Wednesday 24th of October 2018 12:11:34 AM

জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে এককিলোমিটার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আজ ৩০ জুলাই বিকেলে বহদ্দারহাটস্থ একটি অভিজাত কমিউনিটি সেন্টারে পূর্ব ষোলশহর ৬নং ওয়ার্ডের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ নঈম উল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবদুস ছালাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে  সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের সমস্যা জলাবদ্ধতা।

এসমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রায় প্রতিদিন কোন না কোন ওয়ার্ডে হাজির হচ্ছি এলাকাবাসীর সমস্যার কথা শুনার জন্য। তিনি আরো বলেন, জলাবদ্ধতা, আলোকায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি সুন্দর বাসযোগ্য নগরী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলাই আমার স্বপ্ন। তিনি বলেন, সিডিএ সাহস করে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে কাজ করছে। একাজ বাস্তবায়নে আপনাদের সহযোগিতা করতে হবে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়। তিনি যে সমস্ত খাল পরিস্কার করা হচ্ছে সে সমস্ত খালে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহবান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে নঈম উল ইসলাম বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় নগর রেখে যাওয়া আমাদের কর্তব্য। স্বপ্নের চট্টগ্রাম নগর গড়তে সবাইকেই সচেতন হতে হবে। সিডিএর জনবান্ধব কার্যক্রমে ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি সবসময় সহযোগিতা করবে। মতবিনিময় সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠক কাবেদুর রহমান কচি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কে.বি.এম শাহজাহান, এস.এম গাফফার, এস.এম ইলিয়াস, মুহাম্মদ ইসহাক, মুহাম্মদ ইসমাঈল, এস.এম আসাদুজ্জামান, প্রুকৌশলী নেওয়াজ। এম.এন আবছার ও শফিউল বাহারের যৌথ স ালনায় সভায় ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এস.এম শামসুল আলম, এম.এ হাশেম, ড.মুজিব, মুহাম্মদ মহিউদ্দীন, মুহাম্মদ মানিক, মিন্টু, শান্টু দাস, শিপ্লব বাবু প্রমুখ।প্রেস বার্তা

নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে অজ্ঞাত পরিচয় (৬০) এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বান্ধাইখাড়া ইউনিয়ন ভ’মি তফসিল অফিসের বারান্দায় পড়ে থাকা অবস্থায় ওই লাশ উদ্ধার করে আত্রাই থানা পুলিশ। নিহতের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিহত বৃদ্ধটি ভিক্ষুক ছিলেন।  এলাকায় বেশ কিছুদিন থেকে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা বৃত্তি করতো।

এ ব্যাপারে আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোবারক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ওই লাশ উদ্ধার করে। তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি নওগাঁ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। তার নাম-পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

৫ লক্ষ টাকা যৌতুক ছাড়া ঘরে তুলবেন না শ্বশুরবাড়ীর লোকজন

গীতি গমন চন্দ্র রায়,পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোঃ হাফিজুর রহমান বীরমুক্তি যোদ্ধার মেয়েকে ৫লক্ষ টাকা যৌতুক ছাড়া ঘরে তুলছেন না বিলকিস বেগমের শ্বশুড় বাড়ীর লোকজন।

এই বিষয়ে গত শুক্রবার বিলকিস বেগমের পিতা বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে গত ২৭/০৭/২০১৮ইং তারিখে ১। মোঃ করিমুল ইসলাম (৩৮), ২। মোঃ আঃ রহমান (৪০), উভয়ের পিতা- মোঃ আঃ লতিফ, ৩। মোছাঃ খতেজা বেওয়া (৫৮), স্বামী- মৃত আঃ লতিফ, ৪। জবাতুন খাতুন (৩৫), স্বামী- মোঃ আঃ রাহমান, ৫। মোছাঃ রহিমা খাতুন (২২), পিতা- মোঃ আঃ রহমান, ৬। নেন্দ দাই (৫৫), পিতা- মৃত টুনু দাই, সর্ব সাং একান্নপুর (বাগান বাড়ী) আসামি দ¦য়ের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিলকিস বেগমের বিয়ে হয় পীরগঞ্জ উপজেলার একান্নপুর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে করিমুল ইসলামের সাথে ১৩/১৪ বছর সংসার জীবনে একটি কন্যা সন্তান ও একটি ছেলে সন্তান জন্ম গ্রহন করে করিমুলে ১ম সন্তান মোঃ বিদ্যুৎ হোসেন (১২) প ম শ্রেণি একান্নপুর কেজি স্কুল এবং মেয়ে মোছাঃ কাসমিরা আক্তার (৭) বোর্ডহাট সোনামনি কিন্ডারগাডেনে পড়ে। করিমুল মেয়ে লোভী হওয়াতে তাদের সংসারে অশান্তি লেগে থাকতো। ১নং আসামী করিমুল গভীর রাতে বাড়ীতে এসে আমার কন্যাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। আমার মেয়ে গভীর রাতে আসার কথা জিজ্ঞাসা করলে করিমুল আমার কন্যাকে হত্যার উদ্দ্যেশে মুখে বালিশ চাপা দেয় এবং ঘরে থাকা লোহার রড ও বাশেঁর লাঠি দিয়ে আমার কন্যাকে বেধম মারপিট করে।

পরে অনান্য আসামীদের কুবুদ্ধিতে করিমুল ইসলাম আমার কন্যাকে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে মারপিট করে বাড়ি থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বেড় করে দেয় এবং গোপনে একটি বিয়ে করার কারণে পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে উভয়ের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। অনুমানিক ২-৩ মাস পরে ১ নং আস্বামী করিমুল আমার কন্যার সহিত সুকৌশলে যোগাযোগ করে আমার কন্যাকে বিভিন্ন প্রলোভনে ফেলে আবার বিবাহ করে এবং বাড়িতে নিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন ও ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বার করিমুলকে বিবাহটি কাবিননামা হিসাবে রেজিষ্ট্রি করার কথা বলিলে সে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করে। এরই এক পর্যায় গত ২৬শে জুলাই, ২০১৮ ইং তারিখে তার শ্বশুড়বাড়ীর লোকজন যৌতুক হিসেবে ৫ লক্ষ যৌতুকের দাবিতে আমার মেয়ে বিলকিস বেগমের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করে তাকে বেধম মারপিট করিতে থাকে এবং আহত অবস্থায় তার বড় বোন মোছাঃ লাকি বেগমকে মুঠো ফোনে বিষয়টি অবগত করলে ও বিলকিস বেগমের চিৎকারে আমি, আমার বড় মেয়ে, আমার ছেলেসহ এলাকাবাসীরা দ্রুত ছুটে এসে লাকী বেগমকে আহত অবস্থায় উদ্ধার তাকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন বলে বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, আমাকেও তারা মারধর করে আমিও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিই।

এ ব্যাপারে ৭নং ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান, মেয়েটি করিমুলের বাড়িতে ছিল আমাকে কেউ জানায় নি, করিমুল মেয়েটিকে তালাক দেওয়ার পর আবার বাড়িতে নিয়ে আসলেন এটি নিঃসন্দেহে খারাপ কাজ। এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ বজলুর রশিদ জানান, এজাহারের কাগজ পেয়েছি তবে দুই পক্ষে মিমাংসা হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে।

“কিতাব আল রেহালা:ইবনে বতুতার সফরনামা থেকে শেখ জালাল উদ্দিন আল তাবরিজী যিনি আমাদের কাছে হজরত শাহ জালাল মুজাররদে ইয়ামেনি (রহঃ)”
হজরত শাহজালাল ইয়ামেনি (রহঃ)-র সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বাঙলায় ইবনে বতুতা: আমি (বতুতা) সাদকাওয়ান ত্যাগ করে কামরূপ পর্বতমালার দিকে যাত্রা করি।এই পার্বত্য অঞ্চলে আমার যাবার উদ্দেশ্য ছিল একজন দরবেশের সাথে সাক্ষাত করা, যিনি সেখানে বাস করতেন। তিনি ছিলেন শেখ জালাল উদ্দিন আল তাবরিজী। তিনি প্রধান দরবেশদের মধ্যে গণ্য হতেন এবং অনন্যসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি অনেক মহৎ কাজ করেছিলেন এবং অনেক অলৌকিক ক্রিয়াকাণ্ড (কারামত) সম্পাদন করেছিলেন। তিনি খুবই বৃদ্ধ। আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি বাগদাদে আব্বাসিয় খলিফা মুসতাসিম বিল্লাহকে দেখেছিলেন এবং খলিফার হত্যার সময়ে (১২৫৮ সালে হালাকু খা কর্তৃক বাগদাদ ধ্বংসের সময়) বাগদাদে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁর মুরিদগণ আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি (হজরত শাহজালাল) ১৫০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে রোজা পালন করেন। লাগাতার দশদিন পর ছাড়া তিনি রোজা ভঙ্গ কর‍তেন না। তাঁর একটা গরু ছিল। এর দুধ পান করে তিনি রোজা ভাঙতেন। তিনি সারারাত দাঁড়িয়ে ইবাদত করতেন। তিনি পাতলা ও দীর্ঘদেহী ছিলেন। খুবই সামান্য দাঁড়ি ছিল তাঁর। এই পাহাড়ি এলাকার অধিবাসীগণ তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। এ কারণেই তিনি তাদের মধ্যে বাস করতেন।
শেখের কারামত (অলৌকিক ঘটনা): তাঁর শিষ্যদের মধ্যে অনেকেই আমাকে বলেছেন, তিনি মৃত্যুর আগের দিন তাঁদের অনেককে ডেকে পাঠান ও আল্লাহকে ভয় করতে উপদেশ দেন। বলেন, “এ সত্য যে, আল্লাহ চান তো আগামিকাল আমি তোমাদের ছেড়ে যাবো এবং তোমাদের মধ্যে আমার উত্তরাধিকারী তারাই হবে, যাদের এক খোদা ছাড়া অন্য কোন খোদা থাকবে না।” পরবর্তী দিন জোহরের নামাজ আদায়ের সময় সর্বশেষ সিজদারত অবস্থায় তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। যে গুহায় তিনি বাস করতেন তার পাশেই শিষ্যগণ একটা কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান যার কাছেই ছিল কাফন এবং সুগন্ধি। তারা তাঁকে গোসল করিয়ে কাফন পরিয়ে জানাজা পড়ে উক্ত কবরে দাফন করেন। আল্লাহ তাঁর মঙ্গল করুন।
শেখের (হজরত শাহজালাল) অন্যান্য অলৌকিক ঘটনা: আমি যখন শেখের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য গিয়েছিলাম, তাঁর বাসস্থান থেকে দুইদিনের দূরত্বে তাঁর চারজন শিষ্য আমার সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং আমাকে জানান যে, তাদের পীর তাঁর কাছে উপস্থিত মুরিদদের খবর দেন যে, “পশ্চিম থেকে একজন ভ্রমণকারী তোমাদের কাছে আসছেন। তাকে অভ্যর্থনার জন্য যাও।” তাঁরা আরও বলেন যে, শেখের নির্দেশে সে উদ্দেশ্যে তারা আমার সঙ্গে সাক্ষাত করতে এসেছেন। ঘটনা হলো শেখ আমার সম্বন্ধে কোনকিছু জানতেন না, কিন্তু এগুলি তাঁকে অলৌকিকভাবে জানানো হয়েছিল।
এই লোকদের সঙ্গে আমি শেখের দর্শনের জন্য যাত্রা করে তাঁর আস্তানায় (গুহার বাইরে অবস্থিত) উপস্থিত হই। তাঁর আস্তানার কাছে কোন জনবসতি ছিল না। তবু দেশের লোকেরা, মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে, শেখকে দর্শনের জন্য আসতো। তাঁর জন্য উপহার উপঢৌকন আনতো। এসব সামগ্রির উপরই শেখের শিষ্য ও মুসাফিরগণ জীবন ধারণ করতেন। শেখের সম্পদ বলতে একটি গাভী ছিল যার দুধ পান করে দশদিন পর পর তিনি রোজা ভাঙতেন, যা আমি আগেই বলেছি। তাঁর দরবারে আমি উপস্থিত হলে তিনি উঠে দাঁড়ান। আমাকে আলিঙ্গন করেন। আমার দেশ এবং ভ্রমণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আমি তাঁকে আমার বৃত্তান্ত বলি। তিনি আমাকে বলেন, “প্রকৃতই আপনি আরবদের পরিব্রাজক।” সেখানে উপস্থিত তাঁর শিষ্যগণ যোগ করেন, “এবং অনারবদেরও পরিব্রাজক, হে আমাদের শেখ।” জবাবে তিনি বলেন, “এবং অনারবদেরও। সুতরাং সেভাবে তার সেবা যত্ন কর।” আমাকে তাঁর আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমি তিন দিন আতিথেয়তা গ্রহণ করি।
শেখের অলৌকিক বিস্ময়কর সত্য ঘটনাবলীর বিবরণ: যেদিন আমি শেখের আস্তানায় সাক্ষাত করতে গেলাম, তাঁর গায়ে ছাগ চর্মে তৈরি একটি পোশাক দেখতে পাই। এ আমার খুব পছন্দ হয়। আমি মনে মনে বলি, “আল্লাহ করুন যেন শেখ ওটি আমাকে দেন।” যেদিন আমি তাঁর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাত করি, তিনি উঠে দাঁড়ান এবং তাঁর আস্তানার এক কোণে যান। তাঁর পোশাকটি শরীর থেকে খুলে আমাকে পরিয়ে দেন। একটা উঁচু টুপিও তিনি তাঁর মাথা থেকে খুলে আমাকে দেন। তিনি নিজে একটা ছেঁড়া ও তালিযুক্ত জামা গায়ে দেন। উপস্থিত শিষ্যরা আমাকে জানান যে, শেখ সাধারণত এই পোশাক (ইতিপূর্বে ইবনে বতুতার আকাঙ্ক্ষিত ছাগ চর্মের পোশাকটি) পড়েন না। আমি যাওয়ার আগে তিনি এটি পড়েছিলেন এবং তাদের বলেছিলেন, “মাগরিবের অধিবাসী লোকটি এই পোশাকটি চাইবে। একজন বিধর্মী রাজা তার কাছ থেকে এটি নিয়ে নেবে এবং এটি আমাদের ভাই বোরহানউদ্দিন আসাগারজিকে দিয়ে দেবে। এটি তাঁরই এবং তাঁর ব্যবহারের জন্যেই তৈরি হয়েছে।” যখন শেখের শিষ্যরা আমাকে এসব বললো, তখন আমি তাদের বললাম, “আমি শেখের দোয়া পেয়েছি, কারণ তিনি তাঁর পোশাক আমাকে পরিয়েছেন। আমি এই পোশাক পরে কখনোই কোন রাজদরবারে যাবো না, সে মুসলিম বা বিধর্মী যে কোন সুলতানই হোক না কেন!”
আমি শেখের কাছ থেকে বিদায় নিই। এর অনেক পরে আমি চীনে যাই এবং খানসা শহরে পৌঁছি। ভিড়ের কারণে আমার সাথী আমার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমার পরনে আলোচ্য পোশাকটি ছিল। আমি রাস্তায় চলছিলাম। উজির এক লম্বা মিছিল নিয়ে এলেন। আমার প্রতি তাঁর নজর পড়লো। তিনি আমাকে ডাকলেন এবং আমার হাত ধরলেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন আমি কখন এসেছি। আমাকে যেতে দিলেন না যতক্ষণ না আমরা রাজপ্রাসাদে পৌঁছলাম। আমি তখন তাঁর কাছ থেকে আলাদা হতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে আটকালেন এবং যুবরাজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তিনি আমাকে মুসলিম সুলতানের (ভারতের) সম্পর্কে জিজ্ঞাদাবাদ করলেন। আমি যখন জবাব দিচ্ছিলাম তখন তিনি আমার পোশাকের দিকে দৃষ্টি দিলেন ও প্রশংসা করলেন। উজির আমাকে এটি খুলে ফেলতে বললেন! আমার পক্ষে ঐ নির্দেশ অমান্য করা সম্ভব ছিল না। রাজা পোশাকটি নিলেন এবং আমাকে দশটি মূল্যবান পোশাক, একটি সুসজ্জিত ঘোড়া এবং কিছু মুদ্রা দেবার নির্দেশ দিলেন। এই ঘটনায় আমি মনে খুব আঘাত পাই। পরবর্তীকালে আমার শেখের (হজরত শাহজালাল) কথা স্মরণ হয়। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, একজন বিধর্মী রাজা পোশাকটি নিয়ে নেবে! এই ঘটনায় আমি খুব হতবাক হই।
এক বছর পর আমি চীনের রাজা খান বালিকের পিকিং প্রাসাদে পৌঁছি এবং বুরহানউদ্দিন আসাগারজীর আস্তানায় যাই। আমি তাঁকে পাঠরত দেখি। তাঁকে সেই একই পোশাক (আমার থেকে যেটি নিয়ে নেওয়া হয়েছিল) পরিহিত অবস্থায় দেখতে পাই। এই ঘটনায় আমি খুবই অবাক হই। বারবার আমি হাত দিয়ে উল্টেপাল্টে সেটি দেখতে থাকি। তিনি (শেখ বোরহানউদ্দিন) আমাকে প্রশ্ন করেন, “তুমি এতে এত কী দেখছ? তুমি তাহলে এটা চেন?” আমি জবাবে বললাম, “হ্যাঁ, এটা সেই পোশাক, যা আমার কাছ থেকে খানসার রাজা কেড়ে নিয়েছিলেন।” তিনি বললেন, “এই পোশাক আমার ভাই জালালউদ্দিন আমার জন্যই তৈরি করেছেন। তিনি আমাকে লিখেছেন যে, পোশাকটি অমুক অমুকের হাত ঘুরে আমার কাছে আসবে।” অতঃপর তিনি আমাকে চিঠিটি দেন (হজরত জালালউদ্দিনের)। আমি সেটি পড়ে এবং শেখের অব্যর্থ ভবিষ্যদ্বাণী দেখে আশ্চর্যান্বিত হই। আমি শেখ বোরহানউদ্দিনকে কাহিনীর শুরুটা বলি। তিনি আমাকে বলেন যে, “আমার ভাই জালালউদ্দিন এখন এসবের ঊর্ধ্বে। তিনি ইহলোক ত্যাগ করেছেন।” তিনি আরও বললেন যে, “তিনি প্রতিদিন ফজরের নামাজ মক্কাতে পড়তেন এবং প্রতিবছর হজব্রত পালন করতেন। তিনি আরাফাতের দিন এবং কোরবানির ঈদের দিন- এই দুদিন গায়েব (নিরুদ্দেশ) হয়ে যেতেন। কেউ জানতো না তিনি কোথায় গিয়েছেন।”
.
উল্লেখ্য, মরক্কোর বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৩৩ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের শাসনামলে ভারতে আসেন এবং আট বছর সুলতানের দরবারে কাজির পদে নিযুক্ত থাকেন। ১৩৪৫-৪৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান ফখরুদ্দিন মোবারক শাহের সময়ে বাঙলায় আসেন শুধুমাত্র হজরত শাহজালাল ইয়ামেনি (রহঃ) এর সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে। বাঙলার সম্পর্কে তিনি যে বিবরণ রেখে যান তা দীর্ঘ পরিসরের না হলেও তৎকালীন বাঙলার রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক অবস্থা সম্বন্ধে আমরা জানতে পারি। উপরের লেখাটি বাঙলা বিষয়ক বৃত্তান্তের অংশমাত্র।
এ মাসেই ইন্তেকাল করেছিলেন বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ইসলাম প্রচারক হজরত শাহজালাল ইয়ামেনি (রহঃ)। তাঁকে উৎসর্গ করেই এটি লিখা।ইবনে বতুতার সফরনামা থেকে অনুবাদ মোহাম্মদ নাসির আলি ও সম্পাদনায় মোহাম্মদ রায়হান কাদেরী

“এজেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া ফল এবং ঘোষিত ফলের মধ্য পার্থক্য থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফল স্থগিত রাখার আবেদন সিলেট আ’লীগের”

 

সিলেট ডেস্কঃ সিলেটে ধানের শীষ  প্রতীক নিয়ে  ৪৬২৬ ভোটে এগিয়ে আছেন বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী তিনি পেয়েছেন ৯০৪১৬ ভোট,তার নিকটতম প্রতিদন্ধি নৌকা প্রতীক নিয়ে বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান  তিনি পেয়েছেন ৮৫৮৭০ ভোট।

অপরদিকে ফলাফল ঘোষণা স্থগিতের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছে আওয়ামী লীগ। মেয়র প্রার্থী কামরানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ সোমবার রাতে নগরীর আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এসে স্বশরীরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফল স্থগিতের এ আবেদন করেন।

সেখানেই মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া ফল এবং ঘোষিত ফলের মধ্য পার্থক্য থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফল স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছে।

সর্বশেষ পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে ১৩৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩২ কেন্দ্রে আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা) পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট।

ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলেন। দিনভর ভোট গ্রহণে নানা অভিযোগ করেন আরিফ।তবে আজ ফলাফল ঘোষণার শুরু থেকেই চমক দেখা যায়। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যে দুটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে এগিয়ে যান আরিফুল হক চৌধুরী।
এরপর একটির পর একটি কেন্দ্রের ফল আসতে থাকলে কঠিন লড়াইয়ের চিত্রটি স্পষ্ট হয়। কখনো এগিয়ে থাকেন কামরান, কখনো আরিফুল হক।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সদ্য সম্পন্ন সিটি নির্বাচনে রাজশাহীতে খাইরুজ্জামান লিটন বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছে।খাইরুজ্জামান লিটন নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৬৬৩৯৪, তার নিকটতম প্রতিদন্ধি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ধানের শীষে ভোট পেয়েছেন ৭৮৪৯২।

সদ্য শেষ হওয়া তিন সিটির নির্বাচনের সর্বশেষ ফলাফলঃ

সিলেট সিটি কর্পোরেশনঃ

বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান (নৌকা) =৮৫৮৭০

আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ) =৯০৪৯৬

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনঃ 

খাইরুজ্জামান লিটন (নৌকা) =১৬৬৩৯৪ (বেসরকারিভাবে নির্বাচিত)

মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল (ধানের শীষ) =৭৮৪৯২

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনঃ

সাদিক আব্দুল্লাহ সেরনিয়াবাত (নৌকা) =১০৯৮০৩ (বেসরকারিভাবে নির্বাচিত)

মুজিবুর রহমান (ধানের শীষ) =১৩০৪১

নোটঃ অসমর্থিত সুত্রে প্রাপ্ত ফলাফল যা চূড়ান্ত বলে গন্য হবে না।নিউজটি আপডেট যোগ্য ।

 

 

 

ডেস্ক নিউজঃ দেশে রাজনৈতিক দলের মার্কায় ভোটে ব্যাপক হারে জালভোটের অভিযোগ, বিক্ষিপ্ত গোলযোগ এবং ভোট বর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন।

তিন সিটির ৩৯৫ কেন্দ্রে আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। ভোট শেষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে শুরু হয় গণনা। ভোটগ্রহণের সময় শেষ হওয়ার পর ঢাকায় নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালউদ্দীন আহমদ  সাংবাদিকদের বলেন, “কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, অনিয়ম ও গোলযোগের কারণে বরিশালে একটি এবং সিলেটে দুটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া গেলে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনের সচিব বলেন, “ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি অসুন্তুষ্টির কিছু নেই। যে রকম আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছিল, সেরকম কিছু ঘটেনি। বরিশালে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে কাউন্সিলরদের মধ্যে। সিলেটেও সামান্য সমস্যা হয়েছে। রাজশাহীতে ভালো ভোট হয়েছে।”

নড়াইল  প্রতিনিধি: নড়াইলের কালিয়ায় মধুমতি ব্যাংক লিমিটেডের ,কালিয়া শাখার উদ্বোধন করা হয়েছে।  সোমবার কালিয়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের রামনগরের সরকারি গোডাউন রোড এলাকায় এ ব্যাংকের শাখার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি নড়াইল-১ সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি।

মধুমতি ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের চেয়ারম্যান হুমাউন কবিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ সালাউদ্দিন, ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের কার্যকরী কমিটির চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নূর তাপস,  পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম, ব্যাংকের ঝুকি ব্যাবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যার মোস্তফা কামাল,কালিয়ার পৌর মেয়র মুশফিকুর রহমান লিটন ।

ব্যাংকের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, কর্মচারি ,মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ,সাংবাদিক,ব্যাবসায়ি,এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শফিউল আযম।

নড়াইল   প্রতিনিধি: নড়াইলে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক মা’য়েদের এক উদ্ধুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সোমবার পৌর এলাকার হাটবাড়িয়া ইসলামিক মিশন আদর্শ ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সভা কক্ষে একটি বেসরকারি সংস্থা ( প্রচেষ্টা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা ) নড়াইলের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী এতে  প্রধান অতিথি ছিলেন ।

প্রচেষ্টা মহিলা উন্নয়ন সংস্থার সহ-সভাপতি আঞ্জুমান আরা বেগমের সভাপতিত্বে সিভিল সার্জন ডাঃ আসাদ-উজ-জামান মুন্সি, সদর উপজেলা  স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শামীম রেজা,পৌরসভার কাউন্সিলর  মাহবুবুর রহমান,সরকারি কর্মকর্তা, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় ও হাটবাড়িয়া ইসলামিক মিশনের কর্মকর্তা,কর্মচারি, এনজিও প্রতিনিধি এবং  শতাধিক  মায়েরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 সভায় মায়েদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে কি কি করণীয় এবং শিশু স্বাস্থ্য ভাল রাখতে কি কি করণীয় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শায়খুল আরবে ওয়াল আ’যম, জানশীনে মুফতিয়ে আ’যম হিন্দ, মাযহারে মিল্লাত, তাজুশ শরিয়্যাহ আল্লামা আখতার রেযা আল আযহারী (রহ.)’র স্মরণ সভা গতকাল ২৯ জুলাই রোববার সকালে আন্জুমানে রজভীয়া নূরীয়া বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পরিষদের উদ্যোগে সংগঠনের কার্যালয়ে পীরে তরিক্বত হযরতুলহাজ্ব আল্লামা মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরী (মু.জি.আ.)’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, কুরআন-হাদিস-ফিকহশাস্ত্র বিশারদ আ‘লা হযরত ইমাম আহমাদ রেযা খান (র.) এর প্রপৌত্র তাজুশ শরিয়্যাহ আল্লামা আখতার রেযা (রহ.) ছিলেন দিশেহারা মুসলিম উম্মাহর আলোকবর্তিকা।

তিনি ইসলামের নামে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও অশান্তি সৃষ্টিকারি বাতিল ফেরকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করে মুসলিম উম্মাহর ইমান আক্বিদা হেফাজত করেছেন। বিশেষ করে শান্তির ধর্ম ইসলামের সঠিক পথ ও মত তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতাদর্শ বাস্তবায়নে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। ইসলাম ও মুসলিম মিল্লাতের জন্য এই উপমহাদেশসহ সারা বিশ্বে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বিশারদ তাজুশ শরিয়্যাহ আল্লামা আখতার রেযা (রহ.) জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শনের যাবতীয় শাখায় ছিল অগাদ পান্ডিত্য।

আন্জুমানে রজভীয়া নূরীয়া বাংলাদেশের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সচিব শায়ের মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরীর স ালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন গর্জনীয়া রহমানিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা সহকারী অধ্যাপক আল্লামা জাহাঙ্গীর আলম রেজভী। তিনি বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় শত শত গ্রন্থ রচনা করে এই উপমহাদেশে সাড়া ফেলে দেন তাজুশ শরিয়্যাহ আল্লামা আখতার রেযা (রহ.)। সকল ওলামায়ে কেরাম তাঁকে ওই যুগের দ্বিতীয় ইমাম আ’লা হযরত বলেই ডাকতেন।

তিনি আ’লা হযরতের ৫৩ টি কিতাব আরবী ভাষায় অনুবাদ করে বিশ্বব্যাপী আ’লা হযরতকে তুলে ধরেন।

উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন গহিরা এফ. কে. জামেউল উলুম কামিল মাদ্রাসার প্রধান মুফাস্সির আল্লামা ইউনুস রেজভী। তিনি বলেন, তাজুশ শরিয়্যাহ আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন একজন আল্লাহর প্রকৃত ওলি ছিলেন। ইসলামের যে কোনো বিষয় নিয়ে তিনি সুন্দর করে কুরআন হাদিসের দলিল দিয়ে বুঝিয়ে দিতেন। তার সঙ্গে বাহাস তথা টেবিল টক করে ইসলামের বিষয়ে কেউ জিততে পারেননি। মুসলিম সমাজের সকল বিপদ মুহুর্তে আলোক বর্তিকা হিসেবে আবির্ভুত হন তিনি। প্রধান আলোচক ছিলেন কাটিরহাট মুফিদুল ইসলাম সিনিয়র মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক আল্লামা আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রেজভী। তিনি বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শনের যাবতীয় শাখায় পারদর্শী এ মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন জ্ঞানের এনসাইক্লোপিডিয়া।

শাফায়াতের কান্ডারী রাসুলে পাক হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামার প্রতি অপরিশীম ভক্তি ও অনুরাগের নিদর্শনস্বরূপ তাজুশ শরিয়্যাহ আল্লামা আখতার রেযা আযহারী (রহ.) আরবি, ফারসি, উর্দূ ও হিন্দি ভাষার শব্দ মিশ্রনে না‘ত-ই রাসুল (দ.) রচনা করে অভাবনীয় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আন্জুমানে রজভীয়া নূরীয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসেন, হাজ্বী সৈয়দ মুহাম্মদ সেলিম, মাওলানা আব্দুল আলী, মোহাম্মদ মিয়া জুনায়েদ, মুহাম্মদ আবুল হাসান, আলহাজ্ব জহির আহমদ সওদাগর, আবু ছালেহ আঙ্গুর, মাওলানা আব্দুল কাদের রেজভী, মাওলানা মঈনুদ্দিন খাঁন মামুন, জাহেদুল হাসান রুবাইত, মাওলানা বেলাল উদ্দিন, হাফেজ আবুন নূর মুহাম্মদ হাস্সান নূরী, এস এম ইকবাল বাহার চৌধুরী, মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন সিদ্দিকী, মাওলানা ওসমান গণি, হাফেজ মুহাম্মদ শহিদ, মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, আবু গালেব মুহাম্মদ রায়হান নূরী, শায়ের মুহাম্মদ শাহাদাত, মুহাম্মদ জাহেদ, মুহাম্মদ জসিম, মুহাম্মদ ফয়সাল কাউসার, মুহাম্মদ আল আমীন, মুহাম্মদ ইব্রাহীম, মুহাম্মদ রাশেদ, মুহাম্মদ শাকিল, মুহাম্মদ বরাত প্রমূখ।

উল্লেখ্য তিনি পীরে তরিক্বত হযরতুলহাজ্ব আল্লামা মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরী (মু,জি,আ)’র পীর সাহেব কেবলা।শেষে মিলাদ-কিয়াম, মুনাজাত এবং তাবারুকের মাধ্যমে স্মরণ সভা সমাপ্তি হয়।

সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেটসহ তিন সিটিতে চলছে ভোট গ্রহন।সিলেটের নির্বাচনে বদরুদ্দিন আহমদ কামরান নিজ এলাকায় সরকারি পাইলট হাই স্কুলে ভোট দিয়েছেন তার প্রতিদন্ধি আরিফুর রহমান ও নিজ এলাকার একটি প্রাইমারী স্কুলে ভোট দিয়েছেন।

পরে বদরুদ্দিন আহমদ কামরান সাংবাদিকদের বলেন, জয়ের ব্যাপারে আমি প্রায় শতভাগ আশাবাদী। নির্বাচনে ফল যা-ই হোক মেনে নেবো। এটা আমি আগেও বলেছি। এখনো বলছি। ফলাফল মেনে নেয়ার মানসিকতা সবাইকে রাখতে হবে নির্বাচন সুন্দর হচ্ছে।সবার সহযোগিতা থাকলে শেষ পর্যন্ত পরিবেশ ভাল থাকবে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিচ্ছে।অপরদিকে বিএনপির প্রার্থি আরিফ অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

অপরদিকে আরিফুর রহমান নিজের ভোট প্রদানের পরপরই বিভিন্ন কেন্দ্রের ব্যাপারে অভিযোগ এনেছেন ।

নিশাত আনজুমান,আক্কেলপুর,জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ  ২৯ জুলাই ১৮ জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর বোড়া পুকুর এলাকায় দুলাল হোসেন (২৮)নামে এক অটোরিকশা চালকের লাশ  উদ্ধার করেছে পুলিশ । রবিবার  সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত দুলাল হোসেন নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার ওত্তর পারিচা গ্রামের সামিদুল ইসলামের ছেলে।

আক্কেলপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত), মনিরুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেলে দুলাল তার অটোরিকশা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়। রাতে তিনি আর বাড়ি ফিরেনি। রোববার  সকালে বোড়া পুকুর এলাকায় তার লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশ কে খবর দেয় । পরে পুলিশ এসে তার লাশ  উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

আটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারন করছে।  ময়না তদন্তের পর সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে ওসি জানান।

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল পৌরসভার দূর্গাপুর এলাকায় পানিতে ডুবে আসিফ নামে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে  এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, পৌরসভার দূর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা বদরুল ইসলাম বকুলের তিন বছর বয়সী ছেলে আসিফ পরিবারের সদস্যদের অজান্তে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়।

শিশুটি পুকুরে ভেসে উঠলে প্রতিবেশি এক মহিলা দেখতে পায়। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নড়াইল সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মশিউর রহমান বাবু জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার বেশ আগেই মৃত্যু হয়েছে।

এদিক শিশু আসিফের মৃত্যুতে পরিবারসহ আত্মীয় স্বজনের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সিলেটে-বরিশাল-রাজশাহীসহ তিন সিটির ভোটের আয়োজন সম্পন্ন। সব ঠিকঠাক থাকলে আজ সোমবার সকালেই শুরু হবে তিন সিটিতে ভোট। কেমন হবে এই স্থানীয় নির্বাচন। ভোটাররা কী নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে? ভোট কি আদৌ সুস্থ ভাবে সম্পন্ন হবে ? এ নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। গতকালও বিএনপির নেতারা ইসির সঙ্গে দেখা করে ‘অনিয়মের’ আন্তাজ অভিযোগ তুলেছেন।

এর কদিন আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে দেশবাসীকে বার্তা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম। তিনি বলেছেন, ‘গাজীপুর ও খুলনাতে নির্বাচন হয়েছে গুড; তিন সিটিতে আরো বেটার নির্বাচন হবে’।
সিলেট,রাজশাহী, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ভোটকে কেন্দ্র করে ধানের শীষ মার্কার মেয়র প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার, ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির পক্ষ থেকে। এই ভোটের আয়োজন যারা করছেন সেই নির্বাচন কমিশন কী সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন করার চেস্টা করবে?

যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে নির্বাচন সুস্থ হবে এবং যে কোন মুল্যে তা রক্ষা করা হবে।

এখন তিন সিটি তথা  সিলেট,বরিশাল ও রাজশাহীর নির্বাচনের আগে প্রতিদন্ধি প্রার্থীদের মধ্যে প্রচারণা ছিল তুঙ্গে।
এই নির্বাচনকে বিএনপি আন্দোলন হিসেবে নেয়ায় নেতাকর্মীদের কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশনা  ও দিয়েছে কোন এলাকায়।
সচেতন নাগরিকদের মন্তব্য হচ্ছে ইসিকে মানুষ নীরব দর্শকের ভূমিকায় দেখতে চায় না। তিন সিটি নির্বাচনে ইসি কী ভূমিকা পালন করে সেটা দেখার অপেক্ষা চলছে।

অপরদিকে খুলনা ও গাজীপুরের মতো রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। রোববার দুপুরে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর ফায়ার সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচন যেমন বিশৃঙ্খলামুক্ত হয়েছে তেমনি রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচন সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিশৃঙ্খলার যে আশঙ্কা করছে, তা ভিত্তিহীন। নির্বাচন নিয়ে বিশৃঙ্খলার কোনো সুযোগ নেই।

সিসিক নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে আজ সকাল ১১টায় সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ দুর্গাকুমার পাঠশালা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। ভোট প্রদান শেষে দুপুর ১২টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করবেন। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারস্থ জেলা স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। অর্থমন্ত্রীর এ সফরসুচি নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কিশোর ভট্টাচার্য জনি।
এদিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সিলেট নগরীর কালিঘাটস্থ সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট দেবেন। সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে জানান একটি সুত্র।সিসিক নির্বাচনে আরিফ এবং কামরান দু’জনেই শতভাগ জয়ী হবেন এমন ধারণা তাদের।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc