Thursday 21st of June 2018 06:54:05 AM

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫জুন,বেনাপোল প্রতিনিধি: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভারত থেকে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত ১০ টি উন্নতমানের  আমদানিকৃত ঘোড়া বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টার সময় ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ঘোড়া গুলো এবং রফতানি কারক এর প্রতিনিধি বেনাপোল কাস্টমসে এসে পৌছায়।

ভারতের কোলকাতা ”বারাসাতের বিধাতা সাপ্লাইয়াসর” এর ম্যানেজার দিপেস গোস্বামী বলেন, তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (ডিজিডিপি) ১লাখ ১১ হাজার ডলারে ঘোড়া গুলো আমদানি করে। যা বাংলাদেশী টাকার ৯৩ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা। এ ঘোড়া গুলো উন্নতমানের প্রশিক্ষন প্রাপ্ত ঘোড়া।
তিনি বলেন, গত রোববার ভারতের দিল্লি থেকে ঘোড়াগুলোর কাগজপত্রর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বাংলাদেশে ২টি গাড়িতে করে নিয়ে আসা হয়। তিন দিন পর বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দরে ঘোড়ার গাড়ি দুটি প্রবেশ করে। আগামি কাল কাস্টমসের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা করা হবে।

আমারসিলেট  টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫জুন,নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলে পুর্নঃবাসিত ভিক্ষুকদের মাঝে ঈদের উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার জেলা প্রশাসকের  কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সদর উপজেলার ১০২ জন পুর্নঃবাসিত ভিক্ষুকের মাঝে এ সামগ্রী বিতরণ করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ কামরুল আরিফের সভাপতিত্বে,  পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন,অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা সেলিম, জেলা সমাজ সেবার উপ-পরিচালক রতন কুমার হালদার,নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডঃ আলমগীর সিদ্দিকী, চেম্বার অফ কমার্সেও সভাপতি মোঃ হাসানুজামান,সরকারি কর্মকর্তা,পুর্নঃবাসিত ভিক্ষুকগন সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঈদের উপকরণ সামগ্রী হিসাবে প্রতিজনকে ৩০ কেজি চাল, ১ কেজি ছোলা,১ লিটার সোয়াবিন, ১ কেজি চিনি, ১কেজি সেমাই ,১ কেজি ডাল ,১টি শাড়ি/ লুঙ্গি  ও নগত ১০০ টাকা বিতরণ করা হয়।

পর্যায়ক্রমে জেলার মোট ৮০০ জন পুর্নঃবাসিত ভিক্ষুকের মাঝে ঈদ উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫জুন,শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ বিশ্ব  পরিবেশ  দিবস  ২০১৮ উপলক্ষে  শ্রীমঙ্গল  লাউয়াছড়া  বন  ও  জীববৈচিত্র  রক্ষা  আন্দোলন  কমিটির  উদ্যোগে  শ্রীমঙ্গল  সরকারি  বালিকা  উচ্চ  বিদ্যালয়ে  এক  বৃক্ষ  রোপণ  কর্মসূচি  পালন  করা  হয় ।

আজ মঙ্গলবার  দুপুর ২  ঘটিকায় লাউয়াছড়া  বন  ও  জীববৈচিত্র  রক্ষা  আন্দোলন  কমিটির  নেতৃবৃন্দ  ও  শ্রীমঙ্গল  বালিকা  উচ্চ  বিদ্যালয়ের  শিক্ষকদের  সমন্বয়ে  স্কুল  প্রাঙ্গনে  বিভিন্ন  ফলজ  ও  বনজ  বৃক্ষের  চারা  রোপণ  করা  হয় ।

এসময়   উপস্থিত  ছিলেন  লাউয়াছড়া  বন  ও  জীববৈচিত্র  রক্ষা  আন্দোলন  কমিটির  আহ্বায়ক  জলি  পাল  যুগ্ম  আহ্বায়ক  কাজী  শামসুল  হক, এস  কে  দাশ  সুমন, জাভেদ  ভূইয়া,  যুগ্ন  সদস্য  সচিব  তাপস  দাশ,  রিয়াজ  আহমেদ  সরকারি  বালিকা  উচ্চ  বিদ্যালয়ের  প্রধান  শিক্ষক  সুধাংশু  রঞ্জন  দেবনাথ,  শিক্ষক  মোঃ  জহির  আলী, মোঃ  কামাল  উদ্দিন,  মোঃ  মিজানুর  রহমান  বি,  টি,  আর,  আই  উচ্চ  বিদ্যালয়ে  শিক্ষক  মোঃ  ফয়সল  আহমেদ  প্রমুখ।

“আমাদের মধ্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে সে যত বড় পদেই থাকুক না কেন, তাকেও কোমরে দড়ি বেঁধে হুড়হুড় করে টেনে নিয়ে আসা হবে-ডিএমপি কমিশনার”

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫জুনঃ   ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যত বড় প্রভাবশালীই জড়িত থাকুক না কোনো কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

মঙ্গলবার (০৫ জুন) সকালে রাজধানীর পল্টনে ঈদ বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় মাদক বিরোধী অভিযানে নিরীহ কাউকে হয়রানির অভিযোগ পেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‌‌‌‌‌‌‌‌‌আমরা নির্দেশনার আলোকে ঢাকা মহানগরীতে প্রত্যেকটি মাদকের আখড়া ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছি, দেব এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আজকেও রমনা, নয়াটোলা এসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি এলাকায় যারা মাদকের ব্যবসা করে তাদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের কাজ চলমান রয়েছে।

আছাদুজ্জামান মিয়া আরো বলেন, যারা মাদকের ব্যবসা করে, অর্থলগ্নি করে, ঘর ভাড়া দেয়, আস্তানার জায়গা দেয় তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ঢাকা শহরের কোনো মাদকের আস্তানা থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের মধ্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে সে যত বড় পদেই থাকুক না কেন, তাকেও কোমরে দড়ি বেঁধে হুড়হুড় করে টেনে নিয়ে আসা হবে।

এসময় মাদক বিরোধী অভিযানে নিরীহ কাউকে হয়রানির অভিযোগ পেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলেও ডিএমপি কমিশনার জানান।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫জুনঃ নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর  আজ মঙ্গলবার (৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রান্ধুনীমুড়া গ্রামের বৈষ্ণব বাড়ির পুকুর থেকে চার শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (৪ জুন) দুপুরে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় তারা।

মৃতরা হলো- হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১১নম্বর ওয়ার্ড রান্ধুনীমুড়া গ্রামের শুকু কমিশনারের (পৌরসভার কাউন্সিলর শুকু মিয়া) বাড়ির ওয়াসিমের দুই ছেলে রাহুল (১৩) ও শামীম (১১), একই বাড়ির আহসান হাবিবের ছেলে আরাফাত হোসেন রায়হান (১১) এবং শাহরাস্তি উপজেলার বোচ্চা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে লিয়ন (১২)।

ওই বাড়ির ইব্রাহিম জানান, সোমবার দুপুরে ওই চারজন পুকুরে গোসল করতে গিয়ে আর ফেরেনি। অনেক খুঁজেও তাদের না পেয়ে সন্ধ্যায় মাইকিং করা হয়। মঙ্গলবার তিনি ফজর নামাজের জন্য ওজু করতে গিয়ে পুকুরে নিখোঁজদের মধ্যে তিনজনকে ভাসতে দেখেন। এসময় তিনি চিৎকার দিলে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে প্রথমে তিনজনকে ও পরে একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম বলেন, সোমবার (০৪ জুন) দুপুরে শিশু গুলো নিখোঁজ হয়। মঙ্গলবার ভোরে পুকুরে তাদের মরদেহ ভেসে ওঠে। নিহতদের মধ্যে রাহুল ও শামীম সৎ ভাই।

চাঁদপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, ওই চারজন পানিতে ডুবেই মারা গেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গুলো দাফন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আমারসিলেট  টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫জুন,লুৎফুর রহমান তোফায়েলঃ আমাদের দেশে বীভৎস আর পৈশাকি নির্যাতন-হত্যাকা- যেন দিনদিন বাড়ছেই। ঘটনাগুলোর কোনো কোনোটির স্থিরচিত্র, ভিডিও চিত্র কিংবা অডিও ক্লিপ প্রকাশ হওয়ায় নৃসংশতার সাক্ষী হচ্ছি আমরা। এর মধ্যে সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য দু’তিনটি ঘটনা; শিশু রাজন হত্যার ভিডিও, এমসি কলেজে খাদিজার উপর বদরুলের রাম দা’র কুপ, শিশু রবিউলের পেট ফুলা মৃতদেহের ছবি আমরা দেখেছি এবং সর্বশেষ গত শুক্রবার প্রকাশিত টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হত্যার অডিও ক্লিপ শুনেছি। অমানবিক এসব ঘটনাগুলো দেখতে দেখতে আমরা এতোটাই পাষাণ হয়ে গেছি যে, এসব মৃত্যু বা হত্যাকা- আমাদের মনে আর তেমন একটা নাড়া দেয় না। তবে একরামুলের অডিও ক্লিপটি আমাদের সেই পাষাণ দিলকেও নাড়িয়ে দিয়েছে প্রবলভাবে! ঘুম হারাম করে দিয়েছে কোটি জনতার। সামাজিক মাধ্যমে অডিও ক্লিপটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থেকে তা-ই বুঝা যায়।

“যাচ্ছি মা…” বলে নিজের শেষ পরিণতির দিকে দাবিত হচ্ছিলেন একরামুল। ফোনের অপরপ্রান্তে প্রিয় বাবাকে গুলি করার শব্দ শুনছে মেয়ে, প্রিয়তম স্বামীর বুক ঝাঝরা করা বুলেটের শব্দ শুনছেন স্ত্রী! সেসময় “আব্বু, তুমি কাদতেছো যে!”, “আমার স্বামী কিচ্ছু করে নাই” এরকম বুক ফাটা আর্তনাদ ছাড়া কিছু করার ছিল না তাদের। মৃত্যু সবার জন্য অবধারিত। তাই বলে এতো বীভৎসভাবে, এতো নির্দয়ভাবে প্রিয়জনের মৃত্যুর সাক্ষী হতে হবে আমাদের! কেউ কখনও না ভাবলেও, না কামনা করলেও তা-ই ঘটেছে-ঘটছে। মানবতা-মানবাধিকারের প্রশ্ন এখানে কি অবান্তর?

রাজনকে নির্যাতনের ভিডিও আমরা দেখেছি, কীভাবে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল তা দেখিনি। খাদিজার উপর নৃসংশ হামলার ভিডিও দেখেছি, কিন্তু ভাগ্যগুণে তিনি বেঁচে ফিরেছেন। রবিউলের বায়ু পথে গাড়ির পাম্পার দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়েছে, মৃত্যুর পর তার ফুলা পেটে লাশের ছবি দেখেছি। নির্যাতনের চিত্র দেখিনি। কিন্তু একরামুলকে হত্যার পুরো প্রক্রিয়া আমরা কান দিয়ে শুনেছি।

গত ২৬ মে, শনিবার দিবাগত রাতে মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর ও স্থানীয় যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

একরামুলের পরিবার দাবি করছে, একরামুল নির্দোষ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে রেকর্ডকরা অডিও প্রকাশ হওয়ার পর সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একরামুলের পরিবার বলছে, তাঁকে বাসা থেকে র‌্যাব এবং ডিজিএফআই এর স্থানীয় দু’জন কর্মকর্তা ডেকে নেওয়ার পর হত্যা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সময়কার ফোনকলের এই অডিও সাংবাদিকদের শুনিয়েছে তার পরিবার । সেই অডিওতে শোনা যাচ্ছে যে, একরামুল নিহত হওয়ার ঘটনার সময় এবং তার আগমুহুর্তে ঘটনাস্থলে মোবাইল ফোনে তিনবার কল এসেছিল। শেষ ফোন কলটি রিসিভ হলেও ঘটনাস্থল থেকে ফোনটিতে কেউ উত্তর দিচ্ছে না। যিনি ফোন করেছেন, প্রথমে তার কিছুটা কথা আছে। কিন্তু পরে ঘটনাস্থল বা সেই প্রান্ত থেকে একটা ভয়াবহ পরিবেশের চিত্র পাওয়া যায় এই অডিওতে।

একরামুল হকের স্ত্রী আয়শা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ঘটনার আগমুহুর্তে তার দুই মেয়ে প্রথমে একরামুলের মোবাইল ফোনে কল করে তার সাথে অল্প সময় কথা বলেছিল। এই কথোপকথনে পরিস্থিতি গুরুতর মনে হওয়ায় সাথে সাথে আয়শা বেগম নিজে ফোন করেন। তার ফোন কলটি রিসিভ করা হয়, কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে কোনো জবাব পাননি। তিনি গুলি এবং ঘটনাস্থলের সব শব্দ শুনতে পেয়েছেন। প্রথমে মেয়ের কল রিসভি করে একরামুল বলেছিলেন, “যাচ্ছি মা…“। কেন জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, “জরুরি কাজে”। এসময় তার কণ্ঠ ভারি শুনে মেয়ে প্রশ্ন করে, “আব্বু, তুমি কান্না করতেছো যে!”। তখন একরামুলের স্ত্রী মোবাইল নিয়ে কথা বলতে চাইলে অপরপ্রান্ত থেকে গুলির শব্দ আর গুঙ্গানির আওয়াজ শুনা যায়। তখন মা-মেয়ে আর্তনাদ করে ওঠেন। চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমার স্বামী কিচ্ছু করে নাই যে। আমার স্বামী নির্দোষ।”

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, ৪ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই অভিযানে ১২৭ জন নিহত হয়েছেন। (বৈশাখী টিভি অনলাইন,  ৩১ মে ২০১৮)। তবে এ সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। শুরু থেকেই বিচার বহির্ভূত এই হত্যাকা-গুলো নিয়ে প্রশ্ন ছিলো। আজও রয়ে গেছে। সচেতন সমাজ সবসময় এই হত্যাকা-ের প্রতিবাদ ও এ ধরণের ঘটনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ একরাম হত্যার অডিও প্রকাশের চলমান মাদক বিরোধী অভিযান সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে অবিলম্বে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশের দশজন শীর্ষ বুদ্ধিজীবি। (বিবিসি বাংলা, ২ জুন ২০১৮)। তারা বলেছেন, এই অভিযানে প্রতিদিন অনেক মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন। যা পুলিশ বন্দুক যুদ্ধে নিহত বলে বর্ণনা করছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সমাজ ব্যবস্থায় এমন মৃত্যু কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যাবস্থায় এমন মৃত্যু কখনই গ্রহনযোগ্য নয়। সংবিধানে প্রদত্ত জীবনের অধিকার এভাবে কেড়ে নেয়া যায় না।

রাজন, খাদিজা বা রবিউলদের হত্যা-নির্যাতনকারী ছিলো সাধারণ মানুষ। তাদের ঘটনাগুলো প্রকাশের প্রতিবাদ-ক্ষোভ আর সমালোচানার ঝড় উঠেছিল দেশে-বিদেশে। সব ঘটনায়ই অভিযুক্তরা বিচারের মুখোমুখি হয়েছে। যদিও সব ঘটনার বিচার এখনও শেষ হয়নি। এবার একরামুলের ঘটনায় অভিযোগ খোদ রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর। তাই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই ঘটনাটি দেশের সাধারণ মানুষকে আতঙ্কগ্রস্থ করে তুলেছে। মাবাধিকারকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

মাদকদ্রব্যগুলো মানুষের জীবন বিধ্বংসী বস্তু। আমাদের জাতীয় অগ্রগতির প্রতিবন্ধকও এটি। তাই এটাকে নির্মুল করার বিকল্প নেই। সকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। যা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু চলমান অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা এই অভিযানকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করবে না এর সাফল্যকেও ম্লান করে দিতে পারে। তাই সরকারের উচিৎ, মাদকের সাথে জড়িত সকল শ্রেণির লোকদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা।লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট।

আমারসিলেট  টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫জুন,নড়াইল প্রতিনিধিঃ “আসুন প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি” “প্লাস্টিক পুনঃ ব্যাবহার করি , না পারলে বর্জন করি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে নড়াইলে পালিত হল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। মঙ্গলবার দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা ও গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মোঃ কামরুল আরিফের সভাপতিত্বে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুহেনা মোস্তফা কামাল,জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল খালেক, জেলা বন কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) এসকে আব্দুর রশীদ,সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোঃ জসিমউদ্দিন হাওলাদার, নারীনেত্রী রওশন আরা কবির লিলি,আঞ্জুমান আরা, সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারি, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেনীর এ সময় মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরন করা হয়।

আমারসিলেট  টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫জুন,ডেস্ক নিউজঃ    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখন শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং অর্থনীতিও যথেষ্ট শক্তিশালী। তিনি বলেন, ‘আমরা সকল ক্ষেত্রেই এখন এগিয়ে গিয়েছি এবং আমাদের গণতন্ত্রও এখন শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেইসঙ্গে আমাদের অর্থনীতিও এখন যথেষ্ট শক্তিশালী।’ খবর বাসস’র

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সোমবার তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সম্মানে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। এখানে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দল ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে দিন বদলের যে সনদ ঘোষণা করেছিল, সেই সনদ অনুযায়ী তাঁর সরকারের বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপের ফলে মানুষের দিন বদল শুরু হয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দারিদ্র ও ক্ষুধা মুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলায় তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই দারিদ্র উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছি। ইনশাল্লাহ আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠে এসেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পরমাণু বিশ্বে আমাদের প্রবেশ ঘটেছে এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আমরা মহাকাশেও পৌঁছে গেছি।

তিনি সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ সময় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই অগ্রগ্রতির ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে।’ যে চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে যেন আমরা উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে পারি। তিনি এ সময় আগত অতিথিদের মাহে রমজান এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান। এরআগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন টেবিল ঘুরে অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

ইফতারের আগে দেশ-জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহ’র শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

মোনাজাতে ’৭৫ এর ১৫ আগস্টে শাহাদাতবরণকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব এবং সেদিনের সকল শহীদ, জাতীয় চারনেতা, ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ এবং দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মাহুতি দানকারীদের আত্মার শান্তি কামনা এবং প্রধানমন্ত্রীর সুস্থ জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

স্পিকার ড: শিরীন শারমিন চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) চেয়ারম্যান পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া এবং বিএনএফ সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, অন্যান্য মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদসবৃন্দ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতির পার্টি, জাতিয় পার্টি (মঞ্জু), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাপ, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, গণ আজাদি লীগ ও সহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন- যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবমহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা শ্রমিক লীগ, তাঁতি লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, আওয়ামী বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ এবং শেখ রাসেল শিশু কিশোর সংসদ নেতৃবৃন্দ ও সদস্যগণ ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

আমারসিলেট  টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫জুন,নড়াইল  প্রতিনিধিঃ  নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সরুশুনা গ্রামে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষে শিশুসহ উভয়পক্ষের ১২জন আহত হয়েছে। সোমবার (৪ জুন) সকাল ৭টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহত ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, সরুশুনা গ্রামের বাচ্চু শেখ ও গোলজার শেখ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। রবিবার বিকালে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এরই জের ধরে সোমবার ভোরে বাচ্চু শেখের লোকজন ঢাল, সড়কি, ইটপাটকেল সহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রাদি নিয়ে প্রতিপক্ষ গোলজার শেখের বাড়িতে হামলা করে। হামলায় গোলজার শেখের সমর্থক সালাউদ্দিন শেখ (৫০), মানোয়ার শেখ (৩৫) ,অন্তর শেখ (১৯), সামাদ শেখ (২৮), রিয়াজ শেখ (২২), ও মেহেদী শেখের ৪ বছর বয়সী  সোহেল আহত হয়।

হামলাকালে গোলজার শেখের লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রতিপক্ষ বাচ্চু শেখের লোকজনকে ধাওয়া করলে সংঘর্ষ বাঁধে এবং এক পর্যায়ে বাচ্চু শেখের লোকজন পিছু হটে স্থানীয় মাঠের দিকে পালিয়ে যায়। এসময় বাচ্চু শেখ গ্রুপের মিঠু শেখ (৫০), মিলন মুন্সী (২৫), উজ্জ্বল শেখ (৩০), হাছু মোল্যা (৪৫), ও ইমারন মুন্সী (২২) আহত।

আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করাহয়েছে। বাকিরা  স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে।

লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, খবর শোনার পর পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে।

“অস্তিত্বহীন দলিল তৈরি করে ভুয়া ব্যক্তিদের দাতা সাজিয়ে প্রতারণার অভিযোগ”

আমারসিলেট  টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫জুন,নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার রামনগর এলাকা থেকে জাল দলিল, স্ট্যাম্প, জালপরচা, দাখিলা বই, নামপত্তনের কাগজ ও সিলসহ প্রতারক ফুল মিয়াকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ জুন) দুপুরে ফুল মিয়ার নামে কালিয়া থানায় মামলা হয়েছে।

এর আগে গতকাল রবিবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে আটক করা হয়। ফুল মিয়া রামনগর গ্রামের রোকন উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।

পুলিশ জানায়, ফুল মিয়ার কাছ থেকে শতাধিক জাল দলিল, স্ট্যাম্প, জালপরচা, দাখিলা বই, নামপত্তনের কাগজসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসপ্রধানের একাধিক সিল উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি (ফুল মিয়া) অস্তিত্বহীন দলিল তৈরি করে ভুয়া ব্যক্তিদের দাতা সাজিয়ে প্রতারণা করে আসছিলো। কালিয়া থানার ওসি শেখ শমসের আলী জানান, ফুল মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আমারসিলেট  টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫জুন,মিজনুর রহমান,সৌদি আরব থেকেঃ শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে সৌদি থেকে দেশে ফিরছেন শত শত নারী শ্রমিক।সৌদি আরবের রিয়াদ সহ, দাম্মাম সহ বিভিন্ন শহরের জেল থেকে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরছেন এসব  নিপীড়িত নারী কর্মীরা।  চলতি মাস জুড়ে দুই শতাধিক নির্যাতিত নারী ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহায়তায় দেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন সেখানকার কর্মকর্তা আল-আমীন।
তিনি জানান, অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে আশ্রয় নেন এসব নারীরা।রিয়াদের বাংলাদেশি দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অয়েজ অার্নার্স কল্যাণ বোর্ডের আর্থিক সহায়তায় এই নারী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। গত সপ্তাহে দেশে ফিরে যাওয়া নারী শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন রূপগঞ্জের সাথী, ভোলার জোসনা, কেরানীগঞ্জের মল্লিকা, বরগুনার শাহনাজ, কক্সবাজারের শাকিলা, দিনাজপুরের মনজুরা বেগম, ফরিদপুরের মাজেদা বেগম, নওগার শম্পা প্রমুখ।এসব নির্যাতিত নারীরা জানান, সৌদি আরবে প্রতিনিয়ত তাদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। বিভিন্ন বাসায় আটকে রেখে ইলেকট্রিক শক দেয়ার পাশাপাশি রড গরম করে ছ্যাঁকা পর্যন্ত দেয়া হয়। ঠিকভাবে খাবার ও পানি দেয়া হতো না। এদের একজন দিনাজপুরের মনজুরা বেগম বলেন, ‘আমার  ইজ্জত-সম্মান সব দিয়ে এসেছি সৌদিতে।
মালিকের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে প্রথমে পালিয়ে বাংলাদেশের দূতাবাসে যাই। এরপর দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পাস দিয়ে দেশে আসি।’
উল্লেখ্য, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য মতে, ২০১৭ সালে অভিবাসী নারীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৫ জন, যা মোট অভিবাসন সংখ্যার ১৩ শতাংশ।
১৯৯১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত অভিবাসন প্রত্যাশী নারী শ্রমিককে একা অভিবাসনে যেতে বাধা দেয়া হলেও পরবর্তীতে ২০০৩ এবং ২০০৬ সালে কিছুটা শিথিল করা হয়। ২০০৪ সালের পর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নারী শ্রমিকের অভিবাসন হার ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় মোট অভিবাসনের ১৯ শতাংশে।
প্রশ্ন হচ্ছে এমন নির্মম দৃশ্য দেখে ও কেন অহরহ বাংলাদশী নারী শ্রমিকরা সৌদিতে আসছে। কেনই বা বাংলাদেশর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন। বাংলাদেশীদের মতো আর কোন দেশের গৃহকর্মী আসছেনা কিংবা আসলে ও এমন নির্যাতিত হচ্ছে না। বর্তমান বাংলাদেশের কিছু সংখ্যক বেপরোয়া ট্র্যাভেল্স এজেন্সি ও গ্রামগন্জের কিছু অদক্ষ নির্বোধ দালালদের খপ্পরে পরে গ্রামের নিরীহ মহিলারা।
দালালরা বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে তাদের সহায় সম্বল ব্যয় করে গৃহকর্মীর ভিসা দেয়। প্রবাস নামের সোনার হরিন ধরা তো হয়নি বরং শারীরিক নির্যাাতনের চিহৃসহ তাদের ইজ্জত বিক্রি করে চেড়া কাপড় পড়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে।
এমতাবস্হায় বাংলাদেশ সরকারের শ্রম মন্ত্রনায় ও সৌদি আরবে অবস্হানরহত দুতাবাস কর্মকর্তাদের বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে অচিরেই বাংলাদেশ থেকে অসাধু উপায়ে গৃহকর্মী সৌদি প্রবেশ বন্দ করার দাবী জানিয়েছেন এখানে অবস্হানরত প্রবাসী পুরুষ শ্রমিকগন।

আমারসিলেট  টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫জুন,শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ   চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে জঙ্গল মহাদেবপুরের ত্রিপুরা পাড়ার দূর্গম অঞ্চলে আদিবাসী দুই ত্রিপুরা কিশোরী সুকলতি ত্রিপুরা ও ছবি রানী ত্রিপুরাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল ৪ জুন সোমবার সকাল ১০ টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডলুছড়া ত্রিপুরা পল্লীতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় ডলুছড়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডে এর আয়োজনে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ সিলেট আঞ্চলিক শাখা ও ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম শ্রীমঙ্গল শাখার সহযোগিতায় উক্ত কর্মসূচিতে সমাজের বিভিন্ন প্রগতিশীল, মানবাধিকার, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক ও আদিবাসী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সংহতি প্রকাশ করেন।

এসময় দুই আদিবাসী কিশোরীর খুনি ও পেশাদার ঘাতক গ্রেফতার হওয়া আবুল হোসেনের সহযোগিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে এই ন্যাক্কারজনক ও বর্বরতম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণের দাবি জানান বক্তারা।

বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের কো-চেয়ারপার্সন জিডিশন প্রধান সুচিয়াং এর সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ সিলেট আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দেববর্মার সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার চা জনগোষ্ঠী আদিবাসী ফোরামের সভাপতি পরিমল সিং বাড়াইক, লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান ফিলা পতমি, কুমিল্লা মহানগর ত্রিপুরা স্টুডেন্স ফোরামের সভাপতি যুবরাজ দেববর্মা, ডলুছড়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমাবায় সমিতির সভাপতি সূর্য দেববর্মা, সাধারণ সম্পাদক মল্লিকা দেববর্মা, সমাজকর্মী কাজী শামসুল হক, অভিজিৎ দেববর্মা, সাংবাদিক অনুজকান্তি দাশ, শিমুল তরফদার প্রমুখ।

উল্লেখ্য গত ১৯ মে সীতাকুন্ডে জঙ্গল মহাদেবপুর পাহাড়ে বসবাসকারী পুনেল কুমার ত্রিপুরার মেয়ে শুকলতি ত্রিপুরা (১৫) ও সুমন কুমার ত্রিপুরার মেয়ে ছবি রানী ত্রিপুরার (১২) লাশ সুমন ত্রিপুরার ঘরে ঝুলানো অবস্থায় দেখতে পায় স্থানীয়রা।

পরে স্থানীয়রা লাশ দুইটি ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আবুল হোসেন (২৫) নামের একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।