Sunday 18th of August 2019 04:29:49 AM

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি:সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তের সিঙ্গারীপার এলাকায় ৩ ফেব্রুয়ারী রবিবার খাসিয়ার গুলিতে ১জন নিহত, ২জন আহত হয়। ৬দিন পেরিয়ে গেলেও নিহত আলমগীরের লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ। লাশ ফেরতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশীরা ১খাসিয়াকে ধরে আনে। খাসিয়াকে ফেরত পেতে সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশী ২জন শ্রমিক আটক করে। অবশেষে পতাকা বৈঠকের মধ্যে উভয় দেশের আটকদের হস্তান্তর হলেও আলমগীরের লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানাযায়- গত ৩ ফেব্রুয়ারী রবিবার সকালে সীমান্তের ওপারে ১৩০৩ নং আর্ন্তজাতিক পিলাররের ৯এস পিলার এলাকায় ঝুম কাজে যায় বাংলাদেশি ৩শ্রমিক। মদ্রপ অবস্থায় ক্যানসেলা পাহাড়ে থাকা ভারতীয় খাসিয়া অর্তকিত ভাবে শ্রমিকদের লক্ষ করে গুলি ছুড়তে থাকে। খাসিয়ার গুলিতে ১বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয় এবং ২জন শ্রমিক আহত হয়। নিহত শ্রমিক জৈন্তাপুর উপজেলার নয়াখেল পূর্ব বালিদাঁড়া গ্রামের আব্দুল খালিক উরফে ভূসা খালিকের ছেলে মোঃ আলমগীর হোসেন(২৮)। আহতরা হল জৈন্তাপুর উপজেলার নয়াখেল পূর্ব বালিদাঁড়া গ্রামের যতি গোয়ালার ছেলে বর্তমান ধর্ম পিতা সিরাজুল হকের ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ(৩২), এবং কানাইঘাট উপজেলার বড়বন্দ (৩য়খন্ড) গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে নাজিম উদ্দিন(৩০)। এঘটনায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আব্দুল্লাহ ও নাজিম পালিয়ে এসে রক্ষা পায়। কিন্তু মাদকাসক্ত খাসিয়া আলমগীরের লাশ নিয়ে যেতে দেখেন। ঘটনার পর পর নিহতের পিতা আব্দুল খালিক জৈন্তাপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করে যাহার নং-২৬৯, তারিখঃ ০৬-০২-২০১৯। অপরদিকে ৫দিন অতিবাহিত হলেও লাশ ফেরত না পাওয়ায় নিহতের পিতা সিঙ্গারীপাড় এলাকা হতে উয়েন খাসিয়া(৩৮) নামের ব্যক্তিকে আটক করে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। পরে খাসিয়া ধরে নিয়ে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে সীমান্তের ওপারে কর্মরত কানাইঘাট বাউরভাগ এলাকার ২জন বাংলাদেশি শ্রমিককে ধরে রাখে খাসিয়ারা। এনিয়ে উভয় সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে গতকাল ৮ জানুয়ারী শুক্রবার বিকাল ৩টায় সুরইঘাট সীমান্ত ফাড়ির নানকা চা-বাগান এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উভয় দেশের আটকদের হস্তান্তর করা হলেও নিহত আলমগীরের লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ।
এদিকে লাশের অপক্ষোয় আহাজারী করছে নিহতের আত্মীয় স্বজন সহ স্ত্রী সন্তানেরা। কবে তাদের অপেক্ষার শেষ হবে কিছুই জানেন না তারা। নিহতের পিতা আব্দুল খালিক প্রতিবেদককে জানান- আলমগীরের স্ত্রী ৩মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাছুমা বেগম (২২) স্বামীর জন্য বার বার মুর্চ্ছা যাচ্ছে। এছাড়া অবুজ দুটি কন্যা সন্তান মায়ের কান্নায় অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। নিহতের পিতা আরও বলেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিএসএফ যদি তার সন্তানের লাশ ফেরত না দেয় তাহলে পুনরায় ভারত হতে খাসিয়া ধরে নিয়ে আসব।
এবিষয়ে সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার এমদাদ প্রতিবেদকে জানান- সীমান্তের এরকম হত্যার ঘটনার সংবাদ আমাদের জানানেই বা এঘটনায় কোন স্বাক্ষ্যপ্রমান তারা দেখাতে পারেনি। তবে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় আটক উভয়দেশের নাগরিকদের মিট পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারপরও বিজিবি’র পক্ষ থেকে বিএসএফ’র কোম্পানী কমান্ডারের নিকট হত্যা কান্ডের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তারা খোঁজ খবর নিয়ে আমাদেরকে জানাবে।

এম ওসমান,বেনাপোল প্রতিনিধি:  স্থলবন্দর বেনাপোল নগরীর পুকুরপাড় জামে মসজিদের সামনে শাহিন ফার্মেসীর গ্রাম্য চিকিৎসক ডাঃ আব্দুর রাজ্জাক (বিআরএমএ) ও তার পুত্র শাহিনের  অপচিকিৎসায় তানভির নামে ৩ মাসের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ করেছে তার পরিবার। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠ বিচারের দাবী করেছে ভূক্তভোগী পরিবার।
গত শনিবার সকালে এই ঘটনা ঘটেছে। শিশু তানভির বেনাপোল ছোট আঁচড়া গ্রামের রিপন হাওলাদের পুত্র সন্তান ৷ তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক।
ডা:  আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিশুটিকে প্রথম দিন ঠান্ডা ও জ্বর দেখে সেভটাজিডিম ইনজেকশন হাফ ডোজ সহ অন্যান্য ঔষধ দেওয়া হয়।পরেরদিন সকালে আবার শিশুটিকে বাকী হাফ ডোজ ইনজেকশন দিতে আমার চেম্বারে নিয়ে আসলে আমি উপস্থিত না থাকায় আমার পুত্র শাহিন রোগী তানভিরের শরীরে ইনজেকশান পুশ করার সাথে সাথে শিশুটির শরীর হলুদ বর্ণ ধারন করে।
তখন আমার পুত্র তাদের কে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তার কাছে প্রশ্ন করা হয় আপনি নিজে ডাক্তার তবে তার পুত্র শাহিন কেন ইনজেকশান পুশ করলো এই প্রশ্নের সে কোন উত্তর দিতে পারেনি। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার।
বেনাপোল পোর্ট থানার সেকেন্ড অফিসার শরীফ হাবিবুর রহমান হাবিব বলছে, আমরা এখনও পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন এবং ঘটনার সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
শিশু তানভিরের মাতা বৈশাখী হাওলাদার  জানান, বৃহস্পতিবার আমার ছেলেকে একটি ক্লিনিকে সরকারী টিকা দেওয়ার পর সামান্য জ্বর ও কাশি শুরু হয়, এমন অবস্থায় শুক্রবার আমরা রাজ্জাক ডাক্তারের চেম্বারে বাচ্চাকে পরীক্ষা করাতে গেলে ডাক্তার বলে ঠান্ডা-কাশি ও জ্বর ঔষধ লিখে দিচ্ছি ঠিক হয়ে যাবে ৷ এই বলে ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র শাহিন  নিজেই আমার শিশুর শরীরে এন্টিবায়োটিক হাফ ডোজ  ইনজেকশান পুশ করে বাকী হাফ ডোজ নিতে আগামীকাল সকালে রোগীকে নিয়ে আসতে বলে।
পরের দিন (শনিবার) সকালে আবার আমার বাচ্চার অবস্থা খারাপ হওয়ায় খুব দ্রুত আমরা তাকে ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে আসলে দেখি ডাক্তার নেই, তখন ডাক্তারের ছেলে শাহিন আবারো আমার পুত্র সন্তান তানভিরের শরীরে বাকী অর্ধেক এন্টিবায়োটিক ইনজেকশান পুশ করার সাথে সাথেই শিশু তানভিরের শরীর হলুদ বর্ণ ধারন করে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে। কিন্তু বিষয়টি আমরা বুঝতে না পারায় বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর রোগীর শরীর ঠান্ডা দেখতে পায়। তখন কান্নাকাটি করলে আশপাশের প্রতিবেশীরা দেখতে এসে আমাকে জানায় তানভির মারা গেছে।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সুত্রে জানা যায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আইনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়া এন্টিবায়োটিক ঔষধ লেখা যাবে না। শিশুদের ক্ষেত্রে বাকী অর্ধেক ইনজেকশান পুশ করার নিয়ম নেই। তারা আশংষ্কা প্রকাশ করেছেন শিশুদের ক্ষেত্রে পুরাতন রেখে দেয়া অর্ধেক ইনজেকশানই এই মৃত্যুর কারন হতে পারে।
সাধারন জনগনের সাথে কথা বললে তারা জানান, এই রাজ্জাক ডাক্তারের কোন সার্টিফিকেট নাই তাহলে সে কিভাবে শিশুসহ অন্যান্য রুগীদের চিকিৎসা করে এবং তার পুত্র শাহীন প্রতিটা রুগীর কেন ইনজেকশান পুশ করে। এব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনসহ সুষ্ঠ বিচার দাবী করেছে এলাকা বাসী।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবু নাছের আল দুসারি (৪৫) নামে এক সউদী নাগরিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের ডৌহাখলা গ্রামের আবু সাইদ সানির বাড়ি থেকে ওই সউদী নাগরিকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডৌহাখলা গ্রামের করম আলীর পুত্র আবু সাঈদ সানির সঙ্গে প্রায় ২০ বছর আগে আবু নাছের আল দুসারির ঢাকায় পরিচয় হয়।
ওই পরিচয়ের সূত্র ধরেই আবু নাছের আল দুসারি অবকাশ যাপনের জন্য গৌরীপুরে বসবাস শুরু করেন।
হলি আর্টিজোনে হামলার ঘটনায় সারাদেশে বিদেশিদের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ হলে তিনি সে সময় চলে যান।
তবে প্রায়ই বাংলাদেশে আসতেন। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর সানির বাড়ি ডৌহাখলা গ্রামে আসেন আবু নাসের। এরপর থেকে আবু নাছের আর সানি এক সঙ্গেই থাকতেন।
বৃহস্পতিবার রাতে সানির বাড়িতে আবু নাছেরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গৌরীপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন।
পরে রাত ১১টার পর গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ইশতিয়াক মোশারফ ঘটনাস্থলে এসে আবু নাছেরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা  করে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মেডিকেল অফিসার ইশতিয়াক মোশারফ বলেন, সউদী নাগরিকের অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে। তবে কি কারণে মৃত্যু হয়েছে সেটা ময়নাতদন্ত না করে বলা যাচ্ছেনা।
ওসি বলেন, জব্দকৃত আবু নাছেরের পাসপোর্ট সূত্রে জানা গেছে তিনি সউদী আরবের দাম্মাম নগরীর বাসিন্দা। তার বাবার নাম ফালেহ। আমার আবু নাছেরের মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে তদন্ত শেষ না করে মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছেনা

এম ওসমান, বেনাপোল প্রতিনিধি : সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন বলেছেন, স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছিলেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ সরকার। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না। মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও অবদান রাখতে সক্ষম হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শার্শা সদরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্য বলেন, প্রজন্মকে এমনভাবে তৈরি করবেন যেনো তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়। জনগণের জন্য নিজেদের বিলিয়ে দেয়ার মানসিকতা যেনো তারা অর্জন করতে সক্ষম হয়।
তিনি বলেন, এখানে লক্ষ্য রাখতে হবে দেশের সর্বত্র শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। গ্রামে গ্রামে বিদ্যাপিঠ গড়ে তোলা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এখন খাদ্য স্বয়ং সম্পূর্ণ একটি দেশ। দেশে তো অনেক সরকার এসেছে, কই তারা তো দারিদ্র্যতার হার কমাতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকার পেরেছে। ২০২১ সালের মধ্য বাংলাদেশের দারিদ্র্যতার হার ১৪ ভাগে নিয়ে আসতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কাছে হার না মেনে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। দেশে যদি জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি না হতো তাহলে দেশ আরো এগিয়ে যেতো। শুধু মাত্র দেশের জনগণের সহযোগিতায় দেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে।
এ সময় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৌসুমী জেরিন কান্তা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান, চেয়ারম্যান হাদিউজ্জামান ।
আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসিফ-উদ-দৌলা সরদার অলক, উপজেলা আওয়ামীলীগের অর্থ সম্পাদক ওয়াহেদুর রহমান ওহিদ, আওয়ালীগ নেতা আসাদুজ্জামান বাবলু, চেয়ারম্যান সোহারাব হোসেন, উপজেলা আওয়ামী বাস্তহারা লীগের সভাপতি আবুল হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটির স ালন করেন প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক ওসমান গনি মুকুল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন,আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছে তিন কারনে। একটা বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনে গিয়েছি। যদি নির্বাচনে না যেতাম তাহলে আপনারাই বলতেন,না গিয়ে ভুল করেছেন। আরেকটি কারণ হলো, নির্বাচনে গেলে আমাদের নেতাকর্মীরা বের হয়ে আসতে পারবে। মানুষের কাছে যেতে পারবে। আরেকটা কারণ ছিল ড. কামাল হোসনের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস ছিল। নির্বাচনে এতোটা খারাপ অবস্থা হবে তা ধারণায় ছিল না।নির্বাচনের আগের রাতে পৃথিবীর ইতিহাসকে কলংকিত করে ভোট ডাকাতি হবে তা আমরা চিন্তা করিনি।

সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সুব্রত চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, জগলুল হায়দার আফ্রিক, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাড. মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আজাদ মাহবুব, শাহ আহমেদ বাদল, অলিউর রহমান খান, খোরশেদ মিয়া আলম, মনির হোসেন, সাইদুর রহমান প্রমুখ।

মওদুদ বলেন, আমাদের একজন প্রার্থীকেও ৯০ ভাগ সুষ্ঠুভাবে প্রচারণা চালাতে দেয়া হয়নি। প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের বাড়ির পাশে বোমা ফাটিয়েছে, ভয়ভীতি ছড়িয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে, যেন তারা ভোটকেন্দ্রে না যায়। গেলে বাড়ি জ্বালিয়ে দেবে, ছেলেদের জেলে পাঠাবে। এ নির্বাচনে সরকার পুলিশকে ক্যাশ টাকা দিয়েছে। আগে আমরা প্রার্থীরা ক্যাশ টাকা দিতাম। কিন্তু সরকার যে পুলিশকে ক্যাশ টাকা দেয়, সেটা আগে জানা ছিল না। এটা হাতে কলমে প্রমাণ করা যাবে না। তবে কথাগুলো শতভাগ সত্য।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মওদুদ আহমদ বলেন, গত সপ্তাহে দেখা হয়েছে নেত্রীর সঙ্গে। তার শরীর খুবই নরম হয়ে গেছে। কিন্তু মনোবল শক্ত। দুই হাতে ব্যথা। ফুলে গেছে। পা’টা মাটিতে রাখা সম্ভব হয় না। আজকে এক বছর হয়ে গেছে তাঁর কারাবন্দির।বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রীকে একটি ছোট্ট, ভিত্তিহীন কারণে সাজা দেয়া হয়েছে। এই মামলায় ৭ দিনের বেশি জেলে থাকার কথা নয়। অথচ হাইকোর্টে জামিনের পরও তাকে দুই মাস জেল খানায় থাকতে হলো। তাকে এরপর ছোট ছোট মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। কুমিল্লা, নড়াইল আর ঢাকার তিনটি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো। এরপর চলে গেলো নিম্ন আদালতে। নিম্ন আদালত তো পুরোপুরি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। সুপ্রিমকোর্টের কোনো এখতিয়ার নাই বললেই চলে।আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। যেহেতু আদালতের মাধ্যমে সম্ভব নয়। তাই আন্দোলন। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলন আরও বেগবান করতে হবে। আর এ আন্দোলন সফল করার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মওদুদ বলেন, আন্দোলন বললেই আন্দোলন হবে না। আমাদের নেতাকর্মীরা যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে, যাদের হত্যা করেছে। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।যারা আন্দোলন করবে তারা তো দাঁড়াতে পারে না। আন্দোলন যাদেরকে নিয়ে করবেন তাদেরকে পুনর্বাসন করতে হবে। তাদের মধ্যে আস্থা, বিশ্বাস ফিরিয়ে আনেন। তাদেরকে আমাদের সঙ্গে একত্রিত করেন। তাহলে তারা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আন্দোলন করবে। এই দুঃসময়ে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদেরকে এবং তরুণদের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে। এই পুনর্বাসন যদি আমরা করতে পারি তাহলে সম্ভব। এই সরকার যে শূণ্যতা সৃষ্টি করেছে তা আর তখন থাকবে না। সরকার বেশিদিন আনন্দে থাকতে পারবে না। কোনো না কোনো সময়ে আন্দোলন হবে, সরকারের পতন হবে।

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, আমরা এমন অবস্থায় আছি, আইনের মধ্য দিয়েও খালেদা জিয়া মুক্ত করা যাবে না, বেআইনি ভাবেও না। তাই আমাদেরকে মাঝামাঝি কিছু একটা করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়া কোনো মুক্তি নাই, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নাই। ১৬ কোটি মানুষের মুক্তি নাই। এ লক্ষ্যে প্রতিদিন আন্দোলন হবে প্রতি সপ্তাহে আন্দোলন হবে। আর সেই আন্দোলন করেই আমাদের বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।জয়নুল আবেদীন বলেন, বিএনপি শক্তিশালী না হলে আইনজীবী সংগঠন শক্তিশালী হয় না। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, অনেকবার দেখেছি আইনিভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। এখন আমাদের উচিৎ ঐক্যবদ্ধ হওয়া, ঐক্যবদ্ধ না হলে যতোই আন্দোলন কর্মসূচি দেন কোনো লাভ হবে না। আমরা আমি না হয়ে আমরা সকলে আমরা হতে হবে।ইত্তেফাক

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রানীর বাজার এলাকায় বখাটে রিক্সা চালক এক কলেজ ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৌখিকভাবে অভিযোগ শুনে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে বখাটেদের পাওয়া যায়নি। গত বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রানীর বাজার সংলগ্ন তিলকপুর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রানীর বাজারস্থ দয়াময় সিংহ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক করণিকের (রন কুমার সিংহের) কলেজ পড়–য়া মেয়ে বুধবার সিলেট থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্ধ্যা ৬টায় রানীর বাজার থেকে পায়ে হেটে তিলকপুর গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিল। এসময় পথে একা পেয়ে আদমপুরের জামির কোণা গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে রিক্সা চালক উজ্জল মিয়া (২৫) ছাত্রীটিকে টানা হেছড়া শুরু করে। সাথে সাথে অশালীন আচরণ করে। এসময় ছাত্রীর চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে বখাটে রিক্সা চালক উজ্জল মিয়া পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী সূত্রে মৌখিকভাবে বিষয়টি শুনে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় অনেক খোঁজ করেও বখাটে রিক্সা চালকের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুপেন্দ্র কুমার সিংহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রিক্সা চালক ছেলেটি আসলেই বখাটে। ছাত্রীর পরিবারের পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথাও তিনি জানান। ঘটনা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে কলেজ ছাত্রীর পরিবার সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।

তবে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, সরেজমিন এসে শুনেছেন বখাটে রিক্সা চালক ছাত্রীর ব্যাগ টেনে নিতে চেয়েছিল। এ বিষয়ে ছাত্রীর পরিবার থেকে লিখিত কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তারপরও মৌখিতভাবে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে ও বখাটেকে পাওয়া যায়নি। তারপরও বখাটে রিক্সা চালককে ধরার চেষ্টা চলবে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc