Tuesday 23rd of October 2018 11:58:07 PM

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ সড়ক আর সহপাঠী হত্যার বিচার দাবিতে রাস্তায় নেমেছে কোমলমতি শিশুরা। তারা আন্দোলন করে যাচ্ছে। এমনিতেই নৌপরিবহন মন্ত্রীর হাসিমুখের বক্তব্য আর শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনগণ। শহরে গণপরিবহন চালকদের আচরণ ও মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অনেক দিন ধরে। তারা যাত্রী বা রাস্তার মানুষদের মানুষ মনে করে না। এরই মধ্যে আজকের  শনির আখড়ার একটি ভিডিও চমকে দিচ্ছে সবাইকে।

কেবল ভিডিওটি মিলেছে। এই ভিডিও প্রসঙ্গে একটি ফেসবুক আইডি থেকে কিছু তথ্যও মিলেছে। বলা হচ্ছে এ ঘটনা আজকের, স্থান শনির আখড়া। পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হচ্ছিল। প্রতিটি গাড়ির ড্রাইভারের লাইসেন্স চেক করা হচ্ছিল। লাইসেন্স না থাকলে ড্রাইভারকে নামিয়ে ভাংচুর করা হচ্ছিল। একটি লেগুনার ড্রাইভারকে থামিয়ে লাইসেন্স চেক করার চেষ্টা করা হলে একজন ছাত্রের গায়ের ওপর দিয়ে উঠিয়ে দিয়ে চলে যায়। আমার কথা হচ্ছে বাস, পিকাপ ভ্যান, ট্রাক ড্রাইভাররা কি সাধারণ জনগণকে মানুষ মনে করে না নাকি? এই জাস্টিস ফর সেইফ রোডস আন্দোলনে যে ছেলেটির ওপর দিয়ে পিকাপ ভ্যান তুলে দিয়ে চলে গেলো সেই ছেলেটির দায়ভার কে নেবে? নাকি আরো মৃতদেহ লাগবে জাস্টিস পাওয়ার জন্য?
লোকেশন : শনির আখড়া’

অনেকে বলছেন, ওই ঘটনায় মোট ৩ জন আহত হয়েছেন। যে ছেলেটি গাড়ির নিচে পড়েছেন তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের সবাইকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। কিন্তু বেলা পৌনে দুইটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে আহত কোনো ছাত্রকে নেয়া হয়নি।

এদিকে, ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টের সূত্রে জানা যায়, গাড়ির নিচে পড়া ছেলেটি নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজের ছাত্র ফয়সাল আহমেদ।

ডেস্ক নিউজঃ বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের জের ধরে টানা তৃতীয় দিনের মতো বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।
এ সময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে হাতে হাতে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে আন্দোলন করে তারা। সহপাঠীদের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত চালক ও হেলপারের যথোপযুক্ত শাস্তিসহ রাজধানীর সব চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও দক্ষতা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয় আন্দোলন থেকে।
সকালে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথে অবস্থান নেয়। ফলে ওই রাস্তা নিয়ে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় একটি বাস আসলে শিক্ষার্থীরা চালকের কাছ থেকে দাবি নিয়ে নেয়। পরে পুলিশ এসে রেকার দিয়ে ওই বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়। পরে এই সড়ক দিয়ে সীমিত আকারে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা ও দুই-একটি গণপরিবহন চলাচল করছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভি মিছিল করছে। ফলে কাচপুরের দিকে রাজধানীরমুখী কোন বাস চলাচল করতে পারছে না। তবে রোগীবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও হজ যাত্রীদের গাড়ি চলাচল করছে।
রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিচিল করেছে।  ফলে আজিমপুর থেকে মিরপুরগামী রোডে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
উত্তরা হাউস বিল্ডিং মোড়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে। তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে। ডেমরা মা ও মাতৃসদন শিশু হাসপাতালের সামনে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। টঙ্গী সরকারি কলেজের সামনে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনে শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের এক শিক্ষার্থী পুলিশের মারধরে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় আজ শিক্ষার্থীরা সেখানে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে।
আজ বুধবার সকাল থেকে রাজধানীতে বাস চলাচল কমে গেছে। পূর্ব ঘোষিত পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের কোনো ধর্মঘট কর্মসূচিও নেই। এরপরও রাজধানীর প্রত্যকটি রুটে বেশির ভাগ বাস চলাচল করছে না। ফলে সকালে অফিস গন্তব্যের উদ্দেশে যারা বের হয়েছেন, তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। অ্যাপস ভিত্তিক যানবাহন, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশায় করে অফিস যেতে হয়েছে। বিভিন্ন রুটে দুই-একটি বাস চলাচল করলেও সেগুলোতে ছিল যাত্রীদের গাদাগাদি অবস্থা।

নিউজ ডেস্কঃ যানবাহন ভাঙচুরের প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে পরিবহন শ্রমিকেরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ আশপাশের জেলা শহরগুলোয় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় পরিবহনশ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিবহনশ্রমিকেরা সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় বিভিন্ন স্কুল–কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। শিক্ষার্থীদের মারধর করতে দেখা গেছে তাঁদের।পরিবহন শ্রমিকেরা সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় স্কুল–কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। ছবি: প্রথম আলো।পরিবহন শ্রমিকেরা সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় স্কুল–কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। ছবি: প্রথম আলো।প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকাল আটটার দিকে পরিবহনশ্রমিকেরা যানবাহন ভাঙচুর ও নিরাপত্তাদের দাবিতে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। মহাসড়কের দুপাশে (ঢাকাগামী ও চট্টগ্রামগামী) যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। গণপরিবহন ঢাকায় ঢুকতে ও ঢাকা থেকে বের হতে বাধা দেন। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।

পরিবহনশ্রমিকদের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। এ কারণে তাঁদের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হচ্ছে। পরিবহনশ্রমিকদের মারধর করা হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। পরিবহনশ্রমিকদের নিরাপত্তা দেওয়া না হলে কোনো গাড়ি চলবে না।নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট। ছবি: প্রথম আলো।নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট। ছবি: প্রথম আলো।শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় পরিবহনশ্রমিকেরা বিভিন্ন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান এবং তাঁদের মারধর করেন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে বাস পরিবহনশ্রমিকেরা তাঁদের নিরাপত্তার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন। এ ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চয়তা চান। নিশ্চয়তা পেলে তবে গাড়ি চালাবেন। অবরোধ তুলে নেবেন। তাঁদের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।সুত্র প্রথম আলো।

দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও চার্জশীট হয়নি, আসামীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদী ও সাক্ষীদের হুমকির অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জনদরদী চেয়ারমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক লতিফুর রহমান পলাশ হত্যার সাড়ে ৫ মাসে কেটে গেলেও এখনো দেয়া হয়নি মামলার চার্জশীট ।  চা ল্যকর এই মামলার বিচার নিয়ে অনেকটাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মামলার বাদী। হত্যা মামলাটির আসামীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সঠিক বিচারের আশায় মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তরের দাবি করেছেন। এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানালেন, তদন্তকাজ শেষ হলেই আদালতে চার্জশীট প্রদান করা হবে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারী দুপুর ১২টার দিকে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা লতিফুর রহমান পলাশকে গুলি করে ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ইউপি নির্বাচনের জের, রাজনৈতিক ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে বিরোধের জের ধরে তিনি খুন হন বলে শোনা যায। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই জেলা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু বাদী হয়ে  ১৫ জনকে আসামী করে লোহাগড়ায় থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৫, তাং-১৭/০২/১৮)।

এজাহারভূক্ত আসামীরা হলেন, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক কুমড়ি গ্রামের শরীফ মুনীর হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সংগঠনিক সম্পাদক দিঘলিয়া ইউপি নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রাথী মাসুদুজ্জামান, দিঘলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহম্মেদ মাসুম, দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ওহিদুর সরদার, কুমড়ি গ্রামের বদিউর রহমানের ছেলে হত্যা সহ প্রায় একডজন মামলার আসামী সোহেল খা, আ’লীগ নেতা শরীফ মুনীর হোসেনের ভাই শরীফ বাকী বিল্লাহ,  কুমড়ি গ্রামের বনি শেখ, কটু শেখ, হেদায়েত আলী. খায়ের শেখ, বাবু শেখ, রওশন শেখ, রিপন দত্ত, নজরুল ফকির ও রব মোল্যা।

ঘটনার পর এজাহারভূক্ত আসামী শরীফ মুনীর হোসেন ও শরীফ বাকী বিল্লাহ সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং পরে ৮ জন আসামী আদালতে আত্মসমর্পণ করে বর্তমানে জামিনে রয়েছে। এছাড়া ৪ জন আসামী এখনও ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে।

কুমড়ি গ্রামের (পশ্চিমপাড়া) আব্দুল আহাদ সরদার জানান, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দিঘলিয়া ইউনিয়নের কুমড়ি গ্রামে অন্তত ২৩টি হত্যাকান্ড ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটনার বলি হয়েছেন জনপ্রিয় চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান পলাশ। এ পর্যন্ত কোন মামলায় বিচার হয়নি। চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান পলাশের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় তিনি ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করেন। আওয়ামীলীগ থেকে মাসুদুজ্জামান মনোনয়ন পেলেও বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এছাড়া প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা জোটবদ্ধ হয়ে পলাশকে উপজেলা পরিষদের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। নির্মম এ হত্যাকান্ডের পর এখনও এলাকার মানুষ স্বাভাবিক হতে পারেনি। এদিকে আসামীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে কিছুদিন আগে মাসুদুজ্জামান মোটর সাইকেল মোহড়া সহ বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।

কুমড়ি গ্রামের শেখ খাজার মেয়ে মেঘা খানম দাবি করেন, চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান পলাশ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে গ্রামের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে না।

এই গ্রামের গৃহবধু চায়না পারভীন জানান, তাদের সন্তানরা স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পাচ্ছে। স্কুলে যাতায়াতের সময় আসামীরা ও তাদের লোকজন ধুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দিচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে তাদের সন্তানদের ক্ষতি করা হতে পারে বলে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে লতিফুর রহমান পলাশ নিহতের পর দিঘলিয়া ইউনিয়নে  উপ-নির্বাচনে তার স্ত্রী নীনা ইয়াছমিন বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।  তার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত পলাতক চার আসামীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। পাশাপাশি মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচারকার্য সম্পন্নের দাবি জানান। ইতিমধ্যে ১১ জন আসামী জামিনে এসে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এই মামলা বাদী হয়েছেন নিহতের বড় ভাই বীরমুক্তিযোদ্ধা নড়াইল জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুর রহমান হিলু। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার সাড়ে ৫ মাস অতিবাহিত হলেও মামলার চার্জশীট দেয়া হচ্ছে না। মামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ আসামীদের বাদ দেয়ার চক্রান্ত হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া আসামীদের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা  এজাহারভূক্ত আসামীদের বাইরে আরো ৩ জনের নাম অর্ন্তভূক্তি করে মামলাটিকে দূর্বল এবং জজমিয়া নাকটের সৃষ্টি করতে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তরের চিঠি আসলেও অজ্ঞাত কারনে চার্জশীট দিতে বিলম্ব করা হচ্ছে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হচ্ছে না।  ন্যায্য বিচার প্রাপ্তির আশায় তিনি এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার ওসি তদন্ত মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ চেয়ারম্যান পলাশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার ও অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।  মামলার তদন্ত কাজ শেষ হলেই আদালতে চার্জশীট প্রদান করা হবে’। তিনজন আসামী অর্ন্তভুক্ত সম্পর্কে বলেন, ‘তদন্ত সোর্সের মাধ্যমে এজাহারভূক্ত আসামীর বাইরে আরো তিনজনের জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে ৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে’। বাদীর সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মামলাটি যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে’।

এদিকে জনপ্রিয় চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান পলাশ হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা, দ্রুত চার্জশীট প্রদান ও মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তরের মাধ্যমে ভূক্তভোগী পরিবারটি যাতে ন্যায্য বিচার পান সেই দাবি করেছেন চেয়ারম্যানের শুভাকাঙ্খীরা।

প্রসঙ্গত, দিঘলিয়া ইউনিয়নের কুমড়ি গ্রামের মৃত গোলাম রসুল শেখের ছেলে নিহত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান পলাশ  ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে তিনি আ’লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন। এর আগেও তিনি একবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

অন্ধকার থেকে আলোকিত এবং দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট চান  জেলার নেতাকর্মিরা

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩ তম সাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস স্বরনে শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেছে জেলা যুবলীগ। স্থানীয় শহীদ মিনারে জেলা যুবলীগ সভাপতি নাহিদ আহমদের সভাপতিত্বে আগস্টের প্রথম প্রহর রাত বারোটা এক মিনিটে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নেছার আহমদ। এ সময় জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ রেজাউর রহমান সুমনসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতা কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।  ১৫ই আগস্টে নিহত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তাঁর পরিবারবর্গের স্বরনে এক মিনিট নিরবতা পালন শেষে শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিদেশ থেকে ফেরত এনে রায় কার্যকর করার দাবীও জানান জেলা যুবলীগ সভাপতি নাহিদ আহমদ । মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ বলেন আগষ্ট মাস বাঙ্গালী জাতির শোকের মাস। এই শোকের মাসে জেলা আওয়ামীলীগ সারা মাস ব্যাপি শোক সভাসহ  বিভিন্ন অনুষ্টান করে থাকে এবং বঙ্গবন্ধুর আর্থার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় ।  জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক  সৈয়দ রেজাউর রহমান সুমন বলেন জননেত্রি শেখ হাসিনার নির্দেশ মত মৌলভীবাজার জেলায় দূরভার গতিতে কাজ চলছে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে মৌলভীবাজার জেলা যুবলীগ যে ভাবে সংগঠিত সেটা প্রমান হবে আগামী নির্বাচনে।

দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হলে এবং অন্ধকার থেকে আলোকিত হতে হলে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবার নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করতে হবে। শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার শপথ করেন সবাই।

“১ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাসের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার”

ডেস্ক নিউজঃ মধ্যপ্রাচ্যের আমিরাতের যেকোনো জায়গায় ভিসা লাগাতে পারবে বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীরা মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত ডা. মোহাম্মদ ইমরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে আজ বুধবার (১ আগস্ট) হতে শুরু হচ্ছে তিন মাস মেয়াদী সাধারণ ক্ষমা। দেশটিতে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হতে এটি একটি বিশেষ সুযোগ।

এ সুযোগে দেশটিতে অবস্থানরত কয়েক হাজার অবৈধ দেশীয় প্রবাসীদের বৈধ হয়ে থাকতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ডা. মোহাম্মদ ইমরান। সাধারণ ক্ষমাকে সামনে রেখে গত সোমবার (৩০ জুলাই) বিকালে আবুধাবী দূতাবাস কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময় সভা করেছে আবুধাবী বাংলাদেশ দূতাবাস।

রাষ্ট্রদূত ডা. মুহাম্মদ ইমরান দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল এস এস বদিরুজ্জামানের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিক ও প্রবাসী নেতৃবৃন্দকে জানান, যারা আরব আমিরাতে বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসী আছেন তাদের বৈধ করার লক্ষে আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাসের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার।

যে সমস্ত অবৈধ অভিবাসীদের ভিসা লাগানোর ক্ষেত্রে প্রচুর টাকা জরিমানা আসায় ভিসা লাগাতে পারছেন না, তাদের দীর্ঘদিনের জরিমানা ক্ষমা করে ভিসা লাগানোর সুযোগ দেয়া হবে। তিনি আরো জানান, ভিসার জরিমানা ক্ষমা করে ৬ মাস মেয়াদের অস্থায়ী ভিসা দেয়া হবে এবং এ ৬ মাসের মধ্যে কাজের ভিসা খুঁজে বের করে ভিসা লাগাতে হবে।

বিশেষ করে অন্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীরাও যেকোনো কাজে, যেকোনো কম্পানিতে বজ যেকোনো জায়গায় ভিসা লাগাতে পারবেন বলে তিনি জানান।

রাষ্ট্রদূত জানান, যাঁদের পাসপোর্ট তামিম (স্থানীয় আরবী শব্দ, বিশেষ রিপোর্ট অর্থে) আছে তারা ৫০০ দেরহাম ফি দিয়ে তামিম তুলে নিতে পারবেন। এ ছাড়াও আউট পাস নিয়ে যারা দেশে যাবেন তাদের জন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না, তারা দূতাবাস হতে মাত্র ২০ দিরহাম দিয়ে আউট পাস নিয়ে দেশে চলে যেতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আবার আরব আমিরাতে আসতে পারবেন। যাদের পাসপোর্ট নাই তাদেরকে যাচাই বাছাই করে নতুন পাসপোর্ট বানানোর সুযোগ দিবে বাংলাদেশ দূতাবাস।

চলতি আগস্টের মধ্যে পাসপোর্ট সংক্রান্ত সকল কাজ শেষ করার জন্য তিনি সকলকে অনুরোধ জানান। যারা এ সুযোগে দেশে কিংবা ভিসা লাগাবে না তাদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

“এডভোকেট শামছুন নাহারকে সভাপতি ও হুসনা হুদাকে সাধারন সম্পাদক করে ৯১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন”

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জে দীর্ঘ ২২বছর পরে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১জুলাই) দিনব্যাপী সুনামগঞ্জ মহিলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে শহরের নতুন শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য এডভোকেট শামছুন নাহারের সভাপতিত্বে ও নারীনেত্রী সামিনা চৌধুরী মণির সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ সাফিয়া খাতুন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদিকা মাহমুদা বেগম (কৃক),কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারন সম্পাদিকা শিরিন রোখসানা,শিখা চক্রবর্তী,কামরুন নেছা মান্নান,সাংগঠনিক সম্পাদিকা দিলরুবা জামান,শেখ আনার কলি পুতুল,সুরাইয়া বেগম ইভা,প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদিকা নীলিমা আক্তার লিলি,তথ্য ও গবেষনা বিষয় সম্পাদিকা সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা,সদস্য বেরেকা সুলতানা,কণা জব্বার,শাহনাজ হাবিব,সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট আপ্তাব উদ্দিন,বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান,সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী হুসনা হুদা,জামালগঞ্জ উপজেরা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক হাফিজা আক্তার দিপু,সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া,জামালগঞ্জ যুব মহিলা লীগের আহবায়ক শাহানা আল আজাদ জেলা যুব মহিলালীগের আহাবয়ক সানজিদা নাসরিন ডায়না,তাহিরপুর যুব মহিলা আওয়ালীগের মনোয়ারা খাতুন,বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী মাফুজা বেগম প্রমুখ।

এতে জেলার ১১টি উপজেলার তৃণমূলের হাজারো মহিলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে পরে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার আসনের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য এডভোকেট সামছুৃন নাহার শাহান রব্বানীকে সভাপতি ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ নুরুল হুদা মুকুটের সহধর্মিনী জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী হুসনা হুদাকে সাধারন সম্পাদক করে ৯১সদস্যর বিশিষ্ঠ সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষনা করা হয়।

কমিটিতে কয়েকজনের নাম ঘোষনা করা হলেও বাকিদের নাম পরে ঘোষনা করা হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহসভাপতি পদে রিতা বেগম,রওশন আক্তার পুতুল,নাসিমা চৌধুরী এলি,রওশন সিদ্দিকা কেয়া,সহ সাধারন সম্পাদক কনিজ রেহলোমা রাব্বানী ভাষা,সেলিনা আবেদীন,সাদিয়া বখত সুরভী,সাংগঠনিক সম্পাদক মাজেদা বেগম,ফারজানা আক্তার প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্য বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সাফিয়া খাতুন বলেছেন,সংগঠনে পদ পদবী পাওয়া বড় কথা নয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর্দশকে কতটুকু অন্তর থেকে অনুসরণ হয় কিনা সে বিষয়টি সবাইকে বুঝতে হবে। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে,সেই ধারবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিটি নেতাকর্মীকে জনগনের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বুঝতে হবে আওয়ামীলীগ সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে দেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মকর্ম নির্বিঘেœ পালন করতে পারেন। তিনি আরো বলেন,ক্ষমতায় মোহে কোন নেতাকর্মী যদি দলে বিভাজন সৃষ্টি করেন তাহলে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার মনোনীত নৌকার প্রার্থীরা পড়ে যাবেন বেকায়দায়। তখন এই সুযোগটুকু কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরনী পাড় হওয়ার চেষ্টা চালাবে স্বাধীনতা বিরোধী জামাত শিবির ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট।

কাজেই আজ থেকে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত শিবির ও বিএনপি জোটের যে কোন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকান্ড প্রতিহত করতে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদিকা মাহমুদা বেগম (কৃক) বলেন,দীর্ঘ ২২বছর পরে হলেও হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের নারী সমাজ আজ যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি সংগঠন পরিচালনা করার সুযোগ পাবে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা অত্যাচার আর নির্যাতন রোধ এবং এ অঞ্চলের নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠনের নারীনেত্রীরা কাজ করার সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে নারীদের ছিল গৌরব উজ্জল ভূমিকা । মনে রাখতে হবে আমাদের দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তার দূরদর্শি চিন্তা চেতনা আর যোগ্য নেতৃত্বের কারণে বিশে^ বাংলাদেশ একটি রোল মডেল। আজ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের মাধ্যমে বিশ^কে জানিয়ে দেয়া হলো বাংলাদেশ কোন ভিক্ষুকের জাতি নয়,তথ্য প্রযুক্তির দিকে দেশ অনেক এগিয়েছে।

আজ গ্রামের মানুষজন ঘরে বসে তথ্য সেবা পাচ্ছেন মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার ফলে সাধারন মানুষজন সচেতন হচ্ছেন,দারিদার অভিশাপ থেকে আস্তে আস্তে জাতি মুক্ত হচ্ছেন। শেখ হাসিনার কারণে দেশে র্দূভিক্ষো আর নেই মংগা নেই,সবাই দু’বেলা দু’মুঠো ভাত পেঠ ভরে খেতে পারছেন। তাই আদর্শ ও ত্যাগ নিয়ে জনকল্যাণে রাজনীতি করাই হলো প্রকৃত রাজনীতিবিদের মূল লক্ষ্যে। এজন্য সুনামগঞ্জের তৃণমূলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আরো সুসংগঠিত হয়ে গ্রামে গ্রামে ঘরে ঘরে গিয়ে নৌকার প্রার্থীদের পক্ষে গনজোয়ার সৃষ্টি করার আহবান জানান।

বিক্রমজিত বর্ধন,নিজস্ব প্রতিনিধি:মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন-২০১৮।

সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শহরতলীর ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ দত্ত, নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গোপন ভোটের মাধ্যমে আগামী তিন বছরের জন্য ৩৩৫ জন ভোটারের মধ্যে ৩৩৩ জন ভোটার ভোট প্রদান করেছেন। নির্বাচনে ২৭টি পদের বিপরীতে ‘ঝলক-মনসুর’ ও ‘নোমান-বিপ্লব’ দুই প্যানেলের ৫৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

সভাপতি পদে ‘ঝলক-মনসুর’ প্যানেলের ভূনবীর দশরথ স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ঝলক কান্তি চক্রবর্তী ১৮৯ ভোট ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনসুর ইকবাল ১৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

অন্যান্য পদসমূহের মধ্যে সিনিয়র সহ-সভাপতি ধোবার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃপেশ চন্দ্র দেব ১৯৪ ভোট ও আব্দুল ওয়াব উচ্চ বিদ্যালয়ের খালেদ মো. আব্দুল বাছিত ১৭০ ভোট, সহ-সভাপতি পদে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান ১৯২ ভোট ও রানার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল হক ১৫৩ ভোট, যুগ্ন সম্পাদক পদে মো. আব্দুল বাছিত ১৮৫ ভোট ও সুমন সরকার ১৮০ ভোট, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. আফজল মিয়া ১৬৫ ভোট, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জেসমিন আক্তার ১৭৬ ভোট, কোষাধ্যক্ষ পদে মো আখতার হোসেন ১৮০ ভোট, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে করুনাময় দাশ ১৯৫ ভোট, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে রনজিত কুমার পাল ১৮১ ভোট, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে দেবতোষ দাশ ২০৮ ভোট, দপ্তর সম্পাদক পদে মো. আব্দুল মোতালিব ১৭১ ভোট, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে শাহিনা আক্তার ১৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়াও কার্যকরী সদস্য পদে মো. জাবেদ মিয়া ২২৯ ভোট, হিরন্ময় দেব ২০৭ ভোট, পংকজ কান্তি ভট্টাচর্য্য ১৭২ ভোট, অলক পাল ১৭১ ভোট, মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ১৬৪ ভোট, কৃপেশ চন্দ্র বিশ্বাস ১৬২ ভোট, মো. আব্দুস সালাম ১৫৮ ভোট, সাইফুল আলম ১৫৫ ভোট, সুমন কান্তি পাল ১৫৫ ভোট, মো. শাখাওয়াত হোসেন ১৫২ ভোট ও সুবাস রবিদাস ১৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc