Sunday 16th of June 2019 03:46:43 PM

আওয়ামী সরকার একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করার কারণে ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের উদ্যোগে জামেয়া মদীনাতুল উলূম দারুস সালাম মাদ্রাসায় এতিম ছাত্রদের ছাত্রাবাসে দোয়া ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক জুবের খান, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী মোঃ জুনু মিয়া, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব এম.এ মুগনী খোকা, সাধারণ সম্পাদক হাজী কুতুব উদ্দিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান পাপ্পু, মহানগর যুবলীগের সিনিয়র সদস্য রিমাদ রুবেল, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সদস্য ফজলুল হক, ৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ইফতেখার হোসেন সুহেল, সাধারণ সম্পাদক সাকারিয়া হোসেন সাকির, মহানগর শ্রমিকলীগ নেতা ফরিদুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসায় সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ। মোনাজাত পরিচালনা করেন দারুস সালাম মাদ্রাসার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম।

মোনাজাতকালে দেশ ও জাতির কল্যাণ প্রার্থনা করে প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য এবং দেশ যাতে আরো উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায় সেই কামনা করা হয়। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন সহ সারা দেশে নৌকার প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় দেশবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সিলেট মহানগর ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ। এসময় নেতৃবৃন্দ উৎসব মুখর পরিবেশে বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরোয়া পরিবেশে মিষ্টি মুখ করেন। ১লা জানুয়ারি সিলেট মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আলম খান মুক্তি মহানগর যুবলীগের সকল নেতৃবৃন্দকে মিষ্টি মুখ করান। নগরীর হাফিজ কমপ্লেক্সে সন্ধ্যায় এ উপলক্ষে এক সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্টিত হয়।

হাবিবুর রহমান খান,জুড়ী: মৌলভীবাজারের জুড়ী সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের হাকালুকি হাওরে জমি নিয়ে সংঘর্ষে একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এই ঘটনাটি গটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর ইউনিয়নের কালীনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুর হাকালুকি হাওরে জমিতে ধান রোপন করেন। প্রতিপক্ষ একই গ্রামের বাসিন্দা ফাতির আলী উক্ত জমি নিজেদের দাবি করে ধান উপড়ে ফেললে উভয় পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে জায়ফরনগর গ্রামের আকবর আলীর পুত্র তাহির আলী (৫৫) ঘটনাস্থলে মারা যান।

এছাড়াও এখলাছ মিয়া, চান মিয়া, আব্দুল মালিক, আব্দুল খালিক, আনু মিয়া, নাইম মিয়া, ফাতির আলী, লিয়াকত আলী, তুহিন, সেবু মিয়া, খসরু মিয়া, সেবুল মিয়া, লেবু মিয়া ও আব্দুল লতিফসহ উভয় পক্ষের ১৫জন আহত হন।

এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় লিয়াকত আলী, ফাতির আলী, তুহিন ও নাইমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকীদের কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে জুড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উভয় পক্ষের ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম তোফা: সুজল-সুফলা শস্য শ্যামলা আবহমান গ্রাম বাংলার মাটি ও মানুষের ‘প্রিয় কবি’ বা পল্লী কবি জসীম উদ্দীন এবং জীবনানন্দ দাশের অনেক কবিতায় গ্রামের জনজীবনের শাশ্বত রঙিন রূপের অবয়বকেই যুক্ত করে সুগভীর নান্দনিকতায় সমসাময়িক জীবন চিত্রের বিভিন্ন রূপরেখা সময়ের নাগর দোলায় দুুুুলিয়ে যেন মানবআত্মায় বাদ্যযন্ত্রের ঝংকারে এক স্পন্দনের আবহ ফুটিয়েছিল।

গ্রামীণ বৈচিত্র্যের এমন অনিন্দ্য স্পন্দন সমসাময়িক এবং অতীতের সুরেলা বাদ্যযন্ত্র গুলোকে নিয়ে বৃত্তাকারে ঘুরে ফিরে- সামাজিক জীবন, অর্থনৈতিক জীবন ও প্রাকৃতিক জীবনকে অনেকাংশেই সচল রেখেছে। তাই তো- বাঙালির আচার আচরণে, ঘরে ও বাইরে, গ্রামে ও গঞ্জে, মেলা-খেলায়, হাটে ও ঘাটে দৈনন্দিন জীবনচক্রে গ্রামাঞ্চলের জনপ্রিয় লোকজ সংস্কৃতির অনেকগুলো বাদ্য যন্ত্রের চর্চা অক্ষুন্ন রেখেছে এবং তার বৈচিত্রময় আবহ আর শব্দের মুর্ছনাকে গ্রামীণ জনপদের মানুষেরা খুবই সমাদৃত করে রেখেছে।
মানব সভ্যতার ধারাবাহিকতায় ঐতিহ্য পূর্ণ ভাবেই লোকজ ধারার বাদ্য যন্ত্রের ইতিহাস প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে নব্য যুগের মধ্য দিয়ে যেন আরও সময়ের ধারাবাহিকতায় নানা রূপান্তর চক্রের পরে এ সময়ে এসে গ্রামাঞ্চলের মানুষের হাতে হাতেই বহু লোকজ বাদ্যযন্ত্র শোভা বর্ধন হয়েছে। তাই সংস্কৃতির প্রত্যেক অঙ্গনে লোকজ পুংখানুপুংখ ব্যবহার করেই গ্রামীণ অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করছে।
আদিম মানব জাতি লজ্জা নিরারণের জন্যে গাছের ছাল-বাকল, লতা-পাতা পরেই “ঢাক-ঢোল” বাজিয়ে উৎসব মুখর ভাবে নানা ঢঙ্গেই সেই সময়ে বিনোদন করেছিল। তার পর আস্তে আস্তেই যেন, সংযোজন-বিয়োজনের একপর্যায়ে এসে বিভিন্ন লোকজ বাদ্য-যন্ত্র গ্রামীণ মানুষের দোরড়গোড়ায় পৌঁছেছে। তাই, এমন মানুষের জীবনাচরণে অনেক পরিবর্তন এনে আজকের জনপ্রিয় লোকজ সংস্কৃতির বাদ্যযন্ত্র খুব শ্রুতি মধুর হয়ে উঠেছে এবং তাকে নিয়ে আজ যেন গ্রামীণ জনপদের হতদরিদ্র মানুষরা বিভিন্ন প্রকার গানের সহিত বাজিয়ে পুলকিত হচ্ছে। মদ্দা কথা তা হলো, শিকড় এবং গোড়ার আদলেই সৃষ্টি আজকের গ্রামীণ জমতার মিউজিক কিংবা বাদ্যযন্ত্র সবগুলো লোকজ বাদ্যযন্ত্র।
এমন এই বাদ্যযন্ত্রের সমাহারে গ্রামাঞ্চলের মানুষরা লাঠি খেলায়, কিচ্ছা কাহিনীতে, যাত্রা ও জারিগানে, বিয়ের অনুষ্ঠান, নৌকাবাইচ, পুতুলনাচ ও সার্কাসের রঙ্গমঞ্চ, বাউল গান সহ বনভোজনের আয়োজনেও বিনোদন পূর্ণ ভাবে লোকজ বাদ্যযন্ত্রের ‘ঢং বা ধারা’ অব্যাহত রয়েছে। শীতকাল এলেই যেন তাদের নানা ধরনের কর্ম বা আচার আচরণের আনুষঙ্গিতায়, বর কনের গায়ে হলুদে গীত গাওয়া, আবার বিয়ের পরে দিরা গমন, একেক অঞ্চলের বিয়েতেই একেক রীতি অবলম্বনেই বাদ্যকররা বিভিন্ন- ‘লোকজ’ বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার করে। কনে প্রথমেই শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার সময় নানি দাদি কিংবা প্রবীণ কারও সঙ্গে যাওয়ার বিভিন্ন রেওয়াজেও ‘বাদ্যযন্ত্র’ বাজিয়েই পরিবেশকে অনেকাংশে উৎসবমূখর করে তোলে। সুতরাং শীত আমেজেই গ্রামাঞ্চলের সহজ সরল হতদরিদ্র মানুষ বিনোদন করে থাকে।
লোকজ বাদ্যযন্ত্রের বিশাল আয়োজনকে যদি তুলে ধরতে চাই, প্রথমেই আসে আবহমান বাংলার “শুভ নববর্ষ”। নববর্ষ, ২৬ মার্চ বা ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষেই সাধারণত শীত মৌসুমেই গ্রামীণ জনতার সম্প্রীতির বন্ধনে যেন অনেক মেলা-খেলার উৎসব হয়ে থাকে, সেখানেও হরেক রকম ‘বাদ্যযন্ত্র’ বাজিয়ে জীবনকে উপভোগ করে। এই দেশের প্রতিটি অঞ্চল বা শহরে সকল ধর্ম বর্ণের মানুষ মিলিত হয়েই এমন লোকজ সংস্কৃতিকে উপভোগ করে।
গ্রামাঞ্চলের পথঘাটে ও বটতলায় করুন বাঁশির সুর, ঢাকের হৃদয় স্পর্শী বাদ্য, কবি গান, পালা গান এবং গীতের সঙ্গে হেলে দুলে নাচ ভারি চমৎকার। আরও ব্যাপকতা পেয়েছে রাষ্ট্রিয় ভাবে। সরকারি কর্মচারী এবং কর্ম কর্তাদের বৈশাখীভাতা প্রদান করেও যেন শিকড়ের এমন লোকজ বাদ্যযন্ত্র কিংবা সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। তাই তো, আজ জ্ঞানী গুনিরা গ্রাম গ্রামান্তরের লোকজ সংস্কৃতির নানা প্রকার বাদ্যযন্ত্র নিয়েই শহরমুখী হচ্ছে। সুতরাং গ্রামাঞ্চলের মানুষরা লোকজ আদলের ‘ঢাকঢোল’ ও ‘একতারা’ বাজিয়ে গান করেই তারা অবহেলিত অধ্যায় থেকে আধুনিক অঙ্গনে উঠা বসার সুযোগ পাচ্ছে।
আরও জানার প্রয়োজন- তা হলো, গ্রামাঞ্চলে গৃহস্থ বা কৃষানিরা তাদের বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার করেই মাটি ও পানির এক প্রকার মিশ্রণে কাপড়ের টুকরো অথবা কিছু খড় দিয়ে লেপে দিয়ে সেখানেই ঢুলিরা ঢোলের বাদ্যে গাঁয়ের বধূরা নানান গীত গেয়ে নেচে-নেচে মজা করে। আর গ্রামীণ পুরুষরা নৌকায় মাঝ নদীতে গিয়ে চাঁদের আলোয় এই লোকজ সংস্কৃতির বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে উৎসবে মেতে ওঠে। তাছাড়াও গাঁ- গেরামের মানুষেরা “অগ্রহায়ণে ধান” কাটাকেই যেন উপজীব্য করে “ফসলের মাঠে” সারা রাত্রি সারিবদ্ধ হয়ে বসে নানাধরনের বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গেই যেন অঞ্চল ভেদে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির সুরেলা গান করে। এ সুর এবং বাদ্যযন্ত্রের ইতিহাস, ঐতিহ্য আসলেই যেন লোকজ সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ।
এমন এই সংস্কৃতির ধারায় যেন শীতের কুয়াশা ভরা চাঁদের আলোয় মৃদু মৃদু বাতাসেই বাড়ির আঙ্গিনাতে বাউলের গান ও বাদ্যযন্ত্রের সুরসহ একতার টানে ও ঢোলির ঢোলের তালের সঙ্গেই বাজে আরও অনেক বাদ্যযন্ত্র। উদাহর ণস্বরূপ- তাহলো যেমন, ডুগ ডুগি, ডুগীতবলা, ঝনঝনি, ড্রাম, সাইট ড্রাম, ফুলট, কর্নাট, কংগো এবং আধুনিক যুগের যন্ত্র ক্যাসিও। এইসবই আজকের লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গেই অঙ্গাঅঙ্গিভাবে এক সুতায় গাঁথা। তাছাড়াও জারি, সারি, ভাটিয়ালি, ভাবগান, নৌকা বাইচের গান, মুর্শিদীগান, আলকাপ গানেও এমন লোকজ সংস্কৃতির বাদ্য যন্ত্রের সমন্বয় ঘটিয়ে গ্রামের মানুষেরাই উৎসবে বাজিয়ে গর্ব বোধ করে। আবার এমন লোকজ সংস্কৃতির “বাদ্য” থেকে আলকাপ গানে তারা নিয়ে যায়,- আঞ্চলিক গম্ভীরা গানে, তাছাড়াও তারা যোগীগান, মনসারগান, লীলা, রামায়নী, পালা গান ও পট গানে আদিমতম বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে নাচ এবং সঙ্গীতকে শৈল্পিক বলয় তৈরি করে। বিভিন্ন বর্ণ কিংবা ধর্মাবলম্বীদের জীবন বৃত্তে কোন না কোন ভাবেই লোকজ সংস্কৃতির এমন বাদ্যযন্ত্রের শাখা প্রশাখা খোঁজে পাওয়া যায়। তাই,- এই লোকজ শিল্পের শিকড়ের গভীরতা মানব সৃৃৃষ্টির
সূচনা থেকেই বলা চলে।
গ্রামের কিষান-কিষানিরা জীবনোপায়কেই “বাদ্যের সুরে সুরে” জীবনাচারের অনেক ভালবাসাকে তুলে ধরে সারারাত্রি। কলা গাছের তোরণকেই লক্ষ্য করে খরার সময় ”বৃষ্টি” যেন হয়, এই আশায় তারা বৃষ্টিতে ব্যাঙের বিয়ে দিতে পারবে এ ভাবনায় চরম আনন্দে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে উৎসব করে। হিন্দু- ধর্মাবলম্বীরা যেন পুরনো বট পাকুড় গাছের বিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্রবৃন্দ করে বহু বস্তুনিষ্ঠ ধর্মের পরিপূর্ণতায় লোকজ ধারার বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে তারা খুব আনন্দ উল্লাসে মত্ত হয়।বাঙালীর হাজার বছরের এশিল্পধারায় তৈরি হয়েছে লোকজের নিজস্ব কাব্য কিংবা নিজস্ব সাহিত্য। যে সাহিত্যতে রস সুধাতেই গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা আজ মহিমান্বিত এবং সমাদৃত। সুতরাং গ্রামীণ জনপদের মানুষের মাঝে খোঁজে পাওয়া যায়:- লোকজ ধারার নানা গল্প-কাহিনী, গীতিকাব্য, আঞ্চলিক গীত, লোক সঙ্গীত, গীতিনাট্য, লোকনাট্য, নৃত্যনাট্যের মতো যেন হাজারও লোকজ সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতিতে লোকজ বাদ্য না হলে যেন চলেই না। আসলেই বলা দরকার, শঙ্খধ্বনিও নাকি ‘লোকজ’ সংস্কৃতির একটি সূচনা বাদ্যযন্ত্র।
এই প্রাচীন ‘লোকজ’ বাদ্যে শঙ্খধ্বনির অলঙ্কার যুগ যুগ ধরে লোকজ সংস্কৃতিতে এদেশে ও ভারতবর্ষের গ্রামাঞ্চলের অনেক অঞ্চলে বিরাজমান। যার প্রমাণ প্রাচীন ‘গ্রন্থ’, ‘শিল্প’, ‘সাহিত্য’, “ভাস্কর্য’ ঔ ‘চিত্রশিল্পীর শৈল্পীক চিত্রে’ই উঠে এসেছে। ঝিনুকের তৈরীকৃত এ শঙ্খের ছিদ্র পথে মুখ দিয়ে ফুঁ দিলে মিষ্টি মধুর শব্দ বাহির হয়। আবার গ্রামাঞ্চলের শঙ্খের সঙ্গে নিবিড় সক্ষতার সঙ্গেও ঢাকঢোলের চর্মাচ্ছাদিত বাদ্যযন্ত্রেই যেন আনদ্ধ হয়ে থাকে। টাকডুম টাকডুম আওয়াজ শুনলে তো বুঝাই যায়, এ লোকজ সংস্কৃতির আবহ ছড়িয়ে পড়ছে সমগ্র গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।
‘বাংলা ঢোল’ নামে আরেক বাদ্যযন্ত্র আছে যার শব্দ সাধারণ ঢোলের চেয়েও যেন গম্ভীর। তাছাড়াও যেন ঢোলের চেয়ে ছোট আরেকটি বাদ্যযন্ত্র রয়েছে, যার নাম ঢোলক। এমন ঢোলক বেশির ভাগ ব্যবহৃত হয় ‘নাটক’, ‘যাত্রায়’, ‘গজল’ ও ‘কাওয়ালী’ গানে ঢোলক অনেক অপরিহার্য বাদ্যযন্ত্র। আবার- “ঢোল” একটি প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র। মধ্য যুগের মঙ্গল কাব্যেও ঢোলের উল্লেখ পাওয়া যায়। ‘ঢোল’ বাদ্যে লাঠি খেলা, হোলি খেলা, নৌকা বাইচ, কুস্তি, কবি গানের আসর, জারি ও ‘সারি’ গান, ‘টপ্পা’ গান, ‘বাউল’ গান, ‘আলকাপ’ ও ‘গম্ভীরা’ গান, ‘যাত্রা’ গান, ‘গাজনের’ গান, মহররমের ‘শোভা যাত্রা’, ‘ছোকরা’ নাচ এবং বিয়ের বরযাত্রাতে বাজিয়ে গ্রামীণ মানুষের ‘লোকজ’ সংস্কৃতির চর্চাকে পরিপক্ব করে তোলে।
হিন্দুদের বিভিন্ন পূ্জাতে “ঢোল” না হলে যেন চলেই না। ”হিন্দু”, ”মুসলমান”, এবং ”আদিবাসী” নির্বিশেষে সকল শ্রেণী পেশাদের মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের জন্যেই যেন ঢোল ব্যবহার হয়। যানা যায় যে বেশকিছু বছর আগে সরকারি কোনও আদেশ কিংবা পরোয়ানাতে গ্রামাঞ্চলের হাটেবাজাবে ঢোল কিংবা ঢেড়া পিটিয়ে বিভিন্ন নির্দেশ মুলক কথা ঘোষণা দিয়েছে। সুতরাং, এখন আর এমন ভাবে লোক সংস্কৃতির ব্যবহার হয় না। বাঙপালির বিয়ের অনুষ্ঠানের কথায় যদি আসি তাহলে বলা যায় যে, শানাই ছাড়া বিয়ের কথা ভাবা যায় না। তাই গ্রামীণ লোকজ বাদ্যযন্ত্রের আলোচনা আসলেই স্বল্প পরিসরে শেষ হবার নয়, তবুও গ্রাম্য জনজীবনের একাকিত্ব কিংবা অবসন্ন মনের অলস দুপুরে এক বাঁশিওয়ালার বাঁশিতে ফুঁ দেওয়ার মধ্যে খোঁজে পাওয়া যায়, “লোকজ বাদ্যের সুর”:- ‘পূবাল হাওয়া যায়রে বইয়া ঝিরি ঝিরি ঝির….
উড়াল দিছে সল্লী পংখী ধরলা নদীর তীর।
প্রাণ মোর উড়য়্যা যায়রে…
ঝাউ নাচে, কাউন নাচে, আর নাচে বন
তারে সাথে নাচিয়া ফেরে উদাস করা মন।
প্রাণ মোর উড়য়্যা যায়রে’….
লেখক:
নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

চুনারুঘাট থেকে: চুনারুঘাটের গাতাবলা দাখিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে সরকারি বই বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ১লা জানুয়ারী মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সারাদেশের ন্যায় চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশী ইউনিয়নের গাতাবলা দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এড. মনিরুল ইসলাম তালুকদারের সভাপতিত্বে ও মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল খালেকের পরিচালনায় বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মিরাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রমিজ উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মিরাশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আইয়ুব আলী তালুকদার, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ সুরুজ আলী, চুনারুঘাট অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক মিয়া, মাদ্রাসার সহ-সুপার মোঃ আঃ হান্নান। এতে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ জিতু মিয়া, সহকারী শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর মিয়া, মোঃ মাসুক মিয়া, অফিস সহকারী আব্দুল্লাহ, রানীগাঁও দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মাসুক মিয়া মাষ্টার সহ মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ।

পরে মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সরকারের বিনামূল্যে নতুন পাঠ্য বই বিতরণ করা হয়। জেডিসি পরীক্ষায় উক্ত মাদ্রাসায় পাশের শতভাগ হার ছিল। নতুন বই হাতে পেয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা উচ্ছসিত।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ ১ লা জানুয়ারি সারা দেশের ন্যায় নড়াইলেও নতুন বই উৎসব পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নড়াইল শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে বিদ্যালয়ের আয়োজনে ছাত্র –ছাত্রীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে নতুন বই উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহ্ আলম এর সভাপতিত্বে বই উৎসবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ আজিজুর রহমান ভ’ঁইয়া,প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। পরে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ,নড়াইল সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়সহ শহরের সকল বিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আনজুম আরা।
এছাড়া জেলার ৩টি উপজেলার সরকারি -বেসরকারি মাধ্যামিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় ,কারিগরি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় বই উৎসব পালিত হয়।
এই জেলায় মাদ্রাসা ও ভকেশনালসহ মাধ্যমিক পর্যায়ে ১১ লাখ ৪৬ হাজার ২ শত ১০ খানা পাঠ্যপুস্তক এবং এবতেদায়ী মাদ্রাসাসহ প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৬ লাখ বই বিতরণ করা হবে।

বেনাপোল প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন বিপুল ভোটে তৃতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় সোমবার সকালে শার্শা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক বৃন্দের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মুন্নাফ খোকন, সাধারন সম্পাদক ইয়ানুর রহমান, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আজিজুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান গনি, প্রচার সম্পাদক আসাদুর ররমান, ক্রীয়া সম্পাদক আব্দুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক আনিছুর রহমান, নির্বাহী সদস্য শেখ কাজিম উদ্দিন, ফেরদৌস আলম চৌধুরী রাজু প্রমুখ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ।
আজ 1জানুয়ারি ২০১৯ সালের রোজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলী অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দলের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকবার শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন।

বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা এবং শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, মোজাফফর হোসেন পল্টু ও এডভেকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, আবদুল মতিন খসরু ও আবদুল মান্নান খান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও সালমান এফ রহমান, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাসিম ও বি এম মোজাম্মেল হক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, হারুনুর রশিদ, দেলওয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, আকতারুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন ও শাহাবুদ্দিন ফারাজী অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে, দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনসমূহ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রধানমন্ত্রী এরপর শেখ রেহানা ও সায়মা হোসেন পুতুলসহ বনানী কবরস্থানে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ১৫ আগস্ট হত্যাযজ্ঞে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তিনি ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি জাতীয় তিন নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জাতীয় এই তিন নেতা এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে নিহত হন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc