Thursday 24th of January 2019 12:11:51 PM

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলে শুরু হয়েছে “ইয়ং টাইগার্স অনুর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগীতা-২০১৮-১৯” । সোমবার সকাল ৯ টায় নড়াইল বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহম্মদ ষ্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজনে জেলা ক্রিড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় এ প্রতিযোগীতার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা। উদ্বোধনী খেলায় বাগেরহাট জেলা দল ৭৪ রানে সাতক্ষিরা জেলা দলকে পরাজিত করে।
বাগেরহাট প্রথমে ব্যাট করে ৪৭ ওভার ৪ বলে ১০ উইকেটে ১৭৮ রান করে জবাবে সাতক্ষিরা ৩৮ ওভার ১ বলে সব কয়টি উইকেট হারিয়ে ( ১০ উইকেট) ১০৪ রান করে।
জেলা ক্রিড়া সংস্থার ক্রিকেট কমিটির সভাপতি আয়ুব খান বুলুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা ক্রিড়া সংস্থার সহ- সভাপতি রওশন আরা কবির লিলি, অতিরিক্ত সাধারন সম্পাদক কৃষ্ণপদ সাহাসহ জেলা ক্রিড়া সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ ক্রিকেট প্রেমী বিভিন্ন শ্রেনী পেশারি মানুষ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রতিযোগীতায় বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও মাগুরা জেলা দল অংশ গ্রহন করছে।

স্টাফ রিপোর্টারঃ মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সাংসদ মো. শাহাব উদ্দিন বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে। শুধু দেশে নয় বিদেশেও এই খবরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রবাসীরা।
খবর পেয়ে রবিবার সন্ধ্যায় বড়লেখা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পৌরশহরে আনন্দ মিছিল, পথসভা এবং মিষ্টি বিতরণ করেন। তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সর্বস্থরের জনসাধারণ অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
অভিনন্দন জানান-মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুস শহীদ, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, সাবেক ভিপি আব্দুল মালিক তরফদার সোয়েব, মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ চাই ক্যাম্পেইন গ্রুপের উপদেষ্টা ড. ওয়ালি তসর উদ্দিন এমবিই, গ্রুপের এডমিন মোহাম্মদ মকিস মনসুর, মৌলভীবাজার সম্মিলিত সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ এর সভাপতি খালেদ চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক আলিম উদ্দিন হালিমসহ অন্যান্যরা। নতুন মন্ত্রীসভায় মৌলভীবাজারের মন্ত্রী পাওয়ায় উল্লাস ছড়িয়ে পরেছে বিদেশেও। গত ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের বিজয়ে বৃটেনের কাডিফে আনন্দ সভায় সভাপতির ভাষণে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সদস্য, ইউকে ওয়েলস আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ মকিস মনসুর এই দাবি তুলে ধরেন। মকিস মনসুর এর বক্তব্যের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দেশ বিদেশ থেকে ফেইসবুক ও ইউটিউবে এই দাবিতে আলোচনায় আসে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মন্ত্রী নেওয়ার দাবিতে মৌলভীবাজার মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পেইন গ্রুপ ও মৌলভীবাজার জেলা সম্মিলিত সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ এর পক্ষ থেকে গত ২ জানুয়ারি ইমেইল ও ডাকযোগে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবী তুলে ধরছেন নাগরিকরা। দাবী গুলো হচ্চে- মৌলভীবাজার মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার শহর, সিলেট নতুন রেল লাইন, মনু ও ধলাই নদীর বাধ পুন:নির্মাণ, মনু নদীর উপর নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণ, জেলার প্রধান সড়কগুলোকে চারলেনে উন্নীতকরণ, কারীগরী/পাবলীক বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন, সমশেরনগর বিমানবন্দরে অন্তত সাপ্তাহিক ফ্লাইট চালু, জেলার হাওরগুলোতে হাওর উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এই দাবীগুলো বাস্তবায়নে নতুন মন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদী জনসাধারণ।

জামাল হোসেন লিটন,চুনারুঘাট থেকে: হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছেন এডভোকেট মাহবুব আলী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। এ খবরে উচ্ছ্বসিত তার নির্বাচনী এলাকাসহ জেলাবাসী। জেলার মাধবপুর উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের বানেশ্বর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন মাহবুব আলী। বুনিয়াদী আওয়ামী রাজনৈতিক পরিবারেই বেড়ে ওঠা তার। বাবা প্রয়াত মাওলানা আসাদ আলী এ আসন থেকেই ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি। অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান ও সজ্জন নেতা হিসেবে তার সুখ্যাতি ছিল সর্বত্রই। আপামর সাধারণ মানুষের মাঝেও তিনি ছিলেন পরম শ্রদ্ধার পাত্র। গণমানুষের নেতা মাওলানা আসাদ আলীর ৫ ছেলে ও ২ মেয়ের মাঝে এডভোকেট মাহবুব আলী চতুর্থ। তিনিও বাবার মতোই সততা ও নিষ্ঠায় অতি অল্পদিনেই সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। স্থানীয় আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও বিএ পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

এরপর ১৯৭৯ সালে তিনি ঢাকা বারের সদস্য পদ লাভ করেন। একইসঙ্গে তিনি সেখানে আইন পেশায় মনোনিবেশ করেন। অতি অল্প দিনেই বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি অর্জন করেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করে নেন। দলের হয়ে ছাত্র রাজনীতি থেকেই বিভিন্ন সময় আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেই তাকে সহকারী এটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয়। ১৯৯৮ সালে তিনি এ পদ ছেড়ে দেন।

২০০৩-২০০৪ মেয়াদে তিনি সুপ্রীম কোর্ট বারের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তি জীবনে এডভোকেট মাহবুব আলী দুই মেয়ের জনক। বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছেন। আর ছোটজন আইন বিষয়ে অনার্স পড়ছেন।

বেনাপোল প্রতিনিধি: ভালো কাজের প্রলোভনে বিভিন্ন সময় ভারতে পাচার হওয়া সাত কিশোরকে দেড় বছর পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আইনে যশোরের বেনাপোলে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।সোমবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় ভারতের পেট্রাপোল ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিপি ক্যাম্পের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের কাছে সোপর্দ করে।
বিজিবি সদস্যরা আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশে সোপর্দ করলে সেখান থেকে রাইটস যশোর নামে একটি এনজিও সংস্থা গ্রহণ করেছে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
ফেরত আসা কিশোররা হলো- নড়াইলের কুড়লিয়া গ্রামের শওকত শেখের ছেলে রিয়াদ শেখ (৭), গোপালগঞ্জের খায়েরহাট জলকর পাড়ার শাহিন শরিফের ছেলে হৃদয় আলনুর (৮), পাবনার মশুরিয়া পাড়ার কিরন চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে দীপ বিশ্বাস (৮), খুলনার মধুপুর গ্রামের ওমর শিকদারের ছেলে রোমান শিকদার (৯), দৌলতপুর গ্রামের মোশারেফ খানের ছেলে বাদল খান (৮), বাগেরহাটের মোংলাপোর্ট এলাকার রাসেল খানের ছেলে রাহাদ খান (৯) ও ঢাকার মিরপুর পীরেরবাগ এলাকার ইলিয়াসের ছেলে সৈয়দ ফাতি (১১)।
রাইটস যশোরের তথ্য ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান জানান, বিভিন্ন সময় পাচারকারীরা এসব শিশু-কিশোরদের ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে যায়। অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে আদালতে পাঠায়। পরে ভারতের উত্তর ২৪ পরগঁনার কিশোলয় নামে একটি এনজিও সংস্থা তাদের ছাড়িয়ে নিজেদের জিম্মায় রাখে। পরে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের মাধ্যমে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আইনে তাদের ফেরত পাঠায়।
বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিপি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার আবুল কাশেম ৭ কিশোর ফেরত আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: জৈন্তাপুর মেগালিথ (প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রকান্ড প্রস্তর নিদর্শন) যুগের ধ্বংসাবশেষের জন্য খ্যাত। সিলেট বিভাগীয় শহর থেকে ৪০ কি.মি. উত্তরে ও জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে এটি অবস্থিত। অঞ্চলটির উত্তর ও পূর্ব দিকে রয়েছে অসংখ্য পাহাড়, সূতপ ও উপত্যকা এবং পশ্চিম ও দক্ষিণাংশে রয়েছে নিচু সমতল ভূমি ও অসংখ্য জলাশয়, যা আঞ্চলিক ভাবে হাওড় হিসেবে পরিচিত। প্রাচীন যুগে বর্তমানের এ নিচু অঞ্চলটি সম্ভবত পানির নিচে ছিল এবং হয়তবা কোনো একটি জলাশয় দ্বারা সে সময় জৈন্তাপুর সিলেট থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। অঞ্চলটির ভূতাত্ত্বিক গঠনের জন্যই এটি দীর্ঘ দিন স্বাধীন ছিল এবং জৈন্তাপুর রাজ্য হিসেবে সুপরিচিত ছিল।

এভাবেই এ অঞ্চলটি মহাকাব্য, পৌরাণিক কাহিনী ও তান্ত্রিক সাহিত্যে উল্লেখিত রয়েছে। স্থানীয় জনশ্রুতি, লোক গাঁথা ও তা¤্র শাসনে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে, আনুমানিক সাত-আট শতকে জৈন্তাপুর কামরূপ রাজ্যের অধীনে আসে এবং পরবর্তী কালে এটি চন্দ্র ও বর্মণ শাসকদের শাসনাধীন হয়। বর্মণদের পতনের পর জৈন্তাপুর পুনরায় কিছু সময়ের জন্য দেব বংশের শাসনাধীন ছিল। দেব বংশের শেষ শাসক জয়ন্ত রায়ের এক কন্যার নাম ছিল জয়ন্তী। তাঁর এ কন্যার সাথে খাসি উপজাতীয় প্রধানের এক পুত্র লান্দোয়ারের বিয়ে হয়। এ বৈবাহিক সূত্র ধরে জৈন্তাপুর রাজ্য আনুমানিক ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে খাসিয়াদের শাসনাধীনে চলে যায়। ১৮৩৫ সালে ব্রিটিশ কর্তৃক দখল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত জৈন্তাপুর রাজ্য স্বাধীন ভাবে খাসি রাজাদের দ্বারা শাসিত হতে ছিল।


জৈন্তাপুরের সাংস্কৃতিক ধ্বংসাবশেষের মধ্যে বিধ্বস্ত রাজবাড়ী, জৈন্তেশ্বরী মন্দির এবং প্রস্তর নির্মিত স্মৃতিসৌধ সমূহ উল্লেখযোগ্য। ১৬০২শক / ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে জৈন্তা রাজা লক্ষ্মী সিংহ (১৬৭০-১৭০১খ্রি.) কর্তৃক নির্মিত প্রাসাদটি বর্তমানে সম্পূর্ণ ধ্বংস প্রাপ্ত। জৈন্তেশ্বরী মন্দিরটির প্রধান অবকাঠামোটিও অত্যন্ত করুণ ভাবে দুর্দশাগ্রস্ত। মন্দির কমপ্লেক্সটির বেষ্টনী দেওয়ালটি অপেক্ষাকৃত ভাল অবস্থায় সংরক্ষিত হলেও বর্তমানে এটি প্লাস্টার রিলিফ সহযোগে অলংকৃত হওয়ায় এর আদিরূপ হারিয়েছে। নকশার মধ্যে ঘোড়া, সিংহ এবং পাখাওয়ালা অর্ধ-পরীর মতো বিভিন্ন বস্তু অঙ্কিত। এছাড়াাও সাংস্কৃতিক ধ্বংসাবশেষের মধ্যে প্রাপ্ত কিছু প্রস্তরনির্মিত স্মৃতিসৌধ উল্লেখের দাবিদার। সাধারণত বড় ও ছোট পাথর খন্ড দ্বারা সমাধিস্থল বা স্মৃতিসৌধ নির্মিত। সমগ্র এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ জুড়ে এ ধরনের নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়।

 ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে এগুলি প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। অতীত সংস্কৃতি পুনর্গঠনে এগুলির গঠন ও স্থানভেদে বিন্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত মেগালিথ ধ্বংসাবশেষ একমাত্র জৈন্তাপুরেই রয়েছে। জৈন্তাপুরে প্রাপ্ত কাঠামো সমূহের বৈশিষ্ট্য মোটামুটি ভাবে ভারতের অন্যান্য স্থানে প্রাপ্ত নিদর্শন গুলির প্রায় কাছাকাছি। প্রধানত দু’ধরনের মেগালিথ মেনহির (গবহযরৎ) ও ডলমেন (উড়ষসবহ) জৈন্তাপুরে বিদ্যমান। মেনহির গুলি সাধারণত উঁচু উলম্ব পাথর খন্ড এবং এগুলি কোনো সুনির্দিষ্ট আকার ও গঠনের হয় না। পাথরের স্ল্যাব গুলি অনুভূমিক ভাবে ডলমেন নামক দুই অথবা অধিক পাথরের পায়য়ার উপর স্থাপিত। জৈন্তাপুরে সব মিলিয়ে ২৫টি মেনহির ও ৩২টি ডলমেন পাওয়াা গেছে। ৩২টি ডলমেনের মধ্যে ১১টি এখনও অক্ষত। মেগালিথ গুলিকে এলাকা ভিত্তিক বিন্যাসে নিম্ন লিখিত শ্রেণিতে বিভক্ত করা। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের ওপর জৈন্তাপুর বাস স্টেশন সংলগ্ন জৈন্তেশ্বরী বাড়ীর সামনে অবস্থিত। মেনহির ও ডলমেন গুলো তিনটি শ্রেণীতে শনাক্ত করা হয়।


(১) মন্দির নিকটবর্তী স্থাপিত মেগালিথ গুলির মাঝে ৯টি মেনহির এবং ১০টি ডলমেন। মেনহির গুলির গড় উচ্চতা ২.৪ মি.। সর্ববৃহৎ ডলমেনটি ৩.৫ মি দীর্ঘ এবং ২.৬২ মি প্রস্থ। (২) এ রীতির মেগালিথ গুলি জৈন্তেশ্বরী মন্দিরের পাশে শহীদ মিনারের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে ৮টি মেনহিরের গড় উচ্চতা ২.৬৭ মি.। বর্তমানে ডলমেনের সংখ্যা নির্ধারণ করা অসম্ভব, কেন না এগুলি অসংখ্য খন্ড খন্ড টুকরোয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। (৩) তৃতীয় শ্রেণির নিদর্শন গুলি মন্দিরমুখী মহাসড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত। এর মধ্যে ৩টি মেনহির ও ২টি ডলমেন বিদ্যমান। সর্ববৃহৎ মেনহিরটি ১.৬০মি.উঁচু। ৪মি.☓৩.৮মি. পরিমাপের একটি ডলমেন মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। অন্যটি জৈন্তাপুরের মেগালিথের মধ্যে সর্ববৃহৎ। এটি ৬.৫ মি. দীর্ঘ ☓৫.২মি. প্রস্থ এবং ৯টি পায়ের উপর অনুভূমিক ভাবে শায়িত আছে।


চাঙ্গীল বা মুক্তাপুর শ্রেণি এ শ্রেণির মেগালিথ গুলি মন্দিরের আনুমানিক ১.৫কিমি. উত্তর-পশ্চিমে নয়াগাং নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। যদিও ১৯৪৮ সালে এ শ্রেণীর ৪টি মেনহির ও ১৯৬০ সালে ৭টি ডলমেন ছিল, বর্তমানে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ীয়েছে যথাক্রমে ৩ ও ৪টিতে। অক্ষত দুটি মেনহিরের উচ্চতা ৪.৫৮মি.☓৪.৫৫মি. এবং তাদের মধ্যে একটির উপরের অংশে একটি ত্রিশূল খোদিত রয়েছে। ডলমেন গুলি বহুধা বিখন্ডিত এবং সে কারণে পরিমাপের অযোগ্য। এগুলি ৪/৫টি পায়ের উপর অনুভূমিক ভাবে শায়িত আছে।


খাসি গ্রাম বা মধুবন আবাসিক এলাকা শ্রেণী এ শ্রেণীর কাঠামো গুলি মন্দির থেকে ১ কিমি. দক্ষিণ-পূর্বে খাসি গ্রামে অবস্থিত। এখানে ২টি মেনহির ও ২টি ডলমেন আছে। পূর্বের মেনহিরটি ভেঙ্গে পড়েছে, যার উচ্চতা ২.৪০ মিটার। পশ্চিম দিকের মেনহিরটি ৩.৫০ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট। উভয় মেনহিরই নিচের দিকে পদ্ম এবং উপরের দিকে যথাক্রমে চক্র ও ত্রিশূল চিহ্ন সম্বলিত। পূর্বদিকের ডলমেনটি প্রায়-আয়তাকার (১.৬৫মি.☓১.১মি.) এবং পশ্চিম দিকেরটি প্রায়-বর্গাকার (১.৬০মি.☓১.৫৫মি.)। প্রত্যেকটি ৪টি উলম্ব পায়েরর উপর শায়িত আছে। তাদের উপরের দিকে এবং অর্ধবৃত্তাকার কিনারায় খোদাইকৃত লাইন ড্রইং রয়েছে।


জৈন্তাপুরে মেনহির ও ডলমেন গুলির স্থাপন প্রক্রিয়ায় একে অপরের সাথে নৈকট্য বজায় রাখলেও তাদের স্থাপনায় কোনো নিয়মরীতি বজায় রাখা হয়নি। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, একটি রীতিতে মেনহির গুলি ডলমেনের উত্তর প্রান্তে, অন্য গুলি কোনোটি দক্ষিণ বা পূর্ব প্রান্তে স্থাপিত। মেনহির গুলি সাধারণত উপরের দিকে ক্রমশ হ্রাসমান চতুর্ভুজাকৃতির বেলে পাথরের স্তম্ব¢। যদিও কোনো কোনোটিতে চতুর্ভুজাকার আচ্ছাদন রয়েছে। মেনহির গুলির মধ্যে সর্বোচ্চটি ৪.৫৮মি (চাঙ্গিল শ্রেণী) উচ্চতা বিশিষ্ট এবং সবচেয়ে খাটো মেনহিরটি ০.৫০ মি উঁচু (জৈন্তেশ্বরী মন্দির শ্রেণী) এবং তাদের প্রশস্ততা ০.৪০মি. থেকে ০.৩০ মিটারের মধ্যে। সর্বাপেক্ষা ছোট ডলমেনটির পরিমাপ (১.৬৫মি.☓১.১০মি.)। অক্ষত ১১টি ডলমেনের আকৃতিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

তাদের মধ্যে ৮টি প্রায়-আয়তাকার, দুটি প্রায়-বর্গাকার এবং একটি গোলাকার। যদিও সব গুলিই অনুভূমিক ভাবে ক্ষুদ্র স্তম্ব বা পায়ের উপর শায়িত, আর পায়ের সংখ্যাও ৩,৪,৫ বা ৯টি। তবে চার পায়ের ডলমেন সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। জৈন্তেশ্বরী মন্দির ধারার ডলমেন ব্যতীত সবগুলি ডলমেনের পায়া অমসৃণ এবং ভিন্ন ভিন্ন আকারের। জৈন্তেশ্বরী মন্দিরের ডলমেনের মসৃণ পাগুলি গোলাকার এবং বন্ধনী অলঙ্করণ সমৃদ্ধ। স্থানীয় জনগণের নিকট থেকে জানা যায় ডলমেনের স্ল্যাাবের উপরিতল ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের খেলাধুলা থেকে লাইন-ডায়াগ্রাম সমূহ খোদিত হয়েছে। যদি তাদের এরূপ ডায়াগ্রাম পূর্ব থেকেই থাকত, তাহলে পরবর্তী যুগে পুনরায় এর ব্যবহার দেখা যেত।


জৈন্তাপুর মেগালিথের সঠিক তারিখ নিরূপণ করা সম্ভবপর নয়, এর কারণ এখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খননকার্য পরিচালনা করা হয়নি, যার মাধ্যমে তারিখ জানা যায়। প্রত্ন তত্ত্ব বিদগণ প্রমাণ করেছেন যে, উত্তর-পূর্ব ভারতের মেগালিথ সংস্কৃতির সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মেগালিথ সংস্কৃতির নিবিড় সান্নিধ্য রয়েছে। আর এটি সম্ভব পর হয়েছে অস্ট্রো-এশিয়াটিক জাতি সমূহের অভিবাসনের কারণে। এ অভিবাসন প্রক্রিয়া ইঙ্গিত দেয় যে, খাসিরা নবোপলীয় যুগের শেষের দিকে এ অঞ্চল  টিতে আসে। খাসিয়া পাহাড়ের মার্কোদোল প্রত্ন স্থল থেকে একমাত্র কার্বন-১৪ (ঈ-১৪) পরীক্ষায় যে সময় পাওয়া যায় তা হচ্ছে ১২৯৬ ক্ট ১০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দের এবং একে নবোপলীয়োত্তর যুগের বলে ধরা যায়। জৈন্তাপুরের মেগালিথের চর্চা শুরু হয়েছে সম্ভবত এর সমসাময়িক যুগে অথবা সামান্য কিছু পরে।


মেগালিথিক ব্যাপারে জানাতে চাইলে সেভ দ্য হেরিটেজ এন্ড এনভায়রনমেন্টের প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল হাই আল হাদী জানান- মেগালিথিক বাংলাদেশের এক অনুপম সাংস্কৃতিক নিদর্শন। পৃথিবীর যে কয়েকটি স্থান মেগালিথিকের জন্য বিখ্যাত, তার মধ্যে নিজপাট অন্যতম। এগুলোর সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা সত্যিই জাতি হিসেবে আমাদের লজ্জিত করে। তাই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, পর্যটন কর্পোরেশনসহ সবাইকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয় মানুষদের মধ্যেও এগুলোর ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

নিয়মানুযায়ী প্রথমে প্রধানমন্ত্রী এবং পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা শপথ নেন।মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।শপথ অনুষ্ঠানে পদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, কূটনীতিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ অতিথিদের দাওয়াতপত্র পাঠানো হয়েছে বলেও জানায় ওই সূত্র।

এর আগে রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ৪৭ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভার নাম এবং দফতর বণ্টনের কথা জানানো হয়।এবারই প্রথমবার শপথের আগে মন্ত্রীদের তালিকা ও দফতর বণ্টনের কথা জানিয়ে দেয়া হয়।

নতুন ও পুরনোর সমন্বয়ে গঠিত শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় এবার ২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী থাকছেন।বিদায়ী সরকারে থাকা ৩৬ জনের নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি। আর নতুন সরকারের প্রথমবারের মতো সরকারের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন ৩১ জন।

এবার মহাজোটের শরিক দলের কোনো নেতাকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। শুধু আওয়ামী লীগ নেতারাই থাকছেন মন্ত্রিসভায়

“রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এলোপাতারি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ফেলে যাওয়ার পরও যিনি বেঁচে যান তিনি আজ মন্ত্রী” 

বিক্রমজিত বর্ধনঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থেকে যাত্রা শুরু করে সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদের হুইপ এর দায়ীত্ব পালন করে এখন পৌঁছেছেন মন্ত্রী পর্যন্ত। তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব নিবেন। তিনি মৌলভীবাজার ১ আসনের সাংসদ শাহাবউদ্দিন এমপি।
১৯৮৪ সালে প্রথম মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। ওই নির্বাচনের পর রাজনীতির মাঠে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একটানা ৩ বার ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসেন তিনি। শত্রুরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে যায়। সে ঘটনা নিয়ে সিলেটের নির্বাচনী জনসভায় স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১৯৯৬ সালের প্রথম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমানকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ এর নির্বাচনে হেরে গেলেও ২০০৮ এ আবারও সাংসদ নির্বাচিত হন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদে এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে পরপর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মো. শাহাব উদ্দিন।
ধারাবাহিক রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধি, সৎ এবং সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা মো. শাহাব উদ্দিন মন্ত্রী হচ্ছেন একাদশ জাতীয় সংসদে। তিনি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হচ্ছেন। এর আগে দশম সংসদের সরকারদলীয় হুইপের দায়িত্ব পালন করেন।
তার মন্ত্রী হওয়ার খবরে এলাকায় বইছে আনন্দের বন্যা। শাহাব উদ্দিনের মন্ত্রী হওয়ার খবরে বড়লেখা-জুড়ী উপজেলার ১ পৌরসভাসহ ১৬টি ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণের মাঝে দেখা দিয়েছে আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর উল্লাস।
রোববার দুপুরে শাহাব উদ্দিন পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন এই খবরটি তার নির্বাচনী এলাকায় প্রচার হয়। প্রথমবারের মতো জেলার এই আসনে পূর্ণ মন্ত্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। দক্ষিণবাজার এলাকায় নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করেন। এরপর পৌর শহরে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ ও মিছিল করার খবর পাওয়া গেছে।
চারবারের নির্বাচিত সৎ, সজ্জন এই সংসদ সদস্যকে এবার পূর্ণমন্ত্রী করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কৃপণতা করেননি তার নির্বাচনী এলাকার লোকজনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ এমপি, পৌর মেয়র ফজলুর রহমানসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অভিনন্দ জানিয়েছেন শাহাব উদ্দিনকে।
নিজের এই অর্জনকে জেলার সবার উল্লেখ করে মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, আমার উপর আস্থা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা। দায়িত্ব পালনে তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

 

 

বিক্রমজিত বর্ধন, নিজস্ব প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ঢাকা-সিলেট সড়কে সখিনা সিএনজি পাম্প সংলগ্ন এলাকায় এনা পরিবহনের বাস ও বাংলাদেশ পার্সেল কুরিয়ার সার্ভিসের কভার্ড ভ্যান এর মুখোমুখি সংঘর্ষে এক সড়ক দূর্ঘটনা  ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলস্থ হাইওয়ে পুলিশ এ সড়ক দূর্ঘটনাটি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়রা জানায় সোমবার আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০ টায় সিএনজি গ্যাস পাম্প সংলগ্ন ঢাকা-সিলেট সড়কে সিলেটগামী এনা বাস ও ঢাকাগামী বাংলাদেশ পার্সেল কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এ সড়ক দূর্ঘটনায় চালকসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতরা হলেন রাজশাহীর আনিসুর রহমান, নাটোরের হানিফ বেপারি, শ্রীমঙ্গলের করিম মিয়া।
আহতদের ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রেরণ করেছে।

আহতদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হচ্ছে।

হাবিবুর রহমান খান,জুড়ীঃ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম গোয়ালবাড়ী এলাকার মোঃ বাচ্ছু মিয়া (আবুল) এর ছেলে কাওছার আহমদ (১৫) এই ছেলেটি গত সপ্তাহে গাছ থেকে পড়ে মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে বর্তমানে সিলেট উসমানী মেডিকেলের ১১নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে। তার কোমর ভেঙ্গে গেছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাই অপারেশন করাতে হবে। অপারেশন করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন যা পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
তাই তার বাবা সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করে দয়া করে ছেলেটির চিকিৎসা খাতে আর্থিক সহযোগিতা করার আবেদন জানিয়েছেন,কেননা মানবিক দৃষ্টি, একটু সাহায্যে বাঁচাতে পারে একটি জীবন সুখি হতে পারে একটি পরিবার। 

নোট-মানবিক কারনে সংবাদ প্রকাশ ছাড়া আর কোন দায়িত্ব আমার সিলেট গ্রহন করবেনা।

সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর টানা তৃতীয়বারের মতো মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। সোমবার শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা।

৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছে বেশ কয়েকজন নতুন মুখ। বাদ পড়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা।এবার শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী থাকছেন ৩ জন। বিগত মন্ত্রিসভার ২৫ মন্ত্রী, ৯ প্রতিমন্ত্রী ও ২ উপমন্ত্রী এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন শরিক দলের কেউ মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি।

পূর্ণ মন্ত্রীদের নামের তালিকা:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ।

১. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়: আ ক মোজাম্মেল হক

২. সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়: ওবায়দুল কাদের

৩. কৃষি মন্ত্রণালয় : মো. আব্দুর রাজ্জাক

৪. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: আসাদুজ্জামান খান কামাল

৫. তথ্য মন্ত্রণালয়: মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ

৬. আইন বিচার ও সংসদ বিষয় মন্ত্রণালয়: আনিসুল হক

৭. অর্থ মন্ত্রণালয় : আহম মুস্তফা কামাল

৮. স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় : মো. তাজুল ইসলাম

৯. শিক্ষা মন্ত্রণালয়: ডা. দীপু মনি

১০ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: এ. কে আব্দুল মোমেন

১১. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়: এম এ মান্নান

১২. শিল্প মন্ত্রণালয়: নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন

১৩. বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রণালয়: গোলাম দস্তগির গাজী

১৪. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়: জাহিদ মালিক

১৫. খাদ্য মন্ত্রণালয়: সাধন চন্দ্র মজুমদার

১৬. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: টিপু মুনসি

১৭. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়: নুরুজ্জামান আহমেদ

১৮. গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়: শ ম রেজাউল করিম

১৯. পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়: মো. শাহাবুদ্দীন

২০. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়: বীর বাহাদুর উশেশিং

২১. ভূমি মন্ত্রণালয়: সাইফুজ্জামান চৌধুরী

২২. রেলপথ মন্ত্রণালয়: মো. নুরুল ইসলাম সুজন

২৩. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়: ইয়াফেস উসমান

২৪. ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়: মোস্তফা জব্বার

প্রতিমন্ত্রীদের নামের তালিকা:

কামাল আহমেদ মজুমদার (শিল্প মন্ত্রণালয়),

ইমরান আহমেদ (প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়),

জাহিদ আহসান রাসেল (যুব ও ক্রীড়া),

নসরুল হামিদ (বিদ্যুৎ ও জ্বালানি),

আশরাফ আলী খান খসরু (মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ),

মন্নুজান সুফিয়ান (শ্রম মন্ত্রণালয়),

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ),

জাকির হোসেন (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা),

শাহরিয়ার আলম (পররাষ্ট্র),

জুনায়েদ আহমেদ পলক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি),

ফরহাদ হোসেন (জনপ্রশাসন),

স্বপন ভট্টাচার্য (স্থানীয় সরকার),

জাহিদ ফারুক (পানিসম্পদ),

মো. মুরাদ হাসান (স্বাস্থ্য),

শরীফ আহমেদ (সমাজকল্যাণ),

কে এম খালিদ (সংস্কৃতি),

এনামুর রহমান (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ),

মাহবুব আলী (বিমান),

শেখ মো. আবদুল্লাহ—টেকনোক্র্যাট (ধর্ম)।

উপমন্ত্রীদের নামের তালিকা:

হাবিবুন নাহার (পরিবেশ),

এ কে এম এনামুল হক শামীম (পানিসম্পদ),

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (শিক্ষা

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc