Monday 17th of June 2019 12:49:33 AM

নজরুল ইসলাম তোফা: শিক্ষাহীন মানুষের নিজস্ব জ্ঞান স্ব-পরিবেশে সীমাবদ্ধ থাকে। ‘শিক্ষা’ তার নিজ পরিবেশ সহ বিভিন্ন সমাজ কিংবা সভ্যতা’র সম্পর্ক গড়ে তোলেই যেন সচেতন করে। মনীষীর জীবনকে পর্যালোচনায়, অতীতের আলোকে বর্তমানের স্বরূপ উদঘাটন, দেশ-কালের নানা বৈচিত্র্যময় পরিবেশের ”আদর্শ, নীতি, বিশ্বাস এবং সংস্কার” এর বিভিন্নতার উপলব্ধি, সহানুভূতির “উদারতা ও প্রসস্ততা” কিংবা বিচারের দ্বীপ্তিতে কল্পনার ঔজ্জ্বল্য সম্পাদন করাই শিক্ষার অবদান।

জ্ঞানার্জনের মধ্য দিয়েই যেন এই মানুষ যে শক্তি অর্জন করে, সেই শক্তি অর্জনই যেন শিক্ষার উদ্দেশ্য। সে উদ্দেশ্য থেকেই তো আসে সুস্থ ‘কল্পনা বা স্বপ্ন পুরনের ইচ্ছা’। জ্ঞান না থাকলে বুদ্ধি আসে না আর বুদ্ধি ছাড়া মুক্তি বা সফলতা আসতে পারে না। জ্ঞান চর্চার মাধ্যমেই সফল হওয়ার লক্ষ্যে মানুষ ‘কল্পনা’ করেই নানা পরিকল্পনা করে। সুতরাং প্রত্যেক মানুষ ”ছোট হোক কিংবা বড়ই হোক” কোন না কোন স্বপ্ন নিয়েই থাকে, আর কল্পনা থেকেই যেন স্বপ্নের জন্ম। সে স্বপ্নগুলোকে অনেকেই বয়স কালে পূরণ করার চেষ্টা করে, আবার ছোট বেলার অনেক স্বপ্ন পূরণের উচ্চ আখাঙ্খা অকালে ঝরে পড়ে।

এই স্বপ্ন পূরণের আখাঙ্খা ছোট থেকে হোক বা বড় হয়ে হোক স্বপ্ন পূরণের ‘সূত্রপাত’ কিন্তু, ছোটতেই জাগ্রত হয়। তাদের নানানকিছু চিন্তা করার মাধ্যমে তা চলে আসে। আর তারা কেউ কেউ খুব বেশি পড়াশোনাও করে এবং নিজের মস্তিস্কটি ব্যবহার করে, সেটি খুব কম চিন্তাভাবনার আবেগপূর্ণ অভ্যাসে পরিণত হয়। এইটি আলবার্ট আইনস্টাইনের উক্তি। তিনি আরও বলেছেন আমাদের মন অথবা ব্রেইন থেকেই কল্পনা আসে। মস্তিষ্ক হলো দেহের চালক। এই দেহের সমস্ত শারীর বৃত্তীয় কর্মকাণ্ড এটি দ্বারা চালিত হয়। এটির বিভিন্ন অংশের কর্মকাণ্ডে দেহের শ্রবণ, শ্বসন, চিন্তা-চেতনা, বিবেক, সৃজনশীল কাজ বা কল্পনাসহ পেশি চালনা ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

সুতরাং এই মন ও ব্রেইন এ কারনে উল্লেখ করলাম, কারণ হলো উভয়েই একটা অপরটার সঙ্গে সম্পৃক্ত, সব বড় বড় অর্জনের পেছনেই মন বা ব্রেইনের হাত অনেকাংশেই বেশি। তাই মানুষের মনের কাজ হচ্ছে মানুষকে ‘স্বপ্ন’ দেখাতে সাহস যোগায়। মানুষের যদি মন থেকে তা বিশ্বাস করে তাহলেই স্বপ্নপূরণ করাটা অনেক সহজ কাজ হয়। সব সময়ে ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। বেশি বেশি স্বপ্ন দেখতেই হবে। একজন কল্পনাবাজ কিংবা স্বপ্নবাজ হতেই হবে। যদি কারও স্বপ্ন থেকেই থাকে, তাকে সর্ব প্রথমে নিজস্ব স্বপ্ন’কে মূল্যায়ন করতে হবে, সম্মান করতেও হবে সেই নিজ স্বপ্ন ধারাটিকে। “স্বপ্ন” ছোট হোক বা বড় হোক সেটা নিয়েই গর্ব করতে হবে। তাই আলবার্ট আইনেস্টাইন বলেছিল- ‘যদি তুমি একটি সুখী জীবন চাও, তাহলে এটাকে একটি লক্ষ্যের সাথেই বেধে ফেল, যে কোন মানুষ অথবা বস্তুর সাথে নয়’।

আবার ডেল কার্নেগী স্বপ্ন পূূূরণের উদ্দেশ্যে বলেছিল যে, ”আত্ম বিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রম ব্যর্থতা নামক রোগকে মারার সবচে বড় ওষুধ। এমনটাই আপনাকে একজন সফলকাম মানুষে পরিণত করবে।’ সফলতা অর্জনের ‘শর্টকাট’ কোনো পদ্ধতি নেই। ‘সাফল্য হল আপনি যা চান তা হাসিল করা। সুখ হল আপনি যা চান তা পাওয়া।’ এ স্বপ্ন নিয়ে বলতে গেলে বলা যায়, এ পি জে আবদুল কালাম মতে ‘স্বপ্ন সেইটা নয়, যেইটা মানুষরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে আর স্বপ্ন সেটাই যেটা পূরণের প্রত্যাশা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না। বেশির ভাগ মানুষের ‘স্বপ্ন’ হয় আকাশ কুসুম কল্পনার মত। এমন স্বপ্নটাই দেখা উচিৎ হবে যে স্বপ্নটা পূরণের সাধ্য সকলের রয়েছে। জয় করার মতোই ‘স্বপ্ন কিংবা কল্পনা’ বিশ্বাস যোগ্য হতে হবে।

একটু পরিস্কার ধারণায় আসা যাক- ”কল্পনা থেকেই স্বপ্ন”, আর কল্পনাটিরও অসীম ক্ষমতা রয়েছে। এটি জ্ঞানের চাইতেও বেশি ”পরিধি সম্পন্ন”। কারণ, যিনি সব দিক থেকে অনেক বেশি জ্ঞান অর্জন করেছেন, যার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি, সর্ব ক্ষেত্রে তিনিই যেন অনেক কিছু নিজ কল্পনায় বিশ্লেষণ করতে পারেন। সেই কল্পনাকেই বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা তখন তাঁর কাছে প্রবল হয়ে ওঠে। সুতরাং মানুষ এ ভাবেই ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়। অনেক ক্ষেত্রেই যে কোনো ব্যাপার নিয়ে কল্পনা করা যায় তখন সেই ব্যাপার সম্পর্কেই আরও বেশি জানবার আগ্রহটাও যেন বাড়ে। এজন্যে বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন বলেছিল,- ‘’কল্পনা জ্ঞানের চেয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ’’।
তিনি আরও বলেছেন,- যদি আমাকে একটি সমস্যা সমাধানের জন্য এক ঘন্টা বেধে দেয়া হয়, আমি ৫৫ মিনিট সমস্যাটা নিয়ে চিন্তা করি এবং আর বাকি ৫ মিনিট সমাধানটা নিয়ে চিন্তা করি। সুতরাং সমাধান হতে যে বাধ্য তা অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের এধরনের কল্পনা থেকেই বুঝা যায়। আপনার ‘দর্শন ও স্বপ্ন’কে নিজের সন্তানের মত লালন করুন কারণ এ গুলোই আপনার চূড়ান্ত অর্জনের প্রতিচিত্র হয়ে উঠবে। এই কথা- “নেপোলিয়ন হিল” জানিয়ে আলোকিত মানুষ হওয়ায় যথেষ্ট দৃষ্টান্ত দিয়ে ছিল। সত্যিকারের ‘জ্ঞানী ব্যক্তি হতে চাইলে- কল্পনা এবং স্বপ্নের সঙ্গে প্রথমেই চরিত্রবান হতে হবে। বিনয়, ভদ্রতা বা কৃতজ্ঞতাবোধ থাকা দরকার।

পরিশ্রম, উৎসুক মন কিংবা সহজাত বুদ্ধিমত্তা ছাড়া জ্ঞানের জগতে খুব সহজেই যেকেউ প্রবেশ করতে পারে নি। ‘ধৈর্য, সহ্য এবং সরলতা’ না থাকলে জ্ঞানকে ধারণ করাও যায় না। তাই কৌশল, দক্ষতা, সময়জ্ঞান কিংবা সাহস না থাকলে জ্ঞানকে সুযোগমতো ব্যবহার করা যায় না। মানুষের হৃদয়ের বিশালতা থাকা প্রয়োজন, ক্ষমা করার ক্ষমতা এবং অপ্রিয় বিষয় গুলোকে মানুষকেই যেন ভুলে থাকার যোগ্যতা বা দক্ষতা দরকার। এ যোগ্যতা না থাকলে আপনার জ্ঞান বিস্মৃতির কবলে পড়ে দিন দিন হ্রাস পেতেও থাকবে। সংযম, দিব্যদৃষ্টি, অনুভূতিপ্রবণ বা সহানুভূতিশীল না হলে জ্ঞান কেউ গ্রহণ করার জন্য এগিয়ে আসবে না। সুতরাং, মোহনীয় ব্যক্তিত্ব, কথা-কর্মের নান্দনিক মাধুর্য কিংবা পর্যাপ্ত রুচিশীলতা না থাকলে ‘জ্ঞান’ লোকারণ্যেও বিজ্ঞময় সুগন্ধি ছড়াবে না। ‘পরিশ্রম করতেই হবে, কঠিন পরিশ্রম। আপনার কাজকে সহজ করতেই পরিশ্রম করতে হবে। কারণ, একবার পরিশ্রম করে যদি আপনি কাজকেই সঠিক ভাবে বুঝতে সক্ষম হন। তবে পরবর্তী সময়ের কোন কঠিন কাজটি পরিশ্রম না করেই তার সঠিক ফায়দা লাভ করা যায়’।

তাই বলতে চাই- কল্পনা শক্তি জাগ্রত করেই পরিশ্রম করা প্রয়োজন। দার্শনিক মার্শাল বলেছিল, ‘মানুষের কল্পনাশক্তি না থাকলে পৃথিবীর এতো উন্নতি সাধিত হত না!’ জেনে রাখা দরকার যে, কোন ভিশন কিংবা মিশনকে সামনে রেখে সুদূর প্রসারি চিন্তা করা হলো কল্পনা আর নিজের অজান্তে বা ঘুমে যা চলে আসে তা স্বপ্ন! কেবলি স্বপ্ন! তাই জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে কি পেলাম ‘কল্পনা শক্তি’ দ্বারা সেটাই বড় প্রশ্ন নয়, বরং কি করেছি সেটাই বড় প্রশ্ন। জীবনের বহুমুখী কর্মটি এক কথায় পরিকল্পিত কল্পনাতে করতে হবে। এমন পরিকল্পনার ধাপ গুলোকে প্রয়োগ করে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রকারের পদক্ষেপ দরকার। তাই শারিরিক ও মানুষিক পরিশ্রমের মাধ্যমে ধাপ গুলো সম্পূর্ণ করতে হবে। যদি সেইসকল কাজ সঠিক মত করা যায়, তাহলেই এই জীবনে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছা যাবে। জানা দরকার শরীর রক্ষার পাশাপাশি জ্ঞানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মন-মানসিকতা, চিন্তা-চেতনা এবং কল্পনার সংমিশ্রণ ঘটিয়েই জ্ঞান অর্জন অতীব জরুরি। কেউ যদি মন’কে পরিচালনার ধরন না জেনে জ্ঞানার্জন করে চায় তবে তার সুস্থশরীর ও শক্তি-সামর্থ্য অবশ্যই বিপদাপন্ন কিংবা বিপত্তি বয়ে আনতে পাবে। জানা কথা হলো, মানুষের “মন এবং মস্তিষ্ক” প্রায়ই দ্বিমুখী চিন্তা করে। আর বিপরীতমুখী সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলে আবার পরস্পর বিরোধী স্বপ্ন দেখে। মানুষের ‘পাঁচটি ইন্দ্রিয়’ আবার পাঁচ রকমের-রূপ, রস, গন্ধ, শব্দ, স্পর্শ দ্বারাই যেন পাঁচ ভাবে মন ও মস্তিষ্কের পরস্পরবিরোধী চিন্তা-চেতনা ও স্বপ্নকে প্রভাবিত করে। প্রতিটি ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রেক্ষাপট বা পরিস্থিতিকে জটিল থেকেই জটিলতর করে তোলে। এমন এ জটিল সমীকরণের সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবেশ-পরিস্থিতি, সমাজ-সংসার। তাছাড়া বিশেষজ্ঞ কিংবা জ্ঞানী-গুণীদের নানা মুখী বুদ্ধি-পরামর্শ ও তাপ-চাপ ইত্যাদি। ফলে এত সব বাধাবিপত্তি পেরিয়ে মানুষের মন ও মস্তিষ্ক কেবল তখনই সঠিক কল্পনাটি করতে পারে। আর যখনই সেখানে অতি প্রয়োজনীয় জ্ঞান উপস্থিত থাকে।

সত্য স্বপ্ন বা কল্পনা হলো মানুষের সম্প্রসারিত সুক্ষ সহজাত অনুভুতির ফল। প্রতিটি মানুষের ভেতরেই এ সুক্ষ সহজাত অনুভুতির উপস্থিতি কিছুটা হলেও থাকে। আসলে ভবিষ্যৎ দেখার চেষ্টাই যেন কল্পনার কাজ। যারা এ পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাদের বেশির ভাগ ব্যক্তিই ভবিষ্যৎ কি হবে তা কল্পনার দ্বারা অনুমান করতে পেরে ছিল। এটাই মানুষের অনেক বড় একটা গুন। আসলেই ভবিষ্যৎ সবার জন্য অনিশ্চিত, যেটা ভাবব সেটা নাও ঘটতে পারে। কিন্তু অনুমান কতটুকু সঠিক হচ্ছে তাকে তো বুঝতে কল্পনার প্রয়োজন। সুতরাং- সবারই ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজস্ব কল্পনা কিংবা স্বপ্নের রূপটাই বা কেমন তাকে অনুভব করা ও দেখার চেষ্টা করা উচিৎ। তাই কল্পনা শক্তিতে জাগ্রত করেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। “ব্রায়ান ট্র্যাসি” বলেছিল সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হল আমরা যা ভয় পাই সে গুলো অপেক্ষা- আমরা যা আশা করি বা পেতে চাই সেগুলোর উপর আমাদের সচেতন মনকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সুতরাং- কল্পনা বা স্বপ্নকে জাগ্রত করে জীবনের ‘লক্ষ্য বা সফলতা’ অর্জন করা প্রয়োজন। পরিশেষে ‘আলবার্ট আইনস্টাইন’ এর একটি উক্তির আলোকেই বলতে চাই, ‘কল্পনা বিদ্যার চেয়েও শক্তি শালী কেননা বিদ্যারসীমা আছে কিন্তু কল্পনার সীমা নেই’।লেখক:নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ২য় বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান বাসন্তী পূজাঁ অনুুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের পৌর এলাকার মিতালি সংঘ পূজাঁ মন্দির, মুলিয়া ইউনিয়নের বাঁশভিটাসহ জেলায় বিভিন্ন জায়গায় কয়েকটি পূজাঁ অনুষ্ঠিত হয়। পূজাঁ উপলক্ষে মিতালী সংঘ মন্দিরসহ সকল মন্দিরে আলোকসজ্জ্বা সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

পূজাঁ উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। বৃহস্পতিবার ষষ্ঠী পূজাঁর মধ্য দিয়ে এ পূজাঁ শুরু হওয়া এ পুুজাঁ রবিবার নবমী ও দশমী পূজাঁর মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি, ১৪ এপ্রিল: অসাম্প্রদায়িক বাঙ্গালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে যশোরের শার্শা উপজেলায় ও বেনাপোলে নানা কর্মসূচি মাধ্যমে এ দিবসটি পালিত হয়েছে। শার্শা উপজেলার শার্শা পাইলট মডেল হাইস্কুল থেকে সকাল ৯টার সময় র‌্যালি ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে পহেলা বৈশাখের যাত্রা শুরু হয়। উপজেলা প্রশাসন ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বর্ষবরণের নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। উৎসবকে ঘিরে চিরায়ত মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তা-ইলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন ভর্তা দিয়ে পান্তাসহ বিভিন্ন দেশীয় মুখরোচক খাবার পরিবেশন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতি বছরের মত পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলা বসেছে। বিভিন্ন সংগঠন শিক্ষা প্রতিষ্টান, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা শার্শা ও বেনাপোলে বৈশাখির অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। উৎসবে মাতে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন ধর্ম বর্ণের মানুষ।
অপরদিকে বেনাপোলে পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্দ্যোগে বেনাপোল বলফিল্ড ময়দান থেকে বিশাল র‌্যালি ও মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। পহেলা বৈশাখের উৎসবকে ঘিরে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের পান্তা ও ইলিশ খাওয়ানো হয়। সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে পান্তা ও ইলিশ খাবারের দায়িত্ব পালন করেন পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগ ।
এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন, শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূলক কুমার মন্ডল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান, যশোর জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসিফ-উদ-দৌলা আলোক সর্দার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া ফেরদৌস, বেনাপোল পোর্ট থানার ইনর্চাজ আবু সালেহ মাসুদ করিম, শার্শা থানার ওসি (তদন্ত) তাসকিন আহম্মেদ তুষার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান অহিদ, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ, বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি এনামুল হক মুকুল, সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দিন, বেনাপোল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি তাহাজ্জেল হোসেন, সাধারন সম্পাদক শহিদুজ্জামান শহিদ, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার, সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন রাসেল, পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুলফিকার মন্টু, সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেন, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন জোয়ার্দ্দার, সাধারন সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুবেল, ইমরান, পারভেজ, শ্রমিক নেতা জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

চার থেকে পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে সিলেটে। বিশেষজ্ঞদের মতে এমনিতেই ভূমিকম্পের ডেঞ্জার জোনে রয়েছে সিলেট। ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম ১৯৯৮-এর জরিপ অনুযায়ী  ‘সিলেট অঞ্চল’ ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে সক্রিয় ভূকম্পন এলাকা হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। অন্যদিকে সিলেট সিটিতে অপরিকল্পিত নগরায়ন, নীতিমালা না মেনে ভবন নির্মাণসহ নানা কারণে বড় ভূমিকম্প হলে এখানে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরীর মতে, রিখটার স্কেলে চার থেকে পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প হলে সিলেটের অধিকাংশ ভবন ধসে পড়বে। প্রাণ হারাবে  অনেক মানুষ। ক্ষতি হবে কয়েক হাজার কোটি টাকা।
তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্পের বিষয়টা উৎপত্তিস্থলের ওপর নির্ভর করে। ডাউকির যে জায়গায় ১৮৯৭ সালে বড় ভূমিকম্প হয়েছিলো সেখানে এখনও ফল্ট রয়েছে। সেই স্থান অথবা তার আশপাশের উত্তর, পূর্ব, পশ্চিম যেকোনো জায়গা থেকে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হলে মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন হবে সিলেট।

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে দিন দিন বাড়ছে আকাশছোঁয়া ভবন তৈরির প্রতিযোগিতা। ভরাট হচ্ছে জলাধার। কেটে ফেলা হচ্ছে পাহাড় ও টিলা। এতে বাড়ছে ভূমিকম্পে ক্ষয়-ক্ষতির শঙ্কাও। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সিলেটের অধিকাংশ বাণিজ্যিক ভবনই অপরিকল্পিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ। রিখটার স্কেলে সাত বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে অধিকাংশ ভবনই ভেঙে পড়বে। অপরিকল্পিত বাসাবাড়ি নির্মাণের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে নগরীর শাহজালাল উপ-শহর, আখালিয়া, বাগবাড়ি, মদিনা মার্কেট প্রভৃতি এলাকা। বাণিজ্যিক ভবন ও ইমারতের পাশাপাশি নগরীতে অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তাছাড়া নগরীর ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করেছে সিটি করপোরেশন।

এদিকে সিলেট বিভাগের প্রধান প্রৌকশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন,  ৫৩ হাজার ছোট-বড় ভবন ও ১৫৩টি মেডিকেল ও ক্লিনিক রয়েছে। তবে ভূমিকম্প বা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড হলে তা মোকাবেলায় কোনও পদক্ষেপ নেই ভবনগুলোতে। এমনকি ভবনগুলিতে নেই অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, ইমার্জেন্সি সিঁড়ি, ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ও ফায়ার সেফটিক প্ল্যান। তবে এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সিলেট ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জাবেদ হোসেন বলেন, সিলেট মহানগরীতে উঁচু ভবন রয়েছে ২৫০টি। এর মধ্যে অনুমতি নিয়েছে ১৬০টি। সিলেট বিভাগ মারাত্মক ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য কোনও আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। একই অবস্থা অগ্নি নির্বাপণের ক্ষেত্রেও। ভূমিকম্প ও আগুনের কথা মাথায় রেখে এখনই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। ভূমিকম্প বিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে জানা যায়, ভূমিকম্পের মাত্রা অনুসারে বাংলাদেশ তিনটি ভূকম্পন বলয়ে বিভক্ত। এর মধ্যে এক নম্বর বলয়ে রিখটার স্কেলে সাত থেকে নয় বা তার অধিক মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। আর এই এক নম্বর বলয়েই সিলেটের অবস্থান। এই বলয়ে আরও রয়েছে ময়মনসিংহ ও রংপুর।

জানতে চাইলে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী যারা ভবন নির্মাণ করেননি তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ভবন ভেঙে দেওয়া হবে।hajarika

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নবর্বষকে বরন করেছে জেলাবাসী। রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয় থেকে জেলার সকল প্রতিষ্টানের অংশ গ্রহনে একটি বন্যার্ঢ র‌্যালী বের হয়। র‌্যালীটি জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে জুবলী স্কুল সংলগ্ন বালুর মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

র‌্যালীতে অংশ গ্রহন করেন,সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ,সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান মিছবাহ,জেলা পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান,পৌর মেয়ার নাদের বখত,জেলা আ,লীগের সাধারন সম্পাদক এনামুল কবির ইমন,ফৌজিয়ার সাম্মি,শফিকুল ইসলাম,জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক দলের নতৃবৃন্দ,জলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ,সরকারি বসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ,বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক শিল্পী সংগঠনের সদস্যবৃন্দ,স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ,শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রণিপেশার লাকজন উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যালীতে লাঠি খেলা সাপের খেলা,মহিষের গাড়ি,গরুর গাড়ি,ঘোড়াসহ আবহমান গ্রামীন বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ ১লা বৈশাখ ১৪২৬ শুভ নববর্ষ। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে নড়াইলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বর ও সুলতান মে ৬ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ৮ টায় সুলতান মে জেলা প্রশাসন ও বর্ষবরণ উদ্যাপন পর্ষদের আয়োজনে মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা। এর আগে সকাল সাড়ে ৬ টায় মিতালী সংঘ মন্দির প্রাঙ্গনে শ্রুতি-ছন্দ সংগীত নিকেতন ও বর্ষবরণ উদ্যাপন পর্ষদের শতাধিক শিল্পীর কন্ঠে প্রভাতি গানের মধ্য গিয়ে নতুন বছরকে বরণ করা হয়। সকাল ৮ টায় নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের সুলতান মঞ্চ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে একই স্থানে এসে শেষে হয়। এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম,বর্ষবরণ উদযাপন পর্ষদের সভাপতি প্রফেসর মুন্সি হাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব মলয় কুমার কুন্ডুসহ সাংস্কৃতিক কর্মি, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মিতালী সংঘ মন্দির প্রাঙ্গনে শ্রুতি-ছন্দ সংগীত নিকেতনের আয়োজনে প্রভাতি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন লেখক ও নাট্যকার প্রদ্যেুৎ ভট্টাচার্য। এছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলাদা আলাদা ভাবে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পান্তাভোজ,মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে বর্ষবরণ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা , ঘুুড়ি ওড়ানো,হাড়ি ভাঙ্গা, ঘোড়া দৌড়া, জারীগান, কবিগান ,আলপনা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, লোক সংগীত, লোক নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কাবিতা পাঠের আসর, কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, ভলিবল প্রতিযোগিতা, সায়ের গান, লাঠি খেলা, হাডুডু প্রতিযোগিতা, মহিলাদের বালিশ বদল প্রতিযোগিতা, লোকসঙ্গীত প্রতিযোগিতা সহ নানা অন্ষ্ঠুান ।

আজ রোববার ১লা বৈশাখ ১৪২৬ শুভ নববর্ষ। উৎসব মুখর পরিবেশে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলেও ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ শুরু হয়েছে।শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও বর্ষবরণ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করছেন।

এছাড়াও  উপজেলা সদরসহ গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে বর্ষবরণ চলছে। স্থানীয় আইনশৃঙখলা বাহিনীও এলাকাবাসীর নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

থানা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।স্বতঃস্ফুর্তভাবেই বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনটিকে বরণ করা হচ্ছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি।

হাবিবুর রহমান খান,জুড়ী প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের জুড়ীতে মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশকরায় সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করেছে একাধিক মামলার আসামী কবির ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় আহত সাংবাদিক জালালুর রহমান বাদী হয়ে জুড়ী থানায় মাদক ব্যবসায় কবির গংদের বিরোদ্ধে মামলা (নং- ২,তারিখ: ০৭/০৪/২০১৯ইং) দায়ের করেছেন।

জানা গেছে- গত ৫ এপ্রিল বিকালে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা মাদক ব্যবসায়ি কবির হোসেন (৪০) তার দুই সহযোগী মনির হোসেন (২০) ও আলাল হোসেন (১৮) জুড়ী হাই স্কুলসংগল্প এস,পি কম্পিউটার দোকানের সামনের রাস্তায় উপস্থিত হওয়া মাত্র তারা সাংবাদিক জালালের পথ রোধকরে।

এ সময় কবির ও তার দুইসহযোগীরা লাঠি দিয়ে জালালকে এলো পাথারি মারতে থাকে। তাদের মারপিটে জালাল চিৎকার করলে আশ-পাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করতে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।যাওয়ার সময় জালালের শার্টের পকেট থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- কবির একজন মাদক ব্যবসায়ী।তার বিরোদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সাংবাদিককে মারধরের গঠনায় মামলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বঙ্গাব্দ, বাংলা সন বা বাংলা বর্ষপঞ্জি হল বঙ্গদেশের একটি ঐতিহ্য মণ্ডিত সৌর পঞ্জিকা ভিত্তিক বর্ষপঞ্জি। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সৌরদিন গণনা শুরু হয়। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসতে মোট ৩৬৫ দিন কয়েক ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হয়। এই সময়টাই এক সৌর বছর। গ্রেগরীয় সনের মতন বঙ্গাব্দেও মোট ১২ মাস। এগুলো হল ‌ বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র। আকাশে রাশিমণ্ডলীতে সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে বঙ্গাব্দের মাসের হিসাব হয়ে থাকে। যেমন যে সময় সূর্যমেষ রাশিতে থাকে সে মাসের নাম বৈশাখ।

বাংলাদেশ এবং পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরা অঞ্চলে এই বর্ষপঞ্জি ব্যবহৃত হয়। বঙ্গাব্দ শুরু হয় পহেলা বৈশাখ বা বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে। বঙ্গাব্দ সব সময়ই গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর চেয়ে ৫৯৩ বছর কম।

সংশোধিত বাংলা পঞ্জিকা বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৮৭ সালে গৃহীত হয়। কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্যে পুরাতন পদ্ধতি ব্যাবহৃত হয়।

ইতিহাস

বঙ্গাব্দের সূচনা সম্পর্কে ২টি মত চালু আছে। প্রথম মত অনুযায়ী – প্রাচীন বঙ্গদেশের (গৌড়) রাজা শশাঙ্ক (রাজত্বকাল আনুমানিক ৫৯০-৬২৫ খ্রিস্টাব্দ) বঙ্গাব্দ চালু করেছিলেন। সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে শশাঙ্কবঙ্গদেশের রাজচক্রবর্তী রাজা ছিলেন। আধুনিক বঙ্গ, বিহার এলাকা তাঁর সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল৷ অনুমান করা হয় যে, জুলীয় বর্ষপঞ্জীর বৃহস্পতিবার ১৮ মার্চ ৫৯৪ এবং গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর শনিবার ২০ মার্চ ৫৯৪ বঙ্গাব্দের সূচনা হয়েছিল।

দ্বিতীয় মত অনুসারে, ইসলামী শাসনামলে হিজরী পঞ্জিকা অনুসারেই সকল কাজকর্ম পরিচালিত হত। মূল হিজরী পঞ্জিকা চান্দ্র মাসের উপর নির্ভরশীল। চান্দ্র বৎসর সৌর বৎসরের চেয়ে ১১/১২ দিন কম হয়। কারণ সৌর বৎসর ৩৬৫ দিন, আর চান্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিন। একারণে চান্দ্র বৎসরে ঋতুগুলি ঠিক থাকে না। আর বঙ্গদেশে চাষাবাদ ও এজাতীয় অনেক কাজ ঋতুনির্ভর। এজন্য মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে প্রচলিত হিজরী চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্রাট আকবর ইরান থেকে আগত বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমির ফতুল্লাহ শিরাজীকে হিজরী চান্দ্র বর্ষপঞ্জীকে সৌর বর্ষপঞ্জীতে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব প্রদান করেন। ফতুল্লাহ শিরাজীর সুপারিশে পারস্যে প্রচলিত ফার্সি বর্ষপঞ্জীর অনুকরণে ৯৯২ হিজরী মোতাবেক ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবর হিজরী সৌর বর্ষপঞ্জীর প্রচলন করেন। তবে তিনি ঊনত্রিশ বছর পূর্বে তার সিংহাসন আরোহনের বছর থেকে এ পঞ্জিকা প্রচলনের নির্দেশ দেন। এজন্য ৯৬৩ হিজরী সাল থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয়। ৯৬৩ হিজরী সালের মুহররম মাস ছিল বাংলা বৈশাখ মাস, এজন্য বৈশাখ মাসকেই বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং ১লা বৈশাখকে নববর্ষ ধরা হয়।

শামসুজ্জামান খান এবং নিতীশ সেনগুপ্তের মতে বাংলা বর্ষপঞ্জির উৎপত্তি পরিষ্কার নয়। এই উৎপত্তিতে ইসলামী প্রভাব ও বৌদ্ধ বা হিন্দু প্রভাব দুইই থাকতে পারে।

ইসলামী প্রভাব

শামসুজ্জামান খান বলেন, “একে বাংলা সন বা সাল বলা হয়। এই সন ও সাল হল যথাক্রমে আরবী ও ফারসী শব্দ। এটা নির্দেশ করছে এগুলো মুসলিম রাজা বা সুলতান কর্তৃক বাংলায় পরিচিত করানো হয়”।অন্যদিকে নিতীশ সেনগুপ্ত বলেন, এর ঐতিহ্যগত নামটি হল বঙ্গাব্দ। আকবরের সময় এই বর্ষপঞ্জিকে বলা হত তারিখ-ই-ইলাহি। বর্ষপঞ্জির তারিখ-ই-ইলাহি ভারশনে, প্রতিটি দিন এবং মাসের আলাদা আলাদা নাম ছিল, আর এখন যে মাসের নামগুলো দেখা যাচ্ছে তারিখ-ই-ইলাহিতে এরকম মাসের নামের বদলে অন্য মাসের নাম ছিল। বাংলাপিডিয়া অনুসারে, আকবরের পৌত্র শাহ জাহান রবিবার দিয়ে শুরু হওয়া সাত দিনের সপ্তাহের প্রচলনের জন্য এই তারিখ-ই-ইলাহি বর্ষপঞ্জির সংস্কার করেন। আর সেই সাথে কোন এক অজানা সময়ে সেই সময় বর্তমান থাকা শকাব্দে (ভারতীয় জাতীয় বর্ষপঞ্জি) থাকা মাসের নামের সাথে মিলিয়ে তারিখ-ই-ইলাহির মাসের নামকরণ করা হয়। আজ বাংলায় যে বর্ষপঞ্জিটি ব্যবহার করা হয়, সেই বর্ষপঞ্জিটিই তার ভিত্তি স্থাপন করে।

মুঘল আমলে, ইসলামিক হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে বাঙ্গালিদের থেকে খাজনা আদায় করা হত। সেই বর্ষপঞ্জিটি ছিল একটি চান্দ্র্য বর্ষপঞ্জি, আর তাই সৌর কৃষিচক্রের সাথে সেই বর্ষপঞ্জিটির কোন সমন্বয় ছিল না কোন কোন উৎস্য অনুযায়ী, খাজনা দানের সময় যে উৎসব এর আয়োজন হত সেই রীতি মুঘল সম্রাট আকবরেরই তৈরি, আর তখন থেকেই বাংলা সালকে বঙ্গাব্দ বলা হত। আকবর তার রাজজোতিষী ফতুল্লাহ শিরাজীকে চান্দ্র্য ইসলামিক বর্ষপঞ্জি এবং সৌর হিন্দু বর্ষপঞ্জিকে সমন্বিত করে একটি বর্ষপঞ্জি তৈরি করতে বলেন। আকবরের দেয়া আজ্ঞা পালন করে ফতুল্লাহ শিরাজী যে বর্ষপঞ্জি তৈরি করে দেন তা ফশলি শান(কৃষি বর্ষপঞ্জি) নামে পরিচিত ছিল। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, এখান থেকেই বাংলা বর্ষপঞ্জির সূচনা হয়। শামসুজ্জামান খানের মতে, সম্ভবত মুঘল গভর্নর নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ সর্বপ্রথম পুণ্যাহ এর রীতি (খাজনা আদায় করার জন্য একটি উৎসবের দিন) চালু করেন। আর এটা করার সময়ই তিনি আকবরের বার্ষিক খাজনা আদায়ের নীতি গ্রহণ করেন।

আবার এটাও অস্পষ্ট যে বাংলা বর্ষপঞ্জি হুসেন শাহ না আকবর কর্তৃক গৃহীত হয়। বাংলা বর্ষপঞ্জির রীতি আকবরের পূর্বে হুসেন শাহ চালু করে থাকতে পারেন। নিতীশ সেনগুপ্ত বলেন, বাংলা বর্ষপঞ্জি হুসেন শাহই শুরু করুন আর আকবরই, এটা বাংলার ঐতিহ্যগত বর্ষপঞ্জির ভিত্তিতে বসন্তের ফসল সংগ্রহের পর খাজনা আদায় করার কাজ সহজ করে দিয়েছিল। কারণ ইসলামী হিজরি বর্ষপঞ্জি খাজনা আদায়ের দিন ধার্য করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি করে।

হিন্দু বা বৌদ্ধ প্রভাব

আরও তথ্যের জন্য দেখুন: হিন্দু বর্ষপঞ্জী

কোন কোন ঐতিহাসিক বলেন বাংলা বর্ষপঞ্জি এসেছে ৭ম শতকের হিন্দু রাজা শশাঙ্কের কাছ থেকে। আকবরের সময়ের অনেক শতক আগে নির্মিত দুটি শিব মন্দিরে বঙ্গাব্দ শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়। আর এটাই নির্দেশ করে, আকবরের সময়ের আরও অনেক আগেও বাংলা বর্ষপঞ্জির অস্তিত্ব ছিল।

বৈদিক আচার অনুষ্ঠানের জন্য কোন সময়ে কি কাজ হবে এধরণের ধারণা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বৈদিক যুগের জ্যোতিঃশাস্ত্রে পারদর্শীগণ তখন মহাকাশের বিভিন্ন জ্যোতিষ্কের চলাফেরা দেখে সময় সম্পর্কিত হিসাব নিকাশ ও এই সব আচার অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারণ করার কাজ করতেন। জ্যোতিঃশাস্ত্র বিষয়ক পাঠ ছিল ছয়টি প্রাচীন বেদাঙ্গ বা বেদ সংক্রান্ত ছয়টি প্রাচীন বিজ্ঞানের একটি- যেগুলো হিন্দুধর্মগ্রন্থের অংশ। বৈদিক আচার অনুষ্ঠানের জন্য প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতি একটি উন্নত ও পরিশীলিত সময় নির্ণয় কৌশল এবং বর্ষপঞ্জি প্রস্তুত করে।

হিন্দু বিক্রমী বর্ষপঞ্জির নামকরণ করা হয় বিক্রমাদিত্যের নাম অনুসারে, এটা শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৫৭ অব্দ থেকে। ভারত ও নেপালের অনেক স্থানের মত গ্রামীণ বাঙ্গালী সম্প্রদায়ে বাংলা বর্ষপঞ্জির কৃতজ্ঞতা বিক্রমাদিত্যকে দেয়া হয়। কিন্তু অন্যান্য অঞ্চলে খ্রিষ্টপূর্ব ৫৭ অব্দে সেই বর্ষপঞ্জির সূচনা হলেও বাংলা বর্ষপঞ্জি শুরু হয়েছিল ৫৯৩ খ্রিষ্টাব্দে যা নির্দেশ করে কোন একটা সময়ে বঙ্গাব্দের আদর্শ বিন্দু বা রেফারেন্স পয়েন্টকে পরিবর্তিত করা হয়েছিল।

হিন্দু পণ্ডিতগণ সূর্য, চন্দ্র এবং অন্যান্য গ্রহসমূহের ক্রমাবর্তনকে পর্যবেক্ষণ এবং হিসাব করে সময়ের হিসাব রাখার চেষ্টা করতেন। সূর্য সম্পর্কিত এই হিসাব নিকাশ সংস্কৃত ভাষার বিভিন্ন জ্যোতিঃশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থে উঠে এসেছে, যেমন ৫ম শতকে আর্যভট্ট কর্তৃক রচিত আর্যভট্টীয়, ৬ষ্ঠ শতকে লটদেব কর্তৃক রচিত রোমক এবং বরাহমিহির কর্তৃক রচিত পঞ্চসিদ্ধান্তিকা, ৭ম শতকে ব্রহ্মগুপ্ত কর্তৃক রচিত খাণ্ডখাণ্ড্যক ইত্যাদি।এই গ্রন্থগুলোতে সূর্য সহ ও বিভিন্ন গ্রহ সম্পর্কে লেখা হয় এবং এদের স্থানান্তর সম্পর্কিত হিসাব-নিকাশ এবং বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়। অন্যান্য গ্রন্থ যেমন সূর্য সিদ্ধান্ত ৫ম থেকে ১০ শতকে রচিত হয় এবং এর অধ্যায়গুলোতে বিভিন্ন গ্রহ এবং দেব দেবী সংক্রান্ত পুরাণ দেখা যায়।

ভারতীয় রাজ্যগুলো যেমন পশ্চিমবঙ্গ্‌, ত্রিপুরা এবং আসামের বাঙ্গালীদের ব্যবহৃত বাংলা বর্ষপঞ্জি সূর্য সিদ্ধান্ত নামক সংস্কৃত গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে বানানো বলে অনেকে বলে থাকেন। এখানে মাসগুলোর ঐতিহাসিক সংস্কৃত নাম রক্ষা করা হয়, সেই সাথে এর প্রথম মাসের নামও বৈশাখ। এই বর্ষপঞ্জি হিন্দু বর্ষপঞ্জি ব্যবস্থার সাথে শক্তভাবে বন্ধনে আবদ্ধ এবং বিভিন্ন বাঙ্গালী হিন্দু উৎসব এটা দেখে ঠিক করা হয়।

সনাতন বাংলা বর্ষপঞ্জী

৫৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে বরাহমিহির “পঞ্চসিদ্ধান্তিকা” নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। গ্রন্থটি পাঁচটি খণ্ডে সমাপ্ত। এই গ্রন্থটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং জ্যোতিষশাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসার বলে অভিহিত করা হয়। পঞ্চসিদ্ধান্তিকার পাঁচটি খণ্ডের নাম– এই সিদ্ধান্তগুলো হল– সূর্যসিদ্ধান্ত, বশিষ্ঠসিদ্ধান্ত, পৌলিশ সিদ্ধান্ত, রোমক সিদ্ধান্ত ও ব্রহ্ম সিদ্ধান্ত। প্রাচীন দিন, মাস, বৎসর গণনার ক্ষেত্রে ‘সূর্যসিদ্ধান্ত’ একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। বরাহমিহিরের পরে ব্রহ্মগুপ্ত নামক অপর একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী (জন্ম ৫৯৮) একটি সিদ্ধান্ত রচনা করেছিলেন। এই গ্রন্থটির নাম ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্ত।

এই গ্রন্থটি খলিফা আল-মনসুরের আদেশে সিন্দহিন্দ নামে আরবি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে সৌর-মাস নির্ধারিত হয়, সূর্যের গতিপথের উপর ভিত্তি করে। সূর্যের ভিন্ন অবস্থান নির্ণয় করা হয় আকাশের অন্যান্য নক্ষত্রের বিচারে। প্রাচীন কালের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যের বার্ষিক অবস্থান অনুসারে আকাশকে ১২টি ভাগে ভাগ করেছিলেন। এর একটি ভাগকে তাঁরা নাম দিয়েছিলেন রাশি। আর ১২টি রাশির সমন্বয়ে যে পূর্ণ আবর্তন চক্র সম্পন্ন হয়, তার নাম দেওয়া হয়েছে রাশিচক্র। এই রাশিগুলোর নাম হল– মেষ রাশি, বৃষ রাশি, মিথুন রাশি, কর্কট রাশি, সিংহ রাশি, কন্যা রাশি, তুলা রাশি, বৃশ্চিক রাশি, ধনু রাশি, মকর রাশি, কুম্ভ রাশি ও মীন রাশি। সূর্যের বার্ষিক অবস্থানের বিচারে, সূর্য কোনো না কোন রাশির ভিতরে অবস্থান করে। এই বিচারে সূর্য পরিক্রমা অনুসারে, সূর্য যখন একটি রাশি থেকে অন্য রাশিতে যায়, তখন তাকে সংক্রান্তি বলা হয়। এই বিচারে এক বছরে ১২টি সংক্রান্তি পাওয়া যায়। একেকটি সংক্রান্তিকে একেকটি মাসের শেষ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়।

যেদিন রাত্রি ১২টার মধ্যে সূর্য্য ০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে প্রবেশ করে তার পরদিনই ১লা বৈশাখ (পহেলা বৈশাখ) হয়। যেদিন রাত্রি ১২টার মধ্যে সংক্রান্তি হয় তার পরদিনই মাসের প্রথম দিন। মূলত একটি সংক্রান্তির পরের দিন থেকে অপর সংক্রান্ত পর্যন্ত সময়কে এক সৌর মাস বলা হয়। লক্ষ্য করা যায় সূর্য পরিক্রমণ অনুসারে সূর্য প্রতিটি রাশি অতিক্রম করতে একই সময় নেয় না। এক্ষেত্রে মাসভেদে সূর্যের একেকটি রাশি অতিক্রম করতে সময় লাগতে পারে, ২৯, ৩০, ৩১ বা ৩২ দিন। সেই কারণে প্রতি বছর বিভিন্ন মাসের দিনসংখ্যা সমান হয় না। এই সনাতন বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছর ঋতুভিত্তিক থাকে না। একেকটি মাস ক্রমশঃ মূল ঋতু থেকে পিছিয়ে যেতে থাকে।

সংস্কারকৃত বাংলা বর্ষপঞ্জী

বাংলা একাডেমী কর্তৃক বাংলা সন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র নেতৃত্বে এ কমিটি বিভিন্ন বাংলা মাস ও ঋতুতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সাংস্কৃতিক জীবনে কিছু সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতাকে নির্ণয় করে সেগুলো হতে উত্তরণের প্রস্তাবনা প্রদান করেন। বাংলা সনের ব্যাপ্তি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর মতনই ৩৬৫ দিনের। যদিও সেখানে পৃথিবীর সূর্যকে প্রদক্ষিণের পরিপূর্ণ সময়কেই যথাযথভাবে নেয়া হয়েছে। এই প্রদক্ষিণের মোট সময় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট এবং ৪৭ সেকেন্ড। এই ব্যবধান ঘোচাতে গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর প্রতি চার বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি অতিরিক্ত দিন যোগ করা হয়। ব্যতিক্রম হচ্ছে সে শতাব্দীতে যে শতাব্দীকে ৪০০ দিয়ে ভাগ করা যায় না বা বিভাজ্য। জ্যোতির্বিজ্ঞান নির্ভর হলেও বাংলা সনে এই অতিরিক্ত দিনকে আত্মীকরণ করা হয়নি। বাংলা মাস অন্যান্য সনের মাসের মতনই বিভিন্ন পরিসরের হয়ে থাকে। এই সমস্যাগুলোকে দূর করার জন্য ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কমিটি বাংলা একাডেমীর কাছে কতকগুলো প্রস্তাব পেশ করে। এগুলো হচ্ছেঃ-

  • বছরের প্রথম পাঁচ মাস অর্থাৎ বৈশাখ হতে ভাদ্র হবে ৩১ দিনের;
  • বাকী মাসগুলো অর্থাৎ আশ্বিন হতে চৈত্র হবে প্রতিটি ৩০ দিনের মাস;
  • প্রতি চতুর্থ বছরের ফাল্গুন মাসে অতিরিক্ত একটি দিন যোগ করে তা হবে ৩১ দিনের।

বাংলাদেশে বাংলা একাডেমী সরকারীভাবে এই সংশোধিত বাংলা মাসের হিসাব গ্রহণ করে। যদিও ভারতের পশ্চিম বাংলা, অসম ও ত্রিপুরার বাঙালিরা পুরনো বাংলা সনের ব্যবহার করেন। সুত্রঃউইকিপিডিয়া

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠায় পুলিশ। গত ৪ এপ্রিল সিরাজের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যান মাদরাসা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম ও মাদরাসার সাবেক ছাত্র নূর উদ্দিনসহ চারজন। সেখানে সিরাজ তাদের ‘একটা কিছু করে’ নুসরাতকে শায়েস্তা করার নির্দেশ দেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী শাহাদাত হোসেন শামীম নুসরাতকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় গেলে সেখানেই ভবনের ছাদে নিয়ে কেরোসিন ঢেলে তাকে আগুনে পোড়ানো হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুই ছাত্রীর মাধ্যমে তিনটি বোরকা আনা হয়। আনা হয় কেরোসিন তেল।

৬ এপ্রিল বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে বলে শম্পা ওরফে চম্পা নামে এক ছাত্রীর দেয়া সংবাদে ভবনের চারতলায় যান নুসরাত। সেখানে আগে থেকে লুকিয়ে ছিল শাহাদাতসহ চারজন। তারা নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। কিন্তু নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে ওড়না দিয়ে বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে তারা নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যায়। ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার সর্বশেষ অবস্থা জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

শনিবার বেলা ১টায় রাজধানীর ধানমন্ডির ৪ নম্বর রোডে অবস্থিত পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, নুসরাত হত্যায় মোট ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত আট আসামির মধ্যে পরিকল্পনাকারী শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), নূর উদ্দিন (২০), মাকসুদ আলম কাউন্সিলর (২০), জোবায়ের আহম্মেদ, জাবেদ হোসেন (১৯) ও আফছার উদ্দিনকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আগে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার সিরাজ উদ দৌলাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এজাহারভুক্ত অপর আসামি হাফেজ আব্দুল কাদের পলাতক।

গ্রেফতারদের মধ্যে নূর উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে বলে জানান বনজ কুমার।

তিনি বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগের পর সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে অধ্যক্ষ এস এম সিরাজের মুক্তির পক্ষের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় স্মারকলিপি দেন। ৪ এপ্রিল কারাগারে নূর উদ্দিন ও শাহাদাতসহ চারজন দেখা করে। সেখানেই তিনি কিছু একটা করার নির্দেশনা দেন।
নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ আরও একজন মিলিত হয়ে পরিকল্পনা করেন। তারা সিদ্ধান্ত নেন, নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা হবে। নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনার কথা তারা দুই ছাত্রী ও দুই ছাত্রের সঙ্গে শেয়ার করে। এর মধ্যে একটি মেয়ের দায়িত্ব পড়ে ৩টি বোরকা আনা ও পলিথিনের ব্যাগে কেরোসিন আনা। ওই ছাত্রী কথা মতো সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে শাহাদাতের হাতে হস্তান্তর করে।
সকাল ৯টার পর ওদের ক্লাস পরীক্ষা শুরু হয়। এরই ফাঁকে ভবনের ছাদে চারজন অবস্থান নেয়। পরিকল্পনায় অংশ নেয়া শম্পা ওরফে চম্পা নামে এক ছাত্রী নুসরাতকে জানায়, ভবনের চারতলায় যান নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে। ওই খবরে নুসরাত ছাদে গেলে তাকে আটকে দেয়া হয়। প্রথমে ওড়না দিয়ে বেঁধে এরপর কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। বাইরে নূর উদ্দিনের নেতৃত্বে হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ পাঁচজন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গেট পাহারা ও স্বাভাবিক রাখার কাজ করে। আগুন দেয়ার পর সরাসরি অংশ নেয়ারা বোরকা পরে বের হয়ে যায়।
নুসরাতকে এর আগেও চুন মারার কারণে পাহাড়তলির হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল। যে কারণে হত্যাকারীরা মনে করেছিল নুসরাতকে মারাটা কঠিন কোনো বিষয় নয়। ঘটনার পরই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পিবিআইয়ের ছয়টি ইউনিট তদন্তে অংশ নেয়। ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে জড়িতের সংখ্যা বাড়তে পারে। পাঁচজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরও একজনকে রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হবে। একজনের রিমান্ড শেষ হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় জড়িতরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন আইনের আওতায় নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিবিআই’র বিশেষ সুপার (ঢাকা মেট্রো) আবুল কালাম আজাদ, এসপি বশির আহমেদ, মিনা মাহমুদা, পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা ও জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল আহছান।

যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদের কারণে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া ফেনীর সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি মারা গেছেন। পাঁচ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন নুসরাত। আর আলিম পরীক্ষার্থী রাফিকে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টা ও যৌন হয়রানির অভিযোগের পর বেরিয়ে আসছে সেই অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নানা অপকর্মের তথ্য।

তিনি মাদরাসার অধ্যক্ষ। নীতিবান মানুষ গড়া তার দায়িত্ব। কিন্তু এই মানুষটিই নানা কেলেঙ্কারির হোতা। ছাত্রীদের যৌন হেনস্তা করা তার নিয়মিত অভ্যাস। অভিযোগ রয়েছে বলাৎকারেরও। মাদরাসার আয়ার শ্লীলতাহানি, কোটি টাকা আত্মসাৎ, চাচাতো ভাইকে হত্যা চেষ্টার মতো অভিযোগ এখন মানুষের মুখে মুখে। তিনি ফেনীর সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। সোনাগাজীর মাদরাসা ছাড়াও আরো দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির তথ্যও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও ব্যক্তিদের সঙ্গে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে গতকাল বিকালে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।
রাফির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পাশাপাশি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার আগের নানা সময়ের এসব অভিযোগেরও ন্যায়বিচার দাবি করেন তারা। উম্মুল কোরা ডেভেলপার নামে একটি আবাসন ও ভূমি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে প্রতিষ্ঠানটির ১০৯ জন সদস্যের নামে থাকা প্রায় এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফেনী মডেল থানায় সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে বাদী হয়ে একটি মামলা করেন আব্দুল কাইয়ুম নিশান। ২০১৭ সালে ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মনিরউদ্দিন মিনু জানান, অর্থ আত্মসাতের মামলায় বিবাদীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। মামলাটি এখন চার্জ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মামলার বাদী আব্দুল কাইয়ুম নিশান জানান, ২০১৭ সালের আগস্টে ১০৯জন সদস্যকে নিয়ে শুরু হয় উম্মুল কোরা ডেভেলপারের কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে থাকা উম্মুল কোরা মাদরাসা ভবনটি সে বছর রাজু, সোহাগ, নয়ন ও মতুর্জা নামে কয়েক সন্ত্রাসীর সহায়তায় সিরাজ উদ দৌলা দখল করে নেন। মাদরাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কাজে নিয়োজিত থাকা একটি মাইক্রোবাস বিক্রির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া, ফেনীর মহীপাল এলাকায় কোম্পানির নামে থাকা সাড়ে ১৬ শতাংশ জমিও নিজের নামে করে নেন সিরাজ।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ফেনীর পাঠান বাড়ির মোড় এলাকায় উসমান ফার্নিচার নামে জমির দখল নিয়ে নেন অধ্যক্ষ সিরাজ। এই কাজে তাকে ভ্যান নয়ন নামে একজন সহায়তা করে বলে অভিযোগ বাদীর। উম্মুল কোরা ডেভেলপারের অধীনে থাকা এসব সম্পত্তি বেহাত করে সব টাকা নিজের নামে ব্যাংকে জমা করেন সিরাজ-উদ দৌলা। আর কোম্পানির সাধারণ সদস্যদের টাকা আত্মসাৎ করে ফেনীর পাঠান বাড়ির মোড়ে গড়ে তোলেন আলিশান ছয় তলা বাড়ি ফেরদৌসী মঞ্জিল। কিন্তু কিভাবে ১০৯ জনের নামে থাকা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ একা হাতিয়ে নিলেন সেসব বিষয়ে কথা হয় তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা আব্দুল মালেকের সঙ্গে।

তিনি বলেন, কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রির সুবিধায় সে সময় চেয়ারম্যান সিরাজ উদ দৌলাকে একক ক্ষমতার অধিকার দেয়া হয়। লেনদেন ও ব্যাংকের ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে এমন সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানের ইসি কমিটির সদস্যরা। তবে, এমন সিদ্ধান্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় ১০৯ জন সদস্যের জন্য। সিরাজ উদ দৌলা সাধারণ সদস্যদের সম্পদ একে একে নিজের নামে করে নেন। জমি ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করে কোম্পানির অ্যাকাউন্টে জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা করেননি। পরে ২০১৭ সালে আমরা মামলা করতে বাধ্য হই। ২০১৭ সালের ৭ ও ১৩ই আগস্ট তার বিরুদ্ধে ফেনী সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ করা হয়। পরে কয়েক দফার বৈঠকে টাকা বুঝিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এক টাকাও হস্তান্তর করেননি। বরং আমাদের সন্ত্রাসী ও গুন্ডা দিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন।

মামলার বাদী আব্দুল কাইয়ুম নিশান জানান, ২০১৮ সালে এই মামলায় প্রায় ২১ দিন জেলও খাটেন সিরাজ উদ দৌলা। পরে স্ট্রোকের ভুয়া অজুহাত দেখিয়ে আদালত থেকে জামিন নেন। জামিনে বেরিয়ে বেশ কয়েকবার আমাকে হত্যার হুমকিও দেন তিনি। উম্মুল কোরা ডেভেলপারের প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ নিজের নামে হাতিয়ে নেয়া ছাড়াও ২০০৭ থেকে নানা সময়ে সিরাজ উদ দৌলা বিভিন্ন মাদরাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী, কর্মীদের যৌন হয়রানি, ছেলে শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও নিজের চাচাতো ভাই এবং গাড়ি চালককে হত্যাচেষ্টা করেন বলেও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।

এছাড়া নাশকতা ও সরকারি গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে ২০১৫ সালে ফেনী মডেল থানার এফজিআর ৫১০/১৫ নম্বর মামলায়ও জেল খাটেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। ২০০৭ সালে ফেনীর দলিয়া এলাকার সালামতিয়া মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরিচ্যুত হন তিনি। এছাড়া, আল জামিয়াতুল ফালাইয়া মাদরাসায় এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগেও তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের রংমালা মাদরাসায়ও নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরি হারান সিরাজ। পরে জাল সনদ দিয়ে ফেনীর সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ পদে চাকরি নেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেখানকার প্রভাবশালীদের নিয়ে গড়ে তোলেন নিজের বলয়। আর শুরু করেন ত্রাসের রাজত্ব। সোনাগাজীর ওই মাদরাসায় নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ছাড়াও তহবিলের টাকা লুটপাট করেন। এছাড়া, ২০১৮ সালের ১০ই জুন নিজের গাড়িচালক মেফতাহুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টা করেন সিরাজ। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার দুই নম্বর আসমি শামীম। পরে শামীমের ভয়ে অভিযোগ তুলে নেন মেফতাহুল ইসলাম।

২০১৭ সালের ১২ই জুলাই ফেনীর ৮ নম্বর দরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে সিরাজের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনেন ইশরাফিল নামে একজন। অভিযোগের পর তাকেও হত্যার হুমকি দেয়া হয়। ২০১৭ সালের ১১ই নভেম্বর নিজের প্রবাসী চাচাতো ভাই নূরনবীকে হত্যার হুমকি দেন সিরাজ। পরে ফেনীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এই বিষয়ে সমঝোতা হয়। একই বছরের ৬ই ফেব্রুয়ারি রফিকুল ইসলাম নামে একজন শিক্ষককে পরীক্ষা কক্ষে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ রয়েছে সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে। পরের বছর ২০১৮ সালে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চেক জালিয়াতির অপরাধে তার বিরুদ্ধে ৩২৫/১৮ নম্বর মামলা করা হয়।

২০১১ সালে একবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাদরাসায় অনিয়মের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে। ক্ষমতার দাপটে সেই কমিটির রিপোর্ট আর আলোর মুখ দেখেনি। এছাড়া ২০১৭ সালের ১২ই নভেম্বর ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পি কে এনামুল করিম। কিন্তু সেবারও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেঁচে যান সিরাজ উদ দৌলা। তবে নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার পর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আবারো মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় জনগণ। নানা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

৭ দিনের রিমান্ডে অধ্যক্ষ, মামলা পিবিআইতে: নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা মামলায় এজহারভূক্ত প্রধান আসামি সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ (সদ্য বহিষ্কৃত) সিরাজ-উদ দৌলার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এসময় ওই মাদরাসার প্রভাষক নুরুল আবসার ও ছাত্র আরিফুল ইসলামের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাগাজী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন তিন আসামিকে আদালতে তুলে প্রত্যেকের ৭দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। এদিকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার এ মামলার এজহারভূক্ত আসামি জোবায়ের আহমেদ ও হামলায় জড়িত সন্দেহে আটক অধ্যক্ষের ভাগ্নি উন্মে সুলতানা পপিকে সকালে একই আদালতে তুলে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য্য করেছেন।

বাদি পক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু জানান, সিরাজ-উদ দৌলা কারাগারে বসে ষড়যন্ত্র করে তার সাঙ্গপাঙ্গরা নুসরাতের উপর এ জঘন্য হামলা করেছে। আমরা বিচারককে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেছি। বিচারক আমাদের বক্তব্য শুনে ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আমরা আশা করি রিমান্ডে জিঙ্গাসাবাদে প্রধান আসামি হত্যার ষড়যন্তের বিষয়ে স্বীকার করবে।

নুসরাতের আবেগঘন চিঠি উদ্ধার: এদিকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদৌলার হাতে যৌন হেনস্থার শিকার নুসরাত জাহান রাফির একটি আবেগঘন চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই সহপাঠিকে লেখা এ চিঠি মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ। রাফির খাতায় এটি নোট আকারে লেখা ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন জানান, নুসরাতের ঘরের পড়ার টেবিলের বই/খাতা দেখতে গিয়ে একটি খাতার পৃষ্ঠা উল্টালে এমন একটি লিখা পাই। এর কয়েক পাতা পর আরো একটি লিখা পাই। তাতক্ষণিক পুলিশ পাতাসহ খাতাটি জব্দ করে।

নিচে নুসরাতের চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

সাথি, তামান্না..

‘তামান্না, সাথি তোরা আমার বোনের মত, এবং বোনই। ওই দিন তামান্না আমায় বলেছিলো, আমি নাকি নাটক করতেছি। তোর সামনেই বললো, আরো কি কি বললো। আর তুই নাকি নিশাতকে বলেছিস, আমরা খারাপ মেয়ে। বোন প্রেম করলে কি সে খারাপ ???
তোরা সিরাজুদ্দৌলা সম্পর্কে সব জানার পরও কিভাবে তার মুক্তি চাইতেছিস, তোরা জানিস না ঐদিন ক্লাসে কি হইসে, উনি আমার কোন জায়গায় হাত দিয়েছে এবং আর কোন জায়গায় হাত দেয়ার চেষ্টা করছে। উনি আমাকে বলতেছে নুসরাত ডং করিও না। তুই প্রেম করিস না, ছেলেদের সাথে প্রেম করতে ভাল লাগে। ওরা তোরে কি দিতে পারবে, আমি তোকে পরীক্ষার সময় প্রশ্ন দেব। আমি শুধু আমার শরীর দিতাম ওরে। বোন এ জবাবে আমি উত্তর দিলাম, আমি একটা ছেলের না হাজারটা ছেলের…’’ (এই পত্রের বাকি অংশ পাওয়া যায়নি)

অন্য পাতায় নুসরাত লেখেন,

‘আমি লড়বো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্নহত্যা করতে গিয়ে সে ভুলটা দ্বিতীয় বার করবো না। মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া, আমি মরবো না। আমি বাঁচবো, আমি তাকে শাস্তি দেব। সে আমায় কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে এমন শাস্তি দেব যে তাকে দেখে অন্যরাও শিক্ষা নেবে। আমি তারে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেব। ইনশাআল্লাহ।

ওসি প্রত্যাহার: এদিকে সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যাহারের পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে। গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ শাখার এআইজি সোহেল রানা এতথ্য জানিয়েছেন। ওসিকে এপিবিএনে বদলির খবর নিশ্চিত করেছেন ফেনীর পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

পাঁচ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন নুসরাত। বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন। মৃত্যুর কারণ রক্ত ও ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণ থেকে কার্ডিও রেসপিরেটরি ফেইলিয়র (হৃদযন্ত্রে ক্রিয়া বন্ধ) হয়। এতেই মৃত্যু হয় তার।

রাফির মৃত্যুর খবর ফেনীতে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকে টেলিভিশনে ব্রেকিং নিউজ দেখে হাউমাউ করে কেঁদেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও দোষীদের ফাসি দাবী।হাজারিকা প্রতিদিন।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গণপূর্ত অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় বাদী হয়ে নিহতের চাচাত ভাই রফিক মিয়া নিরাপত্তার ঘাটতি ও অবহেলা জনিত কারণে তার ভাইয়ের মৃত্যুর হয়েছে দায়ী করে মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলার আসামীরা হলেন-গণপূর্ত অধিদফতর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আয়ন আবিল,স্টার লাইন প্লানার টাওয়ারের ঠিকাদার আব্দুল হামিদ,সাইট ম্যানেজার আল আমিন।

নিহত শ্রমিকের নাম মোঃ মোস্তফা মিয়া (৪৮)। তিনি গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার রুপাবান্দা গ্রামের গাউসুল মিয়ার ছেলে। শনিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নির্মাণ শ্রমিকের লাশ তার পরিবারের নিকট থানা পুলিশ হস্তান্তর করেছে।

মামলা ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্টার লাইন প্ল্যানার টাওয়ারের একজন নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে অন্যান্য শ্রমিকদের সাথে শুক্রবার সুনামগঞ্জ আদালত চত্বরে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ৮ম তলায় ছাদ ঢালাইয়ের কাজে ছিলেন শ্রমিক মোস্তফা মিয়া। ওই দিন বিকালে ঢালাই কাজে থাকা অবস্থায় কোন ধরনের শ্রমিকদের কাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ৮ম তলার ছাদ ঢালাই কাজে থাকা অবস্থায় নিচে পড়ে গিয়ে শ্রমিক মোস্তফা মিয়া ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে রাতেই মর্গে পাঠায়।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন,ছাদ ঢালাই কাজে শ্রমিকদের যতটুকু নিরাপক্তা ব্যবস্থা নেয়ার দরকার ছিল সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবহেলা করেছেন। যার ফলে ওই শ্রমিক ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করায় অবহেলা জনিত কারণ দেখিয়ে গণপূর্ত’র নির্বাহী প্রকৌশলী সহ তিন জনের বিরুদ্ধে নিহতের ভাই বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc