Saturday 17th of November 2018 04:42:43 PM

অবশেষে শেষ হলো নাফিসা টেলিফিল্ম’র ব্যানারে নির্মিত বাস্তবধর্মী স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘‘ ইসসিরে ’’র চিত্রগ্রহণ। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলাধীন চিনারদী গ্রামের ৪টি সুন্দর লোকেশনে এটির দিবারাত্রি চিত্রগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাব্বির আহমেদ সেন্টুর চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় এটির চিত্রগ্রহণে ছিলেন নাট্যকার ও পরিচালক এম আর হায়দার রানা। সহকারি চিত্রগ্রাহক ছিলেন সুজন ও রাব্বী। পরিচালনা সহকারি হিসেবে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা পারভেজ শরীফ।

সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সাউন্ডটেক ক্যাসেট কোম্পানীর প্রযোজক মিলন সরকার,নাট্যাভিনেতা সাংবাদিক সাইফুল্লাহ মাহমুদ টিটু,ফজর আলী লুঙ্গি’র মডেল সামসুল হাসান,মিডিয়া ভিশন কালচারাল একাডেমীর পরিচালক সোনিয়া আহমেদ ও মোঃ জামান।

চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেন মীর আনোয়ার হোসেন,মাসুম,মিতু মফিজ,তোতা,হানিফ,বাবু,ওয়ালিউল্লাহ,সুমন,বকুল,নুরুজ্জামান,শহীদ,ফয়সালউল্লাহ,জুয়েল,মনিষা,জয়, সুরমি,লগ্ন,আপন,জামান,মোহন,সাইদুর,সুভাস ও শিশু শিল্পী ফাতেমা।

আসন্ন ঈদ উল আযহায় চলচ্চিত্রটি দেশের একটি প্রথম শ্রেণীর স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার হবে। শর্টফিল্মটি’র চিত্রগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় পরিচালক সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন,বর্তমান প্রেক্ষাপটের উপর নির্মিত চলচ্চিত্রটি আশা করি ভাল লাগবে এবং সব সময় যেন দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী নতুন কিছু উপহার দিতে পারি সেই প্রত্যাশা ও দোয়া সবার কাছ থেকে কামনা করছি।

পরিশেষে তিনি কলাকূশলদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে শ্যূটিং স্পট চিনারদী ও বেজেরগাঁও গ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শর্টফিল্মটি বর্তমান প্রেক্ষাপটের উপর নির্মিত। যেই মুহুর্তে সরকার তৃতীয় লিঙ্গের লোকজনদেরকে তাদের অধিকার নিশ্চিতকরণে উদ্যোগ নিচ্ছে ঠিক সেই মুহুর্তে তাদের কিছু বিপথগামীরা দেশের আনাচে কানাচে নিরীহ লোকজনের কাছ থেকে নানা অজুহাতে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। কেউ না দিলে তাদেরকে করা হচ্ছে নাজেহাল এমনকি অপ্রীতিকর ঘটনারও জন্ম দিচ্ছে তারা। এই সকল কাহিনী তুলে ধরতেই নাফিসা
টেলিফিল্ম এর এই প্রয়াস।

ডেস্ক নিউজঃ মিথ্যা তথ্য ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানাকে ৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আসামির অনুপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার-৭ এর বিশেষ জজ শহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।বর্তমানে সাবিরা সুলতানা পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে রেলওয়ের কোটি টাকার সম্পদ অযতœ অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব সম্পদের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় দিনের পর দিন হারিয়ে যাচ্ছে রেলওয়ের রেললাইনসহ মূল্যবান সম্পদ। সেই সাথে বেদখল হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা ও জায়গা। ফলে রেলওয়ে আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আত্রাই পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন থেকে বর্তমান স্টেশন আহসানগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার একাধিক লাইন দীর্ঘদিন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এ লাইনগুলো পরিত্যক্ত থাকায় একদিকে যেমন অযতেœ অবহেলায় বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে অপরদিকে তেমনি অনেকটা বেদখল হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়াও রেলওয়ের বিশাল গুদাম ও টিকিট ক্যালেক্টর ভবন পরিত্যক্ত থাকায় দিন দিন এর মূল্যমান জিনিসপত্র হারিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ওই ভবনের দরজা জানালা উধাও হয়ে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। এ দিকে রেলের এসব স্থাপনা পরিত্যক্ত থাকায় এবং রেলের নিজস্ব আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন তৎপরতা না থাকায় এসব স্থাপনা অনেকটা অসামাজিক কার্যকলাপে আখড়ায় পরিনত হয়েছে।

রেলওয়ের পক্ষ থেকে এসব স্থাপনা সংস্কার বা ভেঙ্গে দিয়ে বিস্তীর্ণ এ এলাকাজুড়ে মার্কেট গড়ে তুললে একদিকে রেলের রাজস্ব আয় হবে অনেক বেশি অপর দিকে কর্মসংস্থান খুঁজে পাবে এলাকার শত শত বেকার।

আত্রাই রেল স্টেশন সংলগ্ন ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের ফজলুর রহমান বলেন, রেল কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণে রেল প্রতিনিয়ত লোকসানের শিকার হচ্ছে। আত্রাই রেল স্টেশনের নীচ দিয়ে কেডিসি পর্যন্ত তাদের গুদাম ও অন্যান্য পরিত্যক্ষ স্থপনা সরিয়ে এখানকার জায়গা দখলমমুক্ত করে মার্কেট তৈরি করলে রেল প্রতি মাসে প্রচুর রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, গুদামের উত্তর , দক্ষিন ও পশ্চিমাংশ বেদখল হয়ে গেছে। এভাবে পড়ে থাকলে কিছুদিন পর হয়ত গুদামের টিনও খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার ছাইফুল ইসলাম বলেন, নিচের গুদামঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিছুদিন পূর্বে গুদামঘরটি লিজ দেয়ার প্রক্রিয়ার কথা শোনা গেলেও মাঝপথে তা বন্ধ হয়ে যায়।

ডেস্ক নিউজঃ আমি একজন মা হয়ে দেশের মায়ের কাছে ছেলের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। তিনি আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিক। চাকরি লাগবে না, আমি সন্তানের মুক্তি চাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ছেলেকে ভিক্ষা চাই।’ গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে ছেলেকে ফিরে পেতে এভাবেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানান মোহাম্মদ রাশেদ খানের মা সালেহা বেগম।

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একজন যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান।

আন্দোলনে সহিংসতা সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার রাশেদকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর পরই ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় ছুটে আসেন তার মা।সালেহা বেগম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তো আমাদের মা, দেশের মা। তার কাছে আমার সন্তানকে ভিক্ষা চাই। সে যেন মুক্ত হয়ে পড়ালেখা করতে পারে, বাকি পরীক্ষাগুলো যেন দিতে পারে আমি সেটা চাই। আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার সোনামণির মুক্তি চাই।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই মা বলেন, ‘আমি এখন কী করব, আমার সোনামণির কোনো দোষ নাই। তবুও আমি তার অপরাধের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তিনি তো চাইলেই আমার ছেলেকে ক্ষমা করে দিতে পারেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) ডিবি অফিসের সামনে রাশেদের সঙ্গে ভাগ্যক্রমে আমাদের দেখা হয়। রাশেদ আমাদের বলেছে, তাকে যেন না মারে সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাতে। তার মুক্তির জন্য যেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করি। সে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়নি, সে শুধু চাকরির কোটা সংস্কার চেয়েছিল। এখন আমাদের এর (কোটা সংস্কার) আর প্রয়োজন নেই। আমার সোনামণির মুক্তি চাই।’ রাশেদকে নিয়ে নিজের জীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে সালেহা বেগম বলেন, ‘পরের বাড়িতে কাজ করে তারে পড়াশোনা করালাম; এখন তার হাতে হাতকড়া পরানো হইছে। আমি তারে ছাড়া কেমনে চলব। আমি এখন তারে ছাড়া রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে রাশেদের স্ত্রী রাবেয়া আলো বলেন, ‘রাশেদকে মুক্তি দিলে সে আর আন্দোলন করবে না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার মুক্তি চাই।’ এ সময় রাশেদের বোন সোনিয়া আক্তারও উপস্থিত ছিলেন। গত ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খানকে মিরপুরের ভাসানটেকের একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করে। পরে তাকে প্রথম দফায় ৫ দিনের রিমান্ড শেষে দ্বিতীয় দফায় আরও ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।আমাদের সময়।

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুরে (সিলেট) প্রতিনিধি:“পরিকল্পিত পরিবার সুরক্ষিত মানবাধিকার” শ্লোগানে এবার সারা দেশের ন্যায় জৈন্তাপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়।

গতকাল ১১ জুলাই বুধবার সকাল ১১টায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, জৈন্তাপুরে আয়োজনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০১৭ পালিত হয়। “পরিকল্পিত পরিবার, সুরক্ষিত মানবাধিকার” প্রতিপাদ্য বিষয় সামনে রেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে সকাল ১১টায় বিশাল শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোভা যাত্রাটি পুনরায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে শেষ হয়। দুপুর ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হল রুমে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ হারুনুর রশিদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌরীন করিম।

বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ৪নং দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, জৈন্তাপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন সহকারী অফিসার জসিম উদ্দিন, ব্র্যাক ম্যানোজার নাসির মাহমুদ, জেছিছ জৈন্তাপুর অফিসের ম্যানোজার আবুল কালাম আজাদ, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক অর্থ সম্পাদক গোলাম সরওয়ার বেলাল, অফিস সহকারী অনুক খাসিয়া, স্বাস্থ্য পরিদর্শীকা উজ্জ্বলা বালা, আতিয়া বেগম প্রমুখ।

এছাড়া আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহাজাহান কবির খাঁন, এফডাব্লিউভি, এফডাব্লিউএ, এসএসিএমও, ইউএফপিএ, এফপিআই সহ বিভিন্ন সংস্থার ও নির্বাচিত প্রতিনিধি বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান চৌধুরী উপজেলা পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। পরিশেষে তিনি বলেন প্রতিটি গর্ভই হোক পরিকল্পিত, প্রতিটি জন্মই হোক নিরাপদ। স্বামী-স্ত্রী দু’জন মিলে সেবা কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের পদ্ধতি বেছে নিন। গুজবে কান না দিয়ে পদ্ধতি ছাড়বেন না, অধিক সন্তান নিয়ে বিপদে পড়বেন না। মা ও শিশুর জীবন যদি রক্ষা করতে চান, নিরাপদ প্রসবের জন্য সেবা কেন্দ্রে যান। বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যা সমাধানে, আপনার সন্তানের সাথে খোলা মনে আলাপ করুন। জানেন কী? সুখী পরিবার গঠনে এবং সন্তান লালন পালনে স্বামী-স্ত্রীর সমান দায়িত্ব। মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বৎসর পর্যন্ত বুকের দুধ পান করাবেন। দুই সন্তানে গড়ি ঘর, ধনে জনে স্বনির্ভর। এই বার্তা গুলো উপজেলা প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পৌছে দেওয়ার আহবান জানান।

প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য বক্তারা বলেন- অতিথের তুলনায় জৈন্তাপুর পরিবার পরিকল্পনা গ্রহনে অনেকটা অগ্রসর হয়েছে। আগামী দিনে আমরা সমাজের সচেতনরা বার্তা গুলো সর্বস্তরে পৌছে দিতে পারলে আমাদের উপজেলাকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ট উপজেলা হিসাবে মডেল স্থাপন করতে পারব এই জন্য সবাইকে কাজ করার আহবান জানান। প্রধান অতিথি পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সেবা প্রদানের মাধ্যমে নিরলস ভাবে কাজ করার অতিতের মত এবারও জৈন্তাপুর উপজেলা সিলেট বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ট পুরুস্কারে পুরস্কৃত হওয়ার গৌরভ অর্জন করায় তিনি সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সেই সাথে বিজয়ী প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিদের কাছে পুরস্কার তুলে দেন।

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে ‘আপত্তিকর’ বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদ এ পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করেন মামলার বাদী এ বি সিদ্দিকী। তাকে আইনগত সহযোগিতা করেন আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ ও রওশন আরা সিকদার ডেইজি।

শুনানি শেষে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই সঙ্গে গ্রেফতার-সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

গত ১ জুলাই ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে খালেদা ও গয়েশ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক জাফর আলী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে বলা হয় এত লাখ শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘তিনি (শেখ মুজিবুর রহমান) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হত না।’

অন্যদিকে মামলার অপর আসামি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা নির্বোধের মতো মারা গেছেন। একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পাকিস্তানের বেতন-ভাতা খেয়েছেন, তারা নির্বোধের মতো মারা গেলেন? আর আমাদের মতো নির্বোধরা শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাদের কবরে ফুল দেই। আবার না গেলে পাপ হয়। তারা যদি বুদ্ধিমান হন, তাহলে ১৪ তারিখ পর্যন্ত নিজের ঘরে থাকলেন কীভাবে?’

এসব বক্তব্য বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর ১শ’ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

ডেস্ক নিউজঃ থাইল্যান্ডের একটি পাহাড়ের গুহায় ১৭ দিন ধরে আটকা থাকার পর ১২ জন কিশোর ফুটবলার এবং তাদের কোচকে উদ্ধার করা হয়েছে। পানিতে ডুবে যাওয়া গুহার ভেতর থেকে তাদের শেষ পর্যন্ত বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন ডুবুরিরা।

তাদের আটকে পড়া, বেঁচে থাকা এবং উদ্ধার করার কাহিনি সারা বিশ্বের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সবচেয়ে বিস্ময় হলো, এই ১৭ দিন তারা কীভাবে বেঁচে ছিল?

তাদের নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর তাদের সম্পর্কে প্রথম জানা গিয়েছিল। গুহার মুখে রেখে যাওয়া তাদের সাইকেলের সূত্র ধরে ব্রিটিশ ডুবুরিরা তাদের খুঁজে বের করেন। তখনই প্রথম জানা যায় যে তারা থাম লুয়াং নামের ওই গুহার আড়াই মাইলেরও বেশি গভীরে আটকা পড়ে আছে। গুহাটির কোথাও কোথাও এমনভাবে প্লাবিত হয়ে যায় যে সেপথ দিয়ে শিশুরা বের হয়ে আসতে পারছিল না।

তাদের খোঁজ পাওয়ার আগে ৯ দিন ধরে এই ফুটবলারদের দলটিকে গুহার অন্ধকারের ভেতরে বেঁচে থাকতে হয়েছে। তাদের খোঁজে কীভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে সে সম্পর্কে তখনও পর্যন্ত তাদের কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তু এই এক সপ্তাহেরও বেশি সময় কীভাবে বেঁচে ছিল তারা?

বলা হচ্ছে, পাহাড়ের ভেতরে চুইয়ে পড়া ফোঁটা ফোঁটা পানি, ওয়াইল্ড বোয়ার নামক ফুটবল দলের একজন সদস্যের জন্মদিন উপলক্ষে তারা যে স্ন্যাকস বা খাবার-দাবার সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন সেসব খেয়ে এবং মেডিটেশন বা ধ্যান করেই তারা এতদিন নিজেদের জীবন রক্ষা করেছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, তাদেরই একজনের জন্মদিন উপলক্ষে সারপ্রাইজ পার্টি করার জন্যে তারা গুহার ভেতরে ঢুকেছিলেন। কিন্তু পরে প্রবল বৃষ্টির কারণে গুহার ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করলে তারা পালাতে পালাতে গুহার এতটা গভীরে চলে গেছেন।

জন্মদিনের ওই ছেলেটির নাম পীরাপাত সম্পিয়াংজাই। ২৩ জুন, সেদিন তার বয়স হয়েছিল ১৭ বছর এবং ওই দিনেই তারা গুহার ভেতরে ঢুকেছিল। ২৩ জুন থেকেই এই শিশুদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

পীরাপাত সম্পিয়াংজাইয়ের জন্মদিন উপলক্ষে দলের অন্য ছেলেরা খাবার কিনে নিয়ে গিয়েছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে গুহার ভেতরে আটকা পড়ার পর এসব স্ন্যাক্স খেয়েই তারা বেঁচে ছিল।

বলা হচ্ছে, এই কিশোর ফুটবলারদের কোচ একাপল চানতাওং, বাচ্চাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার কমে যাওয়ার আশঙ্কায় গুহার ভেতরে এসব খাবার খেতে রাজি হননি। ফলে ২ জুলাই ডুবুরিরা যখন এই ফুটবল দলটিকে গুহার ভেতরে খুঁজে পেলেন, তখন শারীরিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল ছিলেন কোচ একাপল।

তাদের সন্ধান পাওয়ার পর তাদের বাইরে থেকে খাবার দেওয়া শুরু হয়। ‘এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে সহজে হজম হয় এরকম খাবার, শক্তিদায়ক খাদ্য যেগুলোতে মিনারেল ও ভিটামিন মেশানো হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শেই তাদের এসব খাবার দেওয়া হয়’, বলেছেন উদ্ধারকারী দল থাই নেভি সিলের প্রধান এডমিরাল আরপাকর্ন ইওকোংকাওয়ে।
কিন্তু তার আগ পর্যন্ত জন্মদিনের খাবার খেয়েই বেঁচে ছিলো তারা।

কর্তৃপক্ষ এও বলেছে, গুহার দেয়াল থেকে যেসব পানি চুইয়ে চুইয়ে পড়েছে সেসব পানি খেয়েছে বাচ্চারা। কারণ গুহায় প্লাবিত হয়ে যাওয়া বৃষ্টির পানি ছিল ঘোলা ও নোংরা।

এই কিশোরদের উদ্ধার করার পর চিকিৎসকরা তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বলেছেন, তারা ভালো আছে। ‘তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা ভাল। মানসিকভাবেও তারা সুস্থ আছে’, বলেছেন থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য বিভাগের একজন পরিদর্শক থংচাই লের্তওলিরাতানাপং। তবে তিনি বলেছেন যে বেশিরভাগ শিশুরই গড়ে দুই কেজি করে ওজন কমেছে।

উষ্ণতা
সাধারণত প্লাবিত হয়ে যাওয়া কোনো গুহার ভেতরে কেউ বেশি সময় ধরে আটকা পড়ে থাকলে তার হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ব্রিটিশ কেভিং এসোসিয়েশনের সাবেক প্রধান এন্ডি এভিস বিবিসিকে বলেছেন, ‘বিশ্বের ওই এলাকায় গুহার ভেতরে বাতাসের তাপমাত্রা বেশিই হয়ে থাকে।’ তারপরেও ওই কিশোররা সতর্কতা হিসেবে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছিল।

থাই কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেছেন, ‘নিজেদের উষ্ণ রাখার জন্যে তারা গুহার ভেতরে পাঁচ মিটার গভীর একটি গর্ত খুঁড়েছিল। পাথর দিয়ে এই সুড়ঙ্গটা তৈরি করেছিল তারা। নিজেদের উষ্ণ রাখতে তারা ওই সুড়ঙ্গের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিল।’

বাতাস
শিশুরা যখন গুহার ভেতরে আটকা পড়ে তখন বাতাস প্রাথমিকভাবে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ ছিল না। ‘বেশিরভাগ গুহাই প্রাকৃতিকভাবে নিশ্বাস নিতে পারে’, বলেন যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় গুহা উদ্ধার কমিশনের সমন্বয়কারী আনমার মির্জা। ‘গুহার ভেতরেও বাতাস ঢুকতে ও বের হতে পারে। গুহার যেসব জায়গায় লোকজন যেতে পারে না সেখানে কিন্তু বাতাস প্রবাহিত হয়।’

কিন্তু তারপরেও যত দিন গড়িয়েছে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা ততটাই কমে গেছে। বলা হচ্ছে, শিশুরা যেখানে আশ্রয় নিয়েছিল সেখানে অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা হওয়ার কথা ছিল ২১ শতাংশ। কিন্তু সেটা নেমে গিয়েছিল ১৫ শতাংশে।

পরে বাচ্চাদের কাছে অক্সিজেন পৌঁছে দিয়েছিল ডুবুরিরা। থাই নেভির সাবেক একজন ডুবুরি গুহার গভীরে অক্সিজেনের বোতল সরবরাহ করে ফেরার পথে নিজেই অক্সিজেনের অভাবে মারা যান।

মানসিক অবস্থা
আরেকটি বড় দুশ্চিন্তা ছিল শিশুদের মানসিক অবস্থা। কারণ তাদের থাকতে হয়েছে গাঢ় অন্ধকারের ভেতর, দিনের পর দিন। সূর্যের আলো বহুদিন তাদের কাছে পৌঁছায়নি। সময় সম্পর্কেও তাদের কেনো ধারণা ছিল না যে কখন রাত আর কখন দিন হচ্ছে। এমনকি তাদের খোঁজে বাইরে যে বড় ধরনের তল্লাশি চলছিল সে সম্পর্কেও তাদের কোনো ধারণা ছিল না।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে শিশুদের শান্ত রাখতে একটা বড় ভূমিকা ছিল তাদের কোচের।

মানসিক চাপ মোকাবেলায় তিনি তাদের মেডিটেশন করিয়েছেন গুহার ভেতরে। ফুটবল কোচ হওয়ার আগে তিনি ছিলেন একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু। কর্মকর্তারা বলছেন, একই সাথে গুহার বাতাস যাতে বেশি ব্যবহার করা না হয়ে যায় সে বিষয়েও সচেতন ছিলেন তিনি। পরে যখন উদ্ধাকারীরা বাচ্চাদের কাছে গিয়ে পৌঁছায় তখন তারা তাদের পরিবারের জন্যে লিখে পাঠায় চিঠি।

এরকম এক চিঠিতে কোচ শিশুদের পিতামাতার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তাদেরকে গুহার ভেতরে নিয়ে যাওয়ার জন্যে। কিন্তু অভিভাবকরা পাল্টা জবাবে বলেছেন, এজন্যে তারা কোচকে দায়ী করেন না।

তবে গুহার ভেতর থেকে লেখা চিঠিতে কোচ লিখেছিলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, শিশুদের রক্ষা করতে আমার পক্ষে যতটা করা সম্ভব আমি তার পুরোটাই করব।’

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc