Tuesday 20th of November 2018 07:34:14 PM

“ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০১৮ সালে প্রায় ৩ কোটি ২৩ লক্ষ ৫১ হাজার ৪শত ৯ টাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিভিন্ন প্রকার চোরাচালানকৃত দ্রব্য সামগ্রী আটক করতে সক্ষম হয়েছে”

বিক্রমজিত বর্ধন,নিজস্ব প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন খ্যাত চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে ৫৫ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।আজ শনিবার (৩নভেম্বর) দুপুরে এক প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়।

এসময় সরাইল রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম আনিসুল হক, এসজিপি,বিজিবিএম, পিএসসি, কেক কাটার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন এর শুভ সূচনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো: জোবায়ের হাসনাৎ, পিএসসি,এলএসসি, ৫৫ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে: কর্ণেল এম জাহিদুর রশীদ, পিএসসি।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোরুল হক, উপজেলা চেয়ারম্যান রণধীর কুমার দেব, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ কে. এম. নজরুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাল আবেদীন টিটু প্রমুখ।

এ ছাড়াও মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগন এবং শ্রীমঙ্গল সেক্টর ও অধীনস্থ ব্যাটালিয়নের সকল অফিসারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠা লাভ এর পর হতে এ ব্যাটালিয়ন হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও চুনারুঘাট ও শ্রীমঙ্গল উপজেলাসহ মোট ১২২.৫ কিলোমিটার এলাকায় সীমান্ত রক্ষা, মাদকদ্রব্যসহ অন্যান্য চোরাচালানকৃত মালামাল পাচার, অবৈধ অস্ত্র পাচার, নারী ও শিশু পাচার ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কর্তব্যে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তাসহ দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করতে সক্ষম হয়।

এ ব্যাটালিয়নে ৬টি বিওপি নিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে ১৫টি বিওপি’র মাধ্যমে অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা কম চোরাচালান প্রবণ হওয়া সত্ত্বেও ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০১৮ সালে প্রায় ৩ কোটি ২৩ লক্ষ ৫১ হাজার ৪শত ৯ টাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিভিন্ন প্রকার চোরাচালানকৃত দ্রব্য সামগ্রী আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

হাবিবুর রহমান খান,জুুড়ী থেকেঃ মৌলভীবাজারের জুড়ীতে মাসব্যাপি বাণিজ্য মেলা আয়োজনের প্রতিবাদে ও বন্ধের দাবিতে মাঠে নেমেছে উপজেলা শহরের ব্যবসায়ীরা।

কামিনীগঞ্জ বাজার ও ভবানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা শুক্রবার বিকেল ৫টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করেন।
এ সময় উপস্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্য হুইপ মোঃ শাহাব উদ্দিনের নিকট মিছিল সহকারে মেলা বন্ধের দাবি জানায় ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, একদিকে দীর্ঘদিন জুড়ী উপজেলা ভয়াবহ বন্যার কবলে ছিল। অপর দিকে রাস্তার বেহাল দশা ও ছাত্র-শ্রমিক আন্দোলনের কারনে প্রায় এক বছর থেকে জুড়ীর ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মূখীন হয়ে আসছেন। এমতাবস্থায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রদর্শনীর নামে মাসব্যাপি বাণিজ্য মেলা চললে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পথে বসবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বনিক বলেন, মেলার আয়োজকরা নির্ধারিত গন্ডির বাহিরে পন্য বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া জেলা প্রশাসন থেকে মেলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। সেখানে আমার কিছু করার নেই।

ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে হুইপ শাহাব উদ্দিন বলেন, যেহেতু সামনে জাতীয় নির্বাচন। তাই কোন অবস্থায় শান্তিপূর্ন নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না। আপাতত নির্বাচন পর্যন্ত মেলা বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেস্ক নিউজঃ আজ শনিবার ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বাঙালি জাতির ইতিহাসে এটিই ছিল দ্বিতীয় কলংকজনক অধ্যায়। এরপর থেকেই প্রতি বছর এই দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি ও জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করতে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। এর আগে একই বছরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময় তার এই চার সহকর্মীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রতিবছরের মতো আজ শনিবারও জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে জাতীয় চার নেতাকে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহন করেছে। শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রেসিডেন্ট তাঁর বাণীতে বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার পাশাপাশি জাতিকে নেতৃত্বহীন করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতায় জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে একটি নতুন রাষ্ট্র গঠন ও পারিচালনায় তারা অসামান্য অবদান রাখেন। জাতি তাদের অবদান চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। শহীদ চার নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে প্রেসিডেন্ট বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন করাই হোক জেল হত্যা দিবসের অঙ্গীকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি বাংলার মাটি থেকে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস ও বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করতে এই ঘৃণিত হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতির পিতাসহ জাতীয় চার নেতার হত্যাকান্ডের বিচার সম্পন্ন করেন।
কারা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলহত্যাকান্ডের পরদিন তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে দীর্ঘ ২১ বছর এ বিচার প্রক্রিয়াকে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর এ মামলায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মতিউর রহমান এ মামলার রায় দেন। রায়ে ২০ আসামির মধ্যে ১৫ সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাস্তি এবং অপর পাঁচ জনকে খালাস দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক তিন আসামির মৃত্যুদন্ড এবং অপর ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। এভাবে ঢিলেতালে মামলা চলতে থাকে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসলে জেল হত্যাকান্ডের পুনঃবিচারের সুযোগ আসে। ২০১৩ সালের ১ নভেম্বর সরকারপক্ষ জেলহত্যা মামলার আপিল বিষয়ে সারসংক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জমা দিলে পুনঃবিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত রায়ে ২০০৮ সালের হাইকোর্টের রায় বাতিল করে ২০০৪ সালের নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখা হয়। অর্থাৎ পলাতক তিন আসামি তথা রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ওরফে হিরন খান, দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার মো. আবুল হাসেম মৃধাকে মৃত্যুদন্ড এবং অন্য ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়।
এ আসামীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ২০১০ সালে সৈয়দ ফারুক রহমান, শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। এছাড়া জেলহত্যা মামলার এখনো ১০ আসামি পলাতক রয়েছে। তারা হলেন- মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মোসলেম উদ্দিন, আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মারফত আলী শাহ ও আবুল হাসেম মৃধা, যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এমএইচএম বি নূর চৌধুরী, এএম রাশেদ চৌধুরী, আহমদ শরিফুল হোসেন, কিসমত হোসেন ও নাজমুল হোসেন আনসার। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামি আবদুল মাজেদ দেশের বাইরে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
কর্মসূচিঃ জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আজ সকাল ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সব শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো ব্যাজ ধারণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জমায়েত এবং জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদ ও জাতীয় নেতাদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত। সাড়ে ৯টায় পুরাতন কারাগারে জাতীয় চারনেতা যাদুঘরের ভেতরে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন। এতে শহীদ চার নেতার পরিবারের সদস্যরা ছাড়া বিভিন্ন নের্তৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। মাগরিব বাদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ধানমন্ডির বাসভবনে এম মনসুর আলীসহ চার নেতার রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ-মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান।
বিকাল ৩টায় ফার্মগেটের খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। একইভাবে রাজশাহীতে জাতীয় নেতা শহীদ কামরুজ্জামানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে গতকাল গণফোরাম তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদ আজ সকাল ৯টায় কলাবাগানের বশিরউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ আজ বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
গতকাল এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংগঠনের সকল জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন শাখা এবং সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী এবং সর্বস্তরের জনগণকে যথাযথ মর্যাদা ও শোকাবহ পরিবেশে জেলহত্যা দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ যশোরের চাঁচড়ার মোড়ে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় উন্নত মানের বিপুল পরিমাণ শাড়ী, লেহেঙ্গা এবং কাশ্মীরি শাল চাদরসহ ০১ টি পিকআপ আটক করেছে ৪৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের টহল দল।
৪৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ আরিফুল হক, পিবিজিএম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অদ্য ০২ নভেম্বর ২০১৮ তারিখ আনুমানিক ০৩০০ ঘটিকার সময় যশোরের চাঁচড়ার মোড়ে অত্র ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক হোসেন এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উক্ত অভিযানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ভারতীয় উন্নত মানের বিপুল পরিমাণে শাড়ী, লেহেঙ্গা এবং কাশ্মীরি শাল চাদরসহ ০১ টি পিকআপ আটক করা হয়।

এ মালামালের আনুমানিক মূল্য ১,২০,২২,৫০০/- (এক কোটি বিশ লক্ষ বাইশ হাজার পাঁচশত) টাকা। আটককৃত চোরাচালানী মালামাল যশোর কোতয়ালী থানায় জমা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হিসাব রক্ষন অফিসে সঠিক তদারকি না থাকায় যেন সরকারী টাকা লুটপাটের মহোৎসবে পরিনত হয়েছে। এই অফিসের দায়িত্বশীলরা নিজের মত করেই অফিসের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ দেখালেও কাজের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন রখম।

নিজেরদের পকেটে সরকারী টাকা লুটপাটের মহোৎসবে পরিনত হয়েছে তারা নানান কৌশলে। আর এসব কাজে করছে তাহিরপুর উপজেলা হিসাব রক্ষন অডিটর জসিম উদ্দিন ও একাউন্স অফিসার আনোয়ার হোসেন। তারা দুজনেই সরকারী টাকা আতœৎসাধ করেই নিজেদের আখের গোছিয়েছেন।
একাধিক সূত্রে জানাযায়,উপজেলা হিসাব রক্ষন অডিটর জসিম উদ্দিন তিনি র্দীঘ দিন ধরেই(প্রায় ২০বছর)এই উপজেলা কর্মরত থাকায় কারনে নিজের মত করেই সরকারী কর্মচারীদের কাছ থেকেই তাদের বিভিন্ন কাজ করার নামে হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার টাকা। সেই সাথে ভুয়া বিল ভাইচার তৈরী করে হাতিয়ে নিয়েছেন সরকারের লাখ লাখ টাকা। তার এই কাজের আরেক সহযোগী একাউন্স অফিসার আনোয়ার হোসেন নামেও রয়েছে নানান অনিয়মের এমনি অভিযোগ উঠেছে।
জানাযায়,জসিম উদ্দন গত ৩মাস(জুলাই মাসে)পূর্বে হিসাব রক্ষন অফিসার তার নিজের বউ(প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা) এর জিপিএফ ফান্ড থেকে আড়াই লাখ টাকা টাকা ভুয়া কাগজ তৈরী করে উত্তোলন করে আতœসাৎ করা চেষ্টা করেন। পরে লোক জানাযানি হলে জসিদ উদ্দিন গত সেপ্টেম্ভর মাসের ১৮-১৯তারিখে সেই টাকা ব্যাংকে জমাদেন।

এছাড়াও তিনি সরকারী কোন কর্মচারীর জিপিএফএ টাকা কম থাকলেও তিনি টাকা বেশী দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা উত্তোলন করার সুযোগ করেদেন অর্থের বিনিময়ে। তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে উপজেলার সরকারী কোয়াটারে নিজের নামে বাসা বরাদ্ধ নিয়ে অবস্থান করলেও গত ৯মাস বাসা ভাড়ার না দিয়ে(প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা জমা না দিয়ে) এখনও অবস্থান করছেন।

তিনি এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কোন প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নিতে চাইলেই ঘুষ দাবী করেন না দিলে কোন কাগজ পাওয়া যায় না। অফিসের সরকারী সোলার আনলেও নিজের বাসায় নিয়ে ব্যবহার করে। এছাড়াও রয়েছে নানান অভিযোগ। আর কাজের তার আরেক সহযোগী একাউন্স অফিসার আনোয়ার হোসেন। তিনিও সরকারী টাকা সুযোগ বুজে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

তিনি গত ২৯,০৬,১৮ইং ১লাখ ৬৪হাজার নিজে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরী করে(বিদ্যুৎ বিল,টেলিফোন,আসবাবপত্র ইত্যাদি) আতœৎস্বার্ধ করেছেন। তিনি নিয়মিত অফিস না করেই তাহিরপুর,দিরাই আর দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে। এখন তিনি জামালগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত আছেন। নানান কৌশলেই সরকারী কর্মচারীদের ১ম,২য় টাইমস স্কেল পুরোনো কাজ করেন টাকার বিনিময়ে আর গড়েছেন টাকার পাহাড়। কিছু দিন পূর্বেও তিনি এক এসআইয়ের ভুয়া বিল তৈরী করেন টাকার বিনিময়ে।

তিনি তার অধিনস্থ এক কর্মচারী ৩মাসের বেতন(দৈনিক ৪শত টাকা হারে ৩মাসের)না দিয়ে নিজেই আতœৎসাধ করছেন। এছাড়াও রয়েছে নানান অভিযোগ। এসব অভিযোগের বিষয়ে একাউন্স অফিসার আনোয়ার হোসেন উপজেলা হিসাব রক্ষন অডিটর জসিম উদ্দিন ২লাখ ৫০হাজার টাকা সরকারী ফান্ড থেকে উত্তোলন করেছিল এবং সেই টাকা পরে তার চেষ্টার আবার ব্যাংকে জমা দিয়েছেন তা স্বীকার করে বলেন,আমি যা করেছি সঠিক ভাবেই সরকারী কাজ করেছি। কোন দূর্নীতি করেনি।

আমার সাথে স্থানীয় রা খারাপ ব্যবহার করেছে তা ত লিখেন নি। এখন আমার বিরোদ্ধে সংবাদ লিখবে আপনি যা জানেন লিখেন আমি আমার কতৃপক্ষের কাছে জবাব দিব। আর উপজেলা হিসাব রক্ষন অডিটর জসিম উদ্দিন তার বিরোদ্ধে,সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,একবার ভুলে টাকা উত্তোলন করছিলাম পরে তা আবার ব্যাংকে জমা দিয়েছি। আর র্দীঘ দিন তাহিরপুর উপজেলায় থাকায় সবার সাথে ভাল সর্ম্পক ছিল কিন্তু কোন দূর্নীতি করেনি। যারা আমার বিরোদ্ধে বলছে তা মিথ্যা। আমি বদলী হয়ে গেছি জামালগঞ্জ কয়েকদিনের মধ্যে চলে যাব।

স্পোর্টস ডেস্ক,সাদিক অাহমেদ ইমনঃমাশরাফি বিন মর্তুজা!নামটি শুনে নামের মানুষটিকে চিনবেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল।সবাই সাথে সাথে গর্বের সাথে,মাথা উঁচু করে,জয়ীর বেশে বলে দিবেন ‘এ তো অামার অধিনায়ক’।মাশরাফি নামটি শুনে তাকে নিয়ে লেখা কোনো নিউজ কিংবা কলাম দেখেও না পড়ে চলে যাবেন এমন মানুষ জানামতে একজনও নেই।

মাশরাফি এমন একটি নাম যা উচ্চারণ করলেই গর্ববোধ হয়।মাশরাফি শুধু নাম নন,মাশরাফি একটি জ্বলন্ত প্রতিভা,মাশরাফি একটি প্রেরণা,মাশরাফি একটি দেশের সম্মান,মাশরাফি একজন বিজয়ী।
এই সেই মাশরাফি যিনি বলেছিলেন”একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা যদি পায়ে গুলি খেয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন,তবে অামি কেনো পায়ে সামান্য সার্জারি নিয়ে ক্রিকেট চালিয়ে যেতে পারবো না”।সত্যিই মাশরাফি তার ভাষ্যমতে অাজও চলমান এক অগ্নিগোলক।মাশরাফি অাজও থামেননি।অাজও মাশরাফি বল হাতে ছুটে চলেন দুর্বার গতিতে।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা নড়াইল-এ মাশরাফির জন্ম।চিত্রা নদীর তীরে বেড়ে উঠা ছেলেটির নাম মাশরাফি বিন মর্তুজা।ছোটবেলা থেকে যিনি ফুটবল,ব্যাডমিন্টন অার সাঁতার নিয়ে থাকতেন ব্যস্ত,অাজ সেই মাশরাফি ক্রিকেট জগতের অাইডল।০৫ অক্টোবর ১৯৮৩ সালে মর্তুজা দম্পতির ঘর অালোকিত করে জন্ম নিলো একটি শিশু।বাবা শখ করে ডাকলেন কৌশিক নামে।ধীরে ধীরে চিত্রা নদীর তীরে বেড়ে উঠা মাশরাফির।অার অাজ তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের দলনেতা। মাশরাফির বাবার নাম গোলাম মর্তুজা ও মা হামিদা মর্তুজা।মর্তুজা দম্পতির বড় ছেলে তিনি।
নড়াইলে জন্মগ্রহণ করা মাশরাফি তার ছুটে চলা ক্ষিপ্র গতিতে মুগ্ধ করেছিলেন পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে।প্রতিটি বাঙ্গালীর হৃদয়ের গভীরে জায়গা করে নিয়েছেন চিত্রা পারের ছেলেটি।তাইতো মাশরাফিকে নড়াইল বাসী সহ সারা বাংলাদেশ এমনকি সারা বিশ্ব চেনে “নড়াইল এক্সপ্রেস” নামে।এছাড়া সর্বদা মানুষের সেবা,সাহায্য করার মধ্য দিয়ে মাশরাফি কেড়ে নিয়েছেন প্রতিটি বাঙালির হৃদয়।হৃদয়ের গভীরে বসবাসকারী মাশরাফি নামের পাশে অর্জন করে নিয়েছেন “প্রিন্স অব হার্ট” খেতাবটি।যার বাংলা অর্থ দাড়ায় ”হৃদয়ের রাজা”।এছাড়া মাশরাফি পাগলারা তো তাকে “ম্যাশ”, ” বস” ছাড়া কথাই বলেন না।
মাশরাফি কেবল খেলোয়াড় গুণেই মানুষের প্রিয় নন,মাশরাফি একজন ভালো ও উদারচেতা মানুষ হিসেবেও স্থান করে নিয়েছেন সকলের মনে।
তাছাড়া অাজ যে বাংলাদেশ দলকে অামরা দেখছি,ক্রিকেট বিশ্বের নতুন পরাশক্তি যে বাংলাদেশ অাজ ক্রিকেটকে ক্রমাগত শাসন করে যাচ্ছে সেই বাংলাদেশের ঘুরে দাড়ানোর পেছনে মাশরাফির অনবদ্য নেতৃত্বের কথা কে না জানে।যে বাংলাদেশকে একসময় পাত্তা দিতো না বড়ো বড়ো দল গুলো অাজ সেই বাংলাদেশকে নিয়ে গভীর চিন্তায় থাকতে হয়ে বিপরীত দলকে।একদিন যেই বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের সাথে মাঠে টসে যেতে দাম্ভিকতা দেখিয়েছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীণ অধিনায়ক ইমরান,অাজ সেই পাকিস্তানকে বাংলাদেশ বাংলাওয়াশ করে দেখিয়েছে ‘ অামরাও পারি ‘।অাজ সেই পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের রানার্সআপ বাংলাদেশ।

যে ভারত একদিন বাংলাদেশকে অবহেলা করতো অাজ ধীরে ধীরে সেই ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।অর্থাৎ এখন ভারত-পাকিস্থান ম্যাচ নিয়ে যতটা উত্তেজনা বিরাজ করে তার চেয়ে বেশী উত্তেজনা বিরাজ করে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ নিয়ে।
ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের এত এত সাফল্য,এত সুনাম অার জয়ের পেছনে যার নাম সবার উপরে তিনি হলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।যার অনুপম নেতৃত্বে অাজ বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেট র্যাংকিং-এ সপ্তম।মাশরাফির অসাধারন নেতৃত্ব দলকে অনন্য এক উচ্চতায় পৌছে দিয়েছে।অাজ ক্রিকেট বিশ্বে শুধু মাশরাফি বন্দনা।

পায়ে সাত সাত বার সার্জারি করা পা নিয়ে দৌড়ে চলেন ২২ গজে।ম্যাচ শেষে যিনি ড্রেসিং রুমে গিয়ে পায়ের ব্যাথায় যন্ত্রণায় কাতরায়,অার নিজের ব্যাথা ভুলে দেশবাসীকে একের পর এক জয় দিয়ে যাচ্ছেন তিনি মাশরাফি বিন মর্তুজা অামাদের দলনেতা,অামাদের অধিনায়ক,অামাদের অনুপ্রেরণা,তিনি অামাদের সাহস,অামাদের অহংকার।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc