Sunday 19th of August 2018 01:43:47 PM

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১জুনঃডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কানাডা সরকারের কাছে আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে রোববার অনুষ্ঠিত বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী নূর চৌধুরীকে দ্রুততার সঙ্গে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে তার প্রতি অনুরোধ জানান।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন লা পেতিত ফ্রন্টেন্সে অনুষ্ঠিত দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক।

বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ করে নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠানো এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠনোর ব্যাপারে ব্যক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে ট্রুডোকে বলেন, কানাডায় বসবাসকারী নূর চৌধুরী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সরাসরি গুলি করে হত্যাকারী দু’জনের মধ্যে অন্যতম। সে একজন আত্মস্বীকৃত খুনি এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও দণ্ডপ্রাপ্ত।

প্রেস সচিব আরও জানান, জবাবে জাস্টিন ট্রুডো সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আমি বিষয়টা বুঝতে পারি যে, এটা আপনার জন্য কতটা বেদনার। সংশ্লিষ্ট কানাডীয় কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে একান্তে কাজ করছেন উল্লেখ করে ট্রুডো বলেন, নূর চৌধুরী কানাডার নাগরিকত্বের মর্যাদা পেতে পারে না এবং সে কানাডার নাগরিকও নয়। পাশাপাশি কানাডার প্রধানমন্ত্রী এ সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিকে স্বদেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে তার দেশের প্রচলিত আইনগত বিষয় ব্যাখ্যা করেন।

শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশকে সাহায্য এবং সহযোগিতার জন্য কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান জাতিগত নিধন এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ঘটায় বাংলাদেশে তাদের আশ্রয় গ্রহণের বিষয়টিতে উদ্বেগ জানিয়ে জনমত সৃষ্টিতে ভূমিকার জন্য গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা, সে দেশের সিনেট, হাউজ অব কমন্স এবং বিশেষ করে কানাডার গণমাধ্যমের প্রতি প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

শেখ হাসিনা এ সময় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে সফল প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির উল্লেখ করে বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হলেও চুক্তির বাস্তবায়নের ব্যাপারে তারা নীরব রয়েছে।

তিনি বলেন, তার সরকার কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে তাদের পাহাড়ের ওপরকার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান থেকে সরিয়ে একটি নিরাপদ দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১জুন,ডেস্ক নিউজঃ কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করানো হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন এ কথা জানিয়েছেন।

খালেদা জিয়া রাজি থাকলে মঙ্গলবার সকালে তাকে নাজিমুদ্দির রোডের পুরাতন কারাগার থেকে শাহবাগের বিএসএমএমইউ হাসপাতালে আনা হবে বলে জানান তিনি।

সোমবার দুপুরে কারা অধিদফতরে সৈয়দ ইফতেখার সাংবাদিকদের বলেন, আমরা উনাকে (খালেদা জিয়া) আগামীকাল সকালে বিএসএমএমইউতে নিয়ে যাব। বিএসএমএমইউ তৈরি রাখতে বলেছি। তবে উনি যদি রাজি থাকেন। উনার রাজি হওয়ার একটা বিষয় আছে।

চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে ঢাকার বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতাল বা লন্ডনে পাঠানোর দাবির মধ্যেই এ সিদ্ধান্তের কথা জানালেন কারা মহাপরিদর্শক।

খালেদা জিয়ার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, জেল কোড অনুযায়ী সরকারি অর্থ খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, বিএসএমএমইউ চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী সর্বোচ্চ সরকারি প্রতিষ্ঠান। যদি সেখানে তার চিকিৎসার বিষয়ে কোনো সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকে, তাহলে বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার প্রশ্ন আসে।

গত শনিবার খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা দেখে এসে বলেছিলেন, গত ৫ জুন বিএনপি নেত্রীর ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছিল বলে তারা ধারণা করছেন। সে কারণে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন।

এরপর রোববার দুপুরেই খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে পরীক্ষা করানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। পরে তিনি বলেন, ঠিক কখন খালেদা জিয়াকে পরীক্ষার জন্য নেয়া হবে, তা আইজি প্রিজন্স নির্ধারণ করবেন।

এরপর আজ আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন জানালেন, খালেদা জিয়াকে মঙ্গলবার বিএসএমএমইউতেই চিকিৎসা করানো হবে।

তবে রোববারই এক সংবাদ সম্মেলন করে বিএসএমইউতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিরোধিতা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, পিজিতে (বিএসএমএমইউ) উনার যে চিকিৎসা, সেই চিকিৎসার ব্যাপারে খালেদা জিয়া সন্তুষ্ট নন। সেখানে তার যথাযথ চিকিৎসা হবে না, সেখানে তিনি চিকিৎসা করাতে চান না, সেখানে তিনি চিকিৎসা নেবেন না। আমরা মনে করি, পিজিতে তার যথাযথ চিকিৎসা হবে না।

এদিকে রোববার সন্ধ্যায় এক ইফতার মাহফিলে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠানোর দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘আজ (রোববার) পত্রিকায় দেখলাম, খালেদা জিয়ার চিকিৎসকেরা বলেছেন, তিনি (খালেদা) সাত মিনিট অজ্ঞান ছিলেন। এ কথা সঠিক হয়ে থাকলে তার নিশ্চয়ই টিআইএ হয়েছিল। অর্থাৎ তার সাময়িকভাবে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে গিয়েছিল। এ ধরনের রোগীর ভবিষ্যতে ব্রেন স্ট্রোক বা প্যারালাইসিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। সেহেতু ভালো চিকিৎসার জন্য নিউরোলজিক্যাল সেন্টারে তার চিকিৎসা হওয়া উচিত।’

বদরুদ্দোজা চৌধুরী আরো বলেন, ‘যেহেতু খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলের নেতা ছিলেন, সুতরাং অন্য বিবেচনা বাদ দিয়ে শুধু রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবেচনায় তার সঠিক চিকিৎসা হওয়া উচিত।’

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন।

পুরাতন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে খালেদা জিয়াকে প্রথমে জেল সুপারের পরিত্যক্ত কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মহিলা ওয়ার্ডে।

বন্দি জীবনে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার দাবি করার পর গত এপ্রিলের শুরুতে তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বিএসএমএমইউতে আনা হয়েছিল।

তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে ওই দিনই তাকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত নেয়া হয়।

এরপর এপ্রিল ও মে মাসে একাধিকবার বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কারাগারে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

দলটি তাকে ঢাকায় ইউনাইটেড হাসপাতালে বা বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য দাবি জানায়। এরমধ্যেই গত ৫ জুন খালেদা জিয়ার কারাগারে ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ করার খবর আসে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১জুন,এস কে দাশ সুমন: মৌলভীবাজার  জেলার   শ্রীমঙ্গল  উপজেলার  লালবাগ  গ্রামে  দরিদ্র   কৃষক  ছামসু  মিয়া  ও  বেলুয়া  বেগম  দম্পতির  ছোট্ট  সংসার  দরিদ্রের  কষাঘাতে  জরাজীর্ণ  নুন  আনতে  পান্তা ফুরায়, তাদের  বিবাহিত  জীবনে  যখন  প্রথম  সন্তানের  মুখ  দেখেন  তখন  আনন্দের  কমতি  ছিল  না, কিন্তু  কিছুদিন  যেতেই  যখন  সন্তানের  স্বাভাবিক  বেড়ে  উঠা  দুর্বল  মনে  হয়েছে  তখনই  মা  বাবার  কপালে  দুশ্চিন্তার  ভাজ, তারপর  কত  ডাক্তার  কবিরাজ  ওঝা  বৈদ্য  কিছুতেই  ভাগ্য  সুপ্রসন্ন  হলো  না, একে  একে  কৃষক  ছামছু  মিয়া  ও  বেলুয়া  দম্পতির  সাত  সন্তানের  জন্ম,  দুই  মেয়ে  ও  এক  ছেলের  শিশুকাল  পেড়িয়েছে  অনেক  আগেই  কৈশর  আর  যৌবন  এখন  মাটির  বিছানায়  শুয়ে  বসে  বন্ধি,  এখনো  তারা  মুখে  খাবার  খেতে  পারে  না, চলাচল  করতে  পারে  না,  কোন  কিছু  বলতে  পারেনা, শুধু  ইশারায়  বুঝিয়ে  দেয়  মাকে, বুক  ভরা  কষ্ট  নিয়ে  সৃষ্টিকর্তার  শ্রেষ্ঠ  সৃষ্টি  মা  সহজেই  বুঝে  উঠতে  পারেন  সন্তানদের  চাহিদা  খাবার  খাবে  না  প্রকৃতির  ডাকে  সাড়া  দিবে।

সন্তানরা  যে  শুনতেও  পারে  না  ভালো  করে, কারণ  তিন  জনই  শারীরিক  ও  বুদ্ধি  প্রতিবন্ধী । এই  দম্পতির  প্রথম  সন্তান  রিপনা  আক্তার  ১২  বছর  আগে  চিকিৎসার  অভাবে  ৯  বছর  বয়সে  পৃথিবী  ছেড়ে  চলে  যায়, তিন  প্রতিবন্ধি  সন্তানদের  নিয়ে  জীবন  যুদ্ধ  চালিয়ে  যাচ্ছেন  বেলুয়া  দম্পতি।

সরকারি  সাহায্যের  প্রতিবন্ধী  ভাতা  হিসেবে  ত্রৈমাসিক  সামান্য  ভাতা  আর  পরের  জমি  বর্গা  দিয়ে  চলছে  দিনযাপন, ভাগ্যে  জুটছে  না  সন্তানদের  চিকিৎসা  সেবা, এ  কারনে  এই  হতদরিদ্র  পরিবারটি  এখন  মানবেতর  জীবন  যাপন  করছে ।
বেলুয়া  দম্পতির  ছেলে  রাজেত  মিয়া  (২৩),  মেয়ে  রাফেনা  আক্তার  (২৫)  ও  রাজেলা  আক্তার  (১৫)  জন্মের  আড়াই  তিন  বছর  থেকেই  শারীরিক  ও  বুদ্ধি  প্রতিবন্ধী। তাঁদের সুচিকিৎসার  জন্য  এলাকার  বিভিন্ন  চিকিৎসক  ও  হাসপাতালে  নেওয়া  হয়েছে , অবস্থার  কোনো  উন্নতি  হয়  নি, তাদের খাওয়া, গোসল  সহ  সব  কাজেই  সাহায্যর  প্রয়োজন  হয়, তরুন  পেরিয়ে  বার্ধক্যের  কাতারে  ছামসু   মিয়া  এখন   প্রায়ই  অসুস্থ  থাকেন । স্বাভাবিক  সব  কর্মঠ  কাজ  করতে  যেতে  পারেন  না, এ  কারণে  কয়েক  বছর  ধরে  সংসারে  অভাব – অনটন  নিত্য  দিনের  সঙ্গি ।
সম্প্রতি  লালবাগ  গ্রামে  গিয়ে  দেখা  যায়  ছামসু  মিয়া  ও  তাঁর  স্ত্রী  বেলুয়া  বেগম  সন্তানদের  অন্ধকার  চিলেকোঠা  থেকে  রোদের  আলোতে  নিয়ে  আসতে ব্যস্ত । কেমন  কাটছে  তাদের  দিনকাল  জিজ্ঞেস  করলে  বেলুয়া  বেগম  অশ্রুসিক্ত  হয়ে  পড়েন বেলুয়া  বেগম  বলেন, ‘বা” চাইনতে  ছোট  বেলাত  ভালা  আছিল, আড়াই  তিন  বছর  হইলেই  রোগ  শুরু  হই  যায় । রোগে  আমার  এক  বড়  পুরি  মারা  গেছইন, বাকি  তাইন  যারা  বাইচা  আছইন  তারা  বিছনাত  ওউ  দিন  পার  কররা ।
প্রতিবন্দি  ভাতা  বাবদ  যা  পাইরাম  তা  দিয়া  খাওয়াই  হয়না, আমরা  গরীব  মানুষ  টাকা  কই  পাইমু  চিকিৎসা  করমু  কেমনে । স্থানীয়  ইউপি  সদস্য  আলম  উদ্দিন  বলেন, সামসু  মিয়া  তার  প্রতিবন্ধি  সন্তানদের  নিয়া  অনেক  কষ্ট  করে  জীবন  চালাচ্ছেন। আমরা  সরকারী  প্রতিবন্ধি  ভাতার  ব্যবস্থা  করে  দিয়েছি , তবে  তা  দিয়ে  তো  আর  পুরো  পরিবার  চলে না। এখন  যদি  সমাজের  বৃত্তবানেরা  তাদের  জন্য  এগিয়ে  আসেন  তাহলে  এই  পরিবারের  দুচিন্তা  কিছুটা  লাঘব  হবে।
শ্রীমঙ্গল  উপজেলা  স্বাস্থ্য  ও  পরিবার  পরিকল্পনা  কর্মকর্তা  জয়নাল  আবেদীন  টিটো  বলেন, আমি  নিজে  তাদের  বাড়ি  গিয়েছি, সবাইকে  দেখেছি,  কথা  বলেছি, এটা  একটা  বিরল  জন্মগত  রোগ, যা  গর্ভাবস্থায়  জিনগত  ত্রুটির  জন্য  হয় ।  এ  রোগ  ভাল  হবার  নয়, আবার  এ  রোগে  আক্রান্ত  রোগী  এই  রোগের  কারণে  মারা  যায়  না, তাদের  এক  বোন গেস্ট্রোএন্টেরাইটিসে  আক্রান্ত  হয়ে  মারা  গেছে । এই রোগীরা  নিজের  কাজ  নিজে  করতে  পারে  না  বলে  সব  সময়ই  অপরি”ছন্ন  থাকে  এ  কারণে  বারবার  ইনফেকশন  হয় ।  এজন্য  তাদের  সব  সময়  পরিষ্কার  পরিছন্ন  রাখা  জরুরী  তারা  যেন  ডায়রিয়া,  নিউমোনিয়া  বা  মুখের  ইনফেকশনে  আক্রান্ত  না – হয়
তিনি  আরো  বলেন,  নিকটাত্মীয়দের  মধ্যে  বিয়ে  হলে  তাদের  সন্তানদের  এ  রোগ  হতে  পারে ।  নিকটাত্মীয়দের  মধ্যে  বিয়ে  না  করাই  এ  রোগ  প্রতিরোধের  উপায় ।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১জুন,আলী হোসেন রাজন, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ও পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মৌলভীবাজার পৌরসভার চার হাজার ৬২১ জনের মধ্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার ১১জুন সকালে পৌরসভার হল রুমে পৌর মেয়র ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো তোফায়েল ইসলাম এ চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এসময় পৌর মেয়র ফজলুর রহমান জানান, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার কর্তৃক পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অতি দরিদ্র পরিবারের মাঝে মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্য়ন্ত চার হাজার ৬২১ জনকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১জুনঃ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ চার মাস ধরে কারাবন্দি অবস্থায় আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সাজাপ্রাপ্ত হলেও দ্রুতই তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাবেন বলে প্রথমদিকে আশাবাদী ছিলেন দলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু নানা দীর্ঘসূত্রতার পর হাইকোর্ট থেকে চার মাসের জামিন পেলেও অন্য কয়েকটি মামলায় পরোয়ানা থাকায় আজও তার মুক্তি মেলেনি। এমনকি তাকে আসন্ন ঈদ কাটাতে হচ্ছে কারাগারেই। সরকার পক্ষের একের পর এক হস্তক্ষেপের কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় সহসাই তার মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখছেন বিএনপি নেতারা। এ অবস্থায় দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির জন্য শিগগিরই কঠোর আন্দোলনে নামার আভাস দিচ্ছেন তারা।

চার মাসের কারাবাসে খালেদা জিয়া চরম অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তার চিকিৎসার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ গঠিত মেডিকেল টিমের সুপারিশে ৭ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল

বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর আর তাকে বাইরে আনা হয়নি। এমনকি জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় বকশীবাজার বিশেষ আদালতেও তাকে হাজির করা হয়নি অসুস্থতার কথা বলে। বিএনপির পক্ষ থেকে কারা কর্তৃপক্ষের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আস্থাহীনতার কথা জানিয়ে তাকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের পরামর্শে তার পছন্দ অনুযায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানানো হলেও তাতে সাড়া দেয়নি সরকার। এতে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন দলের নেতারা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, আগামী নির্বাচন একতরফা করতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মিথ্যা ও জাল নথি তৈরি করে সাজানো মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি রাখা হয়েছে। তিনি সরকার প্রধানের প্রতিহিংসার শিকার। গুরুতর অসুস্থ হলেও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না, যা অমানবিক ও মানবাধিকারের পরিপন্থি।

এদিকে দলের সিনিয়র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতারাও এখন বলছেন, বর্তমান সরকার যতদিন ক্ষমতায় আছে, ততদিন আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়া মুক্ত হতে পারবেন না। তাকে মুক্ত করতে রাজপথে নামতে হবে। তাদের ভাষায়, যেহেতু রাজনৈতিক কারণে তিনি জেলে আছেন। তাই তাকে রাজনৈতিকভাবেই মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও কথা বলছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বুধবার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সরকারকে হটিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বড় ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা আমাদের বন্ধুরা আছেন, যাদের বয়স আছে, যাদের সাহস আছে, তারা সবাই প্রস্তুতি নিন। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনই আমাদের পথ।

অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আশা রেখে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর গণআন্দোলন- এটাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। সে আন্দোলনের মাধ্যমেই পতন ঘটবে স্বৈরাচার সরকারের।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের বাইরে থাকা বিভিন্ন দলকে এ ঐক্য প্রক্রিয়ায় আনার জন্য যোগাযোগ করছেন বিএনপি নেতারা। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই আগামী নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের অপেক্ষায় আছে দলটি।

৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পরদিন থেকেই তার মুক্তির জন্য দফায় দফায় ঢাকাসহ সারা দেশে অনশন, অবস্থান, মানববন্ধন এবং মিছিল, সমাবেশসহ শান্তিপূর্ণ নানা কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। তবে এসব কর্মসূচি পালনেও পুলিশ প্রশাসনের বাধা-প্রতিবন্ধকতার কারণে এক পর্যায়ে তা থেকে সরে এসে আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদার মুক্তির চেষ্টা করছিল দলটি। কিন্তু দীর্ঘ চার মাসেও তার মুক্তি না হওয়ায় দলে হতাশা সৃষ্টি হওয়ায় ফের আন্দোলনমুখী হতে চাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

কারা সূত্রে জানা গেছে, বিটিভি দেখে, পত্রিকা পড়ে ও নামাজ-রোজা করে কারাগারে সময় কাটছে খালেদা জিয়ার। দলীয় সূত্রমতে, খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের কপি পাওয়া নিয়ে জটিলতায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করতেই সময় কাটে অনেক দিন। সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৭৬ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। পরদিন আপিল করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এ বিষয়ে ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত শুনানিতে সাজা রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জরিমানার দ-াদেশ স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি নিম্ন আদালতের রায়ের নথি ১৫ দিনের মধ্যে পাঠাতে ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারককে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানি হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি।

নানা জটিলতার পর ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় হাইকোর্ট। পরে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে তা স্থগিত হয়ে যায়। এক পর্যায়ে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখে ১৬ মে রায় দেন আপিল বিভাগ। তবে অন্য মামলায় পরোয়ানা থাকায় তিনি মুক্তি পাননি। এসব মামলায় জামিনের জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে বিএনপির আইনজীবীরা।

এদিকে ২৮ মে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ কুমিল্লায় হত্যা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। আর নড়াইলের মানহানির মামলায় আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন আদালত। খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে সেদিনই আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ, যা পরের দিন চেম্বার বিচারপতির আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী শুনানি নিয়ে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৩১ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন দুটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি শেষে আদালত খালেদা জিয়াকে কুমিল্লায় হত্যা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত রাখেন এবং ২৪ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেন।

অপরদিকে নড়াইলে মানহানির একটি মামলায় জামিনের আবেদন করলেও ৫ জুন তা নামঞ্জুর করে আদালত। ফলে খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তির বিষয়টি আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তার মুক্তির জন্য আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে বিএনপির আইনজীবী শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন।

খালেদার সুচিকিৎসা দাবিতে বিএনপির কর্মসূচি কাল : দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবিতে রোববার সারা দেশে জেলা ও মহানগরে এবং ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। শুক্রবার রাতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, আজ (শুক্রবার) খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয়রা তার সঙ্গে ঢাকা পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাতের জন্য গিয়েছিলেন। সাক্ষাৎ শেষে তারা দেশনেত্রী সম্পর্কে যে বর্ণনা দেন তা শুধু মর্মস্পর্শীই নয়, হৃদয়বিদারক। নিকটাত্মীয়রা বলেছেন, ৫ জুন খালেদা জিয়া দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি তিন সপ্তাহ যাবত ভীষণ জ্বরে ভুগছেন; যা কোনক্রমেই থামছে না। চিকিৎসাবিদ্যায় যেটিকে বলা হয় টিআইএ (ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক)। তার দুটো পা-ই এখনও ফুলে আছে এবং তিনি তার শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছেন না।

রিজভী চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, আগে ব্যবস্থা নিলে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি হতো না। সরকারের ইচ্ছাকৃত অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তার প্রয়োজনীয় যে চিকিৎসাগুলোর জন্য বারবার দাবি করা হয়েছিল যেমন বিশেষায়িত এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ইকো কার্ডিওগ্রাফি, ইসিজি, বিএমডিসহ জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং একটি চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে জরুরি চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা। কিন্তু দলের নেতাদের দাবি এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ ক্রমাগত উপেক্ষাই করে চলেছে সরকার।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১জুনঃ  অনলাইন কেনাকাটায় ভ্যাট আছে কি না, তা নিয়ে এখনও সংশয় আছে বলে জানিয়েছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার সংবাদ সম্মেলন করে ই-ক্যাব এমন কথা জানায়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেওয়ার আগে সংগঠনটির মহাসচিব আবদুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে অনলাইন কেনাকাটাকে নতুন সংজ্ঞায়ন করে ভার্চুয়াল কমার্স নাম দিয়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের কথা বলা হয়েছিল। পরে আবার শোনা যাচ্ছে, সেটি ই-কমার্সে আরোপ করা হচ্ছে না।

কিন্তু তারপরও আমরা এখনও বিষয়টি নিয়ে সংশয়ে আছি। এমন অবস্থায় অনলাইন কেনাকাটায়, বিশেষ করে ই-কমার্সে ভ্যাট থাকছে কি না, সেটা নিয়ে পরিষ্কার বক্তব্য প্রত্যাশা করছে ই-ক্যাব। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে যেটা জেনেছি, এই খাতে ভ্যাট থাকছে না। তবে নতুন যে সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে ভার্চুয়াল কমার্স, সেটা নিয়ে এখনও সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এটিও স্পষ্ট করা দরকার বলে জানান তিনি। এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যখন বাজেট ঘোষণা করেন, সেখানে এই অনলাইন কেনাকাটার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের কথা জানান। কিন্তু শুক্রবার এনবিআর বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানায়, অনলাইন কেনাকাটায় কোনো ভ্যাট থাকছে না। এটিকে ছাপার ভুল বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া।

মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা ভার্চুয়াল বিজনেস যেমন ফেইসবুক, ইউটিউব এগুলোর ওপর ট্যাক্স ধার্যের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। কিন্তু অনলাইন বিজনেস আলাদা করেছি এবং এর ওপর ভ্যাট বসাইনি। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এর ব্যবসাকে অনলাইনভিত্তিক করে ফেলা, যেটার কাজ করে চলেছে ই-ক্যাব। আমরা চাই সরকারের সঙ্গে মিলে কাজ করতে। তাই এই খাতে যদি ভ্যাট আরোপ করে অঙ্কুরেই দমিয়ে দেওয়া হয়, তবে ব্যবসা খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, আমরা গত তিন বছর থেকে ই-কমার্সকে আইটিইএসে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছি। আশা করছি সামনে এটি আইটিইএসে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বেসিস ই-কমার্স স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ কামাল বলেন, এভাবে প্রতিবার বাজেটের পর আমাদের শোরগোল তুলতে হয়। তখন আবার ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়। আমরা চাই সরকার একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ই-কমার্সে ট্যাক্স হলিডে ঘোষণা করুক। এটা আমাদের অন্যতম একটা দাবি থাকছে সরকারের কাছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি রেজাউনুল হক জামি, জয়েন্ট সেক্রেটারি নাসিমা আক্তার নিশা, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি আব্দুল হক অনু, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর আশিষ চক্রবর্তী।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১জুন,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃসুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের সড়ক গুলোতে পানি জমে চরম জনদূর্ভোগের শিকার হচ্ছে জনসাধারন। ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই জেলার প্রতিটি উপজেলার অর্ধশতাধিক বাজার গুলোর মূল সড়ক পানিতে টইটুম্ভুর হয়ে যায়।

এতে করে জনদূর্ভোগে পড়তে হয় বাজারে আসা দৈনিক নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য ক্রয়-বিক্রয় করতে আসা স্থানীয় কৃষক,বাজারের ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী,বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী,শিক্ষক,স্থানীয় ব্যবসায়ী,সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনসহ সর্বস্থরের জনসাধারনকে।

জানা যায়,জেলার তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,দিরাই,শাল্লা,জগন্নাথপুর,দোয়ারা বাজার,ছাতকসহ ১১টি উপজেলায় চরম দূর্ভোগে রয়েছে স্থানীয় জনসাধারন। তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সাড়ে তিন লক্ষাধিক জনসাধারনের চলাচলের মূল সড়ক হিসাবে বাজার গুলোই দিয়েই উপজেলা ও জেলা সদরে সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। এছাড়াও বাজার গুলো দিয়েই বিভিন্ন স্কুল,কলেজের ছাত্র-ছাত্রী,সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্টানের চাকরীজীবি,ব্যবসায়ীরা যার যার নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাতায়াত করে থাকে সহজে বাজার গুলোর মধ্য দিয়েই।

উপজেলার ছোট-বড় অর্ধশতাধিক হাট-বাজারের মধ্যে উপজেলার ব্যবসা বানিজ্যের প্রান কেন্দ্র বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট বাজার (সংস্কার কাজ হলেও) লাউড়েরগড় বাজার,তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের সদর বাজার,আনোয়ারপুর বাজার,উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বাগলী বাজার,নতুন বাজার,বড়ছড়া বাজারসহ অন্যান্য বাজার গুলোতে সড়কের সংস্কার হয় নি ও ড্রেনের ব্যবস্থা নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে ডুবে যায় আর কাঁদায় একাকার হয়ে সড়ক গুলোতে চলাচলে নেমে আসে চরম দূর্ভোগে।

বাজার গুলোতে থেকে বৃষ্টির পানি বাহিরে বের হবার জন্য ড্রেন সংযোগ না থাকায় ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম দূর্ভোগের মধ্যে পরতে হয় সর্বস্থরের জনসাধারনকে। বার বার এলাকাবাসী সহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাজার গুলোতে ড্রেন তৈরী ও রাস্তা মেরামত করার জন্য দাবী জানিয়ে আসলেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব প্রকাশ করছে বাজার গুলো দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান,বাজার গুলোতে পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেন না থাকায় বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে আর রাস্তা গুলো কাঁদা হয়ে যায়। আর রাস্তার পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে এতে করে বাজারের আসা ক্রেতা ও আমরা ব্যবসায়ীরা চরম দূভোর্গে আছি।

তাহিরপুর উপজেলা সদর বাজারের ব্যবসায়ী শিবলি আহমদসহ অনেকেই জানান,উপজেলা সদরের বাজারটির দিকে কারো নজর নাই। বৃষ্টি হলেই বাজারে কৃশি ব্যাংক থেকে পোষ্ট অফিস রোড পর্যন্ত পানি জমে ও কাঁদা হয়ে যাওয়ায় চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হয় আমাদের সবাইকে। দ্রুত এর সমাধান করা খুবেই প্রয়োজন। উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট বাজার বনিক সমিতির সভাপতি সেলিম হায়দার ও সাধারন সম্পাদক মাসুক মিয়া বলেন,বাদাঘাট বাজারের সড়ক ভাঙ্গা ছুড়া ছিল ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি সাহেবের চেষ্টায় সড়কের মেরামত হয়েছে। বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে লাইট পোষ্ট স্থাপন করা হয়েছে।

তাহিরপুর বাজার বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক এরশাদ মিয়া জানান,বাজারের ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে বাজারের সড়ক গুলো পানিতে ডুবে যায় ও কাদাঁযুক্ত হয়ে পড়ে। বাজারের চতুর দিকে ড্রেন তৈরী করে জমে থাকা পানি বাজারের বাহিরে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করা খুবেই প্রয়োজন। এব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,নির্বার্হী কর্মকর্তা ও সদর ইউপির চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্শন করছি। তারা সহযোগীতা করলে খুব দ্রুতই সমাধান হবে।

“একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও চোর চক্র ধরা ছোঁয়ার বাইরে”

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১জুন,নড়াইল প্রতিনিধিঃ  নড়াইল শহর থেকে  গত চার মাসে ১১টি মটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে।  মটরসাইকেল চুরির ঘটনায় সাইকেলের মালিকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। নড়াইলে একটি শক্তিশালী মটরসাইকেল চোরা চক্র গড়ে উঠলেও তারা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ উঠেছে, শহরে অনেক নম্বর প্লেট বিহীন এবং চোরাই মটরসাইকেল চলাচল করলেও পুলিশ হয় নিরবতা পালন করছে না হয় অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছে।

জানা গেছে,  শুক্রবার (৮জুন) দুপুর ৩টার দিকে নড়াইল প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের নড়াইল প্রতিনিধি মীর্জা নজরুল ইসলামের টিভিএস এপাসি মটরসাইকেল বাসার সামনে থেকে চুরি হয়ে গেছে।  বুধবার (৬জুন) পুলিশ লাইনের পূর্ব পার্শ্বে একটি বাসার সামনে থেকে বিকেল ৪টার দিকে চাকরিজীবী আঃ হাকিমের ডিসকভারি মটরসাইকেল  চুরি হয়।  এ বাসায় ৩ পুলিশ কর্মকর্তার মটরসাইকেল থাকলেও তাদের সাইকেল চুরি হয়নি। ১মে সরকারি মহিলা কলেজ এলাকার বাসিন্দা সেনা সদস্য হামিমুর রহমান হিট্টুর টিভিএস আর.টি.আর মটরসাইকেল পার্শ্ববর্তী আলাদাতপুর এলাকার একটি বাসার সামনে থেকে চুরি হয়ে যায়।

১২মে সন্ধ্যা ৬টার দিকে রূপগঞ্জ টাউন ক্লাবের গ্যারেজ থেকে জেলা যুব লীগ নেতা মনিরুজ্জামান বাবুর টিভিএস এপাসি মটরসাইকেল চুরি হয়। ১৮ মে রূপগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী প্রদ্যোৎ বিশ্বাসের  হিরো হোন্ডা মটরসাইকেল বিকেল ৪টার দিকে মুচিরপোল এলাকা থেকে চুরি হয়। ২৭মে রূপগঞ্জ স্বর্ণ পট্টি থেকে রাত ১০টার দিকে ব্যবসায়ী তোফায়েল সিকদারের টিভিএস এপাসি মটরসাইকেল চুরি হয়। গত মে মাসের মাঝামাঝি দক্ষিন নড়াইল এলাকার নজরুল ইসলামের ডিসকভার-১৩৫ মটরসাইকেলটি সদরের মুলিয়া বাজার থেকে চুরি হয়। গত ৭ এপ্রিল শহরের কুরিগ্রাম এলাকার মোঃ মোস্তফার বাসার সামনে থেকে বিকেল ৪টার দিকে বাসার সামনে থেকে ডিসকভার-১২৫ মটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। এর একদিন পর দক্ষিন নড়াইল এলাকার প্রাক্তন শিক্ষক অনিল বিশ্বাসের ডিসকভার-১২৫ নড়াইল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের গেটের সামনে থেকে বিকেল ৩টার দিকে খোয়া যায়। গত মার্চ মাসে সদরের মুলিয়া গ্রামের তারক প্রামান্য নামে এক রাজমিস্ত্রীর ডিসকভার-১২৫ মটরসাইকেল শহরের চরেরঘাট এলাকা থেকে চুরি হয়। একই মাসে মুলিয়া গ্রামের জীবন বিশ্বাসের বাজাজ প্লাটিনা মটরসাইকেল সীতারামপুরের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে চুরি হয়।

অভিযোগে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার(৭জুন) বিকেলে রূপগঞ্জ বাসষ্টান্ডের পার্শ্বে তেতুলতলা এলাকা থেকে বিকেল বেলা  টিএসআই মোঃ পান্নু শেখ এক মটরসাইকেল চালকের চোরাই মটরসাইকেলের কথা বলে বাজাজ সিটি-১০০ মটরসাইকেল আটক করে। তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও  ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি ওই সাইকেল ছেড়ে দেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর হাজিবাইক চালকদের মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে টিএসআই পান্নু শেখের বিরুদ্ধে এসপি অফিসের সামনে বিক্ষোভ করে ইজিবাইক বহুমুখী সমবায় সমিতি।

এ ব্যাপারে টিএসআই মোঃ পান্নু শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কখনও কারো কাছ থেকে এক টাকাও নেইনা।

একুশে পদকপ্রাপ্ত লোক  করি বিজয় সরকার স্মৃতি সংসদের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আকরাম শাহীদ চুন্নু বলেন, গত দু’বছর পূর্বে বাসার ভেতর থেকে ২টি মটরসাইকেল চুরি হলেও আর পাওয়া যায়নি। শহরে একের পর এক মটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। সদর হাসপাতাল এলাকা, ইসলামাী ব্যাংক এলাকা ও নড়াইল সোনালী ব্যাংকের আশ্বে-পার্শ্বে একটি চক্র গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এর সাথে আইন-শৃংখলা বাহিনীর কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।  তারা সক্রিয় হলে সাধারন মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি হতো না।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন পিপিএম বলেন, হটাৎ করে মটরসাইকেল চুরি বেড়ে গেছে বিষয়টি সত্য নয়। তবে যারা এর সাথে জড়িত তাদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আর টিএসআই যার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন, সে যদি আমাদের কাছে এসে অভিযোগ করে তাহলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।