Friday 26th of April 2019 04:21:30 PM

পুলিশের অপেশাদার কর্মকাণ্ডের জন্যে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ কোথায় বা কাকে দিবেন এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় থাকতেন। এই বিষয়টি বিবেচনা করে ও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে শাস্তির আওতায় আনতে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ‘আইজিপি’স কমপ্লেইন সেল’ চালু হয়েছে। এই কমপ্লেইন সেল সার্বক্ষণিক অর্থাৎ ২৪ ঘন্টাই চালু থাকে।

দেশের জনসাধারণ পুলিশ সদস্যের যে কোনো অপেশাদার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সরাসরি, কুরিয়ার সার্ভিস ও ডাকযোগে অথবা ০১৭৬৯৬৯৩৫৩৫, ০১৭৬৯৬৯৩৫৩৬ মোবাইল নম্বরে এবং complain@police.gov.bd ই-মেইলে এ সেলে অভিযোগ করতে পারবেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি (ডিএন্ডপিএস-১) এর তত্ত্বাবধানে সেলটি পরিচালিত হচ্ছে বলে তথ্যসুত্রে জানা গেছে।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি কম্পিউটার প্রদান করেছে আফরোজ উদ্দীন ট্রাস্ট। শনিবার দুপুর ২টায় কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের হাতে আনুষ্টানিকভাবে কম্পিউটার তুলে দেন।
কামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের হল রুমে প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমানে সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক আরাফাত আদনান সাইমনের স ালনায় অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আফরোজ উদ্দীন ট্রাস্টের কর্ণধার মোঃ আফরোজ উদ্দীন, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সম্পাদক মো: মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক জহিরুল ইসলাম নানু, রুবেল চৌধুরী, সাইদুল বাছিত প্রমুখ। অনুষ্টান শেষে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের হাতে আনুষ্টানিকভাবে কম্পিউটার সেট তুলে দেয়া হয়।

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট প্রত্যান্ত অঞ্চলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত সন্ত্রাসী একাধিক ডাকাতি মামলা, নারী নির্য়াতন ও বন মামলাসহ ৫জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোর রাতে লাতুরগাও গ্রামের মৃত ছুরুক আলীর ছেলে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ডাকাতি মামলার পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামী পিচ্চি ছায়েদ (৪২), উত্তর নরপতি গ্রামের মৃত ড্রাইভার আব্দুল আউয়ালের ছেলে নারী নির্যাতন মামলার আব্দুল সালাম (৩৪) ,বাগিয়ারগাও গ্রামের হাফিজ উল্লার ছেলে মদরিছ (৩২), বাসুল্লা গ্রামের ইসকান্দর আলীর ছেলে জলফু মিয়া (৩৬) ,আজিমাবাদ এলাকার মৃত আকবর মিয়ার ছেলে আছকির (৪০), লাতুর গাও গ্রামের হেলাল মিয়া (২৬) কে গ্রেফতার করা হয়। বিশেষ অভিযানে ছিলেন এসআই সজীব দেব রায় ,এসআই আলী আজহার, এসআই আনসরুল ও এএসআই শরীফসহ একদল পুলিশ।
মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা এসআই সজীব দেব রায় জানান ছায়েদ এক বাসায় চুরি করতে গিয়ে এক গৃহকর্মীকে খুন করেছে, সে দীর্ঘ ৮বছর যাবৎ পলাতক ছিল সে শীর্ষ সন্ত্রাসী তালিকায়, তাকে কেহ ধরতে গেলে সে দেশীয় অস্ত্রদিয়ে হামলা করার চেষ্টা করে ৭/৮ বছর পুর্বে ছায়েদকে ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়ে ছিল । তখন সময় আমাদের পুলিশ সদস্য হামলায় আহত হন।
ওসি কে এম আজমিরুজ্জামান জানান পিচ্ছি ছায়েদ আন্তজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে ২টি মামলায় সাজা ও ৭টি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। আমাদের নিয়মিত আভিযান অব্যাহত আছে।এদিকে ছায়েদ গ্রেফতারে এলাকাবাসী স্বস্তি ফিরে এসেছে।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে।
এসময় ৬টি মোটর সাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ইউপি চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখ অভিযোগ করে বলেন, আমার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি জানান, শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যার পরে তিনি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে সিঙ্গাশোলপুর বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান। অফিসে তিনি কিছু কাজকর্ম করা কালে জানতে পারেন যে, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান লোকজন নিয়ে বাজারে প্রবেশ করেছেন। ‘১৫ দিন আগে সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার সাথে একটি বিরোধের জের ধরে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। হামলায় আমার ( চেয়ারম্যান উজ্জল শেখের) অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে এবং এ সময় কয়েকটি মটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়।
আহতরা বড়কুলা গ্রামের ফয়সাল শেখ, সিঙ্গাশোলপুর গ্রামের শহীদুল ইসলাম, মোঃ খলিল শেখ, লিটন শেখ, রুবেল শেখ ও রাশেদ শেখকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তব্যে গুরুতর আহত শহীদুল ইসলাম ও খলিল শেখকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইলিয়াস হোসেন হামলার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইল জেলায় এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সংখ্যা ১০হাজার ৯শ ৫৬ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ৫হাজার ৯শ ৬৯ জন ছাত্র এবং ৪ হাজার ৯শ ৮৭ জন ছাত্রী পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করছে।
এসএসসি পরীক্ষায় জেলার তিনটি উপজেলার ১৪টি কেন্দ্রের আওতায় ৮হাজার ৯শ৪৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।
এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলার নড়াইল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, নড়াইল সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পার্ব্বতী বিদ্যাপীঠ, মাইজপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের অধীনে ২হাজার ৮শত ৪৪ জন পরীক্ষার্থী।
লোহাগড়া উপজেলায় লোহাগড়া পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপাশা আদর্শ বিদ্যালয়, ইতনা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ, দিঘলিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লাহুড়িয়া হাফেজ আঃ করিম একাডেমীর অধীনে ৩হাজার ৩শত ১৩ জন।
কালিয়া উপজেলায় কালিয়া পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, কালিয়া পিএস পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, চাঁচুড়ি পুরুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাঐসোনা কামশিয়া(বহুমুখী) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধীনে ২হাজার ৭শত ৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

দাখিল পরীক্ষায় (৩টি কেন্দ্র) সদরের শাহাবাদ মাজীদিয়া কামিল মাদ্রাসা, লোহাগড়ার আল-জামেয়তাুল ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা ও কালিয়া আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রের অধীনে ১হাজার ২শ ২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।
এছাড়া এসএসসি ভোকেশনালে ৪টি কেন্দ্রের অধীনে ৭শত ৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।
প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষা মন্ত্রীর নির্দেশে নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্নের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে , পরিক্ষা কেন্দ্রে কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না বলে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

বিগত ৩১/০১/২০১৯ তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ঃ২০ মিনিটের সময় মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার চৌমুহনাস্থ উত্তরা ব্যাংক লি: শাখার নিচ থেকে ডিসকভার-১৩৫ কালো রং, রেজিঃ নং ১১-২২৯৯,ইঞ্জিন নম্বার- IN6BRC65739, চেসিস নম্বার- MDZDSINZZRCC36042 সিসি ১৩৫, এর মটর সাইকেল চুরি হয়ে যায়।ছবিতে দেখা গেছে জনৈক ব্যক্তি সাইকেলটি চালিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। 
ঐদিন বিকালে পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে  শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম মটর সাইকেল উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। 
অপরদিকে স্থানীয় থানা থেকে সংগৃহীত সিসি ফুটেজে চোরের মটর সাইকেল নেয়ার দৃশ্যের বিভিন্ন এঙ্গেলের ছবি সংবাদের সাথে প্রকাশ করা হল। কোনো প্রকার তথ্য থাকলে শ্রীমঙ্গল থানায় জানানোর জন্য চুরি হওয়া সাইকেলের মালিক অসিম রায় অনুরোধ জানিয়েছেন। জিডি নং-১৯৮৫, তারিখ: ৩১/০১/২০১৯    
 

শ্রীমঙ্গল থানা থেকে সংগ্রহকৃত সিসি ক্যামেরা ধারনকৃত ছবি


শ্রীমঙ্গল থানা থেকে সংগ্রহকৃত সিসি ক্যামেরা ধারনকৃত ছবি

সোলেমান আহমেদ মানিকঃ শ্রীমঙ্গল উপজেলায় জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে ‘সুস্থ্য সবল জাতি চাই, পুষ্টিসম্মত নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নাই’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালীর মধ্যদিয়ে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০১৯ পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ঃ৩০ ঘটিকায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাঙ্গণ থেকে র‍্যালি বের করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শাহিদুল আলম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আশফাকুজ্জামান আশিক (শ্রীমঙ্গল-কমলগন্জ সার্কেল) উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তকবীর হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

এবছরের বইমেলা উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ১৬ বার এ মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেলা কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, আগামীতে আরও চারবার মেলার উদ্বোধন করে নতুন রেকর্ড স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এতবার (১৬ বার) কেউ বই মেলার উদ্বোধন করেননি। শুক্রবার বিকেলে সাড়ে ৪টায় অমর একুশে বইমেলা ২০১৯ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এবার নিয়ে বইমেলা ৪০ বছরে পর্দাপণ করল।

মাসব্যাপী মেলার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণ ও দর্শনার্থীর অসুবিধার জন্য না আসতে পারলেও মনটা বইমেলাতেই পড়ে থাকে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার জন্য নয়, বইমেলা বাঙালির ‘প্রাণের মেলা’। আগে যখন ক্ষমতায় ছিলাম না, তখন এই মেলায় অনবরত ঘুরে বেড়াতাম। আর এখন অনেকটা বন্দি জীবন, এখন ইচ্ছা থাকলেও আসা যায় না। আর আসলেও অন্যের অসুবিধা হয়। সত্যি কথাটা কি, মনটা পড়ে থাকে বইমেলায়।
শেখ হাসিনা বলেন, যতই আমরা যান্ত্রিক হই না কেন, বইয়ের চাহিদা কখনো শেষ হবে না। নতুন বইয়ের মলাট, বই শেলফে সাজিয়ে রাখা, বইয়ের পাতা উল্টে পড়ার মধ্যে যে আনন্দ আছে, আমরা সবসময় তা পেতে চাই।
মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির আয়োজনে গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৬ বারের মতো বইমেলার উদ্বোধন করে রেকর্ড গড়েন তিনি। জানা গেছে, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এতবার (১৬ বার) কেউ বই মেলার উদ্বোধন করেননি। এবার নিয়ে বইমেলা ৪০ বছরে পর্দাপণ করল। এসময় আগামী ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছার পরই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কাযর্ক্রম শুরু হয়। সূচনা সঙ্গীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ পরিবেশন করা হয়। এরপর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং তার প্রিয় কিছু বই ক্রয় করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা ভাষার প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ এবং মিশরের লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশি। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, নতুন প্রজন্মকে দেশের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। কতটা ত্যাগ আর সংগ্রামের পথ পাড়ি দিলে একটি জাতি তার কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছতে পারে তা তাদের জানাতে হবে।
তিনি বলেন, বইমেলা হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব। এ আয়োজন বাঙালি জাতিসত্তা দাঁড় করাতে বিশেষ সহায়ক হিসেবে কাজ করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাঙালি ভাষা-সংস্কৃতি এবং বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এ বছরই ২০১৯ সালের ১৭ই নভেম্বর একুশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিলাভের বিশ বছর পূর্তি হবে। ঊনসত্তরের উত্তাল গণঅভ্যুত্থান এবং বাংলার সংগ্রামী জনতার দ্বারা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে অভিষিক্ত করারও ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে এ বছর। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে এসব ঘটনার ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়লাভ- এসবের মাধ্যমেই বাঙালির স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা বাস্তবরূপ লাভ করেছে।
মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারি জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকায় জাতি সাড়ম্বরে আগামী ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী পালনের মধ্যদিয়ে আমাদের দেশের ইতিহাসকে আমরা আরো স্বচ্ছভাবে দেশের মানুষের কাছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস করি। শুধু মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নয়, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়েও অনেকে নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং সম্প্রতি প্রকাশিত ‘সিক্রেট ডক্যুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দি নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ বই দুটিতে এসব বিভ্রান্তির অবসান হয়েছে বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, মোট ১৪টি খন্ডে প্রকাশিত হচ্ছে ‘সিক্রেট ডক্যুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দি নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’। এসব দলিলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামের অনেক অজানা তথ্য জানা যাবে।
বইমেলার উদ্বোধন ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রী এবারের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাওয়া চারজনের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। কবিতায় কবি কাজী রোজী, কথাসাহিত্যে মনোরোগ চিকিৎসক মোহিত কামাল, প্রবন্ধ ও গবেষণায় বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের জন্য গবেষক-কলামিস্ট আফসান চৌধুরী এবার এ পুরস্কার পেয়েছেন। পুরস্কার হিসেবে ২ লাখ টাকার চেক, ট্রফি এবং সনদপত্র বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দা নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ বইয়ের দ্বিতীয় খন্ডের মোড়কও উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিসরীয় সাংবাদিক-গবেষক মুহসেন আল আরিসির লেখা ‘হাসিনা হাকাইক আসাতি’ বইটির একটি কপি এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। মুসলিম প্রধান একটি দেশে একজন নারী হয়ে নেতৃত্বে এসে শেখ হাসিনা কীভাবে মানুষের দিনবদলের রূপকার হয়ে উঠলেন, সেই বিবরণ এই বইয়ে তুলে ধরেছেন আরিসি। বইটির বাংলা তর্জমার শিরোনাম ‘শেখ হাসিনা: যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয়’।
দুই মলাটের ভেতরে কাগুজে বইয়ের প্রতি ভালোবাসার কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে এ বইকে ডিজিটাল দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার কথা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অনলাইনে বই থাকলে তা বিশ্বের সবার কাছে দ্রুত পৌঁছে যায়। ডিজিটাল লাইব্রেরি হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। দেশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রভাষা আর ইতিহাস নিয়ে নতুন প্রজন্মকে জানাতে আরও বেশি বই প্রকাশের আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদসবৃন্দ, সাবেক মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য নেতৃবৃন্দ, সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বৃন্দ, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েরর উপাচার্যবৃন্দ, বিদেশি কূটনিতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবছরের মতো এবারও মেলা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বইয়ের দোকানগুলো। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

ডেস্ক নিউজঃ  চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীত হচ্ছে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক। নতুন দুটি লেন হবে এক্সপ্রেসওয়ে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, মহাসড়কটি তিনটি প্যাকেজে ভাগ করে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি তেল খরচ যেমনি কমবে তেমনি সময়েরও সাশ্রয় হবে। কমবে যানজটের যন্ত্রণা। সচল হয়ে উঠবে দেশের অর্থনীতির চাকা। এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে চলতে গেলে যানবাহনগুলোকে বাড়তি টোল দিতে হবে।
জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম ও প্রধান সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার জন্য বিগত সরকারের আমলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। কিন্তু ওই সময়ে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে সেটি আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম ছয় লেন কন্ট্রোল অ্যাকসেস এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। মার্চের মধ্যে প্রকল্পটির ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি রি সেটেলমেন্ট কাজের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন হবে। জুলাইয়ের মধ্যে বিনিয়োগকারী বাছাই করতে রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন (আরএফকিউ) আহ্বান করবে পিপিপি কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণ তথা এক্সপ্রেসওয়েরর কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। ২১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নতুন এক্সপ্রেসওয়েটি বর্তমানের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই নির্মাণ করা হবে। এ জন্য মহাসড়কের পাশের বিভিন্ন স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসত-ঘর স্থানান্তরের প্রয়োজন পড়বে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এই এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমিঅধিগ্রহণসহ সড়কের পাশে বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ, টেলিফোন লাইন এবং ঘরবাড়ি সরিয়ে পুনঃস্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করে তার ডিপিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল গত বছর। তবে প্রশাসনিক অনাপত্তি চেয়ে ওই সময় ডিপিপি ফেরত পাঠায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের যোগাযোগ উন্নত করতে চার লেন মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়। তবে ত্রুটিপূর্ণ নকশা, সমন্বয়হীন দুই লেনের সেতু আর অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে দুর্ভোগ কমেনি। মেলেনি পণ্য পরিবহনের কাঙ্খিত সুবিধা। এতে করে মহাসড়কটি চাল লেনে উন্নীত করার পরেও খুব একটা সুফল মেলেনি। এরই মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিনটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। যেগুলোর মধ্যে এ মাসেই খুলে দেয়া হবে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু। বাকি দুটি দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু আগামী এপ্রিল মাসে খুলে দেয়া হতে পারে। এই তিনটি সেতু খুলে দিলে মহাসড়কে যাবাহনের গতি আগের তুলনায় অনেক বাড়বে, কমবে যানজট।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন ১৭ হাজার যানবাহন চলাচলের বাস্তবতা নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন সড়ক নির্মাণ করা হয়। দেশের দক্ষিণ ও পূর্বঞ্চল থেকে রাজধানীতে প্রবেশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধারণক্ষমতার থেকে বেশি যানবাহন যাতায়াত করায় এই মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণ তথা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। এক্সপ্রেসওয়েটির দৈর্ঘ্য হবে ২১৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটার এলিভেটেডওয়ে ও ১৯৮ কিলোমিটার হবে এক্সপ্রেসওয়ে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ছয় লেনের এ মহাসড়ক প্রকল্পটি নির্মাণ করা হবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত ৮ লেন রয়েছে। সে কারনে কাঁচপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পটির আওতায় সার্ভিস রোড, সাতটি ইন্টারচেঞ্জ, তিনটি সার্ভিস স্টেশন, ৬৪টি ওভারপাস, ৪৪টি ভেহিকল আন্ডারপাস, চারটি মাঝারি সেতু ও ২৮টি ছোট সেতু নির্মাণ করা হবে। এর আগে প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। হালনাগাদ ফিজিবিলিটি স্টাডিতে ব্যয় প্রাক্কলন ও প্রকল্পের নির্মাণকাল নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে যে মূল্যে ভূমির দাম ধরা হয়েছিল, এখন তার চেয়ে তিনগুণ বেশি দামে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এতে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ যে ডিপিপি চূড়ান্ত করা হচ্ছে সেখানে ১৭ হাজার কোটি টাকার ব্যয় প্রাক্কলন করা হচ্ছে। তিনটি প্যাকেজে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম প্যাকেজের আওতায় ঢাকার কাঞ্চনপুর থেকে কুমিল্লা, দ্বিতীয়টি কুমিল্লা থেকে ফেনী ও শেষ প্যাকেজটি হবে ফেনী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত। এটি হবে কন্ট্রোল অ্যাকসেস এক্সপ্রেসওয়ে। মূল সড়ক হবে চার লেনের, বাকি দুই পাশে থাকবে দুই লেনের সার্ভিস রোড। সার্ভিস রোড দিয়ে স্থানীয় ধীরগতির যানবাহন চলাচল করবে। আর চারলেনের কন্ট্রোল অ্যাকেসেস রোড দিয়ে নূন্যতম ১০০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন যানবাহনগুলোই চলাচলের সুযোগ পাবে। এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা-নামার ব্যবস্থা থাকবে নির্ধারিত কিছু এলাকায়। দীর্ঘ ওই পথে যাতায়াত করতে টোল দিতে হবে। এ পথে সাতটি স্থানে যাত্রী ওঠা-নামা করতে পারবে। যেসব জায়গায় যানবাহন থামবে সেগুলো হচ্ছে- নারায়ণগঞ্জের মদনপুর, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়নামতি ও পদুয়ার বাজার, ফেনী, চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট ও সলিমপুর।
যানজটবিহীন বাধামুক্তভাবে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে এই এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়িত হলে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া যাবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জে ইয়াবাসহ একাধিক মাদক ও চাঁদাবাজি মামলার আসামী সোর্স কালাম মিয়া (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে বিজিবি। শুক্রবার সকাল ১০টায় মাদক মামলা নং-১ দায়ের করে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কালাম মিয়ার গডফাদারসহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার পরও গ্রেফতার না করার কারণে সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা, মদ ও কয়লা চোরাচালানসহ চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এব্যাপারে বিজিবি ও এলাকাবাসী জানায়,জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তরশ্রীপুর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামের রাশিদ মিয়ার ছেলে কয়লা ও মাদক মামলা নং-১৫৮/০৭এর আসামী ও চোরাচালানীদের গডফাদার আব্দুর রাজ্জাক তার শিস্য মাদক ব্যবসায়ী কালাম মিয়াকে ইয়াবার চালান দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুর সীমান্তে পাঠায়। পরে কালাম মিয়া তার সহযোগী ইয়াবা ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জিয়া,জানু মিয়া,বাবুল মিয়া,আব্দুল আলী ভান্ডারী,হযরত আলী,ল্যাংড়া বাবুলসহ ফিরোজ মিয়া ও কামাল মিয়াকে ডেকে এনে সীমান্তের লালঘাট গ্রামের রাস্তার পাশে ইয়াবা ভাগভাটোয়ারা করার সময় খবর পেয়ে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার হুমায়ুন অভিযান চালিয়ে ২০পিছ ইয়াবাসহ সোর্স কালাম মিয়াকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন।

এসময় বাকি ইয়াবা নিয়ে অন্যরা পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে আরো জানা যায়,সোর্সদের মধ্যে দুধেরআউটা গ্রামের জিয়াউর রহমান জিয়ার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা নং-১৬৩/০৭,লালঘাট গ্রামের জানু মিয়ার বিরুদ্ধে কয়লা পাচাঁর মামলা নং-২০১/১৫,লাকমা গ্রামের বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে কয়লা পাচাঁর মামলা নং-১০৩/১৭,লালঘাট গ্রামের আব্দুল আলী ভান্ডারীর বিরুদ্ধে বিজিবির ওপর হামলার মামলা নং-১০৭/১৪ ও লাকমা গ্রামের ইয়াবা ব্যবসায়ী ল্যাংড়া বাবুল,রজনীলাইন গ্রামের ফিরোজ মিয়া ও বড়ছড়া গ্রামের কামাল মিয়ার বিরুদ্ধে ইয়াবা,মদ, কয়লা,অস্ত্র পাচাঁর ও চাঁদাবাজির মামলাসহ গ্রেফতার হওয়া সোর্স কালাম মিয়ার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা নং-২১৫/১৪,হুন্ডি মামলা নং-২১৭/১৪,মাদক পাচাঁর মামলা নং-১৩৫/১৬ইং ও নারী পাচাঁরসহ আরো একাধিক মামলা রয়েছে। আর গডফাদার আব্দুর রাজ্জাক ও তার ৩ ভাইয়ের চোরাই কয়লা ও মাদক বোঝাই ইঞ্জিনের নৌকা বিজিবি আটক করে মামলা নং-১৫৮/০৭সহ মোট ৩টি মামলা দায়ের করে। বর্তমানে ১টি মামলা হাইকোর্টে চলমান রয়েছে।

এছাড়াও এলাকায় জুয়ার বোর্ড বসিয়ে বিজিবির নামে চাঁদা তুলার সময় রাজ্জাককে হাতেনাতে গ্রেফতার করে বিজিবি। তারপরও আব্দুর রাজ্জাক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে উপরের উল্লেখিত মামলার আসামীদেরকে বাঁশতলা,লালঘাট, লাকমা ও বড়ছড়া, বুরুঙ্গাছড়া,রজনীলাইন সীমান্ত এলাকায় সোর্স নিয়োগ করে প্রতিরাতে হাজারহাজার মেঃটন কয়লা ও পাথরের সাথে মদ,গাঁজা,হেরুইন,ইয়াবা ও অস্ত্র পাচাঁর করার পর বিজিবি,পুলিশ,র‌্যাব ও সাংবাদিকদের নাম ভাংগিয়ে অবৈধ মালামাল থেকে লক্ষলক্ষ টাকা চাঁদা উত্তোলন করছে। আর সেই অবৈধ টাকা দিয়ে আব্দুর রাজ্জাক ও তার সোর্সরা নিজ বাড়িতে ও বিভিন্ন হাট-বাজারে একাধিক পাকা দালান-কোটা ও দোকানপাট নির্মান করাসহ ক্রয় করেছে দামী গাড়ি,শতশত একর জমি ও ব্যাংক একাউন্ট।

এব্যাপারে বড়ছড়া ও চাঁরাগাঁও শুল্কস্টেশনে ব্যবসায়ী আমির হোসেন,জমির আলী,লাল মিয়া,খাইরুল ইসলাম, সাজিদুর রহমান,আব্দুর রহমান,রাশেদুল ইসলামসহ আরো অনেকেই বলেন,চিহ্নিত চোরাচালানী ও চাঁদাবাজ আব্দুর রাজ্জাক ও তার সোর্সদের শীগ্রই গ্রেফতার করে তাদের অবৈধ সম্পত্তি ও মালামাল সরকারি হেফাজতে নিয়ে সীমান্ত এলাকাকে মাদক ও চোরাচালান মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছি। সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক মাকসুদুল আলম বলেন,সীমান্ত চোরাচালানীদের গ্রেফতারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ  ‌চুনারুঘাট উপজেলার কৃতি সন্তান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এডভোকেট মোঃ তাজুল ইসলামকে সংবর্ধনা দিয়েছে চুনারুঘাট উপজেলাবাসী।

এ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় চুনারুঘাট উপজেলার পদক্ষেপ গণপাঠাগারের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা পোস্ট মাষ্টার এস.এম মিজানুর রহমানের পরিচালনায় পদক্ষেপ পাঠাগার এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সংবর্ধনা ব্যক্তিত্ব এডভোকেট মোঃ তাজুল ইসলাম, চুনারুঘাট সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহবায়ক বিদ্যুৎ রঞ্জন পাল, চুনারুঘাট প্রেসক্লাব সেক্রেটারি মোঃ জামাল হোসেন লিটন, চুনারুঘাট অনলাইন প্রেসক্লাবের সেক্রেটারী মো: ফারুক মিয়া, নবীগঞ্জ ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম, পদক্ষেপ পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মিলন,পদক্ষেপ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মনিরুল ইসলাম জুয়েল, সাংবাদিক এস.এম সুলতান খান, ঢাকা মহানগর উত্তরা থানা আওয়ামীলীগের সদস্য জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ধামালীর সভাপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মোস্তাক বাহার, চুনারুঘাট সাংবাদিক ফোরামের সহ-সভাপতি আব্দুল হাই প্রিন্স, সাংবাদিক শংকর শীল, মোজাম্মেল হক, শাহজাহান মিয়া,আবিদুর রহমান আবিদ, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, রানিগাও মাসুদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক তরফদার, সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ ওয়াহেদ আলী, সিলেট মহানগর হাসপাতালের ম্যানেজার ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চুনারুঘাট উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মোঃ মাসুদ আহমেদ, আওয়ামীলীগ নেতা সেলিম সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধান অতিথি এডভোকেট মোঃ তাজুল ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অতিথিবৃন্দরা এবং মিষ্টিমুখ করানো হয়।

সাদিক আহমেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ আজ ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ইং তারিখ শনিবার থেকে সারাদেশে এক যোগে শুরু হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট-এসএসসি/দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দীলিপ কুমার বর্ধন থেকে প্রাপ্ত সুত্রমতে,শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে এবার সর্বমোট ৪,২৫৫ জন স্কুল পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।সর্বমোট ২৬ টি বিদ্যালয় (১টি সরকারি বালিকা) এর শিক্ষার্থীরা ৩ টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিবে এবার।যার সাথে অারো ৩ টি ভেন্যু রয়েছে অর্থাৎ মোট ৬ টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে পরীক্ষা।
এদিকে উপজেলায় এবার মাদ্রাসা বোর্ড এর সর্বমোট ৫ টি মাদ্রাসার মোট ২২৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।মাদ্রাসা পরীক্ষার্থীদের একমাত্র কেন্দ্র হচ্ছে শ্রীমঙ্গল আনোয়ারুল উলূম ফাজিল মাদ্রাসা।
উল্লেখ্য,এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সারাদেশ থেকে ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।সর্বমোট ৩ হাজার ৪৯৭ টি কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৬৮২ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে পাবলিক এই পরীক্ষায়।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc