Thursday 15th of November 2018 02:31:33 AM

বিক্রমজিত বর্ধন,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজারে প্রায় দুই শত বছর পূর্বের অতি প্রাচীন এবং অন্যতম ভৈরবনাথের এই মান্দির। শ্রীশ্রী মহাদেবাংশ ভৈরবনাথ এর এ মন্দিরটি সংস্কার করে নুতন মুর্তি প্রতিস্থাপন করে মন্দির এর পূনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
৭ নভেম্বর বুধবার সকালে নবনির্মিত মন্দিরটি উদ্বোধন করেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভৈরবগঞ্জ বাজারস্থ কাতার প্রবাসী ও মন্দিরটির নির্মাতা দিলীপ কুমার দেব, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মৌলভীবাজার জেলা শাখার যুগ্ন সম্পাদক জহর তরফদার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক জগদীশ চৌধুরী সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত প্রায় দুই শত বছর পূর্বে এখানে ভৈরবের গাছ স্থাপন করে সেবাপূজা চলে আসলেও গত ৭ নভেম্বর বুধবার ১৪২৫ বাংলার ১৯ কার্তিক এ মন্দিরে স্থায়ীভাবে শ্রীশ্রী মহাদেবাংশ ভৈরবনাথ এর পাথরের বৃহৎ মুর্তি প্রতিস্থাপন করে নবনির্মিত মন্দিরটি পূনঃস্থাপন ও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
ভৈরবগঞ্জ বাজারস্থ সুনিল কমপ্লেক্সের স্বত্তাধীকারী ও কাতার প্রবাসী দিলীপ কুমার দেব’র প্রয়াত পিতৃদেব উপেন্দ্র কুমার দেব এর পূণ্য স্মৃতি স্মরণে শ্রীশ্রী মহাদেবাংশ ভৈরবনাথ এর মন্দিরটি নির্মাণ করেন বলে এই প্রতিনিধিকে জানান।
নবনির্মিত মন্দিরটি উদ্ভোধন কালে উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব বলেন, কাতার প্রবাসী দিলীপ কুমার দেব’র প্রয়াত পিতৃদেব উপেন্দ্র কুমার দেব এর পূণ্য স্মৃতি স্মরণে শ্রীশ্রী মহাদেবাংশ ভৈরবনাথ এর মন্দির নির্মণ করেছেন এবং আজ উদ্বোধন হলো। আমরা উনাকে উৎসাহিত করছি যে তিনি যেন এই ভাবে অত্র এলাকায় বিভিন্ন মন্দির এবং মসজিদে এভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেন।
নবনির্মিত মন্দিরটি দর্শন করার জন্য জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী ছুটে আসেছেন একনজর দেখার জন্য। দর্শনার্থীদের সাথে আলাপকালে জানাযায় জেলার খুব কম স্থানই আছে যেখানে এ রকম বড় ও উচুঁ আকারের শ্রীশ্রী মহাদেবাংশ ভৈরবনাথ এর মুর্তি স্থাপন এবং এত সুন্দর মন্দির নির্মান করা হয়েছে।

দিলীপ কুমার দেব বলেন, ভৈরবগঞ্জ বাজারের সর্বাধিক প্রাচীন স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। প্রায় দুইশত বছর ধরে এখানে রয়েছে ভৈরবনাথ এর থলি। শ্রীশ্রী মহাদেবাংশ ভৈরবনাথ এর এই থলি থেকেই এই বাজারের নামকরণ করা হয়েছে ভৈরবগঞ্জ বাজার ।

রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ সিলেট জেলা পর্যায়ের জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোঃ ময়নুল জাকির শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়েছেন। এনিয়ে তিনি ২য় বারের মত নির্বাচিত হলেন। এই উপলক্ষে ৭ নভেম্বর বুধবার সিলেটের রিকাবী বাজারের পুলিশ লাইনস্থ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) ইমাম মোহাম্মদ শাদিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) আবুল হাসানাত খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা বিশেষ শাখা) মোঃ মহবুবুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জকিগঞ্জ সার্কেল) সুদীপ্ত রায়।

আরও উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মোঃ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোলাপগঞ্জ সার্কেল) মোঃ রাশেদুল হক চৌধুরী, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সদর) লুৎফর রহমান, সহকারি পুলিশ সুপার (সদর) এসএম জহিরুল আলম, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (কানাইঘাট সার্কেল) মোঃ আমিনুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (গোয়াইনঘাট সার্কেল) মোঃ নজরুল ইসলাম পিপিএম, সহকারি পুলিশ সুপার (জেলা বিশেষ শাখা) আনিছুর রহমান খাঁন, সহকারি পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিস) আনিসুর রহমান, সহকারি পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিস) মোঃ সহিদুর রহমান সহ সিলেট জেলার সকল দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।

এছাড়াও সিলেটের প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জ ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তাপুরের আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র উদ্ধার, মাদক, সাজাপ্রাপ্ত আসামী, ওয়ারেন্ট তামিল ও আন্তঃ জেলা ডাকাত গ্রেফতার সহ সার্বিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোঃ ময়নুল জাকির শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসার নির্বাচিত করে পুরষ্কার দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে অফিসার ইনচার্জ খান মোঃ ময়নুল জাকির জানান- এ অর্জন শুধু তাঁর নয়, এটি থানার প্রত্যেক পুলিশ সদস্যদের। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে তারা এ গৌরব অর্জন করেছেন। এ পুরষ্কার তিনি থানার প্রত্যেক সদস্যদের মধ্যে উৎসর্গ করেছেন বলে প্রতিবেদককে জানান। এনিয়ে তিনি ২য় বারের মতন জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ পুরুষ্কার গ্রহন করেন।

সোলেমান আহমেদ মানিক,শ্রীমঙ্গল থেকেঃ সিলেটে বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয় ফুল উৎসবে দলগত ভাবে জাতীয় সঙ্গীত ও কবিতা আবৃত্তিতে চায়ের রাজধানীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শ্রীমঙ্গল চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
আজ বুধবার (৭ নভেম্বর) সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় শ্রীমঙ্গল শহরের রামকৃষ্ণ মিশন রোডে অবস্থিত জাতীয় শ্রেষ্ঠ চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দলগতভাবে  জাতীয়  সঙ্গীত ও কবিতা আবৃত্তিতে ১ম স্থান অর্জন করে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
দলগত জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশণ করে ঐ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ধ্রুব সরকার, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী অবন্তি ধর, সপ্তর্ষি চক্রবর্ত্তি, সানজিদা আক্তার, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী তপশ্রী দেব ও প্রমা দত্ত। অভিনয়ে ৫ম শ্রেণির ছাত্র অভিক দেব প্রথম স্থান অধিকার করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহর তরপদার জানান, বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলা ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি ও স্কাউটদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাদের এই কৃতিত্বের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনিতা দেব, মিতালী দেব, জুঁই পাল ও প্রনবেশ চৌধুরী অন্তু ও অভিভাবকদের অবদান রয়েছে। তাদের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করবেন তারা যেন জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ১৬ ডিসেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পদক গ্রহণ করে শ্রীমঙ্গল উপজেলার জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারে।

চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসুল্লা গ্রামের মৃত কাজী আকবর হোসেনের পুত্র নিরীহ অসহায় কাজী আলী হোসেনের বসতবাড়ির চলাচলের নিজস্ব রাস্তায় জোর পূর্বক ইট সলিংয়ের কাজ করায় রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন প্রশাসন।

জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলের দিকে উপজেলার বাসুল্লা গ্রামের কাজী আলী হোসেনের বসতবাড়ির আঙিনার রাস্তাটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রশাসন উভয়ের মাঝে সংঘর্ষের আশংকা থাকায় বসতবাড়ির চলাচলের ছোট রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে কাজী আলী হোসেন সহ এলাকার ৪টি পরিবার সহ কাজী ইদু মিয়া গংদের শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, উপজেলার বাসুল্লা গ্রামের পার্শ্ববর্তী একই গ্রামের কাজী ইদু মিয়া গংরা জোর পূর্বক উক্ত রাস্তাটি ইট সলিং করতে চেয়েছিল।

উক্ত ঘটনায় আলী হোসেন গত রবিবার দুপুরের দিকে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ও চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ কে.এম আজমিরুজ্জামানকে অভিযোগের অনুলিপি প্রদান করেন এবং একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানা পুলিশ জানায়, জি.ডির বিবরণে উভয়পক্ষকে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং উভয়ে কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

অন্যদিকে ইদু মিয়া গংরা তাদের জমির অংশে লুকিয়ে কিছু ইট সলিংয়ের কাজ করে ফেলছে। এ নিয়ে উভয়ের মাঝে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ধর্মিয় ডেস্কঃ আজ বোধবার ১৪৪০ হিজরীর ২৭ সফর ৭ নভেম্বর ২০১৮ ইং দেশে আখেরী চাহার সোম্বা।আল্লাহর প্রিয় হাবিব হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এই পৃথিবীতে তেষট্টি বছর হায়াত পেয়েছিলেন। এর মধ্যে কখনোই তিনি বড় ধরনের কোনো রোগ-ব্যাধির কবলে পড়েন নাই। কাফের মুশরিকদের শত অত্যাচার ও নির্যাতনের মাঝেও তিনি ছিলেন হিমাদ্রির ন্যায় অবিচল।

যাই হোক আখেরী চাহার সোম্বা সম্পর্কে মুফতি আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান আল কাদেরী, যিনি জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ছিলেন,তিনি এক প্রশ্নের জবাবে আখেরী চাহার সোম্বা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো-

তিনি বলেন সফর মাস আরবী হিজরি মাসের ২য় মাস। আর মাহে সফরের শেষ বুধবারকে ইসলামী পরিভাষায় মুসলিম সমাজে আখেরী চার শম্বাহ্ হিসেবে বুঝায়। যেহেতু এক সময়ে ফার্সী ভাষা প্রচলিত ছিল আর ফার্সী ভাষায় বুধবারকে চার শম্বাহ্ বলা হয়।

মুসলিম সমাজে সফর মাসের শেষ বুধবারকে গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়। এর পেছনে যে প্রেক্ষাপট রয়েছে তা হলো ‘দুনিয়াবী সকল বাতিল অপশক্তি প্রয়োগ করে ব্যর্থ হয়ে ইহুদীগণ হুযূর করিম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে যাদু করেছিল। কিন্তু তাদের যাদু শক্তি প্রিয়নবীর মধ্যে কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
অবশেষে ৭ম হিজরীতে হুদায়বিয়ার সন্ধির পর মহররম মাসে মদিনায় ইহুদী নেতৃবৃন্দ লবীদ ইবনে আসম ইয়াহুদীকে বলল, তুমি ও তোমার কন্যাগণ তো যাদু বিদ্যায় পারদর্শী।

সুতরাং মুসলমানের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে ধবংস ও ক্ষতি সাধনের জন্য যাদু করো। লবীদ কৌশলে প্রিয় রাসূলের এক ইহুদী গোলামের মাধ্যমে মহানবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামার ব্যবহৃত চিরুনীর ভাঙ্গা দাঁত ও চুল মোবারক সংগ্রহ করে নিলো। তারপর মোমের একটা পুতুল তৈরি করে তাতে এগারোটি সুঁচ ঢুকিয়ে দিল। একটি সুতায় ১১টি গিরা দিলো।
এসব কিছু ওই পুতুলের ভেতর স্থাপন করে প্রবহমান কূপের পানির ভিতর একটা পাথরের নিচে চাপা দিয়ে রেখে দিলো। এর প্রভাবের ফলে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ চল্লিশ রাত বা ছয় মাস অথবা এক বছরকাল শারীরিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন।

অতঃপর জিব্রাইল আমীন আলায়হিস্ সালাম সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস এ দুটি সূরা প্রিয় নবীর উপর নাজিল/অবতীর্ণ করলেন। আর এ দু’টি সূরা মিলে আয়াত সংখ্যা হয় ১১টি।

হুযূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে ওহীর মাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ দেয়া হল। আল্লাহর হাবীব হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুকে উক্ত কূপে পাঠিয়ে ছিলেন, তিনি কূপের পানি ফেলে দিয়ে যাদুর সব সমগ্রী পাথরের নীচ থেকে বের করে নিয়ে আসলেন। হুজুর আলায়হিস্ সালাম এ সূরা ২টি পাঠ করলেন প্রতিটি আয়াত পাঠের সদকায় একেকটি করে গিরা খুলে গেল।
ফলে আল্লাহর প্রিয় হাবীব হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আরোগ্য লাভ করলেন এবং গোসল করলেন। ওলামায়ে কেরামের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন সে দিনটি ছিল সফর মাসের শেষ বুধবার।

তাই বালা-মুসিবত, রোগ-শোক থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ্ চাইতে মুসলিম সমাজ এ দিবসটি গোসল ও দোয়া দরূদের মাধ্যমে ভাল ও উত্তমপন্থা হিসেবে পালন করে থাকে। ওয়াজিব ও জরুরি হিসেবে নয়।

ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী সৈয়দ আজিজুল হক শেরে বাংলা আলকাদেরী রহমাতুল্লাহি আলায়হি ‘জাওয়াহেরুল কুনুজ’ কিতাবের ৫ম খণ্ডের ৬১৬ পৃষ্ঠার বরাতে স্বীয় রচিত ‘ফতোয়ায়ে আজিজীতে উল্লেখ করেন সফর মাসের শেষ বুধবার সূর্যোদয়ের পূর্বে গোসল করা উত্তম। আর সূর্যোদয়ের পর দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা ভাল ও সওয়াবের কাজ। উক্ত কিতাবের ৬১৭ পৃষ্ঠায় আরও উল্লেখ রয়েছে- মাহে সফরের শেষ বুধবার সাতটি আয়াতে সালাম লিখে তা পানিতে ধুয়ে পানিটুকু পান করা উত্তম ও শেফা।

‘তাজকিরাতুল আওরাদ’ কিতাবে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি আখেরি চার শম্বাহ্ তথা মাহে সফরের শেষ বুধবারে প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের পর আয়াতে রহমত (সাত সালাম বিশিষ্ট আয়াতে করিমা) পাঠ করে নিজের শরীরে ফুঁক দেবে বা তা পানের উপর লিখে ধুয়ে পানি পান করবে আল্লাহ্ পাক তাকে সব রকম বালা-মুসিবত ও রোগ-ব্যাধি হতে নিরাপদে রাখবেন।
‘‘আনওয়ারুল আউলিয়া’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, যে ব্যক্তি আখেরী চার শম্বাহ্র দিন দু’রাকাত নফল নামায আদায় করবে আল্লাহ্ তাকে হৃদয়ের প্রশান্তি দান করবেন।

‘ফতোয়ায়ে আজিজী শরীফে’ ইমামে আহলে সুন্নাত মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা গাজী সৈয়দ আজিজুল হক শেরে বাংলা আলকাদেরী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন।
সুতরাং মাহে সফরের শেষ বুধবার নফল নামাজ, দোয়া-দরুদ পড়া, কলা পাতায়/কাগজে আয়াতে শেফাসমূহ লিখে গোসল করা এবং আয়াতে সালামসমূহ লিখে পানিতে দিয়ে তা পান করা ভাল ও উত্তম আমল। এতে শরীয়তের দৃষ্টিতে বাধা নেই।

তদুপরি ‘আর রাহিকুল মাখতুম্’ আরবী সীরাত গ্রন্থে সফিউর রহমান মোবারকপুরী বর্ণনা করেন-
ويوم الاربعاء قبل خمسة ايام من الوفاة اثقلت حرارة العلة فى بدنه فاشتد به الوجع وغمى فقال هريقوا علّى سبع قرب من ابارتشى حتى اخرج الى الناس فاعهد اليهم فافعدوه فى مخضب وصبوا عليه الماء حتى طفق يقوله حسبكم حسبكم وعند ذالك احس بخفةٍ فدخل المسجد وهو معصوب الرأس حتى جلس على المنبر وخطب الناس والناس مجتمعون حوله الخــ الرحيق المختوم لصفى الرحمن المباركفورى ـ الصف ……….৪৬৫
অর্থাৎ হুজুর নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল শরীফের পাঁচদিন পূর্বে (প্রিয় নবীর দুনিয়াবী হায়াতের শেষ বুধবারে (চার শম্বাহ্ দিবসে) প্রিয় নবীর নূরানী শরীর মোবারকের উত্তাপ অত্যন্ত বেড়ে গেল। এতে তাঁর কষ্ট বেশী হয়ে গেল। বেঁহুশের মত হয়ে গেলেন। এ সময় তিনি বললেন, তোমরা বিভিন্ন কূপের সাত মশক পানি আমার উপর ঢাল, যাতে আমি সাহাবায়ে কেরামের নিকট যেতে পারি এবং প্রতিশ্র“তি নিতে পারি।

অতঃপর উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম তাঁকে (প্রিয় রাসূলকে) বসালেন এবং তাঁরা তাঁর শরীর মোবারকে পানি প্রবাহিত করলেন। তিনি বলতে লাগলেন, যথেষ্ট, যথেষ্ট। তিনি সুস্থতা বোধ করলেন এবং মসজিদে নববী শরীফে মাথা মোবারকে পট্টি বাঁধাবস্থায় তাশরীফ নিলেন, তারপর মিম্বর শরীফে বসে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরামের সম্মুখে বক্তব্য পেশ করলেন, তখন সাহাবায়ে কেরাম তাঁর চতুর্পার্শে সমবেত ছিলেন। [আর রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ৪৬৫]

উপরিউক্ত বর্ণনা মতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াবী হায়াতের শেষ বুধবার সাত মশক পানি দ্বারা গোসল করেছেন এবং সুস্থতা অনুভব করে মসজিদে নববী শরীফে প্রবেশ করেছেন এবং খুতবা (বয়ান) প্রদান করেছেন।

এ বর্ণনা দ্বারা সফর মাসের আখেরী চার শম্বাহ্ বা বুধবার বুঝা যায় না, তাই ওলামায়ে কেরামের মধ্যে কেউ কেউ আখেরী চার শম্বাহ্ বা মাহে সফরের শেষ বুধবার গুরুত্বসহ পালন করা ভিত্তিহীন বলেছেন, হয়তো ‘জাওয়াহেরুল কুনজ’ এর বর্ণনাসমূহ তাঁদের দৃষ্টিগোচর হয়নি, বিধায় এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি ও ফিতনা ফ্যাসাদ না করে জাওয়াহেরুল কুনজ, ফতোয়ায়ে আজিজী এর বর্ণনাসমূহ দেখার ও অনুধাবন করার আহ্বান রইল।

[ফতোয়ায়ে আজিজী, কৃত. ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী শেরে বাংলা আজিজুল হক আলকাদেরী রহ.]Monthlytarjuman Anjuman এ প্রকাশিত। মাহে সফর সংখ্যা-১৪৩৯হিজরী, 2017

এম ওসমান,বেনাপোল প্রতিনিধি: শার্শায় একটি ওয়ান শুটার গান ও ১ রাউন্ড গুলিসহ বাবর আলী মোড়ল (৩৫) নামে এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে আটক করেছে শার্শা থানা পু‌লিশ।
সোমবার দিনগত রাতে শার্শার চকটাপোতা এলাকা থেকে তা‌কে আটক করা হয়।আটক বাবর আলী শার্শা থানার কন্যাদহ উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত দুঃখে মোড়লের ছেলে।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও‌সি) এম মশিউর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, শার্শা থানার চটকাপোতা এলাকায় এক অস্ত্র ব্যবসায়ী অস্ত্র বেচা‌কেনা কর‌ছে। এমন খব‌রে অভিযান চালিয়ে পাকা রাস্তার পাশ থেকে এক‌টি শুটার গান ও এক ১ রাউন্ড গুলিসহ তাকে আটক করা হয়।
আটক আসামীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দিয়ে মঙ্গলবার সকালে য‌শোর আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে তিনি জানান।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc