Tuesday 18th of September 2018 07:08:20 PM

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯মে,জাহাঙ্গীর হোসাইন চৌধুরী:  অনেকেই মনে করেন ইচ্ছা করলেই মাদক ছেড়ে দেওয়া সম্ভব বা চাইলেই মাদক মুক্ত হওয়া যায়। এমন ধারণা একেবারেই অমূলক। কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে মাদকাসক্তি একটি রোগ, অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হলে যেমন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তেমনই মাদকাসক্তি জনিত রোগে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। মাদকের চিকিৎসার একটা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি রয়েছে। সেই পদ্ধতিতে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসার মাধ্যমে মাদকমুক্ত করতে হবে। মাদকের চিকিৎসা একটি দীর্ঘমেয়াদী, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা।
একজন ব্যক্তি যখন মাদকাসক্ত থাকে, তখন সে ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, লাভ-ক্ষতি, বোঝার মতো অবস্থায় থাকে না। মাদক তার মস্তিস্কের স্বাভাবিক বিচার-বিবেচনা বোধ কেড়ে নেয়। অথবা বুঝতে পারলেও আসক্তির ফলে নির্দিষ্ট সময় মাদক না নেয়ায় যে অসহ্য শারীরিক-মানসিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় সে কারনে সে নিজেকে মাদক নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেনা। একজন আসক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন মাদক গ্রহনের ফলে শারীরিক, মানসিক ভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পাশাপাশি তার আচরণিক, আধ্যাত্মিক ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে, চিন্তা-চেতনার নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে, ফলে আসক্ত ব্যক্তির জন্য শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসার পাশাপাশি ও আচরণিক, আধ্যাত্মিক ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি চিন্তা-চেতনার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানোর জন্য চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা প্রয়োজন। মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আসক্ত ব্যক্তিকে ডিটক্সিফিকেশনের মাধ্যমে শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত কাউন্সিলিং, অকুপেশনাল থেরাপি ও সাইকো থেরাপির মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা প্রধান করা হয়।
এজন্য একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের এসকল দ্বাপ সম্পন্ন করতে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে নিরাময় কেন্দ্রে ৩ থেকে ৪ মাস আবাসিক ভাবে থাকা আবশ্যক। সঠিক চিকিৎসা সেবা পেলে একজন আসক্ত ব্যক্তির পক্ষে সুস্থ জীবনে ফিরে আসা সম্ভব। তবে অসমাপ্ত চিকিৎসা বা সঠিকভাবে পুর্নবাসন ও চিকিৎসা না পেলে পুনরায় মাদক গ্রহনের সম্ভাবনা থেকে যায়।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী সারাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। তারা ইয়াবা, হেরোইন, ফেন্সিডিল, পেথেডিন, কোকেন, আফিম, বিভিন্ন ধরণের ঘুমের ঔষধ, গাজা, বিভিন্ন ধরণের দেশি-বিদেশী মদ সহ বিভিন্ন ধরণের মাদকে আসক্ত। দেশে বিপুল সংখ্যক মাদকাসক্ত থাকলেও চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছে ১ শতাংশেরও কম। বিশেষ করে সরকারি ভাবে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা খুবই সূচনীয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, সারা দেশে সরকার পরিচালিত মাদক নিরাময় কেন্দ্রের সংখ্যা মাত্র ৪টি। এর মধ্যে ১টি হচ্ছে ঢাকায়, অপর ৩টি হচ্ছে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায়। ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদক নিরাময় কেন্দে শয্যা সংখ্যা বর্তমানে মাত্র ১০০টি, তাও গত জানুয়ারী মাসে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনার সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের প্রত্যেকটিতে ৫টি করে সর্বমোট ১৫টি শয্যা রয়েছে। সরকারিভাবে পরিচালিত দেশের ৪টি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মোট শয্যা সংখ্যা মাত্র ১১৫টি। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ১৫,৭০৪ জন মাদকাসক্তকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাকি ৩টি বিভাগীয় শহরের সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ৮,১৭৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সরকারি ভাবে যখন মাদকাসক্তি চিকিৎসার এই সূচনীয় অবস্থা তখন নিজ উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন কিছু ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্টান, তাদের নিজ উদ্যোগে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার ১৯৭টি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। তবে বেসরকারি ভাবে গড়ে উঠা
১৯৭টি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মোট শয্যা সংখ্যা মাত্র ২,৩৮০টি, তবে তাও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়ায় চিকিৎসার সুযোগ সুবিধা বাড়ানো জরুরী হয়ে পড়েছে, কিন্তু সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে এ পর্যন্ত মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য ২ হাজার ৫শ শয্যা অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি। উক্ত পরিসংখ্যানে জানা যায়, ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ বেসরকারি ১৯৭টি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এপর্যন্ত ৪৩,৩৫৩ জন মাদকাসক্তকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। আর গত ১০ বছরে সরকারি-বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র মিলে মাত্র ৬০,২৩২ জনকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের মোট মাদকাসক্তের মাত্র শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ।
পরিসংখ্যানে জানা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ২৭টি জেলায় সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে কোন মাদক নিরাময় কেন্দ্র গড়ে উঠেনি, ফলে এসব জেলার মাদকাসক্তরা রয়েছেন চিকিৎসা সেবার আওতার বাহিরে। এসব অঞ্চলের মাদকাসক্তদের চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও তারা চিকিৎসার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ফলে এসব অঞ্চলের মাদকাসক্তের সংখ্যা কোন অবস্থতেই কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছেনা। দেশে দিনদিন মাদকাসক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, মাদকাসক্তের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মাদক জনিত অপরাধও বেড়ে চলছে, মাদকাসক্তির ফলে তারা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, লুঠ সহ নানা ধরণের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, ফলে দেশের আইন-সৃংঙ্খলা দিনদিন অবনতি হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে এখনো মাদক নিরাময় কেন্দ্র গড়ে উঠেনি ঐসব অঞ্চলে মাদকজনিত সমস্যার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
সিলেটে এক আলোচনা সভায় মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি সর্ম্পকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক জনাব জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদক নিরাময় কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঢাকার বাইরে ৭টি বিভাগীয় শহরে ৫০ শয্যার সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জমিও অধিগ্রহনের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র ছাড়াও কুমিল্লা, যশোর ও রাজশাহী জেলা কারাগার হাসপাতালে মাদকাসক্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা আরও বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্ধিত এ সেবার আওতায় পর্যায়ক্রমে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার সহ দেশের অন্যান্য জেলার কারাগারগুলোও অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্তির চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করতে মাদকাসক্তি পরামর্শ কেন্দ্র, নিরাময় কেন্দ্র ও পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নওয়া হয়েছে, এর ধারাবাহিকতায় গত ৩ মাসে দেশে বেসরকারি মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৭টি থেকে ২১৪টি’তে উন্নীত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের এ উদ্যোগ যদি বাস্তবায়ন হয়, সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পাশাপাশি বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলির শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়, বেসরকারি ভাবে আরো কিছু মাদক নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলে হয়তো দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা সংকট কিছুটা দূর হবে। বিশেষ করে যেসব জেলায় এখনো মাদক নিরাময় কেন্দ্র গড়ে উঠেনি ঐসব জেলা গুলোতে মাদক নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তোলে দেশের সকল মাদকাসক্তকে চিকিৎসা সেবার আওতায় আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। বেসরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করতে সরকারকে আরো উদ্যোগী হতে হবে। যারা বেসরকারি পর্যায়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তুলতে আগ্রহী তাদেরকে সরকার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সহায়তা করতে হবে, পাশাপাশি মাদক নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় নতুন উদ্যোক্তা খুজে বের করতে হবে। মাদকাসক্তদের জন্য সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য এখনো পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরী না হলেও বেসরকারি উদ্যোগে দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে কিছু সংখ্যক মাদক নিরাময় কেন্দ্র গড়ে ওঠায় মাদকাসক্তদের চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরী হচ্ছে। তাদের এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করছেন সরকারের বিভিন্ন মহল ও দেশের সুশীল সমাজ।
মাদকাসক্তদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হলে চিকিৎসার কোন বিকল্প নেই। তাই মাদকাসক্তদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি পাগল নয়, খারাপও নয়, কিন্তু সে অসুস্থ। অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের মতো তারও চিকিৎসার প্রয়োজন, সুস্থ জীবনে ফিরে আসা তার অধিকার। তাই মাদকাসক্তদের চিকিৎসা সেবার সুযোগ তৈরি, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা সেবা গ্রহনে আগ্রহী করে তোলা ও তাদেরকে চিকিৎসা সেবার আওতায় নিয়ে আসা সরকারের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবার ও আমাদের সমাজের সচেতন মহলের সকলের দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।লেখকঃ মাদকবিরোধী সংগঠক ও কলামিস্ট।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯মে,মিজানুর রহমান,সৌদিআরব থেকেঃ আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে সৌদি আরবের পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনায় ওমরাহ হাজিদের সুবিধার্থে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
পবিত্র রমজান মাসে ওমরাহ করা হজ করার সমতুল্য-এই সহিস হাদিসের বর্ণনায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে পৃথিবীর নানাপ্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঢল নামে সৌদি আরবে। পুরো রমজান মাস পবিত্র কাবাঘরের কাছাকাছি কাটানোর আকাঙ্ক্ষায়ও ছুটে আসেন অনেকে।
অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি আসা ওমরাহ হাজিদের কাবাঘর তাওয়াফ নির্বিঘ্ন করতে কাবাঘরের দায়িত্বরত যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবার বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রমজান মাসে কাবাঘরের চারপাশে কেবল তাওয়াফকারী ওমরাহ হাজিদের প্রবেশ নিশ্চিত করা হবে ।
কাবাঘরের চারপাশে শূন্যস্থান দখল করে অনেকেই তারাবি নামাজ বা নফল নামাজ, কোররান তেলাওয়াত ইত্যাদি ইবাদতে সময় পার করেন। প্রত্যেক মুসল্লিরই স্বপ্ন থাকে, কাবাঘরের কাছাকাছি নামাজ আদায়ের। নিয়মিত এসব মুসল্লিদের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা ওমরাহ হাজিদের তাওয়াফের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। নানাভাবে বিঘ্নিত হয় ওমরাহ হাজিদের কাবাঘর তাওয়াফ।
পবিত্র দুই মসজিদ মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে রমজানের ওমরাহ হাজিদের জন্য নেওয়া অন্যতম একটি সিদ্ধান্তের ঘোষণা জানিয়ে দিয়েছে। সৌদি আরবের একাধিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কেবল ওমরাহ হাজি, কাবাঘর তাওয়াফকারীরাই কাবাঘরের চারপাশের খালি জায়গাতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। অন্য নিয়মিত মুসল্লিদের রমজান মাসে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ওমরাহ হাজিদের জন্য স্থানটি উন্মুক্ত রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। ২০ রমজান থেকে ইতেকাফের জন্য যারা কাবাঘরের পাশে অবস্থান করতে চান, তাদেরকেও মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিপুল সংখ্যক ওমরাহ হাজি রাতদিন ২৪ ঘণ্টা নির্বিঘ্নে কাবাঘর তাওয়াফ করে যেন তাদের আজীবন লালিত স্বপ্ন পূরণ সহজ করতে পারেন, সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে কাবাঘর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এই নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে, যত্নের সঙ্গে তদারকি করবে পবিত্র দুই মসজিদ মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯মে,নড়াইল প্রতিনিধিঃ স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে উদ্দেশ্যমুলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে নড়াইলের আদালতে দায়েরকৃত মানহানী মামলায় আদালত জামিন না মঞ্জুর করেছে । মঙ্গলবার (৮ মে) মামলার বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানী শেষে জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নয়ন বড়াল জামিন না মঞ্জুর করেন। চলতি মাসের ২৫ মে মামলার পরবর্তী দিন ধার্য্য করা  হয়েছে ।

গত ১৬ এপ্রিল বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবি এম মাসুম আহম্মেদ তালুকদার সহ স্থানীয় আইনজীবিরা জামিনের আবেদন করলে জামিন শুনানির দিন ধার্য্য করেন আজ ৮ মে।

২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার চাপাইল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান মোঃ রায়হান ফারুকী ইমাম বাদী হয়ে ৫০০/৫০১/৫০২ ধারায় বেগম খালেদা জিয়ার নামে মামলাটি দায়ের করেন। ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু আদালতে হাজিরা না হওয়ায় মামলা ধার্য্যদিনে বিজ্ঞ বিচারক গ্রেফতারী গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯মে,ডেস্ক নিউজঃ প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা, গ্রুপ ইনসুরেন্স, প্রবীণ সাংবাদিক নিবাস তৈরিসহ বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

মঙ্গলবার (৮ মে) দুপুরে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) আয়োজনে প্রবীণ কল্যাণে কর্মরত তরুণদের সংগঠন প্রবীণবন্ধুর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।

পিআইবি’র পরিচালক মো. ইলিয়াস ভুইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে গণমাধ্যম কর্মীদের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রবীণ বন্ধুর প্রতিষ্ঠাতা ডা. মহসীন কবির লিমন।

আলোচনায় অংশ নেন প্রবীণ হিতৈষী সংঘের মহাসচিব ও ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এসএম আতিকুর রহমান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার সাহা, হেল্প এইজ ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাবেয়া সুলতানা লাইজু, বাংলাদেশ সাংবাদিক অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. দলিলুর রহমান, সাংবাদিক সলিমুল্লাহ সেলিম ও জামাল উদ্দিন জামাল প্রমুখ।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘গণমাধ্যম কর্মীদের চিকিৎসা সুবিধা এবং পেনশন ব্যবস্থা চালু করার জন্য সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট্র উদ্যোগ নিতে পারে।’

আগামী বাজেটে প্রবীণদের ভাতা প্রদানের সংখ্যা বৃদ্ধি করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে। তারা অন্যের কথা বলে কিন্তু নিজেদের অধিকারে কথা বলতে না পারায় শেষ জীবনে অনেক কষ্ট করে থাকেন। তাই সাংবাদিকদের জন্য সরকার কল্যাণ ট্রাষ্ট্র গঠন করেছেন।’

মূল প্রবন্ধে প্রবীণবন্ধুর নির্বাহী পরিচালক ডা. মহসীন কবির লিমন প্রবীণ সাংবাদিকদের সামগ্রিক অবস্থা ও বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত শীর্ষক মূল প্রবন্ধে বলেন, ‘বেসরকারি বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ মানুষ প্রবীণ বা সিনিয়র সিটিজেন রয়েছেন। দেশের প্রায় ১১ শতাংশ প্রবীণ গণমাধ্যম কর্মীর মধ্যে ৮ শতাংশ প্রবীণই অচ্ছলতা ও দারিদ্রতার মধ্যে দিয়ে মানবেতরভাবে জীবনযাপন করছেন।’

মূল প্রবন্ধে ডা. লিমন জাতীয় বাজেটে প্রবীণ সাংবাদিকদের অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি, প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য প্রতিটি বিভাগে সরকার কর্তৃক ‘প্রবীণ সাংবাদিক নিবাস’ তৈরি, জাতীয় প্রেসক্লাবসহ সারা দেশের প্রেসক্লাবগুলো থেকে প্রবীণ সাংবাদিকদের আলাদা করে কার্ড প্রদান করা, যার মাধ্যমে প্রবীণ সাংবাদিকরা নানা সুযোগ সুবিধা যেমন- মাসিক হেলথ ক্যাম্প, প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য আলাদা বসার জায়গা, বিনোদন, প্রেসক্লাবগুলোতে স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলেন।

অধ্যাপক আতিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ৭২ লাখ ব্যক্তিকে ভাতা ভাতা প্রদান করছে। কিন্তু প্রবীণ সাংবাদিকরা তা থেকে বঞ্চিত থাকতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবীণদের জন্য দুই হাজার এক শ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে তাদের মনোবল অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগামীতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হলে এদেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মনোবলকে আরও জোরদার করবে। তাদের মর্যাদা অনেক বাড়বে।’

অন্যান্য বক্তারা আগামী অর্থ রছরের বাজেটে প্রবীণদের জন্য আলাদা বিশেষ বরাদ্দ রাখার জন্য দাবি জানান। এছাড়া প্রবীণ বয়সে সাংবাদিকদের আর্থ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ঠ সবাইকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তারা।

রেখেছেন তা অবিস্মরণীয় ডেপুটি স্পীকার ফজলে রাব্বি

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯মে,নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই প্রতিনিধি: জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার এড. ফজলে রাব্বি মিয়া বলেছেন, বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেটাকে বাস্তবে রুপদানের চেষ্টা করেছে। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটাকে বাস্তবে রুপদান করেছেন। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ এলাকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে যে অবদান রেখেছেন তা অবিস্মরণীয়।

স্থানীয়দের পতিসরে একটি কৃষি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ যেহেতু কৃষিপ্রেমি ছিলেন, নওগাঁ যেহেতু সারা দেশের শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত সেহেতু পতিসরে একটি কৃষি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন যেিৈক্তক। তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হোন এবং শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করুন।

তাহলে পতিসরে কৃষি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন হবে ইনশাআল্লাহ। গতকাল মঙ্গলবার কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত আত্রাইয়ের পতিসর কাচারিবাড়ির দেবন্দ্র মে  বিশ^কিব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭ তম জন্মোৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

নওগাঁ জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ শহিদুজ্জামান সরকার এমপি, মো. ইসরাফিল আলম এমপি, ছলিম উদ্দিন তরফদার এমপি, আবুল কালাম এমপি, নওগাঁ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ (অব:) শরিপুল ইসলাম খান, নওগাঁ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন, আত্রাই উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এবাদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোখলেছুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ দত্ত দুলাল, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী গোলাম মোস্তফা বাদল, এম মতিউর রহমান মামুন প্রমুখ।

উল্লেখ্য কবির জন্মোৎসবকে ঘিরে গোটা পতিসর এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। কবিভক্তদের পদচারণায় কাচারিবাড়ি চত্বর হয়ে উঠে মুখোরিত। তাঁর ১৫৭ তম জন্মোৎসব অনুষ্ঠান দুইভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম পর্বে স্মৃতি চরণ ও আলোচনা সভা এবং দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

চাউরুলী জামেয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসায় কিসের গোপন বৈঠক ?

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯মে,মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পাহাড় টিলা বেষ্টিত চাউরুলী জামেয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসা নিয়ে এলাকাবাসীর রয়েছে নানান অভিযোগ। এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায় টেংরা ইউনিয়নের চাউরুলী গ্রামে ২০০৫ সালে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করা হয়. তারপর গ্রীনহিল কিন্ডার গার্ডেন নামে স্কুলে নামকরণ হয়- এরপর কয়েক দফা নাম পরিবর্তন করা হয় কখনও মাদ্রাসা কখনও স্কুল -ঘনঘন নাম পরিবর্তন হয়ে বর্তমান নাম হল চাউরুলী জামেয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসা।

এই মাদ্রাসা নিয়ে এলাকাবাসী জানান বেলজিয়াম প্রবাসী রাজনগর দত্ত গ্রামের মাও:নজরুল ইসলাম এই মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করেন।এলাকাবাসীর প্রশ্ন কাদের অর্থায়নে এই মাদ্রাসা চলছে?বেলজিয়াম-মরোক্ক সহ বহিরাগত রাষ্ট্র থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা কালেকশন হয় এ টাকা কোথায় যায়-কাদের স্বার্থে ব্যাবহার হচ্ছে? প্রতি সপ্তাহে একদিন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে কিসের গোপন বৈঠক করা হয়? মাদ্রাসার উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যরা বহিরাগত লোক কেন? ২০১৩ সালে মরোক্ক থেকে টাকা কালেকশন করে মরোক্কের নাগরিক সহ এই মাদ্রাসা ভিজিট করেন মাও:নজরুল ইসলাম।

এতো সব প্রশ্ন নিয়ে এলাকাবাসীরা সন্দিহান আসলে মাদ্রাসার নামে অন্য কোন মতাদর্শ প্রতিষ্টার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে নাকি?কেনইবা এলাকাবাসীকে এড়িয়ে তাদের পথচলা।
এব্যাপারে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাও:ইদ্রিস আলী বলেন.বেলজিয়াম প্রবাসী মাও:নজরুল ইসলাম প্রতি মাসে সিংহ ভাগ টাকা দিয়ে মাদ্রাসায় সহযোগীতা করেন এবং এলাকার দাতাদের সাহায্যে মাদ্রাসাটি চলছে।সাপ্তাহিক মিটিংয়ের কথা স্বীকার করে বলেন.সপ্তাহে মিটিং হয় তবে অন্য কোন মতাদর্শ প্রতিষ্টার কোন মিটিং এখানে হয়না।

সরকারী খাসভুমি দখল করে প্রতিষ্টিত মাদ্রাসার কোন অনুমোদন সহ বাৎসরিক হিসাব-নিকাশ -উপদেষ্টা সদস্যদের কোন তালিকার কাগজপত্র দেখাতে পারেন নাই। প্রিন্সিপাল মাও:ইদ্রিস আলী আরো বলেন চাউরুলী জামেয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার উপদেষ্টা মন্ডলীর সভপতি হাজী আব্দুল মনাফ মাষ্টার দওগ্রাম, সদস্যরা হলেন দেওয়ান মিসবাউর মজিদ কালাম রাজনগর,ফয়সল আহমদ,সহিদুর রহমান রকিব দওগ্রাম, আব্দুস সহিদ। বলতে পারেন রাজনগর উপজেলার দত্ত গ্রাম ক্বারী ফরিদ উদ্দিন এতিম খানা প্রতিষ্টানের পরিচালনা কমিটির সদস্যরা চাউরুলী জামেয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার উপদেষ্টা, মাদ্রাসার কাগজপত্র তাদের কাছেই রয়েছে । অনেক প্রশ্নের উত্তর বর্তমান প্রিন্সিপাল মাও:ইদ্রিস আলী সুকোশলে এড়িয়ে যান।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ২০০৫ সাল থেকে এখন পযর্ন্ত এই মাদ্রাসার কোন কাগজ পত্র নেই, রেজেষ্টশন চারাই এই মাদ্রাসা চলছে। চাউরুলী জামেয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার মেনেজীং কমিটির সভাপতি হাজী মাহমুদ মিয়া সহ চাউরুলী গ্রামের ওয়ার্ড জামাতের নেতারা কমিটিতে রয়েছেন । মাদ্রাসার মেনেজীং কমিটির মিটিং এর বাহানা দিয়ে গোপন বৈঠক করেন বলে জানান এলাকার কয়েক জন মুরব্বী।
এব্যাপারে টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ টিপু খান জানান চাউরুলী জামেয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার বিষয়ে আমার কানে কিছু কথা এসেছে তবে পরিস্কার কিছু আমার জানা নেই। মাদ্রাসায় চিঠি দিয়ে বলবো মাদ্রাসার কার্যকম আমাদের জানানোর জন্য।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮মে,শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জ:কমলগঞ্জ উপজেলার উপর বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড়ে উপজেলার আদমপুর ,ইসলামপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের কয়েকশ ঘর বিধস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে হাজারো গাছ পালা। ১১ কেভির ৩০টি খুঁটি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে।

কমলগঞ্জ -শ্রীমঙ্গল সড়কে গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৮ ঘন্টা পর দুপুর ১২ টায় সড়ক যোগাযোগ চালু করা হয়। বিদ্যুৎ লাইন লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার কারণে বিকাল ৪ঠা পর্যন্ত পুরো কমলগঞ্জ অন্ধাকারে নিমজ্জিত। ৮ মে মংগলবার ভোর রাত ৪টায় প্রচন্ড কাল বৈশাখী ‘ঝড়ের সাথে সাথে আলোর ঝলকানীর সাথে সাথে প্রচন্ড শব্দ করে বজ্রপাতের শব্দে এলাকাবাসী আতংকিত হয়ে পড়ে। লাউয়াছড়ায় রেল লাইনের উপর গাছ ভেঙ্গে পড়ায় ২ দফায় (উদয়ন ও কালনী ট্রেন) সিলেটের সাথে সাড়ে ৬ ঘন্টা ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ ছিল। পরে গাছ কেটে ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়।

জানা যায়, এদিন  ভোর ৪টায়  কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ,ইসলামপুর ও মাধবপুর ইউনিয়ের উপর দিয়ে প্রচন্ড বেগে কাল বৈশাখী ঝড়ে আদমপুর ইউনিয়ের আদখানি, জালালপুর কাটাবিল উত্তর ভাগ সহ প্রায় ১০টি গ্রামে ব্যাপক বাড়ি ঘর ক্ষতিগস্থ হয়। রাস্তার গাছপালা উপড়ে পড়ে। আদমপুরের বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুত এর ১১ কেভি ৫টি খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে। এছাড়া উত্তরভাগ গ্রামের আব্দুল গনি,শামু মিয়া,গোলজান বেগম, মধ্যভাগ গ্রামের আলীবুন বেগম ,জালালপুর গ্রামের খালিক মিয়া ও আদকানি গ্রামের সুরজান বিবি’র ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়।

অপর দিকে একই সময় মাধবপুর ইউনিয়নে ঝড়ে প্রায় ৩০ টি ঘর সম্পূর্ন সহ শতাধিক বাড়ি ঘর বিধস্ত হয়। চা বাগান এলাকায় টিনের ঘরে চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে। কয়েক শতাধিক গাছ পালা উপড়ে পড়েছে। মাধব চাবাগান, মাঝের ছড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে ২৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে। মাধবপুরে দুহারিকা বট,গোপালবট,শ্রী নারায়ন দাশ,আজগর আলী, ধলাইপাড় গ্রামের হেলিমা বেগম.,বাঘবাড়ী গ্রামে সুরেন্ড কুমার সিংহের ঘর সম্পূর্ন বিধস্ত হয়।

এছাড়া ইসলামপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ১১ টি ঘর সম্পূর্ন ও  আদমপুর বি.এন.ভূইঁয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পরিবার কল্যান কেন্দ্র, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, হেরেংগাবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকশ ঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২ শতাধিক স্থানে বিদ্যুৎ লাইনে তার ছিড়ে পড়েছে। মংগলবারের ঝড়ে ৩৩ কেভির লাইনের মাগুরছড়া নামক স্থানে খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে। পাহাড়ের ভিতরে বেশ কয়েকটি গাছ পড়ায় কমলগঞ্জ শ্রীমঙ্গল সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতির ডিজিএম মোবারক হোসেন জানান, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে প্রায় ৩০টি খুঁটি ও ২ শতাধিক স্থানে তার ছিড়ে গেছে। বিদ্যুত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে ২ দিন লেগে যাবে। কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমর্কতা মোঃ আছাদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের তালিকা দেয়ার জন্য চেয়ারম্যান দের বলা হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত তিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান, আবদাল হোসেন ও পুষ্পকুমার কানু জানান, কালবৈশাখী ঝড় ও অব্যাহত ভারী বর্ষণে এসব ইউনিয়নের কয়েক হাজার হেক্টর বোরো ফসলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc