Wednesday 19th of September 2018 08:32:35 PM

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ “স্বাক্ষরতা অর্জন করি,দক্ষ হয়ে জীবন গড়ি” এ প্রতিপাদ্য নিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগের র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। শনিবার ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ হতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে র্যালী বের হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে  র্যালীটি বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম তালুকদার এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায়  অতিথি ছিলেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা যোতিশ রঞ্জন দাশ, দেওয়ান শামসুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবিনয় পাল, চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রনবেশ চৌধুরী অন্তু,যোগেন্দ্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা বেগম, পৌরসভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী সহ অন্যান্য শিক্ষক বৃন্দ।

হৃদয় দাশ শুভঃ শ্রীমঙ্গলের বহুল আলোচিত “স্বপ্না হত্যাকান্ডের” রহস্য উন্মোচনের দাবী করেছে পুলিশ ৷মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সোহেল রানা দীর্ঘ এক বছর এর অধিক সময় মামলার তদন্ত কার্য পরিচালনা করে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে মূল আসামী কে সনাক্ত করতে সক্ষম হন, এবং পরকিয়ায় জড়িত নিহত স্বপ্না বেগমের পরকিয়া প্রেমিক মৃত হাবিব মিয়ার ছেলে আজাদ মিয়া (২৮) গ্রাম-সাইটুলা থানা শ্রীমঙ্গল কে দীর্ঘদীন পলাতক থাকার পর গতকাল (শুক্রবার) পুলিশের একটি দল গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ৷
পরে থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ধৃত আজাদ স্বীকার করেন যে,একই গ্রামের সাইটুলার বস্তির তার খালাতো ভাই গফুর মিয়ার বাড়ীকে যাওয়া আসার এক পর্যায়ে নিহত স্বপ্না বেগমের সাথে তার পরকিয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে ৷
প্রায় প্রতিদিনই তাদের পারিবারিক কাজে সাহায্য সহযোগীতা করতেন যার ফলে পরিবারের কেউ তাকে সন্দেহের চোখে দেখতো না৷বছর তিনেক পূর্বে স্বপ্না বেগম ও তার স্বামীর মধ্যে পারিবারিক ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বপ্না তার প্রেমিক আজাদকে জানালে আজাদ স্বপ্নার ছেলে মেয়েসহ স্বপ্নাকে তার বাবার বাড়ী রাজনগর পাঠিয়ে দেয় ৷পারিবারিক কলহে আজাদ মিয়ার এরকম কর্মকান্ডে স্বপ্নার স্বামী গফুর মিয়ার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় ৷
এসময় স্বপ্না বেগম প্রায় পাঁচ মাস বাবার বাড়ীতে অবস্থান করে নারায়নগঞ্জে একটি গার্মেন্টেসে চাকরি নেয়,এর কিছুদিন পর আজাদ মিয়াও সেখানে চলে যায় এবংং স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করে ৷
এদিকে দেড় বছর অতিবাহিত হওয়ার পর স্বপ্না ও গফুর মিয়ার আত্নীয় স্বজনদের মধ্যস্থতায় পুণ সংসার করার সিদ্ধান্ত হয় ৷এরপর স্বপ্না গফুর মিয়ারে সংসারে ফিরে আসে ৷অন্যদিকে স্বপ্না আসার ১৫-২০ দিন পর আজাদ মিয়াও ফিরে আসে ৷এক পর্যায়ে আজাদ স্বপ্না বেগমের সাথে সাক্ষাৎ করে পরে গতবছরের ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে স্বপ্নার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে টিনের বেড়ায় টোকা দিলে স্বপ্না প্রথমে জানালা খুললে আজাদ তার সাথে বাইরে দেখা করতে চায় ৷ স্বপ্না দরজা খুলে বাইরে আসলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আজাদ স্বপ্নার গলা টিপে ধরলে কিছুক্ষন পর স্বপ্না নিস্তেজ হয়ে যায় ৷ স্বপ্নার নড়াচড়া না দেখে সে স্বপ্নার লাশ টেনে তার স্বামীর ঘরে নিয়ে যায় তারপর লাশটি ভিতরে রেখে দরজা লাগিয়ে পালিয়ে যায় ৷
উল্লেখ্য,স্বপ্না বেগমের বোন নিহত স্বপ্নার স্বামীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামী করে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন যার নং ২/০২০৮২০১৭

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সিলেট সিটির নব নির্বাচিত মেয়র বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী লন্ডনে অধ্যয়নরত তার মেয়ে সাইকা তাবাসসুম চৌধুরীর কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ শনিবার লন্ডন যাচ্ছেন।সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তিনি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমান যোগে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন বলে একটি সুত্রে জানা গেছে।

আরিফুল হক এর সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী সীমা হক চৌধুরী, ছেলে আসিফুল হক চৌধুরী, মেয়ে সাইকা তাবাসসুম চৌধুরী ও আফছা হক চৌধুরী।

আরও জানা গেছে,এছাড়া তিনি নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ ও সিটি কর্পোরেশনের অভ্যন্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই সফরকালে তিনি যুক্তরাজ্যের উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত সিটি পরিদর্শন করবেন। দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই তার প্রথম বিদেশ সফর।

তিনি লন্ডনে অবস্থান কালে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে কয়েকটি মতবিনিময় সভা ও বৈঠক করবেন এবং ২২ সেপ্টেম্বর শনিবারে দেশে ফিরবেন।

নিউজ ডেস্কঃ শরীয়তপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের কাছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম। তাকে ঘিরে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে এলাকায়।

এ আসনের বর্তমান এমপি বয়োবৃদ্ধ কর্নেল (অব.) শওকত আলী আগামী নির্বাচনে স্বাস্থ্যগত কারণে অংশ নিতে পারবেন না ধরে নিয়েই এনামুল হক শামীমের মতো একজন দক্ষ সংগঠককে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। একইভাবে ফেনী-১ আসনে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। এ আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (ইনু) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আকতার। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মনে করেন, জোটের প্রার্থী থাকায় দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তেমন মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। সে কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তারুণ্যের প্রতীক ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের অভিভাবক আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমকে এমপি হিসেবে দেখতে চান তারা।

চট্টগ্রাম বিভাগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার আলাদা প্রভাব ও অবস্থান রয়েছে। মাগুরা-১ আসনে গত সাড়ে নয় বছর ধরে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে সবার মুখে মুখে সাইফুজ্জামান শিখরের নাম। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে এলাকায় উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়ে নিজের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা জানান দিয়েছেন তিনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দিলে এই আসনে আওয়ামী লীগের জয়লাভ সহজ হবে বলেই এলাকায় আলোচনা আছে।

ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আরিফুর রহমান দোলন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার নাম। রাজনৈতিক কর্মকা-ের পাশাপাশি নিয়মিত সামাজিক কর্মকা- করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন তিনি। পেশাজীবী দোলনই হতে পারেন ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং ভোটারদের ইতিবাচক পরিবর্তনের হাতিয়ার। তৃণমূলে এটিই এখন জোর আলোচনা। এ আসনে তরুণ প্রার্থী হিসেবে আরও আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি লিয়াকত সিকদার।

তিনিও এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। কেবল এনামুল হক শামীম, আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, সাইফুজ্জামান শিখর, আরিফুর রহমান দোলন বা লিয়াকত সিকদারই নন, এমন অর্ধশত তরুণ প্রার্থী এলাকায় জোর সম্ভাবনা জাগিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের ভোট টানতে তাদের অনেকেই এবার দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাবা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর হয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

যুক্তরাজ্য থেকে আইনে স্নাতক নওফেল বাবার পথ অনুসরণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। বর্তমানে তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। বাবা মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রয়াত হওয়ায় চট্টগ্রাম-৯ আসনে তাকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আগামী নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পেলে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত বলে মনে করেন স্থানীয়রা। আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন দীর্ঘদিন ধরে সাতকানিয়া-লোহাগড়ার মানুষের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে আছেন। এলাকার উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছেন দলের কেন্দ্রীয় এই নেতা।

আগামী নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে তাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে চাইছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। গাজীপুর-৩ আসনের বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট রহমত আলী বয়সে রোগে ন্যুব্জ। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে মনে করেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। সেক্ষেত্রে পারিবারিক কারণে এগিয়ে রয়েছেন তার ছেলে জামিল হাসান দুর্জয়। পিতার পাশাপাশি তিনি এলাকার নেতা-কর্মী ও জনগণের সঙ্গে কাজ করছেন। এ আসনে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ। তারা দুজনই সম্ভাবনাময় প্রার্থী। তৃণমূল নেতা-কর্মীরা তাই মনে করছেন।

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় আছেন। বছরের পর বছর সময় দিয়ে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে নিজের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকার তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও তিনি গ্রহণযোগ্য অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

সব মিলিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দিলে আওয়ামী লীগের জয় সহজ হবে বলে অনেকে মনে করেন। সর্বশেষ খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের হয়ে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন। তাকে খুলনা-৩ আসন থেকে দলের প্রার্থী হিসেবে চাইছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।

সাবেক ছাত্রনেতা শফি আহমেদ দীর্ঘদিন ধরেই নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরি) আসনের মানুষের পাশে আছেন। ২০০৭ সালে বাতিল হওয়া নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থেকেও তিনি বঞ্চিত হন। তাই বলে পিছিয়ে না থেকে এলাকায় নিয়মিত সময় দিচ্ছেন তিনি। এবার মনোনয়ন দৌড়ে তিনি শক্তভাবেই আছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, সমর্থকরা এমনটাই মনে করেন।

ঝালকাঠি-১ আসনে নানা কারণে বিতর্কিত বর্তমান এমপি বি এইচ হারুন মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছেন বলে মনে করেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। এ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও দৈনিক বাংলাদেশ সময়ের সম্পাদক নারী নেত্রী ফাতিনাজ ফিরোজ।

তিনি স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান ঝালকাঠি আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য প্রয়াত শিক্ষাবিদ ড. এম এ হান্নান ফিরোজের সহধর্মিণী। তার সমর্থিত নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ আসনে মনোনয়নের অন্যতম দাবিদার ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বিশ্বস্ত হান্নান ফিরোজ। তার মৃত্যুর পর এ আসনে তার স্ত্রী ফাতিনাজ ফিরোজ মনোনয়ন লাভের জন্য রাজাপুর-কাঁঠালিয়া চষে বেড়াচ্ছেন। দুই উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্যদের সঙ্গে নিয়ে ভোটারদের কাছে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরছেন।

শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয়রা। এলাকার উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলায় সোহাগের নাম এখন মানুষের মুখে মুখে। আগামী নির্বাচনে তাকে নৌকার প্রার্থী করা হলে তিনি দলের সম্পদ হবেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান প্রার্থী হতে চাইছেন। তিনি এ আসনের চমক হতে পারেন। বর্তমান সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন। টাঙ্গাইল-৬ আসনে তরুণ প্রার্থী হিসেবে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন সাবেক ছাত্রনেতা তারেক শামস হিমু। তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য। নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ করে চলেছেন সাবেক এই ছাত্রনেতা। টাঙ্গাইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামান।

এ আসনে এবার দলের তৃণমূলে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন খন্দকার আসাদুজ্জামানের ছেলে মশিউজ্জামান খান রুমেল। তিনি এলাকায় গণসংযোগ করে চলেছেন। পিরোজপুর-২ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিয়মিত এলাকায় সময় দিচ্ছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে তিনি সুপরিচিত। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে প্রার্থী করা হলে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত মনে করছেন দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে ঘিরে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে এলাকাবাসী।

ভিসি পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর ডা. প্রাণ গোপাল স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের এই সহ-সভাপতি আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চান। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, সমর্থকদের নিবিড় সম্পর্ক। সময় পেলেই হাতিয়ার গ্রাম থেকে গ্রামে চষে বেড়ান তিনি। আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী বেগম আয়েশা ফেরদাউস। তার স্ত্রী নির্বাচন না করলে তিনিই এ আসনের আওয়ামী লীগের যোগ্য প্রার্থী বলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মনে করেন।

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের পুত্র আজিজুস সামাদ ডন। কিন্তু তিনি মনোনয়ন পাননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম এ মান্নানের কাছে অল্প ভোটে পরাজিত হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে নিজের অপরিহার্যতা জানান দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি নৌকার প্রার্থী হলে জয়লাভ সহজ হতে পারে বলে অনেকের ধারণা। সিলেট-৬ আসনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরোয়ার হোসেন। সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মসূচি নিয়ে তিনি এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

এ ছাড়া নেত্রকোনা-৫ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, নেত্রকোনা-৩ আসনে অসীম কুমার উকিল, নেত্রকোনা-২ আসনে চিত্রনায়ক রানা হামিদ ও শামসুর রহমান ভিপি লিটন, ময়মনসিংহ-৩ আসনে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব ডা. এম এ আজিজ, ঢাকা-৮ আসনে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, ঢাকা-২ আসনে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, ঢাকা-৫ আসনের বর্তমান এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার ছেলে মশিউর রহমান সজল, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ, জামালপুর-১ আসনে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ, পাবনা-১ আসনে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম,

নীলফামারী-৪ আসনে নাফিউল করিম নাফা, রংপুর-৫ আসনে জাকির হোসেন সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে সাবেক ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার মাহতাব উদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে যুবলীগ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলে ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছবে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, বর্তমান সংসদের অনেকেই নানাভাবে বিতর্কিত। টিআর, কাবিখা, জিআর থেকে অর্থ নেওয়া, নৈশপ্রহরী এবং পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ থেকে টাকা নেওয়ায় সাধারণ মানুষের তোপের মুখে আছেন তারা। এলাকায় নিয়মিত যেতে পারেন না। সেক্ষেত্রে তরুণরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে আওয়ামী লীগকে দীর্ঘ সময় সেবা দিতে পারবেন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হবে বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। সুত্রঃ সম্পাদক

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পাকিস্তানি আমলের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সঙ্কলিত “সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দা নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন তারই মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার বিকেলে গণভবন প্রাঙ্গণে বইটির প্রকাশনা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যরা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি হিসেবে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করত পাকিস্তানের ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (আইবি)।

দীর্ঘ ২৩ বছরের সেইসব গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৪ খণ্ডের এই সঙ্কলন প্রকাশ করছে হাক্কানী পাবলিশার্স।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ।

তরুণ শেখ মুজিব নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে কেমন করে বাংলার অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হলেন- সেই পথচিত্র যেমন এই বইয়ে এসেছে, সেই সঙ্গে এসেছে বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে চলার মানচিত্র। এসব কারণে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সঙ্কলনকে বিশেষজ্ঞরা বর্ণনা করছেন ‘অমূল্য সম্পদ’ হিসেবে।

১৪ খণ্ডের সঙ্কলনে ভাষা আন্দোলন, জমিদারি প্রথা বিলুপ্তকরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন, আওয়ামী লীগের জন্ম, শেখ মুজিবুর রহমানের চিঠিপত্র, বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ, বক্তব্য-বিবৃতি, গ্রেপ্তার, কারাবরণ, কারাগারে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন ও নেতাকর্মীদের সাক্ষাতের বিষয়গুলো উঠে এসেছে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের বয়ানে।

ইংরেজি ভাষায় লেখা পুরনো এসব নথি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) রেকর্ড রুমেই পড়ে ছিল অযত্ন আর অবহেলায়। বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী এসবি প্রধানের দায়িত্বে থাকার সময় প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহে সেসব নথি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন এবং ৬০৬-৪৮ ফাইল নম্বর দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে যেসব ক্লাসিফায়েড তথ্য সেখানে ছিল, সেগুলোর পাঠোদ্ধার ও সঙ্কলিত করার ব্যবস্থা করেন।

‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দা নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধাদের উদ্দেশে। ৫৮২ পৃষ্ঠার প্রথম খণ্ডের দাম রাখা হয়েছে ৯০০ টাকা। একই নকশায় প্রতিটি খণ্ডের প্রচ্ছদ করেছেন সমর মজুমদার।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল ট্রাস্ট আয়োজিত প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে মঞ্চে ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান, ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এবং হাক্কানী পাবলিশার্সের প্রকাশক গোলাম মোস্তফা।

বঙ্গবন্ধুর ছাট মেয়ে শেখ রেহেনা, স্পিকার শিরীন শারিমন চৌধুরী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদও ছিলেন অনুষ্ঠানে।

এছাড়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ আলী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক আইিজপি এ কে এম শহীদুল হক, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ও চার নির্বাচন কমিশনার, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি অতিথি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও নানা শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে।

২৯ সেপ্টেম্বর হোটেল শ্রমিক ফেডারেশনের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ

বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণভাবে হোটেল সেক্টরে নি¤œতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা, হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরি কার্যকর, ৮ ঘন্টা কর্ম দিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্রসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন, বর্তমান শ্রমআইনের সংশোধনী প্রস্তাবের ২৬ ধারাসহ সকল শ্রমিকস্বার্থ বিরোধী কালাকানুন বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং চালু এবং সিলেটে স্থায়ী শ্রম আদালত স্থাপন করার দাবিতে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন রেজিঃ বি-২০৩৭ এর সিলেট বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে সিলেট কোর্ট পয়েন্টে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ ২৩০৫ এর উদ্যোগে ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিক ইউনিয়নের কোর্টরোডস্থ কার্যালয়ে জমায়েত হয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল শুরু করে কোর্টরোড, চৌমুহনা, সেন্ট্রাল রোড, কুসুমবাগ এলাকা প্রদক্ষিণ করে কুসুমবাগ এলাকায় এসআর প্লাজার সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন রেজিঃ বি-২০৩৭ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক মোঃ ছাদেক মিয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও সিলেট জেলা কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক রমজান আলী পটু।

মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ ২৩০৫ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিন মিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ-১৯৩৩ এর সহ-সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী, মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ-২৪৫৩ এর সভাপতি মোঃ সোহেল আহমেদ, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন কুলাউড়া উপজেলা কমিটির উপদেষ্ঠা মোঃ ছায়েদ মুন্সী ও আবুল কালাম, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন শেরপুর আ লিক কমিটির সভাপতি শংকর দাশ প্রমূখ। সমাবেশে বক্তারা সরকারের শ্রমআইন সংশোধনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন এ পর্যন্ত যতবার শ্রমআইন সংশোধন করা হয়েছে ততবারই শ্রমিকদের অধিকার কিছু না কিছু ক্ষুন্ন করা হয়েছে।

আইএলওসহ সাম্রাজবাদী বিভিন্ন সংস্থার চাপে সম্প্রতি সরকার মন্ত্রীসভায় শ্রমআইনের যে সংশোধণী অনুমোদন করেছেন সেখানেও মালিকদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিভিন্ন শর্ত, বর্তমান শ্রম আইনের ২৬ ধারাসহ শ্রমিক স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন বহাল রাখা এবং একজন শ্রমিকের মৃত্যুজনিত ক্ষতিপুরণ মাত্র ২ লাখ টাকার নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছেন।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন ২০০৯ সালের পর সরকার নতুন করে গত ১ মার্চ ২০১৭ তারিখে হোটেল সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য নি¤œতম মজুরির গেজেট(এসআরও নং ৩৮-আইন/২০১৭) প্রকাশ করেন, বর্তমান ঊর্দ্ধগতির বাজারদরে সরকার ঘোষিত মজুরিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে একজন শ্রমিক ১০ দিনও চলতে পারবে না। তারপরও মালিকরা সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরি কার্যকর না করে বে-আইনীভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।

শ্রম আইনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ ও বাসস্থানের বিধান থাকলেও আমরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে ও থাকতে হয়।  আমরা দৈনিক ১০/১২ ঘন্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হই।

সমাবেশ থেকে আসন্ন দুর্গা পূজায় হিন্দু শ্রমিকদের মাসিক বেতনের সমপরিমান উৎসব বোনাস প্রদান, বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ নি¤œতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা, হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরি কার্যকর, ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্রসহ শ্রমআইন বাস্তবায়ন, চাল ডাল তেল লবনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানো, দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পরিকল্পনা বাতিল, সর্বস্তরে রেশনিং চালু, গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন, সিলেটে স্থায়ী শ্রম আদালত স্থাপন ও ৯০ দিনের মধ্যে শ্রমআদালতের সকল মামলা নিষ্পত্তি করার দাবি জানান।

হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের সাংস্কৃতিক সচিব শায়ের মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরী বলেন, সুস্থ সংস্কৃতি চর্চাকে এগিয়ে নিতে না পারলে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদী বিভীষিকা থেকে নিষ্কৃতি মিলবে না। অপসংস্কৃতির প্রাবল্যকে ঢেকে দিতে সুস্থ মননশীল ইসলামী সংস্কৃতি চর্চা জোরদার করতে হবে।

তিনি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার নগরীর লালদীঘি  মাঠে হিজরি নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে সকলের অংশগ্রহণ কামনা করেন। আজ ০৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে চেরাগি পাহাড়স্থ র্কাযালয়ে হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের সাংস্কৃতিক কমিটির মতবিনিময় সভায় সভাপতি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুগ্ম সাংস্কৃতিক সচিব শায়ের মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন কাদেরীর স ালনায় মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সাংস্কৃতিক সচিব শায়ের মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরী।

মতবিনিময় সভায় দেশের খ্যাতনামা ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ শরফুদ্দিন আকবরি, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম কাদেরী, মুহাম্মদ মাসুদ রেজা, মুহাম্মদ শাহ আলম কাদেরি, মুহাম্মদ সরোয়ার উদ্দিন কাদেরি, মুহাম্মদ ইমরান হুসাইন কাদেরি, মুহাম্মদ বখতিয়ার উদ্দিন কাদেরি, মুহাম্মদ রিয়াদ বাদশাহ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুহাম্মদ ইমরান হুসাইন কাদেরি, মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম কাদেরি, সৈয়দ মুহাম্মদ নুরশেদ রেজা, মুহাম্মদ ইয়াসিন রেজা, মুহাম্মদ মামুন, মুহাম্মদ ইব্রাহীম তানভীর, আলামিন রেজা, মুহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম, হাফেজ মুহাম্মদ ইমাম হুসাইন, মুহাম্মদ এমদাদ হুসাইন, মুহাম্মদ ইব্রাহীম আরমান রেজা, মুহাম্মদ আরমান রেজা, মুহাম্মদ আসিফ রেজা, সৈয়দ মুহাম্মদ আব্দুল কাদের রেজা, হাফেজ মুহাম্মাদ মামুনুর রশিদ, মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন কাদেরি, মুহাম্মাদ শহিদুল ইসলাম, মুহাম্মাদ মাসুদ রানা, মুহাম্মাদ মুন্না, মুহাম্মদ মুরশেদ রেজা, মুহাম্মাদ শহিদুল ইসলাম, মুহাম্মাদ মাইনুদ্দিন চিসতি, মুহাম্মদ মুকাদ্দেস হুসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।প্রেস বার্তা

বেনাপোল প্রতিনিধি : শুক্রবার সকালে পুটখালীর বারপোতা গ্রামের একটি মাঠে অভিযান চালিয়ে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা ২৮০ পিস শাড়ি ও ৬ হাজার ৫শ’ পিস চশমা আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। এ সময় কোন পাচারকারীকে আটক করতে পারেনি তারা।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র খুলনা-২১ব্যাটালিয়নের পুটখালী ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মুন্সি লাবলু রহমান জানান, নিজস্ব সংবাদে জানতে পারি চোরাচালানীরা ভারত থেকে বিপুল পরিমান শাড়ি ও চশমা এনে বেনাপোল থানার অধীনস্থ বারপোতা গ্রামের একটি মাঠের মধ্যে অবস্থান করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে ২৬ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি ও চশমা আটক করেন।

আটক মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য ২৬ লাখ ১০ হাজার টাকা সিজার দেখিয়ে বেনাপোল কাস্টমসে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

বেনাপোল থেকে এম ওসমান: দেশের বৃহত্তর স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ যানজট দেখা দিয়েছে। টানা তিন দিনের লাগামহীন যানজট ও পণ্যজটে বেনাপোল বন্দর স্থবির হয়ে পড়েছে। আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে নেমে এসেছে অচলাবস্থা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পচনশীল পণ্যসামগ্রী। এতে করে দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারীসহ স্থানীয়রা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে দূরপাল্লার পরিবহন, পাসপোর্ট যাত্রীসহ পণ্যবোঝাই শত শত  ট্রাক। ঢাকা-কোলকাতা মহাসড়কের বেনাপোলে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে যানজটের। দিন দিন বাড়ছে পণ্য ও যানজট।

প্রতিবছর স্থলবন্দর বেনাপোল থেকে সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ৬/৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন তেমন হয়নি। জায়গা শেড ইয়ার্ড সংকট কমেনি। হাজারও ট্রাকের চ্যাচিসসহ আমদানি-রফতানিককৃত পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের প্রধান সড়কের উপরে রাখায় বাড়ছে যানজট ও পণ্যজট।

ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাসহ বন্দরের জায়গা স্বল্পতা, এখানে নেই কোন ট্রাফিক ব্যবস্থা, আছে চাঁদা কালেকশনের মহা-ব্যবস্থা। আমরা এইসব থেকে মুক্তি চাই।

ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাল জানান, সম্প্রতি বেনাপোল বন্দর এলাকা যান ও মানব চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত ভয়াবহ যান ও পণ্যজটের কবলে পড়ে দুর্ভোগ বাড়ছে মানুষের। পাসপোর্ট যাত্রীসহ পথচারী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা পড়ছেন বিপাকে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ ব্যবসায়ীরা। পণ্যজটে আটকা পড়ে খালাসে বিলম্ব হওয়ার ফলে লোকশান গুনতে হচ্ছে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন ও ভারত বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের উপ-কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, জায়গা ও ইকুপমেন্ট সমস্যা দীর্ঘদিনের। বন্দরে কমপক্ষে ৩শ’ একর জমি অধিগ্রহণ করে বাণিজ্যকে গতি ফেরাতে হবে। বেনাপোলে পণ্যজটের কারণে ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীরা অন্য বন্দর ব্যবহার করতে শুরু করেছে ।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক আমিনুর রহমান জানান, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে গতি ফেরাতে ও যানজট নিরসনে কাজ করছেন। দফায় দফায় প্রশাসন ও বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের সাথে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc