারত সীমান্তের প্রতিটি বিএসএফ ক্যাম্পে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সৈন্য। রবিবার ভারত ফেরত পাসপোর্টযাত্রীরা জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তপথে চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। এ সব চেকপোস্টে সাধারন মানুষের পাশাপাশি বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীদেরও তল্লাশী করা হচ্ছে। সন্দেহ হলে করা হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদ। সীমান্ত এলাকা ছাড়াও ছোট বড় আবাসিক হোটেল, বাস ও রেলস্টেশনে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভোটের দিন বিশেষ পুলিশী প্রহরায় ঢাকা-কলকাতা সরাসরি বাস যাতায়াত করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ভারতের পেট্রাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত সিএন্ডএফ মালিক, কর্মচারি, হ্যান্ডলিং শ্রমিক, ট্রাক চালকরা তাদের ভোট প্রয়োগ করতে নিজ নিজ এলাকায় চলে যাওয়ার ফলে সোমবার এ পথে কোন আমদানি-রফতানি কার্যক্রম হবে না।
স্থানীয় বিজিবি‘র একজন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের সময় বর্ডার একটু কড়াকড়ি থাকে। তবে এ সীমান্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিএসএফের পাশাপাশি বিজিবিও সতর্কতার সাথে সীমান্তে দায়িত্ব পালন করছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হওয়ায় সোমবার বেনাপোল-পেট্রাপোল পথে কোন আমদানি-রফতানি হবে না বলে ওপারের সিএন্ডএফ এজেন্টরা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা খালী ট্রাকগুলো সন্ধ্যার আগেই ভারতে ফিরে গেছে। তবে বেনাপোল কাস্টম হাউজে কার্যক্রম চলবে।
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, ভারতে নির্বাচনের কারনে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য খালাস প্রক্রিয়াসহ লোড আনলোড স্বাভাবিক থাকবে।

এম ওসমান: পা দিয়ে লিখেই জিপিএ-৫ পেয়েছে তামান্না নূরা। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। পরীক্ষায় কৃতিত্বের মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্নপূরণে একধাপ এগিয়ে গেলো তামান্না। সোমবার (০৬ এপ্রিল) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর তামান্নাকে ঘিরে তার পরিবার, প্রতিবেশী ও শিক্ষকরা আনন্দের জোয়ারে ভাসছেন। তবে আগামীতে স্বপ্নপূরণের নানা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে দুশ্চিন্তা ও হতাশা ভর করেছে তামান্নার মনে। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামের রওশন আলীর মেয়ে তামান্না নূরা।
জন্মগতভাবে হাত ছাড়া মাত্র একটি পা নিয়েই দুনিয়ার আলো দেখে সে। তবে ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার প্রতি অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানতে বসেছে প্রতিবন্ধিত্ব। তারই প্রমাণ এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন। এর মাধ্যমে তামান্নার বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন আরও একধাপ এগিয়ে গেলো।
সরেজমিন তামান্নার গ্রামে গিয়ে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষায় ঝিকরগাছার বাঁকড়া জে কে হাই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলো তামান্না। স্থানীয় বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেই পরীক্ষা দেয় সে। তামান্নার শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবন্ধিত্বকে পেছনে ফেলে তামান্না বিদ্যালয়ে কেজি, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রতিটি ফলাফলে মেধাতালিকায় প্রথম হওয়ার পাশাপাশি এডাস বৃত্তি পরীক্ষায় প্রতিবছরই বৃত্তি পেয়েছে। এছাড়াও ২০১৩ সালে পিএসসি এবং ২০১৬ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাক্ষর রাখে। তামান্নার বাবা রওশন আলী বলেন, জন্মের পর থেকে আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি সামাজিকভাবে অনেক প্রতিকূলতার মোকাবেলা করতে হয়েছে। তবে কখনো আমরা ভেঙে পড়িনি। সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করেই ওর মা তাকে একটি পায়ের উপর ভর করে সব শিক্ষা দিতে থাকে।
তামান্না অক্ষর জ্ঞান তার মায়ের কাছ থেকেই শেখে। সে সময় বাড়ি থেকে দূরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে এবং নিয়মিত স্কুলে পাঠানো আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিলো না, ফলে স্থানীয় আজমাইন এডাস স্কুলে তাকে নার্সারিতে ভর্তি করানো হয়। তামান্না শ্রবণ ও মুখস্থ শক্তি এতো ভালোছিল যে একবার শুনলে তা আয়ত্ত্ব করতে পারতো। অক্ষর লেখা, পায়ের আঙুলের ফাঁকে চক ধরিয়ে লেখা, তারপর কলম ধরিয়ে লেখা আয়ত্ত্ব করে সে, বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টানো, পায়ের আঙুলের ফাঁকে চিরুনি, চামচ দিয়ে খাওয়া, চুল আঁচড়ানো সহজেই সে রপ্ত করে। এক পর্যায়ে নিজের ব্যবহৃত ঠেলাগাড়িটি এক পা দিয়ে চালানোও শেখে। আর তার দক্ষতা সবার নজরে আসে। বাবা রওশন আলী আরো বলেন, মেয়ের পরীক্ষার ফলাফলের কৃতিত্বের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। তবে রয়েছে নানা দুশ্চিন্তাও।
কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজে স্থানীয় একটি ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি করেন, তবে টিউশনির আয়ের টাকায় তামান্না ছাড়াও তার ছোট বোনের পড়ালেখা, চার বছরের ছেলেসহ সংসারের খরচ টানতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এরমধ্যে তামান্নাকে লেখাপড়া করে কতোদূর নিতে পারবেন সেই সংশয় থেকেই যায়। তামান্না নূরা বলে, ফলাফল ভালো হয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র বাংলায় ‘এ’ গ্রেড পাইনি বলেই গোল্ডেন হয়নি। আর পা দিয়ে লিখে শেষ হয়নি বলেই হয়তো খারাপ হয়েছে। আগামীর স্বপ্ন প্রসঙ্গে তামান্না বলে, ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন মেডিকেল পড়ে বিসিএস’র মাধ্যমে ভালো চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবো। কিন্তু এক পা দিয়ে কি এতো বড় কাজ সম্ভব? এজন্য মনোবল কমে যাচ্ছে।
তবুও আমি মেডিকেলে না পড়তে পারলেও ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা সম্পন্ন করে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি কর্মকর্তা হতে চাই। নিজের হতাশা উল্লেখ করে তামান্না বলে, এসএসসিতে ভালো হলেও আমার স্বপ্নপূরণ করতে হলে এখন ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে হবে। কিন্তু নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং বাবার আর্থিক অনটনে তা সম্ভব হবে কিনা চিন্তা হয়। সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করে তামান্না বলে, আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আমার স্বপ্নপূরণ হয়, যেন মানুষের সেবা করতে পারি। পাশাপাশি এতোদূর আসতে পেরে শিক্ষক, বাবা-মা, সহপাঠী, সহযোগী সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তামান্না।

সদ্য শেষ হওয়া ঘূর্ণিঝড় ফণী বাংলাদেশ অতিক্রম করে ভারতের আসামে যাওয়ার পর মেঘালয় ও আসামে লাগাতার ভারি বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টির পানি পাহাড়ি নদ-নদী বেয়ে বাংলাদেশে নামায় উপচে ও বাঁধ ভেঙে সুনামগঞ্জের ছয়টি বড় হাওর ডুবে গেছে। কৃষকদের দাবি- হাওর ডুবে তাদের জমি ও খলায় থাকা কমপক্ষে ২০ ভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

রোববার সকালে জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় সরেজমিন দেখা গেছে, জমিতে পাকা ধান, খলায় মাড়াই না করা কাটা ধান, মাড়াই করা ধান, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে খড়ও। এই হাওরপাড়ের কমপক্ষে ২০ হাজার কৃষক পরিবারকে উৎকণ্ঠা নিয়ে খলায়-জমিতে এবং বাড়িতে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা গেছে।

উপজেলার রাধানগরের কৃষক কফিল উদ্দিন বলেন, “হাওরের রাবার ড্যামের পাশের অংশ এবং ছাতলপাড় দিয়ে পানি ঢুকেছে। প্রথমে উপচে ও পরে বাঁধ ভেঙে গেছে। গত তিন দিন বৃষ্টি থাকায় আমার ৮ কেয়ার জমির কাটা ধান মাড়াই করতে পারিনি। মাড়াই করা ধান আরও ৫০ মণেরও বেশি রয়েছে খলায়। এগুলো শুকাতে পারিনি। এ অবস্থায় হাওরে পানি এসেছে। এখন ধান শুকাব, নাকি খলায় ডুবে যাওয়া ধান বাড়িতে নেব- বুঝে উঠতে পারছি না।”

বিশ্বম্ভরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার বর্মণ বলেন, “পানি প্রবল বেগে ঢুকছে। মানুষ খলার ধান-খড়, কাটা ধান বাড়িতে নেবে, নাকি জমির ধান কাটবে। কোনটা রেখে কোনটা করবে। শ্রমিক মিলছে না বেশি টাকা দিয়েও। এ অবস্থায় অনেকে ক্ষেতে থাকা পাকা ধানের আশা ছেড়েই দিয়েছে।”

জামালগঞ্জের বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসিম তালুকদার বলেন, ‘হালির হাওরের নিতাইপুরের পাশের অংশ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকেছে। এই বাঁধের একেবারে নিচ থেকে তুলে বালিমাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। পানি বাঁধের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বাঁধ দেবে গেছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার, অথচ এখানে বস্তাও দেওয়া হয়নি। বাঁধের পাশের কৃষকদের শতকরা ৩৫ ভাগ জমির ধান কাটা হয়নি। রাতের ঘটনা হওয়ায় অনেকের কাটা ধান খলা থেকে ভেসে গেছে।’

তাহিরপুরের শনির হাওরের দুটি অংশ দিয়ে পানি ঢুকেছে। কালীর খেওয়ের সামনের লালুর ঘোয়ালা এবং বেহেলী ইউনিয়নের বেইলডুব অংশ দিয়ে শনিবার গভীর রাত থেকেই পানি ঢোকা শুরু হয়।

এই হাওরপাড়ের ভাটি তাহিরপুরের কৃষক ইউনুস আলী, গোবিন্দশ্রীর সেলিম আখঞ্জি বলেন, ‘খলায় থাকা কাটা ও মাড়াই করা ১০ ভাগ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ এই উপজেলার মাটিয়ান হাওরের গাজীপুরের নালা এবং চতুর্ভূজের নালা দিয়েও প্রথমে উপচে এবং পরে বাঁধ ভেঙে হাওরে ঢুকেছে পানি। ধর্মপাশার সোনামোড়ল হাওরের জারাকোনা এবং ঘুরমার হাওরের ঝিনারিয়া বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “ফণী আসামে গিয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়ে ভারি বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় পাহাড়ি নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পায়। শনিবার রাত সাড়ে ৩টায় সুনামগঞ্জের ছয়টি হাওরে পানি প্রবেশ করে। তবে দিনে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি আর বাড়েনি, বরং সামান্য কমেছে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক বশির আহমদ বলেন, “হাওরে ৯৪ ভাগ ধান কাটা শেষ। হালির হাওরের নিতাইপুর বাঁধের পাশের অংশে ৪০-৫০ হেক্টর জমির ধান কাটা বাকি ছিল। এই ধান নিমজ্জিত হতে পারে। অন্য কোনো হাওরের নিচু এলাকায় কোনো ধান ছিল না।”

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সফিউল ইসলাম বলেন, ফণীর কথা উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার থেকেই মসজিদে মসজিদে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মাইকে প্রচার করা হয়েছে- ধান কাটা বাকি থাকলে, তা কেটে নিরাপদে নেওয়ার জন্য। ফণীর প্রভাবে আসাম ও মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টির পানি সুনামগঞ্জের কয়েকটি হাওরে এসে ঢুকেছে। আমরা সরেজমিন ঘুরে দেখছি বাঁধ নির্মাণে কোনো ত্রুটি ছিল কি-না, ত্রুটি থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটিও নিরূপণে সংশ্নিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ পবিত্র মাহে রমজানকে স্বগত জানিয়ে চুনারুঘাটে ছাত্রসেনার মিছিল। গতকাল ৫ মে রবিবার বাদ আছর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চুনারুঘাট উপজেলা শাখার উদ্দোগে স্থানীয় উপজেলা কার্যালয় হতে এক বিশাল স্বগত মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি পৌর শহর পদক্ষিন করে পথসভায়  বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট উপজেলা সাধারন সম্পাদক মাওঃ মোঃ ইয়াকুত মিয়া, সহ দপ্তর সম্পাদক কাজী মোঃ জামাল মিয়া, সাংবাদিক এস এম সুলতান খান, প্রচার সম্পাদক  মোঃ আব্দুল জাহির, ছাত্রসেনা সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ মামুনুর রশিদ, উপজেলা সাবেক সভাপতি মোঃ বিলাল মিয়া, উপজেলা সহসভাপতি মোঃ জাবেদ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তাহের মিসবাহ্, সহ সাধারন সম্পাদক হাফেজ মোঃ শামছুল  ইসলাম জাকী, পৌর সভাপতি মোঃ আবু তাহের, রিদওয়ান চৌধুরী, বক্তাগন বলেন  রমজান মাস কোরআন নাজিলের মাস, ঘোনাহ্ মাফের মাস এ মাসে সকল প্রকার অশ্লীলতা থেকে বিরত তাকার জন্য সকর মুসলমানদের প্রতি আহবান জনান এবং দিনের বেলায় হোটেল রেস্তুরা বন্দ রাখতে হবে।

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল শহরের এক (১) নং পুল এলাকায় রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে এক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জন যাত্রীসহ তিন জন আহত হয়েছেন, এর মধ্যে সিএনজি চালক গুরুত্বর আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে। আহতদের দুইজনকে স্থানীয় হাসপাতালে এবং গুরুত্বর আহত সিএনজি চালককে মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।  বিস্তারিত আসছে…

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc