Saturday 21st of July 2018 06:01:09 AM

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:কমলগঞ্জে বহু মামলার এক পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার সময় সংঘবদ্ধদল হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আসামীকে ছিনিয়ে নেয়।  জোর পুলিশি সাড়াশি অভিযানে ৬ ঘন্টা পর ছিনিয়ে নেওয়া আসামীসহ ৫জনকে আটাক করেছে পুলিশ। হামলায় একজন এসআই ও একজন এএসআইসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহাত হয়েছে। গত শনিবার( ৩০ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ভেড়াছড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

কমলগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় ভেড়াছড়া গ্রামের লিয়াকত মিয়ার দোকানের সামন থেকে ১১টি মামলার পলাতক আসামী ভেড়াছড়া গ্রামের রহমান মিয়ার ছেলে সোয়েব আহমদ (৩৮)কে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার সময় এ গ্রামের জুবের মিস্ত্রীর বাড়ির সামনে আসা মাত্রা ৩০/৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে আসামী সোয়েবকে ছিনিয়ে নেয়। হামলায় উপ-পরিদর্শক জাকির হোসেন (৫৭), উপ-সহকারী পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম (৩৮), ৮৩৩ নং পুলিশ সদস্য মামুনুর রশীদ (২৫) ও ৭৫৫ নং পুলিশ সদস্য আব্দুল মজিদ (২৮) আহত হয়েছেন বলে জানান, উপ-পুলিশ পরিদর্শক চম্পক ধাম।আহত পুলিশ সদস্যদের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার পর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো: আশরাফুজ্জামানের উপস্থিতিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে ভেড়াছড়া গ্রামসহ আশপাশের গ্রামে সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে ৬ ঘন্টা পর ভোর রাত সাড়ে ৩টায় ছিনিয়ে নেওয়া আসামী সোয়েব আহমদসহ আরও ৪ জনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত অন্যরা হল লিয়াকত মিয়া (৩৭), লুৎফুর (৪০), শাহাবউদ্দীন (২৯) ও লাল মিয়া (৪৫)। হামলা চালিয়ে পুলিশের কাছ থেকে আসামী ছিনিয়ে নেওয়া ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আর ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে রোববার বেলা ৩টায় কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোকতাদির হোসেন পিপিএম এ মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সোয়েব আহমদসহ রোববার ভোর রাতে গ্রেফতার হওয়া ৫জনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃসাত বছরের ফুটফুটে শিশু ফাহিম। মায়াবী চাহনি আর ফুটফুটে চেহারা দেখে কেউ বুঝতেও পারবে না তার শরীরে বাসা বেঁধেছে মরন ব্যাধি ব্লাড ক্যান্সার। যে বয়সে মায়ের কোলে বসে গল্প শোনার কথা সে বয়সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে মায়ের কাছে জীবন মৃত্যুর পার্থক্য জানতে চায় শিশুটি। মায়ের মমতাময় হাতের স্পর্শে বার বার খুঁজছে বেঁচে থাকার মানে।

বছর দুয়েক হল স্কুলে যাওয়া শুরু করেছিল ফাহিম। পড়াশুনা করে মা বাবার মুখে হাসি ফোটাবে সে। ছোট্ট জীবনে তার স্বপ্ন এটুকুই। কিন্তুু আশার মাঝে নিরাশা হয়ে স্বপ্নটি থমকে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বেডে। সেখানে প্রহর গুনছে আবার স্কুলে যাবার। ছলছল নয়নে এদিক ওদিক তাকিয়ে বার বার প্রত্যাশা করছে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো ধুলোমাখা মাঠে ফিরে যাবার।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য টিপু সুলতান। অবসর গ্রহণের পর স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে স্বাচ্ছন্দে দিন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সালে হঠাৎ করে দ্বিতীয় সন্তান ফাহিম দুরারোগ্য ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তার সোনার সংসারের সলিল সমাধি ঘটে। দীর্ঘ দুই বছর যাবত হতভাগা ফাহিম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ খসরুর তক্তাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে যাবতীয় পেনশনের টাকা শেষ করে আজ তিনি ঋণ গ্রস্থ হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন,টাকার অভাবে আমি আমার সন্তানকে সুচিকিৎসা করাতে পারছি না। আজ আমি পিতা হিসেবে ব্যর্থ। সন্তানের মুখের দিকে তাকালে নিজেকে কতটা অসহায় লাগে তা আজ আমি হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছি। তাই আজ আমি অসহায় এক সন্তানের পিতা হিসেবে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে,যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমীপে আরজি করছি যে, আপনি আমার হতভাগা সন্তানের চিকিৎসা প্রদানে মানবিক সহায়তা প্রদান করে আমি এক দুঃখী পিতাকে উপকৃত করবেন বলে আশা রাখছি।

নিশাত আনজুমান, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বাস উল্টে গিয়ে সড়কের পাশের ফসলি জমিতে গিয়ে পড়ে। এতে বাসে থাকা ৩০ যাত্রী আহত হন।

রোববার সকাল ১০টার দিকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার ভাল্কী পুলিশ বক্স এলাকায় আক্কেলপুর-জয়পুরহাট সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতাল ও আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, দুর্ঘটনার সময় চালক ও তাঁর সহকারী বাসের জানালা দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পালিয়ে যান।

সরেজমিনে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামাদ পরিবহন (বগুড়া-ব-১৭৪২) নামের বাসটি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আক্কেলপুর বাস টার্মিনাল থেকে জয়পুরহাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। বাসে ৩০ জন যাত্রী ছিলেন। হালির মোড় অতিক্রম করার পর বাসচালক তাঁর পাশে বসা এক যাত্রীর সঙ্গে খোশগল্প শুরু করেন। ভাল্কী পুলিশ বক্স এলাকায় বাসটি উল্টে সড়কের পাশের ফসলি জমিতে পড়ে যায়। এতে বাসের যাত্রীদের সবাই আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাল্কী পুলিশ বক্স থেকে ২০ গজ দূরে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় আক্কেলপুরের দিক থেকে একটি বাসকে হেলেদুলে আসতে দেখা যায়। একপর্যায়ে বাসটি উল্টে ফসলি জমিতে পড়ে। স্থানীয় লোকজন ছুটে গিয়ে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।’

আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত বাসযাত্রী সবুজ হোসেন বলেন, বাসচালক তাঁর পাশে বসা এক যাত্রীর সঙ্গে গল্প করছিলেন। এ কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে।

আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) রাধেশ্যাম আগরওয়ালা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাসের অন্তত ১০ জন আহত যাত্রী এখানে এসেছেন। তবে তাঁরা সবাই শঙ্কামুক্ত।’

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রথমে গণহামলা,পরে খুঁজে খুঁজে বেধড়ক মারধর,প্রতিবাদে আজ মানববন্ধন, কাল বিক্ষোভ”

ডেস্ক নিউজঃসরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গতকাল শনিবার হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হকসহ অন্তত ছয়জন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, আহতের সংখ্যা কমপক্ষে ১০।

হামলার প্রতিবাদে আজ রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় কলেজে মানববন্ধন এবং কাল সোমবার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ করা হবে। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ শুরু হবে।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন কবীর প্রথম আলোকে এই কর্মসূচির কথা জানান। তিনি বলেন, আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী থাকায় এখানে মানববন্ধন হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গতকাল আন্দোলনকারীদের ওপর এই হামলায় জড়িত থাকার কথা ছাত্রলীগের নেতারা অস্বীকার করে বলেছেন, আন্দোলনকারীদের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হওয়ার কথা তাঁরা শুনেছেন।

এখন পর্যন্ত কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় পরবর্তী কর্মসূচি জানাতে গতকাল বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন ডাকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। কিন্তু এ নিয়ে আগের দিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে।

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা গতকাল মধুর ক্যানটিনে জড়ো হন। পরে সকাল ১০টার দিকে গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক, ফারুক হোসেন, আতাউল্লাহসহ কয়েকজন নেতা গ্রন্থাগারের সামনে যান। তাঁরা সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সেখানে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একযোগে ‘শিবির ধর’, ‘শিবির ধর’ বলে আন্দোলনকারী নেতাদের ধাওয়া করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক এস এম জাবেদ আহমদ দুই পক্ষকে চলে যেতে বলেন। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। সবচেয়ে বেশি মারধরের শিকার হন যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক; তাঁর নাক-মুখ ফেটে রক্ত বের হচ্ছিল। তিনি অধ্যাপক জাবেদ আহমদের পা জড়িয়ে ধরে বাঁচার আকুতি জানাতে থাকেন। ওই শিক্ষক নিজের পরিচয় দিয়ে ছাত্রটিকে রক্ষার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা নিবৃত্ত হননি। বরং নিজের হাতে আঘাত পান অধ্যাপক জাবেদ। মারধরের শিকার আহত নুরুলকে হাসপাতালে নিতেও বাধা দেন হামলাকারীরা। পরে তাঁকে পেছনের দরজা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মারধরের একপর্যায়ে গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক জাবেদ আহমদের পা জড়িয়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক।  ছবি: প্রথম আলোমারধরের একপর্যায়ে গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক জাবেদ আহমদের পা জড়িয়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক। ছবি: প্রথম আলোছাত্রলীগের মারমুখী নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া করে কেন্দ্রীয় মসজিদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ চত্বর ও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সামনে নিয়ে মারধর করেন। পরে পরিচিতজনেরা আহতদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নেন। পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন গ্রন্থাগারের ভেতরে ঢুকে পড়েন। তিনি একটি কক্ষে আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। বেলা তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা গ্রন্থাগারের উত্তর পাশের একটি দরজা দিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী প্রথম আলোকে বলেন, হামলার সময় গ্রন্থাগারের সামনে ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির ৫০-৬০ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। অনেকেই পরবর্তী কমিটিতে পদপ্রার্থী। তবে মারধরে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের বেশির ভাগই কনিষ্ঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মী। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগেরও কিছু নেতা-কর্মী হামলায় অংশ নেন।

আলোকচিত্রীদের ক্যামেরায় মারধরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, উপসম্পাদক সৈয়দ মুহাম্মদ আরাফাত, মানবসম্পদবিষয়ক উপসম্পাদক জহির আহমেদ খান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপসম্পাদক আল মামুন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল জুবায়ের ভূইয়াকে চিহ্নিত করা গেছে।

তাঁদের বাইরে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাকিব হাসান, মেহেদী হাসান, স্কুলছাত্রবিষয়ক উপসম্পাদক অসীম কুমার বৈদ্য, সাবেক সদস্য মাহবুব খান, জিয়াউর রহমান হল শাখার সভাপতি আরিফুর রহমান, বঙ্গবন্ধু হল শাখার সভাপতি বরিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, মুহসীন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান প্রমুখকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা গ্রন্থাগারের ভেতরে প্রবেশ করে আন্দোলনকারীদের খুঁজতে থাকেন। দুপুর ১২টার দিকে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আরশকে বের করে এনে সাইকেল স্ট্যান্ডের পাশে নিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তিনি জ্ঞান হারান। পরে তাঁকে রিকশায় করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আন্দোলনে জড়িত অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র আবদুল্লাহকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, তিনি গ্রন্থাগারে পড়তে এসেছিলেন। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পরে আন্দোলনকারীদের খুঁজতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান নেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের সামনেও ছাত্রলীগের একটি পক্ষ অবস্থান নেয়। হাসপাতালের ভেতর গিয়ে দেখা যায়, আহত আতাউল্লাহ ও সাদ্দাম হোসেনকে একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আতাউল্লাহর ভাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাসুদুল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভাই ঠোঁট, মুখ, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন।

ছাত্রলীগ নেতা–কর্মীদের হামলায় আহত এক আন্দোলনকারীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।  ছবি: প্রথম আলোছাত্রলীগ নেতা–কর্মীদের হামলায় আহত এক আন্দোলনকারীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবি: প্রথম আলোআহত সাদ্দাম হোসেনের বন্ধু আরিফ সরদার বলেন, সাদ্দামের হাত কেটে গেছে এবং মাথায় আঘাত পেয়েছেন। এদিকে মারধরের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় গুরুতর আহত নুরুল হক গোপনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গতকাল বেলা দেড়টার দিকে শাহবাগে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার থেকে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনকে বের করে আনেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী। এ সময় জসিমসহ দুজনকে মারধর করা হয়। পরে জসিমকে শাহবাগ থানার একটি গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ ক্যাম্পাসের ভেতর প্রবেশ না করলেও শাহবাগ থানার সামনে বেশ কয়েকটি পুলিশ ভ্যান, জলকামান ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন ছিল। আর ক্যাম্পাসের ভেতরে সকাল থেকেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির তৎপরতা দেখা যায়নি। দুপুরের পরে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির লোকজন গ্রন্থাগারে গিয়ে আহত হয়ে পড়ে থাকা হাসান আল মামুনকে বের করে আনেন।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রন্থাগারের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলে আমি শুনেছি। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ চলাকালেও লাইব্রেরি খোলা রেখেছি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, একটি পক্ষ লাইব্রেরির প্রবেশপথের রাস্তা অবরোধ করবে কেন?’

উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হামলার দায় অস্বীকার ছাত্রলীগের

হামলার পরপর গ্রন্থাগারের সামনে কথা হয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে। তাঁদের দাবি তাঁরা প্রথমত ছাত্র। তারপর ছাত্রলীগের নেতা বা কর্মী। ছাত্র হিসেবে তাঁরা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা করতে দিতে পারেন না। তবে গণমাধ্যমে কথা বলার সময় তাঁরা দলীয় পরিচয় দেননি।

পরে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শুনেছি আন্দোলনকারীদের দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছে। যদি কেউ গিয়েও থাকে, তবে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে গিয়েছে। ছাত্রলীগের নেতা বা কর্মী হিসেবে নয়।’

আর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ক্যাম্পাস স্বাভাবিক রাখতে ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সব ধরণের ব্যবস্থা নেবে।

ঢাকার বাইরে প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম, সংবাদদাতা, বগুড়া জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে বগুড়া শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। আজ রোববার সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একই কর্মসূচি আহ্বান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ।

এদিকে হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে সমাবেশ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ চট্টগ্রামের আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আরজু। গতকাল বেলা দুইটার দিকে নগরের ষোলশহর রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ চট্টগ্রামের যুগ্ম আহ্বায়ক সায়েম চৌধুরী।

আন্দোলনকারীরা ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের ধাওয়া দিয়ে ধরে পেটানো হয়। ছবিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে।  ছবি: প্রথম আলোআন্দোলনকারীরা ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের ধাওয়া দিয়ে ধরে পেটানো হয়। ছবিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে। ছবি: প্রথম আলোকোটা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ৫৫ শতাংশ নিয়োগ হয় অগ্রাধিকার কোটায়। বাকি ৪৫ শতাংশ নিয়োগ হয় মেধা কোটায়। বিদ্যমান কোটা সংস্কারের পাঁচ দফা দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে এর আগে গত ১৪ মার্চ কার্জন হল এলাকায় হামলা চালিয়েছিল পুলিশ। এরপর গত ৮ এপ্রিল শাহবাগে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা করলে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আন্দোলন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। গত ২৭ জুন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি কোটা বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।

সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়ে বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকবর আলি খান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সরকার ইচ্ছা করলে খুব অল্প সময়েই কোটার সংস্কার করতে পারে। কেন দেরি হচ্ছে, সেটা সরকারই ভালো বলতে পারবে। প্রথম আলো থেকে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  শ্রীমঙ্গলে শনিবার দিনের বিকালে ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠে পৌরসভা পর্যায়ের পাচঁটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।এতে মেয়েদের মধ্যে চন্দনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দেওয়ান শামসুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয় এবং দেওয়ান শামসুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়।

অপর দিকে ছেলেদের মধ্যে খেলায় দেওয়ান শামসুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

ছেলেদের মধ্যেও দেওয়ান শামসুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়।খেলা শেষে ছাত্র ছাত্রীদের ট্রফি তুলেদেন বিসিষ্ট ক্রিড়া ব্যাক্তিত্ব একরামুল রানা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগন।

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কমিটির হাতে সিলেট ফোন গাইড তুলে দিচ্ছেন গাইডটির সম্পাদক ও প্রকাশক, জেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মঞ্জুর হোসেন খান। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে নির্বাচিত কমিটির হাতে গাইডটি তুলেদেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তাপস দাস পুরকায়স্থ, জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, সিনিয়র সহ সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সহ-সভাপতি সাত্তার আজাদ, সাবেক সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ ফয়সল আহমদ মুন্না, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মো. ওলিউর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তুহিনুল হক তুহিন, পাঠাগার সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, দপ্তর সম্পাদক মো. ইমরান আহমদ, নির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম সুজন, আলী আকবর চৌধুরী, নুরুল ইসলাম, সুব্রত দাস।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- ক্লাব সদস্য আশরাফ চৌধুরী রাজু, দিব্য জ্যোতি সী।প্রেস বার্তা

 

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ নঈম উল ইসলাম বলেন, সড়ক এখন মৃত্যুকূপে পতিত হয়েছে। ফিটনেসবিহীন ও পণ্য পরিবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, মহাসড়কের বেহালদশা, বিরামহীন ববা বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালনা, অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালনা, অদক্ষ-অনুমোদিত চালক কর্তৃক গাড়ি চালনাসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে।

শুধুমাত্র ঈদ যাত্রায় ৩০০ এর মানুষ মারা গিয়েছে। তিনি বলেন সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটানা পাঁচ ঘন্টার বেশি গাড়ি চালাতে না হয় মত বিকল্প চালক রাখা, সড়কের পাশে বিশ্রামাগার তৈরি ও চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা দ্রুত বাস্তবায়ন করে সড়কে মৃত্যৃর মিছিল থামাতে হবে। তিনি অবিলম্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

৩০ জুন শনিবার বিকালে নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি উপরোক্ত মন্তব্য করেন। চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর যুবসেনার সভাপতি মুহাম্মদ জসিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি বলেন, বর্তমানে যুবসমাজ বেকার ও কর্মহীন হওয়ার ফলে দারিদ্রতার কষাঘাতে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে।

মাদক ক্রয়ের টাকার সংস্থান করতে গিয়ে অনেক যুবক খুন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি নগরীর বিভিন্ন খুনের সাথে মাদকাসক্ত জড়িত থাকার খবর যুবসমাজের জন্য অশনি সংকেত। তাই যুবসমাজকে সমাজের মূল¯্রােতে ফিরিয়ে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি ইসলামী যুবসেনাকেও ভূমিকা রাখতে হবে।

যুবনেতা হাবিবুল মোস্তফার স ালনায় সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন য্বুনেতা মুহাম্মদ বদরুল হুদা তারেক, হাফেজ মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ, মুহাম্মদ শাহাদাৎ হুসাইন, আ্যডভোকেট দিদারে আলম, সৈয়দ মুহাম্মদ মোফাচ্ছেল মোস্তফা টিপু প্রমুখ।প্রেস বার্তা

বিক্রমজিত বর্ধন,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুরভুরিয়া চা বাগানের একটি পুকুর থেকে পানি পান করার সময় তার পা’দুটি পুকুড়ের পাড়ের কাদায় আটকা পড়া অবস্থায় একটি মায়া হরিণকে উদ্ধার করেছে ৪ যুবক। পরে মায়া হরিণটিকে সুস্থ অবস্থায় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

৩০জুন শনিবার সকাল ১০ টার দিকে ভুরভুরিয়া চা বাগান সংলগ্ন বড় একটি পুকুরে পানি খাওয়ার জন্য আসলে মায়া হরিণটি পুকুরের কাদা ও পানিতে আটকে যায়। এসময় স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ পাশি, মিন্টু মৃধা, নন্দলাল হাজরা, সন্তুস রিকিয়াশন পানিতে নেমে হরিণটিকে উদ্ধার করে। এসময় অনেক মানুষের সমাগম থাকায় তখনই হরিণটিকে না ছেড়ে মিন্টু মৃধার বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং শ্রীমঙ্গল বন বিভাগ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থেকে বন বিভাগের কর্মীদের হাতে মায়া হরিণটি হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব বলেন, মানুষের সামনে আসার কারণে মায়া হরিণটি অনেক ভয় পেয়েছে। মায়া হরিণের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। মায়া হরিণ সাধারণ বনের গহিনে থাকে। রাতের বেলা খাবারের সন্ধ্যানে ঘুরতে ঘুরতে  চা বাগান কিংবা লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে। আর এর কারণ খাদ্য ও বাসস্থানের অভাব। বন্যপ্রাণীরা যদি লোকালয়ে চলে আসে তাহলে তাদেরকে আঘাত না করে বন বিভাগ বা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে দ্রুত জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জার ইমাম উদ্দিন জানান, মায়া হরিণটি সুস্থ্য অবস্থায় আছে কি না পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পুনরায় বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।