Monday 25th of March 2019 10:18:01 AM

এম ওসমান,বেনাপোল: সোমবার সকালে যশোরের শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্দ্যোগে শার্শা বাজারস্থ কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির সুস্থতা কামনা করে ও পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০১৯- এ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সিরাজুল হক মঞ্জু, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহেদী হাসান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আলেয়া ফেরদৌস এর মনোনয়নপত্র জমাদান উপলক্ষে এক দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দোয়া অনুষ্ঠানে  উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সিরাজুল হক মঞ্জুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮৫ যশোর-১ এর শার্শার সাংসদ আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক বিষয়ক সম্পাদক আসিফ উদ- দ্দৌলা আলোক, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সালেহ আহমেদ মিন্টু, সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান, যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, কোষাধ্যক্ষ অহিদুজ্জামান অহিদ, উপজেলা বাস্তহারাদীগের সভাপতি আবুল হোসেন, বাগআঁচড়া ইউনিয়েেনর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইলিয়াছ কবির বকুল, বেনাপোল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বজলুর রহমান, শার্শা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সহ আওয়ামীলীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগের সকল স্তরের নেতৃবৃন্দ।

এম ওসমান : যশোর থেকে ট্রেনে চেপে সরাসরি কলকাতায় যাওয়া যাবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে। যশোরের মানুষের জন্য ২০০টি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যশোর রেলওয়ে জংশন ও অনলাইনে আজ সোমবার থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে।
কলকাতা-খুলনা বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনে যশোরে যাত্রাবিরতি (স্টপেজ) দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে যশোর রেলওয়ে জংশনে যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য তিন মিনিটের জন্য ট্রেন থামানো হবে। আন্তর্জাতিক এ ট্রেনে যশোরের মানুষের জন্য প্রথম পর্যায়ে ৭৫টি আসন বরাদ্দ ছিল। পরবর্তী সময়ে নাগরিক অধিকার আন্দোলন করে ২০০ আসনের দাবি জানানো হয়। মন্ত্রী সেই দাবি মেনে নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে যশোর রেলওয়ে জংশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার নিগার সুলতানা বলেন, ‘৭ মার্চ থেকে কলকাতা-খুলনা বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনে যশোর থেকে যাত্রীরা ওঠা-নামা করতে পারবেন। সোমবার থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। যশোরের মানুষের জন্য ২০০ আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এ–সংক্রান্ত চিঠি আমাদের হাতে পৌঁছেছে।’
বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর কলকাতা-খুলনার মধ্যে ৪৫৬ আসনের ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ নামে একটি আন্তর্জাতিক ট্রেন চালু হয়। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এ ট্রেনে চড়ার জন্য কেবিনে দেড় হাজার ও চেয়ারের জন্য এক হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়। এ ছাড়া ৫০০ টাকা রয়েছে ভ্রমণ কর হিসাবে। বেনাপোলে যাত্রীর পাসপোর্ট, ভিসাসহ ইমিগ্রেশনের যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর যাত্রীরা সরাসরি খুলনা ও কলকাতার মধ্যে যাতায়াত করতে পারে। সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার সকালে ট্রেনটি কলকাতা থেকে ছেড়ে আসে, আবার বিকেলে খুলনা থেকে কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যশোরে বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে যশোরের জন্য ৭৫ আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে যোগাযোগ করে আসন বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বেনাপোল স্টেশনমাস্টার মো. সাইদুজ্জামান বলেন, শুরু থেকে গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ১ বছর ২ মাসে এ ট্রেনে করে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন ১৫ হাজার ৫৭৯ জন যাত্রী। এর মধ্যে কলকাতা থেকে এসেছেন ৬ হাজার ৭৪৫ এবং খুলনা থেকে কলকাতায় গেছেন ৮ হাজার ৮৩৪ জন।
যশোর রেলওয়ে জংশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার নিগার সুলতানা বলেন, কলকাতা-খুলনা ট্রেনে যশোর স্টেশনে তিন মিনিটের জন্য দাঁড়াবে। পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিট দেখে যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানো হবে। বেনাপোল স্টেশনে নিয়ে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। টিকিটের দাম কমানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ভ্রমণ করসহ ট্রেনের চেয়ারের ভাড়া দেড় হাজার ও কেবিনের ভাড়া দুই হাজার টাকা দিয়েই ট্রেনে দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ করা যাবে। আর অন্য কোনো খরচ নেই।

নজরুল ইসলাম তোফা:  মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব ও অহংকার। এ মুুুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর- সেই সোনার বাংলাদেশ এবং দিনেদিনেই এসে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশের নিকট থেকে এদেশের জনগণ স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই পাকিস্তানের- দুই প্রদেশের মধ্যে যেন বিভিন্ন প্রকার ইস্যু নিয়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটে, সেগুলোর মধ্যে কিছু তুলে ধরা যেতে পারে যেমন ভূূমিসংস্কার, রাষ্ট্রভাষা, অর্থনীতি বা প্রশাসনের কার্যক্রমের মধ্যে দু’প্রদেশের অনেক বৈষম্য, প্রাদেশিক স্বায়ত্ত শাসন, পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও নানা ধরনের সংশ্লিষ্ট বিষয়েই সংঘাত ঘটে।

মূলত ভাষা আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের মুুুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি হতে থাকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা বলা যায়। বাঙালিরা ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ক্ষমতায় গিয়েও পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলাকে শাসন করার অধিকার পায়নি। তখন পূূর্ব বাংলার জনগণ মূলত “২১-দফা” প্রণয়ন করেই জনগণকে সংঘবদ্ধ করে রাজনৈতিক আন্দোলনের চিন্তা-ভাবনা শুরু করে।

আবার ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে আজকের আওয়ামীলীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করলে- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের সেই সামরিক এবং বেসামরিক নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের জননেতা- শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসাতেই যেন অস্বীকার করে।

সুতরাং, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’ তার প্রতিবাদে ‘অসহযোগ আন্দোলনের ডাক’ দেয়। তিনি ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে অর্থাৎ বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল জন-সমুদ্রে ঘোষণা করেছিল এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তাঁরই এই ঘোষণায় সাধারণ মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত হয়েছিল।

এর পর ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে আবারও বঙ্গবন্ধু ”স্বাধীনতার ডাক” দিলেই বাংলার মুক্তিকামী মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মুুুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। দীর্ঘ ‘নয় মাস’ রক্ত ক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর চুড়ান্ত বিজয় সূচিত হয়। অর্জিত বাংলার স্বাধীনতা।
২৬ মার্চ আর ১৬ ডিসেম্বর দুটি দিবস কিংবা দিনকে বুঝতে বা বুুঝাতে একটু হয়তো বা অনেকের সমস্যা হয়। ‘স্বাধীনতা দিবস’ ২৬ মার্চ আবার ‘বিজয় দিবস’ ১৬ ডিসেম্বর। “স্বাধীনতা” ও “বিজয়” দিবসকে নিয়ে বহুজনেরই কনফিউজড হয়ে থাকে এবং অনেকের দুই জায়গার কথাগুলোকেই গুলিয়ে একাকার করে ফেলে। পরিস্কার ধারণার আলোকেই বলতে হয় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হচ্ছে ২৬ মার্চ তারিখে পালিত হওয়া এক ‘জাতীয় দিবস’। এটিকেই ১৯৭১ সালের “২৫ মার্চ” রাতে তৎকালীন ‘পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ’ আনুষ্ঠানিকভাবেই স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করে। আর সেই মুহূর্তের “২৬ মার্চ” ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলতে, “২৬ মার্চের রাত- ১২টা” থেকে স্বাধীনতাকেই এ দেশের জনতার ধরে আসছে।

কারণটা হলো যে:- বারোটার ঠিক পর মুহূর্তে পূর্ব পাকিস্তান কিংবা এই বাংলাদেশের জমিনে যতধরণের পাকিস্তানী সেনারা ছিলো তারাই যেন হয়ে গেলো বিদেশী হানাদার শত্রু বাহিনী এবং তাদের নিজস্ব “জন্মভূমির মাটি” থেকে তাড়াতেই যে যুদ্ধ শুরু হলো- সেটাই হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার যুদ্ধ কথাটা- “একটু ভুল”। আর ‘২৬ মার্চ’ থেকে যদি আমরা শুরুর প্রক্রিয়াতে “স্বাধীন” না হই তাহলে, মুক্তিযুদ্ধটা কিন্তু আর- “মুক্তিযুদ্ধ” থাকে না, পাকিস্তানের সহিত গৃহ যুদ্ধ হয়ে যায়। সুতরাং, এমন বিদেশী দখলদার বাহিনীদের সহিত দীর্ঘ- ”নয় মাস” 
আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে এদেশে ‘বিজয়’ আনে, তাই তো আমরা পেয়েছি ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস।
পৃথিবীতে মাত্র দুইটি দেশ ‘স্বাধীনতার ‘ডাক বা কথা’ ঘোষণা দিয়েই স্বাধীন হয়েছে। এই ‘বাংলাদেশ’ আর আমেরিকা। সে হিসেবে ‘২৬ মার্চ’ থেকেই বাংলাদেশ স্বাধীন, তা সাংবিধানিক ভাবেই প্রতিষ্ঠিত, এটা নিয়ে আদৌ তর্কের কোন অবকাশ নেই।

বলা দরকার যে, পাকিস্তানের শাসকরাই চেয়ে ছিল ক্ষমতা সব সময় পশ্চিম পাকিস্তানীদের কাছে থাকুক। সুতরাং তারাই দিনে দিনে পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশের মানুষকে যাঁতাকলে বন্দি রাখার কৌশল অবলম্বন করে। পূর্ব পাকিস্তানের ‘পাট’, ‘চামড়া’ আর ‘চা’ রপ্তানি করে যে বিদেশি মুদ্রা আয় হতো তাকেই পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন কাজে চতুরতা সঙ্গে তারা ব্যয় করতো। পূর্ব পাকিস্তানের চাষ করা ফসলের বাজার দাম পশ্চিম পাকিস্তানে কম আর পূর্ব পাকিস্তানে বেশি। এই সব অসংখ্য তথ্য রয়েছে যা পূর্বপাকিস্তান বা আজকের বাংলাদেশের জনগণ মেনে নিতেই পারেনি। ভেতরে ভেতরে একধরনের ক্রোধ সৃৃষ্টি হয়েছিল এই দেশের জনগণের। সারা পূর্বপাকিস্তান বা আজকের এদেশ তখন মিছিলের নগরী হয়ে ছিল।

১মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ‘ইয়াহিয়া খান’ সাহেব জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার পর থেকে কার্যত পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান মুখো-মুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায়।পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠির “মুখোশ উম্মোচিত” হয়। পূর্ব বাংলার মানুষ বুুঝতেই পারে এই বার আলাদা জন্ম ভূমি গড়তে হবে। তারপর এদেশের পরিস্হিতি যেন আয়ত্তের বাইরে চলে গেলে ৩ মার্চ ঢাকায় কারফিউ জারি হলো। এমন খবর জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকার বাইরের যারা তাদেরও উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে ছিল। সেই সময় মিছিল মিটিংয়ের নতুন গতি পায়।

২ মার্চে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান ডাকসুর ভিপি- “আ স ম আব্দুর রব” আর ৪ মার্চ ঢাকায় ‘স্বাধীনতার ইশতেহার’ পাঠ করে ছাত্রলীগ নেতা শাহজাহান সিরাজ। তাইতো এদেশে “কারফিউ”। আসলেই- মার্চ থেকে ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। আওয়ামীলীগের ডাকেই সকাল ছয়টা থেকে দুপুর দু’টা পর্যন্ত হরতালও পালিত হয়। 
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এর নির্দেশে দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত যেন অতিজরুরি কাজ করার জন্য সরকারি বেসরকারি অফিস এবং ব্যাংক খোলে রাখার নির্দেশ দিয়ে ছিল।

তা ছাড়াও, তিনি- জরুরি সার্ভিস, হাসপাতাল, ঔষধের দোকান অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদ পত্র কিংবা সংবাদ পত্রের গাড়ি, পানি, বিদ্যুৎ, টেলিফোন এসব সে হরতালের বাহিরে রেখে ছিল । এক কথায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যা যা বলেছিল তাই ঘটেছিল। তাঁর নির্দেশেই পূর্ব বাংলার সকল জনতা একীভূত হয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছে।

আরো জানা দরকার ৬ মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ‘ইয়াহিয়া খান’ রেড়িওতে জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দেয়। এতে ”২৫ মার্চ” জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে বসার ঘোষণা ছিল। আর তার সাথে বিশৃঙ্খলা যেন না হয়, এক প্রকার হুমকি বা ধমক দিয়েছিল। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তা একেবারেই যেন সহ্য করতে পারেন নি, তিনিও ৭ মার্চের ভাষণেই তার বহু জবাব দিয়েছিল। আবার ১৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আমাদের পূর্ব পাকিস্তান আসে এবং ১৬ মার্চ মুজিব -ইয়াহিয়ার গুরুত্ব পূর্ণ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে কাজ না হলে বঙ্গবন্ধু- শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা ছাড়ার ডাক দেন। ক্ষুব্ধ “ইয়াহিয়া” রাগেই যেন ফোঁস ফোঁঁস করে। এমন ধরনের আরও ‘বৈঠক’ হয়। কিন্তু কোন আর কাজ হয় না। অনেক কালক্ষেপণের মধ্য দিয়ে যেন পশ্চিম পাকিস্তান থেকেই গোলা বারুদ, সৈন্য-সামন্ত এই দেশে আসতে থাকে।

তখনই পূর্ব বাংলার মানুষরা যুক্তি তর্কের উর্ধ্বে উঠে স্বাধীনতা অর্জনের নেশায় উম্মত্ত হয়ে যায় এবং যা ছিল- গাইতি, বল্লম, রামদা, বর্শা, লাঠি এই সব নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। সুতরাং তাঁরাই তো আমাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’, তাঁরা এই বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। 
“স্বাধীনতা সংগ্রাম” ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, শোষণের বিরুদ্ধে। ১৮ মার্চ এক অসহযোগ আন্দোলনে ১৬ দিনে পদার্পণ করে। এআন্দোলনের ঢেউ গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। সংকটাপন্ন অবস্থায় এ দেশ, যুদ্ধ চলছে, চলছে লাশের মিছিল।২০ মার্চ জয়দেব পুর এর রাজ-বাড়ীতে অবস্থিত ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি দক্ষ ব্যাটালিয়ন তাদের হাতিয়ার ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রকেই ‘নস্যাৎ’ করে দেয়। তার পরপরে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ একত্রিত হয়েই প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সবাই মিলে টঙ্গী বা জয়দেব পুর মোড়ে অনেক ব্যারিকেড গড়ে তোলে নব নির্বাচিত ‘জাতীয় পরিষদের সদস্য’ শামসুল হকের নেতৃত্বে।

২২ মার্চেও শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত স্বাধীনতার জন্য বাঙালী সংগ্রামে গর্জে ওঠে। এমন ভাবে যতই দিন গড়াচ্ছিল, ‘রাজনৈতিক সঙ্কট’ ততই গভীরতর হয়ে যাচ্ছিল। এরপর আরও আসে ইতিহাসের ভয়ালতম কালো রাত্রি। সেই কালো রাত বাঙালির ইতিহাসে সব থেকে যেন আতংকের রাত। পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক সরকার থেকেই- “গণ হত্যার নির্দেশ” আসে।

তখন ব্যাপক পরিমাণেই যেন পশ্চিমপাকিস্তানি সৈন্যের সমাগম ঘটে। অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু হয় এমন রাতেই। ২৫ মার্চ কালোরাত ও অপারেশন সার্চলাইট অপারেশনে নেমেছিল সেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নির্বিচার হত্যার সঙ্গে যেন জ্বালাও-পোড়াও স্বাধীনতাকামী বাঙালীর কণ্ঠ বুলেট দিয়েই চিরতরে স্তব্ধ করার আনুষ্ঠানিক যাত্রা।

এ অপারেশনের মূল লক্ষ্য ছিলো ইপিআর- (“ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস”, বর্তমানে বিজিবি) এবং এদেশের পুলিশসহ বাঙালী সেনা সদস্যদের নিরস্ত্র করা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামীলীগ এর নেতা এবং গুরুত্বপূর্ণ ১৬ জন ব্যক্তির বাসায় হানা দিয়ে তাদের গ্রেফতার। জ্বলছে ঢাকা, মরছে বাঙালী। একই সঙ্গে শুরু হয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার প্রথম প্রহর। 

এমন ভাবেই ‘মুক্তিযুদ্ধ’ চলতে চলতে যখন হানাদার পাকবাহিনী বুঝে গেল যে পরাজয় তাদের অনিবার্য, তখন তারা এ পূর্ব বাংলাকে মেধা-শূন্য, পঙ্গু, কিংবা নেতৃত্বহীন করার জন্যেই চোদ্দ ডিসেম্বর ‘রাজাকার’, ‘আল-বদর’, ‘আল-শামস’ বাহিনীর সহযোগিতাতেই অন্ধকার রাতে হত্যা করেছে- অধ্যাপক, প্রকৌশলী, ডাক্তার, আইনজীবী, শিল্পী ও কবি-সাহিত্যিকদের।তথ্যের ভিত্তি আলোকেই প্রথম সারির দুই শতাধিক বাঙালি বুদ্ধিজীবীদেরকে হত্যার মাধ্যমে ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল তারা।

এই দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই প্রায় দু’ লাখ মা-বোনদের ইজ্জতের বিনিময়েই যেন এমন স্বাধীনতা৷ আবার বহু জন তাঁদের মূল্যবান সহায়, সম্পদকেও হারিয়ে ছিল।

‘অগ্নি সংযোগ’, ‘নারী ধর্ষণ’, ‘গণহত্যা’, ‘সংঘর্ষ’ বা ‘হামলা’, আবার লুটতরাজের মতোই বহু অপ্রীতিরক ঘটনা- ঘটে যাওয়ার পরপরই বাঙালির চেতনায় যেন স্বাধীনতা ছিল। ইশতেহারে বলা আজ থেকে “স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ” এমন ঘোষণার কথা পূর্ণ বাংলার মানুষের প্রাণশক্তি , আর তাই তো ৫৪ হাজার বর্গমাইলের ‘৭ কোটি’ মানুষদের আবাস ভূূমির নাম পাবে ‘বাংলাদেশ’, এতেই বাঙালি গর্বিত।মুক্তিযোদ্ধারা “যুদ্ধের পর যুদ্ধ” সু-কৌশলে চালিয়েই পাক-বাহিনীর আত্ম সমর্পণের মধ্য দিয়েই “৭১” এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় করেছে। সুতরাং, অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন বাংলাদেশের। সারা বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয় ‘নতুন ও স্বাধীন’ দেশ, ”গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ”।

এ বাংলার জনপ্রিয় নেতা, জেল থেকে বাহির হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তিনিই এদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই যুুুুগে যুগেই এমন কালজয়ী, সর্বশ্রেষ্ঠ মহা-নায়কের হাত ধরেই অর্জিত হয়েছিল- লাল সবুজের জাতীয় পতাকা আর পেয়ে গেছে বাংলার এই “স্বাধীনতা”। 
লেখক: নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়ইলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধিগ্রহনকৃত জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। সোমবার সকালে সড়ক ও জনপথ খুলনার এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা সিফাত মেহনাজ এর নেতৃত্বে উচ্ছেদ করা হয়। জানাগেছে, ভাটিয়াপাড়া-কালনা-নড়াইল-যশোর মহাসড়কের নড়াইলল পৌর এলাকার ২৩তম কিলোমিটার আলাদাতপুর এলাকা থেকে থেকে ২৬তম কিলোমিটার নতুন বাস টার্মিনাল পর্যন্তু ৩ কিলোমিটার পয়র্ন্ত এ অভিযান চালানো হয়।

রেন্ট এ কারের অফিস, গোরস্থানের পাশের মাদ্রাসার পিলার, ক্রীড়া সংস্থার একটি মার্কেট, পুরাতন টার্মিনালে অবস্থিত পৌরসভার কাচা বাজার মার্কেটসহ ছোট ছোট রাস্তার পাশের খুবুচি দোকান ঘর ভাঙ্গা হয়েছে ও কিছু মালিকদের কোর্টের স্টাম্পের উপর লিখিত ভাবে সময় দেয়া হয়েছে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য। ব্যক্তি মালিকানার অবৈধ দখলদাররা কোর্টের স্থাগিতাদেশ আনায় তাদের ভাঙ্গা হয়নি। সওজ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে ছোট বড় সহ আনুমানিক দেড় শতাধিক স্থাপনা ভাঙ্গা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ খুলনার এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা সিফাত মেহনাজ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জমিতে অবৈধভাবে দখলকরে স্থপনা তৈরীকারীদের উচ্ছেদ করে জমি দখল মুক্ত করা হচ্ছে।

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ি গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ মার্চ) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার)।

তিনি আরো জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কুমড়ি পূর্বপাড়ার জামির শেখের পরিত্যক্ত বাড়িতে রোববার (৩ মার্চ) রাত ১২টা দিকে চারজন ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের জহুর মোল্যার ছেলে আজগর মোল্যা (৩০), পাশের লুটিয়া গ্রামের মোশাররফ মোল্যার ছেলে মতিয়ার মোল্যা (৩৫), কালিয়া উপজেলার সিঙ্গেরডাঙ্গা গ্রামের মান্দার খন্দকারের ছেলে রোমান খন্দকার (২৪), একই উপজেলার জুসালা গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে সোহেল খানকে (২৫) আটক করে।

এদের কাছ থেকে একটি করে চাপাতি, ছ্যানদা, তলোয়ার, বাঁশের লাঠি ও কাঠের লাঠি এবং দু’টি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

ডেস্ক নিউজঃ  সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছে ওবায়দুল কাদেরকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স।আজ সোমবার রাতে সেখানে পৌঁছায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি।

আজ সোমবার বিকালে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিয়ে। ভারতের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠির পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ গাড়ি বহর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে রওনা হয় হযরত শাহজালাল (র:) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের উদ্দেশে। মাত্র দশ মিনিট সময়ের ব্যবধানেই তিনটা ৪০ মিনিটে ভিভিআইপি গেইট দিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবেশ করে গাড়ি বহর।

এম ওসমান,বেনাপোল: যশোরের শার্শায় দুই হোটেল-রেস্তরা মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার বিকালে শার্শা বাজারে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার আইনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) মৌসুমি জেরিন কান্তা যৌথ অভিযান পরিচালনা কালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সরবরাহ ও পরিবেশন করার অপরাধে মায়ের দোয়া হোটেল-রেস্তরার মালিক আব্দুল ওয়াহেদকে ৩০ হাজার টাকা ও সীমান্ত হোটেলের মালিক অজিত কুমারকে ২০ হাজার টাকা করে।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিস সুত্রে জানা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সরবরাহ ও পরিবেশন করার অপরাধে ভোক্তা অধিকার আইনে মায়ের দোয়া হোটেল-রেস্তরার মালিক আব্দুল ওয়াহেদকে ৩০ হাজার টাকা ও সীমান্ত হোটেলের মালিক অজিত কুমারকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

বিক্রমজিত বর্ধন: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা- ২০১৯ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (৪মার্চ) সকাল ১১টায় কলেজ অডিটোরিয়ামে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সংসদীয় অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন র‍্যাব-৯ এর অধিনায়ক আনোয়ার হোসেন, কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রফেসর সৈয়দ মোঃ মহসিন, মোঃ মুজিবুর রহমান মুজিব, কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন শীল প্রমুখ।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের ক্রীড়া সম্পাদক এনাম হোসেন চৌধুরী মামুন, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান সুজাত, সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কান্তি ধর প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ মাঠে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাজের তদারকি নিয়ে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ ?

রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের কাজের গুনগত মান নিয়ে শুরুতেই দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ? ৪ ইঞ্জি সিসি ঢালাইয়ের ৪৮ ঘন্টার মাথায় দেখা দিয়েছে ফাঁটল। সচেতন মহলের দাবী সংশ্লিষ্ট টিকাদারী প্রতিষ্ঠান নয় ছয়ের চেষ্ঠা চালাচ্ছে। টিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবী সিমেন্ট বেশি হওয়ায় এমন ফাঁটল। সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে পানি সঠিক ব্যবহারের না করাতেই ফাঁটলের সৃষ্টি।
বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ও পর্যটন খ্যাত সিলেট-তামাবিল মহাসড়কটি জৈন্তাপুর হইতে জাফলং পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বৈদেশিক ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সিলেট-৪ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদের ঐকান্ত্রিক প্রচেষ্ঠায় ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন হয়। ইতোমধ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজপায় টিকাদারী প্রতিষ্ঠান সি.এস.বি.এস।

বিগত ৪মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটি মহা সড়কটির সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাজ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি নানা ভাবে কাজ করলে চলাচলের সুবিধার কারনে সচেতন মহল কোন কাজ নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলেনি। সম্প্রতি সি.এস.বি.এস নামক টিকাদারী প্রতিষ্ঠান মহাসড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার মোরগার পুল (ব্রিজ) হতে ইমরান আহমদ মহিলা ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত রাস্তার একটি অংশের প্রায় ৪০ মিটার ৪ইঞ্জি সিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে।

ঢালাই কাজের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সিসি ঢালাই ফাঁটল দেখা দেওয়ায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানান প্রশ্ন? সচেতন মহল জানায় টিকাদারী প্রতিষ্ঠান নয়-ছয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের সিসি ঢালাই কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিয়ে ১৬০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প গচ্ছা যাবে।
রাস্তার সিসি ঢালাইল ফাঁটলের সংবাদ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ৪দিন পূর্বে টিকাদারী প্রতিষ্ঠান মহাসড়কের একপাশ্বে প্রায় ৪০মিটার ৪ইঞ্জি সিসি ঢালাই করে।

স্থানীয়রা জানান রাস্তার সিসি ঢালাইয়ের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাঁটল। টিকাদারী প্রতিষ্ঠান এসব ফাঁটলের বড় বড় অংশ সমুহে সিমেন্ট বালু দিয়ে মুছার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফাঁটল দেখা দেওয়ার পর পর জন চোঁখের আড়াল করতে দ্রুত আর.সি.সি ঢালাই কাজের জন্য লোহার পিঞ্জিরা বাঁধার কাজ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফাঁটলের দৃশ্য ধারন করতে গেলে টিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী শফিকুল প্রথমে প্রতিবেদককে ছবি তুলতে বাঁধার সৃষ্টি করে। প্রতিবেদক এলাকাবাসীর সহযোগিতা চাইতে গেলে তিনি সরে পড়ে।

এবিষয়ে জানতে প্রজেক্ট ম্যানেজার আনোয়ার হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে ফাঁটলের সত্যতা স্বীকার করে তিনি প্রতিবেদককে জানান- সিসি ঢালাইটি মূলত আরসিসি ঢালাইয়ের নিচ অংশটি শক্ত রাখার জন্য করা হচ্ছে। ফাঁটল হলেও আরসিসি ঢালাই কাজের কোন সমস্যা হবে না বলে তিনি জানান।
এবিষয়ে জানতে সড়ক ও জনপথের সাব এসিষ্ট্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার মাসুম আহমদের সাথে আলাপকালে তিনি প্রতিবেদককে জানান- এরকম ফাঁটল হয়ত বেশি সিমেন্ট দেওয়ার ফলে হতে পারে বলে ধারনা করছেন। তবে বিষয়টি তিনি সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
এবিষয়ে সওজের সিলেট জোনের প্রকৌশলী রস্তুম খান প্রতিবেদককে জানান- সিমেন্ট বেশি হওয়ার কোন সুযোগ নেই। যেহেতু সম্পূর্ণ আধুনিক পদ্ধতীতে মান নিয়ন্ত্রন করে সিসি ঢালাই মসলা তৈরী করা হয়।

তিনি আরও বলেন ঢালাই ছাড়ার ৪ঘন্টা পর পানি প্রয়োগ করার কথা, কিন্তু টিকাদারী প্রতিষ্ঠান সটিক সময়ে পানি না দেওয়ায় এই ফাটল দেখা দিয়েছে। বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তিনি এলাকার সচেতন মহলের উদ্যেশে বলেন- আপনার এলাকার কাজ সটিক ভাবে হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষন করার আহবান করেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc