Sunday 16th of June 2019 03:12:25 PM

সদ্য শপথ নেয়া তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ “ভুঁইফোঁড়” অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথম দিন অফিস করতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গতকাল (সোমবার) শপথ নেয়ার পর অনেক সাংবাদিক বন্ধু প্রশ্ন করেছিলেন, দেশে অনেক ভুঁইফোড় অনলাইন সংবাদমাধ্যম তৈরি হয়েছে। তারা অনেক সময় ভুল সংবাদ পরিবেশন করে থােকে। এতে অনেকের চরিত্র হননের ঘটনাও ঘটে।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছর গুলোতে ব্যাপক হারে ইন্টারনেট গ্রাহক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন সংবাদমাধ্যম গুলোর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। এই সুযোগে তৈরি হয়েছে অনেক ভুঁইফোঁড় অনলাইন সংবাদমাধ্যম, যারা ফেসবুকে বিভিন্ন ‘মনগড়া’ খবরও ছড়াচ্ছে।

নতুন মন্ত্রী হওয়ার পর এ মন্ত্রণালয়ের কোন বিষয়গুলো চ্যালেঞ্জ মনে করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নিজের জীবনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি সব সময়। লাইফ ইজ ফুল অফ চ্যালেঞ্জেস। আমি মনে করি, সব কাজই সমাধানযোগ্য এবং সব কাজই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করা সম্ভব।

সাংবাদিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে নতুন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, সাংবাদিক বন্ধুদের অনেক অভাব অভিযোগ আছে, আমি আগে থেকেই জানি। সেগুলো সমাধান করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে কাজটি আমি করব।

হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে অনলাইন মিডিয়ার যে ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে, সেটি শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে। বাংলাদেশে আজকে যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়েছে, সেটিও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হয়েছে। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রের চতুর্থ অঙ্গ হচ্ছে গণমাধ্যম। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সমাজের সব চিত্র দেখায় গণমাধ্যম। সমাজকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে।

পর্যালোচনা সভায় মাওলানা এম এ মতিন জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে


বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি, মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি ইভিএম -এ ও ব্যাপক ভাবে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। যা দু:খজনক। জনগণকে জিম্মি করে, প্রশাসনকে ব্যবহার করে একচেটিয়া নির্বাচন করে এভাবে দেশ চলতে পারেনা। এসব পরিবর্তন সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে। মানুষের ভোট সহ যাবতীয় নাগরিক অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্বও বটে। আজ ৮ জানুয়ারী মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে মোমবাতি প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম এর নির্বাচন পরবর্তী পর্যালোচনা সভা ও পটিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় শাহাদাত বরণকারী ছাত্রসনো কর্মী মুহাম্মদ আবু ছাদেকের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট জননেতা নুরুল ইসলাম জিহাদীর সভাপতিত্বে এবং যুবনেতা মুহাম্মদ হাবিবুল মোস্তফা সিদ্দিকীর স ালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আন্তর্জাতিক সচিব ড. সৈয়দ জালাল উদ্দিন আযহারী। সকলের কৃজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত সাংসদ পদপ্রার্থী, যুবসেনার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম। বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, ছোবহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক ড. মাওলানা মাওলানা মতিউল ইসলাম, নগর দক্ষিণ ইসলামী ফ্রন্ট নেতা গিয়াস উদ্দিন নিজামী, নগর উত্তর ইসলামী ফ্রন্ট সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ শফিউল আলম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল করিম সেলিম, নগর দক্ষিণ ফ্রন্টের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক কাযী মুহাম্মদ হানিফ, মাওলানা আবু ছাদেক আল কাদেরী, নগর উত্তর যুবসেনা সভাপতি মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন, উত্তর জেলা যুবসেনা সভাপতি মুহাম্মদ ইসমাইল, দক্ষিণজেলা যুবসেনার সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সালাউদ্দিন খোকন, ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম শহীদ উল্লাহ, সহ সভাপতি নুরুল্লাহ রায়হান খান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক দীদার কাদেরী, ইসলামী ফ্রন্ট নেতা মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন, মাওলানা সোহাইল উদ্দিন আনসারি, নুরুল ইসলাম শাকিল, যুবনেতা আবদুল কাদের রুবেল, নগর উত্তর সেনা সভাপতি শায়ের মাছুমুর রশিদ কাদেরী, সৈয়দ মোফাচ্ছেল টিপু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসেনা সভাপতি মুহাম্মদ ইদ্রিস, খোরশেদুল ইসলাম সুমন, নগর উত্তর সেনা সেক্রেটারী মিজানুর রহমান, নগর দক্ষিণ সেনা সেক্রেটারী রেজাউল করিম ইয়াছিন, এটিএম রেজাউল মোস্তফা, যুবনেতা আমির আলি, সৈয়দ ইসমাইল হোসাইন, মুহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, আবদুল আলিম, ১৯ নং ওয়ার্ড যুবসেনার সভাপতি মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, এরশাদুল করিম, শাহাদাত মিয়া, আদনান তাহসীন, আবদুল কাদের, বেলাল রেযা, খালেদ বীন জাহাঙ্গির, মাওলানা শাহদাত হোসাইন, হাফেয তাহের হোসাইন, সৈয়দ হাসান, মুহাম্মদ জিয়া উদ্দিন রায়হান, শায়ের সাইফুল ইসলাম, মুহাম্মদ জামশেদ, চাঁন বাদশা, মুহাম্মদ শাওয়াল প্রমুখ।

সৈয়দ আবু আজম চট্টগ্রাম-৯ আসনে মোমবাতি প্রতীকের পক্ষে ওয়ার্ড ভিত্তিক নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহনকারী ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা ও ছাত্রসেনা নেতা কর্মী ও সর্বস্থরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, যদিও নির্বাচনে আপনাদের স্বপ্নের যথাযত প্রতিফলন ঘটেনি তারপরও আমি হতাশ নই, সবেমাত্র শুরু। আপনারাও হতাশ হবেন না। সারাদেশে যা ঘটেছে এখানেও সেইম! একটা কথা আছে “দের আয়া তো দুরস্ত আয়া” – যেটি দেরীতে আসে সেটি যথাযত ভাবে কিংবা সঠিক ভাবে আসে।প্রেস বার্তা 

“শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে”

বেনাপোল থেকে এম ওসমান: প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষের একমাত্র চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র ৫০শয্যার শার্শা উপজেলা (নাভারণ-বুরুজবাগান) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সেবা প্রদানের জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সরকারি হাসপাতালে এখন নামমাত্র কয়েকজন চিকিৎসক রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে রোগীদের সাথে প্রতারনা ও বাইরের পছন্দের বেসরকারী ক্লিনিকের সাথে কমিশন বানিজ্যের প্রমাণ মিলেছে। সম্প্রতি এ হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে উন্নিত হয়ে ৫০ শয্যায় রুপান্তরিত হয়েছে। ৫০ শয্যায় উন্নিত হলেও এখনও পর্যন্ত কোন ডাক্তার বা জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে ২শ’ রোগী হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার নিয়ম থাকলেও সাড়ে ১০টার আগে কোন চিকিৎসককে হাসপাতালে দেখা মেলে না। আবার বেলা ১টা বাজলে কোন ডাক্তারকে  হাসপাতালে খুজে পাওয়া যায় না। দুর-দুরন্ত থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা চিকিৎসকের অপেক্ষায় বসে থেকে কাংখিত সেবা না পেয়ে চলে যায়।

উপজেলার আমতলা-গাতিপাড়া গ্রামের বৃদ্ধা রওশনারা (৬০) ও তাহেরা বেগম (৫৫) জানালেন, সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত টিকিট কেটে ডাক্তারের অপেক্ষায় বসে আছি এখনও কোন ডাক্তার হাসপাতালে  আসেনি। হাসপাতালে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা সত্বেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অশোক কুমার সাহা নিজেই বাইরের পছন্দের বেসরকারী ক্লিনিকে রোগী পাঠানোর প্রমাণ রয়েছে।

উপজেলার লক্ষণপুর গ্রামের নয়নতারা (২৭) জানান, হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিজামুল ইসলাম কয়েকটি রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরের  পছন্দের বেসরকারী ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে নিয়ে আসতে বলেন। আমরা গরীব মানুষ, বেসরকারী হাসপাতালে ভালো ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে গেলে অনেক টাকা লাগে তাই নাভারণের এই হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু ডাক্তারের অভাবে আমরা ভালো চিকিৎসা পাচ্ছি না। কিন্তু উল্লেখিত পরীক্ষা গুলি হাসপাতালের নিজস্ব প্যাথোলজিক্যাল বিভাগ থেকে করানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মরত টেকনিশিয়ান হুমায়ুন কবীর স্বীকার করলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মচারী জানালেন, এই হাসপাতালের নিজস্ব প্যাথোলজিক্যাল বিভাগে যে সব রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায় তার ৮০ভাগ রোগী কমিশন বানিজ্যের জন্য চিকিৎসকরা বাইরের পছন্দের বেসরকারী ক্লিনিকে পাঠাচ্ছেন। ফলে সরকার রাজস্ব  থেকে বি ত হচ্ছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এনাম উদ্দিন শিপন অফিসের বিভিন্ন কাজে অধিকাংশ সময়ে হাসপাতালের বাইরে থাকেন। দাঁতের চিকিৎসক রাবেয়া খাতুনের চিকিৎসা সেবার মান সন্তোষজনক নয় বলে রোগীর উপস্থিতি এতই নগন্য যে, তিনি সারাক্ষন মোবাইল ফোনে ফেসবুক দেখেই সময় কাটান এবং তার সহকারী আনিছুর রহমান রোগীদের সেবা না দিয়ে প্রায়ই হাসপাতালের বারান্দায় বা অন্যরুমে গল্প করে সময় কাটাতে দেখা য়ায়। নাভারণ বাজারে আনিছুর রহমানের নিজস্ব দন্ত চিকিৎসালয় থাকায় তিনি হাসপাতালের রোগীদের সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক উৎপলা দত্ত ডিউটি চলাকালিন অধিকাংশ সময়ে বাসায় অবস্থান করেন। হোমিও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর উপস্থিতি দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অশোক কুমার সাহা মোবাইল ফোনে চিকিৎসক উৎপলাকে চেম্বারে ডেকে পাঠান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কন্যা চিকিৎসক হুমায়রা আশরাফী তন্বী জরুরী বিভাগে ডিউটিরত অবস্থায় এক রোগীর অভিভাবকের সাথে অনাকাংখিত ও অশালীন আচরণ করতেও দেখা গেছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থা এতই নাজুক যে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত ষ্টোরকিপার জরুরী বিভাগে চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। আবার কোরবানী ঈদের সময় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক উৎপলা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে এক সপ্তাহ যাবৎ এালোপ্যাথিক চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিকে, হাসপাতালে  সার্জিক্যাল বিভাগ, মেডিসিন বিভাগ, গাইনি বিভাগ ও এ্যানেস্থেসিয়া বিভাগে কনসালটেন্ট পদে কখনো কোন ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়নি একযুগ ধরে। এভাবে উপজেলার একমাত্র সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে  পড়েছে।

হাসপাতালের বিপর্যস্থ চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে  উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অশোক কুমার সাহা বলেন, সব উপজেলা হাসপাতালে ডাক্তারের সংকট রয়েছে, কোথাও দুই/তিনজনের বেশি ডাক্তার নেই। সরকারী ভাবে নতুন করে নিয়োগ দিলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং রোগীরাও তাদের কাংখিত সেবা পাবে।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অনিল মারন্ডীকে সমাধী করা হয় আজ ৮ জানুয়ারি ২০১৯ বিকাল ২.৩০টায় তার নিজ গ্রামের সমাধীস্থলে। এসময় জাতীয় আদিবাসী পরিষদের পক্ষ থেকে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। সমাধীর পূর্বে তার আত্মার শান্তির জন্য এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

অনিল মারান্ডীর নিজ বাড়িতে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন এবং গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষকলীগ নেতা আব্দুল্ল্যাহ আল  মামুন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আদিবাসী সমাজ সেবক সূর্য্য হেমব্রম, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক গনেশ মার্ডি, সাংগঠনিক সম্পাাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, দপ্তর সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, রাজশাহী জেলা সাধারণ সম্পাদক সুসেন কুমার শ্যামদুয়ার, রাজশাহী মহানগর সভাপতি সুমিলা টুডু, সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কমিটির সভাপতি বিচিত্রা তির্কী, সাধারণ সম্পাদক টুনু পাহান, কেন্দ্রীয় সদস্য বিভূতী ভূষণ মাহাতো। আদিবাসী যুব পরিষদ রাজশাহী জেলার আহবায়ক নবদ্বীপ লাকড়া, য্গ্মু-আহবায়ক উপেন রবিদাস, হুরেন মূর্মূ, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দীয় কমিটির সভাপতি নকুল পাহান, সাধারণ সম্পাদক তরুন মুন্ডা, আদিবাসী নারী নেতৃ লিপি টুডুসহ অসংখ্য আদিবাসী নেতৃবৃন্দ।

আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি এবং জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, পবা উপজেলার ভাইস-চেয়ারম্যান আশরাফুল হক তোতা, বাসদ নওগাঁ জেলার সমন্বয়ক জয়নাল আবেদিন মুকুল।

এছাড়াও অনিল মারান্ডীর পরিবারের আত্মীয় স্বজন, তার বন্ধু-বান্ধব এবং শুভাকাঙ্খীরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, অনিল মারান্ডী আমাদের সমতল তথা বাংলাদেশের আদিবাসীদের একজন বলিষ্ঠ নেতা ছিলেন। মৃত্যূর আগ পর্যন্ত আদিবাসীদের দাবী এবং অধিকার প্রতিষ্টার জন্য তিনি লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি আমাদের মাঝে স্মরনীয় হয়ে থাকবেন তার লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। আদিবাসীদের মাঝে অনুপ্রেরনা হয়ে বেঁচে থাকবেন আজীবন।

বেনাপোল থেকে এম ওসমানঃ যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার সীমান্তবর্তী সাদীপুর গ্রাম থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারকৃত মাদক ব্যবসায়ী সইতুন বিবি (৪৮) ও শওকত আলী (৩৩) নামের চেকপোস্টের এক দোকান মালিককে ধরে এনে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের দুই উপ পরিদর্শক (এসআই) মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সইতুন বিবিকে গ্রেপ্তারের পর তার উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়লে পুলিশ সাংবাদিকদের কাছে কোন তথ্য দিতে নিষেধ করে দেয় ওই মহিলাকে। পুলিশ ও সাংবাদিকদের চাপের মুখে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী সইতুন বিবি। সইতুন বিবি সাদীপুর গ্রামের হযরত আলীর স্ত্রী ও শওকত আলী একই গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হাবিবুর রহমান হাবিব ও এসআই মনির হোসেন বেনাপোরের সাদিপুর গ্রাম থেকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ সইতুন বিবিকে জাহানারাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে বলা হয় তুই ওসির সামনে বলবি একই গ্রামের বাসিন্দা বেনাপোল চেকপোস্টের রাতুল স্টোরের মালিক শওকত আলী মাদক ব্যবসা করে। তুই ১০০ পিস ইয়াবা তার কাছ থেকে কিনে এনেছিস। এরপর ওই দুই এস আই শওকত আলীকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। দীর্ঘক্ষণ থানায় রেখে দেনদরবার করে সইতুন বিবি‘র কাছ থেকে দুই লাখ ও শওকত আলীর কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়ে তাদের রাতেই থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।

সইতুন বিবি জানান, খদ্দের সেজে আমার কাছ থেকে পোর্ট থানার এসআই মনির হোসেন ১০০ পিচ ইয়াবাসহ আমাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন। তারপর  সাদীপুর গ্রাম থেকে যখন আমাকে ইজিবাইকে করে থানার উদ্দেশ্যে  নিয়ে যাওয়ার পথে ইজিবাইক থামিয়ে আমার হাতে মুখে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে পা ও হাত দিয়ে আঘাত করে ও আমাকে বিভিন্ন ভাবে গালাগালি করে। এক পর্যায়ে আমি এস আই মনিরের কাছে আকুতি মিনুতি করলেও নির্যাতন বাড়িয়ে দেয়। থানায় পৌছানোর আগে অনেক জায়গায় ইজিবাইক থামিয়ে আমার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এস আই মনির ও এস আই হাবিব আমাকে জোড় করে স্বীকারোক্তি দিতে বলেন যে, একই গ্রামের বাসিন্দা চেকপোস্টের রাতুল স্টোরের মালিক শওকত আলী মাদক ব্যবসা করে তুই তাকেও  ফাঁসাবি ও তার নাম ওসির সামনে বলবি, তখন তারা শওকত আলীকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। এই কথায় আমি রাজি না হলে এসআই মনির আমাকে ইজিবাইকের মধ্যেই শারিরীক নির্যাতন করে। সইতুন বিবি বলেন, শওকত নিরীহ ব্যক্তি সে কোন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত নয় কেন আমি তাকে ফাঁসাবো, কিন্তু ঐ দুইজন পুলিশের কর্মকর্তা নাছোরবান্ধা, আমাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে থানায় নিয়ে ওসি সাহেবের সামনে শওকতের নাম বলতে বলে, আমি নিরুপায় হয়ে শওকতের নাম বলি যে ১০০ পিচ ইয়াবা শওকতের কাছ থেকে আমি কিনে এনেছি।

সইতুন বিবি সাংবাদিকদের জানান, এই মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেয়ার পর এক পর্যায়ে আমাদের দুইজনকে থানার মধ্যে আলাদা স্থানে নিয়ে যায় এবং বলে আমাদেরকে ছেড়ে দিবে কিন্তু ৮ লাখ টাকা দাবি করেন এসআই হাবিব ও মনির। দরকষাকষির পরে দুই লাখ টাকা দিতে রাজি হলে আমাকে হাজতখান থেকে ছেড়ে দেয়। তারা শওকত আলীর কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখায় যে টাকা না দিলে তোকে হেরোইন দিয়ে চালান দেয়া হবে। পরে শওকত আলীর সাথে ঐ দুইজন এসআই এর ৩ লাখ টাকার রফাদফা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল পোর্ট থানায় অবস্থান চাকরি করার সুবাদে সীমান্তের বিভিন্ন মাদক পয়েন্ট থেকে টোকেনের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। কেউ ভাল পথে আসতে চাইলেও পুলিশের নানা হয়রানিতে তারা মাদকের পথ পরিহার করতে পারছে না। সরকার যেখানে মাদক বন্ধে নানা পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে সেখানে বেনাপোল পোর্ট থানার কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তারা মাসিক চুক্তিতে মাদক ব্যবসায়ীদের উৎসাহ প্রদান করে চলেছে। ফলে বেনাপোল সীমান্তে মাদক ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে না।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, থানায় এ রকম কোন ঘটনা ঘটেনি। মাদক ব্যবসা বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। সেখানে এরকম ঘটনা ঘটার প্রশ্নই আসে না।

যশোরের নাভারণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানলাম। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যদি ঘটনার সত্যতা মেলে তবে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাদিক আহমদ, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শ্রীমঙ্গলে একই দিনে পিতা ও পুত্রের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী’র ছোট ভাই দেবব্রত চৌধুরী বিলু আজ দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রাজধানী ঢাকার এনাম মেডিকেল হাসপাতালে পরলোক গমন করেন।

অপরদিকে রাজধানীর অপর একটি হাসপাতালে প্রায় ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে অয়ন চৌধুরীর পিতাও মৃত্যুবরন করেন।তাদের পিতার নাম অরুণ চৌধুরী। তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে তাদের মরদেহ ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলে আনা হচ্ছে।

তাদের শেষকৃত্য আজ রাত ১১ টায়  পৌর-শ্মশান ঘাটে পিতার এবং ভাড়াউরা শ্মশান ঘাটে রাত ১২ টায় ছেলের অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।একই দিনে পিতা ও পুত্রের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

ডেস্ক নিউজঃ ফের গণমাধ্যম নিয়ে ক্ষ্রিপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম বলেন, ‘ভুয়া গণমাধ্যম জনগণের প্রধান শত্রু।‘ মঙ্গলবার ট্রাম্প তার ভেরিফাইড পেজে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে লেখা, আমাদের দেশে ভুয়া খবরের গণমাধ্যম গুলোই প্রকৃত বিরোধী দল। এরা প্রকৃতপক্ষে জনগনের শত্রু।ছবিতে আরো লেখা, আমরা অবশ্যই জার্নালিজম এবং রিপোর্টিংয়ে সততা ফিরিয়ে আনবো।

এর আগে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট তার দেশের অনেক গণ মাধ্যমকে কটাক্ষ করে আক্রমণ করেন। বিশেষ করে ট্রাম সংবাদসংস্থা সিএনএনকে বেশ কয়েকবার ভুয়া বলে আখ্যা দেন।

এছাড়া তিনি সিএনএনের এক সাংবাদিককে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করেছিলেন।ইত্তেফাক

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলের লোহাগড়ায় হাজেরা বেগম (৯৫) নামে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আল-আমিন ভূঁইয়া (২৫) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। সে সদর উপজেলার পাইকমারি গ্রামের সাইদ ভূঁইয়ার ছেলে। পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যা কান্ড ঘটে বলে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

উল্লেখ্য, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সারোল গ্রামে শুক্রবার (৪ জানুয়ারি) রাতের কোন এক সময়ে ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়। নিহত হাজেরা বেগম ওই গ্রামের মৃত আমীর হোসেন খানের স্ত্রী।
শনিবার ভোরে স্থানীয় লোকজন হাজেরার লাশ বাড়ির পাশের পুকুরের পাড়ে ঘাসের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আকরাম হোসেন বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করে।

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুরে করগ্রামের বড়জুরী ও ছোটজুরী জলারবন পর্যটকদের জন্য হতে পারে অন্যতম নির্দশন। সন্ধ্যা আসার তখনো অনেকটা সময় বাকি। কিন্তু হিজল, করই, ইকড় বিন্না ও পাখির কিছির মিছির ডাকে প্রকৃতির অপরুপ বাজনা বেজে উঠে করগ্রামের হাওরের বড় জুরী ও ছোট জুরী হাওর। মনে হয় যেন এখানে প্রকৃতির সর্বজনীন নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়েছে। ডাহুক, শামুকউজা, কানাবক, ঘুঘু, মাছরাঙা, বালিহাস সহ নাম না জানা বিচিত্র সব পাখীদের কলরবে মুখরিত চারদিক। সন্দ্যায় শিয়ালের হুক্কা হুয়া আওয়াজ সেটিকে করে তুলেছে আরও বেশি জীবন্ত। দর্শনীয় হাওরটি পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠতে পারে আর্কষনীয়৷
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শতবর্ষী অগণিত হিজল, করই গাছ মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া পুটিজুরী নদী। বর্ষায় কোমর পর্যন্ত পানিতে দাঁড়িয়ে থাকে গাছগুলো। মাথায় পাতার বিশাল ঝাঁপি নিয়ে সাধকের মতো যেন পাহারা দিচ্ছে পুরো জলারবনকে। ঘন ইকড় আর খাগ ও ছন থেকে থেকে ভেসে আসে শিয়ালের ছুটোছুটির শব্দ। শুকনো মৌসুমে দিনের বেলা মৎস্যজীবিদের মাছ ধরা এবং বোরো ধান চাষীদের চাষাবাধের তৎপরতা নেই কোন কমতি। সন্ধ্যা হতে না হতে শিয়াল সহ বন্য প্রানীদের বিচরন যেন মাতিয়ে রেখেছে। শিয়াল, নেউল কিংবা উদ বা বনবিড়ালরা বেরিয়ে পড়ছে রাতে খাবারের নেশায় । বনের ফাঁকের ছোট ছোট কুপে গজার, বোয়াল আর শোলমাছ শিকারীদের পাতানো ফাঁদ। সন্ধ্যার আগেই এখানে নেমে রাত্রির পুরো আয়োজন। প্রকৃতির এরকম বিচিত্র সব কারবার আর মনমাতানো সৌন্দর্য্যে দেখা মিলে কারগ্রাম ও চাল্লাইন হাওরের মায়াবী জলারবনটিতে।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এবং তৈল গ্যাসের জন্য সারা দেশের গন্ডি প্রেরিয়ে বিশ্ব জুড়ে বিখ্যাত। শ্রীপুর, সাইট্রাস গবেষনা কেন্দ্র, লাল শাপলার রাজ্য, হরিপুরের গ্যাসকুপ, সারী নদীর নীল জল, লালাখাল চা-বাগান, নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যরে কথা কে না জানে! ২০১৭ সালে একটি বে সরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনে প্রতিবেদন প্রচারের পর হতে স্থানীয় পর্যটকদের নিকট ভ্রমণের স্থানের তালিকায় নতুন করে জায়গা দখল করে করগ্রামের ’বড়জুরী ও ছোটজুরীর জলারবন’। চলতি বৎসর জুড়ে ভ্রমন পিপাসুরা ভিড় জমাচ্ছে বড়জুরী ও ছোটজুরী হাওরে। প্রকৃতির এ অসাধারণ বনে চারদিকে কেবলই মনমাতানো সৌন্দর্য্য। প্রকৃতি তাঁর অকৃপণ হাতে সাজিয়েছে বনটিকে। বর্ষায় চারদিকে অথৈ পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে হিজল, করচ, বরুণ, শেওড়া সহ দেশী পানিবান্ধব নানা প্রজাতির গাছ গাছালি। সে গাছ গুলোর ঝোপ জঙ্গলের নিবিড়তা অন্য যে কোন বনভূমির চেয়ে বেশি। গাছের মধ্যে আবার হিজলের সংখ্যা লক্ষ্যণীয় ভাবে বেশি। মানুষের ছোঁয়া বহির্ভূত সেসব গাছ তাঁর আদি রুপ অনেকটাই ধরে রেখেছে। এসবের মধ্যে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইকড় আর ছনের বন। যেন সাপ, বিচ্চু আর পাখীদের এক নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র।
বিলের পানির মধ্যে রয়েছে দেশীয় প্রজাতির নানা প্রকার মাছ। তাছাড়া উদবিড়াল, কচ্ছপ, গুইসাপসহ রয়েছে উভচর প্রাণী। বর্ষায় বাতাসের ঢেউয়ে যখন পানি আচঁড়ে বনের উপর, তখন এক অপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। শুস্ক মৌসুমে তার ব্যতিক্রম নয়। এছাড়া বনের মধ্যে নৌকায় করে এবং শুস্ক মৌসুমে সাইকেল যোগে গেলে মনে হবে- কোন দিক রেখে যে কোন দিকে তাকাবো! সামনে তাকালে মনে হয় পেছন দেখা দরকার, পেছনে তাকালে মনে হবে ডানপাশের বন মিস করছি! শুস্ক মৌসুমে অভিন্ন রুপ ধারন করে জলার বনটি। মৎস্যজীবিরা মাছ শিকারের পর বিল শুকিয়ে গেলেই তৈরী হয় অন্যন্য দৃশ্য যে দিকে থাকাবেন মনে হবে প্রকৃতি নিজ হাতে সাজিয়ে তৈরী করেছে বিশাল খেলার মাঠ। সবুজ ঘাসে ঢেকে যায় পুরো এলাকা দেখলে মনে হবে সবুজের একখন্ড বিছানা। সত্যিই এক অপূর্ব অসাধারনত্ব নিয়ে জলার বনটি নিজের আপনত্ব ধরে রেখেছে।
সরেজমিনে হাওরে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয় এলাকা সহ বিভিন্ন স্থান হতে আসা পর্যটকরা ঘোড়া, বাধ্যযন্ত্র নিয়ে মনের অনন্দে বনটির ভিতরে নেচে গেয়ে সময় কাটাচ্ছে কেউবা খেলা করছে। তাদের একজন কামাল আহমদ বলেন আমাদের বাড়ীর পাশ্বে মায়াবর্তী দৃশ্য নিয়ে হাওরের বনটি অবস্থিত। যখন সময় পাই তখন কিছু সময় বনটিতে ঘুরতে আসি এখানকার প্রকৃতি অত্যান্ত মনোমুগ্ধ কর। এছাড়া নাছির রাশেল, আব্দুল কুদ্দুছ, সফিকুল, মো. সুলেমান, শাহজালাল ভূইয়া ইমন সহ অনেকেই তাদের কথা বক্ত করতে গিয়ে বলেন, এই হাওরের এমন দৃশ্য রাতার গুলে নেই। শতবর্ষী গাছ এবং পাখির কিছির মিছির শব্দ খুব ভাল লাগেছে। বর্ষা এলে ফের এখানে ঘুরতে আসব। ঘুরতে আসা প্রবাসী সুলেমান বলেন, প্রবাসে থাকাবস্থায় বেসরকারী টিভি চ্যানেল-২৪ প্রতিবেদনটি দেখে বিশ্বাস হচ্ছিল না যে আমাদের করগ্রাম হাওরে এত সুন্দর জায়গা রয়েছে। তাই বাড়ীতে এসে বন্ধুদের নিয়ে একনজর দেখতে এসেছি। জায়গাটি এত মনোমুগ্ধকর যে আমার কাছে মনে হল টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদক যে টুকু সম্প্রচার করেছেন তার চাইতে অনেক অনেক বেশি সৌন্দর্য্য ছড়িয়ে রয়েছে। তবে বর্ষায় এলে হয়ত আরও ভাল লাগত।
গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বড়জুরী এবং ছোটজুরী নামক হাওর দুটি সরকারি মালিকানায় রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে পুটিজুরী নদী তার অনতিদূরে রয়েছে কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী অন্যপাশ্বে জৈন্তাপুর উপজেলার করগ্রাম চাল্লাইন সহ কয়েকটি গ্রাম। তবে মূলত: করগ্রামের লোকজন এটি ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশি। মিডিয়াতে না আসায় জলারবনটি এখনও পর্যটক ও বাইরের মানুষের কাছে অপরিচিত। বিশেষ করে এই এলাকার বাসিন্দারাও চায় না জলার বনটি পর্যটকদের দৃষ্টিতে পড়ুক। কারন অনুসন্ধানে জানাযায় বনটি পরিচিতি পেলে সরকার সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও স্থানীয় মানুষদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটিকে আরও সমৃদ্ধ সোয়াম্প ফরেস্ট করে ফেলবে। তাছাড়া সিলেট তামাবিল মহাসড়কের পূর্ব পাশ্বে হওয়ায় জাফলং শ্রীপুর লাল শাপলার রাজ্য এবং লালাখালে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বিড় জমাবে জলারবনটিতে। ফলে প্রকৃতির সুবিধা ভোগিরা নানা বিড়ম্বনায় পড়বে। তারা চায় কোন ভাবেই যেন এটি মানুষের কাছে আকর্ষণীয় পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্্ের পরিণত না হয়। তাদের নিজস্ব ইকোসিস্টেম ধবংসের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।
যাতায়াত: বর্ষায় সিলেট-তামাবিল সড়কের হেমু করিসের ব্রীজ কিংবা দামড়ী ব্রীজ হতে নৌকা যোগে ঘন্টা খানেক সময় পূর্ব দিকে এবং শুকনো মৌসুমে দরবস্ত বাজার হতে কানাইঘাট রাস্তা দিয়ে করগ্রাম রাস্তা ধরে ২০ থেকে ২৫ মিনিটেই পৌছা যায় হাওর দুটিতে। প্রায় ২ হাজার একর আয়তনের এ জলারবন তাঁর রুপের মাধুরী আর সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র নিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নিজের অস্তিত্ব ধরে আছে।
সেভ দ্য হেরিটেজ এন্ড এনভায়রনমেন্ট প্রধান সমন্বকারী আবদুল হাই আল-হাদী প্রতিবেদককে জানান, বড়জুরী ও ছোটজুরী নামক বিল দুটিকে পর্যটনের আওতাভূক্ত করা হয় তাহলে পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়বে। তার পাশাপাশি অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র গুলো কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় এর গুরুত্ব পর্যটকদের সুবিধা হবে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আর্কষনের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন প্রতিবেদককে জানান, আমাদের উপজেলায় বিভিন্ন প্রান্তে এরকম পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থান রয়েছে সেগুলোর মধ্যে এই হাওরটি অন্যতম। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন সহ উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। তিনি আরও বলেন পরিকল্পনা মাফিক এটি সাজিয়ে তুললে অন্যান্য জলার বনের চেয়ে এটি হয়ে উঠবে আরও আর্কষনীয়।

মিয়ানমারের সেনারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর আবারো হামলা শুরু করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকার আজ ঘোষণা করেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর তাদের সেনারা পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর দমন অভিযানের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাগুলো মিয়ানমার সরকারের প্রতি ওই দমন অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

বছর দেড়েক আগে রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং উগ্র বৌদ্ধদের অমানবিক হামলার ঘটনায় অন্তত ছয় হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হয়। আহত হয়েছিল ৮ হাজার এবং ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়।পার্সটুডে

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc