Saturday 21st of September 2019 11:39:03 PM

নড়াইল প্রতিনিধিঃ ব্যক্তি গত কাজ থেকে সমষ্টি গত কাজে গুরুত্ব দিবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল ২ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
সোমবার (৩১ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে শহরের তাহেরা কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিকদের সাথে এক নির্বচনোত্তর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, নড়াইলের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, আমার খুব ভালো লাগছে ,তারা সবাই কষ্ঠ করে আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। রেসপনসিবিলিটি অনেক, মানুষের অনেক চাওয়া পাওয়া আছে, সেবা চ্যালেঞ্জ গুিিল নেয়ার জন্য তৈরী হতে হবে । আমাদের সকলের স্বার্থে এক হয়ে কাজ করতে হবে। ব্যাক্তি গত সমস্যাগুলি দূূরে রেখে, সমষ্টিগত সমস্য্যা গুলি পূরন করতে হবে। এজন্য তার প্রথম পদক্ষেপ হবে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এরপর খেলাধুলার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, সন্ত্রাস এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনে ভূমিকা রাখবেন। তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, নির্বাচনী গনসংযোগের সময় দেখেছি নড়াইলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই অনুন্নত। দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব যোগাযোগ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, কাজের মান যাতে ভালো হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আগামীকাল পহেলা জানুয়ারি ঢাকায় গিয়ে বিপিএলের দিকে মনোনিবেশ করবেন বলে জানান এই ক্রিকেট তারকা।
এরপরতিনি নড়াইলেরর পুরাতন বাস টার্মিনালের অবস্থিত বঙ্গবন্ধুুর প্রতিকৃতিতে পুুস্পমাল্য অর্পন করেন। এ সময় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডঃ সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারন সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান নিলু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ সোহরাব হোসেন বিশ্বাসসহ দলীয় নেতা কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ সিলেট-৪ আসনে জৈন্তাপুর উপজেলার সবকটি কেন্দ্র মিলিয়ে ২১ হাজার ৫শ ২৫ ভোট এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সবকটি কেন্দ্রে মিলিয়ে ৫৫ হাজার ৩শ ৫৮ ভোট এবং গোয়াইনঘাট উপজেলার সবকটি কেন্দ্রে মিলিয়ে ১লক্ষ ২হাজার ১শ ৪২ ভোটে পাস করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইমরান আহমদ।

রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।
জৈন্তাপুর উপজেলার ৪৫টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে ইমরান আহমদ পেয়েছেন ৫১১৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিম পেয়েছেন ২৯৬৫৯ ভোট।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৩৯টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে ইমরান আহমদ পেয়েছেন ৭১২২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিম পেয়েছেন ১৫৮৬২ ভোট।
গোয়াইনঘাট উপজেলার ৬৯টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে ইমরান আহমদ পেয়েছেন ১লক্ষ ২হাজার ১শত ৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিম পেয়েছেন ৪৭৮৮৭ ভোট।
এ আসনের ৩টি উপজেলা ১৫৩ টি কেন্দ্রের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইমরান অাহমদ নৌকা প্রতীকে ২লক্ষ ২৪ হাজার ৫শত ৪৬ ভোট পান তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির দিলদার হোসেন সেলিম ধানের শীষ প্রতিকে মোট ৯৩ হাজার ৪শ ৮ ভোট পান৷ তিন উপজেলায় ইমরান অাহমদ এমপি ১লক্ষ ৯৩ হাজার ১শ ৩৮ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারি ভাবে ৬ষ্ঠ বাবের মত সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন৷

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে ভোটকেন্দ্র দখল নেয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির হামলায় মোদাচ্ছের আলী (৪০) নামে আরও এক আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন।

রবিবার দুপুর ১টার দিকে তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোদাচ্ছের আলী মোহাম্মদপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি পাঁচন্দর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোরশেদ আলী মৃধা জানান, ঘটনার পরে ভোটগ্রহণ  স্থগিত আছে।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক খান জানান, মোদাচ্ছের আলী ভোট দেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওই সময় হঠাৎ করেই জামায়াত-বিএনপির নেতা-কর্মীরা লাঠি ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারদের এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। এসময় লাঠির আঘাতে মোদাচ্ছের আলী গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় লোকজন উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পরে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে তানোরে উপজেলা সদরের তানোর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও তানোর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র দখল করে নৌকার কর্মীরা। পুলিশের সামনেই জালভোট দেয়ার সময় ধানের শীষের এজেন্টরা তাদের বাধা দেন।

ঘটনা জানাজানি হলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ গুলি ও টিআর শেল ছুঁড়ে বিশৃংখলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় অন্তত: ৫ জন আহত হয়েছেন।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় মেরাজুল ইসলাম (২২) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

উপজেলার পাইকপাড়া পাকুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মেরাজুল পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

এ ব্যাপারে রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের আটকের জন্য অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।সুত্রঃ ঢাকা টাইমস

এম ওসমান, বেনাপোল : যশোরের ৬টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বানিজ্যিক এলাকা ৮৫ যশোর-১ (শার্শা) আসনে মহাজোটের প্রার্থী নৌকা প্রতিকের আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দীন ২০৯০৩৬ ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদন্দী এক্যফ্রন্টের ধানের শিষের প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তি ৪৮০২ পেয়েছেন ভোট।

এছাড়া জাকের পাটির গোলাপ ফুল প্রতিকের সাজেদুর রহমান ডাবলু পেয়েছেন ৩১২ভোট ও ইসলামী আন্দোলনের পাখা মার্কার বকতিয়ার হোসেন পেয়েছেন ৪৯১ ভোট।

সোমবার (৩০ডিসেম্বর) রাত ৮ টায় শার্শা উপজেলা রিটার্নিং অফিসার পুলক কুমার মন্ডল আনুণ্ঠানিক ভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

এদিকে শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১০২টি কেন্দ্রে কোন রকম সহিংশতার ঘটনা ছাড়া ভোট গ্রহন সম্পূর্ণ হয়। তবে সব কেন্দ্রে মহাজোট প্রার্থীর সমর্থক ও পুলিং এজেন্টেরকে উৎসব মুখর পরিবেশে উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও ১৫ থেকে ২০টা সেন্টার ঘুরে ঐক্যফ্রন্টের কোন পুলিং এজেন্টকে পাওয়া যায়নি।
আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন বেসরকারী ভাবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় সন্ধ্যায় স্থানীয় জনসমর্থকদের তাকে জয়ী করার জন্য ধন্যবাদ জানান.

এদিকে ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তি অনিয়মের অভিযোগ তুলে আজ দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করেছেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ভোটার এলাকা, ভোটার কেন্দ্র ও কেন্দ্রের নম্বর পাবেন ভোটাররা।তিনি বলেছেন, শনিবার থেকে এ সেবা চালু হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের মিডিয়া কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, এ নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্বে প্রায় ৭ লাখ নিরাপত্তা সদস্য। এছাড়া বেসামরিক কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক ও অন্যান্যরা উপস্থিত থাকবেন। আশা করি, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হবে।

পোলিং অফিসাররা সকাল ৮টার আগেই প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে নিয়োগপত্র দেখাবেন। এ সব বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ইসি ব্যবস্থা নেবে। তিনি জানান, ভোটের দিন ইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো যান্ত্রিক যানবাহন চলবে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারি গাড়ি, সেবা সংস্থা যেমন ফায়ারসার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদপত্র পরিবাহী গাড়ি এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে ভোটাররা চাইলে সঙ্গে মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন তবে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে তা সুইচ অফ রাখতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভোট দেয়ার জন্য পোস্টাল ব্যালটের আবেদন করেছেন কিনা তা জানা নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বলতে পারবেন।

ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়ার বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই ফলাফল ঘোষণা হবে। প্রিজাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণ শেষে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রেই ভোট গণনা করবেন। এ সময় সহকারী রিটার্নিং, প্রার্থীর এজেন্টেরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার লিখিত ফলাফল সংশ্লিষ্টদের সরবরাহ করবেন। পরে এ ফলাফল রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাবেন। রিটার্নিং অফিসাররা তা ইসিতে পাঠাবেন। ইসির ফোয়ারা প্রাঙ্গণে স্থাপিত মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে। এ চত্বরে ইসি দশটি মনিটরের মাধ্যমে ফলাফল প্রদর্শন করবে। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিন শেষে রাত পেরোলেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামীকাল ৩০ ডিসেম্বর, রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।

জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। স্থগিত হওয়া গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে ২৭ জানুয়ারি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নূরুল হুদা। শুক্রবার কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সর্বাধিক সংখ্যক প্রার্থী এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। উৎসবমুখর ভোট হবে এটাই আশা।’ তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহবান জানান।

ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, নির্বাচনি সকল মালামাল ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে ৬ লাখ ৮ হাজার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এবার ভোটে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে ৬৬ জন দায়িত্বপালন করছেন। এরমধ্যে দুইজন বিভাগীয় কমিশনার এবং ৬৪ জন জেলা প্রশাসক।

সচিব জানান, এবার ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৭ হাজার ৩১২টি ভোটকক্ষে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৫ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩১২ জন।

এবার ইসিতে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের সবগুলো দলই অংশগ্রহণ করছে। ২৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৬১ জন। এরমধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৩৩ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১২৮ জন প্রার্থী।

ভোটকেন্দ্র এবং নির্বাচনি এলাকায় সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ফোর্স সংখ্যা- প্রায় ৬ লাখ ৮ হাজার। এর মধ্যে পুলিশ প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার, আনসার প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার, গ্রাম পুলিশ প্রায় ৪১ হাজার।

সেনাবাহিনী (প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন) ৩৮৯ টি উপজেলায় ৪১৪ প্লাটুন, নৌবাহিনী ১৮টি উপজেলায় ৪৮ প্লাটুন, কোস্টগার্ড (প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন) ১২টি উপজেলায় ৪২ প্লাটুন, বিজিবি (প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন) ৯৮৩ প্লাটুন, র‌্যাব (প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন) প্রায় ৬০০ প্লাটুন ভোটের মাঠে নিয়োজিত আছে।

এছাড়া মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সংখ্যা (র‌্যাবসহ) প্রায় ২ হাজার প্লাটুন (প্রায় ৬৫ হাজার), এছাড়া সারাদেশে জেলা ও মেট্রোপলিটনে পুলিশের টহল দল নিয়োজিত রয়েছে।

সচিব জানান, নির্বাচনে নিয়োজিত ১ হাজার ৩২৮ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য ৬৫২ জন, অবশিষ্ট ৬৭৬ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল/স্ট্রাইকিং ফোর্সের সাথে নিয়োজিত রয়েছেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬৪০ জন, ১২২টি ইলেক্ট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে ২৪৪ জন নিয়োজিত থাকবেন।

তিনি জানান, নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার ৪০ হাজার ১৮৩ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৭ হাজার ৩১২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৬২৪ জন দায়িত্ব পালন করবেন।

এই নির্বাচনে দেশী ৮১টি পর্যবেক্ষক সংস্থার ২৫ হাজার ৯০০ জন এবং ওআইসি ও কমনওয়েলথ থেকে আমন্ত্রিত ও অন্যান্য বিদেশী পর্যবেক্ষক ৩৮ জন, কূটনৈতিক/বিদেশী মিশনের কর্মকর্তা ৬৪ জন এবং বাংলাদেশস্থ দূতাবাস/হাইকমিশন বা বিদেশী সংস্থায় কর্মরত বাংলাদেশী ৬১ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬টি আসনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হলো-ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩, চট্টগ্রাম-৯, রংপুর-৩, খুলনা-২ ও সাতক্ষীরা-২ আসন।

এরমধ্যে ঢাকা-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮ জন। মোট ভোটার ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩১৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৭ জন। মহিলা ভোটার ১ লাখ ২৬ হাজার ২০৮জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৯৮টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৬৩৮টি।

ঢাকা-১৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ১০ জন। মোট ভোটার ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৭৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ জন। মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ১৬৮ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৪টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৮৭০টি।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮ জন। মোট ভোটার ৩ লাখ ৯০ হাজার ৪৩১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪ হাজার ২০৬ জন। মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ২২৫ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪০টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৯২০টি।

রংপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৯ জন। মোট ভোটার ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৭১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২১ হাজার ১০৯ জন। মহিলা ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬২ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৫টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ১ হাজার ২৩টি।

খুলনা-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৭ জন। মোট ভোটার ২ লাখ ৯৪ হাজার ১১৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৪৫ জন। মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭১ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৭টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৭২০টি।

সাতক্ষীরা-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৬ জন। মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৬ হাজার ২৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৮ জন। মহিলা ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৮ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৭টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৮৭৪টি।

নির্বাচন উপলক্ষে আজ মধ্যরাত (রাত ১২টা) থেকে ভোটের দিন দিবাগত মধ্যরাত (রাত ১২টা) পর্যন্ত বেবি টেক্সি/অটোরিকশা/ইজিবাইক, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিক-আপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পোসহ স্থানীয় যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে নৌযান চলচলের ওপর।

এ ছাড়া ভোটকে সামনে রেখে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত (রাত ১২টা) থেকে ১ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত (রাত ১২টা) পর্যন্ত মোট চার দিন সারাদেশে মোটরসাইকেল চালানোয় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ইসির স্টিকার লাগানো মোটরসাইকেল এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশী-বিদেশী, পর্যবেক্ষকদের (পরিচয়পত্র থাকতে হবে) ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য। এছাড়া নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে), নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শক ও কতিপয় জরুরি কাজ যেমন- অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদির কাজে নিয়োজিত যানবাহনে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

এ ছাড়া মহাসড়ক, বন্দর ও জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নেতা কর্মিদের প্রতি ভোট গণনা শেষ না করে কেন্দ্র ত্যাগ করতে শেখ হাসিনা এই নির্দেশ দিয়েছেন।তিনি আজ ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে বিএনপি জামাতের হামলায় আহত আওয়ামীলীগ কর্মিকে দেখতে গিয়ে এ কথা বলেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা সিটি কলেজ ভোট কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন গণমাধ্যমকে বলেন,  ওইদিন সকালে(৩০ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে তার ভোট দেবেন।

জানা গেছে, ধানমন্ডির সুধাসদনের বাসার ঠিকানায় ভোটার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে হিসেবে তার ভোট কেন্দ্র হচ্ছে ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্র। এর আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এই কেন্দ্রে ভোট দেন তিনি।

উল্লেখ্য, ৩০ ডিসেম্বর (রবিবার) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এদিন দেশের ২৯৯ আসনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ মাশরাফির নিরাপত্তা বহরে থাকা নড়াইল ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোঃ মনিরুজ্জামান মিন্টু (৪০) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
নিহত মনিরুজ্জামান যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার ইন্দ্রা গ্রামের মমিন বিশ^াসের পুত্র।তিনি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নড়াইল-২ আসনের আওয়ামীলীগ প্রার্থী মাশরাফি বিন মোর্তজার নিরাপত্তার দায়িত্বের থাকা পুলিশ বহরের সাথে ছিলেন।
ঘটনার সময় তার সাথে থাকা পুলিশ সদস্য মোঃ বায়েজীদ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টার দিকে জেলার লোহাগড়া উপজেলার দেবী গ্রামে তিনি বুকের ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
এঘটনার পর মাশরাফির পিতা গোলাম মর্তুজা স্বপন পুলিশ লাইনে মনিরুজ্জামানকে দেখতে আসেন।এঘটনায় জেলা পুলিশের সকলের মধ্যে শোক বিরাজ করছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় পুলিশ লাইনে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জেলা পুলিশ অফিস সূত্রে জানা গেছে।

হাটহাজারী মঈনুল উলুম মাদ্রাসায় চট্টগ্রাম- ৫ হাটহাজারী আসনে ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নঈমুল ইসলাম ২৭ ডিসেম্বর সকালে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। গণসংযোগকালে হাটহাজারী মঈনুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতী আহমদ শফির সাথে কুশল বিনিময় হয়।

এসময় নঈমুল ইসলাম, মোমবাতি প্রতীকে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, মুসলমানরা সা¤্রাজ্যবাদী শক্তির চক্রান্তে দিন দিন খর্বশক্তি হচ্ছে। ছোটখাট মতপার্থক্য ভুলে মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হলে এদেশে কোরআন সুন্নাহর আইন প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি ছাত্রনেতা মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরী, মুহাম্মদ মুছা, যুবনেতা মুহাম্মদ ফরিদুল আলম, ছাত্রনেতা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, মুহাম্মদ শফিউল আলম, মুহাম্মদ সাজ্জাদুল হকসহ নেতৃবৃন্দ।

রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুরের সারী নদীতে বাঁধা নৌকা। পানিতে নেমে তলদেশ খুঁড়ে চলে বালু ও কয়লা উত্তোলন। এই কাজের ফলে নদীর নীল জল গোলা হচ্ছে। পুরো নদী জুড়ে চলে বালু ও কয়লা উত্তোলনের তৎপরতা। উৎস মুখের চিত্র আরও করুন। জেগে উঠা চরে কিংবা হাঁটু সমান পানিতে যত্রতত্র ভাবে গর্ত খুঁড়ে বের করা হচ্ছে কয়লা। বস্তাবন্দী করে নদী তীরেই চলে কেনা বেচা। বাংলাদেশের অন্যতম ‘নীলনদের নদী হিসাবে পরিচিত সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সারী নদী। নদীর একাংশ ও উৎস মুখের লালাখালের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা। অনেকটা দখলের মতো করে চলছে কয়লা আর বালু উত্তোলনের অবৈধ কারবার। প্রতিদিন শ্রমিকেরা নদী খুঁড়ে কয়লা, বালু উত্তোলন করছে শ্রমিকরা। এ কারণে সারীর উৎসমুখ সহ পর্যটকদের কাছে দর্শনীয় লালাখাল বিপন্ন হওয়ার মুখে পড়েছে। নদীর জলে থাকতে পারছেনা জলজপ্রানী সহ বিভিন্ন প্রজাতীর মৎস্য সম্পদ। যত্রতত্র খোঁড়া খুঁড়িতে নদী-প্রকৃতি সহ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থেকে নেওয়া হচ্ছে না স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ।
সরেজমিনে গিয়ে নদী তীরের বাসিন্দারা জানান- পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় কয়লা উত্তোলনের তৎপরতা।প্রায় দুই তিন মাস ধরে নদীর জেগে উঠা চর ও নদীর মধ্যে ভাগে খোঁড়া খুঁড়ি চলায় শ্রমিকরা। এসব খোঁড়া খুড়ির কারনে কোনো কোনো জায়গায় নদীর গতিপথও পরিবর্তন হয়ে পড়ে। বালু ও কয়লার কারবারিরা সংঘবদ্ধ হওয়ায় এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না বলে জানান স্থানীয় লোকজনেরা। কয়লা তোলার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা জানান, তাঁরা কয়লার কারবারিদের মাধ্যমে দৈনিক মুজুরি হিসেবে কাজ করে থাকেন। লালাখালের সঙ্গে সারীর সংযোগ পর্যন্ত কয়লা ও বালু উত্তোলন করতে জনপ্রতি দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে কারাবারিরা দিয়ে আসছে। অথবা উত্তোলিত কয়লা বস্তাবন্দী করার পর কারবারিরা প্রতি বস্তা কয়লা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা মূল্য ক্রয় করে ট্রাাকযোগে নিয়ে যান তাদের নিদিষ্ট গন্তব্যে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়কে জন কারবারি জানান- তাঁদের ব্যবসা মৌসুম ভিত্তিক। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী ঢলের সঙ্গে নদীতে নেমে আসে কয়লা-বালু। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমলেই বালুর সঙ্গে নদীর তলায় আটকে থাকা কয়লা উত্তোলন করেন শ্রমিকরা। শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৩ মাস কয়লা উত্তোলন এবং ক্রয় বিক্রয়ের ব্যবসা চলে। জৈন্তাপুরের হর্নি, কামরাঙ্গী, পাখিবিল, লালাখাল গ্রান্ট, থুবাং, কালীঞ্জবাড়ী, গৌরীশঙ্কর গ্রামের ১০ জন বালু-পাথর ব্যবসায়ী লালাখাল ও সারী নদীর বালু-কয়লা উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ করেন। সারী হচ্ছে উত্তর পূর্ব সিলেটের অন্যতম সীমান্ত নদী। ভারতের মেঘালয় পাহাড় মাইন্থু ও লেসাকা নদী মিলিত হয়ে লোম নদী নামে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১৩০০ নম্বর আন্তজার্তিক পিলার অতিক্রম করে বাংলাদেশে সারী নদী নামে প্রবেশ করেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিম বলেন- সারী নদীর উজানে ভারতীয় অংশে উন্মুক্ত কয়লা খনি থাকায় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির সঙ্গে কায়লার গুঁড়া ভেসে আসে। ভাসমান কয়লার গুঁড়ার জন্য নদীর জল নীল হয়। কয়লার গুঁড়া সংগ্রহ করতে পুরো শুষ্ক মৌসুম চলে নদীর দুই তীর ও তলদেশ ক্ষতবিক্ষত করার তৎপরতা। একদিকে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, অন্য দিকে নীল নদ ঘিরে নদী কেন্দ্রিক পর্যটন সম্ভাবনাও বিপন্ন হচ্ছে।
সারী নদী বাচাঁও আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল হাই আল হাদী জানান- ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় সারী নদীর একাধিক উৎসমুখ রয়েছে। শীতকালে শুধু লালাখালে পানি থাকে। এ সময় পর্যটকদের বেড়ানোর স্থানে হিসাবে অন্যন্য রূপ ধারন করে লালাখাল। স্বচ্ছ জলের ধারার জন্য শীতকালে সিলেটে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে সারী ও লালাখালের আকর্ষণ অন্যতম। যত্রতত্র খোঁড়া খুঁড়িতে পর্যটকদের নদী দেখার আকর্ষণ বিনষ্ট হওয়ার আশংঙ্কার কথা বলেন। সাধারন মানুষের আক্ষেপ নদী ও পরিবেশের ক্ষতি হওয়ায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে- গত ২০১৫ সনের একটি নির্দেশনা জারি হয়। সেই সাথে সারীর উৎসমুখের লালাখাল থেকে ভাটির দিকে ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত নদী সংরক্ষণ করতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা জারি করে, পাশাপাশি পুরো এলাকাকে কেন “প্ররিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা” (ইসিএ) ঘোষন করা হবে না এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট ১৪টি দপ্তরের কাছে জানতে চাওয়া হয়।
উচ্চ আদালতের ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে জৈন্তাাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরীন করিম বলেন- শীতকালের শুরুতে এ তৎপরতা দেখা দেওয়ায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, কিন্তু এতে স্থায়ী প্রতিকার হচ্ছে না। ইসিএ এলাকা ঘোষনা করতে এখানে নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পর্যটন উন্নয়ন কর্পোরেশনের মাধ্যমে ২০লক্ষ টাকায় ১টি জল ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে।

‘হড্ডা-হাড্ডি লাড়াই হবে ইমরান-সেলিম এর মধ্যে’

রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: বাজারে বহুতে মাতামাতি করের (অনেকে বলাবলি করছেন) ভোটও ঝামেলা ওইবো। তাঁরা কর ভোটও বোমা মারতে পারে, মাইর ওইতে পারে। কিন্তু আমার মনে ওয় এখন যে নিরাপত্তা দেওয়া ওর মাঠে সেনাবাহিনী সহ অন্য বাহিনীরা কাজ করছে এতে বোমা মারা কিংবা ঝামেলা করার কোনো সুযোগ নাই। কথা গুলো বলছিলেন জৈন্তাপুরের দরবস্ত বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী জামিল আহমদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ভোটারদের সঙ্গে কথা হয়। দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সব প্রার্থীরই ব্যানার পোস্টার ও ফেস্টুন বাজার এবং সড়কে দেখা গেছে। ভোটাররা বলছেন, উপজেলা গুলোতে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থক কিংবা দলীয় ভোট রয়েছে মোট ভোটের অর্ধেক। বাকী অর্ধেক সাধারণ ভোটার। সাধারণ ভোটাররা যে দিকে ঝুকনেবেন সে প্রার্থীই সিলেট-৪ আসনে বিজয়ী হবেন। ভোট কেন্দ্রে কোনো ঝামেলার খবর ছড়িয়ে পড়লেও ভোটার উপস্থিতিতে প্রভাব ফেলবে। জৈন্তাপুর উপজেলা সদর এলাকায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও থুবাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটো কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে জৈন্তাপুর সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারতের কয়লা খনি কিংবা পাথর খনিতে বিস্ফোরণ ঘটাতে ব্যবহৃত বিস্ফোরক পাওয়ার জেল, ডেটোনেটর উদ্ধার করেছিল বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বিস্ফোরক উদ্ধার ও জব্দের ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক রয়েছে।

তাঁরা বলছেন, নির্বাচনের সহিংসতায় এসব বিস্ফোরক ব্যবহৃত হতে পারে। এর ভয়ে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতিতে প্রভাব ফেলবে। সিলেট-৪ আসন থেকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ও বর্তমান সাংসদ ইমারন আহমদ, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিচ্ছেন সাবেক সাংসদ দিলদার হোসেন সেলিম, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে অংশ নিচ্ছেন এ.টি.ইউ তাজ রহমান, বাংলাদেশ বিপ্লবি ওয়াকার্স পার্টির কোদাল প্রতীকে অংশ নিচ্ছেন মনোজ কুমার সেন মলয় ও বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন হাতপাখা প্রতীকে অংশ নিচ্ছেন মাওলানা জিল্লুর রহমান। চিকনাগুল বাজারের ব্যবসায়ী কুতুব আলী বলেন- নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের দুই প্রার্থীর মধ্যে হড্ডা হড্ডি লড়াই হবে। অন্য প্রার্থীদের সুর তেমন পাওয়া যার না। ইমরান-সেলিম দুই প্রার্থীর মধ্য থেকেই একজন আগামী সাংসদ নির্বাচিত হবেন।

নির্বাচনে যেই জয়ী হোক তাঁর কাছে সাধারণ মানুষ চায় সুখে দুখে যেনো পাশে থাকেন। উপজেলার প্রধান দাবী বলতে গিয়ে তিনি বলেন আমরা অনেক দিন থেকে গ্যাস সংযোগের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। কত সরকার এল গেল কিন্তু আমরা এখনও গ্যাসের কোনো লাইন পায়নি। আগামীতে যে নির্বাচিত হবেন তার কাছে প্রধান ও প্রথম দাবী জৈন্তাপুরের সর্বত্র গ্যাসের সংযোগ। গোয়াইনঘাট মামার বাজার এলাকার বাসিন্দা করিম আহমদ এবারই প্রথম বারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন তিনি বলেন আমাদের আসনের প্রত্যেক উপজেলায় বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক এলাকা রয়েছে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। আগামী সাংসদের কাছে আমাদের দাবী থাকবে এসব প্রাকৃতিক পর্যটন বহুল এলাকা গুলোর উন্নয়ন ও পর্যটক বান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার। বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম নিজেকে আওয়ামী লীগের সমর্থক জানিয়ে বলেন বর্তমান সরকারের সময়ে এলাকার বেশ উন্নয়ন হয়েছে। রাস্তাঘাট ব্রিজ কালভার্ট থেকে শুরু করে, শিক্ষা, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। নৌকার সমর্থনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ভোটাররা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। উন্নয়নের ধারবাহিকতা ধরে রাখতে আবারও নৌকার প্রার্থীকে এলাকারবাসিরা বেছে নেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ বলেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপি ও তার সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন বিএনপি প্রার্থীর পথসভা করতে বাধা নিষেধ দেওয়াসহ নির্বাচনের এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে সরকার দলের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু এরপরও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবং ভোট কেন্দ্রে সাধারণ ভোটরার উপস্থিত হলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচিত হবেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন গত মঙ্গলবার জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সিনিয়র সহ সভাপতিকে বিনা মামলায় গ্রেফতার করে নিয়েছে পুলিশ।

এদিকে দুই উপজেলার সাধারণ ভোটারদের নিজেদের শিবিরে টানতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী, প্রার্থীদের স্ত্রী-সন্তানসহ নেতাকর্মী সাধারন ভোটারদের কাছে কাক ডাকা ভোর হতে মধ্যরাত পর্যন্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। খনিজ সম্পদে ভরপুর সিলেট-৪ আসনে বেশির ভাগ সাধারন ভোটারা মনে করছে “ইমরান আহমদ ও দিলদার হোসেন সেলিম হড্ডা-হড্ডি লাড়াই হবে। বেশির ভাগ সাধারন ভোটারদের মতে এপর্যন্ত সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিম তথা ধানেরশীষ এগিয়ে রয়েছে। ৩০ তারিখের নির্বাচনের ফলাফলই শেষ কি হয় বলে দেবে।

বাকেরগঞ্জ ৬ স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ওসমান হোসেন মনির এর  কার্যালয় ভাঙচুর , প্রবাসীদের প্রতিবাদ 
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফ্রান্স প্রবাসী ইউরোপের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন ইপিবিএ মহাসচিব বরিশাল বাকেরগঞ্জ ৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ওসমান হোসেইন মনির এর কার্যালয় ভাংচুর ও কর্মীদের উপর হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। 
বর্তমান সরকারের আওতাধিন নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ আওয়ামিলীগকে বিতর্কিত করতে বরিশাল ৬ বাকেরগন্জে জাতীয় পার্টির কর্মীরা  এ হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। মূলত ট্রাক মার্কার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এ হামলা হয়েছে বলে জানান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মনির।এদিকে এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 
ইপিবিএ কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহনুর খান এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলেন সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য ইঞ্জিনিয়ার ওসমান হোসেইন মনির কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বেনাপোল প্রতিনিধি:  যশোরের শার্শায় এটিএন বাংলার বেনাপোল প্রতিনিধি সাংবাদিক আহম্মাদ আলী শাহিন (৪৪) দূর্বত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে। সে শার্শা উপজেলার নাভারন সাতক্ষীরা মোড়ের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ও এটিএন বাংলা টিভি চ্যানেলের বেনাপোল প্রতিনিধি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তী করা হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার সময় নাভারন মোড়ে নিজ বাড়ীর গেটের সামনে সাংবাদিক আহম্মাদ আলী শাহিন দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় পিছন দিক থেকে ৬/৭ জনের একদল দূর্বত্ত হামলা চালিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে লোহার রড ও হকস্টিক দিয়ে পিটাতে থাকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে টহল দিতে থাকা বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভর্তি করে। পরে ওই রাতেই তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
শার্শা থানার ওসি তদন্ত শেখ তাসমিম আলম জানান, ঘটনা শোনার সাথে সাথে হাসপাতালে ছুটে যায় এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেই। হামলাকারী দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

বেনাপোল প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশেষ নিরাপত্তার জন্য শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে রোববার (৩০ ডিসেম্বর) রাত পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর ফলে দুই দিন এ পথে কোন আমদানি-রফতানি হবে না। তবে এ সময় উভয় দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে বলে জানা গেছে। সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে আবার এ পথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য চলবে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার ও রবিবার বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে। এ ছাড়াও কাস্টমস, বন্দরের কর্মকর্তারা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে বন্দর ত্যাগ করেছেন। সোমবার সকাল থেকে পুনরায় এ পথে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চলবে।
ভারতের পেট্রাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, বাংলাদেশে নির্বাচন উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি থাকায় শনি ও রোববার পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে বলে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার কর্মকর্তারা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন।
বেনাপোল কাস্টমস চেকপোষ্ট কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিশেষ নিরাপত্তার জন্য দু‘দিন বন্ধ থাকবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। ফলে এ পথে কোন আমদানি-রপ্তানি হবে না। তবে শনিবার আমদানি পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় খালি ট্রাক ফেরত পাঠানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় কার্গো শাখা খোলা রাখা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে আমদানি-রফতানি যথারীতি চলবে।
বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) প্রদোষ কান্তি দাস বলেন, এ বন্দরে দেশের কয়েকশ’ আমদানিকারকের কোটি-কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। নির্বাচনের ছুটিতে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ সময় যাতে কেউ সেখানে প্রবেশ করে পণ্যের ক্ষতি কিংবা কোনো রকম নাশকতামূলক ঘটনা না ঘটাতে পারে, এজন্য নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সেই সাথে আনসার ব্যাটালিয়ন ও বেসরকারি সিকিউরিটি সংস্থা পিমাকে সতর্ক রাখা হয়েছে।

রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: মহা আয়োজনে চলছিল হাডুডু খেলার প্রস্তুতি। আয়োজকদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল, বিজয়ী দলকে পুরস্কার দেওয়া হবে জলজ্যান্ত একটি অায়ড়ং। ‘আয়ড়ং’ জেতার লোভে নিবন্ধন দিয়ে বেশ কয়েকটি দল প্রতিযোগীর তাদের নামও লিখিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত একটি দল আয়ড়ংটিকে জিতে নিল৷
গত ২৮ ডিসেম্বর শুক্রবার সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার গোয়াবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান- দুপুরে স্থানীয় শিশুরা একটি মরা সুপারী (গুয়া) গাছের মধ্যে আয়ড়ং! দেখতে পায়৷ শিশুরা গাছটি কেটে আয়ড়ং!টি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে। কিছু সংখ্যাক শিশুরা মিলে হাডুডু খেলার আয়োজন করে। বিজয়ী দলকে পুরস্কার হিসেবে তারা আয়ড়ং টি দেওয়ার ঘোষণা দেয়৷ তখনই গ্রামের শিশুরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে হাডুডু খেলা শুরু করে৷ অার একটি দল বিজয়ী হয় এবং ঐ দলটির হতে পুরস্কার হিসাবে তুলে দেওয়া বিলুপ্ত বন্যপ্রাণী অায়ড়ংটি৷ পরবর্তীতে পুরুষ্কার হিসাবে পাওয়া অয়ড়ংটি নিয়ে শিশুরা ইচ্ছ মতে খেলা করে সন্ধ্যায় অায়ড়ংটি মেরে জঙ্গলে ফেলে দেয়৷
বন বিভাগ উত্তর সিলেটের (রেঞ্জ-২) বিট কর্মকর্তা আক্তার জানান বন্যপ্রানী আটকের বিষয় কেউ অামাদের জানায়নি৷ আমরা জানতে পারলে প্রাণীটি উদ্ধার করতাম৷ এছাড়া অামরা বন্যপ্রাণী অাটকের সংবাদ জানতে পারলেই তাৎক্ষনিক উদ্ধার করি৷ শীত মৌসুমে প্রায়ই জৈন্তাপুর গোয়াইনঘাট জকিগঞ্জ এবং কানাইঘাট উপজেলার গ্রাম গুলোতে অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন প্রজাতীর বন্যপ্রাণ উদ্ধার করে অাসছি৷ অার এই এলাকায় বন্যপ্রাণী নিয়ে হাডুডু খেলার রেওয়াজ আছে। বিরল প্রাণী বীরত্বের প্রতীক বলে খেলায় জিতে তা পুরস্কার পাওয়াকে গর্বের বিষয় মনে করে। তিনি অারও বলেন যে কোন বন্যপ্রানী অাটকা পড়লে দ্রুত বন বিভাগে খবর দেওয়ার অনুরোধ জানান৷

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc